Home লাভ বাই দ্যা ভিলেন লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৪৭ (২)

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৪৭ (২)

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৪৭ (২)
লিজা মনি

এনি জেডকে ড্রিংক্সের অফার করতেই জেডের চোখ-মুখ লালসায় ঝলঝল করে উঠে। এনির অন্তরে ভয় তবে মুখে মুচকি হাসি। জেড ড্রিংক্স করতে চাইলো না। কখন এই রুপবতীকে নিজের নিচে পিষ্ট করবে সেই লালসায় অস্থির। মাথা থেকে বের হয়ে গিয়েছিলো এই রমণী কার সম্পদ। সামান্য স্পর্শ করার জন্য যার হাতটা এই কেটে দেওয়া হয়েছে, সেই রমণীর সর্বাঙ্গ ছুঁয়ে দিলে ঠিক কি অবস্থা করবে সাইকোটার খেয়াল নেই। লালসায় পাগল হয়ে যাওয়া উন্মাদ পুরুষটা এনির দিকে এগিয়ে যায়। এনি হুট করে বিছানা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে যায়। রাগে জেডের চোখ ঝলঝল করে উঠে। এনির উঠে যাওয়াটা তার ধৈর্যের বাহিরে চলে যাচ্ছে। উন্মাদ হয়ে উঠেছে তার পুরুষ মন। জেড বিকৃতভাবে হেসে জিহ্বা দিয়ে ঠোঁট ভেজায়। এরপর এনির দুই হাত চেপে ধরে বিছানায় ধ্বাক্কা মেরে ফেলে দেয়। এনি ভয় পেলেও নিজেকে সংযত রাখে। জেডের চোখে চোখ রেখে নিজের ঠোঁট কামড়ে ধরে বলে,

” এইভাবে ঠিক জমবে না মি জেড। প্রথমবার ছুঁয়ে দিবে আমাকে। তার আগে সামান্য সেলিব্রেশন তো করাই যায়। চলো আগে ড্রিংক্স সেলিব্রেশন করি। একটু সামথিং সামথিং হয়ে যাক। আমি আবার ওয়াইন না খেলে শক্তি পায় না।
এনির ঠোঁট কামড়ানো দেখে জেড নিজেকে আর সংযত করতে পারছে না। এই নারীকে এই মুহূর্তে না পেলে সে মরেই যাবে। এনি জেডের দুই বাহু ধরে বিছানায় বসিয়ে দেয়। এরপর নিজ হাতে ড্রিংক্স বানিয়ে জেডের হাতে দেয়,
” চলো দুই গ্লাস খাওয়া যাক। এরপর না হয় বাকি কাজ করব।
জেড এনির দিকে তাকিয়ে পুরোটা গিলে ফেলে। এনি খেলো না। গন্ধ নাকে যেতেই কেমন বমি বমি লাগছে। মনে হচ্ছে এই বুঝি পেট উল্টে নাড়ি-ভুড়ি সব বের হয়ে আসবে। এতটা বিশ্রি গন্ধ অথচ শুয়রের বাচ্চাগুলো কতটা আয়েশ করে এইসব গিলে। এনি জেডের আড়ালে কখন অজ্ঞান হওয়ার মেডিসিন মিশিয়েছে, সেটা কামনায় কাতর হয়ে থাকা পুরুষটা দেখতেই পেলো না। এনি শুধু একাধারে ড্রিংক্স তৈরি করে দিচ্ছে আর জেড গিলে যাচ্ছে। তার লালসার দৃষ্টি এনির সর্বাঙ্গে। চোখ-মুখ লাল হয়ে উঠেছে তার। আচমকা এনির নজরে যায় জেডের কাটা আঙ্গুলে। একটা আঙ্গুল নেই এই নরখাদকের!
এনি কাঁপা গলায় জেডের দিকে তাকিয়ে বলে,

” এই আঙ্গুল কেটেছে কিভাবে?
জেড নেশায় বুদ হয়ে উঠেছে। নিজের আঙ্গুলের দিকে তাকিয়ে বিকৃতভাবে হেসে বলে,
” অনেক আগে কেটেছে।
এনি অস্থির হয়ে বলে,
” হ্যা, কিভাবে কেটেছে তোমার আঙ্গুল?
জেড ওয়াইনটুকু গিলে সামান্য রাগী কন্ঠে বলে,
” এক মেয়েকে ছিঁড়ে খাচ্ছিলাম। হুট করে এক শা*ওয়া এসে আমার আঙ্গুলটা কেটে দিলো। মা*গীটারে কিছু করতে পারি নি। আমাকে মারতে এসেছিলো। নিক সেদিন না আসলে দুইটাকে একত্রে ছিঁড়ে খেতাম। শালী মাদার্ফা*কের দল!

