Home লাভ বাই দ্যা ভিলেন লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৫৬ (২)

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৫৬ (২)

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৫৬ (২)
লিজা মনি

নিকের হাত কেটে একদম ক্ষত হয়ে আছে। হাত দিয়ে খাবে কিভাবে এইটা ভেবে এনি রুম থেকে বের হয়।
নাজলীকে ডিভানে বসে থাকতে দেখে থমকে যায়। মস্তিষ্ক কাজ করা যেন বন্ধ করে দিয়েছে। নিজের কল্পনা ভেবে মন খারাপ করে ফেলে। নাজলী মুচকি হাসি দিয়ে তাকিয়ে আছে এনির দিকে। তার চোখে পানি টুইটুম্বুর। এনি চোখের পাতা নাড়ায়। নাজলী এখানে আসা অসম্ভব। দেড় বছর ধরে সে এখানে বন্দী আছে। কখনো কাউকে আসতে দেখে নি। তাছাড়া তার আপা এখানে আসবে কিভাবে? এইটা নিশ্চই তার কল্পনা! এনির শ্বাস দ্রুত উঠানামা করতে থাকে। শক্ত করে সিঁড়ির রেলিং চেপে ধরে। মনের অজান্তেই ডেকে উঠে,

” আপা, তুমি?
নাজলী চোখের পানি মুছে হেসে দেয়। দুই হাত বাড়িয়ে বলে,
” খুশি হস নি? নাকি আমার অস্তিত্ব বিশ্বাস হচ্ছে না?
এনি আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারে নি। ঝড়ের বেগে ছুটে যায় নাজলীর কাছে। এনিকে এইভাবে আসতে থেকে ভয়ে হতভম্ভ হয়ে যায়। সিঁড়ি থেকে হোচট খেয়ে পারে যাবে, সেটা ভেবে সে আরও এগিয়ে যায়। এনি ঝাপ্টে ধরে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠে।
” আপা, আই মিস ইউ। প্রতিটা মুহূর্ত তোমার কথা মনে হয়েছে। তুমি জানো অন্ধকার রুমে যখন কাউকে খুঁজে পেতাম না তখন আতঙ্কে দিশেহারা হয়ে পড়তাম। তুমি কেনো আসলে না এতদিন? আমাকে কেনো এখান থেকে নিয়ে গেলে না?
নাজলী বোনের মাথায় চুমু খায়। শান্তনা দিয়ে বলে,

” শান্ত হ। সেদিন এইতো দেখা হলো। এমনভাবে কেঁদে অভিযোগ করছিস যেন আজ প্রথম দেখা। মাফিয়া গন্ডি পেরিয়ে ভেতরে ডুকার ক্ষমতা কি আমার আছে? কিভাবে নিয়ে যেতাম তকে? এখান থেকে উদ্ধার করতে কি না করেছি? দিন -রাত এক করে পাগলের মত ছুটেছি। একটা ক্রিমিনালের কাছে বিসর্জন দিয়েছি তর সাথে একটু দেখা করব ভেবে। কিন্তু আফসোস সেই দেখাটাও হলো না। যা কিছু করেছি সব তাদের ক্ষমতার কাছে তুচ্ছ ছিলো।
এনি কিছুটা শান্ত হয়ে আসে। নিকের কথা মনে হতেই কান্না অফ করে দেয়। নাজলীর দিকে তাকিয়ে বলে,
” ক্রিমিনালের কাছে বিসর্জন দিয়েছো মানে? আরিশ ভাইয়ার কথা বলছো?
” হ্যা।
” তুমি কি এখনও উনার কাছে আছো আপা?
” আছি।
” ইরান চলে যাবে কবে?
নাজলী আহত চোখে তাকায় এনির দিকে। এনির চোখের পানি মুছে বলে,
” তকে একা রেখে কিভাবে যায় আমি?
” অপেক্ষা করছো আমার জন্য?
” তকে ছাড়া থাকতে পারব?
এনি মলিন হেসে বলে,
” এই অপেক্ষা যে ফুরাবে না আপা। তোমার বোন কোনোদিন মুক্ত ভাবে দুনিয়া দেখতে পারবে না। কিসের এত অপেক্ষা?
নাজলী বোনের হাতে চুমু খায়,

” আল্লাহ চাইলে সব হবে।
এনির ঠোঁট কাঁপছে। নিজেকে শক্ত করে বলে,
” আমার জন্য বাহিরের জগত একটা অভিশাপ আপা। চারপাশে অশুভ আত্না ছিটিয়ে আছে। মৃত্যুর আগে পর্যন্ত আমাকে এইভাবেই বন্ধী জীবন পার করতে হবে। মুলত বাহিরের জগত আমার জন্য অভিশাপ নয়। আমি নিজেই একটা অভিশাপ। আমার জন্য তুমি নিজের পথচলা থামিয়ে রেখো না।
নাজলী মলিন হেসে বলে,
” পর করে দিচ্ছিস?
এনি আবার ও ফুঁপিয়ে উঠে,
” আমি আর পারছি না এই জীবন কাটাতে। দম বন্ধ হয়ে আসছে। একটা রুমে আদ’ও বাঁচা যায়? আমি ও তো রক্ত -মাংসে তৈরি সৃষ্টি। তবে আমি কিভাবে আর -পাঁচজনের থেকে আলাদাভাবে বাঁচত পারব? কষ্ট হয় আপা প্রচুর। কাঁদতে ইচ্ছে করে চিৎকার করে। অথচ সেই চিৎকার করে কাঁদার অধিকার ও আমার নেই। প্রতিনিয়িত ধুমড়ে -মুচড়ে শেষ হয়ে যাচ্ছি। আমি মরে যাচ্ছি আপা। দেখবে একদিন সত্যি মরে গিয়েছি।
নাজলী আচমকায় বুকে টেনে নেয়। কাঁপা গলায় বলে,
” এইসব কি বলছিস? আমার সামনে এইসব বলতে কষ্ট লাগে না তর? আমি কিভাবে থাকব?
এনি শ্বাস টানে হেচকি তুলে ফেলে,

” অসহায় হয়ে পড়েছি। এতটা অসহায় যে গন্তব্য খুঁজে পাচ্ছি না। আজ বুঝলাম মৃত্যুর সাজা কেনো যাবত জীবন কারাদন্ড দেয়। বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ একটা অন্ধকার রুমে বন্ধী থাকার শাস্তি ফাঁশির শাস্তির থেকেও ভয়ানক। তিলে তিলে ধ্বংস করে দেয় এইটা। দুনিয়া না দেখার হহাকার শুধু চামড়া না ভেতরটাও পুড়িয়ে ছাই করে দেয়। ফাঁসি দিলে তো দশ মিনিটের কষ্ট। কিন্তু এই বন্ধী দশা তো নিশ্বাস বন্ধ হওয়ার আগে পর্যন্ত।
নাজলী এনির মাথাটা নিজের বুকের সাথে চেপে ধরে রেখেছে এখনও। মমতার সুরে বলে,
” শান্ত হ। কান্না থামা এখন। এসেছি তো আমি তর কাছে। আর কিসের এত কষ্ট! আমি তকে কারাদন্ড জীবন থেকে মুক্তি দিব।
এনি মাথা তুলে। চোখের পানি মুছে বলে,

