মন পবনে বৃষ্টি পর্ব ১০
তাসনিয়া নুর
হুট করে বাচ্চাদের এই অবস্থা হয়ে যাওয়ায় বেশ চিন্তিত বড়রা । কি থেকে কি হয়ে গেলো একটু আগে ও তো সব ঠিকঠাকই ছিলো। অন্যদিকে আহিরের বেহায়া ঠোঁট দুটি শুধু প্রসারিত হচ্ছে কিছুতেই এদের ধরে রাখা যাচ্ছেনা। সে কল্পনাও করতে পারেনি ডোজ উল্টো দিকে চলে যাবে। তবে বেশ হয়েছে সারাদিন শুধু তার পিছন লেগে থাকে এরা, শালা সব ঘসেটির বংশধর । না এখন আবার খারাপ লাগছে আহা কি অসহায় এর মতো এক একটা বিছানায় পড়ে আছে যেন রাস্তায় শুয়ে শুয়ে ভিক্ষা করছে । আহারে এতিমগুলারে । আহির ভাবলো না যেহেতু দোষ তার তাই তারই কিছু করতে হবে। তাহলে যদি এই এতিম গুলোর মুখে একটু হাসি ফুটে।
বিকেলে আহির চিত্রা, মেহু, মাহির, মাইরা কে ছাদে ডেকে পাঠায় । এমন অসুস্থ শরীর নিয়ে ওভাবে উপরে যেতে চাচ্ছেনা কেউ কিন্তু বার বার মন্টুকে দিয়ে ওদের ডেকে পাঠায় আহির অগত্যা ইচ্ছে না থাকার পর ও যেতে হয় । ছাদে পৌছে চিত্রা, মাহির, মাইরা, মেহু একে অন্যের দিকে চাওয়াচাওয়ি করে । সামনের দিকে অগ্রসর হতেই পিছন থেকে আহির মাহিরের কাঁধে ধাক্কা দিয়ে বলে সারপ্রাইজ । শরীর দুর্বল থাকায় তার উপর আহিরের ধাক্কার তাল সামলাতে না পেরে মাহিরের মাথা গিয়ে জুড়ছে বারি খায় মাইরার মাথায় । মাইরা পিছিয়ে যাওয়ার ফলে তার পা গিয়ে পরে চিত্রার পায়ের উপর । চিত্রা হালকা চিৎকার দিয়ে হাত উচু করে সরাতেই তা গিয়ে সপাটে চড় পরে মেহুর গালে ।
পাশে থাকা আবইয়াজ আর আহির হা করে এদের দিকে তাকিয়ে আছে । আবইয়াজ অবাকতা নিয়েই মাহিরকে বলে
— ভাই তুই বউ সামলাবি কেমনে । তোর বউ ফূ দিলেই উড়ে যাবি । ভাই তুই আমার সাথে আয় তোর ইমিডিটলি কলিকাতা হারবালের প্রয়োজন ।
পাশ থেকে আহির মাথা উপর নিচ করে সম্মতি জানিয়ে বলে
— আমার মনে হয় এর মেইন ল্যাম্প এ বিরাট সমস্যা আছে ।
মাহিরের মাথায় আগুন ধরে উঠে। কিভাবে মেয়ে গুলোর সামনে তাকে অপমান করা হচ্ছে । মাহির রেগে বলে
— তোদের কি মনে হয় হ্যাঁ?? তোরা জানিস আমার ল্যাম্প এর তেজস্বীতা কত? কাছে আসলেও একদম পুড়ে ছারখার হয়ে যাবি । আয় একবার কাছে আয়, দেখিয়ে দেই আমার ল্যাম্পের পাওয়ার ।
চিত্রা নাক মুখ কুঁচকে বিরক্তি স্বরে বলে
— ছি বেশরমগুলা কি বলছো এইসব? আমরা যে এখানে উপস্থিত আছি সে কথা আদেও স্মরন আছে তোমাদের?
চিত্রা এবার আহিরের দিকে তাকিয়ে কপট রাগ নিয়ে জিজ্ঞেস করে
— আর এভাবে কেনো ডেকে এনেছো আমাদের? লাথি থাপ্পড় খাওয়ার জন্য নাকি ঝগড়া করার জন্য?
— আরে রেগে যাচ্ছিস কেনো? তোদের জন্য বিরাট এক সারপ্রাইজ আছে ।
— সারপ্রাইজ !! কিসের সারপ্রাইজ?
মাইরার প্রশ্নে উপর নিচ মাথা ঝাকায় আহির । আহির তার হাত সামনে তাক করে, সকলের উদ্দেশ্যে বলে
— আজ ছাদে পার্টি হবে ।
আহিরের কথা অনুযায়ী সামনে তাকায় সবাই । সেখানে হরেক রকমের খাবার সাজানো আছে চিকেন, বার্গার, পিজ্জা, কোক আরো নানা রকমের খাবার । খাবার দেখে মাহির জিহ্বা দিয়ে ঠোঁটে লেহন দেয় । চিত্রা এতো খাবার দেখে ভাবুক স্বরে জিজ্ঞেস করে
— এই অসুস্থ অবস্থায় আমরা এইসব খাবো?
মাহির জবাব দেয়,
— খাবার আগে দুনিয়া পরে । কবি বলেছেন খাবি আর পেট খারাপ হবে এই তো মানব জীবন ।
— কোন কবি বলছে এই কথা?
মেহুর প্রশ্নে মাহির কলার উচু করে বলে
— কবি মাহিরেন্দ্র খোস খোস ।
— হোয়াট ইউ মিন বাই খোস খোস?
— ওইসব কবিদের ব্যাপার স্যাপার তুই বুঝবিনা ।
যেই মাহির খাবারের উপর হামলে পরবে আহির তার কাঁধ ধরে ফেলে বলে
— আরে যাচ্ছিস কোথায়? ওইদিকে কেনো নজর দিচ্ছিস? ওগুলো তোদের জন্য না । তোদের খাবার ওই দিকে ওইযে ডান দিকে । আর এইগুলা তো আমার আর আবইয়াজের ।
আহিরের কথা অনুযায়ী সকলে সেদিক তাকিয়ে দেখে একটা বড় বলে চিড়া, তার পাশে এক ঝুড়ি কলা আর এক বালটি পানি । আহির ওদের উদ্দেশ্যে বলে
মন পবনে বৃষ্টি পর্ব ৯
— যা গিয়ে তোদের চিড়া কলা পানি খাওয়া শুরু কর । আর পেটটাকে একটু ঠান্ডা কর ।
আহিরের কান্ডে ভরকে যায় সবায় । চিত্রা, মাহির, মাইরা, মেহু এক সঙ্গে চিৎকার করে
— আহিরের বাচ্চাআআআআআআআআ..।
আহির আর আবইয়াজ নিজেদের কান চেপে ধরে….
