obsession vs love part 16
নিরুর কল্পনারাজ্য
ঝিলিক চলে গিয়েছে–কথাখানা মস্তিষ্ক ধরতে পেরেই আইয়ুশ যেনো দিশেহারা হলো। চটজলদি ঘড়ির পানে তাকালো। কটা এখন? পাঁচটা দশ! অস্থির গলায় আব্দুল্লাহ কে শুধালো আইয়ুশ,
—কখন বেরিয়েছিলো?
—এই পাঁচটা নাগাত!
আইয়ুশ কিছু না বলে দ্রুতপায়ে বেরিয়ে যায়। বাড়ির সবাই হতবাক। কোথায় যাচ্ছে ওরা চারজন? নির্ঝর অবাক কন্ঠে বলে,
—যাহ শালা! কাহিনীতে দেখি নতুন মোড়।
মালিহা বেগম চেঁচিয়ে উঠলেন,
—আব্বু, কোথায় যাচ্ছো তুমি?
আইয়ুশ উত্তর দেয়না। গটগট পায়ে বেরিয়ে যায় এই ভোরেই।
ঝিলিক সকাল থেকে না খাওয়া। শাহদাদ মির্জা বলেছেন এয়ারপোর্টে গিয়ে যেনো অবশ্যই কিছু খেয়ে নেয়। ইচ্ছে করেই দেড়িতক বেড়িয়েছে তারা। ওসমান মির্জা আগে থেকেই ইমিগ্রেশন অফিসারের সাথে তিনি কথা বলে রেখেছেন আগে থেকে। আপাতত তিন বাবা মিলে তাকে বোঝাচ্ছে সে এব্রোডে গিয়ে কীভাবে থাকবে। শাহমীদ মির্জা বললেন,
—দেখো মা, যখনই মনে হবে–এবার তোমার ফেরা প্রয়োজন; তুমি ফিরে আসবে। কে কী ভাবলো তা তোমার ভাবার প্রয়োজন নেই। সবসময় মনে রাখবে, আমরা তিন বাবা তোমাকে সবসময় আগলে রাখবো।
ঝিলিক মৃদু হাসে। ওসমান মির্জা সম্মতি জানালেন। এই তিনজন ভালোবাসার মানুষ সাথে থেকেও ঝিলিক ওই একটা মানুষের শূণ্যতা খুব করে অনুভব করলো। ‘আইয়ুশ মির্জা’ – শেষবার যাওয়ার পূর্বে যার চেহারাও তার দেখা হয়নি। আর কখনো দেখতে পাবে? হয়তো যখন দেখতে পাবে ততদিনে ঝিলিকের তাকে আর দেখতে ইচ্ছে করবেনা। ঝিলিক তাচ্ছিল্যের সহিত মৃদু হাসির রেখা টানে। কাচের জানালা ভেদ করে সকালের দৃশ্যে মনোনিবেশ করে। প্রভাতের স্নিগ্ধ-মনোরম ছবিতে নিজের কষ্ট উজাড় করে ঠোঁট নাড়ে রমণী,
—কখনো কখনো সত্যটা আমাদের মস্তিষ্ক আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেও আমাদের হৃদয় মানতে নারাজ হয়। আর আপনি আমার সেই ভালোবাসা যাকে মস্তিষ্ক অপরাধীর কাঠগড়ায় দাঁড় করালেও হৃদয়ে আপনি লালিত রয়েছেন এখনো কৈশোর বয়সের সেই প্রথম প্রেম রূপে!
আচমকা গাড়ি ব্রেক কষলো। আচমকা গাড়ি ব্রেক কষায় চারজনই কিছুটা সামনে ঝুঁকে গেলো। শাহদাদ মির্জা তড়িঘড়ি করে মেয়েকে ধরলেন। চিন্তিত আদলে শুধালেন,
—আম্মু? ঠিকাছো তুমি?
ওসমান মির্জা ড্রাইভারকে ধমকে উঠলেন,
—কী সমস্যা? এভাবে গাড়ি চালাচ্ছো কেনো?