” আমার ভাগ্যে মুক্তির তালিকা নেই। চোখের সামনেই তো দেখলে মেহেরের লাশ। মেয়েটাকে এরা বাঁচতে দিলো না। আরিশ ভাইয়াকে যতটা শক্ত দেখতে পাচ্ছো সে কিন্তু অভ্যন্তরীনভাবে ততটা শক্ত নয়। আমি জানি সে মেহেরকে কতটা ভালোবাসত। ভুল করে হলেও একবার চোখের দিকে তাকিয়ে দেখো। হাহাকার ছাড়া আর কিছুই দেখতে পারবে না। আরিশ ভাইয়া ঠিক নেই আপা। উনি ভেতরে দুমড়ে -মুচড়ে যাচ্ছে। হ্যা, এইটা ঠিক আমি ওদের প্রচন্ড ঘৃনা করি। ওরা এক একটা নরপিশাচ! কিন্তু ঘৃনা করলেই তো বাস্তবতা বদলে যাবে না। উনি ভালো নেই আপা। মেহেরের সাথে বিরোধী দলের কোনো শত্রুতা ছিলো না। ফুলের মত কোমল হৃদয়টাকে ওরা বাঁচতে দিলো না। তোমার কি মনে হয় আমাকে বাঁচতে দিবে?
নাজলীর মনটা বিষিয়ে উঠে। সত্যি হয়ত লোকটা পাথর চাপা দিয়ে হাসছে। কত অভিশাপ দিয়েছিলো সে। সত্য সত্যি সেই অভিশাপ ফলে যাবে কে জানত! নাজলী দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বলে,
” সৃষ্টিকর্তা যা ভাগ্যে লিখেছেন সেটাই হবে। তুই কি ভয় পাচ্ছিস এনি?
এনি হেসে বলে,

” ভয় শব্দটা আমার সাথে যায় না আপা। যে বয়সটা ছিলো ভয় পাওয়ার তখন এই তো পায় নি। হাত রাঙ্গিয়ে দেশ ছেড়েছিলাম। গননা করতে গেলে বিশ জনের ও বেশি খুন করেছি আমি। কাগজে শুধু খুনের সংখ্যা ভারী হচ্ছে। সব গুলো খুন ছিলো আত্নরক্ষা আর প্রতিশোধের। নিজের সম্মানটা যাতে কোনো শকুন নিতে না পারে তার জন্য এত লড়াই। শেষ পর্যায় এসে শকুনদের আহার হয়ে যাব? এরা শুধু প্রানে মারবে না আপা। প্রথমে ইচ্ছে মত খুবলে খাবে। এরপর… এ..এরপর জঘন্যভাবে মারবে। এত লড়াই করে কি লাভ? যদি শেষে সেই শকুনের এই আহার হতে হয়!
নাজলী এনির ফ্যাকাশে মুখটার দিকে তাকায়। মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলে,
” দুনিয়া একদিকে হয়ে যাক। তর প্রতিটা যুদ্ধে আমি তর দিকে থাকব। খেয়েছিস কিছু?
এনি মাথা দুই দিকে নাড়িয়ে বলে,
” খাওয়া হয় নি এখনও।
” এত সময় হলো এখনও খাস নি কেনো?
এনি এদিক -সেদিক তাকিয়ে বলে,
” খিদে নেই আপা। খেতে ইচ্ছে করে না। কতদিন হয়ে গেলো তোমার হাতের রান্না খায় না। অনেক মিস করেছি। তোমার হাতের সেই সুস্বাদু ডাল রান্না করবে?
নাজলী হেসে বলে,

” অবশ্যই। কিচেন কোনদিকে শুধু একবার বল।
এনি জড়িয়ে ধরে বলে,
” ধন্যবাদ আপা। আই লাভ ইউ।
এই সামান্য জড়িয়ে ধরা দৃশ্যটা ও যে কারোর কলিজায় আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে এইটা কি এনি জানে? উহুম, জানলে হয়ত ভয়ে অন্তত এই ব্যক্তিটার সামনে জড়িয়ে ধরত না। নিক উন্মাদের মত ঘাড় ঘষে চুল ঠিক করে। এনির মুখের এই হাসিটুকু পর্যন্ত ওর সহ্য হচ্ছে না। অতিরিক্ত রাগে চোখ-মুখ কেমন ভয়ানক হয়ে উঠেছে। নিকের এমন রিয়্যাকশন দেখে আরিশ শুষ্ক ঢোক গিলে। কেনো যে নিয়ে আসতে গেলো, এখন ভয় হচ্ছে। আরিশের নিকের কাধে হাত রেখে কাতর গলায় বলে,
” প্লিজ ভাই শান্ত হ। দুইজন তো বোন। সামান্য হাগ করাটা স্বাভাবিক। আমার জন্য অন্তত নিজেকে নিয়ন্ত্রনে রাখ। প্রমিস করছি দুই দিনের ভেতরে নাজলীকে নিয়ে চলে যাব।
নিক দাঁত পিষে শক্ত গলায় বলে,

” দ্রুত নিয়ে যা। নাহলে অনেক অঘটন ঘটে যাবে। খুব ভালো করেই জানিস আমার নিয়ন্ত্রন নেই।
আরিশ অসহায় গলায় বলে,
” সে আমার স্ত্রী।
নিক আরিশের দিকে তাকিয়ে কপাল ভাঁজ করে তাকায়,
” কবে থেকে স্ত্রী মানা শুরু করেছিস?
আরিশ থমথমে খেয়ে বলে,
” মনে-মনে স্ত্রী না। উপরে – উপরে স্ত্রী আরকি।
নিক বিরক্তি হয়ে ধমকে উঠে,
” শালা মাদার্ফা*ক! নিজের বিবাহিতা বউকে নিজের বউ বলতে দ্বিধাবোধ করিস। তর পুরুষ্যত্বের ঠিক আছে তো?
পুরুষ্যত্ব নিয়ে খোঁটা শুনতেই আরিশ তেঁতে উঠে,
” খবরদার এইসব নিয়ে আঙ্গুল তুলবি না। যা সত্যি তাই বলেছি। দুই দিন পর চুক্তি শেষ। আর এই খেলাও শেষ।
নিক চোখ ছোট ছোট করে বলে,
” দুই দিন পর চুক্তি শেষ হয়ে যাবে? তাহলে তার নিরাপত্তা দিতে এখানে এনেছিস কেনো? শালা!
আরিশ আড় চোখে তাকিয়ে বলে,

