Home অন্তস্থ হৃদয়ের তৃষ্ণা অন্তস্থ হৃদয়ের তৃষ্ণা পর্ব ৯

অন্তস্থ হৃদয়ের তৃষ্ণা পর্ব ৯

অন্তস্থ হৃদয়ের তৃষ্ণা পর্ব ৯
শ্রাবণী ইয়াসমিন

রাতের গভীরতা যেমন বাড়ছে এর পাশাপাশি আনায়ার নিশ্বাস এর গতিও বাড়ছে। ডাইনিং রুমের মৃদু আলোয় আনায়ার চেহারা যেন চকচক করছে। জেভিয়ার এক দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে আছে।
জেভিয়ার ধীর পায়ে এগিয়ে এলো, তার চোখ আনায়ার ওপর স্থির। তার কালো শার্টের বোতামগুলো একটু আলগা, চুল এলোমেলো, যেন সে কোনো অশান্ত ঝড় থেকে ফিরেছে। কিন্তু তার দৃষ্টিতে এখন শুধু আনায়া যেন সে একটা শিকারী, আর আনায়া তার একমাত্র লক্ষ্য।
জেভিয়ার এইবার কোনো কথা না বলেই আনায়া কে কোলে তুলে নিয়ে ডাইনিং টেবিলের এক পাশে বসিয়ে দেয়।

— কত কষ্ট করে তোমার থেকে নিজেকে কন্ট্রোল করতাম জানো লাভ বার্ড? আর আজ তুমি সেই সব শিকল ভেঙে দিয়েছো। আজ থেকে তোমার প্রতিটা নিশ্বাসেও লিখা থাকবে “জেভিয়ার”।
এই বলেই জেভিয়ার আনায়ার কোমড় হালকা করে চেপে ধরে নিজের আরেকটূ কাছে নিয়ে আসে। আনায়া জেভিয়ার এর গলা জড়িয়ে ধরে।

জেভিয়ার আনায়ার ড্রেসের ভেতর দিয়ে হাত গলিয়ে ড্রেসটা এক টানে খুলে ফেলে। আনায়া যেন হঠাৎ করে এরুপ কাজের জন্য একদমই প্রস্তুত ছিলো না।
আনায়ার মেরুন রঙের ইনার তার ফর্সা ত্বকে চকচক করে ওঠে। আনায়া কিছুটা লজ্জা আর জড়তায় গুটিয়ে নেয় নিজেকে। জেভিয়ার আনায়ার গাল থেকে আঙুল ছুয়ে বক্ষভাজের ওপর এসে থেমে যায়। হঠাৎ সে আনায়াকে উদ্দেশ্য করে বলে,

“লাভ বার্ড, ওপেন ইট।”
আনায়া যেন লজ্জায় আরও সিটিয়ে যায়। জেভিয়ার আর ধৈর্য ধরতে পারছেনা। সে কাছে গিয়ে ইনারের স্ট্র‍্যাপ টা এক টানে খুলে ফেলে দেয়।
সে আনায়ার সম্পূর্ণ শরীরে চোখ বুলায় ক্ষুধার্ত তবে শান্ত দৃষ্টিতে।
“লাভ বার্ড, তুমি কি জানো তুমি যে কি পরিমাণ এক্সট্রেম লেভেল এর হট? কন্ট্রোললেস হয়ে পড়ছি আমি জান। আজকের দিনটা আমাকে সামলে নিও প্লিজ।”
জেভিয়ার আনায়ার গলায় চুম্বন করতে করতে কাধে নেমে আসে। ধীরে ধীরে সে আরও নিচে বুকের মাঝে যেতে থাকে। আনায়া জেভিয়ার এর চুল খামচে ধরে।
“লাভ বার্ড, তোমার বডি আমার কাছে আইসক্রিম এর মত লাগছে। মনে হচ্ছে একটু ছুয়ে দিলেই গলে যাবে। আম…ক্যান আই টেস্ট ইউ বেইবী, লাইক আইসক্রিম?”

