লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৩৬
লিজা মনি
কেটে যায় দশ দিনের মত।
জঙ্গলের পাশে একটা বিলাশবহুল কটেজ। সেই
দূর অরণ্যের নিস্তব্ধতায় দাঁড়িয়ে থাকা সেই কটেজটি যেন কোনো গোপন ষড়যন্ত্রের অমোঘ আবরণে আবৃত। ভেজা কাঠের দেয়ালে ঝুলে থাকা ছায়াগুলো নিস্পন্দ বাতাসেও অস্বাভাবিক কাঁপন তোলে অদৃশ্য কোনো সতর্কবার্তা রেখে যাওয়ার জন্য । ভিতরে আটজন মাফিয়া বসা। প্রতিটি মুখে অস্ফুট ওজোনের মতো ভারি নীরবতা।এক অজ্ঞাত সিদ্ধান্তের ছায়ায় উপবিষ্ট। সেখানে জমায়াত হয়েছে আটজন মাফিয়ার চোখ-মুখ শক্ত করে রাখা । কায়াত এখন খানিকটা সুস্থ। মৃত্যুর সাথে এক সপ্তাহ লড়াই করে বেঁচে ফিরেছে। গলায় আঘাত পাওয়ায় কথা বলতে পারছে না তেমন। গলা পুরোটা ব্যান্ডেজ করা। সামনে ভিবিন্ন হুইস্কির বোতল, রাশিয়ান ভদকা আরও অনেক কিছু। ম্যাক্সিকোর মাফিয়া ওয়াইনের গ্লাসে বরফ মেশাতে মেশাতে বলে,
” অনেক দিন পর আপনার দেখা মিলল মি, কায়াত।
কায়াত ঘাড় চেপে শক্ত গলায় বলে,
” আধমরা করে রাখলে বের হব কিভাবে? দেখতেও তো জাননি একবারের জন্য।
” মায়া -দয়া থাকলে তবেই তো দেখতে যাব। কিন্তু আমাদের সম্পর্ক তো প্রয়োজন জনিত।
কায়াত দাঁতে দাঁত পিষলো। কানাডার মাফিয়া ম্যাসিমো ইগরের দিকে তীর্যক চোখে তাকিয়ে বলে,
” এমন কি বলেছিলেন যে, গ্যাংস্টার বস এতটা রেগে গেলেন। উনার রাগ – হিংস্রতা সম্পর্কে আমরা সবাই জানি। কিন্তু সচারাচর উনি মাফিয়াদের উপর আ্যটাক করে না। আপনাকে কেনো এইভাবে যখম করেছে?
ইগর গম্ভীর গলায় বলে,
” ওর বউকে রক্ষিতা বলেছিলো তাই?
বাকি মাফিয়ারা অবাক হয়ে এক সাথে উচ্চারন করে উঠে,
” ওয়াইফ! বাট হাউ ডিড হি ইভেন গেট ম্যারিড? উই জাস্ট ক্যান’ট ইমাজিন ইট। আমাদের মুখের খাবার নিয়ে নিজের আবদ্ধ করে ফেললো!
ইগর আর কায়াত একে -অপরের দিকে তাকায়। কায়াত বাঁকা হেসে বলে,
” ইয়েস মি, ম্যাসিমো। আপনাদের সবার মুখের খাবার নিয়ে গ্যাংস্টার বস নিজের আবদ্ধ করে ফেলেছে। দেখুন, আপনারা ক্ষুদার জ্বালায় ছটফট করছেন। আর সেইদিকে গ্যাংস্টার বস দিনের পর দিন ফুর্তি করছে। এখনও সময় আছে ছিনিয়ে আনুন। ভুলে যাবেন না, ছিনিয়ে আনা আমাদের স্বভাব।
ম্যাক্সিকোর মাফিয়া খিষ্টিয়ান অবাক হয়ে বলে,
” “বাট হি ইজ দা গ্যাংস্টার বস। রেইজিং আ ভয়েস এগেইনস্ট হিম ইজ লাইক এমব্রেসিং ডুম।
নো ম্যাটার হাউ ফিয়ার্সলি উই ফাইট, দিস ইজ দা ফেইট দ্যাট আলটিমেটলি অ্যাওয়েটস আস।
ইন পাওয়ার অ্যান্ড ইন্টেলেক্ট, হি স্ট্যান্ডস আনম্যাচড।(কিন্তু তিনি গ্যাংস্টার বস। তার বিরুদ্ধে কথা বলা মানে নিজের ধ্বংসকে ডেকে আনা।
আমরা যতই লড়াই করি না কেন, শেষ পর্যন্ত আমাদের পরিণতি একই থাকবে।
ক্ষমতা আর বুদ্ধিমত্তা সব দিক থেকেই তিনি সবার চেয়ে এগিয়ে।)
কায়াত কিছুক্ষন চুপ থেকে কূটিল হেসে বলে,
” মি, খ্রিষ্টিয়ান কি ভয় পাচ্ছেন?