” এইসব বাদ দে। যেদিন চাচা বানাব সেদিন তর সাথে এইসব নিয়ে আলোচনা করব। আপাযত নিজের রাগটা আর জেলাসিটাকে কন্ট্রোলে রাখিস। মনে রাখিস তর এই অসুস্থ চিন্তাধারা এনি অনুমান করতে পারলে সে আরও অস্বস্তিতে পড়ে যাবে। যায় একটু মন বসেছে এখানে, এরপর সেটাও চলে যাবে। ও কিন্তু জানে শত্রুদের বাঁচাতে এইভাবে বন্ধী করে রেখেছিস। কিন্তু তুই যে কত বড় সাইকো সেটা তো ও জানে না। বোন থেকে বোনকে আলাদা করিস না। যত রাগ আছে সব টর্চার সেলে গিয়ে মিটিয়ে নিবি। প্লিজ, এখানে অন্তত নিজের আসল রুপ প্রকাশ করিস না।
নিক রক্তচক্ষু ন্যায় তাকায়। শার্টের কলার চেপে ধরে শক্তভাবে,
” আমাকে বহুরুপী মনে হয় তর? অভিনয়ে পটু হলেও এইসব নিয়ে আমি অভিনয় করি না।গ্যাংস্টার বস কারোর মন রক্ষার্থে বহুরুপ ধারন করে না। সে যা সেটা বাস্তবে সবাই দেখতে পায়।
আরিশ তপ্ত শ্বাস ছাড়ে। নিক আরিশকে ছেড়ে দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। যাওয়ার আগে বলে যায়,

” আমার বউয়ের দিকে ফিরেও তাকাবি না
আরিশ অবাক হয়ে বলে,
” বোনের মত হয়। তুই সন্দেহ করছিস আমাকে?
নিক শক্ত গলায় বলে,
” নীলকুমারী ডেকেছিলি কাকে? কিসের ভিত্তিতে ডেকেছিলি? অতীত মনে করাবি না। রেগে খুন ও করে ফেলতে পারি তকে।
আরিশ মাথা চুলকে বলে,
” আর কত ক্ষমা চাইব। ওইসময় জানতাম না এই মেয়েই যে তর নারী। জানলে চোখ দেওয়া তো দুরের থাক বোন বলে মাথায় তুলে রাখতাম।
” মা ডাকবি।
নিক ধমকে উঠে। আরিশ হতভম্ভ হয়ে যায়। বন্ধুর বউ আবার মা হয় কিভাবে?
নিক ভেতরে প্রবেশ করতেই সাথে সাথে এনির হাস্যজ্জল মুখটা চুপসে যায়। পুরো চেহারায় আতঙ্কে বাসা বাঁধে।।শক্তভাবে নাজলীর হাত চেপে ধরে। নিক ঠোঁট কামড়ে তাকায় সেদিকে। গ্রিবাদেশ নাড়িয়ে সোজা উপরে চলে যায়। এক মুহূর্তেও অপেক্ষা করলো না। যাওয়ার আগে এনিকে আদেশ করে,

” রুমে আসো।
এনি ভয়ে শিউরে উঠে। কন্ঠ এত ধারালো কেনো? উনি কি আপাকে বের করে দিবে? আচ্ছা, মেইড আজ আসলো না কেনো? ওকে কি সত্যি সত্যি মেরে ফেলেছে? দোষ না করেও কি মেয়েটা শাস্তি পেয়েছে! মেয়েটার যদি কিছু করে থাকেন তবে এর মূল্য আপনি বাজেভাবে দিবেন নিক জেভরান! এক নিরীহ মেয়ে মারার কোনো রাইট নেই আপনার।
এনি নাজলীর দিকে তকিয়ে বলে,
” আমাকে এখন এই যেতে হবে আপা। তুমি কিন্তু কোথাও যাবে না। অনেক কিছু বলার আছে তোমাকে।
নাজলী মলিন হাসে। আরিশ এনির দিকে না তাকাকেও হেসে বলে,
” তুমি অনেক সাহসী এনি। গ্যাংস্টার বসকে চাবুক মারার মত সাহস দেখিয়েছো।
এনির বুকটা কাঁপে এই কথা মনে হলে। জেডকে এত জঘন্যভাবে মেরেছে। একবার ও অনুশুচনা কাজ করে নি। অথচ এই ক্ষেত্রে কেনো এত হাঁপিয়ে উঠে সে!

” মেরেছি।
“অনেক সাহসী।
আরিশের গলায় ছিলো বিদ্রুপের সুর। এনি বুঝে হেসে বলে,
” মাফিয়াদের সামনে নিলামে উঠা মেয়েটাকে সাহসিকতা শিখাচ্ছেন মি, আরিশ ইলহাম? হাজারবার ধর্ষণ হতে গিয়েও বেঁচে ফিরেছে তার ধর্ষণ আর কি দেখবেন? নারীদের সাহসিকতা নিয়ে প্রশ্ন করতে নেই। তারা ভালোবাসা পেলে অমৃত আর না পেলে বিষ।
এনি আর দাঁড়ায় নি। দ্রুত উপরে চলে যায়। নাজলী চিন্তিত হয়ে ডিভানে বসে পড়ে। পাশেই আরিশ অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে এনির যাওয়ার দিকে। নাজলী বিরবির করে,
” বিয়াদব আর অসভ্য!
আরিশ কপাল কুচকায়,
” কি করেছি আমি?
নাজলী বিরক্ত হয়ে বলে,
‘ আপনাকে কি বলেছি?
” এই মাত্র গালিগুলো দিলে কাকে?
” আপনার প্রানের বন্ধুকে।
আরিশ তপ্ত শ্বাস ছাড়ে। নাজলীকে উদ্দেশ্য করে বলে,

” আমাদের পর এই প্রথম কেউ মিনারের ভেতরে পা রেখেছে। বুঝতে পারছো এই মিনারের নিরাপত্তা ঠিক কতটা প্রখঢ়! ছাদের প্রতিটা কোণায় দেহরক্ষী রাখা। আইল্যান্ডের কোথায় কোথায় গোপন ক্যামেরা থেকে শুরু করে গার্ড রাখা আছে নিক ছাড়া কেউ জানে না। এমনও হতে পারে মাটির নিচে গর্তে লুকিয়ে আছে। চারপাশে অসংখ্য গার্ড। এখানে একটা পোকা প্রবেশ করলেও সাথে সাথে সংবাদ চলে যায় সবার কাছে। ছলচাতুরী এখানে বিলাসিতা। একবার যদি কেউ যাস্ট ভাবে বিরোধী দলের সাথে হাত মিলাবে তবে মিলানোর আগেই তার মস্তিষ্ক দেহ থেকে আলাদা হয়ে যায়। কারন মানুষ সব কিছুর প্রমান একটু হলেও রেখে দেয়। আর সেই প্রমান থেকেই কালপ্রিট ধরা যায়। এই আইল্যান্ডে কারোর ক্ষমতা নেই ডুকার। তুমি ডুকেছো আমার কারনে। এনির থেকে দুরত্ব নিয়ে চলবে।
নাজলী আরিশের চোখে চোখ রেখে বলে,

