খান সাহেব পর্ব ২৮ (২)
সুমাইয়া জাহান
গাড়ি এসে থামল আক্কাছ লেক ভিউ পার্ক অ্যান্ড রিসোর্টের সামনে। সুমু অবাক দৃষ্টিতে একবার পার্কের গ্রেটটি দেখছে তো একবার তার খান সাহেবকে দেখছে। শেরাজ চুপচাপ বসে ফোনে কিছু একটা করছে। সুমুর কান্না প্রায় অনেকক্ষণ আগেই থেমে গেছে, এখন সে বসে বসে শুধু ভাবছে, “এই মাঝরাতে অসুস্থ অবস্থায় এতোদূর একহাতে ড্রাইভ করে এই পার্কে আসার মানে কি?”
শেরাজ ফোনে কিছু একটা করে গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়াল। সে ঘুরে এসে সুমুর পাশের দরজা খুলে দিল। সুমু না নেমে শেরাজের দিকে তাকিয়ে রইল। তার ভাবনায় একটাই কথা ঘুরছে, “তার খান সাহেব কি করতে চাইছে?” সুমু নামছেনা বলে, শেরাজ একহাতেই সুমুকে কোলে তুলতে গেল। সুমু অস্থির কন্ঠে একহাত দিয়ে তাকে থামিয়ে বলল,
“আমি নামছি, আমি নামছি।”
গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়াল সে। শেরাজ মুখে মাস্ক পড়ে নিল। তারপর সুমুর হাত ধরে এগিয়ে চললো পার্কের ভিতরে।
সুমু হাঁটতে হাঁটতে বলল,
“আপনার এই রাতের বেলায় এতদূর পযর্ন্ত একহাতে গাড়ি ড্রাইভ করে পার্কে ঘোরার শখ জাগল, তাও শরীরের এই অবস্থায়?
শেরাজ কোনো উত্তর দিল না। সুমু চারপাশটা চোখ বুলিয়ে দেখছে। রাত বলে মানুষ নেই তেমন একটা, তবে কিছু কাপাল আছে। তারা হাত ধরে হাঁটছে। আবার কেউ কেউ একসাথে ছবি তুলছে। সুমুর আগে এইসব দেখে আফসোস হতো, তবে আজ হচ্ছেনা। তার কারন, তার সাথে আজ তার সবকিছু আছে। তার ভালোবাসা আছে। যার কাছে থাকলে সে জান্নাতের সুখ পায়। তার কাছে মনে হয়, “আল্লাহর সৃষ্টি করা খান সাহেব তার জন্য দ্বিতীয় জান্নাত।”
শেরাজ সুমুকে নিয়ে রিসোর্টের ভিতরে ঢুকল। ম্যানেজারের সাথে কথা বলে রুমের চাবি নিল সে। সুমু হা করে তাকিয়ে আছে শেরাজের দিকে। শেরাজ আর ম্যানেজারের কথা শুনে সুমু বুঝল, এই সবকিছু তার খান সাহেব বাড়ি থেকে বেরোনোর আগেই প্ল্যান করে এসেছে।
ম্যানেজার হাসি মুখে শেরাজকে বলল,
“সবকিছু ব্যবস্থা করা আছে, স্যার। শুভ রাত্রি।”
