Home লাভ বাই দ্যা ভিলেন লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ২৯ (২)

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ২৯ (২)

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ২৯ (২)
লিজা মনি

এনি চোখ বন্ধ করে নিশ্বব্দে ফুঁপিয়ে উঠে। এখানে ভয় প্রকাশ করা নিত্যান্তই বোকামি। নিক সামনের দিকে পা বাড়ায়। চলে যাচ্ছে সে এনিকে রেখে। এনি ভাঙ্গা গলায় বললো,
” সত্যি চলে যাচ্ছেন? খুব কষ্ট হচ্ছে আমার।
এনির কন্ঠে ছিলো অসহায়ত্ব।নিক দাঁড়িয়ে যায় কিছুক্ষনের জন্য। মুহূর্তেই কন্ঠ শক্ত করে বলে,
” কষ্ট পাওয়ার জন্য ‘ই এইখানে তোমার অবস্থান। পরিবর্তে পালিয়ে যাওয়ার আগে দশবার ভাববে।
” মরে গেলে আমার লাশটাকে একটু দাফনের ব্যবস্থা করে দিয়েন প্লিজ। আর আমার আপাকে দেখার সুযোগ করে দিয়েন। সামান্য মাংস – পিন্ডও যদি থাকে তবুও সেটাকে দাফন করাবেন। দুইটা আবদার রাখবেন আমার?

নিক আবার ও হাটা থামিয়ে দেয়। এনির জন্য দুইটা আবদার ছিলো। কিন্তু গ্যাংস্টার বসের জন্য কি আদ’ও দুইটা আবদার ছিলো? নিকের নিশ্বাস দ্রুত চলতে থাকে। কলিজায় মনে হচ্ছে কেউ ছুঁরি-ঘাত করছে। হাত মুষ্টি করে ফেলছে। দুইটা আবদার তার প্রতিটা রক্তবিন্দুকে শীতল করে দিচ্ছে। নিক যেন দুর্বল হয়ে আসছে ধীরে ধীরে। কোনোরকম ঘাড় ঘুরিয়ে এনির দিকে তাকায়। এনি নীলাভ চক্ষুদ্বয় অশ্রুতে ভিজে উঠেছে। সাদা অংশ গুলো লাল হয়ে আছে। নিক ধীর পায়ে এগিয়ে আসে এনির কাছে। ধূসর চোখের ভাষা বুঝলো না এনি। তবে এইটা জানে সামনের ব্যক্তিটা মারাত্নক ভয়ানক। এই কথার কারনে এখন নিশ্চই আরও বড় শাস্থি দিবে? দুইটা হিংস্র পশুর সাথে রেখেছে যাতে ছিঁড়ে খেয়ে ফেলে সেই উদ্দেশ্যে। এই লোকের হার্ট নেই। মায়া – ভালোবাসার লেশ মাত্র নেই সামনে থাকা ব্যক্তিটার। এই কথার কারনে কি এখন আবার ও আঘাত করবে? এনি ভয়ে ঠোঁট কামড়ে ধরে শক্তভাবে। পুরো শরীর অবশ হয়ে আছে। নিক একদম এনির কাছা- কাঁছি এসে দাঁড়ায়। আচমকা মাটির উপর হাটু ভেঙ্গে বসে পড়ে। এনি ভয়ে চোখ খিঁচে বন্ধ করে ফেলে। নিক অদ্ভুতভাবে তাকায় এনির কম্পনরত ঠোঁট-টার দিকে।

তার দেওয়া ক্ষত এখনও ঝলঝল করছে। গোলাপি ঠোঁট ফুলে উঠেছে। গ্যাংস্টার বসের কি হলো জানা নেই।হিংস্র মনটা ব্যাকুল হয়ে উঠে মেয়েটার অধরটা ছুঁয়ে দিতে। চোখের পানি মুছে দিয়ে কপালে ভালোবাসার চুম্বন এঁকে দিতে। দুই হাত দিয়ে ছোট্ট শরীরের বুকের সাথে মিশিয়ে একদম পিষে ফেলতে। কানে হিসহিসিয়ে কিছু বলতে। কিন্তু গ্যাংস্টার বস তো এইটা করতে পারছে না। এই হৃদয়হীন বুকটা কেনো এইসব করতে দিচ্ছে না? নিক খুব সাবধানতার সাথে এনির গালে হাত রাখে। দুই গালে থাপ্পরের দাগ বাজেভাবে ফুটে উঠেছে। ডান গালে কেটে গিয়ে রক্ত শুকিয়ে আছে। সাথে সাথে গ্যাংস্টার বস ঘন ঘন নিশ্বাস টানে। গালে এমন নরমভাবে স্পর্শ করাতে এনি পিট-পিট চোখ মেলে তাকায়। নিক কেমন ভাবে যেন তাকিয়ে আছে। নিকের রিয়্যাকশন এনির বোধগাম্য হলো না। আরেকটু সময় পার হলে হয়ত পশুদের ভয়ে জ্ঞান হারাতো। নিককে এত নিকটে দেখে কপাল কুচকে আসে। এতটা নরমভাবে তাকানোর মানুষ তো নিক জেভরান নয়। নিক এনির ক্ষতস্থানে বৃদ্ধা আঙ্গুল দিয়ে ছুঁয়ে দেয়। এনি ব্যাথায় কেঁপে উঠে। নিকের ব্যবহার কেমন যেন উন্মাদের মত ঠেকছে তার কাছে। এনি ভাঙ্গা গলায় বলে,