” এখানের নিরাপত্তা নিতে আসা আমার মুল উদ্দ্যেশ্য নয়। আমি যাস্ট আমার বোনের কাছে এসেছি। এত নিরাপত্তার পিছনেও কোনো ইতাহাস হয়ত লুকিয়ে আছে। কি আছে এই আইল্যান্ডে? নিশ্চই পাপের সম্রাজ্য এইটা!
আরিশ কাঁধ নাড়িয়ে হাসে। নাজলীর নাকে খুঁচা দিয়ে বলে,
” বুদ্ধিমতী মেয়ে। এইতো বুঝে গিয়েছো সবটা। এই আইল্যান্ডের প্রতিটা ইটের কণা আর ধুলির মধ্যে লেগে আছে হাজার ও লোকের চিৎকার, আর্তনাদ আর হাহাকার। এখানে আমাদের টর্চার সেল। এখানে আমাদের পাচার কেন্দ্র! আর এখানেই আমাদের মুল অনৈতিক কাজের শুরু! এই আইল্যান্ড মানেই যন্ত্রনার এক ইতিহাস! আর কি জানতে চাও? সহজ ভাষা বলে দিলাম সব।
নাজলীর ইচ্ছে করছিলো মুখে থু থু দিতে।।রাগে দাঁত চেপে বলে,
” জীবন্ত নরপশু হয়ত আপনাদের এই বলে। এত পাপ করে খারাপ লাগে না? ঘুমানোর সময় মনে হয় না এত পাপ আমি কিভাবে করছি?
আরিশ গম্ভীরতা টানে,

” অবশ্যই মনে হয়। যখন মনে হয় তখন ভাবি এত পাপ আমি মস্তিষ্ক আর হাত দিয়ে করছি।
আরিশের ঠাট্টা নাজলীর সহ্য হলো না। রেগে বলে,
” আপনাদের এই কর্মফল ওই বাচ্চা মেয়েটাকে ভোগ করতে হয়েছে। হাজারটা নারীর কান্নার কারন হন আপনারা। প্রকৃতি হিসেব রাখে। আর সময় হলে তার সঠিক জবাব দেয়। অন্যকে কাঁদিয়ে আপনিও কেঁদেছেন। এখনও মনে মনে অস্থির হয়ে আছেন নিজের বোনের জন্য। এইটা থেকে শিক্ষা হচ্ছে পাপ -বাপকেও ছাড়ে না। এক জীবনে একবার হলেও নিজের শরীরে এসে কো**প পড়ে। খারাপ লাগছে, কষ্ট হচ্ছে কি জানেন? মেয়েটাকে আমিও ভালোবেসে ফেলেছিলাম। তাই আমার ও আত্না কেঁদেছে। নাহলে আপনার এই হাহাকার দেখে গলা ফাটিয়ে হাসতাম।
আরিশের চোখ-মুখ জ্বলে উঠে। নাজলীর দিকে ঝুঁকে চোয়াল চেপে ধরে দাঁত কিড়মিড়ায়,

” একবার ও যদি তুমি হাসতে তবে আল্লাহর কসম করে বলছি জিন্দা কবর দিতাম তোমাকে। দুনিয়ায় আমি শুধু এই মেয়েটাকে এত আগলে রেখেছি। নাহলে আমার এই উত্তপ্ত জীবনে কোনো মমতার স্থান নেই। এইবার ভেবে নাও মেয়েটা আমার জন্য কি ছিলো। আর তার মৃত্যুতে হাসা ব্যক্তিটার ঠিক কি বিকৃত অবস্থা করতাম তার ধারনাও নেই তোমার।
নাজলী চোখ-মুখ খিঁচে ফেলে। আরিশের বুকে ধ্বাক্কা দেয় সরিয়ে দেওয়ার জন্য। আরিশ সরে এসে উঠে দাঁড়ায়। আঙ্গুল দিয়ে উপরে ইশারা দিয়ে বলে,
” বামের রুমটা আমার জন্য বরাদ্দ। দুই দিনের জন্য তোমাকে দান করলাম। ওয়ার্নিং দিচ্ছি অতিরঞ্জিত কিছু করবে না। এনি একসময় তোমার বোন ছিলো কিন্তু সে এখন অন্যের দখলে। যা করবে ভেবে চিনতে করনে। অনেক বুদ্ধিমতী মেয়ে তুমি। অল্পতেই বুঝে নাও।
আরিশ আর দাড়ালো না। বড় বড় পা ফেলে মিনার থেকে বের হয়ে যায়। নাজলী চোখ বন্ধ করে বড় বড় নিশ্বাস টানে। সে এখন কি করবে হয়ত নিজেও জানে না।

এনি মাথা নিচু করেই রুমের ভেতরে প্রবেশ করে। নাজলীকে দেখে উত্তেজনায় জিজ্ঞাসা করতেই ভুলে গিয়েছিলো হুট করে সে কেনো আসলো এখানে? নিক ডিভানে বসে মাথা চেপে ধরে আছে। পাশেই অনেক জিনিস ভেঙ্গে পড়ে আছে।রুমের চারপাশে তাকাতেই হতভম্ভ হয়ে যায়। এত সুন্দর গুছানো রুমটার এই অবস্থা হলো কিভাবে? এনি সাহস নিয়ে বলে,
” আপাকে নিয়ে আসার জন্য থ্যাংক্স।
নিক উত্তর করলো না। নিকের এমন শান্ত ব্যবহারে এনি অবাক হয় প্রচুর। পর পর আবার বলে,
” চার পাশে এত জিনিস ভেঙ্গেছেন কেনো?
নিকের ধারালো কন্ঠস্বর,
” ইচ্ছে হয়েছে তাই ভেঙ্গেছি, তাতে তোমার কি? বোন রেখে এলে কেনো?
এনি কপাল কুচকে তাকায়। নিকের চোখ দেখে ভড়কায়। কি ভুল করেছে সে? এইভাবে রেগে আছে কেনো? চোখের পাতা নাড়িয়ে বলে,
” আপনার কেনা জিনিপত্র আপনি ভাঙবেন এইটাই স্বাভাবিক। আমি বলার কে? যায় হোক, আপনি’ই তো বলেছেন আসার জন্য।
নিক ঝড়ের বেগে এসে এনি বাকানো কোমরটা ধরে নিজের সাথে মিশিয়ে নেয়। হঠাৎ আক্রমনে এনি হতভম্ভ হয়ে যায়। নিকের ঘন নিশ্বাস দেখে এনি অবাক হয়। নিক এনির গলায় মুখ নিয়ে বলে,

” সিইং ইউ উইথ সামওয়ান এলস ড্রাইভস মি ইনসেইন। আই নো আই’ম ফ্লড। বাট আই রিফিউজ টু শেয়ার ইভেন আ ফ্র্যাকশন অফ ইউ। কারোর সাথে কথা বললে সব ধ্বংস করে দিতে ইচ্ছে করে। কি করে আটকে রাখবো তকে আমার সাথে।
এনি বুঝতে পারছে না একটা কথাও। আশ্চর্য হয়ে বলে,
” আমি তো কোনো পুরুষের সাথে কথা বলিনি। নাভিদ ভাইকে নিয়েও কোনো কথা বলিনি।।তবে এমন করছেন কেনো?কি করেছি আমি।
নিক এনির গলায় চুমু খেলো। তবে এইটা চুমু বললে ভুল হবে। পুরোটা ছিলো হিংসাত্নক চুমু। এনি ব্যাথায় মৃদু আওয়াজ করে উঠে। নিক ঠোঁট চেপে ধরে এনির। নিজেকে সামলে নিতে না পেরে দুই জোড়া ঠোঁট একত্রিত করে ফেলে। এনি চোখ বন্ধ করে নিকের পিঠ খামছে ধরে।

