বিষাদ ও বসন্ত পর্ব ১৮
অলকানন্দা ঐন্দ্রি
মিথি ফিরল রাত আটটায়। আজ তুলনামূলক কাজের চাপ বেশিই ছিল বোধহয়। মিথি দুপুরেও খাওয়া হলো না। ক্ষিধেতে ওর পেট ছোঁ ছো করছে। স্বাভাবিক ভাবেই প্র্যাগনেন্সিতে ক্ষিধের পরিমাণ বেশি থাকে, তার উপর এতোটা সময় ও খায় নি৷ শারিরীক ক্লান্তি আর দুর্বলতা নিয়ে ও সর্বপ্রথম হাত মুখ ধুঁয়ে খাওয়ার উদ্দেশ্যে রান্নাঘরেই গেল। অথচ হতাশ হলে যখন দেখা গেল হাড়ি পাতিল গুলো মোটামুটি খালিই পড়ে আছে। মিথি ছোট শ্বাস ফেলল। হিয়া সম্ভবত আজ বাড়ি গিয়েছে। রিধি আর ফিজা রান্নায় মোটামুটি কাঁচা। এই কারণেই বোধহয় যা ছিল তা দুইজনে ভাগাভাগি করে খাওয়ার পর আর রান্না করে রাখা হয় নি। মিথি বাইরে একবার তাকাল। ফিজা আপু ফিরেনি, রিধিও পড়ছে। অতঃপর ক্ষিধে নিয়েই মিথি হাড়িটা ধুঁয়ে নিল। চাল ধুঁয়ে চুলোয় বসাতে নিতেই দেখা গেল গ্যাসের তামাশা।খুবই অল্প তাপ৷ সকালের দিকেও কিংবা দুপুরে ও লাইন গ্যাস হওয়াতে এই সমস্যাটা ফেইস করতে হচ্ছে। মিথি ছোট শ্বাস ফেলে ওভাবেই চুলোয় ভাতের হাড়ি বসিয়ে বের হয়ে এল। একপাশে বসতে নিতেই রিধি বলল,
“ তোমার মুখচোখ খুব ক্লান্ত দেখাচ্ছে মিথি আপু। ঘুমাও কিছুক্ষন। ”
মিথি উত্তর করল,
“ হ্যাঁ, ঘুমাব। ”
রিধি ফের বলল,
“হিয়া আপু কল করেছিল। তোমার কথা জিজ্ঞেস করেছে। যায় হোক, কেমন চলছে প্রথম কাজ করা? সব ভালো ওখানে? ”
“ ভালো চলছে। কিছুক্ষেত্রে মানিয়ে নিচ্ছি । কিছুক্ষেত্রে অত্যাধিক ভালো এমন৷ ”
এটুকু বলে মিথি চোখ বুঝল কিঞ্চিৎ। মাথাটাও ব্যাথা করছে ওর। সাথে ঘুম ঘুম ও লাগছে।পায়ের দিকটায় কিঞ্চিৎ টান পড়ে আছে। বোধহয় হাঁটাচলার কারণে। মিথি এসব নিয়েই কিছুটা সময় ওভাবে বসে থাকতেই রিধির ফোনে কল এল। হিয়া কল করেছে। শুধাল,
“ মিথি? ”
মিথি ফোন কানে নিল রিধির থেকে। ওপাশ থেকে আবার বলল,
“ কতক্ষন হলো ফিরেছিস? আমি রিধিকে আরো দুবার কল করেছিলাম। ”
“ রিধি বলেছিল। ভালোভাবে পৌঁছেছিস?কল করে খোঁজ নিতে পারিনি আমি। ”
“ দূর পাগল।আমি তোর খোঁজ নিব নাকি তুই? খাওয়া হয়েছে তোর? ”
মিথি উত্তর করল,
“ হয়নি। রান্না বসিয়েছি। তাও গ্যাসের অবস্থা খু্ব খারাপ। গ্যাস আসলে রান্না হয়ে যাবে আশা করি। ”
“ দুপুরেও তো খাস নি আজ। ক্ষিধে লাগছে না? ”
মিথির ক্ষিধে লেগেছে। একটু বেশিই লেগেছে। তবুও বলল,
“ তেমন লাগে নি। ”
“ মিথ্যে বলছিস। রুমে কিছু এমনি আছে কিনা দেখ। ফল- টল কিছু আছে কিনা দেখ। আপাতত থাকলে খেয়ে নে৷ ক্ষতি হবে এভাবে। ”
“ হু। ”
হিয়া আবারও বলল,
“ তোর ভাইকে দেখেছিলাম আজ মিথি৷ ”
“ ওহ। আমার কথা জিজ্ঞেস করেছে?”
