ফিরে এসো অনুরাগে পর্ব ৩২ (২)
নওরিন কবির তিশা
অতিক্রান্ত হয়েছে বেশ খানিকক্ষণ;কিয়ৎক্ষণ পূর্বে সংঘটিত হয়েছে অহনা শাহরিয়ারের পবিত্র পরিণয় পর্ব। ‘কবুল’ ধ্বনি উচ্চারণের মাধ্যমে চির পবিত্র এক বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে একজোড়া হৃদয়।উৎসবের প্রাবল্য এখন কিঞ্চিৎ স্তিমিত; নববধূর ঘোমটা আর অশ্রুসিক্ত হাসির আড়ালে তাকে ঘিরে থাকা রমণীকুল এখন অন্দরের মহলে ব্যস্ত। আর শাহরিয়ার নিমগ্ন হলো বংশপরম্পরায় চলে আসা কোনো এক প্রাচীন রীতির পালনে।
ব্যস্ততার এই অবসরে উৎসবের এক কোণে শান্ত হয়ে বসল তৃষা। পাশেই বসা চঞ্চল টুইংকেল,ওর অবাধ্য কেশরাজি দস্যিপনায় এলোমেলো হয়ে পড়েছে। তৃষা অতি সন্তর্পণে নিজের নিপুণ আঙুলে টুইংকেলের রেশমি চুলে চিরুনি চালনা করতে করতে বলল,,
-‘ এত ছোটাছোটি কেউ করে সুইটহার্ট? দেখতো, চোয়াল দুটো একদম লাল হয়ে আছে।
টুইংকেল ওর ডাগর ডাগর চোখ দুটো নাচিয়ে তৃষার দিকে ফিরল,নিজের ছোট্ট দুটো হাত দিয়ে তৃষার গাল দুটো আলতো করে টিপে দিয়ে আদুরে গলায় বলল,
-‘ আমি একটু ঘুরছিলাম তো বানি,এজন্য।
তৃষা ওর সরল উত্তরে মিষ্টি হাসলো,-‘ তা বলে এত ছোটাছোটি কেউ করে?
টুইংকেল তৃষার কোল থেকে নেমে দাঁড়িয়ে বলল,,
-‘ আমি তো আসলে সবার ড্রেস দেখছিলাম বানি ওকে তাহলে আমি যাই, পাপা কোথায় আছে দেখে আসি। টা-টা!
তৃষা বাধা দেওয়ার আগেই টুইংকেল প্রজাপতির মতো ডানা মেলে সম্মুখে এগিয়ে গেল। তৃষা হাসিমুখে ওর প্রস্থান পথের দিকে চেয়ে রইল। ঠিক তখনই দীর্ঘশ্বাস ফেলে ওর পাশে ধপ করে এসে বসল মেহেসানা। ওর হাতে অর্ধেক খাওয়া একটা কুইলফি। ও বিরক্তিতে মুখ কুঁচকে বলল,
-‘ দোস্ত, এই বাড়িতে কি এসিগুলো সব ধর্মঘট করেছে নাকি? শা’লা’গুলা কাজই করে না! আমি ঘেমে একদম ভুত হয়ে গিয়েছি।
তৃষা মেহেসানার কপাল থেকে লেপ্টে থাকা চুলগুলো সরিয়ে দিয়ে খানিক কৌতুকের স্বরে বলল,
-‘ তাহলে কি বলিস? ডাকি আমার সুইট এন্ড কিউট দেবরকে। উনি তোকে বাতাস করবে না হয়।
মেহেসানা তৃষার ঠাট্টায় মুখ বাঁকিয়ে বলল,-‘ ফাইজলামি মারোস! ওর করা বাতাস খাবো আমি? বয়েই গেছে। আস্ত একটা হনুমান কোথাকার! ওর থেকে তো আমাদের বাড়ির পাশে বেগুনির চপ বিক্রি করে শামসুল কাকাও সুন্দর দেখতে।
মেহেসানার কথায় তৃষা হেসে কুপোকাত, ঠিক তখনই পাশ থেকে একরাশ শীতল কণ্ঠস্বর বজ্রপাতের মতো আছড়ে পড়ল,
-‘ বেগুনির চপ বিক্রি করা শামসুল কাকা? লাইক সিরিয়াসলি মিস সাউন্ডবক্স? আপনার স্ট্যান্ডার্ড কি দিন দিন পাতাল অভিমুখে যাত্রা করছে?