হাইটে এনি লম্বা হলেও নিকের তুলনায় অনেকটা খাঁটো। ছয় ফুট একটা শক্তপোক্ত দেহের যুবকের সামনে পাঁচ ফুট তিন ইঞ্চির মেয়ে অনেকটা এই ছোট টাইপ। দাঁড়িয়ে চুমু খাওয়া গ্যাংস্টার বসের পোষায় না। অনেকটা ঝুঁকে পড়তে হয় এনির দিকে। নিক বিরক্ত হয়ে এনিকে কোলে তুলে কাউচের উপরে বসিয়ে দেয়। এনি ধ্বাক্কা দেয় সরিয়ে দেওয়ার জন্য। নিক ধ্বাক্কার তোয়াক্কা না করে এনির হাতটা শক্তভাবে চেপে ধরে। আজ চুমুটা ছিলো অন্যদিনের থেকে নরম। কামড়ের সেই উত্তাপ স্পর্শ ছিলো না। নিকের হাত চলে যায় এনির জামার ফিতার মধ্যে। এক টানে খুলে ফেলে সেই ফিতার অংশটুকু। এনি অসহায় হয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলে। কিভাবে মুক্তি পাবে সে এখন? কিসের রাগ মিটচ্ছে এই মুহূর্তে সে নিজেও জানে না। নিক উনির উন্মুক্ত পিঠে মুখ ডুবিয়ে দেয়। অবাধ্য হাত বিচরন করছে পুরো অস্তিত্ব জুরে। এনি কেঁপে কেঁপে উঠছে। নিকের ঘাড়ে নখের আচর দিয়ে রক্তাক্ত করে ফেলছে। অবশ্য এনি এই মুহূর্তে আচরগুলো ইচ্ছে করেই দিচ্ছে। ব্লেজারের কারনে পিঠে দিতে পারছে না তাই ঘাড়টাকে বেছে নিয়েছে। এই সুন্দর মুহূর্তটা রাগের কারন হয়ে উঠে মিসডকলের শব্দে। এনি নিকের বুকে ধ্বাক্কা দিয়ে বলে,

” আপনার ফোন বাজছে।
নিক চোখ রাঙ্গিয়ে রাকায় এনির দিকে। এনি থমথমে মুখে শান্ত গলায় বলে,
” আপনার ফোন বাজছে।
নিক বিরক্তিতে ফোন হাতে তুলে নেয়। দুইটা মেসেজ ভেসে উঠে,
আরিশ — নাভিদের খোঁজ পেয়েছি নিক। মিশন শেষ করে রিসোর্টের কাছে আয়
অধিরাজ– বস লোক তিনটা সেই পুরনো গুপ্তঘরেই আছে। সাথে আরও কয়েকজন মিলে মোট সাতজন আছে।
নিক মাথার চুল ঠিক করে এনির দিকে তাকায়। এনি ততক্ষনে জামা ঠিক করে উঠে দাঁড়ায়। ঠোঁট ফুলে উঠেছে অনেক আগেই। রক্তে জমাট বেঁধে গিয়েছে প্রতিটা কামড়ে। নিক আঙ্গুল দিয়ে চেপে ধরে সেই কাটা স্থানে। এনি যন্ত্রনায় চোখ বন্ধ করে রাখে। নিক সেই মুখের দিকে তাকিয়ে বলে,
” আমার ধ্বংসের কারন তুই। আর আমাকে রেখে মস্তিষ্কে যদি সেকেন্ড মানুষের চিন্তা আসে সেই মস্তিষ্কটা খুলে ডাস্টবিনে রেখে আসব। ইউর ফার্স্ট প্রায়োরিটি ইন লাইফ উইল রিভলভ অ্যারাউন্ড মি।
এনি হেসে বলে,

” যাকে ঘৃনা করি তাকে জীবনের ফার্স্ট প্রায়োরিটি দিতে বলেছেন?
এনি আরও শক্তভাবে চেপে ধরে।।এনি এইবার দুই কদম পিছিয়ে যায়। নিক ছাড়ে নি একটুর জন্যও। ঘাড় গলিয়ে পিছন দিকে চেপে ধরে বলে,
” প্রায়োরিটি দিতে না পারলে আমার জীবনে এসেছিলি কেনো, বান্দির বাচ্চা ? তুমি কি বেছে নিবে আই ডোন্ট কেয়ার। আমি তোমাকে বেছে নিয়েছি এইটাই আসল কথা। আর আমার রাজত্বে অন্য কারোর স্থান নেই।আমাকে রাগিও না ব্লাড রোজ। আমি ব্যতীত কেউ আসলে প্রয়োজনে কবরে রেখে আসব তবুও দুনিয়ার আলো দেখতে দিব না। বোন, আত্নী -স্বজন সব আমার পরে হবে। তোমার আত্নাটা আমার নামে লিখিত। এর তিল পরিমান ভাগ কেউ বসাতে আসলে তার শরীরের যত হাড় আছে, সব গুলো হাড় কত দ্রুত ভাঙ্গতে পারি সেটা সে নিজ চক্ষে দেখতে পারবে।
এনি ভয়ে ঠোঁট ভেজায়। কপাল কুচকে বলে,
” আপনি কি নাজলী আপাকে নিয়ে এইসব বলছেন?
নিক ঠোঁট কামড়ে হাসে। এই হাসি দেখে এনির শরীর শিরশির করে উঠে। হাসিটা ছিলো অন্যরকম। এই হাসিতে কোনো সৌন্দর্য ছিলো না। কেমন ভয়ানক আর রহস্যম মনে হয়েছিলো। নিক হাতে চাবি নিয়ে ফিসফিস করে বলে,
” আমি ভালো মানুষ নই, সেটা পৃথিবী জানে। কিন্তু তোমার জন্য আমি কতটা খারাপ হতে পারি, সেটা পৃথিবী এখনো দেখেনি। সাবধান বেবিগার্ল! আই অ্যাম অ্যা ডিসগাস্টিং মনস্টার। অ্যান আন্ডারগ্রাউন্ড টেররিস্ট!

রাতটা এখানে শুধু সময় নয় একটা বিকৃত সত্তা। পরিত্যক্ত বাড়িটার ভাঙা কাঠামো অন্ধকারের সঙ্গে মিলে আছে। এখানে ইট-পাথরের ভেতরেই পচে থাকা স্মৃতিগুলো শ্বাস নিচ্ছে। দেয়ালের গায়ে জমে থাকা অধিক পুরনো শ্যাওলা চাঁদের আলোয় স্যাঁতসেঁতে ক্ষতের মতো জ্বলজ্বল করছে। আর প্রতিটি ফাটল থেকে ঝরে পড়া জল শব্দ করে সময়কে বিদ্রূপ করছে। বাতাস ভারী হয়ে আছে এখানে। এমন ভারী যে ফুসফুসে ঢুকলেই মনে হয় কোনো অচেনা অপরাধের গন্ধ টেনে নেওয়া হচ্ছে। চারদিকে ঝোঁপ, গাঢ় অন্ধকার পরিবেশ।