“ না, তবে বলল তুই যাতে বাড়িতে যাস। তোর বর তোকে নিতে এসেছিল, খোঁজ করেছিল। ”
মিথি ভ্রু উঁচাল। বলল,
“ আদ্র? ”
“ হ্যাঁ,তোর বর। ”
“ কেন? ”
“ বলল সে তার ভুল বুঝতে পেরেছে। তুই যাতে সবটা ভুলে ফিরে যাস। শুধু শুধু রাগ অভিমান করে একটা সংসার ভেঙ্গে লাভ আছে নাকি? এসব বলল।”
“ ওহ। ”
হিয়া আবারও বলল,
“ তোর ভাই তোর সাথে দেখা ও করতে চাইল মিথি। ”
মিথি ক্লান্ত গলায় জানাল,
“ হয়তো এসবই বলবে৷ বুঝতে পেরেছি। ”
হিয়া কৌতুহল নিয়ে শুধাল,
“ তুই ফিরবি? ফিরে যাবি মিথি? ”
মিথি চুপ থাকল। অনেকটা সময় পর শুধাল,
“ আদ্র যদি ভুল বুঝতে পারে তাহলে ফেরা উচিত আমার? ”
হিয়া জবাব দিল,
“ না! কুকুর সবসময় কুকুরই থাকে মিথি। ফিরবি না তুই। একদমই ফিরবি না। ”
আদ্রর মা বিরিয়ানি রান্না করেছে। আদ্রর পছন্দের খাবার। আগে হলে আদ্র মা নিজেই ছেলেকে ডেকে আদর যত্ন করে খাওয়াতো। অথচ আজ ডাকল না অব্দি। টেবিলে যেভাবে বেড়ে রাখা ওভাবেই আছে। আদ্র মায়ের দিকে চাইল একবার। বলল,
“ অনেকদিন পর তুমি বিরিয়ানি রান্না করেছো নিজ হাতে আম্মু। ”
আদ্রর মা হাসল। ছেলের পাশের চেয়ারে বসে হঠাৎ শুধাল,
“ আদ্র, মিথি গিয়েছে আজ অনেকগুলো দিন। তুমি ভালো আছো এখন তাই না? আশা করি সুখে আছো। ”
মিথির কথা হঠাৎ তোলার কারণ হলো আদ্রর মা হিয়ার খবর জানতে পেরেছে মিথির ভাই এর মাধ্যমে। ওখানে গিয়ে হিয়ার সাথে দেখা করবে। সুযোগ মিললে মিথির সাথেও দেখা করবে। অনেকদিন মেয়েটার খোঁজ নিতে পারেনি সে। কোন মাধ্যমই পায়নি। আদ্র মায়ের কথা শুনে বলল,
“ আমি ফিরিয়ে আনতে গিয়েছিলাম ওকে আম্মু। ও না ফিরলে আমার কি করার? জোর করে আনব ওকে আমি? ”
“ নিশ্চয় ও ফিরে আসার মতো ভালো কোন কাজ তুমি করোনি আদ্র। নিজের সন্তানকে কি করে মানুষ চায় না? ছিঃ!আমার মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে তোমাকে বিষ খাইয়ে মে’রে ফেলি আদ্র। এতোটা অমানুষকে আমি কি করে বড় করেছি। ”
আদ্রু ভ্রু কুঁচকে বলল,
“ মিথি তোমার কাছে আমার চাইতেও আপন? ”
“ কারণ ও তোমার মতো অমানুষ নয় আদ্র। ওর চারিত্রিক গুণাবলী যথেষ্ট সুন্দর। ও আমার বংশধরকে বহন করছে শত বাঁধা পেরিয়েও। আর এদিকে তুমি এমন একটা অমানুষ তৈরি হয়েছো যে তোমার জন্য আমি ওকে হারিয়ে ফেলেছি। যোগাযোগের সর্বনিম্ন মাধ্যমও খুঁজে পাচ্ছি না। ”
আদ্রর রাগ লাগল। সবসময় মিথি ভালো এটা শুনতে তার ইচ্ছে হয় না। অসহ্য লাগে। মিথিকে পেলে ও বুঝাত সব হারে হারে। সবটা দেখাত৷ আদ্র রাগে মুখ টান টান করেই বলে,
