শ্যামা সুন্দরী পর্ব ৫৪
সুরভী আক্তার
অংকুর নিষ্ক্রিয় হয়ে চাইলো ।
ঝাড়া মেরে অংকুর কে সরিয়ে পিছিয়ে দাঁড়ালো সুরবালা । গজগজিয়ে উঠলো তড়তড়ে মেজাজে…
” আসল কথা তাহলে বলেই ফেললেন আজ ? এখন বাহানা দিচ্ছেন কেনো ? মুখ ফসকে বলে ফেলেছেন মনের কথা ? এটাই চলে আপনার মনে ? ভালো সাজেন উপর উপর ? ছুড়ে ফেলতে ইচ্ছে করে আমায় ,তাইতো ? নিজের উপর আফসোস হয় , ভুল করে ফেলেছেন আমাকে বিয়ে করে ?
” সুরবালা ভুল ধারণা করছো তুমি , আমি শুধু মজা করলাম । সেভাবে বলতে চাই নি আমি বিশ্বাস করো …
” মজা ? এসব নিয়ে মজা কে করে ?
আপনাদের মতো গোমড়া মুখো দের মজার ধরন বুঝি এমন হয় ! মুখে যা ফোটাতে পারেন না , মজার ছলে তা বলে ফেলেন ? আপনিও এমন বাবড়ি ওয়ালা ? অবশেষে আপনিও বিরক্ত হলেন আমার উপর ? বিয়ে করবেন আমাকে রেখে ? স্ত্রী প্রয়োজন ? করুন বিয়ে , আমাকে ছুঁড়ে ফেলুন কোথাও । আমি তো আপনার নাম মাত্র স্ত্রী । কোনো কাজের নই । কি করবেন আমাকে রেখে…..
বলতে বলতে কেঁদে উঠলো মেয়েটা ।
আরো পিছিয়ে গেলো । কান্না ঢাকতে চোখের পানি মুছলো সহসা । শ্বাস টানলো ফিকড়ে উঠে । অংকুর তাজ্জব বনলো । এক কদম এগিয়ে গলা নামিয়ে মোলায়েম কন্ঠে বলল….
” সুরবালা , কি বলছো তুমি ?
আমি সত্যিই শুধু মজা করেছি । বিশ্বাস করো । এই দেখো , নিজের গা ছুয়ে বলছি আমি । আমি তোমাকে ছাড়া আর কিচ্ছু ভাবি না ? তোমার উপর বিরক্ত হতে যাবো কেনো ? তোমার উপর ভালো লাগার অনুভূতির শেষ হয় না কোনো সময়ে, বিরক্তি আসবে কখন ? আমি শুধু মজা করেছি , সত্যি বলছি । আমার দিকে তাকাও । সত্যিই বলছি আমি, সুরবালা । সত্যিই….
নুইয়ে আসলো কন্ঠ । ছলছলে চোখে চাইলো সুরবালা । নাক টানলো , ফিকড়ে উঠলো । চোখ নামিয়ে নিলো আবার । অংকুর চুপ থেকে খানিকক্ষণ তাকিয়ে রইলো ওর ভেজা মুখের পানে । শ্বাস ফেললো নিঃশব্দে । ডাকলো আচমকা…..
” এইইই বাউড়ি……
ঝট করে চায় সুরবালা । কম্পিত দৃষ্টিতে চোখাচোখি হয় দুজনের । নাকের ডগা লালচে হয়ে গেছে মেয়েটার । চোখের পাপড়ি ভেজা । ঠোঁট উল্টায় আদুরে হয়ে । অংকুর নিশ্চল মোলায়েম চোখে চেয়ে ধীর কন্ঠে বলে…..
” সত্যিই বলছি । এসব নিয়ে আর কক্ষনো মজা করবো না । যে বানি তোমার কোমল হৃদয়ে আঘাত হানে , সে বানি আমার জবানে উচ্চারিত হবে না আর কখনো । এই পর্যন্তই জবানে বাঁধ টানলাম ।
” শুধু জবানে নয় । নিজের ত্রিসীমানাতেও বাঁধ টানবেন । আমার কোমল হৃদয়ে জবা নামে কেউ একজন ও আঘাত হানে , সেটা কি চোখে পড়ে আপনার ? জবা আপনার কাছে থাকলে সহ্য হয় না আমার । তাকে দূরে রাখবেন , তার থেকে শত ফুট দূরত্বে থাকবেন ।
অংকুর মৃদু হাসলো নীরবে । বললো ফিসফিসিয়ে….
” আচ্ছা ।
সুরবালা চোখ নামায় । চিবুক গলায় ঠেকিয়ে ভেজা চোখের কার্নিশ মুছে গলা নামিয়ে বলে….
” একটা নতুন কুশিকাটা এনে দেবেন ।
” কেনো , ভবিষ্যতের বাচ্চা-কাচ্চা দের জন্য সোয়েটার বুনবে ?