ভিতরে তিনটি অবয়ব বসে আছে। এদের মানুষ বললে ভুল হবে। টেবিলের উপর অর্ধভরা গ্লাসে তরল দুলছে। প্রতিটা ওয়াইনের গ্লাস তাদের অপরাধের সঙ্গী। প্রতিটা চুমুকের সঙ্গে তাদের চোখের পাতা কাঁপছে। নেশা তাদের বুদ্ধিকে কেবল ঝাপসা করেনি, খুলে দিয়েছে অবদমিত উন্মাদনার দরজা। তাদের ফিসফিসানি আর অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে চারপাশ। হাসি এখানে মুলত আনন্দের নয়। হাসি এখানে দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা হিংস্র ফিসফিস।
একজন হেলে পড়ে দেয়ালের দিকে। শ্যাওলায় ঢাকা ঠান্ডা পাথর তার কাঁধে লেপ্টে যায়। আরেকজনের চোখ স্থির হয়ে আছে। অথচ ভেতরে অস্থিরতা তাণ্ডব চালাচ্ছে। সে শূন্যের দিকে তাকিয়ে আছে। যেন শূন্যই তাকে তাকিয়ে দেখছে। তৃতীয়জন হঠাৎ কেঁপে ওঠে উত্তেজনায়। নিজেরই নিশ্বাসে চমকে ওঠে। কারণ এই ঘরে প্রতিধ্বনি স্বাভাবিক নয়, প্রতিধ্বনি এখানে প্রশ্ন করে। ঘরের কোণগুলো অস্বাভাবিকভাবে দীর্ঘ হয়ে আসে। ছায়াগুলো মানুষের মতো নড়াচড়া করে। ছাদের নিচে জমে থাকা অন্ধকার ফোঁটা ফোঁটা নেমে এসে তাদের মাথার উপর ঝুলে থাকে। চারপাশে একটা ছমছমে পরিস্থিতি। হুট করেই এক উত্তপ্ত বাতাস তাদের শরীরে এসে আছড়ে পড়ে। বাতাসের উষ্ণতা ছিলো উত্তপ্ত গরম। মাতাল অবস্থায় পড়ে থাকা তিনটা লোক কেমন পাগলের মত দাঁড়িয়ে যায়। আগুনের মত গরম বাতাসে এদিক -সেদিক ছুটাছুটি করতে থাকে। তাদের গলা ফাটানো চিৎকারে ভারী হয়ে উঠে চারপাশে। কেমন এদিক -সেদিক দৌড়াচ্ছে। একজন চিৎকার দিয়ে উঠে,

” এত গরম লাগছে কেনো বাতাস? মনে হচ্ছে আমার চামড়া পুড়ে যাচ্ছে।
আরেকজন চোখ-মুখ ঘষে বলে,
” আমার চোখে কিছু দেখতে পারছি না। গরম বাতাসের কারনে তাকাতে পারছে নি।
গরম বাতাসে সবার চোখ-মুখ, চামড়া লাল হয়ে যায়। বাতাস থেকে যেন আগুন বের হচ্ছে। তাদে সবার চিৎকারের মধ্যেই একটা কালো অবয়ব তাদের সামনে আসে। তার হাতে এসিডের একটা নীল পাইপ। একটা লোক অকথ্য ভাষায় গালি দিয়ে উঠে,
” বাই**** বাচ্চা কেরে তুই? সাহস থাকলে সামনে আয়।
লোকটার কথা শেষ হতেই এক ভয়ানক অট্টহাসিতে চারপাশ ছমছমে হয়ে উঠে। লোকগুলো ভয়ে পিছিয়ে যায়। সব থেকে বেশি শক খায় যখন লোকটা হুডি খুলে তাদের দিকে ঠোঁট কামড়ে ধরে তাকায়। হাসিটা সুন্দর হলেও এই হাসির পিছনে আছে এক ভয়ানক উদ্দেশ্য।
লোকগুলো ভয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে। একজন এই ভয় নিতে না পেরে প্যান্ট ভিজিয়ে দেয়। কাঁপা গলায় বলে,
” গ… গ্যাংস্টার বস!

নিক চিহ্নিত করে সেই তিন ব্যাক্তিকে। যে তিন জন সেদিন ইগরকে সাহায্য করেছিলো। তার মেনশনে ডুকার জন্য ম্যাসিমোকেও সাহায্য করেছিলো। নিক চোখ ছোট ছোট করে তিনজনের দিকে তাকায়। বাঁকা হেসে তার পিছনে থাকা গার্ডকে ইশারা করে কিছু একটা। সাথে সাথে গার্ড তিনজনের গলা চেপে ধরে নিয়ে আসে। আর বাকিগুলোকে একটা রুমে বন্ধী করে দিয়ে যায়। এর মধ্যে ছেড়ে দিয়ে যায় উত্তপ্ত গ্যাস। যন্ত্রনায় কাতরাতে কাতরাতে একটা সময় হয়ত মরেই যাবে। নিকের সেসব নিয়ে কোনো মাথা ব্যাথা নেই।
তিনজনকে নিয়ে আসা হয় টর্চার সেলের সেই ভয়ানক রুমে।।যেখানে সামনেই আছে বড় বড় দুইটা কড়াই, পাশে বড় বড় স্টিল। দেখেই বুঝা যায় মানুষকে কো**পানোর জন্য রাখা হয়েছে এইটাকে। চারপাশে অসংখ্য অস্ত্র আর ভয়ানক পরিস্থিতি যে, সাধারন কেউ আসলে দম বন্ধ হয়ে মারা যাবে। নিক খুব শান্ত ভঙ্গীতে এদের তিন জনকে চেয়ারের সাথে বেঁধে দেয়। তার মারের প্রথম স্টাইল চিৎকার করার সুযোগ নেই। মুখ শক্তভাবে বেঁধে দেওয়া হয়। লোক তিনটা ভয়ে না করছে মাথা দিয়ে। নিক রহস্যময়ভাবে হেসে একটা দাড়ালো ছুঁড়ি হাতে নেয়। এরপর লোক তিনটার মুখের দিকে তাকায়। মুহূর্তেই ক্রোধে জ্বলে উঠে তার চোখ- মুখ। হিংস্র হায়েনার মত ঝাঁপিয়ে পড়ে তিন জনের উপর। এলোপাথাড়ি অনেক কিল- ঘুষি দেয় নাকে- মুখে। লোক তিনটার নাক – মুখ ফেটে রক্ত পড়ছে। নিক একজনের চুল টেনে ধরে গর্জে উঠে,