“ মিথির জায়গায় তুমি মুহুকে এক্সেপ্ট করলে তো এসব হতো না আম্মু। আমিও তোমার চোখে অমানুষ হতাম না। ”
আদ্র মাও রেগে জানাল,
“ মিথির জায়গায় তুমি মুহুকে বসাও কিভাবে? কোথায় মুহু আর কোথায় মিথি? আমি শিওর মুহুর মতো মেয়েরা কখনো সংসার করতে পারবে না। তুমি দেখে নিও আদ্র, মুহু তোমায় কখনোই বিয়ে করতে রাজি হবে না। মুহুরা সংসার করতে জানেই না আদ্র। ওরা বাঁচে আলাতা অহং নিয়ে। ”
আদ্র তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলল,
“ মোটেই না। মুহু আমায় নিয়ে সংসার করার স্বপ্ন দেখে। ”
“ তাই নাকি? হাসালে। তাহলে করছো না কেন বিয়ে? সমাজের চোখে তো তোমার আর মুহুর সম্পর্কটা খুব একটা পবিত্র দেখাচ্ছে না। এমনকি আমার চোখেও না। ”
আদ্রর রাগে হাঁসফাঁস লাগে। ওটুকু বলেই ও না খেয়ে উঠে গেল। হনহন করে নিজের ঘরে গেল। অতঃপর আবারও বের হয়ে এল। সদর দরজার দিকে যেতে যেতে আদ্রর মা বলল,
“ অপাত্রে ভালোবাসা দান করলে পরে আপসোস করতে হয় আদ্র। আমি শিওর তুমিও একদিন খুব পস্তাবে। খুব! ”
আদ্রর সদর দরজায় গিয়ে দাঁড়াল। তাচ্ছিল্য নিয়ে হেসে শুধাল,
“ ঐ গেঁয়ো মিথির জন্য? জীবনেও না!”
মিস্টার এহসান। মুহুর বর্তমান বিজন্যাস পার্টনারই বলা চলে এই ছেলেটাকে। চোখে মুখে আলাদা তেজ ফুটে উঠে যেন তাকালেই। একটা আলাদা দম্ভ, অহংকার। মুহু প্রায় মিনিট দশ হলো গ্লাসের এ পাশ থেকে এই ছেলের চোখ মুখের তেজ, জেদ, দম্ভ পরখ করছে। ও ইন্টারেস্টেড হয়ে পড়ছে এই ছেলের প্রতি? কোন ভাবে আগ্রহ জম্মাচ্ছে এই ছেলের প্রতি? না নাহ! ও তো আদ্রকে ভালোবাসে। আদ্রকেই চেয়ে এসেছে এতকাল। ওর দুনিয়াতে সবচাইতে আপন মানুষটাই হলো আদ্র। তাহলে? ও কেন এই ছেলেটার পেছনে এত সময় নষ্ট করছে হু? মুহু ছোট শ্বাস টানে। অতঃপর পা বাড়িয়ে সামনে এগিয়ে ছেলেটার কাছে গেল। হেসে বলল,
“ মিস্টার এহসান? সময় নষ্ট হলো আপনার? ”
এহসানের চোখে মুখে বিরক্তি এবং সুস্পষ্ট দম্ভ নিয়ে জানাল,
“ এহসান লাইফে শুধু শুধু সময় নষ্ট করে না মিস মুহু। টেন মিনিটস ইনভেস্ট করে টেন ক্রোর আর্ন করে নিতে জানে এহসান৷ ”
“ ভেরি গুড। আপনি চাইলে কালও কিছুটা সময় নষ্ট করতে পারেন আমার জন্য। করবেন? ”
“ কোন দরকারে? ”
মুহু সুন্দরভাবেই হেসে বলল,
“ আমার জম্মদিন। নর্মালি মানুষ মা বাবা পরিবার নিয়ে জম্মদিন সেলিব্রেট করে। কিন্তু আমি অফিসের সবার সাথেই সেলিব্রেট করি। আপনাকেও ইনভাইটেশন কার্ড দেওয়ার ছিল। ”