” আর আঘাত করবেন না প্লিজ। শারীরিক আর মানসিক আঘাতে আমি দুর্বল হয়ে উঠেছি। সহ্য করার ক্ষমতা আমার নেই।
” একটু বেশি ব্যাথা দিয়ে ফেলেছি, তাই না ব্লাড রোজ?
এনি আচমকা চমকে উঠে। এত নরম কন্ঠ! এই প্রথম শুনলো এনি। নিকের এমন প্রশ্নে অজান্তেই তাচ্ছিল্য হেসে উঠে,
” ব্যাথা কেনো পেতে যাব নিক জেভরান? আমি তো যান্ত্রিক শক্তি দিয়ে চলাচল করা একটা বস্তু। রক্ত -মাংস সৃষ্ট মানুষ নাকি আমি, যে ব্যাথা পাব?
নিক নিশ্বাস টানলো। শ্যাডো আর হান্টারের দিকে তাকায় এক পলক। এনির দিকে তাকিয়ে ঠোঁট কামড়ে উদ্ভুতভাবে হেসে বলে,
” তোমাকে রুমে দেখতে না পেয়ে আমার ভিতরে কেমন তান্ডবলীলা চলেছে একবার যদি সেটা অনুভব করতে পারতে ট্রাস্ট মি ব্লাড রোজ কোনোদিন বার বার পালিয়ে যাওয়ার মত বোকামি করতে না।
থেমে..
” আমি আঘাত করি। কারন আমি খারাপ। আমি উন্মাদ বেবিগার্ল। তর কাছে আসলে আরও উন্মাদ হয়ে যায়। তুই আমার ধ্বংসের সেই মুলমন্ত্র যার সামান্য স্পর্শ পেলে নিজেকে নিজে হারিয়ে ফেলি।
নিকের হিসহিসিয়ে বলা প্রতিটা বাক্য এনির হৃদয়টা নাড়িয়ে তুলে। কিন্তু কেনো জানি কান্না পাচ্ছে। এনি ভাঙ্গা গলায় বলে,

” আমার ভিতরে চলা তান্ডব যদি আপনি একবার অনুভব করতে পারতেন নিক জেভরান, তাহলে সেই আগুনে আপনি নিজেই পুড়ে ছাঁই হয়ে যেতেন।
নিক শুনলো কথাটা। কিন্তু কোনো প্রতি – উত্তর দেখালো না। ঠোঁট কামড়ে ধরে নিচের দিকে তাকায়। দুই হাত দিয়ে মাটি খামছে সরাতে থাকে। উন্মাদের মত নিশ্বাস ফেলছে।এনি বার বার তাকাচ্ছে নিকের ফর্সা মুখশ্রীটাকে। এই সৌন্দর্যের আড়ালে খুব ভয়ানক একজন বাস করে।নিক হান্টার আর শ্যাডোর দিকে ইশারা দিয়ে বলে,
” কাম। মাটিগুলো সরিয়ে দাও। খবরদার মেয়েটার শরীরে যাতে আঘাত না লাগে। আর গর্জন করবে ন একদম।কারন ও ভয় পাবে।
যাকে এনি যমের মত ভয় পায় সেই ব্যক্তির নরমাল ব্যবহার তার হজম হচ্ছে না। হান্টার আর শ্যাডোর সাহায্য নিক সব মাটি সরাতে সক্ষম হয়। কিন্তু এনি রোবটের মত গর্তের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকে।
নিক আদেশ করে বলে,
” উঠে এসো গর্ত থেকে?
এনি আচমকা বলে,

” না মেরে মুক্তি দিচ্ছেন? এতটা ভালো ব্যবহার কেনো করছেন?
নিক ঠোঁট কামড়ে ধরে নিজের। রাগতে চাচ্ছে না এই মুহূর্তে। ঠান্ডা গলায় বলে,
” শাস্তি তো তুমি আরও পাবে বেবিগার্ল। চার দেয়ালের ভিতরে বন্ধী করে রাখি তার একটাই কারন, তোমাকে যাতে কেউ দেখতে না পারে। কেউ যাতে তোমার দিকে তাকিয়ে মোহিত হতে না পারে। কারন নিক জেভরান নিজের জিনিসের ভাগ কাউকে দেয় না। তোমার দিকে আমি ব্যতীত কেউ তাকাতে পারবে না। হোক সেটা চন্দ্র – সূর্যের আলো অথবা মানুষ। কিন্ত নাভিদ নামক পুরুষ তোমাকে দেখেছে। হাত ধরেছে, হয়ত চোখের পানিও মুছে দিয়েছে। যখন এইসব কল্পনা করে ইচ্ছে করে মাথাটা সহ মাটির নিচে চাপা দিয়ে দেয়।
এনি তব্দা লেগে যায়। এতটা সাইকো মস্তিষ্ক কি আল্লাহ নিজে বানিয়েছেন?এনির মাথাটা চক্কর দিয়ে উঠে। ভাবতে গিয়েও শান্তি নেই। ভাবনার মধ্যেই নিক এনিকে আচমকা কোলে তোলে নেয়। এনি সমস্ত ভার ছেড়ে দেয়। এতক্ষন মাটির নিচে চেপে থাকার কারনে পুরো শরীর অবশ হয়ে উঠেছে। ফলে পুরো মাথা চক্কর দিয়ে উঠে। দুর্বল এনি নিজেকে সামলাতে পারে নি। নিকের বাহুতেই জ্ঞান হারায় আবার ও। হান্টার আর শ্যাডো ও চেঁচিয়ে উঠে। মালিকের কাছে কিছু একটা বলতে চাইছে। নিক হয়ত তাদের ভাষা বুঝার চেষ্টা করলো।
তাদের দিকে তাকিয়ে ভ্রুঁ নাচিয়ে বলে,