এনির মাথা ঘুরে আসার উপক্রম। পায়ের নিচ শিরশির করে উঠছে। তাহলে সেদিন এই নরপিশাচ ছিলো! নিক ছিলো ব্যাপারটা অনুভব করতেই যেন কলিজায় কেউ শক্তভাবে চেপে ধরেছে। এনি কান্না করতে গিয়ে ও আটকে যায়। শরীর ভেঙ্গে আসছে তার। এই মুহুর্তে ভেঙ্গে পড়া উচিত নয়। সামনে এক জানোয়ার রুপী দানব বসে আছে। এর সামনে ভেঙ্গে পড়া মানে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়া। যা করতে হবে সব শান্ত জ্ঞানে।
জেড আর ধৈর্য ধরতে পারলো না। বিছানা থেকে উঠে এনির হাতে ধরতে যাবে তার আগেই এনি ছিটকে দুরে সরে যায়। জেড কপাল কুচকে তাকায় এনির দিকে। রাগে এনির পুরো শরীর কাঁপছে। হিংস্র মানবীর মত নীলাভ মণি লাল হয়ে ঝলঝল করছে। জেডের দিকে বাজপাখির ন্যায় তাকিয়ে আছে। যেন এই দৃষ্টি বলে দিচ্ছে এই মুহূর্তে তাকে কাচা চিবিয়ে খাবে। জেড মাতাল হয়ে ভালোভাবে তাকাতে পারছে না। তার উপর এই মেডিসিনের রিয়্যাকশন ধীরে ধীরে পড়তে থাকে। জেড মাথায় চেপে ধরে এনির দিকে তাকায়। হাত দিয়ে ইশারা করে বলে,
” এই প্রথম কোনো মেয়েকে আমি ইশারা করে কাছে টানছি। তোমার জায়গায় অন্য কেউ হলে এতক্ষন মরে যেত। আমার বিছানায় এক বার যে যায় সে আর বেঁচে ফিরে না। আমার পুর**** একবার প্রবেশ করলে সে কুত্তার মত ছটফট করে। এমনভাবে চিৎকার করে যে গলার রগটা যেন ছিঁড়ে যাচ্ছে। তখন আসে আমার সব থেকে বড় তৃপ্তি। পৈশাচিক উন্মাদনায় আমি আরও নিয়ন্ত্রনহারা হয়ে পড়ি। শব্দ আমার খুবই অপছন্দ। কিন্তু এই শব্দটা আমার ভেতরের উন্মাদনা জাগায়। হৃদয়ে তৃপ্তি লাভ করি।

জেড কথাটা বলে বিকৃতভাবে হাসতে থাকে। এনি ঘৃণায় নাক-মুখ খিঁচে ফেলে। নিয়ন্ত্রন করতে পারে নি রমণী। এক ধলা থু থু জেডের নাকে মুখে ছুঁড়ে মারে। জেড হিংস্রতা নিয়ে তাকায় এনির দিকে। এনি রাগে কাঁপছে রিতীমত। জেড ঝড়ের বেগে এসে এনির চুলের মুঠি শক্তভাবে চেপে ধরে। ব্যাথায় এনি মৃদু আর্তনাদ করে উঠে। জেড এনিকে হেচড়ে বিছানার কাছ নিয়ে যেতে থাকে। রাগে গর্জে উঠে,
” মা**গী আমার মুখে থু থু দিচ্ছিস কোন সাহসে? নিজেই তো মরতে এলি আমার কাছে। এখন আবার তেজ দেখাচ্ছিস কাকে? তর সাথে তো আমার এমনিতেই অনেক হিসেব বাকি। আমার হাত কেটেছিস তুই ব্যা**শ্যা। এতদিন তো গ্যাংস্টার বসকে খুশি করলি আজ আমাকে তৃপ্তি দে। নেওয়া -পাওয়া শুরু করা যাক।

