শেহেজাদার আদর পর্ব ১০
সুমাইয়া ইসলাম নূর
সকালের হালকা নরম রোদ…
বসন্তের মিষ্টি হাওয়া জানালার পর্দা দুলিয়ে দিচ্ছে।
চারপাশে পাখির কিচিরমিচির—
মনে হচ্ছে পুরো প্রকৃতিটাই যেন নতুন করে সাজছে।
ইনায়া ধীরে ধীরে ঘুম থেকে উঠল।
চোখ মেলে একটু অলস ভঙ্গিতে বারান্দার দিকে তাকাতেই—
তার ভ্রু কুঁচকে গেল।
নিচের বাগানে কিছু লোক কাজ করছে…
গাছ লাগাচ্ছে…
সে ঠিক বুঝতে পারছে না কী হচ্ছে।
পাশে তাকিয়ে দেখে—
পিয়াসা এখনো কম্বলের ভেতরে গুটিসুটি মেরে
ঘুমাচ্ছে।
গত রাতেই তো—
দুজন বসে বসে প্ল্যান করছিল—
আজ কী কী করবে…
কথা বলতে বলতে কবে যে মাঝরাতে ঘুমিয়ে পড়েছে—
নিজেরাও জানে না।
ইনায়া হঠাৎ পিয়াসাকে ঝাঁকিয়ে—
“এই পিহু! পিহু রে উঠ!”
পিয়াসা বিরক্ত হয়ে—
“কি হইছে… এত সকাল সকাল কে ডাকে…?”
“সকাল না—৬টা বাজে!
৮টার মধ্যে বের হতে হবে!
তারাতারি উঠ!”
পিয়াসা চোখ মেলতেই—
ইনায়া তার হাত টেনে—
“চল নিচে!”
“এই এই! পাগল নাকি—”
কথা শেষ করার আগেই—
ইনায়া তাকে নিয়ে দৌড়ে বাগানে চলে গেল।
পিয়াসা রাগে—
“এই ইনায়া! তোরে আমি ছাড়বো না!
সকালে সকালেই টেনে নিয়ে আসছিস—”
একটা না…
দুইটা না…
রাজ্যের সব গালি দিয়ে দিল
কিন্তু—
ইনায়া কিছুই শুনছে না…
সে একদম স্থির হয়ে সামনে তাকিয়ে আছে…
পিয়াসা থেমে গেল।
তারপর ধীরে ধীরে ইনায়ার দৃষ্টির দিকে তাকাল—
আর পরের মুহূর্তেই—
সে যেন আকাশ থেকে পড়ল।
দুজন একসাথে চিৎকার করে উঠল—
“সত্যি!!!”
পুরো বাগান ভরে গেছে—
গাঁদা ফুল…
নানারঙের গোলাপ…
আর সাদা বেলি ফুলের গাছ…
আগেও গাছ ছিল…
কিন্তু এতটা না…
আজ যেন পুরো বাগানটাই বদলে গেছে—
একটা ছোট্ট ফুলের রাজ্যে পরিণত হয়েছে
দুজন এগিয়ে গিয়ে একজন লোককে জিজ্ঞেস করল—
“এত সকালে এগুলো লাগাচ্ছেন কেন?”
লোকটা হেসে বলল—
“ইউভি স্যার গতকালই এই গাছগুলো অর্ডার দিয়েছেন।
আর কিছু ফুল এসেছে যশোরের গদখালি থেকে…”
ইনায়া আর পিয়াসা একে অপরের দিকে তাকাল—
“আমরা তো শুধু কিছু ফুল চেয়েছিলাম…”
পিয়াসা মুচকি হেসে—
“দেখছিস?
তোর কথার দাম কত!”
আরেকটু কাছে এসে ফিসফিস করে বললো পিয়াসা—
“তুই কয়েকটা ফুল চাইলি…
আর আমার ভাইয়া তোর জন্য পুরো ফুলের রাজ্য নিয়ে হাজির!”
ইনায়া সাথে সাথে মুখ ঘুরিয়ে—
“শুধু আমার জন্য না!