শেরাজ হাসিমুখে ম্যানেজারকে “শুভ রাত্রি” জানিয়ে আবারও সুমুর হাত ধরে কাঙ্ক্ষিত রুমটি সামনে এলো। রুমের দরজা খোলার সাথে সাথে মিষ্টি গোলাপ ফুলের সুভাস এলো সুমুর নাকে। পুরো রুম ক্যান্ডেলের আলোয় আলোকিত। রুমের মধ্যে এতো গোলাপ দেখে মাথা ঘুরে গেল সুমুর। দেখে মনে হচ্ছে, রুমের মধ্যে গোলাপের বাগান সাজানো হয়েছে। পুরো রুমে তাজা লাল গোলাপ আর কালো রঙের বেলুন দিয়ে ডেকোরেট করা হয়েছে। দরজা থেকে শুরু করে বেড পযর্ন্ত তাজা গোলাপের পাপড়ি বিছিয়ে সরু রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। গোলাপের তৈরি রাস্তার পাশ দিয়ে পুরো রুমের মেঝের ওপর কালো রঙের বেলুন ফেলে রাখা হয়েছে। এতো এতো বেলুনের মাঝে ছোট্ট করে ক্যান্ডেল লাইট ডিনারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। রুমের মধ্যে উড়ছে বাবল। সাদা বেড কাবারের ওপর লাল গোলাপের পাপড়িগুলো বেশ মানিয়েছে। বেডের ওপর গোলাপের পাপড়ি দিয়ে হার্ট বানানো হয়েছে। তার মধ্যে গোলাপের পাপড়ি দিয়ে “সুমুরাজ” লেখা। পুরো রুমটা ভালো করে পরখ করল সে। চোখ ধাধানো সুন্দর রুমটি।
বাহির থেকে স্যান্ডির গলা শুনে চমকে উঠল সুমু। পেছন ফিরে তাকিয়ে দেখল, স্যান্ডি শেরাজের হাতে একটা প্যাকেট আর দুটো জায়নামাজ দিয়ে চলে গেল। সুমুর আজ আবারও শুধু অবাক হওয়ার পালা। শেরাজ এগিয়ে এসে সুমুর হাত ধরল। সে প্যাকেটটা সোফার ওপর রেখে, জায়নামাজ দুটো হাতে নিয়ে সুমুর সামনে দাঁড়িয়ে বলল,
“তোমার পরনের কাপড়টা পাক আছে তো?”
সুমু ওপর নিচ মাথা দোলালো। শেরাজ মুচকি হেসে সুমুর হাত ধরে পাশের রুমে এলো। ওয়াশরুমে দুজনে একসাথে ঢুকে ওযু করে নিল। শেরাজ জায়নামাজ দুটো পাশাপাশি বিছিয়ে হাত থেকে আর্ম সিলিংটা খুলে ফেলে সুমুর কাছে এসে বলল,
“চলো! একসাথে দু’রাকাত নফল নামাজ আদায় করব।”
সুমু আলতো হেসে শেরাজের পাশে নামাজের জন্য দাঁড়াল। দু’জনে পাশাপাশি বসে দু’রাকাত নফল নামাজ আদায় করল। নামাজ শেষে দু’জনে মোনাজাতে আল্লাহর কাছে একে অপরের জন্য দোয়া করল। মোনাজাত শেষ করে দু’জনে একে অপরের দিকে তাকাল। দু’জনের ঠোঁটে মুচকি হাসি। শেরাজ সুমুকে কাছে টেনে সুমুর কপালে ছোট্ট করে চুমু খেলো। নামাজ শেষ করে জায়নামাজ গুছিয়ে দু’জনে বেরিয়ে এলো রুম থেকে। শেরাজ আবারও সুমুকে নিয়ে বাসর সাজানো রুমটাতে এলো। সোফার ওপর থেকে প্যাকেটটা হাতে নিল। গোলাপের পাপড়ি বিছানো রাস্তার ওপর দিয়ে হেঁটে সুমুকে বেডের সামনে দাঁড় করিয়ে তার হাতে প্যাকেটটা দিয়ে বলল,
“চেঞ্জ করে এসো।”