” ভয় পাওয়াটা বড় কথা নয় মি, কায়াত। যদি যুদ্ধ লেগে যায় মাফিয়াদের মধ্যে সে কথা ভাবছি।
ইগর ওয়াইনে চুমুক দিয়ে বলে,
” আঠারো জন পাগল ছিলো এই মেয়ের জন্য। বাকি দশজন এই পথ থেকে সরে গিয়েছে গ্যাংস্টার বসের ভয়ে। বাকি আছি আমরা আটজন। যারা প্রতিনিয়ত এই মেয়েটাকে চাচ্ছি। এখন এইটা একটা জেদে পরিনত হয়েছে সবার। উনি যদি আমাদের জিনিস নিজের নামে দলিল করে ফেলতে পারে তাহলে আমরা কেনো ছিনিয়ে নিয়ে আসতে পারব না? যা হবে আমরা আটজনের মধ্যে। যত -যুদ্ধ রক্তপাত সব আড়াকে। যাতে এই খবর বাহিরে না যায়। প্রয়োজনে গ্যাংস্টার বসকে মেরে হলেও এই মেয়েকে ছিনিয়ে আনব।
ম্যাসিমো অধৈর্য হয়ে বলে,
” কিন্তু এই মুহূর্তে মেয়েটা কোথায়?
কায়াত শক্ত গলায় বলে,
” সেটাই তো জানতে পারছি না মি, ম্যাসিমো। বাগান বাড়ি, মেনশনে এই দুইটা জায়গায় থাকতে পারে। আর যায় হোক এত মুল্যবান সম্পত্তি মিনারে রাখবে না।
” এতটা সিউর কিভাবে হচ্ছেন?
” এইসব ফা*কিং চিন্তা -চেতনা এমনিতেই আসে ম্যাসিমো। মিনার পুরোটাই পাপাচারে লিপ্ত একটা স্থান। যেখানে মাটির নিচে সুরঙ্গ পথে নারীদের বন্ধী করে রাখা হয়। শিশুদের জিন্মি করে রাখা হয়। ড্রাগস, মাদক, অস্ত্র, অবৈধ মাল সব এখানে। গ্যাংস্টার বসের টর্চার সেলও এই মিনারের নিচে। সুরঙ্গ পথের দরজা খুললে রাতের অন্ধকারেও কান্নার শব্দ শুনা যায়। কো*পা*কো*পির আওয়াজ পাওয়া যায়। সহস্রবার মাফিয়াদের মিটিং হয় এই মিনারে। আর সব থেকে বড় কথা নরখাদক জেড আছে এখানে। আর এত এত রিক্সের মধ্যে নিজের প্রান ভোমড়াকে কখনোই রাখবে না।
খ্রিষ্টিয়ান অবাক হয়ে বলে,
” প্রান ভোমড়া!
ইগর বাঁকা হেসে বলে,
” হ্যা, প্রানভোমড়া। গ্যাংস্টার বসের আসক্তি। বাজেভাবে আসক্ত এই মেয়ের প্রতি।
প্রতিটা মাফিয়ার চোখে অবাকের ঝলক।
” কিন্তু উনি তো মেয়েদের পছন্দ করেন না। কোনোদিন প্রস্টিটিউড বারেও যান নি। প্রয়োজনে কোনোদিন গেলে যে মেয়ে কাছে ঘেষতে এসেছে তাকেই খুন করে এসেছে। হুট করে একটা মেয়েতে আসক্ত! সত্যি অবিশ্বাস্য ব্যাপার কায়াত। আর এই ঘটনা সবাই জানে। যেদিন উনি গ্যাংস্টার বস হয়েছিলেন, সেদিন উপহার স্বরুপ একটা সুন্দরী মেয়ে দিয়েছিলো এক রাতের জন্য। পরের দিন সেই মেয়ের কাটা মাথা পাওয়া গেছে। শরীর মাথা আলাদা। আমরা নয় পুরো মাফিয়া সম্রাজ্য অবাক হয়ে গিয়েছিলো। যেখানে প্রতিটা মাফিয়া সুন্দরী নারী দেখলে মাথা ঠিক থাকে না সেখানে উনি খুন করে ফেলেছেন। জিজ্ঞাসা করলে, বলেছিলেন উনাকে টাচ করেছে সেজন্য মেরেছে। মেয়েদের সহ্য করতে পারে না অথচ আজ মেয়ে সংসার করছে?
ইগর গম্ভীরতা টেনে বলে,
” সেটা -তো উনিই ভালো জানবেন।
কায়াত ওয়াইনের গ্লাসটা রেখে বলে,
” এখন হয় উনি নারী -শিশু পাচার করেন না।
” মানে?
” মানে গত চার মাসে কোনো নারী-শিশু পাচার হয় নি। সেই ফাইল দেখি নি আমি। আর গ্যাংস্টার বসের মিনারেও কোনো নারী -শিশুকে বন্ধী করতে দেখি নি। মনে হয় উনি এইসব ছেড়ে দিয়েছেন।
” আপনি সিউর।
” এতদিন ছিলাম না। বাট গত এক মাস ধরে একদম সিউর। কোনো পাচারের সাথে যুক্ত নয় উনি। আমাকে ইতালিয়ান মাফিয়া তাই বলল। খবর নিয়ে জানতে পারলাম উনার থেকে কোনো পাচার হয় নি। তার মানে উনি পাচার ছেড়ে দিয়েছেন।
ইগর কপাল কুচকে বলে,
” কবে থেকে এইটা?