পেছনে কারো অস্তিত্ব অনুভব করে মেহেসানা ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালো। দেখল আদ্রিয়ান দুই হাত পকেটে গুঁজে, চোখে সানগ্লাসটা কপালে তুলে বেশ ত্যাড়াভাবে তাকিয়ে আছে। মেহেসানার শামসুল কাকার উপমাটা যে ওর কানে গিয়েছে, সেটা ওর কুঁচকানো ভ্রু কুঁচকে রাখার ধরনেই স্পষ্ট। মেহেসানা নিজেকে সামলে নিয়ে সোফায় হেলান দিয়ে বসল এবং ততোধিক ত্যাড়া কন্ঠে বলল,
-‘ আরে! আপনি কখন উদয় হলেন? আর শামসুল কাকার চপ অন্তত আপনার এই বোরিং পার্সোনালিটির চেয়ে অনেক বেশি স্পাইসি অ্যান্ড টেস্টি!
আদ্রিয়ান এগিয়ে এসে সোফার হাতলে ভর দিয়ে মেহেসানার ঠিক সামনে ঝুঁকে এসে বাঁকা হাসল। একদম নিচু স্বরে বলল,
-‘ আমি স্পাইসি কিনা সেটা কখনো টেস্ট করছেন? যে বলছেন আমার থেকেও স্পাইসি!
ওর এমন কাছাকাছি উপস্থিতিতে সামান্য ঘাবড়ে গেল মেহেসানা,,
-‘ ম-মানে?
আদ্রিয়ান নিজেকে সামলে সোজা হয়ে দাঁড়ালো,
-‘ কিছু না তবে স্পাইসি চপের কথা না হয় বাদই দিলাম, কিন্তু আপনার ওই শামসুল কাকা কি কখনো আয়নায় নিজেকে দেখেছে? না মানে, আমার মতো একজন হ্যান্ডসাম হিউম্যান বিয়িংয়ের সাথে ওই তৈলাক্ত চপওয়ালার তুলনা করাটা কি…
ওকে কথা শেষ করতে দিলোনা মেহেসানা,মাঝ পথে ওকে থামিয়ে বলল,,
-‘ ওয়েট-ওয়েট? কি বললেন?হ্যান্ডসাম হিউম্যান বিয়িং? তাও আপনি? দুটো একসাথে যায়?
ওর এমন সূক্ষ্ম অপমানে প্রতিবাদ করার বদলে আদ্রিয়ান বাকা হেসে বলল,
-‘ যাক, আপনার চোখের পাওয়ার যে মাইনাস এইট, সেটা আজ কনফার্ম হলাম। সমস্যা নাই ডাক্তার মানুষ তো! রোগীদের এরকম ভুল ভ্রান্তি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতেই দেখি।
অপমানের প্রতুত্তরে পাল্টা অপমানিত হওয়ায় মেহেসানা যেন অগ্নিশর্মা হয়ে উঠল। আদ্রিয়ানের দিকে আঙুল উঁচিয়ে ফুঁসে উঠে বলল,
-‘ নিজেরে কী ভাবেন শুনি? ওইরকম চশমখোর ডাক্তার মার্কা লজিক দিয়ে আমায় সাথে লাগতে আসবেন না। আপনি হ্যান্ডসাম নাকি আইলসা সেইটা আয়নাকে গিয়ে জিজ্ঞেস করেন। ওই কানামার্কা চেহারা নিয়া বেশি ভাব মারবেন না একদম!
আদ্রিয়ান মোটেও দমে গেল না। ভ্রু নাচিয়ে তাচ্ছিল্যের হাসিতে বলল,
-‘ ব্যাস! শুরু হয়ে গেল মিস সাউন্ডবক্সের নন-স্টপ ক্যাসেট। আপনার এই চিল্লাইয়া আশপাশ মাথায় তোলা ছাড়া আর কি কোনো কাজ জানা আছে?