ড্রাইভারের মুখ কালো হয়ে গেলো। বললো,
—জানিনা স্যার, সামনে বহুত লম্বা লাইন। ট্রাফিক দেখুন, আশেপাশে সব গাড়ি আটকে আছে।
শাহমীদ মির্জা পেছনের উইন্ডো সিটে বসেছিলেন। মাথা বের করলেন তিনি। আসলেই তো। অনেক লম্বা লাইন। চিন্তিত আদলে তিনি আদেশ করলেন,
—যাও তো, গিয়ে দেখো তো কিসের লাইন। কী হয়েছে।
—ওকে স্যার।
ড্রাইভার বেরিয়ে গেলো। মিষ্টি রোদে কুঁচকানো মুখে গিয়ে এদিক সেদিক কয়েকজনের কাছ থেকে খবর নিলো। ফিরে এসেই তা আবার চারজনের মাঝে উগড়ে দিলো,
—স্যার,ওখানে পুলিশের চেকপোস্ট চলছে। বহু লম্বা লাইন। সম্ভবত দু’তিন ঘন্টা লেগে যাবে।
ঝিলিক ভ্রু কুঁচকালো। বললো,
—এতোক্ষণ? তাহলে তো আমার ফ্লাইট মিস হয়ে যাবে বাবা।
ঝিলিক চিন্তিত হলো। শাহদাদ মির্জাও চিন্তিত হলেন। ওসমান মির্জা বললেন,
—আমি দেখছি ব্যাপারটা। দাঁড়াও!
ওসমান মির্জা জরুরি ভিত্তিতে কাওকে ফোন করলেন। ওপাশ থেকে কল রিসিভ হতেই তিনি জোর গলায় বলতে আরম্ভ করলেন,
—অফিসার, গুলশান ২ সার্কেলে এতো জ্যাম কিসের? চেকপোস্ট কী কারণে বসানো হয়েছে?
ওপাশ থেকে কী বলা হলো শোনা গেলো না। এপাশ থেকে ওসমান মির্জা বললেন,
—কোনোভাবে কিছু করা যায়না?
যাবেনা? আচ্ছা, আচ্ছা! বুঝেছি অফিসার। থ্যাঙ্কিউ!
ফোন কাটলেন তিনি। কুঁচকানো ভ্রুতে তিনি পেছনে বসা তিনজনকেই উদ্দেশ্য করে বললেন,
—উপরতলা থেকে নাকি অর্ডার এসেছে চেকপোস্টের। আমার ও কিছু করার নেই। আইনের কাজে হস্তক্ষেপ করলে হিতে বিপরীত হতে পারে।
ঝিলিক আপসেট হয়ে পড়লো। কেনো সৃষ্টিকর্তা বারংবার ওর পরীক্ষা নিচ্ছেন? শাহমীদ মির্জা আর শাহদাদ মির্জাও চিন্তিত হয়ে পড়লেন। ঝিলিক সময় দেখে নিলো। বাজে তখন মোটে ৫:৩০। বাবার কাধে মাথা রেখে পড়ে রইলো ও। সাতটার ফ্লাইট। খুব করে আল্লাহ কে ডাকলো যাতে ফ্লাইট মিস না হয়। ধীরে ধীরে সময় পেরোলো। যান-জট ছুটলো না। অদ্ভুত! আজ হঠাৎ করে এমন ট্রাফিক হয়ে গেলো কীভাবে? দেখতে দেখতে সময় পেরোলো। অস্থিরতায় ঝিলিকের শরীর খারাপ হতে শুরু করলো। গ্রীষ্মের অসহ্য গরম সাথে পেটে কিছু না থাকার কারণে বমি করতে আরম্ভ করলো ঝিলিক। ঝিলিকের শরীর খারাপ থেকে অস্থির হলেন তিনজনই। শাহদাদ মির্জা মেয়ের কন্ডিশন দেখে চিন্তিত গলায় শুধালেন,
—একি! শরীর খারাপ করছে মামণি? বেশি খারাপ লাগছে?
