Home লাভ বাই দ্যা ভিলেন লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ২৪

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ২৪

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ২৪
লিজা মনি

প্রভাতের আকাশ যেন নবজাত সূর্যের আঁচে ধীরে ধীরে খুলে যাচ্ছে এক স্বর্ণাভ পর্দা। নিস্তব্ধতার গর্ভে জন্ম নিচ্ছে প্রথম আলো।যার কোমল স্পর্শে কাঁপতে থাকে শিশিরভেজা ঘাসের ডগা। বাতাসে এক অদ্ভুত সতেজতা। প্রকৃতি নিজেই গভীর নিঃশ্বাস ফেলে পুনর্জন্ম নিচ্ছে। দূর কোনো গাছের ফাঁক দিয়ে কোকিলের ডাক ভেসে আসে।তার সুরে লুকিয়ে থাকে ঘুম ভাঙার স্নিগ্ধ আহ্বান।
এই সকালের নরম স্নিগ্ধতায় বাতাসের প্রতিটি কণায় পাতার প্রতিটি নড়াচড়ায় এক অব্যক্ত বাণী উচ্চারিত হয়,
“জীবন নিজেকে প্রতিদিন নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করে। আর প্রকৃতি সেই সংজ্ঞার সবচেয়ে নিঃশব্দ সাক্ষী।”
লোহা ঠোকার ধ্বনি যেন ঘরের নীরবতাকে বিদীর্ণ করে ছিন্নভিন্ন করে দিচ্ছে। চারপাশে ঘন অন্ধকারের ভিতর ঝুলে আছে এক লালচে আলো রক্তের রঙের মতো। সেই আলোয় তার ঘামে ভেজা পেশীগুলো জ্বলজ্বল করছে। গ্যাংস্টার বস জিম করছেন।আগুনে গড়া ইস্পাত। প্রতিটি শ্বাস ভারী ও গভীর। আর প্রতিটি নিঃশ্বাসে মিশে আছে মৃত্যুর মতো গাঢ় এক শান্তি।

তার কপাল বেয়ে ঘামের ফোঁটা গড়িয়ে পড়ছে গলার রেখা বেয়ে বুকের উপর।যেখানে নীলচে ট্যাটুগুলো অজানা কোনো ইতিহাস লিখে রেখেছে। বাহুতে জমে থাকা শিরাগুলো ফুলে উঠেছে। রক্তধারাই ক্রোধের স্রোতে পরিণত হয়েছে। ট্রেডমিলের পাশে রাখা পিস্তলটা নিঃশব্দে ঝলক দিচ্ছে। এইটা এক অঘোষিত সতর্কবার্তা।
গ্যাংস্টার বসের চুল পিছনে টানা। চোখ দুটি কাঁচের মতো ঠাণ্ডা হয়ে আছে।কিন্তু সেই ঠাণ্ডায় আছে এমন এক তাপ যা তাকানোর সাহস কেউ করে না। প্রতিটি ওজন তোলার সময় তার গর্জনে কেঁপে ওঠে দেয়াল। মনে হয় মাংসপেশি টান টান হয়ে ফুলে উঠেছে।
পিঠে সাপের পেচানো ট্যাগুলো যেন জীবন হয়ে উঠছে। হাতে আর গলার নিচে ড্রাগনের ট্যাটু গুলো ঘামের সাথে খেলা করছে। শত শত বুক ডাউন দিয়ে নিক থেমে যায়। সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে পানির বোতলটা হাতে নেয়। এরপর ঢকঢক করে এক নিশ্বাসে পানি পান করে। টাওয়েল দিয়ে ঘাম মুছত মুছতে আয়নার দিকে তাকায়।নিজের প্রতিচ্ছবিতে হালকা হাসে। ঠোঁট বাঁকিয়ে বাহিরের অংশে তাকায়। চারপাশে হাজার হাজার গার্ড রয়েছে। গম্ভীর হয়ে ঠোঁট কামড়ে ধরে। বিরবির করে বলে,