নিচের অধর কামড়ে টিটকারী মারলো অংকুর । সহসা চাইলো সুরবালা । ওর ঝলকানো দৃষ্টি দেখে ধাতস্থ হতে না পেরে হেসে ফেললো অংকুর । খানিক ঝংকার উঠলো হাসিতে । চেয়ে থেকে আচমকা নিজেও হেসে ফেললো সুরবালা । তবে লাজুক ক্ষিণ হাসি তার । অংকুর চোখ উঁচিয়ে ওর হাসি টুকু দেখে নিজের হাসি থামিয়ে বললো প্রশ্নাত্মক স্বরে…
” এই ইয়ার্কি টুকু কি আঘাত হানলো কোমল হৃদয়ে ?
দুদিকে মাথা ঝাঁকায় সুরবালা । অংকুর শুধোয়….
” মন খারাপ কমলো ?
মুখে উত্তর না করে উপর নিচ মাথা ঝাঁকায় বালা । অংকুর আবার বলে….
” আর রাগ, অভিমান ? কাল থেকে কেউ একজন অভিমানী হয়ে ছিলো ? অবশ্য তার অভিমান টুকু ভালো লেগেছে আমার । আমার প্রতি তার অভিমানী আদল দেখতে ইচ্ছে করছিলো , তাই অভিমান ভাঙানোর চেষ্টা করিনি । এই নিয়ে কি কোনো অভিযোগ আছে ?
” রাগ আছে এখনো !
রাগের পিছনে অভিমান ছিলো, সেটা দেখেছেন । অথচ অভিমানের আগের রাগ টুকু দেখেন নি ?
অংকুর কিছু বলতে যাবে , এর আগে নিচ থেকে শায়লার ডাক ভেসে আসলো । রিক্তা আর আরশ এসেছে । ওদিকে চা বানিয়ে এতক্ষণে ঠান্ডা করে ফেলেছেন শায়লা ।
ময়নাকে খাট থেকে নামতেই দিচ্ছেন না খালেদা ।
সকাল থেকে শুধু শুয়ে বসেই কাটাচ্ছে মেয়েটা । আজ তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরেছে আফতাব ।
ময়না কে বসে থাকতে দেখে কপাল গুটালো । কোলে বই নিয়ে পড়ছে ময়না । ভেজা হাত মুখ মুছে একটা চেয়ার টেনে বসলো আফতাব । ময়না নির্বিকার ভঙ্গিতে ওর দিকে ফিরে চাইলো এক পলক । পরের পলক ফিরিয়ে বইয়ে রাখলো । আফতাব খানিক পর ডাকলো….
” ময়না ?
চোখ তুললো ময়না । অনুভূতি হীন নিগুঢ় চাহনি । চোখ দুটোতে যেনো ক্লান্তি নেমে এসেছে । আফতাব স্বাভাবিক কন্ঠে বলল….
” শুধু পড়ো , লেখো না ?
” অংক দিছিলেন, করছি সব গুলা ! ঐ হানে খাতা আছে , দেখেন ।
দায় সারা উত্তর । আফতাব খাতা টেনে দেখলো । তিনটে অংক করতে দিয়েছিল । দুটোর উত্তর সঠিক বের করেছে । আর বাকি একটা ভুল । আফতাব তীক্ষ্ণ স্বরে মাস্টার মশাইয়ের মতো করে বললো….
” একটা তো ভুল করেছো ?
” মানুষ মাত্রই ভুল !
তৎক্ষণাৎ জবাব ময়নার । আফতাব ঝট করে চায় । ময়নার দৃষ্টি তখনও বইয়ে । আফতাব শ্বাস ফেলে খাতাটা রাখলো । উঠলো চেয়ার ছেড়ে । ঘরের এক কোণে একটা ট্রাঙ্ক আছে । আফতাব সেটা খুলে কিছু একটা বের করলো । ফের আগের জায়গায় এসে বসে খাতাটা হাতে তুললো । একটা কাগজ মতো কিছু । আফতাব মোড়ালো সেটা । খাতার ভাঁজে রাখলো কাগজটা । ময়না কে ডাকলো । ময়না ফিরতেই গলা নামিয়ে বললো চোখে চোখ রেখে…..
” নাম লিখতে পারো ?
কপালে ভাঁজ ফেলে ময়না । এ কেমন প্রশ্ন ?