শাহদাদ মির্জা দিশেহারা হলেন। গাড়ির প্রচুর বড় লাইন। এখন কিছু করতে পারা অসম্ভব। তিনি মেয়েকে নিয়ে দ্রুত বেরোলেন। বাহিরের উত্তাপ উপেক্ষা করে গাড়ির সারি পেরিয়ে তিনজনই দূর্বল ঝিলিককে নিয়ে অতিধীরে একপাশে এসে দাঁড়ালেন। শাহমীদ মির্জা কোথা থেকে মিনারেল ওয়াটারের বোতল কিনে আনলেন। ঝিলিক তখন বমি করার কারণবশত দূর্বল প্রায়। তিনি ঝিলিককে সরাসরি পানি খাওয়ালেন। ওসমান মির্জা তাড়াহুড়োয় সেখানে থাকা অটো ডাকলেন। তিনজনই উপায়ন্তর না পেয়ে ঝিলিককে নিয়ে বাড়ি ফিরলেন। বাড়িতে ফিরতেই সকলের নজর তাদের তিনজনের ওপরে গেলো। আইয়ুশ সেখানে উপস্থিত ছিলোনা। সে ছাড়া বাকিসকলেই সেখানে। তিয়া-তোতা-ঐশী তাড়াহুড়ো করে ঝিলিককে গিয়ে ধরলো। শাহদাদ মির্জার কাছ থেকে নিয়ে সোফায় বসালো। চৈতী বেগম দ্রুত এলেন। সাথে সাঁঝও। চৈতী বেগম চিন্তিত আদলে বললেন,
—কী হয়েছে ওর? ওর এই অবস্থা কেনো!
ঝিলিক বলার চেষ্টা করলো–ও ঠিক আছে। অথচ ওর স্বর যেনো আটকে আসছে। দূর্বলতায় কথা বলতে পারলো না। নির্ঝর এসে দ্রুত ওকে পানি খাওয়ালো। শাহদাদ মির্জা ডক্টরকে কল লাগালেন। সাঁঝও ব্যস্ত হলো বোনকে নিয়ে। মুহূর্তেই হুলস্থূল কান্ড বেজে গেলো। কিছুক্ষণের মাঝেই ঝিলিক জ্ঞান হারালো। আইয়ুশ এতো হুলস্থুল নিচে নেমে এলো। ঝিলিকের অমন ফ্যাকাশে মুখশ্রীতে তার হৃদয় কেঁপে উঠলো। ও ফিরেছে কিছুক্ষণ আগে। সবে কাজা নামাজ সেরে উঠেছে সে। আজ কোনো এক কারণে নামাজ পড়ার সুযোগ হয়নি তার। ফলস্বরূপ গায়ে এখনও সাদা পাঞ্জাবি। আইয়ুশ দ্রুত পায়ে এগিয়ে এলো। সবাইকে উপেক্ষা করে বললো,
—কী হয়েছে ওর?
শাহদাদ মির্জা ঘাবড়ে গিয়ে বললেন,
—মেয়েটা না খেয়ে বেরিয়েছিলো; অতিরিক্ত গরমে অসুস্থ হয়ে পড়েছে বোধহয়!
আইয়ুশ আর একমুহূর্ত দেরি করেনা। দ্রুত পদক্ষেপে গিয়ে নিজের বলিষ্ঠ বাহুতে ঝিলিকের নাজুক দেহ উঠিয়ে নিলো। ঝিলিকের হুশ নেই। নয়তো এমন কাজ কখনোই হতো না; সে হতে দিতো না। আইয়ুশ দ্রুত পায়ে যেতে যেতে বললো,
—মেঝো আব্বু ডাক্তারকে কল করো; মেঝো মা তুমি জুস নিয়ে এসো। কিছু খাওয়াতে হবে আগে ওর জ্ঞান ফিরলে।
আইয়ুশের পেছন পেছন ঐশীরাও আসলো। সাঁঝ গেলো ঝিলিকের জন্য জুস বানাতে। সিঁড়ির কাছে আসতেই ঝিলিকের হালকা জ্ঞান দেখা দিলো। সে যে আইয়ুশের কোলে তা বুঝতে পেরেই দূর্বল অথচ দৃঢ় কন্ঠে ফিসফিসিয়ে বললো,
—নামান, নামান বলছি আমাকে!