” এই মেয়েটা হলো সব থেকে বোকা নারী। আবার সব থেকে শক্তিশালীও। পদে – পদে নাস্তানাবুদ করার ক্ষমতা রেখে। এই বোকা নারীর দায়িত্ব আমি তোমাদের উপর ও দিলাম।
শ্যাডো আর হান্টার ফ্যাঁলফ্যাঁল চোখে নিজের বসের দিকে তাকিয়ে আছে। নিক নিজেও খুব দুর্বল। অতিরিক্ত ব্লিডিং হওয়াতে নিজেকে ও খুব দুর্বল মনে হচ্ছে। মাথাটা হঠাৎ ঘুরে আসে। কিন্তু নিক জেভরান অজ্ঞান হয়ে যাবে ব্যাপারটা খুব হাস্যকর। নিক এনিকে নিয়ে গ্লাস মিনারের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। পিছনে দুই পাশ দিয়ে বাঘ আর কুকুর আসছে। যারা গ্যাংস্টার বসের ডান হাত শ্যাডো আর হান্টার। ঘন জঙ্গল থেকে বেরিয়ে গ্লাস মিনারটা ভেসে উঠে। এই মিনার কোনো সাধারন মানুষের জন্য নয়। মিনারের নিচে আছে হাজারও অবৈধ মাল। কত লোকের আর্তনাদের বিনিময়ে ছিনিয়ে নেওয়া জিনিস পত্র।

হাজার – হাজার কালো বাজারের হিসেব – নিকাশ হয় এই মিনারের ভিতরে। কোনো সাধারন লোকের স্থান নয় এইটা। কিন্তু গ্যাংস্টা বস ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে একটা খুব সাধারন মেয়েকে নিয়ে। যার রক্ততে ফোবিয়া আছে। অতিরিক্ত হিংস্রতা দেখলে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে বারংবার। কিন্তু তার ভাষ্যমতে এই মেয়ে মোটেও সাধারন নয়। নিক গ্লাস মিনারে প্রবেশ করে। আঙ্গুল দিয়ে দুইবার শব্দ করতেই মিনারের কাউচ খুলে যায়। লাল – কালার মিশ্রন বাড়িটায় নিঁখুত সাজসজ্জা। এত – সাজের মধ্যে ও কেমন ভয়ানক। এনি যদি এখন এইসব দেখতো তাহলে কি বলত? নিশ্চই ভয় পেত খুব। কিন্তু মেয়েটা নিজের জ্ঞানেই নেই। নিক বড় বড় পা ফেলে সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠে। রুমের কাছে এসে ফিঙ্গার টাচ করতেই দরজা খুলে যায়। ঘরটি অন্ধকারের গর্ভে জন্মানো এক নৃশৃঙ্গ সৌন্দর্য। লাল আর কালোর সংঘশ্রুত রঞ্জিত প্রাচীরমণ্ডল যেন রক্তাক্ত রাত্রির অদৃশ্য প্রতিধ্বনি বহন করে চলেছে। ছাদের কোণে ঝুলে থাকা তীক্ষ্ণ ছায়াগুলো ঘরের প্রতিটি ধাপে নীরব আক্রমণের মতো প্রসারিত। মৃদু আলোয় দীপ্ত গাঢ় লাল কার্পেটটি পদচিহ্ন গোপন রাখে।এখানে আগত মানুষের নাম সময়ও মনে রাখতে সাহস পায় না।

প্রধান প্রাচীরের কেন্দ্রভাগে টাঙানো আছে কালো ফ্রেমের একাকী প্রতিকৃতি।দৃষ্টিতে জ্যোৎস্নাহীন ক্রোধের স্ফুলিঙ্গ। কাঠের তৈরী দীর্ঘ টেবিলটি কাকের ডানার মতো কালো।তার উপর রেখাযুক্ত সুশৃঙ্খল অস্ত্রাদি যেন শৃঙ্খলার আড়ালে লুকানো ঝড়। বাতাসে ছড়িয়ে আছে সিগারের ধোঁয়ার ধূসর সুবাস।ধোঁয়া যেন নীরব ভবিষ্যদ্বাণী করে।
নিক এনিকে নরম লাল বেড সিটের বিছানায় শুইয়ে দেয়। এনির পুরো শরীরে ভেজা মাটি লেগে আছে। তাতে নিক তোয়াক্কা করলো না। বিনা শব্দে রুম থেকে বেরিয়ে যায়। আবার ও আগের মত দরজাটা লাগিয়ে দেয়। এইটা এমন এক দরজা যেটা গ্যাংস্টার বসের স্পর্শ ছাড়া খুলা যাবে না।

গভীর রাত। আকাশ অমাবস্যার দীর্ঘশ্বাসে ঢেকে আছে। আকাশে চাঁদ ও নেই। তারাও নেই। শুধু ক্ষীণ বায়ুর কাঁপা কাঁপা শিসধ্বনি। চারপাশে রিসোর্টের স্থির নৈঃশব্দ্য। দেখে বুঝা যাচ্ছে পৃথিবী নিজেই এক অনন্ত নিদ্রায় তলিয়ে গেছে। দূরে পাহাড়ের কালো ছায়া দাঁড়িয়ে আছে কোনো পুরোনো অভিশপ্ত প্রহরীর মতো। এই অন্ধকারের বুক চিরে শুধু এক জায়গায় আলো। একটি বাংলো
বাংলোটির জানালার কাচে আলো পড়ে অদ্ভুত দীপ্তিহীন দীপ্তি।এক ফোঁটা উষ্ণতা নেই। তবু চোখ সরানো যায় না। ছাদের কিনারায় জমে আছে রাতের শিশির। সেই বাংলোর সামনে দাঁড়িয়ে আছে অধিরাজ। তার ছায়া দীর্ঘ। মাটির উপর টেনে রাখা দাগের মতো যা ছিঁড়ে ফেললেও ফিরে আসে। নীরবতা তাকে গ্রাস করছে। কিন্তু সে স্থির। তবে ভিতরে অস্থির তান্ডব চলছে। তার চোখ ক্রমাগত ঘুরে ঘুরে থামছে এক জায়গাতেই।জানালার সাদা পর্দার দিকে। পর্দার আড়ালে বন্ধ থাকা পৃথিবীটা কোনো অঘোষিত সত্য লুকিয়ে রেখেছে। অধিরাজের নিশ্বাস ভারী। রাতের ঠান্ডা হাওয়া তার গায়ের উপর সরে যাচ্ছে।কিন্তু শিরদাঁড়ায় কাঁপন তুলতে পারছে না।কারণ ভয়ের চেয়ে অপেক্ষা বেশি তীক্ষ্ণ। দু’হাত পকেটে ঢোকানো। কাউচের জানালায় পর্দা একটু নড়ে উঠে। হয়তো বাতাস অথবা অন্য কেউ।
অধিরাজ চোখ না সরিয়ে নিঃশব্দে গলায় লুকানো দীর্ঘশ্বাস ফেলে।