সুমু কোনো কথা না বলে ওয়াশরুমে চলে গেল চেঞ্জ করতে। ওয়াশরুমে ঢুকে প্যাকেটটা খুলে দেখল, একটা ব্ল্যাক কালারের পাতলা ফিনফিনে জর্জেট শাড়ি, সাথে স্লিভলেস ব্ল্যাক ব্লাউজ, আর পেটিকোট। শাড়িটা হাতে নিয়ে নেড়েচেড়ে কিছুক্ষণ দেখল সুমু। শাড়িটা এতোটাই পাতলা যে, শাড়িটা ভালো করে দেখার পর সুমু ভাবল, এটা পরা আর না পরার মধ্যে পার্থক্য কোথায়? তবে শাড়িটা সুমুর খুব পছন্দ হলো তার। শাড়ির পুরো পাড় জুড়ে ব্ল্যাক স্টোনের কাজ করা। সুমু জানে কলো রঙটা তার খান সাহেবের খুব পছন্দের, একই সাথে সুমুরও খুব পছন্দের। সুমু আর দ্বিধা না করে শাড়িটা পড়ে নিল। ওয়াশরুম থেকে বের হতেই দেখল, শেরাজ খাবার নিয়ে বসে আছে, তবে তার চোখ দুটো সুমুর দিকে। সম্মোহনী দৃষ্টিতে সুমুকে দেখছে শেরাজ। সুমু লজ্জায় মিহিয়ে গেল। চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াল শেরাজ। সুমুর কাছে এসে সুমুর হাত ধরে আবারও পুনরায় জায়গায় বসল। সে সুমুকে টেনে নিজের কোলের ওপর বসাল। সুমু কিছু বলতে নিলে, সুমুর ঠোঁটের ওপর আঙুল দিয়ে তাকে থামিয়ে দিল। সে চামচ দিয়ে খাবার তুলে সুমুর মুখের সামনে ধরল। সুমু চুপচাপ খেয়ে নিল।
খাওয়ানো শেষ করে শেরাজ সুমুকে নিয়ে উঠে দাঁড়াল। রুমের এসি অফ করে ফ্যানের সুইচ চাপতেই ফ্যানের ওপর থেকে গোলাপের পাপড়ি পুরো রুম জুড়ে পড়তে শুরু করল। ফ্যানের স্পিড একদম কম হওয়ায় গোলাপের পাপড়িগুলো একটু সময় নিয়ে আস্তে আস্তে পড়ছে। মেঝের ওপর রাখা বেলুনগুলো মৃদু নড়ছে। সুমু হাত পেতে ফুলের পাপড়ি ধরার আর বাবলগুলো ফাটানোর চেষ্টা করছে। শেরাজ গায়ে পরিহিত শার্ট খুলে সোফার ওপর রাখল। সুমুর বাচ্চামি দেখে সে সুমুর কাছে এগিয়ে এসে পেছন থেকে সুমুকে জড়িয়ে ধরল। শেরাজের হাত তার শাড়ি ভেদ করে পেট স্পর্শ করল। ঠান্ডা হাতের স্পর্শে কেঁপে উঠল সুমু। গোলাপের পাপড়ি দু’জনের ওপর পড়ছে এখনো। স্লিভলেস ব্লাউজের জন্য সুমুর কাধের ওপর থাকা কালো কুচকুচে তিলটা দৃশ্যমান। শেরাজ তিলটার ওপর ছোট্ট করে ঠোঁট ছোঁয়াল। নিঃশ্বাস এলোমেলো হতে লাগল সুমুর। সে হাঁপানি রোগীর মতো ঘনঘন নিঃশ্বাস নিতে শুরু করল। সুমুর অবস্থা দেখে আলতো হাসল শেরাজ। সে সুমুর কানের কাছে মুখ নিয়ে নেশালো কন্ঠে বলল,
“চলো, আজ একটু অন্যরকম ভাবে ভালোবাসি।”
শেরাজের কন্ঠ তাকে আরও পাগল করে তুললো। সে শাড়ি চেপে ধরে চোখ-মুখ খিঁচে বন্ধ করে ফেলল।
শেরাজ দুষ্টু হেসে বলল,
“তখন বলেছিলে না, আর ঠিক কতটুকু ব্যথা সহ্য করার পর আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিব?
