Home সিকান্দার শাহ্ সিকান্দার শাহ্ পর্ব ৫

সিকান্দার শাহ্ পর্ব ৫

সিকান্দার শাহ্ পর্ব ৫
Raiha Zubair Ripti

সিকান্দারের গাড়িটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি ডিপার্টমেন্টের সামনে থেকে বেরিয়ে চলে যেতে লাগলো কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে দিকে। সিকান্দারেট দৃষ্টি স্থির হয়ে আছে সামনের দিকে, রাস্তায়। মুনতাহা তাকিয়ে আছে বাহিরে। গাড়িতে তাদের মধ্যে আর কোনো কথা হয় নি। দু’জনই চুপচাপ। তবে মুনতাহা এক অদ্ভুত জিনিস টের পাচ্ছে। গাড়িতে অদ্ভুত রকমের সুন্দর একটা ঘ্রাণ পাচ্ছে। খুবই মিষ্টি আর স্নিগ্ধ মনে হচ্ছে ঘ্রাণ টা। পারফিউম নাকি?
যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে গাড়িটা এসে থেমে গেলো। মুনতাহা আকস্মিক গাড়ি থেমে যাওয়ায় সামনে তাকিয়ে দেখে তারা মলের সামনে এসে গেছে। সিকান্দার গাড়ি থেকে বের হয়ে ওপর পাশের দরজা খুলে দিলো মুনতাহা কে বের হবার জন্য। মুনতাহা বের হতেই গাড়ির দরজা লাগিয়ে দিয়ে হাতের ইশারায় বলল-

“ চলুন। ভেতরে সবাই অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য।”
মুনতাহা হাঁটা ধরলো। তার পেছন পেছন হেঁটে আসছে সিকান্দার। মলের ভেতরে ঢুকতেই গ্রাউন্ড ফ্লোরে দুই বাড়ির সকল সদস্য কে দেখা গেলেও দেখা গেলো না কেবল অর্নবের। সে এসব দেখতে পারবে না। তার উপর সিকান্দার যেভাবে শাসিয়েছে। বেচারা আর আসবে না হয়তো।
সাইদা মির্জা শাড়ির আঁচল সামনের দিকে টেনে ধরে তাদের দু’জনকে আগাগোড়া দেখে বলল-
“ অনেক অপেক্ষা করিয়েছো। এখন আর টাইম ওয়েস্ট করিও না। তাড়াতাড়ি কেনাকাটা শুরু করো। ”
সিকান্দার ছোট্ট করে কেবল বলল-
“ সময় লাগবে। ”
সাইদা মির্জা তীক্ষ্ণ চোখে তাকালেন। সিকান্দার ফুফু আর ময়না বেগমের দিকে তাকিয়ে বলল-
“ ফুপ্পু চাচি চলুন। ”

তারা প্রথমে মেয়েদের জামাকাপড়ের দিকে গেলো। মেহেন্দি,গায়ে হলুদ,বিয়ে বৌভাত তিনটে অনুষ্ঠানের জন্য কেনাকাটা করতে হবে। একটা বড়সড় দোকানের সামনে এনে মুনতাহা কে বলা হলো তার পছন্দ মতো শাড়ি লেহেঙ্গা সিলেক্ট করতে।
মেয়েটা পড়ে গেলো বিপাকে। তার কখনো এমন বড়সড় শপিং মলে আসা হয় নি। জামাকাপড় সব ময়না বেগম কিনে দিয়েছে তার পছন্দ মতো। তার নিজের কখনো কেনা কাটা করার হলে নিউ মার্কেটের সামনে ফুটপাত থেকে কিনেছে। এখন আজ তাকে এখানে এনে এভাবে বিয়ের পোশাক পছন্দ করতে বলায় নার্ভাস হয়ে গেলো। দোকানদার একের পর এক লেহেঙ্গা শাড়ি দেখাচ্ছে। আর সে দেখেই যাচ্ছে।
সিকান্দারের ফুফু মুনতাহার বাহুতে হাত রেখে বলল-
“ কি হলো? পছন্দ করো। ভালো লাগছে না? তাহলে অন্য দোকানে যাওয়া উচিত। শুধু শুধু দাঁড়িয়ে থাকা মানে তো সময় ওয়েস্ট। ”

ময়না বেগম লেহেঙ্গা শাড়ি উল্টেপাল্টে দেখে বললেন-
“ কালেকশন গুলো তো সুন্দরই। তোমার পছন্দ হচ্ছে না কেনো? কি সমস্যা? বলো। ”
মুনতাহা নিচু স্বরে জবাব দিলো –
“ আম্মু এত এত কালেকশন যে আমি ঠিক মতো পছন্দ করতে পারছি না। তোমরা পছন্দ করে দাও। ”
দূরে দাঁড়িয়ে থাকা সিকান্দার এবার এগিয়ে এলো। লেহেঙ্গা শাড়ি গুলোতে একবার চোখ বুলিয়ে বলল-
“ আপনার ভারী জিনিস ক্যারি করতে অস্বস্তি হবে না মন? সিম্পল কিছু দেখবো? যাতে বিয়ের সারাদিন কম্ফোর্ট ফিল পান। ”