রাত আরও গভীর হয়।বাংলোর আলো আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
আর অধিরাজ এইবার নিজের ধৈর্য হারায়। প্রেয়সীর রাগ ভাঙ্গাতে ছুটে দৌঁড়ে এসেছে প্রেমিক পুরুষ। কিন্তু বোকা প্রেয়সী বুঝতেই পারি নি তার উন্মাদনা। তাই তো এত ফোন দেওয়ার পর ও বোকা প্রেয়সী ফোনটা রিসিভ করছে না। অধিরাজ অধৈর্য হয়ে আরও দুইবার ফোন দেয় তাহ্বীর নম্বরে। কিন্তু বার বার কেটে দেওয়া হচ্ছে। অধিরাজ রাগে চোয়াল শক্ত করে ফেলে। ইচ্ছে করছে ঠটিয়ে কয়েকটা থাপ্পর দিতে। নিজেই তো পিছন – পিছন ঘুরেছে দুই বছর। যে-ই সব কিছু স্বীকার করেছি সেই থেকে শুরু হয়েছে অবহেলা। বালের প্রেম করব এইসব ঘাড় ত্যারার সাথে। অধিরাজের ইচ্ছে করছিলো দেয়াল বেয়ে তানভী-র রুমে ডুকতে। এরপর নিজের রাগ শান্ত না হওয়া পর্যন্ত থাপ্পর দিতে। অধিরাজ রাগে বকবক করতে করতে গাড়ির কাছে যায়। প্রচন্ড শক্তি ব্যয় করে গাড়ির দরজা খুলে। এরপর ড্রাইভিং সিটে বসে রাগে শব্দ করে দরজা লাগায়। গাড়ির স্ট্রিয়ারিং এ শক্ত করে চেপে ধরে আবার ও ফোনের স্ক্রিনে তাকায়। মস্তিষ্কে এক অদ্ভুত চিন্তা আসে। মুহূর্তেই ঠোঁটে বাঁকা হাসি খেলে যায়। নিজেকে কিছুটা নরমাল করে পুনরায় ডান হাতে মোবাইলটা নেয়। এরপর কিছু টাইপ করে সাথে সাথে তানভী-র নম্বরে পাঠায়। অধিরাজ অনেক্ষন তাকিয়ে থাকে মেসেজটার দিকে। প্রায় পাঁচ মিনিট পর মেসেজ সিন দেখায়। অধিরাজ শব্দ করে হেসে উঠে। ঠোঁট কামড়ে ধরে তানভী-র রুমের জানালার দিকে তাকায়। এখন এক তান্ডবলীলা চলবে সেটা অধিরাজের অজানা নয়।
তানভী মেসেজ পড়ে স্তব্দ হয়ে যায়। শরীর কাঁপছে ভীষনভাবে। রক্তবিন্দুগুলো যেন বরফের ন্যায় জমে গিয়েছে। স্ক্রিনে ঝলঝল করছে,

” তানভী- ফোনটা রিসিভ করো জান। এক ঘন্টা আগে বুকে গুলির আঘাত পেয়েছি। তোমাকে দেখতে বড্ড ইচ্ছে করছে।
তানভী- মোবাইলটার দিকে মুখে ধরে শব্দ করে কান্না করে উঠে। পাগলের মত বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ায়।ফোন করতেও ভুলে গিয়েছে। কত বড় ভুল করে ফেললাম আমি। ও হসপিটালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে আর আমি এইদিকে জেদ ধরে বসে আছি। ছিহহহ তানভী! এই ছিলো তর উন্মাদ ভালোবাসা। এই ভালোবাসা দিয়ে শরীরে কলঙ্কের কালিমা লাগাতে চেয়েছিলি। তানভী অপরাধীর ন্যায় ফুপিয়ে উঠে।

যেমনভাবে রুমে ছিলো ঠিক সেই অবস্থাতেই পাগলের মত সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে আসে। সমস্ত মেইড ঘুমিয়ে আছে। পুরো বাংলো তে নিরবতা। তানভী দরজা খুলে উন্মাদের মত সামনে এগিয়ে যায়। নিশ্বাস নিতে পারছে না মেয়েটা ভয়ে। তবে সেই ভয় রাতের নিস্তব্দতার জন্য নয়।সেই ভয় ছিলো প্রেমীক পুরুষকে হারিয়ে ফেলার ভয়। মেয়েটার কান্নার শব্দ আশে – পাশে ও ছড়িয়ে পড়ছে। এতটাই চিন্তিত যে সামনে রাখা গাড়িটাও দেখতে পায় নি। দ্রুততার সাথে নিজের গাড়ির মধ্যে বসতে যাবে এমন সময় কেউ শক্ত ভাবে হাত চেপে ধরে। কান্নার মধ্যে হঠাৎ এমন ভাবে কেউ চেপে ধরাতে সাথে সাথে তানভী-র হেচকী বন্ধ হয়ে যায়। ভয়ে ভয়ে পিছনে ঘুরে তাকায়। কপাল প্রসারিত হয়ে যায়। অধিরাজ রাগান্বিত চোখে তার দিকে তাকিয়ে আছে। অধিরাজের রাগান্বীত লাল চোখ দেখার সময় নেই তানভী-র কাছে। অধিরাজকে সুস্থভাবে কাছে পেয়ে হুট করে ঝাপিয়ে পড়ে তার বুকে। অধিরাজ আগে থেকেই জানত এমন হবে। তাই আর প্রতিক্রিয়া দেখালো না। কিন্তু তানভী-কে দুই হাত দিয়ে আগলেও নিলো না। তানভী কান্না করতে করতে ফুঁপিয়ে উঠে। নাক দিয়ে পানি বের হলে অধিরাজের ব্লেজার দিয়ে পুনরায় মুছে ফেলে। অধিরাজ কপাল কুচকে তাকায় তানভী-র দিকে। মেয়েটার বাচ্চামো দেখে সামান্য হেসে ফেলে। তবে হাসা তার জন্য নিষিদ্ধ। আর সেই নিষিদ্ধতার জারি সে নিজেই করছে। সামান্য এক্সিডেন্টের সংবাদ দিলে এই মেয়ে এতটা ব্যাকুল হয়ে যাবে জানলে অনেক আগেই দিয়ে দিত।তানভীর এমন কান্না দেখে আদ’ও রাগ করা থাকা যায়? অধিরাজ তানভীকে দুই হাত দিয়ে বুকের সাথে মিশিয়ে নেয়। তানভী-র কান্নার গতি আরও বেড়ে যায়। অধিরাজ শক্ত করে চেপে দরে বলে,