ময়নার মুখো ভঙ্গিমা বুঝে আফতাব আবার বললো…
” তোমার হাতের লেখা বড্ড বাজে ! যাকে বলে কাঁকড়ার ঠ্যাং । তার উপর বানানেও অনেক ভুল । রোজ হাতের লেখার অনুশীলন করবে বেশি বেশি । এতে ভুল কমার সাথে সাথে দ্রুত গতি আসবে লেখায় । নাও , এখানে তোমার নাম লেখো তো । এখানে একবার লিখবে , আমি আগে দেখি শুদ্ধ ভাবে লিখতে পারো কি না ।
খাতার নিচের ফাঁকা জায়গা টায় ইশারা করলো আফতাব । ময়না তবুও নির্বিকার । ও বই রেখে চটপট করে নিজের নাম লিখে দিলো সেখানে । মুখ ফিরিয়ে নিলো অতঃপর । আফতাব খাতাটা হাতে তুলে মুখ সম্মুখে ধরলো । নামটা দেখে মৃদু হাসলো । দীর্ঘ শ্বাস ফেলে খাতাটা বাড়িয়ে দিয়ে বললো…
” নাও , এবার পঞ্চাশ বার এখানে নিজের নাম লিখবে ।
বলেই উঠলো । খুলে রাখা ট্রাঙ্ক টায় তালা লাগালো এবার । ফের আগের জায়গায় এসে বসলো । ময়না কথা মতো লিখতে শুরু করেছে । গভীর মনযোগ দিয়ে লিখতে লিখতে ঝুঁকে পড়েছে খাতার উপর ।
টেবিলের উপর কিছু ঢেকে রাখা আছে । আফতাব ঢাকনা সরিয়ে দেখলো সিদ্ধ ডিম রাখা । অমনি কপাল গুটালো । ময়না কে সেই কখন এই ডিম দিয়ে গেছেন খালেদা । অথচ ময়না খায় নি । আফতাব রাশভারী গলায় বলল…
” আম্মা কখন ডিম রেখে গেছে , খাও নি কেনো ?
লেখায় সম্পুর্ন ধ্যান দিয়েই মুখ বিকৃত করে গা ছাড়া জবাব দিলো ময়না….
” ডিম খাইতে ভালো লাগে না , বাজে গন্ধ লাগে , বমি পায়….
বলতে বলতে থমকালো । রুদ্ধ হলো হাতের কাজ । কলম টা ফসকালো আঙ্গুলের মধ্য থেকে । তড়িতে চাইলো ময়না । আফতাবের সুক্ষ্ম দৃষ্টি দেখে নিজেকে শুধরালো মাথা ঝাঁকিয়ে….
” নাহ , গন্ধ লাগে না । বমি পায় না আমার….
এমনি খাই নাই । সত্যি কইতাছি আমার বমি পায় না…
আফতাব নিরুদ্বেগ । ময়না ভয় পাচ্ছে । বোকামো করছে বাচ্চা সুলভে । অপরাধ বোধ থেকে তাচ্ছিল্যের হাসি আসে আফতাবের । হাসেও খানিক । ঠোঁট ভেজায় ময়না । আফতাব ওর হাতটা টেনে টেবিলের উপর রাখে । ওর ছোট্ট হাতের তালুর উপর মাথা এলিয়ে দেয় । ময়নার দিকে কাত হয়ে ওর হাতের তালুতে ডান চোয়াল রাখে আফতাব । চোখ স্থির করে ময়নার পানে । ময়না ভ্যাবলার ন্যায় চেয়ে আছে আকস্মিক কান্ডে ।
আফতাব হুতাশ মৃদু স্বরে শুধালো…..
” তুমি কি চাও ময়না ?
প্রশ্ন বোঝে না ময়না । নির্বোধের ন্যায় চেয়ে থাকে । আফতাব বুঝিয়ে বলে ঝাড়া গলায়….
” আমার সাথে সংসার করতে চাও ?
ঘন পলক ফেলতে শুরু করে ময়না ।
শ্বাস প্রশ্বাস বেড়ে যায় । আফতাব ওর হাতটা মুড়িয়ে ধরে । কেমন শিউরে ওঠা অনুভূতি জাগে ময়নার । শিরশির করে ওঠে হাত পায়ের তালু । আফতাব শান্ত কন্ঠে বলে….