মুনতাহা মত নাড়ালো। তার সিম্পল কিছুই চাই। এত গর্জিয়াস পোশাক দেখে তার এখনই অস্বস্তি হচ্ছে। সিকান্দার প্রথমে মেরুন রঙের একটা বেনারসি নেয় বিয়ের জন্য। সবুজ রঙের গারারা নেয় মেহেন্দির জন্য। বাসন্তী কালারের সিম্পল লেহেঙ্গা নেয় গায়ে হলুদের জন্য। সর্বশেষ বৌভাতের জন্য নেয় পেঁয়াজ কালারের শাড়ি। ৪ টা পোশাকের দাম হলো ২ লাখ। সিকান্দার দামাদামি করে নি। যা চেয়েছে তাই দিয়েছে। মুনতাহা চমকালো দাম শুনে। সে তো ফুটপাত থেকে কিনে দামাদামি করে। এই লোক একটা কথাও বললো না!
পোশাক কেনা শেষ হতেই আসরের আজান দিয়ে দিলো। সিকান্দার ফুপ্পু আর চাচিকে ফোন করে ডেকে আনিয়ে মুনতাহা কে তাদের কাছে রেখে বলল- আমি একটু আসছি। ”
কথাটা বলে সিকান্দার শপিংমলে থাকা নামাজের ওদিকটায় চলে গেলো। ওয়াশরুম থেকে ওজু করে পকেট থেকে টুপিটা বের করে আসরের নামাজ টা আদায় করে নিলো।

মুনতাহা তখন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মা ফুপুর কেনাকাটা দেখছিলো। সিকান্দার হুট করে কোথায় চলে গেল তার তা জানা নেই। হয়তো কোনো কাজে গেছে। শপিং ব্যাগ গুলো হাতে নিয়ে এদিক ওদিক তাকাতে তাকাতে হুট করে লিফটের ওদিক পানে চোখ যেতেই দেখলো সিকান্দার লিফটের দরজা খুলতেই বেরিয়ে আসছে। মাথায় সাদা রঙের নামাজের টুপি। বা হাত দিয়ে মাথা থেকে টুপি টা খুলে প্যান্টের পকেটে ভরে তার দিকে এগিয়ে আসছে। লোকটা তাহলে নামাজ পড়তে গিয়েছিল!

সিকান্দার মুনতাহার সামনে দাঁড়িয়ে তার থেকে শপিং ব্যাগ গুলো নিজ হাতে নিয়ে তারপর তারা জুতার দোকানে গেলো। ৪ জোড়া জুতা নিলো ৬০ হাজার। তারপর তারা গোল্ডের দোকানে গেলো। হাত গলা কান নাক মাথা সব জায়গায় গয়না মিলিয়ে ৫ ভরি স্বর্ণ কিনে দেওয়া হলো। এখানেও ১০ লাখের উপরে টাকা খরচ হলো। সবশেষে আসা হলো কসমেটিকসের দোকানে ব্র্যান্ডের অথেনটিক প্রডাক্ট সিকান্দার মুনতাহা কে কিনে দিলো নিজে পছন্দ করে করে। এখানেও চলে গেছে ৫০-৬০ হাজার টাকা। সব কেনা শেষে মুনতাহার পুরো বিয়ের শপিং হলো একগাদা! সিকান্দারের দু হাত ভর্তি। গয়নার ব্যাগ গুলো তার ফুফুর কাছে। শেষের গুলো নেওয়ার আর জায়গা নেই। ইশারায় সে তার দু হাত দেখালো। মুনতাহা কসমেটিকের ব্যাগ গুলো হাতে নিয়ে বলল-
“ আপনি অনেক টাকা খরচ করছেন। গুনলে হয়তো দেখা যাবে ২০ লাখের কাছাকাছি হয়ে গেছে। এতটা খরচ করা কি ঠিক? ”

একথা শুনে সিকান্দার ঘাড় ঘুরিয়ে মুনতাহা কে দেখে বলল-
“ আমার এতদিনের ইনকাম থেকে করা সেভিংসের টাকাপয়সা সব তাহলে কার জন্য মন? নিশ্চয়ই আমার অর্ধাঙ্গিনীর জন্য কেবল। আর সেটা কে? হুম? ”
“ তাই বলে এত?”
“ এটা কেবল আপনার ক্ষেত্রেই এত। আপনার পছন্দ হয়েছে তো আমার পছন্দে কেনা সব?”
যদিও কেনার আগে সিকান্দার জিজ্ঞেস করে নিয়েছে। তারপরও মনে হলো জিজ্ঞেস করা উচিত আবারও।
“ হু। ”
“ তাহলে চলুন বাসায় ফেরা যাক। ”
“ কিন্তু আপনি তো কিছুই কিনলেন না। ”