পর পর নিজেকে নিয়ে এমন অশোভন মন্তব্য এনির গা গুলিয়ে আসছে। আর নিতে পারছে না এইসব। অনেক সহ্য করেছে সে। চুলে প্রচুর টান খাচ্ছে। জেড এতটা শক্তভাবে ধরেছে যে ব্যাথায় মাথা ছিঁড়ে যাচ্ছে। এনি আর দেরী করলো না। হাটুর সাহায্যে জেডের পুর*** লাথি বসায় সর্বশক্তি দিয়ে। জেড এমনিতেই মাতাল হয়ে আছে। তার উপর ধীরে ধীরে মেডিসিনের পাওয়ারে দুর্বল করে দিচ্ছে। হুট করে এমন তীব্র যন্ত্রনায় চিৎকার করে উঠে। ব্যাথার যন্ত্রনা সহ্য করতে না পেরে ধপ মেরে বসে যায় বিছানায়। এনি সরে আসে জেডের কাছ থেকে। টেবিলের উপরে রাখা একটা শক্ত দঁড়ি এনি হাতে তুলে নেয়। দঁড়িটা হাতে বাঁধতে যাবে তার আগেই জেড ক্ষেপা বাঘের মত গর্জে উঠে। আজ সিংহ যতই ক্ষেপে যাক, শরীরের শক্তি সব কমে এসেছে। লড়তে পারছে না এক তুচ্ছ রমণীর সাথে। দুই হাত থাকলে হয়ত এতক্ষণে এনির অবস্থা খারাপ করে ফেলত। কিন্তু এক হাত দিয়ে মাতাল অবস্থায় এনির সাথে মোকাবেলা করতে পারছে না। জেড এনির বুকে খামছে ধরতেই এনি সব শক্তি দিয়ে দাঁত বসিয়ে দেয়। এমন জায়গায় ধরেছে যে এনির মাথা ঘুরছে। ইচ্ছে করছে জেড কে এই মুহূর্তে জ্বালিয়ে -পুড়িয়ে ছাড় -খাড় করে দিতে। জেড এনির কামড়ের তোয়াক্কা করলো না। হিংস্র পশুর মত গর্জন করছে আর অশুভন গালাগালি করছে। এনি একটুও ঘাবড়ে যায় নি। জেডের পাগলাটে আচরন থেকে বাঁচতে স্টিলের উপরে রাখা ছুঁড়িটা নিয়ে ওর বাকি হাতটায় কো**প বসায়। সাথে সাথে রক্ত ছিটকে পড়ে ওর চোখে -মুখে। জেড কলিজা ফাটিয়ে চিৎকার করে উঠে। হাতে ধরে গলা কাটা মুরগির মত ছটফট করতে থাকে। এনি ভয় পেলেও শান্ত করলো নিজেকে। শক্তভাবে দড়ি দিয়ে জেডকে বেঁধে ফেল। জেডের চোখ দিয়ে যেন আগুন বের হচ্ছে। ছটফট করে উঠে,

” ফা*ক ইউ! খা*** বাচ্চা তকে শুধু একবার হাতের কাছে পাই। আমার গ্লাসে কি মিশিয়েছিস। নিজেকে ধরে রাখতে পারছি না কেনো? শক্তি ফুরালো কেনো আমার। মা*** তরে যদি ছিঁড়ে না খেয়েছি তবে আমি নিজের শরীরের কাঁচা মাংস চিবিয়ে খাব। খুল আমাকে।
এনি আবার ও থু -থু মারলো জেডের মুখে। জেড মুখটা সরিয়ে নিলো একপাশে। এনির বাঁধা শেষ হলে জেডের মুখো-মুখি হয়ে বসে। টেবিলের উপরে রাখা ওয়াইনের গ্লাসটা হাতে নিয়ে সবটা ওয়াইন জেডের মুখে ছুঁড়ে মারে। থু থু গুলো পরিষ্কার হয়ে উঠে। জেড একাধারে অকাথ্য ভাষায় গালাগালি করে যাচ্ছে। এনি জেডের গলা চেপে ধরে হিংস্র বাঘিনীর মত চোয়াল শক্ত করে ফেলে,

” খোদার কসম আরেকবার গালি দিলে তর জিহ্বা কেটে আমি রাস্তার কুকুর দিয়ে খাওয়াব। তেজ কোথায় গেলো তর? পুরু*** পাওয়ার সব শেষ? এক লাথিতেই মামা এইভাবে নেতিয়ে পড়বে ভাবিনি। অথচ এই শুয়রের বাচ্চাটার জন্য তুই কত মেয়ের জীবন নষ্ট করলি। আমার বান্ধুবীটাকে বাঁচতে দিলি না। রাতের অন্ধকারে খুবলে খেয়েছিস, জানোয়ারের বাচ্চা। ও চিৎকার করেছে, তুই কন্ঠনালী চেপে ধরেছিস। ও তর কাছে মুক্তির ভিক্ষে চেয়েছে, তুই মুখ চেপে ধরেছিস। মৃত্যুর যন্ত্রনায় ছটফট করেছে তুই পৈশাচিক হেসে নিজের তৃপ্তি মেটাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিস। তকে গালি দিয়ে নিজেকে অপবিত্র করব না। কিন্তু তর রক্ত দিয়ে হাত রাঙ্গাব এইটা সিউর। পাগলের মত খুঁজেছি তকে। সাথে তকে যে বাঁচিয়েছিলো সেই সঙ্গীটাকেও। কিন্তু কিভাবে জানব তর সঙ্গী আমার সারাজীবনের সঙ্গী হয়ে যাবে। যাদের মারার জন্য আমি মরিয়া হয়ে উঠেছিলাম তাদের মধ্যে একজন আমার একজন হয়ে উঠবে। উফফস সরি। আমার একজন নয়। তথাকথিত আমার একজন সে।যে একজন তর মতই সাইকোপ্যাথ। ওর হিসেব আমি পড়ে গননা করব। আগে তর সাথের হিসেবটা তুলে নেই।
এনি থেমে বড় বড় নিশ্বাস নেয়।আজ কেন জানি ভয় করছে খুব। এই রক্ত দেখে সে টিকতে পারবে তো? এনির মাথা ঘুরে আসার উপক্রম। যখন এই নিজের বান্ধুবীর কাতর -রক্তাক্ত মুখটা ভেসে উঠে ঠিক তখনই চোয়াল শক্ত হয়ে উঠে।
জেড রাগে ফুঁশ ফুঁশ করছে। এতটা শক্তভাবে বেঁধেছে যে ছুটার ক্ষমতা হয়ে উঠছে না। এনির দিকে তাকিয়ে ক্ষেপে উঠে,