তৃষা এতক্ষণ ওদের এই ঝগড়া উপভোগ করলেও এবার পরিস্থিতি হাতের বাইরে যেতে দেখে মাঝখানে ঢাল হয়ে দাঁড়াল। দুজনের দিকে তাকিয়ে কপট রাগ দেখিয়ে বলল,
-‘ থামবি তোরা? বিয়ে বাড়িতে তো একটু শান্তিতে থাক। মেহেসানা, তুইও না! সব কথায় কেন রিয়্যাক্ট করিস? এই উৎসবের দিনে অন্তত তোদের ঝগড়ার ইস্তফা দে। চল তো আমার সাথে, ওইদিকে।
তৃষার কড়া শাসনে দুজনেই গজগজ করতে করতে দুই দিকে মুখ ফিরিয়ে নিল, অতঃপর কোনোরূপ পূর্বাভাস ছাড়াই স্থান ত্যাগ করলো আদ্রিয়ান। মেহেসানা ও নিঃশব্দে সেখান থেকে কেটে পড়লো। তৃষা ওদের প্রস্থান পথের দিকে চেয়ে ফোস করে একটা শ্বাস নিলো অতঃপর দোতলার দিকে পা বাড়ালো।
বেলা গড়িয়ে অপরাহ্ণের ম্লানিমায় নীলিমা গোধুলীর আগমনে অপেক্ষমাণ। পুবালি বাতাসের ঝাপটায় তালুকদার মঞ্জিলের কার্নিশে বসা পায়রাগুলো পাখা ঝাপটে আপন নীড়ে ফেরার আয়োজনে ব্যস্ত। বিকেলের সেই ফিকে হয়ে আসা রোদ্দুর জানালার কাঁচ চুইয়ে কক্ষের মেঝেতে দীর্ঘ ছায়া ফেলেছে। তৃষা কিছুক্ষণ পূর্বেই গোসল সেরে শুভ্র সতেজতায় কক্ষের অভ্যন্তরে পা রাখল।
সিক্ত কেশদামের ভারে ওর গ্রীবাদেশে এক শীতল পরশ অনুভূত হচ্ছে। ভেজা চুলের আগা থেকে চ্যুত হওয়া জলবিন্দুগুলো ওর হালকা আকাশী রঙের কামিজের ঘাড়ের দিকটায় ভিজিয়ে দিচ্ছে। আয়নার সম্মুখে দাঁড়িয়ে ও যখন নিজের সতেজ মুখশ্রীতে কিঞ্চিৎ ময়েশ্চারাইজার লেপনে নিমগ্ন, তখনই পার্শ্ববর্তী টেবিলের ওপর রাখা ইলেকট্রনিক যন্ত্রটি সশব্দে কম্পিত হয়ে উঠল।
ওখানে আর্যর ফোনটা অবহেলায় পড়ে ছিল। তৃষা আয়নায় নিজের প্রতিবিম্ব দেখতে দেখতেই ফোনের ভাইব্রেশনটা খেয়াল করল। স্ক্রিনে কোনো নাম নেই, শুধু কয়েকটা ডিজিট ভেসে উঠছে। ও ভ্রু কুঁচকে একবার ফোনের দিকে চাইল, কিন্তু পরক্ষণেই ভাবল কারো ব্যক্তিগত ফোনে হাত দেওয়া অনুচিত।
ও পুনরায় নিজের কেশরাজ সামলাতে ব্যস্ত হলো, কিন্তু এক মুহূর্ত পরেই ফের ফোনটা প্রবল বেগে কেঁপে উঠল। এবার তৃষা কৌতূহলী হয়ে পা বাড়াল। ভাবল হয়তো কোনো ইমার্জেন্সি কল। ফোনটা হাতে নিতেই কলটা কেটে গেল, কিন্তু ওর নজর করলো লক স্ক্রিনে জ্বলজ্বল করা একটা ফেসবুক নোটিফিকেশন। নোটিফিকেশন বার-এ বড় বড় করে লেখা,
““ You have a new update Sailing King”
‘সেইলিং কিং’ নামটা দৃষ্টিগোচর হতেই তৃষার হাতের চিরুনিটা টুপ করে ফ্লোরে পড়ে গেল; হৃৎপিণ্ডটা পাঁজরের ভেতর যেন কোনো ড্রাম পেটাচ্ছে। ও অবিশ্বাস্য দৃষ্টিতে ফোনের দিকে তাকিয়ে রইল। আর্যর ফোনের পাসওয়ার্ডটা ওর জানা— টুইংকেলের জন্মতারিখ। কাঁপাকাঁপা আঙুলে কোডটা এন্টার করতেই ফোনের দুনিয়াটা ওর সম্মুখে উন্মুক্ত হয়ে গেল।
তৃষা দ্রুত ফেসবুক অ্যাপটা ওপেন করে প্রোফাইলে ঢুকল। পেইজের অ্যাডমিন হিসেবে আর্যর নামটাই শো করছে দেখামাত্র হালকা বাদামি চোখের মনি স্থির হয়ে গেলো ওর। অবিশ্বাসের ঘোর কাটিয়ে ও সরাসরি ইনবক্সে ক্লিক করল। সেখানে সবচাইতে ওপরের চ্যাটটাই ওর নিজের! ‘স্বপ্নবিলাসী ম্যাম’ সম্বোধন থেকে শুরু করে প্রতিটি গভীর কাব্যিক প্রত্যুত্তর—সবই আর্য এহসানের কিবোর্ড থেকে ঝরানো।