” বুকটার সাথে চেপে ধরে একদম পিষে ফেলি?
তানভী- নাক টেনে বলে,
” পিষে ফেললে পুনরায় আপনার বুকের সাথেই মিশে যাব।
অধিরাজ হাসলো সামন্য। ইদানিং সে মাঝে মাঝে হাসে। কোনো গার্ড এইসব দেখলে অনেক মজা নিবে।
” আমার বুকের সাথে যদি মিশতে না দেয়?
” আমার কারোর অনুমতির প্রয়োজন পড়ে না। এই বুকটার মালিক যে, সে আমার। তাই কারোর অনুমতির প্রয়োজন নেই।

” সেই মালিক তোমাকে বুক থেকে বহিষ্কার করছে।
” উহুম করবে না।
” এত বিশ্বাস এই বুকের মালিককে। কিন্তু সে তো তোমাকে এখানে জায়গা দিবে না।
” জায়গা না দিলেও আমি থেকে যাব।
” জোর করে থাকবে?
” প্রয়োজন হলে যুদ্ধ ঘোষণা করব”
” তোমার সাথে যুদ্ধে নামলে নিশ্বন্দেহে হেরে যাব। মানো এইটা তুমি?
” হারবেন কেনো?
” তোমার দৃষ্টির জন্য জান।
” উমমম, সত্যি?

” একবার যুদ্ধের ময়দানে ডেকে দেখো। যখন তলোয়ার নিয়ে সামনা- সামনি দাড়াব তখন সাথে সাথে তোলায়ার হাত থেকে পড়ে যাবে। কারন সামনে দাড়িয়ে থাকা রমনীটি আমার দিকে তাকিয়ে থাকবে। আর তার দৃষ্টি আমার হৃদয়কে থামিয়ে দেওয়ার ও ক্ষমতা রাখে।
তানভীর কান্না কিছুটা কমলো। ফুঁপানোর শব্দ আগের মত আর নেই। কিছু একটা বলতে চাইলো সে। অধিরাজ নরম হাতের স্পর্শ শক্ত করে ফেলে। কোমরটাকে শক্তভাবে চেপে ধরে। বুক থেকে মাথা তুলে ঘাড়ের পিছনে হাত রাখে। অধিরাজের শক্ত স্পর্শে তানভী- নাক – মুখ খিঁচে রেখেছে। অধিরাজ ঘাড়টা পিছন দিয়ে শক্ত করে চেপে ধরে নিজের মুখের কাছে নিয়ে আসে। এরপর কিছুটা রাগ দেখিয়ে বলে,

” ফোন ধরছিলে না কেনো?
তানভী- নাক টেনে বলে,
” আপনি নিজেই তো ডিস্ট্রাব হন।
” আমি বলেছি আমি ডিস্ট্রাব হই?
” কেনো আপনি বলেন নি?
” কখন বললাম এইসব? তোমার ফোনে আমি ডিস্ট্রাব হতে যাব কেনো?
” সন্ধ্যায় তো বললন এত ফোন দিয়ে ডিস্ট্রাব কেনো করছো। ধমকেছেন আর রেগেও কথা বলেছেন।
অধিরাজ তাকালো নিজের অভিমানী প্রেয়সীর দিকে। হাতের বাঁধন নরমাল করলো। দুই গালে চুমু খেয়ে, কোমড়টা চেপে ধরে নিজের সাথে মিশিয়ে নিয়ে বলে,

” এই সামান্য কারনে রাগ করেছো?
” এইটা আপনার কাছে সামান্য?
” একদম। এর আগে – তো কত ধমক দিয়েছি। কই তখন তো এমন গাল ফুলিয়ে রাখতে না। এখন কেনো এইভাবে গাল ফুলাচ্ছো?
তানভী সামন্য হেসে বলে,
” তখন এই পুরুষ আমার ছিলো না। স্বীকৃতি পায় নি আমার ভালোবাসার। এখন পেয়েছি। এই পুরুষটা কেনো বিরক্ত হবে আমার ফোনে? বুঝান আমাকে?
অধিরাজ শান্ত হয়ে শুনলো তানভীর কথা। তানভীর ঠোঁটে শক্ত করে চুমু খেয়ে বলে,