” পাঠার শক্তি নিয়ে নিক জেভরানের কলিজায় হাত দিতে গিয়েছিলি সেদিন। এতদিন শ্বাস নিয়েছিস এই তো অনেক। বাচ্চা মেয়েটাকে মেরে ফেললি, শুয়রের বাচ্চা! ইউ কেম টু মেক অ্যান এনেমি, বাট ইউ ডিডন্‌ট ইভেন বোধার টু আন্ডারস্ট্যান্ড হু ইউ ওয়ার আপ অ্যাগেইনস্ট। বিচ!
লোক তিনটা হাঁপাচ্ছে। চোখ দিয়ে পানি পড়ছে অনবরত। নিক একটা ধারালো ছোট নাইফ হাতে তুলে নেয়। এরপর ধীরে ধীরে মাথার উপর এক আচর কাটে। সাথে সাথে মাথা অনেক জায়গায় কেটে যায়। লোকটা চিৎকার দিয়ে উঠে। কিন্তু সেই চিৎকারের শব্দ বের হয় না। তরল রক্তে ভেসে যাচ্ছে মেঝেটা। এই মেঝে যে কত রক্ত শুষে নিয়েছে তার হিসেব নেই। পর পর তিন জনের মাথা একইভাবে কাটা হয়। গলা কাটা মুরগীর মত ছটফট করছে। কে দেখবে এই ছটফট দৃশ্য! কি লাভ মুক্তি কামনা করে? সামনে যে আছে সে তো নিজেই একটা মনস্টার। সেই কাটা মাথার ফাঁকে বিষাক্ত পোকা ডুকিয়ে দেওয়া হয়। এক একটা পোকার কামড় যেন কলিজা ছিড়ে খাওয়ার সমান। মাথার এক পাশ ভারী হয়ে আসে। চিন্তাগুলো ছিঁড়ে ছিঁড়ে পড়ে যাচ্ছে। মনে হয় খুলির ভেতর কেউ নখ দিয়ে আঁচড় কাটছে। আবার সেলাই করে দেওয়া হয় মাথার চামড়াটাকে। লোকগুলো জ্ঞান মৃত্যুর যন্ত্রমায় ছটফট করছে। বিষাক্ত পোকার কামড়ে একেকজন অস্থির হয়ে উঠে। মস্তিস্কের ভেতরে কলবিল করছে এই পোকার দলগুলো। এক একটা বিষাক্ত কামড় যেন রুহ পর্যন্ত পুড়িয়ে দিচ্ছে। নিক ঠোঁট কামড়ে এইবার মুখের বাঁধন খুলে দেয়। আহহহ! কি ভয়ানক চিৎকার এক একজনের। মনে হচ্ছে নরকের কোনো শাস্তির স্থান। পোকাগুলো চামড়া ভেদ করে কখন এই মাংসের ভেতরে গেঁথে গিয়েছে। হয়ত এতক্ষণে মরে ও গিয়েছে কিছু।

নিক তাদের পেটে পর ছুঁরি দিয়ে কেটে ফেলে। কাটা জায়গার ভেতরে সেইমভাবে এই বিষাক্ত পোকা ডুকিয়ে দেওয়া হয়। এক একটা কামড়ের যন্ত্রনায় শুধু চিৎকার দিয়ে যাচ্ছে। শরীরের শক্তি সব শেষ হয়ে এসেছে। রক্তে ভেসে যাচ্ছে মেঝেটা। নিক তাদের ছটফট আরও বাড়ানোর জন্য হাতের বাধন খুলে দেয়। লোকগুলো উন্মাদের মত মাথায় হাত দিতে থাকে। একজন এই যন্ত্রনা সহত করতে না পেরে নিজের গলায় নিজে ছুরি বসায়। যন্ত্রনা থেকে মুক্তি পেতে সেইম কাজ বাকি তিন জন করে। পর পর তিন জন এই একই কাজ করে।
পাশেই গ্যাংস্টার বসের দুই সহকারী গর্জন করছে। তাদের লোভ হচ্ছে এদেরকে ছিঁড়ে খাওয়া। অপেক্ষা শুধু নিকের আদেশের। নিক যেন তাদের ভাষা বুঝলো। চোখ দিয়ে যাস্ট সামান্য ইশারা করলো সাথে সাথে ঝড়ের বেগে এসে ঝাঁপিয়ে পড়ে তিনটা লাশের উপর। এক একটা কামড়ে দেহ থেকে মাংসের টুকরো ছিঁড়ে আসছে। নিক ঠোঁট কামড়ে ধরে শ্যাডো আর হান্টারের মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়। গলায় হাতিয়ে বলে,
” সাবধানে। বিষাক্ত পোকা আছে এখানে। টেয়ার ইট অ্যাপার্ট অ্যাজ মাচ অ্যাজ ইউ লাইক।

সমুদ্রের খোলা বিস্তারে, অনন্ত নীলের সামনে বালুর ওপর বসে আছে একজন পুরুষ। হয়ত সময়টাও তাকে ভুলে গেছে। অথবা সে ইচ্ছে করেই সময়কে অস্বীকার করছে। দৃষ্টি তার ভয়ানক শান্ত হয়ে আছে।
পাথরের মতো স্থির তার চাহনি। এই দৃষ্টিতে না আছে প্রত্যাশা আর না আছে অভিযোগ।শুধু দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা এক ক্লান্ত নির্লিপ্ততা। ভেজা বালু তার পায়ের নিচে ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে। কিন্তু ব্যক্তিটা একটুর জন্য ও নড়ে না।কারণ তার ভেতরের ভাঙন
এই নড়াচড়ার চেয়েও গভীর। সে একজন ব্যর্থ প্রেমিক। ভেঙে পড়া প্রেমিক নয় বরং এমন এক মানুষযার স্বপ্নগুলো বহু আগেই নিজেদের কবর নিজেই খুঁড়ে শুয়ে পড়েছে। ঢেউ এসে বালুতে আছড়ে পড়ছে। ঢেউয়ের শব্দগুলো ফিরে যাচ্ছে ধ্বাক্কা লেগে।

কিন্তু তার বুকের ভেতরের ঢেউগুলো
শব্দ করাও ভুলে গেছে। চোখের কোণে কোনো অশ্রু নেই। কারণ অতিরিক্ত কাঁদলে একসময় চোখও
অভ্যাস করে নেয় শূন্যতা। হাওয়ার ঝাপটা চুল উড়িয়ে নেয়। নোনতা বাতাস বুকে ঢুকে পড়ছে বার বার। তবু ও ব্যক্তিটা স্থির বসে থাকে। ভালোবাসা কি সত্যি এতটা যন্ত্রনা দায়ক। যন্ত্রনাদায়ক না হলে একজন কঠিন হৃদয়ের পুরুষ কেনো এইভাবে ভেঙ্গে পড়লো। নাভিদ দুরে থাকা আইল্যান্ডের দিকে তাকায়। এখানেই তার প্রান -পাখি সংসার পেতেছে। প্রতিদিন এই জায়গাটায় বসে এনির অস্তিত্ব অনুভব করে সে। মনে হয় আইল্যান্ডের সামনে বসে তার দিকে তাকিয়ে আছে। কিসব প্রত্যাশা করছে নাভিদ নিজেও জানে না। এই জীবনে কত কি ত্যাগ করলো সে শুধু একটা মেয়েকে পাওয়ার জন্য। নিজের অতীত আজ তার দুর্বলতা হয়ে উঠলো। নাভিদের চোখ ডেবে গিয়েছে একদম। চোখের নিচে কালো দাগ, দাড়িগুলো বড় হয়ে কেমন সন্নাসী ভাব চলে এসেছে। সব সময় পরিপাটি করা চুলগুলো ঘাড় পর্যন্ত এসে পড়েছে। পাগল পাগল অনুভব হয় নিজেকে। একা একা প্রকৃতির সাথে বিরবির করে। আচমকায় ঘাড়ে কারোর ঠান্ডা হাতের স্পর্শ পেয়ে ক্ষেপে উঠে। তার দিকে ছুঁরি তাক করতেই মেয়েলী ভয়াতুর কন্ঠ ভেসে আসে,