তৃষার পায়ের তলা থেকে যেন মাটি সরে গেল। ও ধপ করে বিছানার কোণে বসে পড়ল।ওর যান্ত্রিক গম্ভীর মানুষটাই তবে ওকে পর্দার আড়ালে থেকে শব্দের মায়াজালে বুঁদ করে রেখেছে? ও কিছুতেই মানতে পারছেনা ওর কিশোরী হৃদয়ে তীব্র ঝড় সৃষ্টিকারী ওর নিজেরই স্বামী। ওর ব্যক্তিগত পুরুষটাই ওর কল্প মানব যার কল্পনায় কেটে যেত ওর দিনরাত।
আনন্দ কৌতূহলের মিশেলে দিকশূন্য হয়ে ও ছুটে চলল আর্যকে খুঁজতে।
তৃষা হন্তদন্ত হয়ে ছুটতে গিয়ে করিডোরের বাঁকেই আর্যর শক্ত বুকের সাথে সজোরে ধাক্কা খেল। আর্য টাল সামলে নিয়ে দু-হাতে তৃষার কাঁধ চেপে ধরল। ওর চোখেমুখে রাজ্যের বিস্ময় আর কপালে গভীর ভাঁজ। তৃষাকে ওভাবে হাপাাতে দেখে আর্য বেশ উদ্বিগ্ন কণ্ঠে শুধাল,
-‘ হোয়াট হ্যাপেন্ড তৃষা? এভাবে ঝড়ের বেগে কোথায় যাচ্ছিলেন? এনিথিং রং?
তৃষা আর্যর চোখের দিকে চাইল। সেই একই ধূসর-নীলচে চাউনি,তৃষার ঠোঁট দুটো থরথর করে কাঁপছে, ভেতরের তীব্র উত্তেজনা দলা পাকিয়ে ওর কণ্ঠে আটকে যাচ্ছে। ও অস্ফুট স্বরে বলতে চাইল,
-‘ আপনিই কি সেই— স…!
কিন্তু ‘স’ বর্ণটা উচ্চারিত হতেই তৃষার মস্তিস্কে সচল হলো।হুট করে ওর মনে উপস্থিত হল হাজারো প্রশ্নের সমাহার।আচ্ছা আর্য তবে শুরু থেকেই জানত যে ওপাশ থেকে কে কথা বলছে? নাকি ও সব মেয়ের সাথেই ও ভাবে কথা বলে? তৃষার দুশ্চিন্তা আর বিষ্ময়ের সীমা ছাড়িয়ে দৃষ্টি সংকুচিত হলো।
এদিকে ওর অর্ধসমাপ্ত কথায় ভ্রু গোটালো আর্য,কৌতূহলী স্বরে পুনরায় প্রশ্ন করল,
-‘ স? স মানে? কী বলতে চাইছিলেন?
তৃষা প্রশ্নগুলো নিজের মধ্যেই বদ্ধ করে বলল,,-‘ স-স-সময়। কয়টা বাজে দেখবেন প্লিজ?
আর্যর কুঞ্চিৎ ভ্রু যুগল আরো কুঁচকালো। তবে ও ততক্ষণাৎ আর কোনো প্রশ্ন না করে হাত ঘড়িটার দিকে একবার চেয়ে বললো,,
-‘ চারটে বেজেয় পাঁচ মিনিট।
-‘ ওহ!
ছোট্ট স্বরে জবাবটা দিয়েই তৎক্ষণাৎ সেখান থেকে কেটে পড়লো তৃষা। আর্য ওর প্রস্থান পথের দিকে বেশ কৌতুহলী হয়ে চেয়ে রইল। মেয়েটার মতিগতি বোঝা বড্ড দায়।
মেহেসানা নিজের লেহেঙ্গাটা একপাশে সরিয়ে বিছানায় ধপ করে বসে পড়ে বড় বড় চোখ করে তৃষার দিকে চাইল। অবিশ্বাস্য গলায় ও চিৎকার করে উঠল,
-‘ বলিস কী তৃষা! আর্য ভাইয়াই সেই সিলিং কিং? তাহলে তুই জানার পর কেন হুট করে চুপ হয়ে গেলি? আফটার অল তোর একমাত্র ক্রাশ।
তৃষা জানালার পর্দাটা সরিয়ে বাইরের ধূসর আকাশের দিকে তাকিয়ে একটা তপ্ত শ্বাস ফেলে আলতো স্বরে জবাব দিল,
-‘ কারণ আমি চাই না উনি এখনই জানুন যে ওপাশের মানুষটা আমি। দেখ মেহু, যে মানুষটা সামনে দাঁড়ালে পাথরের মতো গম্ভীর থাকে, সেই মানুষটাই ইনবক্সে এতো রোমান্টিক ! আমার এখন ওনার ক্যারেক্টার টেস্ট করা প্রয়োজন। উনি কি শুধু আমার সাথেই ওভাবে কথা বলেন, নাকি ওপাশ থেকে যে কোনো মেয়ে নক দিলেই ওনার কবি সত্তা জেগে ওঠে।সেটা আমাকে দেখতে হবে।
মেহেসানা ভ্রু কুঁচকে বলল,
-‘ মানে তুই এখন নিজের বরের সাথেই লুকোচুরি খেলবি? ডার্লিং, ধরা খেলে কিন্তু হিতে বিপরীত হতে পারে!