” যেদিন মেয়েটাকে উনি রক্ষিতা হিসেবে কিনেছেন সেদিন থেকে। বা হয়ত তার আগের থেকে। বাট আমরা জানি না। আপাযত এইসব কথা থাক। এই এক মাসের মধ্যে মেয়েটাকে নিয়ে আসাতে সবাই সাহায্য করবে তোমরা। এইটাই ফাইনাল!
সবাই একই কথা বলে,
” যা করবেন ভেবে পদক্ষেপ নিবেন। প্রচুর হিংস্র উনি। একবার হাতের নাগালে পেলে নিয়ম -কানুন ও মানবে না।
কায়াত ঘাড় কাঁৎ করে পৈশাচিকভাবে হেসে বিরনির করে,
” পদক্ষেপ তো অবশ্যই নিব বোকা*** দল। তদেরকে যাস্ট হাতিয়ার বানালাম। এই সুযোগে আমি আমার প্রতিশোধ নিয়ে নিব। এই মেয়েটাকে ছিনিয়ে আনব সাথে গ্যাংস্টার বসের কলিজা।
রাতের অবিচ্ছেদ্য অন্ধকার যখন শহরের প্রতিটি কোণাকে নিস্তব্ধতার কঠোর শাসনে আবদ্ধ করে ফেলেছিল ঠিক সেই মুহূর্তে নির্জন প্রান্তে স্থির হয়ে থাকা বুলেটপ্রুফ গাড়িটি যেন কোনো অব্যক্ত শক্তির অভেদ্য দুর্গরূপে প্রতিভাত হচ্ছিল। চারদিকের শুনশান নীরবতা। যার কোনো প্রতিধ্বনি নেই।কোনো ব্যত্যয় নেই। এই নিস্তবদায় বাগান বাড়ির সামনে বুলেট প্রুফ গড়িটি যেন অশান্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। নিরবতা গাড়িটিকে এমনভাবে পরিবেষ্টন করেছিল,
যেন অদৃশ্য কোনো নিয়তির অরুচিকর প্রহরীরা তাকে পাহারা দিচ্ছে।
গাড়ির অভ্যন্তরে বসা দুইজন যুবক। গ্যাংসটার বস আর ক্রিমিনাল লিডার। নিক সিটের নরম সিটে কঠোর গাম্ভীর্যে পিছনে হেলান দিয়ে বসে আছে। নিজের চারপাশের অন্ধকারকেও তার অব্যক্ত কর্তৃত্বে সংহত করে রেখেছেন। কানে হেড ফোন গুঁজে রাখা। কানে গেঁথে থাকা হেডফোনের তীক্ষ্ণ নিবিড়তা তার নিস্তব্ধতার মধ্যে এক ধরনের একান্ত বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি করে। আর চোখ বন্ধ থাকা অবস্থায়ও তার মুখাবয়ব এমন এক অনুচ্চারিত সতর্কতায় আবৃত থাকে যা মুহূর্তের সম্ভাব্য বিপর্যয়কেও পূর্বানুমান করতে সক্ষম বলে প্রতীয়মান হয়।
গাড়ির এক পাশে বরফের টুকরো রাখা। আরিশ এই মাত্র এসেছে। নিকের খুঁজে মেনশন দিয়েছে সেখানেও পায় নি। অবশেষে না পেয়ে মিনারে গিয়েছে। সুরঙ্গ পথ ধরে টর্চার সেল পর্যন্ত খুঁজে এসেছে। কিন্তু কোথাও কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায় নি। চারদিন ধরে নিখোঁজ ছিলো। কোথায় ছিলো কারোর জানা নেই।গার্ডদের জিজ্ঞাসা করলে বলেছে কেউ জানে না। এমনকি এই দশ দিনের ভিতরে মিনারে পর্যন্ত যায় নি। অবশেষে এখানে পেয়ে আরিশ স্বস্থির নিশ্বাস ফেলে। গাড়ির বাহিরে থেকে ও বিশ মিনিট অপেক্ষা করেছে। এতদিন পর দেখা হওয়ার পর ও হার্টল্যাসের বাচ্চা দরজা খুলে নি। আরিশ একজন ধৈর্যশীল বন্ধুর দায়িত্ব পালন করে বিশ মিনিট অপেক্ষা করে। বিশ মিনিট পর নিক দরজা খুলে দিলে শান্ত ভঙ্গিতে গাড়ির ভিতরে ডুকে। অধৈর্য হয়ে কিছু বলতে যাবে তার আগেই থেমে যায়। বিরক্তিতে নিকের দিকে তাকায়। যার কানে হেড -ফোন গুঁজে রাখা। চুলগুলো একদম এলোমেলো হয়ে আছে। সামনে বরফের টুকরো দেখে আরও বিরক্ত হয়ে যায়। নিরবতা ভেঙ্গে আরিশ বিরক্তি নিয়ে বলে,
” আবার ও অডিও বুক শুনছিস? কোনটা শুনছিস?