তোর জন্যও…
আমি এমন কোনো স্পেশাল মানুষ না—
যে ফুল চাইলে ফুলের রাজ্য এনে দিবে…”
কথাগুলো রাগ করে বললেও—
ইনায়ার চোখে অন্য কিছু…
একটা চাপা আনন্দ…
একটা অদ্ভুত ভালো লাগা…
মনে মনে বলে নিরামিষ ইউভি চৌধুরী
দুজন মিলে কিছু ফুল তুলে নিল—
মালা গাঁথার জন্য।
তারপর ধীরে ধীরে বাড়ির ভেতরে চলে গেল।
কিন্তু—
ইনায়ার মনটা শান্ত নেই…
বারবার মনে হচ্ছে—
“এটা উনিই করেছেন…”
তার বুকের ভেতরটা হালকা কেঁপে উঠছে…
মনে মনে বলে —
“একবার…
thank you তো বলা উচিত…”
কিন্তু সাথে সাথেই আবার নিজেকে থামালো—
“না! আমি কেন বলবো…?”
তারপর আবার—
হালকা একটা হাসি ফুটে উঠল ঠোঁটে…
“তবুও…
একবার বলতেই হবে পিয়াসা বলল—
“আমি আগে যাই, ফ্রেশ হয়ে নেই।”
এই বলে সে উপরে চলে গেল।
আর ইনায়া—
সোজা চলে গেল রান্নাঘরের দিকে।
“বড় মা… কিছু খেতে দাও না।”
রেশমা চৌধুরী হেসে বললেন—
“এই তো হয়ে গেছে সকালের নাস্তা।
টেবিলে দিচ্ছি।”
তারপর হঠাৎ বললেন—
“তুই একটা কাজ কর—
ইউভিকে গিয়ে জিজ্ঞেস কর, কী খাবে।”
ইনায়া একটু থমকে—
“আমি… কেন বড় মা?”
“যা না মা… ডেকে নিয়ে আয়।”
ইনায়া মুখ বাঁকিয়ে—
“যাচ্ছি…”
ধীরে ধীরে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠল সে।
ইউভির রুমের সামনে এসে দাঁড়াল।
দরজার সামনে দাঁড়িয়ে—
পাঁচ মিনিট ধরে মনে মনে বলছে ইনায়া —
“যাবো… না যাবো না…?”
ঠিক তখনই—
ভেতর থেকে ইউভির গলা—
“ভিতরে আয়।”
ইনায়া চমকে গেল।
“উনি জানলেন কীভাবে আমি এসেছি!”
ধীরে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকতেই—
ইউভি একবার তাকিয়ে বলল—
“বস… আমি আসছি।”
এই বলে সে সোজা ওয়াশরুমে ঢুকে গেল।
ইনায়া মুখ বাঁকিয়ে—
“এই লোকটাও না!
আমাকে আসতে বলল…
আর নিজে চলে গেল!”
সে দাঁড়িয়ে রইল কিছুক্ষণ…
তারপর ধীরে ধীরে রুমটা দেখতে লাগল।
চারপাশে তাকিয়ে—
তার চোখ বড় হয়ে গেল।
“ছেলে মানুষ…
এত গুছানো হয় কীভাবে!”
সবকিছু কত সুন্দর করে রাখা—
প্রতিটা জিনিসের আলাদা জায়গা।
ইনায়া হালকা হেসে বললো—
“আমি মেয়ে হয়েও আমার রুম এমন রাখতে পারি না…”
ধীরে ধীরে হাঁটতে হাঁটতে এগিয়ে গেল সে।
“বাহ…
অনেক সুন্দর তো…”
হঠাৎ—
তার চোখ গিয়ে থামল বিছানার পাশে ছোট একটা টেবিলে।
সেখানে—
একটা ফ্রেমে বাঁধানো ছবি।
ইনায়া কাছে গিয়ে দেখল—
তার নিজের ছবি…
ছোটবেলার…
৭ বছর বয়সের।
সে আর ইউভি—
একসাথে দাঁড়িয়ে…
হাসছে।
ইনায়া অবাক হয়ে গেল।
“এটা… এখনো রেখেছে…?”
পাশেই আরেকটা ছবি—
পিয়াসা আর ইউভি…
ওয়াশরুমের দরজা খোলার শব্দ।
ইনায়া তাড়াতাড়ি সোজা হয়ে দাঁড়াল—
কিন্তু তার চোখে এখনো সেই প্রশ্ন…
আর একটু অন্যরকম অনুভূতি… ওয়াশরুম থেকে বের হতেই—
ইনায়া মুখ বাঁকিয়ে বলল—
“আমাকে ভেতরে আসতে বললেন…
আর আপনি ওয়াশরুমে চলে গেলেন!
গোসল কি একটু পরে করা যেত না?”