” তুমি যদি চাও আমাদের সংসার হোক , তাহলে হবে আমাদের সংসার । কম সাধ্য থেকেই তোমাকে একটা সুখের সংসার উপহার দিতে পারবো আমি । যদি তোমার সাধ কম থাকে তবেই । বলেছিলাম আমার স্বার্থ কম । সেই স্বার্থের মাঝেই তুমি সুখি হবে ময়না । ভয় পেতে হবে না । শুধু আমাকে সময় দাও । একটু সময় ।
সুখ কিনতে গেলে আমি নিঃস্ব , সুখ কেনার সামর্থ্য নেই আমার । তবে সুখ বোনার সাধ আছে খুব । তোমাকে নিয়ে সুখ বুনবো আমি ।
রাত এখন দশটা নাগাদ । রিক্তা আর আরশ খাবার নিয়ে এসেছিল । আনতে চেয়েছিলো ওরা । তাই রাতে আর রান্না হয় নি এ বাড়িতে । জাহানারা ও দুপুরের পর চলে গেছিলেন ।
আরশ নাকি নিজ হাতে রেঁধেছে ।
খাবারের একটা বাটি আলাদা রেখে অংকুর আর শায়লা কে প্রথমে খাইয়েছে রিক্তা । ও নিজে খাবার বেড়ে দিয়েছে ওদের । সুরবালা কে বসতে দেয় নি ওদের সাথে ।
অংকুর আর শায়লার খাওয়া শেষে সুরবালার খাবার আলাদা করে সাজিয়ে দিয়েছে রিক্তা । নিজে বসে থেকে খাইয়েছে ওকে । দশটার আগে আগে চলে গেছে ওরা । শায়লা খেয়ে দেয়ে ঔষধ খেয়ে ঘুমিয়েছেন । অংকুর রিক্তা আর আরশ কে বিদায় দিয়ে ঘরে ওঠে নি আর । কিছু মুহুর্তের জন্য রংয়ের ঘরে ঢুকেছিলো ও । একটা ছবিতে কাজ বাকি , সেটা শেষ করতে করতে দশটা পেরিয়ে এগারোটার কোঠায় পৌঁছেছে ঘড়ির কাঁটা । অংকুর বারবার দরজার দিকে তাকাচ্ছিলো । ভেবেছিল হয়তো সুরবালা আসবে । কিন্তু না , আসলো না । ঘুমিয়েছে হয়তো ।
হাতের কাজ শেষ করে দরজা লাগিয়ে ঘরের দিকে পা বাড়ালো অংকুর । তুলি ব্যবহার করে নি , হাত দিয়ে রং করেছে । হাতে রং লেগে আছে । ধুতে হবে । দরজা ঠেলে বেখেয়ালে ঘরে ঢুকতেই কিছু একটার সাথে পা বিধলো অংকুরের । পড়তে পড়তে বেঁচে গেলো বাবড়ি ওয়ালা । নিজেকে সামলে মেঝের দিকে তাকাতেই দেখতে পেলো , দরজার পাশের বড় ফুলদানিটা উল্টে পড়ে আছে । কপাল কুঁচকালো অংকুর । সুরবালা কে দেখার উদ্দেশ্যে ঝট করে পিছু ফিরলো । অমনি ভড়কালো । মেয়েটা কেমন এলোমেলো হয়ে বিছানার উপর শুয়ে আছে । শাড়ি এলোমেলো , খোলা চুল আরো বেশি এলোমেলো হয়ে ছড়িয়ে আছে মুখের উপর ।
চোখের আকার সহসা বৃহৎ হলো অংকুরের । পুরো ঘরে সব এলোমেলো কেমন । বালিশ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে এখানে ওখানে । অংকুর দ্রুত কদমে বালার দিকে এগোলো । ঝুঁকে বিনা স্পর্শ ডাকলো প্রথমে….
” সুরবালা ? , সুরবালা ?
দুই তিন বার নাম সম্বোধনেও সাঁড়া পাওয়া গেলো না । বাঁধা ভুলে সুরবালার কাছে বসলো অংকুর । রং লেগে থাকা হাত দিয়ে আলতো স্পর্শে গালে চাপড় মারলো । বিচলিত হয়ে ডাকলো….
” সুরবালা ! এই বাউড়ি ? কি হয়েছে ! এভাবে সব ছড়িয়ে ছিটিয়ে রেখেছো কেনো ? আর এভাবে এলোমেলো হয়ে শুয়ে আছো কেনো ? সুরবালা ?
এক ঝটকায় নেত্র পল্লব মেললো সুরবালা । চমকালো অংকুর । অংকুর কে দেখেই শব্দ করে হেসে উঠলো সুরবালা । উঠে বসার চেষ্টা করলো ঝিমুনি দিয়ে । উঠে বসে আবার হাসলো খিলখিল করে ।
অংকুর বিভ্রান্ত হলো । এ কেমন ইয়ার্কি ? এক্ষুনি ও আত্মহারা হয়ে যাচ্ছিলো । আর এই মেয়ে হাসছে ! নরম কন্ঠে ধমক দিলো অংকুর….
” এটা কি ধরনের মজা সুরবালা ?
সুরবালা ফিক করে হাসে । হাসতেই থাকে ও । দুলছে পুরো শরীর । টলছে মেয়েটা । চোখ নিভু । অংকুরের অস্বাভাবিক লাগে । চোখ সরু করে সুরবালা কে আগাগোড়া পরখ করে ও । সুরবালা মিইয়ে যাওয়া কন্ঠে কেমন অদ্ভুত ভাবে বললো….
” ভয় পেয়েছেন বাবড়ি ওয়ালা ? আপনি ভিতু ….
হি হি….
বলেই হেসে উঠলো আবার ।
যেন ফুরফুরে মেজাজ । আনন্দ পাচ্ছে খুব । হাওয়ায় ভাসছে শরীর । অংকুর অবস্থা বেগতিক দেখে টেনে সুরবালা কে নিজের দিকে ঘোরালো….
” এই , আমার দিকে তাকাও ।
সুরবালা তাকায় । ভ্রু জড়ো করে পুরো নেত্র পল্লব খোলার চেষ্টা করে । আবার হেসে ওঠে ।
” কি খেয়েছো তুমি ?