—কথা বলো না ঝিলিক।
আইয়ুশ কড়া সুরে আদেশ দিলো। ঝিলিক বললো,
—আপনার নোংরা হাতগুলো দিয়ে আমাকে স্পর্শ করবেন না; আমার নিজের প্রতি ঘৃণা জন্মায়।
চলতে চলতে পা থমকায় আইয়ুশের। একবার ঝিলিকের মুখশ্রীর পানে চোখ রাখে। বলে,
—ঘৃণা তো তো আমার প্রতি তাহলে নিজেকে কষ্ট দিয়ে সবাইকে হয়রানির মধ্যে ফেলার কারণ কী?
তবে ঝিলিকের কানে এসব যায়না। সে ততক্ষণে তার সম্পূর্ণ জ্ঞান হারিয়েছে। আইয়ুশ চলতে শুরু করলো। ওর দিকে তাকালো। মনে মনে বললো,
—ঘৃণা করো আর যাই করো–আজীবন তোমায় আমারই থাকতে হবে ঝিলিক। তোমার ঘৃণার ভাগটুকুও অন্য কাওকে দিতে রাজি নই আমি!
ঝিলিককে নিয়ে তার রুমে নিয়ে যাওয়ার পরপরই ডক্টর আসে। ডক্টর এসে তার চেকআপ শুরু করে। গম্ভীরমুখে তার কাজ সেরে স্টেথোস্কোপ কান থেকে নামান তিনি। সকলেই সেখানে উপস্থিত রয়েছে। আইয়ুশ তড়িতে শুধায়,
—ডক্টর, ইজ শি ফাইন?
—শি ইজ এবসোলিউটলি ফাইন। শুধু একটু বেশিই দূর্বল। সময়মতো খাওয়াবেন। আর কয়েকটা ওষুধ দিচ্ছি। আর বেশি দূর্বল হয়ে পড়লে স্যালাইন দিতে হবে।
আইয়ুশ সব শুনলো গাম্ভীর্যতা নিয়ে। শাহদাদ মির্জা চিন্তিত আদলে শুধালেন,
—বাকি সবকিছু ঠিকঠাক তো?
—হ্যাঁ, সবই ঠিকঠাক।
অতঃপর তিনি বললেন সবকিছু গোছাতে গোছাতে,
— আজ তবে উঠি।
ওসমান মির্জা ওনাকে এগিয়ে দিতে গেলেন। আইয়ুশ সকলের উদ্দেশ্যে বললো,
—ভীড় করোনা তোমরা বেশি; মেঝো মা তুমি থাকো। মেঝো বাবাও থাকো। সাঁঝও চাইলে থাকতে পারো। বাকিরা বেরিয়ে যাও। ওর এখন রেস্টের প্রয়োজন। এভাবে ভীড় করে থাকলে হবেনা।
তিয়া-তোতা-ঐশী-নির্ঝর বড়দের মাঝে উঁকিঝুঁকি দিয়ে দেখছে সবটা। ঝিলিকের তখন একটু একটু জ্ঞান ফিরেছে। প্রথমে সে বুঝে উঠতে পারলোনা কী হচ্ছে। সে কোথায়! দু’ একমিনিট পর ঠিক-ই মস্তিষ্ক তাকে সব মনে করিয়ে দিলো। ঝিলিকের জ্ঞান ফিরেছে দেখেই চৈতী চৌধুরী উদ্বীগ্ন হলেন। বললেন,
—মা, এখন কেমন লাগছে?
ঝিলিক দূর্বল হাতে মায়ের গালে হাত রেখে বললো,
—আমি ঠিক আছি মা।
আইয়ুশ বেরিয়ে গেলো-ঝিলিকের জ্ঞান ফেরার কথা শুনেই। ঝিলিকের তা দৃষ্টিগোচর হয়না। এক এক করে সকলেই একটু-আধটু কথা বলে বেরিয়ে গেলো। বাকি রইলো সাঁঝ-চৈতী চৌধুরী আর শাহদাদ মির্জা। চৈতী চৌধুরী স্বামীর পানে ফিরেও চাইছেন না। তিনি করুণ কন্ঠে মেয়েকে শুধালেন,
—মা কী তোমার কাছে এতোটা পর হয়ে গেলো তুমি মাকে না জানিয়ে চলে যাচ্ছিলে?