” আমি ব্যস্ত ছিলাম। চাইলেও কিছু বলতে পারব না এখন। তবে এইটা জেনে রাখো বসের নাক দিয়ে ব্লিডিং হচ্ছিলো। একটু উন্মাদ হয়ে উঠেছিলাম। তুমি তো জানো গ্যাংস্টার বস নিক জেভরান আমার জন্য ঠিক কি। সে আমার ভাই তানভী-। একটু টেনশনে ছিলাম তাই ধমকেছি। সরি জান। আর রাগ করে থেকো না।
নিকের নাক দিয়ে ব্লিডিং বের হচ্ছে শুনে তানভী অধৈর্য হয়ে প্রশ্ন করে,
” যদি দুর্বলতা হয় তাহলে আমাকে জানাতে হবে না। জোর করব না আপনাকে। কেমন আছেন উনি?
অধিরাজ চুপ হয়ে যায়। খবর পাওয়া যায় নি এখনও। তবে একটু আগে শুনেছে নিক এনিকে নিয়ে গ্লাস মিনারে গিয়েছে। মেনশনে নিয়ে আসে নি। এনির কথা তানভী-কে জানানো যাবে না। তানভী- জানলে মেহের ও জেনে ফেলবে যে কোনোভাবে। অধিরাজ আনমনে বলে,

‘ ভালো এখন।
— এই সংবাদ ভুলেও মেহের যাতে জানতে না পারে।
অধিরাজ সম্মতি জানিয়ে বলে,
” হুম।
তানভী আচমকা কপাল কুচকে বলে,
” আপনি তো একদম ঠিক। আমাকে মিথ্যে বলে এতটা নাস্তানাবুদ কেনো করলেন?
” তুমি আসছিলে না তাই?
— আচ্ছা?
” হ্যা। ফোন ধরছিলে না আমার। উপায় না পেয়ে নাটক করতে হয়েছে। জানতাম এমন মেসেজ দেখলে আর এড়িয়ে যেতে পারবে না।
তানভী রাগ দেখিয়ে বলে,
” খুব খুশি হয়েছেন আমাকে অশান্ত দেখে। জানেন কেমন অবস্থা হয়েছিলো আমার? নিশ্বাস আটকে এসেছিলো।
অধিরাজ তানভীর রাগী মুখটার দিকে তাকিয়ে ঠোঁট কামড়ে হেসে বলে,
” আমাদের সংসার না হওয়া অব্দি আমার মরন না হোক জান। তোমার সাথে অনেক পথ হাটা বাকি।

অচৈতন্যের অন্ধকার গহ্বর থেকে এনি যখন ধীরে ধীরে চেতনার পাতালে ফিরে আসে। প্রথমেই তার দৃষ্টি ছিন্নবিচ্ছিন্নভাবে এক অচেনা ঘরের অসীম নীরবতাকে উপলব্ধি করে। চারপাশের প্রাচীরসমূহ রক্তিম-অন্ধকার লালের উপরে কালো ছোপের আচ্ছাদনে সজ্জিত। যেন কোনো অগ্নিদগ্ধ রাত্রির উদ্দেশ্যহীন হাহাকারের দাগ। বাতাস স্থির হয়েছে। কেমন ভারী মনে হচ্ছে সব কিছুকে।
শ্বাস নিতেই মনে হয় বুকে অদৃশ্য শৃঙ্খল জড়িয়ে আছে। মেঝের উপর ছায়াগুলোর অনুপ্রবাহ সচেতন। যে প্রতিটা দেয়াল এনি’কে দেখছে। পর্যবেক্ষণ করছে গভীরভাবে। পরিমাপ করছে।
এনি ভয়ে বিছানার চাদর খানা – খামছে ধরে। এই রুমটা তার পরিচিত নয়। তবে বুঝতে বাকি নেই নিক জেভরানের আস্তানা এইটা। কোথায় আছে সে? কোথায় এনে রাখা হয়েছে তকে? আগের মতই লাল- কালোর মিশ্রণে সব কিছু। এনি ভয়ে শিউরে উঠে। শরীর হাড়ভাঙা যন্ত্রণায় আক্রান্ত। পেশীসমূহ অতিরিক্ত সংকোচনে দুর্দম ক্লান্ত।
মাথার কপাল-প্রান্তে ধুকধুক ব্যথার স্পন্দন প্রবল।

যা রক্তপ্রবাহের সাথে সাথে যন্ত্রণা ও আতঙ্কের ঢেউ সৃষ্টি করছে। চোখ দুটো শুষ্ক হয়েছে। দৃষ্টির মাঝে
অন্ধকারের রেখার পর রেখা দেখা দেয়। এনির শ্বাস খণ্ডিত হয়ে আসে। নিঃশ্বাস নিতেও ভয় হচ্ছে। প্রতিটি নিঃশ্বাস বুকের গভীরে আঁকড়ে থাকা ভয়কে উসকে দেয়।এনি এইটুকু বুঝতে পেরেছে, ঘরটি সম্পূর্ণ বদ্ধ। দরজাটি ধ্বনিহীন লোহার স্থিরতায় দাঁড়িয়ে আছে। যেন কোনো অনড় আদেশের প্রতীক।
জানালাও নেই। পালানোর পথ নেই। আকাশ নেই।
এনি চেষ্টা করে উঠে বসতে।
কিন্তু শরীরে আর পিঠে তীব্র ব্যথার শিখা যেন মেরুদণ্ডের সোপানে আগুন ধরিয়ে দেয়।
গলা শুকনো আছে। শব্দ উঠে আসে না গলা দিয়ে।
কেবল পর্বতের নিচে চাপা পড়া নিঃশ্বাসের মতো কাঁপা শব্দ। এনির স্মৃতি ধীরে ধীরে গাঢ় কুয়াশার ভেতর থেকে ফিরে আসে। গ্যাংস্টার বস নিক জেভরানের মুখ। তার চোখের নির্মম, নিরাবেগ, তীক্ষ্ণ শীতল দৃষ্টি।