আনায়া লজ্জায় চোখ নামিয়ে ফেলে কোনো উত্তর করতে পারে না। জেভিয়ার বাকা হেসে আনায়াকে কোলে নিয়ে কাউচে গিয়ে শুইয়ে দেয়। আনায়ার মুখ লজ্জায় লাল হয়ে আছে। জেভিয়ার আনায়ার পায়ের কাছে বসে পরে।
সে পায়ে থেকে চুম্বন করতে করতে হাটুর ওপরের দিকে যেতে থাকে। আনায়া জেভিয়ার এর চুল শক্ত করে চেপে ধরে।
সে যেন আর সহ্য করতে পারছে না সে হালকা চিৎকার করে ওঠে।
“জেভিয়ার প্লিজ…..স্টপ। আনায়া ফিসফিস করে বলে।”
“বেইবী, এখনো আমি কিছুই করলাম না আর তোমার এখনই আউট হয়ে যাচ্ছে? এখনো তো আমাকে হোল নাইট হ্যান্ডেল করা বাকি তোমার।”
জেভিয়ার একটু থেমে আবার বলে-
“লাভ বার্ড, তোমার সাইজ টা খুবই ছোট। তাই আমার টা নিতে তোমার একটু কষ্ট হতে পারে। তবে আমি কথা দিচ্ছি শুধু আজকের রাতটাই কষ্ট হবে তোমার আর একদিনও কষ্ট দেবো না আমি প্রমিজ করছি।”
জেভিয়ার আনায়ার দিকে হালকা ঝুকে তার ঠোঁট জোড়া দখল করে নেয়। তার এক হাত আনায়ার কোমড়ে আরেকহাত বুকে।

“জেভিয়ার…আমার কষ্ট হচ্ছে। আমি পারছি না প্লিজ স্টপ। আনায়া কাপাকাপা গলায় ফিসফিস করে বলে তার গলায় কোনো জোর নেই আর।”
জেভিয়ার এর কানে যেন কোনো কথাই ভালো ভাবে যাচ্ছে না সে নিজের কাজে মত্ত হয়ে আছে।
হঠাৎই আনায়ার দিকে তাকিয়ে জেভিয়ার এর সম্ভিৎ ফিরে এলো যে সে কি করছিলো এতক্ষণ। আনায়া কোনো রকম নিভু নিভু চোখে তাকিয়ে আছে। জেভিয়ার আনায়াকে সোজা করে বুকে জড়িয়ে নেয়।
“স..সরি লাভ বার্ড। আ’ম সো সরি। সরি, প্লিজ সোনা। আমার খেয়াল ছিলো না যে এইটা তোমার ফার্স্ট টাইম। আমি বেশি রাফ হয়ে গিয়েছিলাম। সরি লাভ বার্ড।”

আনায়া জেভিয়ার এর বুকে নিজেকে আরেকটু গুটিয়ে নিয়ে চোখ বন্ধ করে তার চোখ বেয়ে কয়েক ফোটা পানি পড়ে। সত্যি তার কষ্ট হচ্ছিলো অনেক।এখন যদি জেভিয়ার না থামতো আনায়া হয়ত এখনই জ্ঞান হারাতো।
আনায়া আস্তে করে বলে-
“জেভিয়ার ভালোবাসতে চাই তোমাকে।”
জেভিয়ার আনায়ার কথা শুনে মুচকি হেসে তার কপালে নিজের ঠোঁট ছুইয়ে দিয়ে আরও শক্ত করব নিজের সাথে জড়িয়ে ধরে।