অংকুরের প্রশ্নে মাথা ঝাঁকায় সুরবালা । চোখ বুজে গা এলিয়ে দেয় । তৎক্ষণাৎ ওকে সামলে ধরে অংকুর । এক্ষুনি সামনে টলে পড়তো ।
সুরবালা নিভু স্বরে উচ্চারণ করলো শুধু….
” পানি খাবো বাবড়ি ওয়ালা , পানি দিন…
অংকুর হয়তো আন্দাজ করলো কিছু । হাত বাড়িয়ে টেবিলের উপর থেকে পানির গ্লাস টেনে নিলো । সুরবালা বাহাদুরি দেখিয়ে অংকুরের থেকে কেড়ে নিলো গ্লাসটা । দু’ঢোক পানি গিললো । দুষ্টু বুদ্ধি এঁটে গ্লাসের বাকি সবটুকু পানি মুখে পুরে পিক করে পানির ছটা ছুড়ে মারলো অংকুরের মুখে । তৎক্ষণাৎ পানির ছেটায় মাথা পিছিয়ে চোখ বুজলো অংকুর । সুরবালার মুখের পানি টুকু দিয়ে ভিজলো বাবড়ি ওয়ালার পুরো মুখশ্রী ।
হেসে উঠলো সুরবালা । খিলখিল করে হাসি ওর । নিজ ধ্যানে নেই ও । নেশায় ডুবেছে । হাসতে হাসতে গ্লাস ফেলে গলে পড়লো অংকুরের বুকে । চোখ খুললো অংকুর । মুখশ্রীর উপর ছোড়া পানি টুকু মোছার চেষ্টা করলো না । সুরবালা উচ্চারণ করলো হাসি থামিয়ে….
” আপনি বোকা বাবড়ি ওয়ালা , খুব বোকা ।
এখন সবটা পরিষ্কার হলো অংকুরের কাছে । মনের ধারনা সঠিক বেরোলো । ও প্রচণ্ড বিরক্তিতে ক্ষিপ্ত হলো রিক্তার উপর । ঐ মেয়ে এই আধঁ বাউড়ি কে কি খাইয়েছে পুরো বউড়ি করলো কে জানে ?
সুরবালা সজ্ঞানে নেই । থাকলে এমনটা কল্পনাতেও ঘটতো না । নিজের থেকে সুরবালা কে সরানোর চেষ্টা করলো অংকুর । এতে করে আরো গেড়ে বসলো সুরবালা । আকস্মিক গলা জড়িয়ে ধরলো অংকুরের । মধ্যকার ক্ষিণ দূরত্ব টুকো ঘুচলো ও নিজেই । অংকুরের উরুর উপর ভার ছাড়লো । টাল হারিয়ে পিছিয়ে গেলো অংকুর । হেলে পড়লো খাটের ব্যাক বোর্ডে । সুরবালা হাতের বাঁধন শক্ত করতেই থামালো অংকুর….
” সুরবালা , কি করছো ?
ছাড়ো । সজ্ঞানে নেই তুমি । বসো , আমি লেবু পানি এনে দিচ্ছি ।
” উঁহু , বাবড়ি ওয়ালা । বড্ড বেশি কথা বলেন আপনি । চুপ, একদম চুপ করে থাকুন ।
অংকুর ঢোক গেলে । ধীরে মাথা তোলে সুরবালা । আধো চোখে অংকুরের ভেজা মুখ পানে তাকায় । হেসে ফেলে আবার । অংকুর তাকিয়ে নির্বিশেষে । বক্ষ স্পন্দন বাড়ছে ওর । সুরবালা হাত তুলে ভেজা মুখটা মুছিয়ে দেয় অংকুরের । ঝাঁকড়া চুল কপালে আঁচড়ে পড়েছে , হাতে ঠেলে চুল গুলোও পেছনের দিকে সরিয়ে দেয় । পুরো মুখশ্রী ঝাপসা চোখে পরখ করে । নিভে আসছে চোখ । সুরবালা আলতো হাসে এ পর্যায়ে । অংকুরের পুরো মুখে হাত বোলায় । তাজ্জব বনে চেয়ে রয় অংকুর । সুরবালা হুট করে ওকে জড়িয়ে ধরে । গলার কাছে মুখ নিয়ে বিড়বিড় করে নেশার ঘোরে..
” আপনি খুব সুন্দর বাবড়ি ওয়ালা । খুব সুন্দর । আজকাল আপনাকে খুব ভালো লাগছে । কেনো বলুন তো ? চোখ বুজলেও আপনাকে দেখতে পাই । আগে সংগ্রাম ভাই কে দেখতাম । আর এখন আপনাকে দেখি । কেনো দেখি আপনাকে ?