“ পরে এসে কিনবো আমার টা। আপনার বাড়ি ফেরা উচিত। ভীষণ ক্লান্ত দেখাচ্ছে। ভার্সিটি থেকে সোজা এখানে নিয়ে এসেছি। ক্ষুধা লেগেছে নিশ্চয়ই। আগে কিছু খেয়ে নেওয়া যাক চলুন। ”
সিকান্দার ফোনটা বের করে ফুপু কে কল দিয়ে বলল তাদের কেনাকাটা কতদূর। ওপাশ থেকে ফুপু জানালো,সিমরানের আর লাবন্যর হয় নি এখনো। লাবন্য সিকান্দারের ফুপুর একমাত্র মেয়ে।
“ তাহলে ফুপ্পু আমি মুনতাহা কে নিয়ে খাবারের দিকটায় যাচ্ছি। আপনাদের হয়ে গেলে এদিকটায় আসুন। ”
ফোন কেটে সিকান্দার মুনতাহা কে নিয়ে রেস্টুরেন্টে ঢুকলো। এক প্লেট কাচ্চি আর কাবাব অর্ডার দিলো। কাচ্চি টা খুব পছন্দ মুনতাহার। কিন্তু আগে আগে খাওয়াটা কেমন অসামাজিক দেখায়। সেজন্য ঠোঁট কামড়ে পুরো রেস্টুরেন্টে চোখ বুলাচ্ছিলো। সিকান্দার হাত ধুয়ে প্লেটে খাবার বেড়ে দিয়ে বলল-

“ খাওয়া শুরু করুন মন। আমারও ক্ষুধা লেগেছে আপনার মতো। খাবার সামনে রেখে অপেক্ষা করতে নেই। ”
লজ্জা পেলো মুনতাহা। হাত ধুয়ে খাবারটা খেয়ে নিলো। তাদের খাওয়া শেষ হতেই বাকিরাও চলে আসলো। তারা তাদের পছন্দ মতো খাবার খেলো। সকলের খাওয়া শেষে সিকান্দার বিল পরিশোধ করে মুনতাহা আর ময়না বেগম কে তার গাড়িতে করে তাদের বাড়িতে রেখে আসলো। বাকিরা সাইদা মির্জার গাড়িতে করে তাদের বাড়িতে গেলো।
ফেরার পথে সিকান্দার আর মুতাহার মধ্যে কোনো প্রকার কথা হলো না আর। বাড়ির ভেতরেও আসে নি। নামিয়ে দিয়েই চলে গেছে।
মুনতাহা রুমে এসে সব খুলে খুলে দেখলো। তখন সেভাবে নজর দিয়ে দেখা হয় নি। পুরো খাট ভরে গেছে জিনিসপত্রে।
ইলা মেসেজ দিয়ে জানিয়েছিল তাকে যেন বিয়ের জামাকাপড় দেখানো হয়। মুনতাহা সেজন্য ছবি তুলে ইলাকে পাঠালো। সাথে সাথে ইলা রেসপন্স করলো। লিখে পাঠালো-

“ ওরে আল্লাহ! এ বেডা তো দেখি তোমাকে পুরো শপিং মল ধরে কিনে দিছে মুনতাহা। বেডা বড়লোক মেলা। কে পছন্দ করে কিনছে এগুলো? তুমি?”
“ না। উনিই সব পছন্দ করে দিছে কিনে। ”
“ বেডার রুচির তারিফ করতে হয়। সব ব্রান্ডের জিনিস কিনে দিছে তোমায়। বোইন তুমি জিতছো। এই বেডা দেইখো ঐ খবিশ অর্নবের মতে হবে না।”
“ দোয়া করো। ”
“ অলওয়েজ করি তোমার জন্য। আশা করি এবার তুমি খুব সুখী হবে,মানে খুউউব। ভার্সিটি তে আসবে এই কদিন? নাকি বিয়ের পর আসবে একেবারে?”
“ শিওর বলতে পারছি না। ইমার্জেন্সি হলে যেতে হবে ভার্সিটিতে। ”
“ আচ্ছা জানিয়ো আসলে। ”
“ বিয়েতে আসছো তো তুমি? ”
ইলা হাই তোলার ইমোজি পাঠিয়ে বলল-
“ দাওয়াত দিয়েছিলে নাকি আমাকে?”
“ দিলাম তো। ১৩ তারিখ বিকেলে মেহেন্দি। ১৪ তারিখ সকালে গায়ে হলুদ আর দুপুরে বিয়ে। ১৫ তারিখ বৌভাত। আসছো তো?”