নিক চোখ বন্ধ করে রাখা অবস্থায় গম্ভীর গলায় বলে,
“crossfire!
আরিশ নাক -মুখ কুচকে সামনের দিকে তাকায়। আচমকা চোখ যায় একটা সিরিঞ্জের উপর। সিরিঞ্জটা অধৈর্য হয়ে হাতে নেয়। দাঁত পিষে বলে,
” আবার ও ড্রাগস নিয়েছেন?
নিক কানের হেডফোন খুলে শীতল গলায় বলে,
” প্রয়োজন এইটা অনেক। নাহলে ভেতরে অগ্নিকান্ডে ছাড়খাড় হয়ে যায়।
” কিসের জন্য ড্রাগস নিচ্ছিস এখন? এখন তো ড্রাগস নেওয়ার কোনো প্রয়োজন দেখছি না। তর কাছে তর এনি আছে। তাহলে বেপোরোয়া কেনো হচ্ছিস?
নিক হেলান দিয়ে বলে,
” থেকেও আমার কাছে নেই আরিশ।
আরিশ গম্ভীর শ্বাস ফেলে বলে,
” মিনারে যাচ্ছিস না কেনো? এনি একা আছে।
নিক ছন্নছাড়াভাবে উত্তর দেয়,
” একা আছে বলেই অক্ষত আছে। একদম শান্তিতে আছে। আমার ছায়া ওর জন্য মঙ্গলজনক নয়। আমার কালো ছায়া ও সহ্য করতে পারে না।
আরিশ শান্ত গলায় বলে,
” সেটা বিয়ে করার আগে ভাবতে পারিস নি।
নিক বেসামালভাবে বলে,
” বিয়ে না করে কি করব? বিয়ে ছাড়া স্পর্শ করে কলঙ্ক করব কিভাবে? এই নারীর চোখের পানির এই ওজন আমি সহ্য করতে পারি না।আমি তো নিজের করতে চেয়েছিলাম, হালাল করে নিয়েছি। এখন চাইলেও যেতে পারবে না। আমার স্পর্শ ওর রক্ত ঝরায়, আমার উপস্থিতি ওর কলিজা কাঁপায়। কিন্তু আমি তো এমনটা চাচ্ছি না। এই ঘৃনার চাহনি আর সহ্য করতে পারছি না। গ্যাংস্টার বস হেরে যাচ্ছে একটা দৃষ্টির উপর। কিসব বাল -ছাল ইমোশন এইগুলো। যত্তসব ফা*কিং অনুভুতি। ছেহহ!
আরিশ কিছুক্ষণ গম্ভীর থেকে বলে,
” তুই নিজেই তো ঘৃনা জমিয়েছিস। টর্চার কম করেছিস ওকে? এত টর্চারের পরেও তকে ভালোবাসবে মনে করিস?
নিক রক্তলাল চোখে তাকায় আরিশের দিকে,
” ভালো না বাসলেও আমার সাথে থাকতে হবে, আর না বাসলেও।
” তবুও টর্চার কমানি না।
নিক শান্ত কন্ঠে বলে,
” আমি টর্চার করতে চাই না। আর পাঁচ -জন সাধারন মানুষের মত আমার হৃদয়ে প্রেম নেই। ভালোবাসা নেই। কাউকে চাওয়ার আকঙ্খা নেই। যা আছে সবই মরিচিকা, হিংস্রতা, অশুভ ছায়া, ছিনিয়ে নিয়ে আসার তীব্র বাসনা। যখন ওর চোখে ঘৃনা দেখি। নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ফেলি। আঘাত করে বসি বাজেভাবে। সামলাতে পারি না নিজেকে। এক হিংস্র হয়েনা হয়ে উঠি। যা ওর জন্য মঙ্গলজনক নয়।
” এতটা হিংস্র হয়ে গভীর আসক্তি কিভাবে জন্মাতে দিলি নিক। জানিস তো মাফিয়াদের দুর্বলতা থাকতে নেই। এখন তর দুর্বলতা তো পুরো দেশ জেনে গিয়েছে। শত্রুদের সাথে প্রতিঘাত করবি কিভাবে? যদি তারা এনিকে ছিনিয়ে নিতে আসে তখন?
নিকের আখি-ধীরে ধীরে লালচে হতে থাকে। চোয়াল শক্ত হয়ে আসে ধীরে ধীরে। গ্যাংস্টার বস তীব্র ক্ষোভ নিয়ে শক্ত গলায় বলে,
” নিশ্বাস বন্ধ হওয়া পর্যন্ত লড়ে যাব। কেউ যদি আসে কলিজা টেনে আনব। আর এইটা সম্পর্কে ভালোভাবেই জানিস।
” আর যদি এনিকে নিতে আসে?
নিক একই ভঙ্গিতে বলে,
” কলিজার ভিতরে লুকিয়ে রাখব।
আরিশ নিশ্বাস ছেড়ে বলে,
” চার -দেয়ালের মধ্যে বন্ধী করে রেখেছিস দিনের পর দিন। বাহিরের আলো -বাতাস দেখতে দিচ্ছিস না। মেয়েটার মানসিক সমস্যা হয়ে গেলে?