ইউভি তোয়ালে দিয়ে চুল মুছতে মুছতে—
ঠান্ডা, শক্ত গলায়—
“না।”
একটা শব্দ…
কিন্তু কেমন কড়া।
ইনায়া সাথে সাথে চুপ করে গেল …
ইউভি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে টাই ঠিক করতে করতে বলল—
“তুই যদি আর ১ মিনিট আগে রুমে ঢুকতি—
তাহলে তোকে ২৫ মিনিট অপেক্ষা করতে হতো না।”
একটু থেমে আবার বললো—
“নেক্সট টাইম আমার রুমে আসতে পারমিশন লাগবে না।
তোর জন্য… সব কিছু ওপেন।”
কথাটা বলে নিজেই চুপ করে গেল ইউভি
ইনায়া একটু অস্বস্তি নিয়ে—
চোখ ঘুরিয়ে তাকাল চারপাশে।
তারপর হঠাৎ বলল—
“আচ্ছা ইউভি ভাইয়া…
আপনি এই ছবিটা এখনো রেখে দিয়েছেন?”
ইউভি ভ্রু কুঁচকে—
“কোনটা?”
“আমারটা…”
ইউভি একটু রাগী ভাব নিয়ে—
কিন্তু ভেতরে ভেতরে হালকা হাসি—
“ছবিতে কি তুই একা আছিস?”
“না… আপনি ও আছেন…”
“তাই তো রেখেছি।
ওই ছবিটা আমার ভালো লাগে।”
“ওহ… আচ্ছা…”
কিছুক্ষণ চুপ…
তারপর ইনায়া মনে করে বলল—
“ওহ ইউভি ভাইয়া… বড় মা আমাকে পাঠিয়েছে—
আপনি কী খাবেন জিজ্ঞেস করতে।”
ইউভি এবার একটু ধীরে তার দিকে তাকাল—
চোখে অদ্ভুত এক নেশা…
“খেতে তো অনেক কিছুই চাই…”
“কিন্তু সামর্থ্য নাই রে…”
ইনায়া অবাক—
“কি বলেন!
এমন কী জিনিস—
যেটা চৌধুরী বাড়ির ছেলের কেনার সামর্থ্য নেই?
”
ইউভি হালকা জোরে হেসে উঠল—
“সব কিছু কি টাকা দিয়ে কেনা যায় না?”
তারপর একটু নিচু গলায়—
“কিছু জিনিস…
অনেক টেস্টি…
কিন্তু ইচ্ছে করলেই খাওয়া যায় না…”
একটু থেমে আবার বললো—
“তুই চিন্তা করিস না…
আমি আমার প্রিয় খাবার—
কীভাবে খাবো… কীভাবে পরিবেশন করে খাবো …
সব ঠিক করে ফেলেছি।”
ইনায়া কিছু বুঝলো,কিনা কে জানে
হঠাৎ বলল—
“ভাইয়া… thank you…”
ইউভি তাকাল—
“কেন?”
“ফুলের জন্য…”
ইউভি ঠোঁট বাঁকিয়ে—
“Just thanks?
আর কিছু দিবি না?”
ইনায়া ভ্রু কুঁচকে—
“কি লাগবে বলুন…”
“চাইলেই দিবি?”
“হুম… দিবো। বলুন।”
ইউভি একটু কাছে এসে—
ধীরে বলল—
“আর কিছুদিন পর নেবো…
যখন তোর এতই দেওয়ার ইচ্ছে…
ইনায়া একটু রাগ করে—
“আপনি এমন কেন?”
ইউভি হালকা মাথা কাত করে—
“কেমন?”
“জানি না…”
এই বলে ইনায়া দরজার দিকে হাঁটতে লাগল।
ঠিক তখনই—
ইউভির গলা—
“দাঁড়া।”
ইনায়া থেমে গেল।
ইউভি ধীরে ধীরে বলল—
“শাড়িটা এমনভাবে পরবি—
যেন তোর শরীরের একটা অংশও একটা পশম ও যেন কেউ না দেখে…”
তার চোখ গম্ভীর…
“এমনকি… তোর ভাই রেদোয়ানও না।”
“আর চুল… খোলা রাখবি না।”
ইনায়া অবাক—
“কেন?”
ইউভি চোখ সরু করে—
“মনে হয় ভুলে গেছিস…
৫টার কথা?”
একটু থেমে—
“আরো ৫টা দিবো…”
ইনায়া একটু ভয় পেয়ে—
“ঠিক আছে… মনে থাকবে…”
তারপর তাড়াতাড়ি—
“আমি কিন্তু আজ কলেজে যাবো!