“ অবশ্যই আসবো। এখন রেস্ট নাও। ধকল গেছে অনেকটা। ”
মুনতাহা ফোনটা হাত থেকে নামাতে গিয়েও আর নামাতে পারলো না। একটা নোটিফিকেশনে চোখ আঁটকে গেলো। সিকান্দার শাহ্ ফ্রেন্ড রিকুয়েষ্ট পাঠিয়েছে তাকে। প্রোফাইল ক্লিক করে দেখলো প্রোফাইল লক করা। বেডা মানুষও আইডি লক করে রাখে! তবে প্রোফাইল পিকটা সুন্দর। কোনো এক মসজিদের বারান্দায় ছোটছোট বাচ্চাদের সাথে কিঞ্চিৎ কুঁজো হয়ে ঝুকে হাসাহাসি করছে এমন টাইপের ছবিটা। মনে হচ্ছে আচমকা তোলা হয়েছিল অপ্রস্তুত ভাবে। তবে ছবিটা দারুন উঠেছে। সম্ভবত এটা বাংলাদেশে তোলা ছবি না। বাহিরের দেশের কোনো কান্ট্রির হবে। বাচ্চা গুলোর ফেইস গঠনও সেটাই বলছে।
মুনতাহার আর মনে নেই রিকুয়েষ্ট টা এক্সেপ্ট করতে। ওভাবেই ফোন টা রেখে বিছানায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা জিনিস গুলো ব্যাগে ভরে আলমারিতে রেখে দিলো।
রাতে খাবার সময় মুনতাহার বিয়ের অনুষ্ঠান নিয়ে কথা উঠলো। ময়না বেগম কে জিজ্ঞেস করলেন মুনতাহার বাবা কে কি বলবে তার মেয়ের বিয়ের কথাটা?
ময়না বেগমের শক্ত গলায় বলা একবাক্যে –

“ না। ”
“ বিয়েতে মেয়ের বাবা থাকাটা জরুরি। ”
“ যাদের বাপ নেই তাদের কিভাবে বিয়ে হয়? সেভাবেই হবে মুনতাহার বিয়ে। ”
“ আচ্ছা শান্ত হও। তোমাদের কেনাকাটা সব শেষ? আগামীকাল সিকান্দার কে নিয়ে যাব আমি নাদিম। ছেলেটা অনেক খরচ করেছে তাই না?”
“ হুমম। মুনতাহা কে তো কিনে দিছেই সাথে আমাদেরও দিছে। এ জন্য আমি যেতে চাই নি। কেবল মুনতাহার জন্য যেতে হলো। ”
মুনতাহা খাবার খেতে আসলে সাথে সাথে তাদের কথাবার্তা বন্ধ হয়ে যায়। ময়না বেগম জিজ্ঞেস করে –
“ তুমি কাউকে ইনভাইট করেছো বিয়েতে?”
“ হু। ”
“ কাদের কাদের? ”
“ কেবল ইলা কে। ”

আর কোনো কথা হলো না। যে যার মতো খেয়ে চলে গেলো রুমে।
এই নিশুতি ঠান্ডা রাত। সিকান্দার এশার নামাজ শেষে কালো হাফ হাতার টি-শার্ট পড়ে নিজের রুমের সোফায় বসে ল্যাপটপে কিছু কাজ করছিলো। বেশির ভাগ পুরুষের রুম ভর্তি থাকে জামাকাপড়, জুতা,পারফিউম ঘড়ির কালেকশনে ভরা। কিন্তু সিকান্দারের রুমটা একটু ডিফরেন্ট বাকি সব পুরুষদের থেকে। তার রুমের একটা আলাদা সাইড আছে। সেই সাইডটা ভরা শুধু
৫০ টির ও অধিক দেশের সংস্করণের বিভিন্ন হাদিসের কিতাব,যিকিরের কিতাব,আতর, ফিকহের বই,দোয়া-দরুদের বই, তাফসির ইবনে কাসিরের বই দিয়ে। তার এই ২৮ বছর বয়সে ৫০ টিরও অধিক দেশ থেকে সংগ্রহ করা কুরআন শরীফ পড়া হয়েছে। এখন রুমে আছে কেবল একটি কুরআন শরীফ। বাকি গুলো সে একটা করে সংগ্রহ করেছে,পড়েছে। পড়া শেষে মসজিদে বা এতিমখানায় দিয়ে দিয়েছে। আবার নতুন করে কিনেছে। তার অদ্ভুত সব ইচ্ছে। যেই দেশে যায় সেই দেশ থেকে কুরআন শরীফ, হাদিস দোয়া-দরুদের বই, বিভিন্ন সুগন্ধির আতর সংগ্রহ করা।