তিনি প্রায় কেঁদে ফেললেন। সাঁঝ এসে বোনকে বুকের মাঝে জড়িয়ে ধরলো। বললো,
—ছোট থেকে একসাথে বড় হয়েছি; আর তুই কিনা আমার কথাও ভাবলি না, মণি?
ঝিলিক নিরুত্তর রয়; জবাব দেওয়ার মতো তার কাছে কোনো কথা-ই নেই। শুধু ফিসফিসিয়ে বললো,
—স্যরি, মা!
—আচ্ছা, সব বাদ। আগে খেয়ে নে তো মণি। নয়তো শরীর খারাপ করবে আবারও!
সাঁঝ ঝিলিকের জন্য তৈরি করে আনা আমের জুস সাথে সেদ্ধ ডিম তার দিকে এগিয়ে দিলো। ঝিলিক নাক মুখ কুঁচকালো। এই সাতসকালে তার এসব খাওয়ার মোটেই ইচ্ছে নেই। তাছাড়া ঘরে বসে থাকতেও তার মোটেই ভালো লাগছেনা। তাই সে বললো,
—এসব ভালো লাগছেনা, আপু আমাকে একটু বাগানের দিকটা নিয়ে যাও। ওখানেই নাহয় খেয়ে নেবো। আর এসব দিবেনা একদমই।
অতঃপর চৈতী বেগমের উদ্দেশ্যে বললো,
—মা, তুমি বাবার ওপর একদম রাগবেনা। আমিই যেতে বাবার কাছে জেদ ধরেছিলাম। আর তুমি ঝটপট আমার জন্য তোমার হাতের পরোটা আর আলুর দম বানিয়ে নিয়ে এসো তো। যাও, যাও!
চৈতী চৌধুরী মেয়ের কথায় গোমড়ামুখে তাকালেন স্বামীর পানে। তিনি আপাতত চোরা চোখে স্ত্রীর পানে চেয়ে। চৈতী চৌধুরী কিছু বললেন না। হেসে মেয়েকে বললেন,
—আনছি!
অতঃপর সাঁঝ ঝিলিককে ধরে করিডোর বেয়ে নিচে নামা শুরু করলো। মেইন গেইটের কাছে এসে আইয়ুশের সাথে দেখা হলো দুজনেরই। সাঁঝ আইয়ুশকে দেখে মিষ্টি হাসলো। ঝিলিক তাকালো। তবে তার মাঝে কোনোরকম অনুভূতির সৃষ্টি হলোনা। আইয়ুশ ঝিলিকের ওষুধগুলো আনতে গিয়েছিলো। হাতে তার সেসব ওষুধ। সাঁঝ আইয়ুশকে দেখেই বললো,
—আপনি ওষুধ আনতে গিয়েছিলেন? ভালো করেছেন। এক কাজ করুন, একটু ওকে নিয়ে বাগানের দিকটায় যান। আমি একটু ওর জন্য ততক্ষণে চা বানিয়ে আনছি। মেইড সবাই এখন খাবার বানাতে আর সকালের সব কাজ করতে ব্যস্ত বোধহয়।
ঝিলিক ভ্রু কুঁচকে সাঁঝের দিকে তাকালো। গম্ভীর কন্ঠে জবাব দিলো,
—তোমাকে বলেছি আপু, তুমি না পারলে বলো। আমি নিজেই চলে যাচ্ছি। অন্যকারো সাহায্যের প্রয়োজন নেই।
সাঁঝ কুঞ্চিত ভ্রুতে বললো,
—এভাবে বলছিস কেনো মণি?
তাদের কথার মাঝেই আইয়ুশ কথা বললো,
—সাঁঝ, তুই যা! কিছু খায়নি ও?
—না, মাকে পরোটা আর আলুর দম বানাতে বলেছে। সময়ের ব্যাপার-স্যাপার। ততক্ষণ খালি পেটে থাকা উচিত হবেনা।
—তাহলে তাড়াতাড়ি গিয়ে এককাপ চা সাথে কিছু নিয়ে আয়। সকালে ওর ওষুধ আছে।
সাঁঝ চলে গেলো। ঝিলিক পাত্তা দিলোনা সেসবে। নিজের মতো হাঁটা আরম্ভ করলো। পেছন থেকে আইয়ুশ-ই ডাকলো। বললো,
—শুনলাম চলে যাচ্ছিলে, আবার ফিরে এসেছো কেনো? আমার মায়ার টানে?