সুরবালার তপ্ত উষ্ণ শ্বাস বাড়ি খাচ্ছে অংকুরের গলায় । আজ প্রথম সুরবালা এতোটা কাছে ওর । জড়িয়ে ধরার মাঝেও দূরত্ব নেই আজ । সুরবালা নিজে জড়িয়েছে , দূরত্ব ঘুচেছে নিজে । অংকুর হাত তুলে ওকে স্পর্শ করে নি এখনো । প্রশ্রয় দেয় নি একটুও । সুরবালা একটু থামলো । ঠোঁট ছুঁই ছুঁই করছে অংকুরের গলায় । অবশেষে ছুঁয়েই ফেললো । সুরবালা নিজে ছোঁয়ালো । বাবড়ি ওয়ালার কন্ঠ মনিতে নরম চুমু এঁকে আবার বললো থেমে থেমে….
” আপনি আমার বাবড়ি ওয়ালা । গোমড়া মুখো পেঁচা । খুব সুন্দর আপনি । আপনাকে খুব ভালো লাগে । কিন্তু আপনি আমাকে একটুও বোঝেন না । ভালোবাসেন না আমায় ।
অংকুর আচমকা প্রশ্ন করে….
অতিব ক্ষিণ স্বরে প্রথম দফায় বলে….
” আমার ভালোবাসার দেখেছো টা কি ?
তুমিও তো আমাকে ভালোবাসো না ? বাসো সংগ্রাম জোয়ার্দার কে ? এখনও ভালোবাসো ?
টেনে টুনে চোখের পাতা আলগা করার চেষ্টা করে সুরবালা । কিছুতেই মেলতে পারে না চোখ ! বলে নিভু নিভু স্বরে….
” বাসি তো । খুব ভালোবাসি !
” আর আমি ? আমাকে ভালোবাসা যায় না একটুও ?
এই যে বললে ভালো লাগে , এই ভালোলাগা থেকে কি ভালোবাসা আসে না একটুও ? ভালোবাসো না আমায় ?
এই সুযোগ ! নেশায় থাকলে লোকে নাকি উল্টো পাল্টা বকে । তবে যা বলে সব পেট উগড়ে সত্যই বলে বেখেয়ালে । অংকুরের খুব জানার সখ , তীব্র আকাঙ্ক্ষা — সুরবালা কি তাকে ভালোবাসে ? আজকাল বাউড়ি টা অন্যরকম হয়ে গেছে , এটা কি কোনো ভাবে ভালোবেসে ফেলার লক্ষন ? এইযে জবার প্রতি ঈর্ষান্বিত হওয়া , সময়ে অসময়ে অংকুরের প্রতি অভিমান জমানো , চোখের ভাষা , এসব কি ইতিবাচক সাঁড়া ফেলে সামনে এগোচ্ছে ?
অংকুরের অধীর ব্যাকুলতা এসবের সূত্র জানতে । সুরবালা সম্পুর্ন জ্ঞান খোয়ানোর আগে ঘোর লাগা কন্ঠে ফিসফিস করে ! এক বাক্যে বুলি ফুটায় ধীরুজ স্বরে…..
” বাসি তো….
অতঃপর এলিয়ে পড়ে সম্পুর্ন ভার ছেড়ে । হাত আলগা হয়ে আসে ওর । ধীরে ধীরে অসার হয়ে আসে । মিইয়ে যায় । চোখের ভার পাপড়ি নিভিয়ে বন্ধ হয় আপনা আপনি । মৃদুগামী অধর সম্পুর্ন ভাবে স্পর্শিত হয় বাবড়ি ওয়ালার গলার ভাজে । অংকুর নীরবে চোখ বুজে ঢোক গেলে এতে । সুরবালা কে ছাড়ানোর চেষ্টা করে না । অনুভবের চেষ্টা করে । হয়তো বেখেয়ালে স্বীকার করলো ।
অংকুর একটু সময় দিলো ওকে সম্পুর্ন অচেতন হওয়ার জন্য । পুরোপুরি জ্ঞান শূন্য হতেই ঠোঁট চেপে মৃদু হাসলো অংকুর । ঝুলিয়ে রাখা হাত দিয়ে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরলো সুরবালা কে । নিষেধ হলেও অবৈধ নয় এই স্পর্শ । এটুকু অধিকার হলফ করে অর্জন করেছে সে । সজ্ঞানে না হোক , অজ্ঞানে হলেও সুরবালা নিজে থেকেই আজ ওর কাছে এসেছে । স্বীকারোক্তি দিয়েছে ।
অংকুর সুরবালা কে ধীরে ধীরে নিজের থেকে ছাড়ালো । ওর হাতের রং সুরবালার গালে মুখে লেগে গেছে । মেয়েটার নরম চোয়ালে হাত রেখে বহুক্ষণ ওকে চোখ ভরে দেখলো অংকুর । সুযোগ নিলো আজ । অধরের প্রথম গাঢ় পরশ টুকু এঁকে দিলো কপালে ।
অতঃপর ফের বুকে মধ্যিখানে জড়িয়ে নিলো মিইয়ে যাওয়া অনুচ্চ সহজ নারী দেহটাকে ।
আজানের হাঁক পড়ছে মসজিদে ।
গিজগিজে অন্ধকার কাটছে ।
শ্যামা নামাজ পড়ে নিলো সংগ্রাম কে ডাকতে ডাকতে । এই লোকের কোনো সাঁড়া শব্দই নেই । কখন থেকে ডাকছে শ্যামা । ইনি তো গভীর ঘুমে । কোমর পর্যন্ত চাদর টেনে উবু হয়ে শুয়ে ঘুমে আচ্ছন্ন সংগ্রাম ।
শ্যামা জায়নামাজ গুছিয়ে দুদিকে মাথা নাড়ালো কপাল চাপড়ে । বিছানার পাশে এসে দুহাতে ঝাঁকালো সংগ্রাম কে ।
” এইযে জমিদার সাহেব , উঠুন । আর কত ঘুমাবেন ? আপনি না নামাজ শুরু করেছেন । নামাজ পড়বেন না ? উঠুন । ডাকতে ডাকতে ক্লান্ত হয়ে গেলাম আমি । তবুও আপনার কানে ডাক পৌঁছাচ্ছে না ?