” হাজার হাজার গার্ডদের চোখ ফাকি দিয়ে পালানো অসম্ভব। আজকের রাতটা তোমাকে ছাড়া কাটাতে হবে ব্লাড রোজ। আমার দৃষ্টি সীমার বাহিরে থাকবে তুমি। তবে চাইলেও পালাতে পারবে না এত এত গার্ডদের এড়িয়ে।নেভার কমিট দা ফলি অব ফ্লিইং।
নিক হ্যান্ড গ্লাভস খুলে শরীরে এক জিম রুম থেকে বেরিয়ে যায়। গার্ডদের সামনে গিয়ে গম্ভীর হয়ে দাঁড়ায়। সবার দিক দৃষ্টি ঘুরিয়ে গম্ভীরতা টেনে উচ্চ আওয়াজে বলে,
” সবার চোখ, কান খোলা রাখবে। একটা কুকুরও যাতে মেনশনের ভেতর প্রবেশ করতে না পারে। আর একটা পাতাও যবে মেনশনের বাহিরে যাতে না পারে। কেউ যদি আসে অথবা যায় তাহলে প্রতিটা গার্ড শেষ বারের মত আলো দেখে নাও। কারন পরবর্তী সূর্যদয় দেখতে পারবে কি না তার নিশ্চয়তা নেই।
নিকের হুংকারে সবাই কম্পমান হয়ে উঠে। সমস্ত গার্ড একই সাথে সম্মতি জানায়। নিক রহস্যময় ভাবে হেসে বাড়ির ভিতরে অগ্রসর হয়। উদ্দেশ্যে রুমে যাওয়া।

এনি পিটপিট করে চোখ খুলে তাকায়। নিজেকে নরম বেডে আবিষ্কার করে। নিজের অবস্থান বেডে দেখে কপাল কুচকে ফেলে। সে তো ডিভানের উপর ছিলো তাহলে বেডে আসলো কিভাবে। শুয়ে থেকে উঠার জন্য শরীরটা নাড়াতে’ই ব্যাথায় চোখ – মুখ খিঁচে ফেলে। মাথাটা এমনিতে যন্ত্রনায় ফেটে যচ্ছে তার উপর শরীরের অসহ্য ব্যাথা। যন্ত্রনায় জর্জরিত হয়ে এনি আবার নিস্তেজ হয়ে শুয়ে পড়ে। মাথায় শক্ত করে চেপে ধরে ব্যাথা নিবারনের জন্য। ধীরে ধীরে মনে পড়তে থাকে রাতের কাহিনী। নিকের রক্তাক্ত স্পর্শ, লোকটার বেহায়া উন্মাদনা। এনি সহ্য করতে না পেরে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলো। এরপর কি হয়েছে জানা নেই। রাতের ঘটনা মন পড়তেই ঠোঁট কামড়ে ধরে। নিজেকে শক্ত রাখতে না পেরে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠে। শরীরের উপর কালো চাঁদর রাখা। এনি নিজেকে দেখার জন্য চাঁদরটা উন্মুক্ত করে। নিজেকে বিবস্ত্র দেখে চোখ বন্ধ করে ফেলে। নিজের শরীরের উপর এক তীব্র বিতৃষ্ণা চলে এসেছে। প্রতিটা লোমে জানোয়ারটার স্পর্শ লেগে আছে। ভাবতেই এনির শরীর কাটা দিয়ে উঠে। এনি শক্ত করে চাদর খামছে ধরে। ঠোঁটা কামড়ে ধরে অনবরত কান্না করে যাচ্ছে চোখের পানিতে ভিজে যাচ্ছে লাল বালিশটা। চোখ বন্ধ করে বিরবির করে বলে,