” কে তুই?
এনি শব্দ করে সামান্য হেসে বলে,
” একজন মেয়ে। যে মেয়েদের তুই ভোগ করতি আমি তাদের বোন। যে মেয়েরা তকে অভিশাপ দিয়েছে আমি তাদের অভিবাভক। তর যম। তর মৃত্যুর ঘন্টা নিয়ে এসেছে। ভাবতে অবাক লাগে তর একটা হাত নেই। ভালোভাবে হাটতেও পারিস না। এই শরীর নিয়ে তর এত শক্তি আসলো কোথা থেকে? রে**প করিস যখন তখন কি হাতের কাজ লাগে না? মানুষ যখন একটা কাজ করে তখন সেটার মধ্যে ভেজাল থাকলে তৃপ্তি আসে না। তর খুঁটিটা ছাড়া সবই তো অচল। খুঁটির সাহায্যে এত অন্যায় করলি কিভাবে? মানতে হয় জানোয়ারের বাচ্চা তর শক্তি আছে।
আর মেয়েগুলোর প্রতিও রাগ হচ্ছে। শালার তর মত পঙ্গুকে এক ধাক্কা দিলেই তো শেষ। হাতের ঠিক নাই -পায়ের ঠিক নাই। এই আধমরা আবার রে**প করত কিভাবে? আমি তো সেটাই বুঝে পাচ্ছি না। মেয়েগুলো ভয় না পেয়ে তকে ঠিকমত ধরলেই তো মরে যেতি। তারা রুঁখে না দাঁড়িয়ে ভয়ে আধমরা হয়ে যায়। এই আইল্যান্ডে কত নৃশ্যংসতা করেছিস কে জানে? আজ তার সমাপ্তি ঘটানো দরকার। অনেক বর্বরতা আর পাশবিক নির্যাতন হয়েছে। শেষবারের মত চালিয়ে খেলাটা বন্ধ করে দিব।
জেডের চোখ ঝাপসা হয়ে আসে। কথা বলতে পারছে না আর। মেডিসিনের রিয়্যাকশন পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে। মাথা এক পাশে হেলে পড়ে। এরপরও ছটফট করছে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে। রাগে নিজের জিহ্বায় কামড় দিয়ে ধরে। জিহ্বা কেটে রক্ত পড়ছে। এনি চোখ ছোট ছোট করে তাকিয়ে আছে।
ছুঁড়ির কর্ণার জেডের গলায় স্লাইড করতে করতে বলে,

” প্রথম কোথা থেকে শুরু করব? তুই চিৎকার করিস না। এই চিৎকার আমি সইতে পারি না। হার্ট দু্র্বল কিছুটা।
এনি বাঁকা হেসে জেডের দুই উড়ুর উপর ছুঁড়ির আঘাত করে প্যান্ট কাটতে থাকে। জেড একদম শক্তিহীন হয়ে আছে। মেডিসিনের রিয়্যাকশন এমনভাবে ধরেছে যে চিৎকার করার শক্তিটাও নেই। পুরো প্যান্ট একটানে ছিড়ে ফেলে। প্যান্টের নিচে আন্ডারপেন্ট দেখে মুখ বাঁকিয়ে বলে,
” তর মত রে*পিস্টের আবার এইসব পড়তে হয় নাকি? তরা এমনিতেই বিনা টিকিটে সবাইকে দেখিয়ে বেড়াস। এইসব পড়ে ঢেকে রাখার আর কিসের প্রয়োজন। এখন এইটা খুলতে আবার কত কষ্ট হবে।
এনি খুলতে গিয়ে ও হাত থেমে যায়। জেডের নিস্তেজ মুখের দিকে তাকিয়ে বের হয়ে যায় রুম থেকে। দৌঁড়ে ছুটে যায় ভয়ানক সেই টর্চার সেলে। যেখানে বিষাক্ত পোকা পাত্রে রাখা হয়েছে। এনি দাঁত চেপে পাত্রগুলোকে হাতে তুলে নেয়। তিনটা পাত্র নিয়ে আবারও ছুঁটে আসে জেডের কাছে। জেড এনির হাতে বিষাক্ত পোকা দেখে ঘাবড়ে যায়। ছটফট করে অস্ফূর্ত আওয়াজে বলে,