সিকান্দার পারফিউম ইউজ করে না। ইউজ করে আতর। আতরের হিউজ কালেশন তার রুমে। দেশের আসার সময় সব সাথে করে নিয়ে এসেছে আলাদা করে। তবে বাড়িতে এসে আজ পৌঁছালো। সেগুলেই নিজের রুমের সেই সাইডটায় সেল্ফে সাজিয়েছে বাড়ি ফিরে সিকান্দার। তার দাদিও সাহায্য করেছে। এই সাইডটাতেই নামাজ,ইবাদত করার জন্য সুন্দর একটা সাইড রাখা হয়েছে। দেখলেই, একটু বসে থাকলেই মনটা প্রশান্তি তে ভরে যায়।
মির্জা বাড়িতে ফিরেছে সিকান্দার আজ। বই গুলো গুছিয়ে ফ্রেশ হয়ে এশার নামাজ আদায় করে হাল্কা কুরআন পড়ে একটু কাজে লেগেছিল ল্যাপটপে। এমন সময় পাশে থাকা ফোনটা বেজে উঠায় সেদিকে তাকাতেই দেখলো সুনেহরা ফোন করেছে। সুনেহরা সাইদা মির্জার ছোট মেয়ে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। সিকান্দার রিসিভ করে কানে নিতেই সুনেহরা অস্থির গলায় বলল-

“ ভাইয়া তোমার নাকি বিয়ে! হায় হায় আমি আজ জানলাম সিমরান আপুর থেকে। মেয়েটা কে ভাইয়া? নাম বললো না কেউ। বিদেশি নাকি দেশি? বলো বলো বলো। খুব সুন্দর দেখতে? কিভাবে কি হলো তোমাদের মধ্যে? ”
“ শান্ত হও। শ্বাস নাও। কত প্রশ্ন করবে এক সাথে?”
“ আমি না হয় এক সাথে অনেকগুলো প্রশ্ন করছি। তুমি এক এক করে দাও উত্তর। ”
“ তুমি চেনো তাকে। সে কোনো ফরেইনার না। ”
“ কিহ! আমি চিনি! কে সে কে? বলো তাড়াতাড়ি।”
“ মুনতাহা মুন। ”
কান থেকে যেন ফোনটা পড়ে যেতে গিয়েও ফোনটা আর পড়লো না। তার আগেই কেউ একজন ধরে ফেললো। সুনেহরা তাকিয়ে দেখলো তার রুমমেট শিফা। ফোনটা কানে নিলো ফের সে।

“ আর ইউ সিরিয়াস ভাইয়া! মুনতাহা মুন কে বিয়ে করছো তুমি! আর বাড়ির সবাই মেনেও নিলো! ”
“ স্বার্থ ছাড়া কেউ মেনে নিবে তোমার মনে হয়? ”
“ কি স্বার্থ আছে?”
“ তুমি বুঝবে না। বাড়ি আসছো কবে?”
“ এক্সাম চলছে ভাইয়া। ১২ তারিখে শেষ হবে। সেদিন রাতেই রওনা দিব। বাবা আসবে। ”
“ ঠিক আছে। সাবধানে থেকো। রাখছি,আল্লাহ হাফেজ। ”
ফোনটা কেটে যেতেই সুনেহরার শরীর ঠান্ডা হয়ে গেলো। পাশেই শিফা মেয়েটা চুপচাপ বিছানা গোছাচ্ছে। একনজর তাকালো সুনেহরা। মুনতাহার থেকে দু বছরের বড় সুনেহরা। শিফা তার খুব ভালো ফ্রেন্ড। বলতে গেলে ভার্সিটি লাইফে একমাত্র ফ্রেন্ড। আরো একটা পরিচয় আছে তাদের। শিফার বাবা সুনেহরার বাবার পরিচিত। শিফাদের বাড়ি বগুড়ার সাড়িয়াকান্দি। তো আগে থেকেই তাদের চেনা পরিচয় ছিলো হাল্কা। এই মেয়েটা যে তার ভাইয়াকে ভালোবাসতো। আচ্ছা ওর কি কষ্ট হচ্ছে? মুখের হাবভাব দেখে কিছু ঠাউর করা যাচ্ছে না। ভাইয়া দেশে এসেছে শুনে মেয়েটা কত খুশি হয়েছিল। তারা দুজন প্ল্যান ও করলো ঢাকা যাবে।
সুনেহরা শিফার কাঁধে হাত রেখে বলল-

“ কষ্ট হচ্ছে তোর? ”
শিফা তাকালো। মুখে হাসি ঝুলিয়ে বলল-
“ কষ্ট কেনো হবে আমার?”
“ তুই তো ভাইয়াকে…”
“ বোকা মেয়ে। আর তুই সেগুলো সিরিয়াস ভেবে বসে আছিস? এমনি ফান করেছিলাম। ”
সুনেহরার বিশ্বাস করতে পারলো না কথাটা। কিছু বলার জন্য উদ্যত হলে শিফা কাঁথা মুড়ি দিয়ে বলল-
“ গুড নাইট। সকালে কথা হবে। ”
সুনেহরা তপ্ত শ্বাস ফেললো। একতরফা ভালোবাসায় কিছু মেলে না। অথচ সুনেহরা হয়তো জানে না তার ভাই সিকান্দার শাহ্ একতরফা ভাবে চেয়েই তার ভালোবাসা কে পেতে যাচ্ছে।
সুনেহরা ঘরের বাতি নিভিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়লো।