সুমু চোখ মেলে তাকাল। শেরাজ গোলাপ দিয়ে সাজানো বেডের দিকে দেখিয়ে বলল,
“ব্যাস! আর এইটুকু। আর এইটুকু ব্যথা সহ্য করার পর আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিব।”
সুমু কাঁপা গলায় বলল,
“আপনি এইসবের জন্য এই রাতের বেলা নিজের এই অসুস্থ অবস্থা এতোটা পথ এক হাতে ড্রাইভ করে এতোদূরে আসলেন? কেন বাড়িতে আপনার সমস্যা কি ছিল?”
কথাগুলো বলে হাত নিজের মুখ চেপে ধরল সে। নিজের বোকামি মার্কা প্রশ্নে নিজেই লজ্জায় পড়ল। শেরাজ দুষ্টু হেসে বলল,
“তোমাকে যেদিন বিয়ে করলাম সেদিনই ভেবে নিয়েছিলাম যে, তোমাকে যেইদিন প্রথম দুষ্টু আদর করব। বাড়ির বাহিরে কোনো একটা রিসোর্টে গিয়ে করব।”
“কেনো?”
“তুমি বাসার মধ্যে জোরে সাউন্ড করলে সবাই শুনতে পাবে। তো, বউকে আদরে করতে গিয়ে আমি তো আর আমার মান-সম্মান শেষ করতে পারব না, সুইটহার্ট।”
সুমু আহাম্মকের মতো বড় চোখ করে তাকিয়ে রইল সামনের দিকে। সুমুর অবস্থা দেখে শেরাজ বেশ মজা পাচ্ছে। সে একটু হেসে আবারও বলল,
“আজ রাতে আমার প্রতিটা স্পর্শ তোমাকে কাঁদতে বাধ্য করবে, সুইটহার্ট। এই রাতে করা আমার প্রতিটা স্পর্শ তোমার শরীরের প্রতিটা লোমের গোড়ায় গোড়ায় লিখে দিবে, তুমি শেরাজ খানের পার্সোলান প্রপার্টি। এখন যেমন তোমার নিঃশ্বাসের ওপর রাজত্ব চলছে আমার। তেমনি আর কিছুক্ষণ পর তোমার বাকি সবকিছুর ওপর ও রাজত্ব চলবে আমার। সো, আর ইউ রেডি টু ক্রাই অ্যাট মাই টাচ, সুইটহার্ট?”
আজ সুমু আর কোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মতো অবস্থায় নেই। শেরাজের কথাগুলো আজ বড্ড নোশালো লাগছে। শরীরের প্রতিটি শিরায় উপশিরায় শিহরণ বইছে তার। আচমকায় শেরাজ সুমুকে ছেড়ে দিল। রুমের মধ্যে থাকা অধিকাংশ ক্যান্ডেল সে ফুঁ দিয়ে নিভিয়ে দিল। মাত্র তিনটা ক্যান্ডেলকে তাদের নিজ গতিতে জ্বলতে দিল। ফ্যান অফ করে আবারও হালকা টেম্পারেচারে এসি অন করল। নেশা ভরা দৃষ্টিতে সুমুর দিকে তাকিয়ে এগিয়ে এলো সুমুর কাছে। পিছন থেকে সুমুকে কোলে তুলে নিয়ে এগিয়ে গেল বেডে কাছে। বেডের ওপর তাকে শুইয়ে দিয়ে তার পাশে বসে একটু ঝুঁকে তার কপালে ঠোঁট ছোঁয়াল। পাশ থেকে একটি গোলাপ তুলে নিয়ে সুমুর মুখের ওপর বিচরণ করে বলল,