” এইগুলো খুব বিষাক্ত। একটা কামড়ে সাথে সাথে মৃত্যু হয়ে যায়। ছ. ছাড় আমাকে। আমি তকে কিছু করব না।
এনি প্রতিশোধের আগুনে এতটাই উন্মাদ ছিলো যে জেডের নীরব কান্না গুলো উপভোগ করছিলো। চোয়াল শক্ত করে বিষাক্ত পোকাগুলো জেডের কাছে নিয়ে যায়। সামান্য ঝুঁকে হিংস্র রমণী তেজী গলায় বলে,
” আমি মেয়ে। তাই পর পুরুষের লজ্জা স্থান দেখার মত পাপ করব না। আর তর মত বেজাতের জিনিস তো দেখতেও চাই না। তবে এইটা ভাবিস না ছেড়ে দিব। অনেক জ্বালিয়েছিস এইবার নিজে মর।
এনি কথাটা বলে কিছু পোকা আন্ডারপেন্ট এর ভেতরে ডুকিয়ে দেয়।
মুহূর্তের মধ্যেই জেড গলা কাটা মুরগীর মত ছটফট করতে থাকে। এক একটা পোকার কামড়ে যেন ওর জীবন বের হয়ে আসছে। একটা চিৎকার যেন প্রতিটা নীরহ মেয়ের চিৎ কারকে ফিরিয়ে দিচ্ছে।
এনির চোখে পানি টলমল করছে। ঠোঁট কামড়ে ধরে বলে,

” কসম করে বলছি যদি চিৎকার শুনার ক্ষমতা আমার থাকত। তবে আমি আনাস্তাসিয়া এনি তকে এমনভাবে কষ্ট দিয়ে মারতাম যে সবাই দেখলে কেঁপে উঠত।আমি ঘুমন্ত মানুষকে মারার সাহস করতে পারি। কিন্তু সজাগ মানুষকে মারতে গেলে আমি নিজেই জ্ঞান হারিয়ে ঢলে পড়ব। তবুও তকে কষ্ট দেখতে চাই। তর যন্ত্রনার আর্তনাদ শুনতে চাই।
জেডের পুরো শরীর ঘেমে যাচ্ছে। গলা কাটা মুরগীর মত ছটফট করছে অনবরত। দড়ির ঘর্ষণে হাত – পা কেটে রক্ত পড়ছে। জিহ্বা বের হয়ে আসতে চাইছে। চোখ উল্টে উপরে আসার উপক্রম। যন্ত্রনায় অস্থির হয়ে জেড আর্তনাদ করে উঠে,
” ছাড়ো আমাকে। সহ্য হচ্ছে না।
এনি অনেক তৃপ্তি পেলো। হেসে বলে,

” এইভাবে কি মেয়েগুলো কাতরাতো? হ্যা, এইভাবেই তো যন্ত্রনায় ছটফট করত। তুই কি ছেড়ে দিতি?উহুম বরং আরও পৈশাচিক ভাবে গলা ফাটিয়ে হাসতি। তৃপ্তি অনুভব করতি মেয়েদের যন্ত্রনায়। মেয়েদের বুকের নরম মাংসে যখন খুবলে ধরতি, তখন আমার বোনগুলো যন্ত্রনায় চিৎকার করে উঠত। আমার বোনগুলোর পেট থেকে যখন কাচা মাংস খুলে চিবিয়ে খেতে তখন তারা কুত্তার মত ছটফট করত। পিপাসায় -যন্ত্রনায় দিশেহারা হয়ে পড়ত। যখন তুই নিজের পৌরষ্যত্ব খাটাতি তখন আমার বোনেরা চিৎকার করে ইজ্জতের ভিক্ষে চাইত। কিন্তু তর মত অমানুষের মায়া হলো না। একবারের জন্য দয়া হলো না তর। তাহলে আজকের দিনে দাঁড়িয়ে ভাবলি কিভাবে তর জন্য মায়া কাজ করবে? আই রিপিট যদি আমি চিৎকারের আওয়াজ সহ্য করতে পারতাম তবে আমি তিলে তিলে মারতাম। তুই একটা মানুষ খেকো বিকৃত মস্তিষ্কের সাইকোপ্যাথ। বেঁচে থেকে মেয়েদের জীবন জাহান্নামে পরিনত করবি তুই শুয়রের বাচ্চা।
এনি চিৎকার দিয়ে উঠে। দাঁড়ালো ছুড়িটা জেডের পেটের ভেতরে ডুকিয়ে দেয়। রক্ত ছিটকে পড়ে মানবীর চোখে-মুখে। এনির চোখ উন্মাদনায় লাল হয়ে উঠে। এই রমণী কি ভয়ানক! রক্তে ফোবিয়া বলে কান্না কাটি করে বুক ভাসিয়ে দেয়। অথচ পর পর কতগুলো খুন করে ফেললো নৃশ্যংসভাবে।
যন্ত্রনায় জেডের জিহ্বা বের হয়ে আসে অর্ধেকটা। চিৎকার করে চেঁচাতে থাকে। জেডের আর্তনাদে দেয়ালগুলো যেন ফেটে যাছে। এনি পেট থেকে ছুড়িটা বের করে জিহ্বায় টান দেয়। পুরোটা জিহ্বা কেটে এনির হাতে চলে আসে। এনি জিহ্বাটার দিকে তাকিয়ে বলে,