” কেনো এত কঠিন শাস্তি দিচ্ছো আমাকে? কেনো দেওয়া হচ্ছে এই এই নরক যন্ত্রনা? পুরো পৃথিবী থেকে নিজেকে সব সময় আড়াল করে রেখেছি। দিনের পর দিন সম্মানের লড়াই করে গিয়েছে। কি লাভ হয়েছে? কি লাভ হয়েছিলো সেদিন এতগুলো খুন করে হাত রক্তাক্ত করার? কি লাভ হয়েছিলো নিজের রক্তকে মেরে কলিজা ভুনা করার? সেদিন তাদের খুন না করলে নিজে হয়ত খুন হয়ে যেতাম। এরপরও শান্তি পেতাম। একটা নরপিশাচের ভোগবস্তু হতে হত না। হালাল হয়েছি বলেই কি বাঁধা দিতে পারছি না? বাঁধা দিব কিভাবে? আমার এত ক্ষমতা আছে নাকি!
এনি কথা থামিয়ে দেয়। কারোর উপস্থিতি বুঝতে পেরে চোখ বন্ধ করে ফেলে। সহ্য করতে পারে না এই ব্যক্তিটাকে। নিক এক পলক তাকায় এনির বিরক্ত মাখা চেহারার দিকে। রাগে চোয়াল শক্ত করে ফেলে। রাগ কন্ট্রোল করতে না পেরে পাশে থাকা টেবিলটাকে পা দিয়ে লাথি মেরে ওয়াশরুমে ডুকে যায়। লাথি মারার শব্দে এনি সামান্য কেঁপে উঠে।
প্রায় বিশ মিনিট পর নিক ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে আসে।কোমড়ে কালো টাওয়েল পেচানো। চুল থেকে টপটপ পানি পড়ছে। এনিকে এমন নিস্তেজ হয়ে বসে থাকতে দেখে নিচের ঠোঁট কামড়ে ধরে। ভারী পা ফেলে এনির কাছে এগিয়ে যায়। শরীরের উপর থেকে থাকা চাঁদরটাতে ধরে টান দিতেই এনি আৎকে উঠে। শক্ত করে চেপে ধরে চাঁদর খানা। এনি বাঁধা দেওয়াতে নিক ভ্রুঁ ভাঁজ করে তাকায়। এনি অসহায় মুখে অশ্রুশক্তি নয়নে তাকিয়ে বলে,

” না… প্লিজ।
নিক কপাল কুচকে গম্ভীরতা নিয়ে বলে,
” বারন করছো কেনো?
এনি বিরবির করে বলে,
” আমার শরীরে কিছু নেই। চাঁদরটা নিবেন না প্লিজ।
নিক বিরক্তি কন্ঠে বলে,
” সব তো দেখে নিয়েছি। নতুন করে আর কি দেখব?
শাওয়ার নিবে না? অপবিত্র হয়ে শুয়ে থাকতে চাও?
এনি চাদরখানা আরও শক্ত করে চেপে ধরে বলে,
” আমি এমনিতেও অপবিত্র।
এনির এই লাইনটা একদম সহ্য হলো না। রাগে চোয়াল শক্ত করে হেচকা টানে চাঁদরটা টান দেয়। পুরোটা চাঁদর সরিয়ে মেঝেতে ছিটকে ফেলে দেয়। এনি লজ্জায় হতভম্ভ হয়ে যায়। দুই হাত দিয়ে নিজেকে ঢাকার চেষ্টায় কান্না করে উঠে। নিক একবারের জন্য ও এনির দিকে তাকায় না। জানে একবার তাকালেই নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ফেলবে। দুই হাত দিয়ে এনিকে পাজা কোলে তোলে নেয়। এরপর ধমকের সুরে বলে,