রাতের শেষ প্রহর। সমগ্র পৃথিবী ক্লান্ত নিদ্রায় আবদ্ধ হয়ে আছে। আর সেই নিস্তব্ধতার মধ্যে
এনি একা বসে আছে। বর্তমানে নিজের আতঙ্ক, যন্ত্রণা ও অজানা পরিণতির পুর্র্বাভাসের মুখোমুখি হয়ে আছে। এনির হৃদস্পন্দন ভয়ে অব্যাহত দ্রুততায় বুকে আঘাত হানে। যেন শরীর নিজেই চিৎকার করছে। কিন্তু কণ্ঠরোধে সেই চিৎকার জন্মেই নির্বাক হয়ে যায়। এনি সামাম্য পিঠ সোজা করে বসার জন্য চেষ্টা করে। পুরো শরীরে মাটি লেগে আছে বুঝতে বাকি নেই। শরীর কেমন খুঁত-খুত করছে। পুরো শরীর অবশ হয়ে আছে। সামান্য নাড়ানোর শক্তি টুকু সে পাচ্ছে না। কথা বলতে পারছে না গাল, ঠোঁট ব্যাথা করছে। এনি ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠে। অসহ্য লাগছে নিজের কাছে নিজেকে। ইচ্ছে করছে শরীরটাকে কেটে টুকরো- টুকরো করে এই যন্ত্রনার অবসান ঘটাতে। হঠাৎ দরজা খুলার শব্দে এনি পাথরের মত জমে যায়। ভয়ে হৃৎপিন্ডটা কেঁপে উঠলো।

কে আসলো ভিতরে? নিক নাকি অন্যকেউ? এনি ঠোঁট কামড়ে ধরে বুঝের চেষ্টা করে। ডিম লাইটের আলোতে মুহূর্তে একটা মুখ ভেসে উঠে_নিক জেভরান। নিককে দেখে এনি স্বস্থির নিশ্বাস ফেলে। যাক অন্য কেউ আসে নি। কিন্তু স্বস্থির নিশ্বাস ফেলছে কেনো সে? এই লোকটা’ই তো সকল অস্বস্থির কারন। এনি এই নিশ্বাসের মানে বুঝলো না। আচমকা নাকে খুব বাজে একটা গন্ধ আসে। মনে হচ্ছিলো এই বুঝে পেট উল্টিয়ে সব চলে আসবে। এনি নাক চেপে ধরে শক্ত করে। নিক এনির একদম কাছে আসে। বিছানায় খুব সাবধানতার সাথে বসে। এনিকে কাচুমুচু করতে দেখে নেশালো চোখে তাকায়। এনির শরীরে রাখা ওড়নাটা তা পছন্দ হলো না। ওড়না কেনো পড়বে ওর সামনে? সে কি বাহিরের পুরুষ নাকি? নিক রাগে ওড়নায় ধরে। এরপর প্রগাঢ় ক্ষুব্দতার সাথে হেচকা টানে নিয়ে এসে মেঝেতে ফেলে দেয়। নিকের এমন কান্ডে এনি হতভম্ভ হয়ে যায়।

এনি উন্মুক্ত বক্ষ ঢাকার জন্য মরিয়ে হয়ে উঠে। নিক এনিকে হেচকা টানে নিজের কাছে নিয়ে আসে। শরীর এমনিতেই ব্যাথায় জর্জরিত। তার উপর এমন টানে এনির জান যায় অবস্থা। নিক এনির গলার তিলটার দিকে তাকায়। সেখানে প্রায় দুইমিনিট তাকিয়ে থাকে। এরপর শক্ত করে চুমু খায় কয়েকটা। এনি অস্বস্তিতে চোখ – মুখ খিঁচে ফেলে। ওয়াইনের তীব্র গন্ধ সে এমনিতেও সহ্য করতে পারছে না। এনি নিককে ধ্বাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিতে চাইলো। কিন্তু এক চুল ও নাড়াতে পারে নি। নিক এনির কোমড়টা চেপে ধরে সম্পূর্নভাবে গলায় মুখ ডুবিয়ে দেয়। হিসহিস করে বলে,
” তোমার শরীরে এক অদ্ভুত মাদকতা আছে ব্লাড রোজ। যে মাদকতায় আমি বার বার কন্ট্রোলল্যাস হয়ে পড়ি।
নিকের হিসহিসিয়ে কথা বলা এনির সর্বাঙ্গ কাঁপিয়ে তুলে। এই মুহূর্তে সে ওয়াইনের গন্ধ সহ্য করতে পারছে না। নিককে সরাতে না পেরে ছটফটিয়ে উঠে,

” চিতা বাঘ, দুরে সরুন আমার থেকে।
এনির ছটফটানিতে নিকের চুমু খেতে অসুবিধে হচ্ছে। এনির দিকে তাকিয়ে শক্ত গলায় বলে,
” ছটফট করছো কেনো করছো? মারছি নাকি চাবুক দিয়ে রক্তাক্ত করছি। সামান্য আদর এইতো করছি।
এনি ভ্রুঁ নাচিয়ে বলে,
‘” নরমাল ভাবে স্পর্শ করতে পারেন কখনো? এমন ভাবে চেপে ধরেন যেন হাড়-গুঁর ভেঙ্গে যাবে। সরুন প্লিজ।
নিক মাতাল হয়ে আছে ঠিক। কিন্তু একটু হলেও হয়ত হুঁশে আছে। এনির গালটা চেপে ধরে বলে,
” রিজেক্ট করা আমার একদম পছন্দ নয়।
আমার চাওয়াটাই রক্তাক্ত বেবিগার্ল। নরম ভাবে আমি ছুঁতে পারি না। আমার স্পর্শ মানেই রক্তমাখা। আর সেটা গ্রহন করতে বাধ্য। একদিন এই স্পর্শ পাওয়ার জন্য তুমি উন্মাদ হয়ে উঠবে।
এনি কিছু বলতে গিয়েও থেমে যায়। আর সহ্য করতে পারছে না এই গন্ধ। যে কোনো সময় বমি চলে আসবে।
এনি নাক চেপে ধরে বলে,