এক বিলাসবহুল হোটেলের পঁচিশতলার প্রাইভেট স্যুটে তীব্র গন্ধ ছড়াচ্ছে সিগারেট আর পারফিউমের। ব্যালকনির পর্দা বাতাসে দুলছে। ভেতরে এক বিশাল বেডে আধনগ্ন অবস্থায় ভিক্টর হাফপ্যান্ট পরে এক নারীকে বুকের উপর চেপে ধরে আছে। মেয়েটার ঠোঁট লিপস্টিকে রক্ত লাল, চোখে আর কোনো ভাষা নেই। সে আঙুল দিয়ে ভিক্টরের বুকে খেলা করছে।
তাদের মাঝেই হঠাৎ ভিক্টরের ফোনটা বিছানার পাশে টেবিলে কাঁপতে থাকে। সে হাত বাড়িয়ে ফোনটা নিতে যায়, কিন্তু মেয়েটা তার হাত চেপে ধরে, ভিক্টরের আরও কাছে গিয়ে গালে একটা চুম্বন করে বলে-
— এখন না বাবু। এই সময়টা শুধুই আমাদের ব্যক্তিগত।
ফোন আবার বেজে ওঠে। ভিক্টর চোখ কুঁচকে তাকায় স্ক্রিনের দিকে।
— ছাড়ো লিন্ডা। কোনো প্রয়োজনীয় কল হতে পারে।
এইবার মেয়েটা আবার বাধা দেয়। এক মুহূর্তে ভিক্টরের সব ধৈর্য ফেটে পড়ে। সে মেয়েটার গালে এক থাপ্পড় কষিয়ে দেয়। মেয়েটা ধপ করে পড়ে যায় পাশে।
ভিক্টর দাঁতে দাঁত চেপে ফোনটা কানে তোলে।
ফোনের ওপাশে ভেসে আসে এক অস্থির, ক্ষুব্ধ কণ্ঠ:

— আর কতদিন মিস্টার ক্রুজ? এক মাস তো হয়ে গেল! এই মেয়েটার জন্য লোকটা আমাকে পাগলের মতো চাপ দিচ্ছে! সে পাঁচ লাখ ডলার অফার করেছে একটাই শর্ত, মেয়েটাকে চাই তার!
ভিক্টর কিছুক্ষণ চুপ, চোখ কুঁচকে জানালার দিকে তাকায়। তার চোখে ঝলকানি।
— আপনি কি ভাবছেন আমি ফাঁকি দিচ্ছি?
— আমি ভাবছি তুমি খেলছো আমাদের সাথে! তুমি বলেছিলে মেয়েটা তোমার হাতে আছে, তারপর হঠাৎ উধাও? কোথায় সে? তোমার লোকেরা খুঁজেও পাচ্ছে না?
ভিক্টর ধীরে ধীরে দাঁড়িয়ে পড়ে, হোটেল বাথরুমের আয়নায় নিজের প্রতিবিম্ব দেখে। ফোনটা এখনো কানে।
— জেভিয়ার…
— কি?
কিছুনা আমাকে আর অল্প কিছুদিন সময় দিন আমি মেয়েটাকে খুজে বের করবোই কথা দিচ্ছি। এই বলেই ফোনটা কেটে দেয়।
ভিক্টর রাগে নিজের চুল মুষ্ঠি করে চেপে ধরে শক্ত করে এরপর নিজেই বলতে থাকে-

— ইউ ফা*কিং বি*চ, তোর জন্য আমার এত কথা শুনতে হচ্ছে। আনায়া… সেই মেয়েটা এখন তোর ব্ল্যাক হাউজে ঘাপটি মেরে বসে আছে তাই না?
একটা অন্ধকার হাসি ফুটে ওঠে তার ঠোঁটে।
— মেয়েটাকে আমি একদম ক্ষুধার্ত শেয়ালের সামনে ছেড়ে দিয়ে আসবো। তারপর তুই নিজের চোখে দেখবি তোর সেই আনায়াকে কীভাবে ছিড়ে ছিড়ে খায় আসল জানোয়ারগুলো।
ভিক্টর আয়নার দিকে তাকিয়ে থাকে। তার চোখ লালচে, ঠোঁটে বুনো বিকারের ছায়া।