” ফা**ক অফ ব্লাড রোজ। স্টপ ক্রাইং। কান্না করলে কিন্তু আবার ও ঘূর্নিঝর চালাব তোমার উপর।
এনি সাময়িকের জন্য কান্না থামিয়ে দেয়। এনিকে চুপ থাকতে দেখে নিক অধর বাঁকায়। ওয়াশরুমে ডুকে বাথটবে রাখে আলতোভাবে। ঠান্ডা পানি শরীরে পড়তেই পুরো শরীর জ্বলে উঠে। তীব্র যন্ত্রনায় এনি নিকের উন্মুক্ত শরীর খামছে দিয়ে ধরে। চোখ – মুখ খিঁচে ফেলে মেয়েটা। কান্না করে উঠে শব্দ করে। নিকের গলায় শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলে,
” আমি শাওয়ার নিব না। জ্বালা করছে প্রচন্ড। আমি নিব না শাওয়ার। আমাকে যেতে দিন রুমে।
এনি কথাটা বলে আরও কান্না করে উঠে। মুলত সে ভুলে গিয়েছে পরিস্থিতি, নিজের অবস্থান। সামনে যে সব থেকে ঘৃনিত পুরুষটা দাঁড়িয়ে আছে তার কথা। নিকের গলা জড়িয়ে বাচ্চামো করতে থাকে। বার বার একই আওয়াজ উচ্চারন করছে,

” আমি শাওয়ার নিব না।
নিক এনির বাচ্চামো গুলো দেখে শান্ত দৃষ্টি নিক্ষেপ করে। চোখ বন্ধ করে বড় করে নিশ্বাস টানে। এনিকে নিজের শরীরের সাথে মিশিয়ে বলে,
” বেশি যন্ত্রনা হচ্ছে?
এনি কান্না করতে করতে ফুঁপিয়ে উঠে,
” সহ্য করতে পারছি না। পুরো শরীরে মনে হচ্ছে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে।
নিক কিছুক্ষন ঠোঁট কামড়ে রাখলো। এরপর আচমকা এনিকে বাথটপ থেকে তোলে নেয়। দরজার দিকে এগিয়ে যেতে যেতে বলে,
” যা পবিত্র হওয়ার হয়ে নিয়েছো আর হতে হবে না।
নিক এনিকে বিছানায় বসায়। এনি নিজের জ্ঞানে ফিরে আসে। দ্রুত নিজেকে ঢাকার জন্য পাশে থাকা আরেকটা চাঁদর তুলে নেয়। নিজের শরীরে উপর ভালোভাবে রখে পেচিয়ে বসে।
নিক হাতে করে দুইটা মেডিসিন এনে এনির সামনে রাখে। এনি মেডিসিন গুলোর দিক এক পলক তাকিয়ে বলে,

” পিল দিয়েছেন?
নিক কিছুক্ষন নিশ্চুপ রইলো। এরপর ঠান্ডা গলায় বলে,
” দিয়েছি।
এনি মেডিসিনের দিকে তাকিয়ে বলে,
” কোনটা?
নিক ধৈর্য হারায়। কপাট রাগ দেখিয়ে ধমকে উঠে,
” এত প্রশ্ন কেনো করছো? যা দিয়েছি সেটাই খেয়ে নাও।
নিকের ধমকে এনি চুপ হয়ে যায়। সামান্য কেঁপে উঠে ভেতরটা। নিক হাত থেকে মেডিসিন দুইটা নিয়ে গিলে ফেলে। নিক সরে আসে সেখান থেকে। এনি তাচ্ছিল্য হাসি দিয়ে বলে,
” নিজে ভোগ করে আবার নিজেই ব্যাথা নিবারন করছেন?