তৃষা সম্মুখের দর্পণে নিজের প্রতিবিম্ব দেখে বলল,
-‘ ধরতে পারলে তো! আমি দেখতে চাই ওনার এই মেকি গাম্ভীর্যের আড়ালে আর কত রূপ লুকিয়ে আছে। মিস্টার ক্যাপ্টেনকে এবার নিজের জালেই আটকাতে হবে। আমি রেডি, এবার দেখা যাক সিলিং কিং কদ্দুর পর্যন্ত যায়!
মেহেসানা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
-‘ তোর মাথায় যে কী বুদ্ধি খেলে! যাক গে, আমি আছি তোর এই মিশনে। তবে মনে রাখিস, বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা করতে গিয়ে নিজেই আবার প্রেমে হাবুডুবু খাস না!
তৃষা আনমনে বাঁকা হাসলো। মনে মনে কি বলল কে জানে?
কিছুক্ষণ পর আর্য ধীরপায়ে ভেতরে প্রবেশ করল। টেবিলের ওপর পড়ে থাকা ফোনটার দিকে নজর যেতেই ওর হৃৎপিণ্ড যেন এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল। ফোনের স্ক্রিনটা তখনো সচল, আর সেখানে সগৌরবে উন্মুক্ত হয়ে আছে ‘সেইলিং কিং’এর ইনবক্স।
আর্যর কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমে উঠল। ও দ্রুত পদক্ষেপে এগিয়ে গিয়ে ফোনটা হাতে নিয়ে অস্ফুট স্বরে বিড়বিড়িয়ে উঠল,
-‘ শিট! ইনবক্স খোলা? তার মানে তৃষা… তৃষা সব দেখে ফেলেছে!
ওর দীর্ঘদিনের সযত্নে লালিত গোপনীয়তা এভাবে ধূলিসাৎ হয়ে যাবে, ও ভাবতেও পারেনি। ও অস্থিরভাবে ঘরে পায়চারি করতে লাগল। কয়েক মুহূর্ত আগের করিডোরের সেই দৃশ্যটা ওর স্মৃতির পর্দায় ভেসে উঠল; তৃষার সেই থমকে যাওয়া চাহনি আর ‘স’ বর্ণে আটকে যাওয়া অসম্পূর্ণ প্রশ্নটা এখন ওর কাছে স্বচ্ছ কাঁচের ন্যায় স্পষ্ট। ও নিজের কপালে হাত দিয়ে সোফায় ধপ করে বসে পড়ল।
ফিরে এসো অনুরাগে পর্ব ৩২
-‘ তৃষা তবে জেনেই গিয়েছিল! কিন্তু সব জেনেও ও কেন শেষ মুহূর্তে নিজেকে গুটিয়ে নিল? কেন বলল না যে ও আমায় চিনে ফেলেছে?
তবে কারণটি বুঝতে আর্যর তীক্ষ্ণ ধূর্ত মস্তিষ্কের দেরি হলো না একটুও। ও বুঝতে পারল, খেলাটা এখন আর একতরফা নেই। তৃষার ওই রহস্যময় নীরবতা আর হঠাৎ পাল্টে যাওয়া ভঙ্গি হয়তো কোনো এক আসন্ন ঝড়ের পূর্বাভাস। আর্যর ওষ্ঠাধরে এক চিলতে বাঁকা হাসি ফুটে উঠল ও মনে মনে বলল,,
-‘ বুঝেছি ম্যাম, আপনি কি তবে পাল্টা চাল চালার প্রস্তুতি নিচ্ছেন? বেশ, তবে লড়াইটা এবার সামনাসামনিই হোক। আপনারও বোঝা উচিত আপনি যে স্কুলের স্টুডেন্ট সেখানকার সবচেয়ে সিনিয়র টিচার আমি।

একটু বেশি লিখলে ভালো হয়