নিম গ্রিবাদেশ নাড়িয়ে বাঁকা হেসে বলে,
” এমন হওয়ার কোনো চান্স নেই।
আরিশ কপাল কুচকে বলে,
‘ মানে?
নিক নিচের ঠোঁট কামড়ে ধরে বলে,
” গোপনে ট্রিটমেন্ট চলছে। মানসিক বিপর্যস্ত কিছুটা। তবে চিকিৎসা চলছে।
আরিশ অবাক হয়ে বলে,
” এনি জানে সেটা?
” নোপ…
আরিশ ভ্রুঁ নাচিয়ে বলে,
‘ কোন ড. আর কখন আসে উনি?
” ড. ইসাবেলা। মাসে একবার, রাত একটার সময় এসে দেখে যায়। ঘুমে বেহুশ হয়ে থাকে তখন।
আরিশ অবাকের পর অবাক হচ্ছে। সেই জন্য তো সে অবাক হচ্ছিলো, এত বড় বড় ট্রমা পার করার পরও সেদিন এতটা সুস্থ -সবল দেখাচ্ছিলো কিভাবে? আরিশ হয়ত এনির দিকে তাকায় নি কিন্তু দুই একবার ভুলবশত তাকিয়েছিলো। তখন এইটুকু বুঝেছে আগের থেকে আরও সুন্দর হয়েছে। শরীরে তেমন ক্ষত চিহ্ন নেই। স্বাস্থ্যও অনেকটা উন্নতি হয়েছে।
আরিশ চোয়াল শক্ত করে নিককে দুইটা বিশ্রি গালি দিয়ে বলে,
“শালা সব কিছুতে তুই ফার্স্ট। এতই যখন কেয়ার করিস তখন আঘাত করিস কেনো?
” আঘাত ও আমি করব, আবার সেই জায়গায় মলম ও আমি লাগাব। আই ওোন’ট গিভ এনিওয়ান ইভেন দা স্লাইটেস্ট রাইট টু কেয়ার ফর হার। বিকজ শি ইজ মাই অবসেশান। মাই ফিয়ার্স অ্যাডিকশন।
নো ড্রাগ হ্যাজ এভার ক্যাল্মড মি দা ওয়ে হার প্রেজেন্স হার ফ্যামিলিয়ার সেন্ট কোয়ায়েটলি স্টেডিস মাই মাইন্ড।
আরিশ তপ্ত শ্বাস ফেলে বলে,
” তুই অতিরিক্ত আ্যডিকশন হয়ে যাচ্ছিস নিক। নিজেকে আটকা। তর দুর্বলতা থাকতে নেই।
নিক ঠোঁট কামড়ে বলে,
” টাইম হ্যাজ পাস্ট !
” তাহলে এইভাবেই সারাজীবন ঘর বন্ধী রাখবি?
” ইয়েস।
আরিশ গম্ভীর হয়ে বলে,
” এতটা হার্টল্যাস কেনো হচ্ছিস? মেয়েটা কষ্ট পাবে।
নিক তীক্ষ্ণ চোখে তাকায় আরিশের দিকে। হঠাৎ শার্টের কলার চেপে ধরে চোয়াল শক্ত করে বলে,
” তকে এত টেনশন করতে বলেছি আমি? আমার বউয়ের জন্য আমি আছি। তার স্বামী এখনও বেঁচে আছে। আবার যদি এইসব ফা*কিং রিফ্লেকশন করতে আসিস মাটির নিচে পুঁতে দিয়ে আসব।
আরিশ নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে বলে,
” আর ইউ ক্রেজি নিক! তুই আমাকে ও সন্দেহ করছিস? তর মনে হয় আমি এনির দিকে অন্য দৃষ্টিতে থাকাব?
নিক দাঁত পিষে বলে,
” কেনো তাকাস নি?
আরিশ থমথমে খেয়ে বলে,
” অজান্তেই চোখ আটকে গিয়েছিলো। মন তো আর নিজের কথায় চলে না। আমার কি দোষ কি বল?