সাধারণত মুহুর মতো মেয়ে এমন হেসে হেসে কথা বলে নিজের জম্মদিনে যেতে বললে যে কোন পুরুষই বোধহয় উতলা হবে। গদগদ হয়ে রাজি হয়ে যাবে। অথচ এহসানকে রাজি হতে দেখা গেল না। বরং বলল,
“ আপনার কেন মনে হলো আপনি ইনভাইটেশন কার্ড দিলেই আমি সত্যি সত্যিই আপনার বার্থডে সেলিব্রেট করতে চলে আসব? ”
“ আসতে হয় মিস্টার এহসান। কোম্পানির সুবিধার্থে সম্পর্ক ভালো বজায় রাখতে হলেও আসতে হয়। বিজন্যাস সম্পর্কে মোটামুটি আমার ভালো ধারণা আছে। ”
এহসান ভ্রু নাচিয়ে শুধাল,
“ এমনও তো হতে পারে আমি সম্পর্ক ভালো রাখার সুবিধার্থে কিছুই করলাম না। তবুও আপনি সম্পর্কটা সুন্দরই রাখলেন অদৃশ্য কোন টানে। হতে পারে না? ”
মুহু হেসে চাইল। এই এহসানের কথায় আসলেই কোন টান আছে।নয়তো মুহু এই ছেলের কথা শুনে এতোটা উৎফুল্ল বোধ করত ? বলল,
“ আপনার কথায় আলাদা এক চতুরতা স্পষ্ট মিঃ এহসান। ”
“ এমন তো না যে আপনি কোন বোকা মহিলা৷ হয়তো আমার চতুরতায় সামলে উঠতে পারছেন না এই আরকি।”
“ আই থিংক আপনি সুন্দর ফ্লার্টও করতে পারেন মিস্টার এহসান। ”
“ আমি ফ্লার্ট করলে আপনি এতক্ষনে এতটুকুতে আটকে থাকতেন না মিস মুহু। বহু আগেই বহু কিছু অফার করে বসতেন। ”
“ যেমন? ”
এহসান উঠল। বলল,
“ আপনি জানেন আমি কি মিন করছি।”
মুহু তাকাল। এহসান নিজের আলাদা ভাব নিয়েই হেঁটে গেল। আজ মুহুই ডিনার অফার করেছিল এহসানকে। তাই কথাটা চেপে গেল। এহসানের পিছু পিছু গেল। অতঃপর গাড়িতে উঠল এহসানের সাথে সংকোচ ছাড়াই।
আদ্র মুহুর অফিসেই এসেছিল। জানতে পারল কোথাও গিয়েছে। অতঃপর মুহুর বিশ্বস্ত একজন থেকে কোথায় গিয়েছে তা ঠিকানা নিয়ে গিয়ে দেখা গেল রেস্টুরেন্টে মুহু এবং আরেকজন অপরিচিত ছেলে। আদ্র ভ্রু কুঁচকাল। কিয়ৎক্ষন চেয়ে থেকে আবার বের হয়ে এল ও। কল দিল মুহুকে। কল তুলতেই শুধাল,
“ মুহু? ”
“ হু আদ্র, বলো। ”
আদ্র জিজ্ঞেস করে,
“ কোথায় তুমি? ”
উত্তর এল,
“ একটা মিটিং ছিল। আধঘন্টার মধ্যে বাসায় পৌঁছাব আদ্র। ”
“ আমি অপেক্ষা করছি। আসো। ”
মুহু সত্যিই আধঘন্টার মধ্যে এল। আদ্রর রাগ লাগছে অযথাই। চোখমুখ লাল হয়ে আছে। রাগে হাঁসফাঁস লাগছে।চেহারাও অস্বাভািবিক লাগছে। মুহু আসতেই আদ্র চোখ তুলে চাইল। শুধাল,
“ মুহু? ”
মুহু তাকাল। কিয়ৎক্ষন পরখ করে বলল,
“ কি হয়েছে আদ্র? এমন কেন চোখমুখের অবস্থা? ঠিক আছো তুমি?”