” এই জিহ্বা দিয়ে রক্তের স্বাদ নিতি। ছিহহহহ! জাহান্নামে তর মত জানোয়ারের স্থান হোক।
জেডের হাত -পা নিস্তেজ হয়ে আসে। পোকাগুলোর বিষাক্ত কামড়ে পুরো শরীর নীল হয়ে উঠে ধীরে ধীরে। রক্তে লাল হয়ে পড়ে সাদা মেঝে। পুরো শরীর ক্ষত-বিক্ষত। এনি চোখের ভেতরে ছুঁড়ি ডুকিয়ে বিরবির করে বলে,
” এই চোখ দিয়ে হাজার মেয়ের উপর লালসার দৃষ্টি নিক্ষেপ করতি। ধ্বংস হোক এই চোখ ও।
জেডের নড়াচড়া না দেখে এনির মনে সন্দেহ জাগে। নাকের কাছে আঙ্গুল নিয়ে যায়। এনির চোখে-মুখে তৃপ্তির হাসি। দেশ থেকে একটা নরখাদককে মারতে পেরে এনি খুশিতে আত্নহারা হয়ে উঠে। এতদিন জীবিত থাকা এক নরপশুর বিনাস ঘটেছে। এনি ছুঁড়িটা হাত থেকে ছুঁড়ে ফেলে দেয়।।রক্তে তার পুরো শরীর মাখা-মাখি হয়ে আছে। এনির কাছে মানে হলো রক্ত থেকে দুর্গন্ধ আসছে। এইরক্তগুলো পচনশীল দুর্গন্ধ! এনি জেডের ক্ষত-বিক্ষত হয়ে থাকা নীলচে দেহটার দিকে তাকায়। মুখের দিকে তাকানোর আর সাহস হলো না। চোখ দুইটা তুলে ফেলার জন্য প্রচুর বিভৎস্য দেখাচ্ছে।
এনি চোখ বন্ধ করে কান্না করে উঠে,

” তর মৃত্যুর প্রতিশোধ আমি নিতে পেরেছি। জানোয়ারটাকে অনেক কষ্ট দিয়ে মেরেছি। তুই দেখতে পাচ্ছিস তো? এলিসা দেখ তর মৃত্যুর বদলা নিয়েছি। কুত্তার বাচ্চাটা আর বেঁচে নেই। তুই আমাকে বলেছিলি আমি যাতে ওকে খুব কষ্ট দিয়ে মারি। দেখ বোন আমার, অনেক কষ্ট দিয়ে মেরেছি। তুই শান্তি পাচ্ছিস তো? খুশি হয়েছিস তুই? জান আমার!
এনি ডুকরে কেঁদে উঠে। পুরোটা ঘটনা বলে এনি আর নিজেকে সামলে রাখতো পারলো না। কাঁদতে থাকে শব্দ করে। নিকের সহ্য হলো না এই কান্না। তবুও নিজেকে সংযত করে বলে,
” ফা*ক অফ বেবিগার্ল। কান্না থামাও।
এনি চোখ তুলে তাকায় নিকের দিকে। নিকের শক্ত দৃষ্টি। কন্ঠে শীতলতা এনে বলে,
” ওর লাশ তাহলে এসিডে পুড়া পেয়েছি কেনো?
এনি চোখের পানি মুছে বলে,
” ওকে মেরেও আমার তৃপ্তি আসছিলো না। এসিড দিয়ে জ্বালিয়ে দেয় পুরো শরীর। বাকি অংশগুলো দরজার সামনে টাঙ্গিয়ে রাখি। গ্যাংস্টার বসের যাতে নজরে পড়ে আর সে এই রুমে আসে।
নিক কথাগুলো শুনে গ্রিবাদেশ নাড়ায়,