শিফার বুকের ভেতরটায় কি যে কষ্ট হচ্ছে! আহা কি অসহ্য যন্ত্রণা! চিৎকার করে কেঁদে নিজেকে একটু শান্তনা দিতে অব্দি পারছে না। পাহাড় সমান ব্যথা বুকে চেপে তাকে যুদ্ধ করতে হচ্ছে কান্না না করার জন্য। ছোট থেকেই তো তার পছন্দ ছিলো সিকান্দার কে। যদিও তাদের ভেতর কখনো কথা হয় নি। তারপরও তাকেই ভালো লাগতো। কত বিয়ের প্রস্তাব আসলো তার। কেবল সিকান্দার কে ভালোবেসে ফেলার দরুন না করে দিয়েছে। একটু আশা ছিলো সে দেশে ফিরলে বাড়িতে জানাবে। কিন্তু সে দেশে ফিরে তো নিজেরই বিয়ে ঠিক করে ফেলছে। তারাও নিশ্চয়ই দাওয়াত পাবে বিয়েতে। কিভাবে যাবে? তার তো সহ্য করতে কষ্ট হবে।
পাহাড় সমান ব্যথা নিয়ে কোনোরকমে রাত টা পাড় করে সুনেহরা কে রেখেই সকাল সকাল সপ ভার্সিটিতে চলে যায়। তার নিজেকে একটু সামলে নেওয়ার জন্য স্পেস চাই।
মুনতাহা আজকে ভার্সিটি গিয়েছিল। সে ১৩-১৫ তারিখ এই তিনদিন যাবে না। ইলা ভার্সিটি শেষে শপিং এ গেছে। মুনতাহা বাড়ি এসে জানলো সালমান মির্জা নাদিম আর সিকান্দার গেছে শপিং মলে।
সিকান্দার খুব ছিমছাম একটা সাদা পাঞ্জাবি আর কোটি নিলো বিয়ের জন্য। বৌভাতের জন্য স্যুটব্যুট নিলো। মেহেন্দির জন্য কিছু কিনলো না। মেহেন্দির অনুষ্ঠান কেবল মুনতার হবে। ছেলে মানুষ হাতে মেহেদী নিবে বিষয়টা খুবই ইতস্তত লাগে সিকান্দারের। সালমান মির্জাই কিনে দিলো। সিকান্দার বাঁধা দিতে চেয়েছিল তবে নাদিম আর সালমান মির্জা শুনে নি। তারাও তাদের জন্য কিনেছে। সেলিম মির্জা ফোন করে মানা করে দিয়েছিল তার জন্য না কিনতে। সেজন্য তার জন্য কেনা হয় নি।

নাদিম বাড়তি আরো একটা শার্ট কেনার জন্য আরেকটা দোকানে গেলো। সেখান থেকে একটা ডার্ক ব্লু শার্ট কিনে বের হবার সময় আকস্মিক এক মেয়ের সাথে ধাক্কা খেলো। হাত থেকে সব শপিং ব্যাগ গুলো পড়ে গেলো। মুহূর্তে মেজাজ তার সপ্তম আকাশে উঠে গেলো। কিড়মিড় করতে করতে বলল-
“ কানা নাকি? চোখে দেখেন না? চোখ কি পেছনে রেখে হাঁটেন? ”
ইলা হকচকিয়ে যায়। সে মোড় ঘুরতে ছিলো। কিভাবে বুঝবে পাশের গলি থেকে কেউ আসবে। ইলা শপিং ব্যাগ গুলো উঠিয়ে দিতে দিতে বলল-
“ দুঃখিত ভাইয়া দেখি নি। ”
নাদিম মেয়েলি গলা শুনে ঘাড় বেঁকিয়ে তাকায়। সে তো ভেবেছিল কোনো পুরুষ হবে। মাথাটাকে ঠান্ডা করে বলল-
“ ইট’স ওকে। দেখেশুনে হাঁটুন। নেহাত আমি ভালো ছেলে বলে কিছু বলি নি। অন্য কেউ হলে সিনক্রিয়েট করতো। ”

নাদিম চলে গেলো। ইলা হা হয়ে গেলো। এই ছেলে বলে তাকে কিছু বলে নি! তাহলে শুরুতে কি বলেছিল ওসব? বেডা বদ খাটাশ কোথাকার।
বিকেলে সূর্য যখন তার আলোর গতি কমিয়ে হাল্কা রশ্মি ছড়াচ্ছে তখন ময়না বেগম মুনতাহা কে নিয়ে বাড়ির পাশের টেইলার্সের দোকানে গেলো। তার বাডির মাপ দিয়ে ব্লাউজ পেটিকোট বানাতে দিয়ে আসলো। মাগরিবের আজান দেওয়ার তারা বাড়ি আসে। এসেই ময়না বেগম রাতের রান্না চড়ায়। মুনতাহা নিজের রুমে চলে আসে। পড়নের বোরকাটা খুলে হাত মুখ ধুয়ে মাগরিবের নামাজ টা শেষ করে চা নিয়ে বেলকনিতে বসতেই হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ আসে। মুনতাহা হোয়াটসঅ্যাপে ঢুকে দেখে সিকান্দার লিখে পাঠিয়েছে-