” ভোগ” শব্দটা কর্নে প্রবেশ করতেই নিক থেমে যায়। ঘাড় ঘুরিয়ে এনির তেজী চোখ দুইটার দিকে তাকায়। নিকের ধূসর চোখ দুইটা ঝলঝল করে উঠে ক্রোধে। দাঁত কটমট করতে থাকে রাগ কমানোর জন্য। ব্যার্থ প্রচেষ্টায় গ্যাংস্টার বস নিজেকে হারিয়ে ফেলে।প্রগার ক্ষুব্দতা নিয়ে ঝড়ের বেগে এনির চোয়াল শক্ত করে চেপে ধরে। রাগে কাঁপছে তার শরীর। বুড়ো আঙ্গুল দিয়ে এনির ঠোঁটে স্লাইড করে শক্ত ভাবে। পুরো ঠোঁটে এমনিতেই ক্ষত। তার উপর নিকের এমন শক্ত স্পর্শে যেন জীবন বেরিয়ে আসবে। এনি ছটফট করে উঠে ছুটার জন্য। নিক রাগ সামলানোর জন্য আচমকা এনির ঠোঁট দুইটা ক্ষোভে নিজের ঠোঁটের ভাঁজে চেপে ধরে। দন্তের ঘর্ষনে এনি সহ্য করতে না পেরে নিঃশ্বব্দে কেঁদে উঠে। নিক গলায় শক্ত করে চুমু দিয়ে ছেড়ে দেয়। নিককে ছেড়ে দিতে দেখে এনি শক্ত গলায় বলে,

” উন্মাদ চিতাবাঘ আপনি।
নিক এনির গাল শক্ত করে ধরে বলে,
” এর থেকে ও ভয়ানক। ভোগ করার কথা কেনো বললি? কে ভোগ করেছে তকে?
এনি সামান্য হেসে উঠে। নিকের কথায় ঠোঁট বাঁকিয়ে বলে,
” আপনাকে এখন নাম বলে বুঝাতে হবে গ্যাংস্টার বস। পুরো আমিটাকে আপনার নোংরা স্পর্শ দিয়ে কুলষিত করে ফেলেছেন।
নিক এনির গাল আরও চেপে ধরে। পিছনে চুলের মুঠি ধরে হুংকার দিয়ে উঠে,

” বান্দির বাচ্চা রাগাস কেনো আমাকে? শান্ত রুপ ভালো লাগে না, তাই না? অশান্ত নিক জেভরানের হিংস্র অত্যাচারিত রুপ দেখতে ভালো লাগে? এত জ্বালাস কেনো আমাকে? দুনিয়ায় কি মেয়ের অভাব পড়েছে যে তকে ভোগ করতে হবে। তকে হালাল ভাবে স্পর্শ করেছি। যে স্পর্শে কোনো কলঙ্ক ছিলো না। পুনরায় এই শব্দ ব্যবহার করলে ট্রাস্ট মি সত্যিকার অর্থে ভোগবস্তু বানিয়ে রাখব। হাজারটা পুরুষের হাত থেকে বাঁচিয়েছি তাই ভালো লাগে না? সেদিন পাচার হলে অত্যাচারিত হয়ে নর্দমায় পড়ে থাকতি। নিলামে ওরা কিনে নিলে আঠারো জন গ্যাংস্টারের বিছানায় ঠাঁই পেতি। মুলত সেটাই ভালো ছিলো। তকে এখানে নিয়ে আসায় উচিত হয় নি।
” ছেড়ে কেনো দিয়েছেন? দম বন্ধ করে মেরে ফেলতেন।
নিক এনির রাগী চেহারার দিকে তাকায়। এনির ঠোঁট থেকে রক্তগুলো পুনরায় জিহ্বা দিয়ে শুষে নেয়। এরপর গলা হাত দিয়ে বলে,