” সুপার ট্যালেন্টেড। আমাকে কি দিয়ে মারবে? পোকা?নাকি এসিড?
এনির বুকটা ধুক করে উঠে। কলিজায় যেন কেউ খামছে ধরে রেখেছে। ঢোক গিলে এনি,
” এত তাড়া কিসের? আঘাত করব বলেছি। প্রানে মেরে ফেলব কখন বললাম?
নিক ঠোঁট বাঁকায়,
” আমাকে বাঁচিয়ে রাখবে কেনো?
এনির কন্ঠ শক্ত হয়ে আসে,
” শয়তানকে আল্লাহ নিজের হাতে মারবেন। তেমন আমি চাই আপনি আল্লাহর হাতে মরেন। আমি মেরে কেনো স্বামী হত্যার পাপ নিজের ভাগ্যে লাগাব?
নিক মৃদু হাসলো। হাসতে হাসতে হুট করে চোখ -মুখ কঠিন হয়ে উঠে,
” আমার শাস্তি কি শেষ? নাকি আরও চাবুকের আঘাত করবে।করলে দ্রুত করে ফেলো। আমি একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ কাজ করব। অনেক কষ্টে নিজেকে নিয়ন্ত্রন করে রেখেছি।
এনি উঠে দাঁড়ায়। নিজের অধম্য সাহসটাকে সঞ্চয় করে বলে,
” এই মুহূর্তে আপনার মিনার থেকে বের হয়ে যাব। আর আপনি তাকিয়ে তাকিয়ে দেখবেন। অথচ কিছু করতে পারবেন না। এর থেকে বড় কাজ আমার জন্য কিছুই নেই।
নিক ঠোঁট কামড়ে হাসলো। সামান্য নড়েচড়ে বসে বলে,

” ওকে। দরজা পর্যন্ত যেতে পারলে খোদার কসম আমি তোমাকে নিজে দায়িত্বে ইরান রেখে আসব।
নিকের এমন শান্ত গলায় কেঁপে উঠে এনির শরীর। ঠোঁট ভিজিয়ে বলে,
” শান্তভাবে হুমকি আপনি ভালোই দিতে পারেন। শত্রুকে বুঝি এইভাবেই ফাঁদে ফেলেন?
নিম সামান্য হেসে বলে,
” তুমি আমার শত্রু?
” তার থেকে কম নয়।
” শুত্রুর সাথে শুতে পারো, তোমার তো আনন্দে নাচার কথা। আজ পর্যন্ত কেউ পারে নি কোনোদিন। তুমিই প্রথম পেরেছো এমন কঠিন কাজ।
এনি কাঁপা গলায় বলে,

” মজা করছেন আমার সাথে? এতগুলো চাবুকের আঘাত খেয়েও জ্ঞান হারান নি কেনো? একটু আগে তো ঝিমুচ্ছিলেন। ভেবেছিলাম জ্ঞান হারিয়ে ফেলবেন। আর এই সুযোগে আমি পালাব। এত আঘাত খেয়েও ক্লান্তির ছাপ নেই কেনো? ছেড়ে দেওয়ার ভিক্ষে নেই কেনো?
নিক বাঁকা হেসে বলে,
” তুমি যে আঘাত গুলো আমার উপর প্রয়োগ করেছো তা বহন করা আমার দৈনিক রুটিন। আমি তো ভেবেছিলাম আরও দিবে। কিন্তু মাত্র বিয়াল্লিশটা -পঞ্চাশটা চাবুক মেরে হাঁপিয়ে উঠবে ভাবিনি। তুমি ভালোভাবে আঘাত করতে পারো না বেবিগার্ল!
আশ্চর্য,পালিয়ে যাচ্ছো না কেনো? শুনলাম জেড নাকি তোমার কোমড়ে স্পর্শ করেছে? এমনকি গলায়, হাতে ও ছুঁয়ে দিয়েছে। কিভাবে ছুঁয়েছে?
নিক একদম শান্তভাবে প্রশ্ন গুলো করছে। কিন্তু এনির ভেতরে তান্ডব চলছে। নিকের হাত -পায়ের শিকল নিজ থেকেই সব খুলে যাচ্ছে। পায়ের শিকল খুললে নিক পা -টাকে লম্বা করে বাঁকা হাসে। মুহূর্তের মধ্যে হাতের শিকল ও খুলে যায়। এনির মাথা ঝিমঝিম করে উঠে। এনির পুরো শরীর কাঁপছে ভয়ে। কাঁপা গলায় উচ্চারন করে,
” খ… খুলেছে কিভাবে?
নিক ঠোঁট কামড়ে ঠান্ডা গলায় বলে,