রাত কেটেছে নিদ্রাহীন অন্ধকারে। শরীরের প্রতিটি রন্ধ্রে যেন আগুন জ্বলছে। ব্যথায়, ক্লান্তিতে, ধকল আর মানসিক অবসাদে আনায়া যেন আর নিজেকে ধারণ করতে পারছে না। বুকের মধ্যে জমে থাকা কষ্ট, শরীরের অসহ্য জ্বালা সব মিলিয়ে তার চোখ দুটো লাল হয়ে উঠেছে।
সারারাত জেগে থেকেও সে কখন ঘুমিয়ে পড়েছে বলতে পারবে না। তবে সকাল গড়িয়ে এখন দুপুর। সূর্যের আলো জানালার ফাঁক গলে ঘরে এসে পড়ছে।
আনায়া ধীরে ধীরে চোখ মেলে তাকায়। সে এখনো জেভিয়ারের বুকে গুটিশুটি হয়ে শুয়ে আছে। জেভিয়ার এক চুলও নড়ছে না একইভাবে তাকে আঁকড়ে ধরে রেখেছে।
সে এমন করে ধরে আছে যেন এই মেয়েটাকে ছেড়ে দিলে পৃথিবীর সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাবে। আনায়া অনুভব করে জেভিয়ারের ঠোঁটটা নড়ছে। সে বিরবির করে কিছু বলছে।
আনায়া নিঃশব্দে কান পাতল—

— সরি লাভ বার্ড, সরি। তুমি শুধু আমার লাভ বার্ড। শুধু আমার, শুধু আমার, শুধু আমার…..
আনায়ার কিছুটা অবাক হয়ে গেলো জেভিয়ার আর অদ্ভুত আচরণে।
আনায়ার কিছুতেই ব্যথা কমছে না। গায়ে যেন আগুন লেগেছে। কপালটায় হাত রাখতেই টের পেল তীব্র জ্বর।
আনায়া বুঝে গেল, আজ সারাদিন বিছানা ছাড়া কোনোভাবেই সম্ভব না। হঠাৎই তার মনে পড়ে গেলো সিড়ির নিচের জায়গার কথাটা।
সিঁড়ির নিচের সেই অদ্ভুত সব ছবি, আর সেই কোডপ্লেট
সে ভেবেছিলো জেভিয়ারকে জিজ্ঞেস করবে কিন্তু করেইনি।
এই সুযোগে সে ধীরে বলে ওঠে—
— জেভিয়ার… আমি একটা কোডপ্লেট দেখেছিলাম। নিচতলায় সিঁড়ির পাশে। সেখানে একটা ফটো ছিল, কিছু নাম আর একটা কোড। ওটা কি ছিলো?
জেভিয়ারের দেহটা যেন হঠাৎ শক্ত হয়ে ওঠে।
সে ধীরে বলে—

অন্তস্থ হৃদয়ের তৃষ্ণা পর্ব ৮

— তুমি সেখানে গিয়েছিলে?
— হ্যা।
একটা দীর্ঘ নীরবতা ভর করে ঘরে। জেভিয়ার চোখ বন্ধ করে নিজের মনের ভেতরে কোথাও ডুব দিয়ে আসছে যেন। তারপর সে নিঃশ্বাস ছাড়ে, গলা নিচু করে বলে—
— সেইটা কোনো সাধারণ রুম নয়। সেইটা আমার সিক্রেট রুম।
আনায়ার গলা শুকিয়ে আসে। সে চুপ করে শোনে। তার চোখে ভয়, বিস্ময় আর জিজ্ঞাসা।
জেভিয়ার ধীরে বলে—
— তুমি দেখতে চাও লাভ বার্ড ? ………

অন্তস্থ হৃদয়ের তৃষ্ণা পর্ব ১০