” মেরে ফেললে এই স্বাদ গ্রহন করব কোথা থেকে?. ইউ নো ব্লাড রোজ তুমি প্রচুর টেস্টি।
নিকের লাগামহীন কথায় এনি চোখ খিঁচে ফেলে। কাঁপা গলায় বলে,
” ক… কি টেস্টি?
নিক ঠোঁট কামড়ে হাসলো। গ্রিবাদেশ নাড়িয়ে বলে,
” উপর থেকে নিচ পর্যন্ত পুরোটাই।
এনির কান গরম হয়ে উঠে। দাঁত পিষে নিকের থেকে ছাড়া পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠে। রাগ দেখিয়ে শক্ত গলায় বলে,
” ছাড়ুন আমাকে নির্লজ্জ আফ্রিকার জেব্রা।
এনির মুখে জেব্রা সম্মোধন শুনে নিক অবাক হয়ে রিপিট প্রশ্ন করে,
” হুয়াট জেব্রা?
এনি নাকের পাটা ফুলিয়ে বলে,
” আপনার নাম নিক জেভরান রাইট?
নিক সম্মতি জানিয়ে বলে,
” হ্যা।
এনি এইবার ঠোঁট ভিজিয়ে বলে,

” আফ্রিকার গ্যাংস্টার আপনি। সেখান থেকে আফ্রিকা শব্দটা তুলে নিলাম। আপনার নাম হচ্ছে নিক জেভরান। সেখান থেকে জেভরান মানে জেব্রা শব্দটা তুলে নিলাম। তুলে নেওয়া শব্দগুলো মিলিত করে বাক্য গঠন হয় আফ্রিকার জেব্রা। নিক জেভরান নয় আফ্রিকার জেব্রা আপনি।
নিক হতভম্ভ ন্যায় তাকিয়ে তাকে এনির দিকে। চিতাবাঘ, জানোয়ার, নরপশু, নরপিশাচ শব্দগুলো মানা যায়। বাট এই আফ্রিকার জেব্রা!
নিক চোয়াল শক্ত করে এনিকে কিছু বলতে যাবে তার আগেই এনি নিকে ঠোঁট চেপে ধরে। নিজের ছোট ছোট আঙ্গুলের সাহায্যে। নিজের মুখটাএকদম নিকের মুখের নিকটে নিয়ে আসে। ঠোঁট প্রায় ছুঁই ছুঁই। এনি ফিসফিস করে বলে,
” আজ তো আপনার মাফিয়া মিটিং। প্লিজ আর আঘাত করবেন না। পুরো শরীরে এমনিতে প্রচুর ব্যাথা করছে। একটু রেস্ট নিব। আপনার সাথে নাহলে লড়াই করতে পারব না। নেতিয়ে পড়লে আমার চলবে না। নিজের কাজে যান। আমাকে রেস্ট নিতে দিন
নিক ভ্রুঁ নাচিয়ে বলে,

” রিজেকশন করছো বেবিগার্ল?
এনি গম্ভীর নিশ্বাস ফেলে বলে,
” হ্যা বলব না। কারন হ্যা বললে চিতা বাঘের মত পুনরায় ঝাপিয়ে পড়বেন। তাই আপাযত ইচ্ছের বিরুদ্ধে না এর আওয়াজ তুলছি। রিজেক্ট করেনি। শান্ত থাকুন। খুব দুর্বল হয়ে আছি। বিশ্রাম নিতে চাই।
নিক এনির ক্লান্ত মুখটার দিকে তাকায়। এনি কথাটা বলে এক পাশে শুইয়ে পড়ে। নিক কিছু বললো না। আধা ঘন্টার ভেতরে রেডি হয়ে রুম ত্যাগ করে। নিক চলে গেছে অনুভব করতেই এনি চোখ খুলে অধৈর্য হয়ে চিত্রা মাসির অপেক্ষা করতে থাকে। অশান্ত হয়ে ছটফট করতে করতে নিচের ঠোঁট কামড়ে ধরে। কিছুক্ষনের মধ্যে চিত্রা এনির রুমে আসে। তার মুখে ভয় আর আতঙ্ক। কাঁপছে পুরো শরীর। এনি চিত্রাকে দেখে খুশিতে আত্নহারা হয়ে উঠে। হাসি দিয়ে বলে,
” থ্যংক গড আপনি এসেছেন।
চিত্রা বেপোরোয়াভাবে বলে,