“ আর কত ঘন্টা ঝুলিয়ে রাখবেন এই অধম কে মন? ”
মুনাতাহা বুঝলো না কথার মানে। কোথায় ঝুলিয়ে রেখেছে? সে তো বিয়েতে হ্যাঁ করেছেই। তাহলে?
“ ঠিক বুঝলাম না। ”
“ ফ্রেন্ড রিকুয়েষ্ট পাঠিয়েছিলাম তো। দেখেছিলেন?”
“ ওহ্ হ্যাঁ দুঃখিত। আমার মনে নেই। এক্ষুনি এক্সেপ্ট করছি। ”
মুনতাহা ফেসবুকে ঢুকে এক্সেপ্ট করলো সিকান্দারের আইডিটা। তারপর স্ক্রোল করতে লাগলো।
আগে হয়তো সম্ভবত তার আইডি পাবলিক ছিলো। কারন পোস্টের রিচ গুলো তাই বোঝাচ্ছে। রিসেন্ট হয়তো লক করেছে। লক করার পর আর কিছু পোস্ট করে নি। লাস্ট পোস্ট দু মাস আগের। ফটো অপশনে ঢুকে দেখলো সিকান্দারের অনেক ছবি। বিভিন্ন দেশে গিয়েছিল সেখানকার সৌন্দর্য তুলে ধরছে ছবির মাধ্যমে। বেশির ভাগই বিভিন্ন নামকরা ঐতিহাসিক মসজিদ। লোকটা মক্কা মদিনাতেও গিয়েছিল। হজ্জ উমরাহ করেছে! বাহ্! খুবই ইসলামিক মাইন্ডের তাহলে!

এদিকে মুনতাহা সিকান্দারের আইডি স্ক্রোল করছে ওদিক থেকে সিকান্দার ও মুনতাহার আইডি স্ক্রোল করছে। কারন দু’জনেরই আইডি লক ছিলো।
মুনতাহা খুবই কমই পোস্ট করে ফেসবুকে। তার লাস্ট পোস্ট ছয় মাস আগের। তারপর আর করে নি। ফ্রেন্ড মাত্র ২১ জন। সেগুলোও রিলেটিভ আর ভার্সিটির ফ্রেন্ড।
মুনতাহা ছুটে হোয়াটসঅ্যাপে গেলো। কি-বোর্ড টাইপ করলো-
“ আপনার আমাকে পছন্দ হওয়ার কারণ কি?”
সাথে সাথে রিপ্লাই আসলো-
“ কোনো কারন নেই মন। ”
“ অবশ্যই কোনো কারন আছে। ”
“ সত্যি কোনো কারন নেই। ”
“ আমি কিন্তু আপনার জন্য পারফেক্ট নই জানেন নিশ্চয়ই সেটা। ”
“ আপনি যদি এটা মনে করেন। তাহলে এটাই সই। আপনার পারফেক্ট হতে হবে না আমার জন্য। অবিশ্বাসের দুনিয়ায় সবাই আমায় ছেড়ে চলে গেলেও আপনি শুধু আমার হয়ে থাকবেন। দ্যাটস এনাফ ফর মি। ”

“ আমি কিন্তু খুবই সাধারণ। ”
“ সাধারণের চেয়ে সুন্দর কিছু নেই পৃথিবীতে । আপনি সাধারণেই অসাধারণ। ”
“ আপনার আব্বা আম্মা আমাকে বিয়ের পর ছেড়ে দিতে বললে কি ছেড়ে দিবেন?”
“ আমি তো কাপুরষ নই মন। রক্তে মাংসে গড়া পুরুষ। কারো কথায় কেনো আমি আমার স্ত্রী কে ছেড়ে দিব? যেখানে আমি সব কিছু ছাড়তে রাজি কেবল আপনাকে পাওয়ার বিনিময়ে। সেখানে আপনাকে ছাড়ার প্রশ্ন আসে কিভাবে? হু?”