” আমার সামনে থেকে সরুন আফ্রিকার জেব্রা। বমি চলে আসছে আমার।
নিক কপাল কুচকে বলে,
” প্রেগন্যান্ট মহিলারা বমি করে। তুমি বমি করতে যাবে কোন দুঃখে?
এনি বিরক্তি নিয়ে চোয়াল শক্ত করে বলে,
” বাহহ! অসামাজিক পরিবেশে থেকেও এইটার ধারনা আছে দেখছি। যেই দুঃখে ওয়াইন গিলে এসে আমার সামনে বসে আছেন সেই দুঃখে বমি করব আমি।
নিক ঠোঁট কামড়ে ধরে এনির দুর্বল মুখটার দিকে তাকায়। পেটের দিকে তাকিয়ে বলে,
” তুমি প্রেগনেন্ট হচ্ছো না কেনো এখনও?
এনি সামান্য ঢোক গিলে। চিত্রা মাসি কিছু মেডিসিন এনে দিত তাকে। তার রুমে গিয়ে এনি প্রতিদিন একটা করে খেয়ে আসত। আর যায় হোক এই হার্টল্যাস চিতাবাঘের সন্তান সে নিজের মধ্যে ধারন করবে না। এনি নিজেকে স্বাভাবিক করে বলে,

” প্রেগন্যান্ট হতে যাব কোন দুঃখে আমি?
নিক চোখ মেলে রাখতে পারছে না। অতিরিক্ত ওয়াইন খেয়ে ফেলেছে আজ। গ্যাংস্টার বস তো প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ড্রিংক্স করে না। তাহলে আজ কেনো করলে সে? মাতাল কিভাবে হয়ে গেলো? নিক ঠোঁটে ঠোঁট চেপে কিছুক্ষণ এনির দিকে তাকিয়ে থাকে। এরপর বিরক্তি নিয়ে বলে,
” রাত জেগে শক্তি অপচয় করে আদর – সোহাগ তো কম দেয় নি। দুঃখে প্রেগন্যান্ট হতে যাবে কেনো? আজকাল সাইন্স ভুল হয়ে যাচ্ছে। যা, যা প্রয়োজন সব এই তো করলাম। এতদিনে তো হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু তুমি হচ্ছো না কেনো?
নিকের এমন কথায় এনি হতভম্ভ হয়ে যায়। না চাইতেও লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেলে। খারাপের সাথে এত ঠোঁট কাটা কেনো এই লোক। এনি সামান্য রাগী গলায় বলে,

” অসভ্য কথা বন্ধ করুন। নির্লজ্জ লোক।
নিক অদ্ভুতভাবে হেসে বলে,
” তোমাকে আগেও বলেছি বেবিগার্ল। প্রচন্ড নির্লজ্জ আমি। তোমার ভাবনার থেকেও বেশি নির্লজ্জ। আই রিপিট প্রচন্ড নির্লজ্জ। তোমার গর্ভে আমার অস্তিত্ব থাকবে।
” আমি মানুষ হয়ে নরপশুর অস্তিত্ব নিজের গর্ভে ধারন করতে যাব কেনো?
কথাটা কর্ণে প্রবেশ কতেই নিক এনির গলা চেপে ধরে গর্জে উঠে,
” হুয়াট রাবিশ! কি বললে তুমি?
এনি ধমকের সাথে কেঁপে উঠে। মাতাল হয়ে আছে তবুও গলার জোর কমে নি। গলায় ব্যাথা পাচ্ছে এনি। নিক শক্ত করে চেপে ধরে আছে। এনি নাক – মুখ কুচকে বলে,

‘ ছাড়ুন ব্যাথা পাচ্ছি।
নিক সাথে সাথে ছেড়ে দিলো। এনি প্রচুর অবাক হয়। পরে মনে হয় এই লোক তো এই মুহূর্তে নিজের মধ্যে নেই। তাই হয়ত ছেড়ে দিয়েছে। এনি গলা কেঁশে উঠে,
” বাচ্চার জন্য এত দেওয়ানা কেনো হয়েছেন?
নিক এনিকে নিজের সাথে মিশিয়ে নিয়ে বিছানায় শুইয়ে পড়ে। বুকের সাথে শক্ত করে চেপে ধরে। এনির কানের নিচে চুমু খেয়ে বলে,
” যাতে তুমি কোনোদিন আমাকে ছেড়ে যেতে না পারো ব্লাড রোজ। কতদিন আটকে রাখব তোমাকে? আজ দৃষ্টি সীমানার ভিতরে আছো বলো খুঁজে পেয়ে যাচ্ছি। কিন্তু কেউ যদি ইচ্ছে করে হারিয়ে যায় তাহলে তাকে কেউ খুঁজে পাওয়া যায় না। বাহিরে প্রচুর শকুনের চোখ আছে। তোমাকে ছিঁড়ে ফেলতে পাগলা কুকুরের মত হয়ে আছে। এইবার পালিয়েছো। একই ভুল আর করো না। তোমাকে আরও আঘাত করতে চেয়েছিলাম। সারারাত সেই জঙ্গলে বন্ধী করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পারি নি। এই প্রথম নিক জেভরান নিজের নেওয়া সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে। কায়াত ঠিক এই বলতো,

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ২৯

পুরো সম্রাজ্য আমি শাষন করলেও আমাকে শাষন করছে একজন মেয়ে।
নিকের হিসহিসিয়ে বলা প্রতিটা কথা এনি মনযোগ দিয়ে শুনে। বুক চিঁড়ে এক চাপা আর্তনাদ বেরিয়ে আসে,
” আজ মাতাল না হলে তো কোনোদিন জানতেই পারতাম না। নিজের সন্তানের মা বানিয়ে আজীবনের জন্য বন্ধিনী করতে চাইছেন। কেনো বার বার পালিয়ে যায় সেটা নিজেকে নিজে প্রশ্ন করবেন নিক জেভরান। এত কিছুর পরও আপনার মত একজন হর্টল্যাস ব্যক্তির সাথে শান্তিতে নিশ্বাস নেওয়া যায়? আপনি নিতে দিচ্ছেন?

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৩০