ভুল হলেই কিন্তু—”
কথা শেষ না করেই—
একদম দৌড়ে বের হয়ে গেল রুম থেকে।
যেতে যেতে নিজের মনে—
“সালার বেটা সালা… হিটলার একটা!”
হঠাৎ থেমে ইনায়া আবার বললো
“ইস! বড় আব্বুকেও সালা বলে ফেললাম!”
“তৌবা তৌবা…”
★★★★
সকাল গড়িয়ে এখন প্রায় ৯টা…
কলেজ ক্যাম্পাসটা আজ একদম অন্যরকম।
চারদিকে রঙিন কাগজের সাজ, ফুলের তোড়া,
গেটে বড় করে লেখা—
“নবীনবরণ ও বসন্ত উৎসব ২০২৬”
বসন্তের হাওয়া…
গাঁদা আর বেলি ফুলের গন্ধে ভরে আছে পুরো পরিবেশ।
স্টেজের সামনে চেয়ার পাতা—
সাউন্ড চেক চলছে, মাইকের শব্দ ভেসে আসছে—
“হ্যালো… টেস্টিং… টেস্টিং…”
এই ভিড়ের মধ্যেই—
চৌধুরী বাড়ির মহিলারা একে একে এসে পৌঁছালেন।
রেশমা চৌধুরী, নুসরাত চৌধুরী, সাবিহা চৌধুরী—
সবাই আজ সাজগোজ করে এসেছেন।
রেশমা চৌধুরী চারদিকে তাকিয়ে বললেন—
“ওফ! কলেজটা তো আজ একদম উৎসবের মতো লাগছে!”
নুসরাত চৌধুরী হেসে—
“আমাদের মেয়েরাও তো কম না!”
ঠিক তখনই—
রিমঝিমও এসে পৌঁছাল।
হালকা সাজে, কিন্তু তার মধ্যে একটা আলাদা সৌন্দর্য—
“ভাইয়ারা কোথায়?”
হাসতে হাসতে জিজ্ঞেস করল সে।
“ওরা আসবে একটু পরে…”
“আমি কিন্তু বেশি সময় থাকব না—
২ ঘণ্টার মতো থাকব, তারপর বের হতে হবে।”
এদিকে—
ব্যাকস্টেজে ইনায়া, পিয়াসা আর তুবা ভীষণ ব্যস্ত।
কারো হাতে ফুল,
কারো হাতে জুয়েলারি,
কারো চুল ঠিক হচ্ছে—
পিয়াসা হেসে বলল ইনায়া কে
“বেবি! আজ কিন্তু তুই একদম আগুন লাগাবি!”
তুবা যোগ দিল
“হ্যাঁ রে! আজ সবাই তাকিয়ে থাকবে!”
ইনায়া আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে—
হালকা নার্ভাস…
হাতে সেই গাঁদা ফুলের মালা…
যেটা সকালে বাগান থেকে তুলেছিল।
মনে মনে—
“উনি বলেছিল…
চুল খোলা রাখবো না…”
ধীরে ধীরে নিজের চুলটা গুছিয়ে নিল সে।
কিন্তু বুকের ভেতরটা কেমন করছে…
“আজ উনি আসবেন…?”
ঠিক তখনই—
দূর থেকে একটা দামি গাড়ি এসে থামার শব্দ…
কলেজের সামনে হালকা ফিসফাস—
“কে আসছে?”
আর কারো চোখে…
কৌতূহল।কলেজের সামনে তখন হালকা ভিড়…
সবাই প্রোগ্রাম নিয়ে ব্যস্ত।
ঠিক তখনই—
দূর থেকে একটা কালো Range Rover Vogue গাড়ি ধীরে ধীরে এসে থামল গেটের সামনে।
গাড়িটার চকচকে বডিতে সকালের রোদ পড়ে ঝলমল করছে।
চারপাশে হালকা গুঞ্জন—
“কে এসেছে?”
“কোন ভিআইপি নাকি?”