আদ্র আচমকাই মুহুকেই জড়িয়ে ধরল। কেন ধরল তা বোধহয় ও নিজেও জানে না। রোধ হয়ে নিঃশ্বাস ফেলে বলল,
“ মুহু? ”
মুহু হাত বুলাল ওর মাথায়। শুধাল,
“ হ্যাঁ, বলো আদ্র। রেগে আছো তুমি? কষ্ট হচ্ছে? এমন করছো কেন? ”
“ আমি তোমাকে ভালোবাসি মুহু। জানো তুমি তাই না? আমার সাথে চিট করার সাহসও করো না মুহু। কখনো করো না। ”
“ হঠাৎ? হঠাৎ এই কথা?”
আদ্র ওভাবেই ওকে জড়িয়ে আছে ঘাড়ে মুখ গুঁজে। বলল,
“ তুমিও আমায় ভালোবাসো রাইট? ”
“ বাসি। বাসি তো। ”
“ তো আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাইছি। এই মুহুর্তেই। আমার আর এই রকমের সম্পর্কটা ভালো লাগছে না। আঁই নিড ইয়্যু মুহু।চলো বিয়ে করে কোথাও চলে যাই। ”
মুহু অবাক হলো যেন। শুধাল,
“ কিসব বলছো আদ্র?
আদ্র মুখ তুলে। বলে,
“ ভালোবাসো রাইট? তো বিয়ে করতে কি সমস্যা মুহু? আমরা অনেক আগেই বিয়ে করে ফেললে মিথি কোনভাবেই আমার লাইফে আসতে পারত না। আম্মু মিথিকে বিয়ে করতে বলার পরও আমি তোমাকে বিয়ে করার অফার দিয়েছিলাম। কি এত সমস্যা বিয়েতে তোমার? ”
মুহু মুহুর্তেই বলল,
“ আমি এখনই বিয়ে করতে চাই না। সামনে পুরো ক্যারিয়ার পড়ে আছে আমার। ”
“ তো এটা তোমার ভালোবাসা? আশ্চর্য! এতসব করতে তোমার সমস্যা হচ্ছে না, শুধু বিয়েতেই সমস্যা! ”
মুহু রেগে গেল যেন আচমকা। চিৎকার করে শুধাল,
“ টিপিক্যাল পুরুষদের মতো চিন্তা করছো আদ্র। বিয়ে ছাড়া মানুষ টাইম স্পেন্ড করে না বয়ফ্রেন্ড গার্লফ্রেন্ডের সাথে? বিয়ে বাধ্যতামূলক হু? বিয়ে করে কয়জন সুখী আছে আদ্র? তোমার বউ সুখী হয়েছে বিয়ে করে? ”
আদ্র রাগে কপাল কুঁচকাল। মুহুর থুতনি চেপে দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
“ আমার বউ সুখী হয়নি বলে কি বুঝাতে চাইছো তুমি? আন্সার মি মুহু।”
“ তুমি একজন ভালো হাজব্যান্ড নও বাট একজন ভালো লাভার আদ্র এটাই বললাম। যদি বিয়ের পর তুমি বদলে যাও? ”
বিষাদ ও বসন্ত পর্ব ১৭
আদ্র রাগে চোয়াল শক্ত করে। দাঁতে দাঁত চাপে। অতঃপর মুহুর গাল চেপে ধরে বলল,
“ আমি ভালো হাজব্যান্ড হইনি কার জন্য? তোর জন্য মুহু। তুই কি চেয়েছিলি? আমি একাধারে দুইজনকে ভালোবাসব? তোকেও আবার মিথিকে ও? ভালো তো তোকেই বেসেছিলাম এইজন্য মন থেকে সরাতে পারছি না। নয়তো সরিয়ে ফেলে দিয়ে সংসার করতাম মন দিয়ে। ”
এইটুকু বলেই ও আবারও বের হয়ে গেল। মুহু হতবিহ্বল! ওর সাথে আদ্র এমন ব্যবহার কখনো করেনি। কখনো না।ও যেভাবে বলতো আদ্র ওভাবে করতো। ওকে পুতুলের মতো ট্রিট করত। আজ কি হলো? এমন করল কেন আদ্র?