ঝিলিকের মনে হলো সে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কোনো কৌতুক শুনেছে। ঝিলিক থেমে গিয়ে মৃদু হেসে জবাব দিলো,
— আপনি কোন রাজ্যের রাজা মনে করেন নিজেকে যে ঝিলিক মির্জা আপনার জন্য ফিরে আসবে?
নিঃশব্দে হাসলো আইয়ুশ।
ঝিলিক জানতে চাইলো,
— আমি চলে গেলে খুব খুশি হতেন, তাই না?
আইয়ুশ ঝওলিকের চোখে চোখ রাখেনা। বাহিরের দিকে রেখে মৃদু স্বরে জবাব দেয়,
—তা তো অবশ্যই হতাম!
ঝিলিকের অবশ্য জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে হলো–ওর যাওয়ার কথাটা কী আইয়ুশকে একটুও বিচলিত করতে পারেনি? অবশ্য তাকে মরে যাওয়ার কথা যে বলেছে তার ঝিলিকের থাকা না থাকায়ও কীই-বা যায় আসবে? ঝিলিক ঠোঁটের রেখা বদলায়। বাকা হাসি টেনে বলে,
—দ্যান আ’ম নট গোয়িং এনিহোয়্যার। একবার যেহেতু যাওয়ার পথে বাধা পড়েছে সেহেতু আমাকে ঠকানোর শাস্তিটুকুও নাহয় আপনি ভোগ করবেন। এখন দেখবেন–হু ইজ ঝিলিক মির্জা!
ঝিলিক চলে যায়। আইয়ুশ সেদিক পানে তাকিয়ে হাসে। রহস্যে ঘেরা এক হাসি। কিছুদূর গিয়েও ঝিলিককে থমকে যেতে হয়। আইয়ুশ থামিয়েছে তাকে।
—দাঁড়াও, এক সেকেন্ড!
বলেই সামনে এসে দাঁড়ালো তার। হাতে থাকা ওষুধের প্যাকেটগুলো নিয়ে ওর সামনে ধরলো। বললো,
—তোমার ওষুধ, ডক্টর বলেছে টাইমমতো খেতে।
ঝিলিক এক ভ্রু উঁচালো। মুখমন্ডল আগের চেয়ে শক্ত করলো। একদম অন্য স্বরে জবাব দিলো,
—শালা, মষ্করা করিস আমার সাথে? নিজে ছেড়ে দিয়ে আমার বড় বোনকে বিয়ে করে এনে এখন পিরীতি দেখাস? যা ভাগ চোখের সামনে থেকে। ডিজগাস্টিং!
obsession vs love part 15
বলেই চোখ ঘোরালো ঝিলিক। পরিহিত ফর্মাল প্যান্টের পকেটে হাত ঢুকিয়ে শীষ বাজাতে বাজাতে বেরিয়ে গেলো আইয়ুশের চোখের সামনে থেকে। আইয়ুশ তখনও ঘোরে। এটা কে? ঝিলিক তো? স্তব্ধ হয়ে রইলো সে।
মেইন গেইট থেকে সায়ন তাদের দুজনকে দেখে বাকা হাসলো। রহস্যে ঘেরা হাসিতে মাতলো তার অধরযুগল। তখুনি ওসমান মির্জা এলেন ঝিলিকের কাছে। সে সবেই বসেছিলো বাগানের দিকটায় পাতানো চেয়ার টেবিলে। তিনি এসে ঝিলিকের সামনে বসলেন। বললেন,
—আম্মাজান, আজ তো ফ্লাইট-ই ক্যান্সেল হয়ে গিয়েছে। সরকার থেকেই আজকে সকালের সকল ফ্লাইট ক্যান্সেল করা হয়েছে।
তা শুনে ঝিলিক ভ্রু কুঁচকালো। হঠাৎ ফ্লাইট অফ কেনো?

Part guli tara tari diyen