নিক দাঁত কটমট করে বলে,
” শালা তকে দিয়েছিলাম, দেখে রাখত অথচ তুই… নিক থেমে যায়। নিশ্বাস টেনে বলে,
” ভাগ্য ভালো তকে জানে মারি নি।
আরিশ ইনোসেন্ট ফেইস নিয়ে বলে,
” দুই দিনের মোহে পড়ে গিয়েছিলাম ভাই। তার জন্য তো কম শাস্তি দেস নি। কিন্তু বিশ্বাস কর এখন নিজের ছোট বোন ভাবি। তর যদি এতেও প্রবলেম হয় তবে নিজের মায়ের আসনে বসাচ্ছি তবুও এইটা নিয়ে আমার উপর টর্নেডো চালাস না।
নিক গম্ভীর হয়ে শক্ত গলায় বলে,
” আমার আসক্তি, আমার আ্যডিকশন জানার পরও যখন এই নারীর উপর মোহিত হওয়ার বিষয়টা তুই নিজেকে আটকাতে পারিস নি, তখন ভাবলি কিভাবে অন্য পুরুষ নিজেদের আটকাতে পারবে? এই মেয়ে ধ্বংসাত্বক আরিশ। কোনো পুরুষকে দুই মিনিটে ঘায়েল করার ক্ষমতা রাখে। তার দৃষ্টি ধারালো অস্ত্রের মত শান্ত কিন্ত আগুনের শিখা। যে তাকাবে সেই পুড়বে। আমি যদি বাহিরে বের করি, হাজারটা পুরুষ তাকাবে। লালসার চোখ দিয়ে গিলে খাবে। হাত বাড়াবে একটু ছুঁয়ে দেখার জন্য। কতজনকে খুন করে রক্তাক্ত করব আমি? ওর সমস্ত সৌন্দর্য আমার নামে লিখিত। সেটার ভাগও আমি কাউকে দিতে ইচ্ছুক নয়।
আরিশ কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকে নিকের দিকে। এইটা কি তার ভাই গ্যাংস্টার বস নিক জেভরান? যার হৃদয়ে কোনো মায়া নেই, করুনা নেই। অথচ আজ একটা মেয়ে কেন্দ্র করে এত পাগলামি। আরিশ তপ্ত শ্বাস ফেলে বলে,
” কোথায় ছিলি এই দশ দিন?
” ইতালি গিয়েছিলাম।
” হঠাৎ?
‘ পনেরো কোটি টাকার অস্ত্র। এইটার এই ডিল ছিলো। দুর্বলভেবে ত্যারামি করতে এসেছিলো কয়েকজন। এক সাথে বিশটার মাথা আলাদা করে মাটি চাপা দিয়ে এসেছি। এখন পুরোটাই আমার।
” জানাস নি আগে।
” হুট করেই হয়ে গেছে।
” তকে কিছু ফাইল দেখানোর প্রয়োজন। চল আমার সাথে ভিতরে।
নিক হেলান দিয়ে বলে,
” জরুরি না হলে যাব না।
আরিশ হতাশ হয়ে বলে,
” জরুরি ভাই। কিছু কন্ট্রাক্ট প্যাপার। আজ সকালে এসেছে রাশিয়া থেকে।
আরিশ ব্লেজার খুলে ডিভানের উপর খুলে রাখে। নিক নিচের ঠোঁট কামড়ে ধরে ব্লেজারের বোতাম খুলছে আর গম্ভীর পায়ে উপরে উঠছে। পিছন থেকে একটা মেয়েলি কন্ঠস্বরে চারদিক ঝংকার তুলে। কিছুক্ষন নিরব থাকে সব কিছু।
” আরেহহ গ্যাংস্টার বস আপনি?
এই একটা লাইনে পুরোটাই তাচ্ছিল্য ভাষায় বলেছে, সেটা পুরোটায় প্রকাশিত। আরিশ চোখ ছোট ছোট করে গম্ভীর ভাবে তাকায়। নাজলীকে দেখে শিনা টান -টান হয়ে যায়। নিক ঘাড় ঘুরিয়ে পিছনে তাকায়।চোখের সামনে নারী অবয়ব দেখে কপালে ভাঁজ পড়ে। ঘাড় ছাড়িয়ে একটু বড় লাল চুল। দবদবে ফর্সা মুখ । নিক কিছুক্ষন তাকিয়ে গম্ভীর হয়ে উঠে। নারীটি কে বুঝতে বাকি নেই। বিরক্তিতে আবার ও সামনে তাকায়। নিককে দৃষ্টি সরিয়ে নিতে দেখে নাজলী হেসে বলে,
” গ্যাংস্টার বস কি ম্যানার’স জানেন না? নিজের বউয়ের বড় বোনকে সম্মান দিয়ে সালাম জানাতে হয়, কোনোদিন শিখেন নি?