প্রথমে দরজা খুলে নামল—রেদোয়ান।
হালকা ব্লু শার্ট, ব্ল্যাক প্যান্ট, চোখে চশমা—
একদম শান্ত, কিন্তু স্মার্ট একটা উপস্থিতি।
তারপর—
অন্য পাশের দরজা খুলল…
ধীরে ধীরে নামল ইউভি।
ডিপ ব্ল্যাক শার্ট, উপর থেকে হালকা ব্লেজার…
হাতে দামি ঘড়ি…
চুল নিখুঁতভাবে সেট করা…
তার হাঁটার ভঙ্গিতে এমন একটা আত্মবিশ্বাস—
যেন পুরো জায়গাটা তার নিজের।
চারপাশের কয়েকটা মেয়ে একে অপরের দিকে তাকিয়ে—
“ওফ! কে এই ছেলেটা?”
কিন্তু—
ইউভির চোখ একদম সোজা সামনে…
স্টেজের দিকে
রেদোয়ান হালকা হেসে পাশে বলে উঠল—
“ভাই… তুমি তো পুরো সিনেমার হিরো লাগছো আজ!”
ইউভি ঠোঁট বাঁকিয়ে—
“চুপ থাক… বেশি কথা বলিস না।”
দুজন ধীরে ধীরে ভেতরে ঢুকল।
ঠিক তখনই—
বাড়ির সবার পাশে গিয়ে বসলো ইউভি আর রেদোয়ান।
মিউজিক শুরু হলো… 🎶
লাইট স্টেজে পড়ল…
আর ইউভির চোখ থেমে গেল—
স্টেজে দাঁড়ানো ইনায়ার উপর।
এক সেকেন্ড…
দুই সেকেন্ড…
মিউজিক শুরু হলো
মনে রঙ লেগেছে,
বসন্ত এসেছে,
খুশিতে মেতেছে জীবন।
মনে রঙ লেগেছে,
বসন্ত এসেছে,
খুশিতে মেতেছে জীবন।
আয়রে আয়, সবাই মিলে,
ভিজবো এই লালে-নীলে,
বাজরে বাজা মাদল আজ
খুশিরই তালে তালে।
ধিনতানা ধিনতানা
তানা না না না,
আজই নাচে রে নাচে মন
শোনে না মানা।
ধিনতানা ধিনতানা
তানা না না না,
আজই নাচে রে নাচে মন
শোনে না মানা।
সে আর চোখ সরাতে পারছে না।
মনে মনে—
“শেষ…
আমি শেহেজাদার ইউভি চৌধুরী শেষ
আজ তোকে দেখে আমি শেষ…”
কেন যে বল্লাম তোকে শাড়ি পরতে।
লিখোন চৌধুরী তোমাকে আমি ছারবো না এর শোদ আমি নিবো।নাচ শেষ… 🎶
শেষ বিটটার সাথে সাথে—
ইনায়া, পিয়াসা আর তুবা—তিনজন একসাথে সুন্দর ভঙ্গিতে থেমে গেল।
পুরো হল জুড়ে তুমুল করতালি—
“ওয়াও!”
“অসাধারণ!”
স্টেজের সামনে বসে থাকা
চৌধুরী পরিবারের সবাই একসাথে হাততালি দিচ্ছে।
রেশমা চৌধুরী চোখ ভিজে গিয়ে বললেন—
“আমাদের মেয়েগুলোকে দেখ… কী সুন্দর লাগছে!”
নুসরাত চৌধুরী গর্বের হাসি—
“মাশাআল্লাহ… একদম চোখ সরানো যাচ্ছে না।”
সাবিহা চৌধুরী পাশে বসে—
“বিশেষ করে ইনায়া… আজ তো একদম আলাদা লাগছে!”
এইদিকে—
সামনের সারিতে বসে থাকা ছোটরা—
আয়াত, আতিকা, রিধ উত্তেজনায় লাফাচ্ছে।
আয়াত চিৎকার করে—
“ওই দেখ! আমার আপু!”
আতিকা হাততালি দিতে দিতে—
“আমার আপু সেরা!”
রিধ একটু গম্ভীর ভঙ্গিতে—
“সবাই ভালো নাচছে…
ঠিক তখনই—
রিমঝিম চৌধুরী হালকা হেসে বলল—
“ওদের থেকে তো আমার বিয়েতেও এমন নাচ চাই!”
নুসরাত হাসতে হাসতে—
“তুই চিন্তা করিস না, তোর বিয়েতে এরা স্টেজ কাঁপিয়ে দিবে!”
এইদিকে—
স্টেজ থেকে নামছে তিন বান্ধবী…
পিয়াসা—
“উফফ! আমরা আজ একদম ফাটিয়ে দিয়েছি!”
তুবা—
“আজকে কলেজের সব ছেলে শেষ!”