“বলো সুইটহার্ট, আর ইউ রেডি? নফল নামাজ আদায় করেছি বলে, তোমাকে তোমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে আমার কাছে আসতে হবে, তা কিন্তু নয়। আর, আমি তোমার ওপর রেগে নেই, সুইটহার্ট। ওইসব তোমার সাথে মজা করে করেছি। জোর করব না। তুমি চাইলে আজ আমি তোমাকে পুরোপুরি আপন করে নিব। আর তুমি না চাই…”
শেরাজের কথার মাঝেই সুমু দু’হাত বাড়িয়ে দিলো তার দিকে। সুমুর ইশারা বুঝতে পেরে শেরাজ আলতো হাসল। সে সুমুর কপালে আলতো করে ঠোঁট ছুঁয়ে ডুবে গেল সুমুর মাঝে। সুমু পরম আবেশে চোখ জোড়া বুজে ফেলল। তার চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ল দু’ফোঁটা নোনা জল। আজ দুটো ভালোবাসার মানুষ পরিপূর্ণ ভাবে এক হলো। এই মিলন শুধু দুটো দেহের না, দুটো আত্মার ও।
ওমান, বুরাইমি শহর
আরিয়ান চৌধুরী বারে বসে একেরপর এক ওয়াইনের গ্লাস খালি করছে। তার শরীরের সাথে লেপ্টে আছে একজন রমণী। রমণীটির পরনে অফ সোল্ডার টুব ড্রেস। আরিয়ান ওয়াইনের গ্লাসে চুমুক দিতে দিতে পকেট থেকে ফোন বের করল। গ্যালারি অপশনে ঢুকে একটা স্কিনশট বের করে জুম করে দেখল। পাশে থাকা রমণীটি ফোনটার দিকে একবার তাকিয়ে দেখল, ফোনের স্কিনের ওপর একটি মেয়ের ব্যাকসাইডের ছবি। রমণীটি ভ্রু কুঁচকে আরিয়ানের গালে হাত বিচরণ করে বলল,
“হু ইজ সি, ডালিং?”
আরিয়ান ফোনের দিকে চোখ রেখেই বলল,
“আই ডোন্ট নো, নেহা।”
“হোয়াহ আর ইউ লুকিং অ্যাট দ্যা পিকচার?”
আরিয়ান বাঁকা হেসে বলল,
“বিকজ, আই লাইক ইট। অ্যান্ড দ্য বয় ইন দ্য পিকচার ইজ মাই ব্রাদার। দ্য ওয়ার্ল্ড ফেমাস, গার্লস হার্টথ্রব শেরাজ খান।”
“আই সি। বাট ডার্লিং, উই আর রানিং লেট। প্লিজ, কাম অন।”
আরিয়ান গ্লাসে থাকা ওয়াইন এক চুমুকে শেষ করে নেহা মেয়েটিকে নিয়ে উঠে দাঁড়াল। গন্তব্য তাদের বারের বেড রুম।
ঘড়ির কাঁটায় সময় ভোর পাঁচটা। শেরাজ সুমুকে বুকের ওপর নিয়ে শুয়ে আছে। সুমুর চোখ বেয়ে এখনো নোনা জল গড়িয়ে পড়ছে। সুমুর কান্না যখন শব্দ আকারে ধারণ করল, তখন শেরাজ তাকে রেখে উঠে বসল। সে সুমু দিকে মায়া ভরা দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল,
“আর ইউ ওকে, সুইটহার্ট? পেইন কি অনেক বেশি হচ্ছে?”