” কি করতে হবে?
এনি রহস্যময় হাসি দিয়ে বলে,
” দেড় হাজার লাড্ডু বানাতে বলোন প্রতিটা স্টাফকে।
চিত্রা কপাল কুচকে বলে,
” এত লাড্ডু কাদের জন্য?
এনি মুচকি হেসে বলে,
” বাড়ির চার- পাশে এক হাজার গার্ড এর মত আছে। আর বাকি পাঁচশত লাড্ডু স্টাফ ও অন্যান্যদের জন্য।
চিত্রা শুকনো ঢোক গিলে বলে,
” এত লাড্ডু দিয়ে কি করবে?
এনি এদিক- সেদিক তাকায় তীক্ষ্ণ চোখে। সিসি ক্যামারা লাগানো রুমে। তাই স্বাভাবিক ভঙ্গিমায় মাথা নিচু করে বলে,
” আজ সন্ধ্যা দেখতে পারবেন। নিক জেভরান এর নাকের উপর দিয়ে আমি আনাস্তাসিয়া এনি গুঁটি চালাব।
চিত্রা ঢোক গিললো। সিসি ক্যামেরার কথা চিন্তা করে তেমন রিয়্যাকশন করলো না। মাথা নিচু করে শান্ত ভঙ্গিমায় বাহির হয়ে যায়। এনি চাঁদরের নিচে মুখ লুকিয়ে রহস্যময়ভাবে হাসে।

আরিশ একজন স্টাফকে কফির আদেশ দিয়ে নিজের রুমে চলে যায়। একসাথে সাতজনকে কুঁপিয়ে এসেছে। শার্টে রক্ত লেগে লাল হয়ে আছে। এই মুহূর্তে শাওয়ার নেওয়া প্রয়োজন। প্রায় আধা ঘন্টা নিয়ে শাওয়ার শেষ করে একটা চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে। কোমড়ে একটা টাওয়েল পেচানো। খালি গা থেকে পানি পড়ছে। দরজায় টোকা পড়তেই গম্ভীর হয়ে বলে,
” কাম।
আরিশ হাত বাড়ায় কফি নেওয়ার জন্য। হুট করে হাতে গরম কিছু পড়াতে ছটফটিয়ে উঠে। রক্তাক্ত চোখ নিয়ে তাকায় সেদিকে। নাজলীকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে কপাল কুচকে ফেলে। রাগে চোয়াল শক্ত করে উঠে দাড়াতে যাবে তার আগেই নাজলী বুকের উপর হাত রেখে বসিয়ে দেয়।
আরিশের হাত ধরে অধৈর্য ভঙ্গিতে অসহায় কন্ঠে বলে,

” সরি.. সরি স্বামীজান। আমি একটুও দেখতে পায় নি। ইশশ! ব্যাথা হচ্ছে বুঝি? চলুন মলম লাগিয়ে দেয়।
নাজলীর অভিনয়ে নাবিদ রাগ কন্ট্রোল করছে। আচমকা হেচকা টানে উড়ুর উপর বসিয়ে শক্ত করে চেপে ধরে। নাজলী ব্যাথা পেলেও মুচকি হাসি বজায় রাখে।নাবিদ নাজলীর বাম হাতটা শক্তভাবে চেপে ধরে বলে,
” পাগল মেয়ে। পাগলামী কেনো করছিস আমার সাথে? না পারছি মেরে ফেলতে আর না পারছি সহ্য করতে।
নাজলী গম্ভীর হয়ে উঠে। নাবিদের দিকে তাকিয়ে ঠোঁট উল্টে বলে,
” আপনার আত্না কাঁপে নি? নিজের বউকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছেন।
আরিশ নাজলীকে ধ্বাক্কা মেরে দেয়। নাজলী ছিটকে গিয়ে মেঝেতে পড়ে। ব্যাথায় মৃদু আর্তনাদ করে উঠে মেয়েটা। মাথাটা গিয়ে একটা শক্ত বস্তুর সাথে আঘাত খায়। তবে রক্ত বের হয় না। সাথে সাথে ফুলে উঠে। নাজলী মাথায় হাত দিয়ে রেগে যায়। তবে চোখ বন্ধ করে রাগটাকে শান্ত করে রাখা। রাগে কাঁপতে থাকা আরিশের দিকে তাকায়। এরপর চোখ ছোট ছোট করে কপালে হাত দিয়ে বলে,