সংগ্রাম নড়েচড়ে পাশ ফিরে শোয় । শ্যামা হাল ছাড়ে না । পুরোদমে ডাকতেই থাকে । অবশেষে ঘুম ছুটিয়ে বিরক্তি নিয়ে উঠে বসে সংগ্রাম । চোখ বুজেই গা মুড়িয়ে কাতুরে কন্ঠে বলে….
” উফফফ বেগম ।
কি শুরু করলে বলতো ? ঘুমাচ্ছি তো…
” ঘুমাচ্ছিলেন , এইতো এখন উঠে গেছেন ।
যান , আগে ফরজ ইবাদত টুকু সেরে নিন । তারপর বলছি…
ঠেলে ঠুলে সংগ্রাম কে বিছানা ছাড়া করলো শ্যামা ।
বিছানা ঝেড়ে গোছালো । সংগ্রাম কে নামাজে বসতে দেখে মৃদু হাসলো , বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালো এক মুহুর্ত । উপর থেকে নিচে তাকাতেই দেখতে পেলো , এই ভোরেই বাগান ছাটাই করা হচ্ছে আজ । গাছের অতিরিক্ত ডালপালা কেটে দেওয়া হচ্ছে । বেশ কটা নতুন মুখ । এনাদের আজ প্রথম দেখলো শ্যামা । গোয়াল ঘরের দিকেও এতো সকাল সকাল পায়চারি করছে কজন । রোজ সকালে যাদের দেখা যায় , তারা নয় । আজ এনারা আলাদা কেউ ।
শ্যামা চোখ তীক্ষ্ণ করে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখলো । প্রধান ফটক হাট করে খুলে রাখা । এমনটা কেনো ? ওর দেখার মাঝেই জুনাইদ হন্তদন্ত হয়ে দ্রুত পায়ে অন্দর ছেড়ে বেরিয়ে প্রধান ফটক পেরোলো । এক প্রকার দৌড়ে বেরোলো যেনো । শ্যামা আরো বেশি তীক্ষ্ণ করে ভ্রু যুগল । গলা উঁচিয়ে অদূর পর্যন্ত জুনাইদ কে দেখার চেষ্টা করে । জুনাইদ কে বরাবর অদ্ভুত লাগে ওর কাছে । চোখ তুলে কারোর দিকেই তাকায় না জুনাইদ । গুমোট হয়ে থাকে সবসময় । এতো সকাল সকাল আলো ফোটার আগেই এভাবে হন্তদন্ত হয়ে কোথায় গেলো সে ? আর দেখা যাচ্ছে না । চোখের আড়াল হয়েছে জুনাইদ ।
শ্যামা ওর থেকে চোখ সরালো । নিচে তাকালো । তন্মধ্যে ওকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরলো সংগ্রাম । খানিক চমকালেও নিজেকে ধাতস্থ করলো শ্যামা । অনুভূতি না মেপে সহসা বললো….
” ছোট জমিদার সাহেব !
” বলুন বেগম !
” ভাইজান , এতো সকালে কোথায় বেরোলো ? দেখলাম , হন্তদন্ত হয়ে ছুটে গেলো ফটক পেরিয়ে ।
সংগ্রাম ভ্রুক্ষেপ দেখালো না । বললো গা ছাড়া…
” কোথাও কাজ আছে হয়তো ।
” নিচে বাগানের মালি, ওনারা নতুন ? আগে তো অন্যদের দেখতাম । আজ প্রথম দেখলাম এনাদের …
” এনারাও আগে থেকেই ছিলেন ।
তুমি লক্ষ্য করো নি । যাদের দেখেছিলে , তারা হয়তো আজ আসেনি ।
সংগ্রামের অতি স্বাভাবিক কন্ঠ । শ্যামা শুধোয়….
” ঘুমাবেন না আর ?