সুমু উঠে বসতে চাইল, তবে শরীরের ব্যথার কাছে হার মেনে শুয়ে রইল। সুমু জানেনা, তার খান সাহেবের এই ছোঁয়া ভালোবাসা থেকে ছিল, নাকি এতোদিনের রাগটা আজ তার উপর এইভাবে ঝাড়ল। তার শরীরের প্রতিটা অঙ্গ-প্রতঙ্গ ব্যথায় অবশ হয়ে আছে। তবুও কষ্ট করে সুমু শেরাজের দিকে হাত বাড়িয়ে দিল। শেরাজ সুমুর হাতের ওপর ঠোঁট ছুঁইয়ে সুমুকে জড়িয়ে ধরল। শেরাজের ছোঁয়ায় ক্ষত স্থানগুলোতে মরিচের মতো জ্বলে উঠল। দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করল সুমু। সে কান্নাজড়িত কন্ঠে বলল,
“আজ আমি পরিপূর্ণ হলাম, খান সাহেব। আজ আপনি আমাকে পরিপূর্ণ করলেন। সেদিন আপনার এক্সিডেন্টের খবরটা আমাকে মৃত্যুর যন্ত্রণা দিয়েছিল। আমি জানিনা মানুষের মৃত্যুতেও এতো কষ্ট হয় কিনা, যতোটা কষ্ট আমার সেদিন হচ্ছিল। তারপর থেকে আপনার ইগনোর আমাকে ভেতর ভেতর শেষ করে দিচ্ছিল। কিন্তু আজ? আজ আমার জীবনের সবথেকে সুন্দর আর সবথেকে শান্তিপূর্ণ রাত গেল। আপনার এই ছোঁয়া যেমন আমার শরীরে ব্যথা সৃষ্টি করেছে, ঠিক তেমনি আপনার এই ছোঁয়া আমার মনের সব ব্যথাকে আজ দূর করে দিয়েছে। এতোদিনের মনের ব্যথার কাছে শরীরের এই সামান্য ব্যথা কিছুই না।”
শেরাজ সুমুর গলায় ছোট্ট করে ঠোঁট ছুঁয়ে সুমুর দিকে তাকিয়ে বলল,
“তোমার সাথে বাসর না করে আমি মরতাম না, সুইটহার্ট।”
সুমু রাগ করতে গিয়েও আজ আর রাগ করতে পারল না। সে হেসে ফেলল শেরাজের কথায়। শেরাজ সুমুকে কোলে তুলে নিয়ে ওয়াশরুমে এলো। ঝর্ণার পানি ছাড়তেই সুমু চোখমুখ খিঁচে বন্ধ করে ফেলল। শরীরে অসহ্য যন্ত্রণা হচ্ছে তার। তবুও এই যন্ত্রণাতে অদ্ভুত এক শান্তি অনুভব করছে সে। শাওয়ার শেষ করে শেরাজ তার শরীর মুছে দিয়ে বাড়ি থেকে পরে আসা নিজের শার্টটা তাকে পরিয়ে দিল। সে সুমুকে আবারও কোলে তুলে রুমে এসে বেডে শুইয়ে দিয়ে ফোনটা নিয়ে বাহিরে গেল। মিনিট পাচঁকের মধ্যে হাতে একটি শর্টপ্যান্ট নিয়ে রুমে ঢুকে সোজা ওয়াশরুমে চলে গেল। মিনিট দশেকের মধ্যে শাওয়ার নিয়ে ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে সুমুকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে পড়ল। মিশন এখন ঘুমের রাজ্যে পাড়ি জমানো। সে সুমুর দিকে তাকিয়ে দেখল, সুমু ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে। শেরাজ ভ্রু নাচিয়ে বলল,
“এখন একটু কষ্ট করে ঘুমাও। সকালে পেইন কিলার এনে দিব।”
সুমু আদরমাখা কন্ঠে বলল,
“আমি পেইন কিলার খাব না, খান সাহেব। আমি এই ব্যথাগুলোকে আমার সাথে রাখতে চাই। যখনই এই ব্যথাগুলো আমি অনুভব করব, তখনই আমার আপনার আজ রাতের এই পাগলামির কথা মনে পড়বে।”
শেরাজ দুষ্টু হেসে বলল,
খান সাহেব পর্ব ২৮
“অভ্যাস করে নাও। এখন থেকে মাঝে মাঝে এমন পাগলামি সহ্য করতে হবে।”
সুমু লজ্জায় মুখ লুকালো শেরাজের বুকে। শেরাজ মুচকি হেসে সুমুকে আরও ঢুকিয়ে নিল বুকের মধ্যে। তারপর দু’জন একসাথে ঘুমের রাজ্যে পাড়ি জমাল।