ইনায়া হালকা হাসল…
কিন্তু তার চোখ—
খুঁজছে…
ইউভিকে।
সামনের সারিতে বসে থাকা ইউভি—
চুপচাপ তাকিয়ে আছে।
চারপাশে সবাই আছে—
কিন্তু তার দুনিয়া যেন থেমে আছে
শুধু ইনায়ার মধ্যে।
রেদোয়ান পাশ থেকে হালকা কনুই দিয়ে—
“ভাই… একটু মানুষ হও সবাই দেখছে!”
ইউভি চোখ না সরিয়েই—
“চুপ থাক…”
ইনায়া আর পিয়াসা নিচে নামতেই—
সবাই একে একে তাকে জড়িয়ে ধরছে।
রেশমা চৌধুরী—
“মা… খুব সুন্দর হয়েছে!”
নুসরাত মাথায় হাত বুলিয়ে—
“একদম চোখ জুড়িয়ে গেছে।”
আয়াত দৌড়ে এসে জড়িয়ে—
“আপু! তুমি সুপারস্টার!”
ইনায়া হেসে—
“তুইও তো আমার ফ্যান হয়ে গেলি !”
ঠিক তখনই—
ইউভি উঠে দাঁড়াল।
তার উঠে দাঁড়ানোটা—
এমনভাবে—
যেন পুরো পরিবেশ একটু থেমে গেল।
সে ধীরে ধীরে এগিয়ে এল।
সবাই একটু চুপ…
ইউভি এসে দাঁড়াল তিনজনের সামনে।
প্রথমে একবার সবার দিকে তাকাল—
তারপর চোখ থামল—
ইনায়ার উপর।
“ভালো নাচছিস…”
শান্ত গলায় বলল ইউভি
পিয়াসা সাথে সাথে—
“শুধু ও না! আমরা তিনজনই নেচেছি!”
চারপাশে হালকা হাসি।
রিমঝিম মুচকি হেসে—
“পিয়াসা ঠিকই বলছে!”
ইউভি হালকা মাথা নাড়ল—
“হুম… দেখেছি।”
কিন্তু—
তার চোখ বলছে—
সে শুধু ইনায়াকেই দেখেছে।
ঠিক তখনই—
একটা ছেলে এগিয়ে এসে বলল—
“Excuse me! আপনাদের performanceটা অসাধারণ ছিল!
একটা photo নিতে পারি?”
পিয়াসা— “জি—”
তুবা— “অবশ্যই—”
কিন্তু—
ইউভি সামনে এসে দাঁড়াল।
সবাইয়ের সামনে—
ঠান্ডা গলায়—
“না।”
পুরো পরিবেশ এক সেকেন্ডে চুপ।
ছেলেটা অপ্রস্তুত—
“সরি…” বলে সরে গেল।
লিখন চৌধুরী ভ্রু কুঁচকে তাকালেন—
“এই ছেলেটা আবার শুরু করলো…”
রেশমা আস্তে বললেন—
“আজ কিছু বলবেন না…”
নুসরাত ফিসফিস করে—
“ওর চোখটা দেখেছেন? কিছু একটা আছে…”
ইনায়া এবার রেগে—
“আপনি এমন করছেন কেন?”
ইউভি একটু ঝুঁকে—
শুধু তার দিকে—
“সবাই তোকে দেখলে
“আমার ভালো লাগে না।”
পাশে দাঁড়ানো পিয়াসা—
মুখ ঢেকে হাসি চেপে—
তুবা—
“এইটা কিন্তু normal না…”
রিমঝিম ফিসফিস করে বললেন
“এই গল্প কিন্তু জমে গেছে…”
ইউভি সোজা হয়ে দাঁড়াল—
“চল।”
পিয়াসা—
“কোথায়?”
ইউভি বিরক্ত হয়ে বললো
“তোকে না… ওকে বলছি।”
চোখ—
ইনায়ার দিকে।
সবাই এখন চুপচাপ দেখছে।
ইনায়া একটু থেমে…
তারপর ধীরে—
ইউভির পেছনে হাঁটা শুরু করল।
পেছনে দাঁড়িয়ে—
রেশমা চৌধুরী নিঃশ্বাস ফেলে—
শেহেজাদার আদর পর্ব ৯
“এই দুজনের মধ্যে কিছু একটা হচ্ছে…”
নুসরাত রে
“হচ্ছে না… শুরু হয়ে গেছে…”
রিমঝিম মুচকি হেসে বললো
“আর আমরা সামনে বসে সিনেমা দেখছি!”