” ব্যাথা পেয়েছি কিন্তু।
আরিশ চোয়াল শক্ত করে বলে,
” এই উছিলায় মরে গেলে শান্তি পেতাম, ইডিয়েট।
নাজলী মুচকি হেসে দাঁড়ায়। লাজুক হেসে বলে,
” এমন অলুক্ষনে কথা বলতে নেই স্বামী জান।
আমাদের ত্রিশটা বাচ্চা মা হারা হয়ে যাবে।
আরিশ হতভম্ভ হয়ে যায় নাজলীর কথায়। অবাক হয়ে চেঁচিয়ে উঠে,
” হুয়াট!
নাজলী সামান্য রাগ দেখিয়ে বলে,

” কথায় কথায় এইভাবে ধমক দিবেন না। শুধু শুধু শব্দ দূষন করছেন। বাচ্চার কথা বলেছি। চেঁচাচ্ছেন কেনো?
আরিশ আর সহ্য করতে পারে না। চোখ বন্ধ করে বড় বড় নিশ্বাস টেনে বলে,
” যাস্ট সেট আপ। রাগিও না। সত্যি বলছি বহু কষ্টে নিয়ন্ত্রনে রাখি। তোমাকে যাস্ট আমাদের প্রয়োজন। নাহলে আরিশকে জ্বালানোর শাস্তি তুমি প্রথম দিনেই পেয়ে যেতে।
— আপনি সত্যি নাস্তাবুদ হচ্ছেন? খুব গর্ব হচ্ছে নিজের উপর। যাদের ইশারায় পরো আফ্রিকা থতমত খায়। তাদের মধ্যে একজনকে তো আমি নাস্তাবুদ করতে পারছি। এই সুখ আপনাকে বলে বুঝাতে পারব না।
আরিশ সামান্য ঠোঁট বাঁকায়। নাজলী আরিশের দিকে এক পলক তাকিয়ে বলে,
” আমি আপনার বউ ঠিক আছে। আমিও মানি সেটা। তাই বলে শুধু টাওয়েল পেচিয়ে চলে আসবেন?আমার লজ্জা লাগে তো?
আরিশ ভ্রু নাচিয়ে বলে,

” তোমার মত মেয়ের লজ্জা আছে?
নাজলী লাজুক হেসে বলে,
” আপনার চাঁদ মামা চেপে ধরছি ঠিক আছে। তাই বলে লজ্জা থাকবে না। এইটা কি ধরনের কথা।।
আরিশ কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলে। এই মেয়ের সাথে থাকলে সত্যি সত্যি অঘটন ঘটিয়ে ফেলবে। আরিশ রাগে নাজলীর হাত চেপে ধরে। এরপর এক ধক্কায় রুম থেকে বের করে দেয়। সামান্য এলার্ট দিয়ে বলে,

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ২৩

” আমার চারপাশে যাতে কোনোদিন না দেখি। আবার উত্যক্ত করতে আসলে গলায় ছুঁরি বসিয়ে দিব।
আরিশ কথাটা বলে ঠাস করে মুখের উপর দরজা লাগিয়ে দেয়। নাজলী বাঁকা হেসে বলে,
” আপনাকে না জ্বালালে কিভাবে হবে ক্রিমিনাল লিডার আরিশ। শান্ত হয়ে বসে থাকার মেয়ে আমি নয়। জানি আমাকে প্রানে মারবেন না। এমন ভাবে জ্বালাব যে এখানে আসাও আপনার জন্য অতিষ্ট হয়ে পড়বে।

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ২৫