নিক যেতে গিয়েও উপরে যায় নি। কিছু একটা ভেবে নাজলীর দিকে এগিয়ে আসে। অনেকটা দুরত্ব বজায় রেখে ঠোঁট কামড়ে বলে,
” নিজের বউটা বাদে আপাযত কাউকে মানুষ মনে করি না। বউটা যাস্ট আমার। তার সাথে কার কার কানেকশন সেটা খুঁজে লাভ নেই। গাছে কি ফল ধরেছে সেটা দেখা উচিত। গাছে পানি দিয়ে কে পরিচর্যা করেছে সেটা দেখার কোনো ইচ্ছে আমার নেই।
নাজলী কৃত্রিম হেসে বলে,
‘ বউকে আদ’ও বউ মানেন? নাকি বদ্ধ রুমের আসামী বানিয়ে রেখেছেন?জেল খানায় বন্ধী করেছেন।
নিক গ্রিবাদেশ নাড়িয়ে বলে,
” সেটা আপনার না জানলেও চলবে। আমার স্ত্রীকে আমি যেভাবে খুশি রাখব, বাহিরের লোকদের কথা শুনে সংসারে আগুন লাগাতে চাই না।
নাজলী জেদ্দী গলায় বলে,
” সংসার নয় নিয়ন্ত্রন নিক জেভরান। মাঝ দিয়ে কুরবানী হয়েছে আমার নিষ্পাপ বোন। আচ্ছা সব বাদ দিলাম। ওর বয়সটা জানেন? মাত্র আঠারো হয়েছে। এখনও পরিপূর্ন বয়স হয় নি। আমার চোখে এখনও বাচ্চা। যাকে আগলে রেখেছিলাম সে এখন ক্ষণে ক্ষণে আপনার রক্তাক্ত খেলায় পিষে যাচ্ছে। একবার বিবেকের খাতায় প্রশ্ন করে দেখবেন, সে কি আদ’ও ঠিক আছে? আপনি একজনের ভালোবাসা ছিনিয়ে এনেছেন। নাভিদ ভাই এনিকে সেই ছোট থেকে ভালোবাসে। ছোট থেকে এনিকে নিজের মত করে ট্রিট করে গিয়েছে। পর্যাপ্ত বয়সের জন্য অপেক্ষা করেছে। এনির যখন বয়স হবে তখন নিজের বউ করে ঘরে তুলবে। কিন্ত আপনি ঘূর্নিঝরের মত সব ধ্বংস করে দিলেন। একজনের ভালোবাসা কেড়ে নিলেন। ক্ষমতা দিয়ে সব কিছু আটকে রেখেছেন। নাভিদ ভাইয়ের মত এমন ভালো মানুষের চোখে দিনের পর দিন পানি ঝড়ছে যাস্ট আপনার কারনে। আপনি কাপুরুষের মত দুই দিনের ভেতরে সব লন্ড-বন্ড করে দেন। এত কিসের জেদ আপনার? দুনিয়ায় তো মেয়ের অভাব নেই। আমার বোনটার পিছনেই কেনো পড়েছেন আপনি। কেনো অন্যের ভালোবাসা ছিনিয়ে নিলেন?
নিকের ধূসর মনি টগবগ করে ঝলছে। নাজলীর চোখ ও লাল হয়ে গিয়েছে। কান্না আটকে রেখেছে কোনোরকম। নিক ঘন -ঘন শ্বাস টেনে কপাল ঘেষে বলে,
” ধ্বংস করাটাই আমার কাজ মিস নাজলী। আমি ধ্বংসাত্বক জেনেও পুনরায় রিপিট করছেন কোন জ্ঞানে। কাপুরুষ অপেক্ষা করে। আর বীরপুরুষ বউ বানিয়ে ছাড়ে। তাছাড়া আমার পাজরের অংশ থেকে সৃষ্টি করা নারীকে অন্য পুরুষের নামের সাথে মিলিত করেন কোন স্পর্ধায়। এখন যদি আপনার প্রানটা নেয় ছটফট করবেন না -তো?
নাজলী তাচ্ছিল্য হেসে বলে,
” আপনার ধ্বংস না দেখা অব্দি মরতে চাচ্ছি না।
নিক ঠোঁট চেপে গম্ভীর গলায় বলে,
” চাপ নিবেন না, আপনাকে দশ -পনেরোটা বাচ্চার আন্টি না বানিয়ে মারব না। এতদিনে হয়েই যেত। কিন্তু আপনার বোন মানতেই চাচ্ছে না।
নাজলী লজ্জায় কেঁশে উঠে। আরিশ ঠোঁট চেপে হাসি সংবরন করে। নাজলী রাগে ফুঁশে উঠে,
” ভুলেও যদি এমন কিছু করেছেন তাহলে…
নাজলীকে বাক্যটা শেষ করতে না দিয়ে নিক গম্ভীর গলায় বলে,
” কলমের কালি অপচয় করে ফেলে দেওয়া উচিত নয় মিস নাজলী।
নাজলী ভ্রুঁ কুচকে ফেলে। নিকের ইঙ্গিত বুঝতে পারছে না। এদিকে আরিশের চোখ বড় বড় হয়ে যায়। দৃষ্টি ঘুরিয়ে নাজলীর দিকে তাকায়। নাজলীকে অবুঝের মত তাকিয়ে থাকতে দেখে ঠোঁট চেপে হাসে। নাজলী অবুঝের মত বলে,
” বুঝলাম না, কি ইঙ্গিত দিয়েছেন?
” কিছুর ইঙ্গিত দেয় নি। বলাটা আমার ইচ্ছে ছিলো। এখন বুঝে নেওয়াটা আপনার দায়িত্ব।
নাজলী বিরক্ত হয় নিকের প্রতি। রাগটা যেন আজ একটু বেশি বেড়ে যাচ্ছে। অনেক কষ্টে নিজেকে সংযত করে বলে,
” আজ প্রথম আপনাকে দেখেছি। দেখলে মনে হয় না ভিতরে এত কালো দুনিয়া পুষে রেখেছেন। আমাকে কেনো বন্ধী করে রেখেছেন?