” আমি খুলেছি তাই।
” ক… কিন্তু আপনি খুলেছেন কিভাবে? আপনার হাত- পা তো বাঁধা ছিলো?
নিক বাজপখির ন্যায় তাকিয়ে বলে,
” পালিয়ে যাবে না বেবিগার্ল? তোমাকে তিন সেকেন্ড সময় দিচ্ছি। এর ভেতরে দরজার বাহিরে যেতে পারলে আজীবনের জন্য ছেড়ে দিব।
নিকের শান্ত মেজাজ এনির ভেতরে তুফান ছড়াচ্ছে। নিশ্বাস যেন বন্ধ হয়ে আসছে তার।
” কিভাবে খুললেন?
নিক ঠোঁট কামড়ে হেসে বলে,
” গ্যাংস্টার বস নিক জেভরানকে কতটুকু চিনো তুমি বেবিগার্ল? এখানের প্রতিটা জিনিস আমার ইশারাতে চলে। তুমি যে রাস্তা দিয়ে হাটছো সেই রাস্তা আমি বহু আগেই কঠিনভাবে পার করে এসেছি। গ্যাংস্টার বসের একটা হুংকারে সবাই নেতিয়ে যায়। এমনি এমনি ক্ষমতা আসে নি বেইবি। তুমি যে শিকল দিয়ে আমাকে বেঁধেছো। এই শিকল ইলেক্ট্রিক শিকল। মেইন জায়গায় আমার আঙ্গুলের ছোঁয়া লাগলেই খুলে যায়।
এনির মাথা ভঁন -ভঁন করে উঠে। কান্না করে দিবে ভয়ে যে কোনো মুহূর্তে,
” যদি এমন হয় তবে এতগুলো চাবুকের আঘাত কেনো খেলেন?
নিক ঠান্ডা গলায় বলে,

” তুমি চাইছিলে তাই। মাঝে মাঝে ঘরের লোকের হাতেও মাইর খেতে হয়। নাহলে শা**ও য়ায় এনার্জি আসে না।
এনির শরীর দিয়ে ঘাম হচ্ছে। এতক্ষন কেউ এইভাবে বসে থেকে মাইর খায়? লোকটা চাইলেই তো শিকল খুলে এনির গলা টিপে ধরতে পারতো। কিন্তু সেটা না করে অনবরত রক্তাক্ত হয়েছে। এখন কি হবে তার সাথে?
এনি অবিশ্বাস নিয়ে তাকায় নিকের দিকে। থরথর করে কাঁপছে তার শরীর। নিকের শরীরে আঘাতের চিহ্নে ফুলে উঠেছে । লাল রক্ত জমাট বেঁধে কালো হয়ে গেছে।শান্ত কথার পিছনে কেমন হুমকি লুকিয়ে আছে এনির জানা নেই। তবে এই মুহূর্তে পালিয়ে যাওয়াটাকে উত্তম মনে হলো। তিন সেকেন্ডে সে পার হয়ে যাবে তার সন্দেহ নেই। এনি পালাতে যাবে এমন সময় নিক বলে উঠে,

” তিন সেকেন্ড শেষ। বলেছিলাম পালাতে কিন্তু তুমি পারো না। তাই তোমাকে আর ছাড়ব না।
এনির পা থেমে যায়। ঘাড় ঘুরিয়ে বলে,
” সময় কাউন্ট হলো কখন? আমি তো এক পাও রাখতে পারি নি।
” যখন বলেছি তখন থেকে সময় কাউন্ট করেছি
এনি কিছু বলতে গিয়ে থেমে যায়। নিকের মুখ -চোখ দেখে চোখ বন্ধ করে ফেলে। সেই আগের হিংস্রতা চোখে-মুখে।
নিক এনির কোমড় পেচিয়ে ধরে শক্তভাবে। গলায় স্লাইড করতে করতে বলে,

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৪৭

” পর পুরুষ লালসার দৃষ্টি দিয়েছে? কোমড় – গলা- পেট ছুঁয়ে দিয়েছে। কি করা উচিত তোমাকে বেবিগার্ল। এক কাজ করি চলো, শরীরের চামড়া খুলে ফেলি তোমার। এতে আমি অনেক শান্তি পাব। আর নয়ত নগ্ন হও। আমার রক্ত দিয়ে তোমার শরীর রাঙ্গিয়ে তুলো। আমার উন্মাদ মনে শান্তির প্রয়োজন।নাহলে ধ্বংসলীলা চলবে এই শহরে।

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৪৮