“ তাকদীর আমাকে কখনো ভালোবাসা দেয় নি জীবনে। ”
“ সেজন্য আপনার তাকদীরে সিকান্দার শাহ্ কে লিখে রাখা হয়েছে। ”
“ এজন্যই বড় অবাক হচ্ছি। হুট করে কেউ বিনা কারনে আমাকে ভালোবাসলে,যত্ন করলে আমি ভীষণ দ্বিধাগ্রস্থ হই। অবহেলায় অভ্যস্ত যে। ”
“ তাহলে এখন থেকেই সিকান্দার শাহ্ তে অভস্ত্য হতে শিখুন মন। তার কাছে ভাতের অভাব হলেও আদর যত্ন আর ভালোবাসার অভাব হবে না কোনোদিন। আপনাকে ভালোবাসার পরিমাপ যদি ভালোবাসা নিজে মাপতে জানতো। তাহলে খোদ ভালোবাসা নিজেই আমার প্রিয়তমা হতে চাইতো।”
“ আমি মুগ্ধ হই আপনার সাথে কথা বলার সময়। বশ করার মন্ত্র জানেন নাকি?”
“ যদি জানতাম তাহলে কি আর আপনাকে পাওয়ার মাঝে যে এত আনন্দ, সেটা জানতে পারতাম? ”
“ আপনি আমাকে পাওয়ার জন্য এত ব্যাকুল! ”
“ আমার জীবনের আপনি এমন এক মানুষ যার অভাবে পুরো দুনিয়া শূন্য লাগে। এক একটা নিঃশ্বাস ফেলতেও কষ্ট হয়। বুক ভারী লাগে। মনে হয় শ্বাস আটকে আসছে। অথচ পৃথিবীতে কিন্তু অক্সিজেনের কোনো ঘাটতি নেই। তাহলে ব্যকুলই বা হবো না কেনো বলুন?”

“ রাখি তাহলে আজ? ”
“ জ্বি অবশ্যই। ”
ফোনটা কেটে দিতেই মসজিদ থেকে এশার আজান ভেসে আসলো। সিকান্দার ফোনটা টেবিলে রেখে উঠতে নিবে এমব সময় দরজায় কড়া নেড়ে সেলিম মির্জা তার উপস্থিতি জানান দিয়ে বলল-
“ আছো? ”
“ হু আছি। ”
সেলিম মির্জা ভেতরে ঢুকে ছেলের সামনে দাঁড়িয়ে বললেন-
“ কথা ছিলো তোমার সাথে। ”
“ অপেক্ষা করুন। নামাজ টা আগে পড়ে আসি। ”
“ জরুরী কথা এটা। ”

“ নামাজটা বেশি জরুরী আমার কাছে। আপনি অপেক্ষা করতে না পারলে আসুন। পরে কথা হবে। ”
সেলিম মির্জা বসে অপেক্ষা করলো। সিকান্দার ওজু করে নামাজ আদায় করে সেলিম মির্জার সামনে বসতেই সেলিম মির্জা বললেন-
“ আমার ব্যবসা আর রাজনীতি তে কবে ঢুকছো? বিয়ে তো পাকা করলাম তোমার কথা মতো। ”
“ রাজনীতি আমার পক্ষে হয়তো করা সম্ভব হবে না। আপনি জানেন ভালো করে আমি অন্যায় মেনে নিতে পারি না। আর আপনাদের দল অন্যায়ে নোবেল পুরষ্কার পাওয়া বিজয়ী দল। আমার সাথে ম্যাচ করবে না। উল্টো দেখা যাবে আপনাকেই আপনার দলের লোক দল থেকে বের করে দিয়েছে। আপনি নিশ্চয়ই চাইবেন না আমাকে রাজনীতি তে ঢুকিয়ে নিজের বিপদ নিজে ডেকে আনতে। ”
সেলিম মির্জা ভাবলো। সিকান্দার ভুল কিছু বলে নি।
“ ঠিক আছে। তাহলে বিজনেস টা সামলাও। ”
“ এখানে আমার একটা শর্ত আছে। ”
“ আবার কি শর্ত? সবই তো মানলাম তোমার। ”
“ আমি আপনার ব্যবসায় একজন কর্মী হিসেবে কাজ করবো। মাস শেষে যেভাবে কর্মীরা সেলারি পায় আমাকেও সেভাবে সেলারি দিতে হবে। ”
সেলিম মির্জা এবার চমকে উঠলো।

সিকান্দার শাহ্ পর্ব ৪

“ মাথা খারাপ তোমার? তোমাকে আমি সেলারি দিব বাকি কর্মী দের মতো! আমার সব কিছুই তো তোমার। ”
“ না। আমার সবকিছু যেমন আপনার না। তেমন আপনার কোনো কিছুই আমার না। আমি ফ্রীতে আপনার থেকে কোনো ফেবার নিতে চাই না। আপনি রাজি হলে তবেই আমি জয়েন হবো। ”
“ তুমি বাবা ছেলের সম্পর্ক টা আর রাখলে না দেখছি। ”
“ সে তো অনেক আগে থেকেই রাখি নি। নতুন মনে হলো আপনার কাছে আজ? ”
“ ঠিক আছে। মাস শেষে তোমাকে আমি সেলারি দিব। সিও হিসেবে কবে জয়েন করছো তাহলে?”
“ বিয়ের একদিন পর থেকেই। এবার আসুন। আমি ঘুমাবো। ”

সিকান্দার শাহ্ পর্ব ৬