নিক খাপছাড়া ভাবে বলে,
” আপনাকে আটকে রাখা আমার জব নয়। সেটা নিজের হাজবেন্ডকে জিজ্ঞাসা করুন।
নাজলী রাগে ফুঁশে উঠে,
‘ হাজবেন্ড মাই ফুট! মুক্তি দিন আমাদের। ওকে আমাকে দিতে হবে না। সারাজীবন দাসত্ব করব আপনাদের। তবুও আমার ছোট বোনটাকে মুক্তি দিয়ে দিন। জেলখানার সেই নরকীয় রুমে থাকতে পারবে না সে।
” আপনার দেখা কোন জেল খানায় স্বামী -স্ত্রী ই**** হয়। কিন্ত আমি তো হয়েছি। একবার নয় অনেক বার। বড় বোন হয়ে যদি আরও শুনতে চান তাহলে আমি বলতে রাজি। মুলত কাউকে কৈফিয়ত দেয় না জীবনে। বড় বোন হিসেবে নাহয় আপনাকেই দিয়ে স্ট্রাট করব।
নাজলীর মুখ বন্ধ হয়ে যায়। লজ্জা – অস্বস্থিতে মাথা নিচু করে ফেলে। নাজলীর মুখ হঠাৎ নিস্তব্ধ হয়ে যায়। লজ্জা এবং অস্বস্তির ভারে তার মাথা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নেমে আসে। মনে-মনে নিককে অতৃপ্ত তীরবাণের মতো বিয়াদব বলে অজস্র গালি বর্ষণ করে। নিক নিজ রাগের স্রোতকে সংযমে নিয়ন্ত্রণে রাখছেন। সেই নিয়ন্ত্রণের দৃঢ়তা আরিশের কাছে দৃশ্যমান নিক যে নিজেকে নিয়ন্ত্রন করছে আরিশের বুঝতে অসুবিধে হচ্ছে না। পরিস্থিতিত বদলাতে ইশারা দিয়ে উপরে নিয়ে যেতে থাকে। নাজলী কিছু বলতে গিয়েও থেমে যাচ্ছে। এমন কথা বলে গিয়েছে যে, এখন অস্বস্থিতে গলা দিয়ে আওয়াজ এই বের হচ্ছে না।
নিস্তব্দ মিনারের অন্তরালে সমুদয় নিঃশব্দকে ছুঁয়ে থাকা অন্ধকার। যেখানে প্রতিটি কোণা আড়াল করে রেখেছে সময়ের নিঃশেষ হাহাকার। সেই মিনারটা দাঁড়িয়ে আছে জঙ্গলের নিকটে, একটা বিশাল সমুদ্ররের পাশে। মিনারের এক বদ্ধ রুমে অষ্টদশী কন্যা নিস্তব্ধ ঘুমে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে বন্দী রেখেছে।
তার শরীর একদম শিথিল হয়ে আছে। মন অচেতন তবুও চারপাশের নিঃশব্দে যেন ঘুমন্ত মনটিও আংশিক সচেতন হয়ে উঠেছে। রুমে পিন -পিন নিরবতা। কালো আর গাঢ় লাল রং এর আস্তরনের রুমটা কেমন ছমছমে হয়ে উঠেছে। এই স্থিরতার মধ্যে প্রবেশ করে এক অবয়ব। তার ছমছমে উপস্থিতি দ্বারা বায়ুকে নিজস্ব স্পন্দনে ভাসিয়ে দেয়। প্রতিটি পদক্ষেপে মৃদু শব্দ হচ্ছে। ছায়াটা ধীরে ধীরে এগিয়ে আসে। তার উপস্থিতি বাতাসে লুকানো শীতলতার কম্পন যেন কন্যার স্বপ্নকে ঘিরে রাখে।
লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৩৫ (২)
অবয়বটির উপস্থিতি একদম সূক্ষ্ম। অবয়বটা কাছে এসে বিছানায় উঠে বসে। আবছা আলোয় মেয়েটির দিকে তাকিয়ে থাকে। যেন কতদিনের তৃষ্ণার্ত সে। এখন দৃষ্টি রেখে শূন্য বুকের তৃষ্ণা নিবারন করছে। এই ঘায়েল করা তৃষ্ণার্ত দৃষ্টি রমনীর ঘুম ভাঙ্গাতে সক্ষম হচ্ছে না। অবয়বটা অন্ধকারের মধ্যেই রমনীর গলায় মুখ গুঁজে দেয়। পেট উন্মুক্ত করে নিজের সাথে চেপে ধরে মিশিয়ে নেয়। চরম অস্বস্তিতে হুট করে রমণীর ঘুম ভেঙ্গে যায়। হুট করে ঘুম ভেঙ্গে পড়ায় আতঙ্কে জমে যায়। নিজের পাশে কাউকে অনুভব করে ভয়ে শিরশির করে উঠে। মস্তিষ্ক শূন্য হয়ে আসে। কোনোমতে শূষ্ক গলা ভিজিয়ে ছেড়ে -ছেড়ে প্রশ্ন করে,
” ক….. ক.. কে? ক.. কে আ.. আপনি?
মুহূর্তের বিদ্যুত বেগে ভেসে আসে একটা পরিচিত কন্ঠস্বর। কানের কাছে ফিসফিসানো মাদকতা মিশ্রিত স্বর,
” কলিজা আমার!