” চলো , মাথায় হাত বুলিয়ে দেবে ।
বিছানায় শ্যামার কোলে মাথা রেখে চোখ বুজেছে সংগ্রাম । শ্যামা আলতো নরম হাতে ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে প্রশ্ন করলো…
” সুরবালার খোঁজ নিচ্ছেন না যে ? কতদিন হলো মেয়েটা আসে নি এ বাড়িতে !
” ও এখানে এসে কি করবে ?
” এটা কেমন কথা ? ও আপনাদের বাড়ির মেয়ে ! বিয়ে দিয়েছেন বলে দায়িত্ব শেষ হয়েছে ? আর খোঁজ খবর নেবেন না ? ও কেমন থাকলো না থাকলো , শুনবেন না ? বিয়ের পর মাত্র একবার এসেছে এ বাড়িতে ! আমাদের বিয়েতেও আসলো না । আপনি খোঁজ নিয়েছেন ?
” নিয়েছি !
জীর্ণ স্বর সংগ্রামের । শ্যামা বললো…..
” ফুফু আম্মা ও কোনো উদ্বেগ দেখায় না ওকে নিয়ে ! ওরা কি ভাববে ? আপনি একবার সুরবালা কে আনানোর ব্যবস্থা করুন না । কতদিন দেখি না ওকে ! ওর কথা মনে পড়ে…..
এদিকে মাথা ভার সুরবালার । ঘুম ভাঙল সবে ।
গা গুলিয়ে উঠছে । চোখ খুলতে পারছেনা এখনো । নিজেকে শক্ত বাঁধন থেকে ছাড়িয়ে উঠে বসতেও পারছেনা । জোর পূর্বক চিপকে থাকা নেত্র পল্লব আলাদা করলো সুরবালা । চোখ মেলে তাকালো আধো আধো । ঘর আলোকিত । সকাল হলো ? কতটা সকাল হলো ? ভোরের আলো ঘরে ঢুকে এতটা আলোকিত হয়েছে ঘর ? না তো ? লাইট জ্বলছে ঘরের ! তাই আলোকিত ।
শরীর অবশ সুরবালার । বিন্দু মাত্র শক্তি নেই যেনো । মাথায় বোঝা চেপে থাকার ন্যায় ভার হয়ে আছে । বমি বমি লাগছে ওর । সুরবালা অর্ধ জ্ঞানে অনুভব করলো ওর সিঁথির কাছে উষ্ণ বাতাস লাগছে । কারোর নাক মুখ থেকে নির্গত গরম শ্বাস আঁছড়ে পড়ছে ওর চুপের উপর । সে নিজেও কারোর মালিকানায় বন্দি । বন্দি শক্ত বাঁধনে । তাইতো ওঠার চেষ্টা করেও উঠতে পারছে না কিছুতেই । সুরবালা বোঝার চেষ্টা করে , আশপাশ অবলোকন করার চেষ্টা করে । ভার মস্তিষ্ক সদয় নয় । শরীর ও না । হাত নাড়ানোর চেষ্টা করলো সুরবালা । চক্ষু মেলে তাকালো টনক নাড়িয়ে । ওর মাথাটা বালিশে নেই , আছে সুঠাম এক সিনা’র উপর । যার মালিক বাবড়ি ওয়ালা । মাথা তুলে অংকুরের মুখ পানে তাকায় সুরবালা । নিভু চোখে বাবড়ি ওয়ালার ঘুমন্ত মুখশ্রী নজরে পরে । সুরবালা হাত বাড়ায় অংকুরের দিকে । শক্তি কুলোয় না । অস্ফুটে ডাকে….
শ্যামা সুন্দরী পর্ব ৫৩
” বাবড়ি ওয়ালা ?
জবান খোলার সাথে সাথে গুলিয়ে আসে ভেতর থেকে । মস্তিষ্ক সজাগ করে দ্রুত ঝটকা মেরে অংকুরের বাহুডোর ছেড়ে ছুটে উঠে বসে সুরবালা । চমকায় অংকুর । ঘুম ছোটে সহসা । সুরবালা মুখ চেপে রাখতে পারলো না । শরীর কাত করে গলগলিয়ে মেঝের উপর বমির মাধ্যমে উগড়ে দিলো সবটা । অংকুর আকস্মিক হালচাল ভুললো । পরিস্থিতি বুঝে উঠতেই সুরবালার দিকে বিচলিত হয়ে তাকালো । বমি করেই নেতিয়ে ঢলে পড়লো সুরবালা । অংকুর তড়িঘড়ি করে ওকে টেনে নিজের কাছে । এই রিক্তা ওকে কি খাইয়েছে কে জানে ? তবে যা খাইয়েছে , তাতে বমি হওয়ারই ছিলো । এখন ঘোর কাটবে সুরবালার । আকস্মিক ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায় মাথা কাজ করছে না অংকুরের । ও প্রথমে নিজেকে ধাতস্থ করলো । অপরাপর সুরবালার দিকে মনোযোগ দিলো সম্পুর্ন….
” বাউড়ি । ঠিক আছো ?
ওর মুখটা নিস্বংকোচে মুছিয়ে দিলো অংকুর ।