” ক্ষেপে যাবেন না । অনেক সাহজ জুগিয়ে আজ আপনার সামনে এসেছি।
নাভিদ চোখ ছোট ছোট করে তাকায়। এই মেয়েটা তাকে অনেকবার ফলো করে।
” রিদ্ধিমা?
রিদ্ধিমা খুশিতে আত্নহারা হয়ে যায়। প্রানবন্ত হেসে বলে,
” বাপরে, আমার নাম মনে রেখেছেন। বিশ্বাস হচ্ছে না কিন্তু। আচ্ছা সেসব কথা বাদ দিলাম। একটা কথা জিজ্ঞাসা করি?
নাভিদ চোখ বন্ধ করে শ্বাস টানে,
” আউট!
” সাহস নিয়ে এসেছিলাম।এইভাবে তাড়িয়ে দিবেন? কিসের এত প্রত্যাশা আর হাহাকার আপনার।
নাভিদ রাগান্বিত চোখে তাকায়। রিদ্ধিমা ভয় পেলেও প্রকাশ করলো না।।সে আজ ঘটনা জেনে এর পর শান্ত হবে। চোখের সামনে এমন সুদর্শন পুরুষের ধ্বংস সে আর দেখতে পারছে না। আর সব থেকে বড় কথা তার প্রথম ভালো লাগার পুরুষ মাভিদ! হ্যা, রিদ্ধিমা নাভিদকে পছন্দ করে। একটু একটু করে কখন ভালো লাগা কাজ করা শুরু করেছে সে জানতেই পারে নি। তাই তো বার বার বেহায়ার মত আসে এক পলক দেখবে ভেবে। দুর থেকে দেখে চোখের তৃষ্ণা মিটিয়ে চলে যায়। কাছ থেকে দেখা আর হলো কই?
রিদ্ধিমা হেসে বলে,

” ভরসা করতে পারেন আমাকে। বলুন সবটা। কিসের এত হাহাকার আপনার? কেনো নিজেকে এইভাবে ধ্বংস করে দিচ্ছেন? আমাকে আপন ভাবতে পারেন।
নাভিদের বিরক্ত লাগছে। রাগে রিদ্ধিমার চোয়াল শক্ত করে চেপে ধরে। রিদ্ধিমা অনেকটা জায়গা পিছিয়ে যায়। নাভিদ উন্মাদের মত গর্জে উঠে,
” কি শুনতে চাও তুমি? আমার অতীত শুনলে টিকতে পারবে? ভালো মানুষ ভেবে দয়া করতে এসেছো। অতীত জানলে সেই দয়া ঘৃনাতে বদলে যাবে। আমি কতবড় পিশাচ ছিলাম আইডিয়া আছে?
আমার অতীত ভয়নাক। আর এইটা হচ্ছে আমার সব থেকে বড় দুর্বলতা! পৃথিবী সাক্ষী থাকুক, আমার ভালোবাসার কোনো শেষ নেই। কিন্তু আমার এই না-পাওয়া বেদনার প্রতিটি কণা যেন তার ভাগ্যের ললাটে অভিশাপ হয়ে বিঁধে থাকে। আমার হাহাকারই হোক গ্যাংস্টার বসের জীবনের একমাত্র বেদনার সুর।
রিদ্ধিমা কষ্ট ভুলে গিয়ে অবাক হয়ে বলে,

” ভালোবাসা?
নাভিদ খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে উঠে,
” আমার ভালোবাসা। আমার ছোট্ট পাখি। আমার এনি। যার হাসির ঝংকারে আমি নরখাদক থেকে মানুষ হয়ে উঠেছিলাম। যাকে পাওয়ার জন্য নিজের বৌদ্ধ ধর্ম ত্যাগ করে ইসলামকে সাথী বানিয়েছিলাম। তার সাথে জীবন পারব করব ভেবে সব পাপকে ত্যা করেছিলাম।।কারন সে যে বড্ড ভিতু ছিলো। আমার এই পাপ সে সহ্য করতে পারবে না। যার জন্য সব বিসর্জন দিলাম সে এখন অন্যের ঘরে!
রিদ্ধিমার মাথা ঘুরতে থাকে। প্রতিটা লাইন তার মস্তিষ্কে হাতুড়ি পিটা করছে। সে এমন এক পুরুষের প্রেমে পড়েছে যে অন্য কারোর প্রতি আসক্ত! অতীতের কিসব বলছে?

” নরখাদক মানে?
নাভিদ চোখ তুলে তাকায়। ক্ষোভ নিয়ে বলে,
” যাও এখান থেকে। তোমাকে আঘাত করে বসব।
রিদ্ধিমা যায় নি। শান্ত গলায় বলে,
” ওকে খুব ভালোবাসেন তাই না? নিশ্চই খুব সুন্দরী?
নাভিদ সমুদ্রের ঢেউয়ের দিকে তাকায়। শূন্য চোখে তাকিয়ে বলে,
” তার চোখে তাকালে মনে হয় কোনো আদিম সমুদ্রের কিনারে দাঁড়িয়ে আছি। সেই নীল রঙে যেমন প্রশান্তি আছে, তেমনি আছে তলিয়ে যাওয়ার ভয়ংকর নেশা। সমুদ্রের গভীরতা মাপা যায়, কিন্তু ওর ওই একজোড়া মণি যে কত শত গোপন কথা আর অবাধ্য ঢেউ লুকিয়ে রেখেছে, তা বোঝার সাধ্য কারো নেই।যখন সে হাসে, মনে হয় হাজার বছরের অন্ধকার চিরে প্রথম ভোরের সূর্যটা উঁকি দিল। সেই হাসিতে কোনো কৃত্রিমতা নেই, নেই কোনো মলিনতা। একদম পবিত্র, ঠিক যেন ভোরের শিশিরে ভেজা কোনো বুনো ফুল। ওর ওই এক চিলতে হাসির জন্য আমি পুরো পৃথিবীটাকে বিষাদে ডুবিয়ে দিতে পারি।সে তো বন্দি হওয়ার জন্য জন্মায়নি; সে এক মুক্ত ডানার ছটফটে পাখি। তার চঞ্চলতা বনের হরিণীর মতো, যে কারো বারণ মানে না। তার প্রতিটি পদক্ষেপে যেন জীবনের স্পন্দন জেগে ওঠে, আর তার সেই অবাধ্য চঞ্চলতাই আমার স্থির জগতটাকে ওলটপালট করে দেয়।তার কাঁধ বেয়ে নেমে আসা সেই সোনালি রেশমি চুলে যখন বিকেলের আলো পড়ে, মনে হয় গলানো সোনা বয়ে যাচ্ছে। তার ফর্সা ত্বক যেন কোনো শ্বেতপাথরের ভাস্কর্য, যেখান থেকে নক্ষত্রের মতো এক অলৌকিক শুভ্র আলো বিচ্ছুরিত হয়। অন্ধকারের মাঝেও সে যেন এক জীবন্ত জ্যোতিষ্ক স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং অতুলনীয়। তার সৌন্দর্য ব্যখ্যা করার মত এখনও কোনো শব্দভান্ডার আমার মস্তষ্কে তৈরি হয় নি। তাকে আমি ঠিক কতটুকু ভালোবাসি তার ও ব্যখ্যা নেই।
রিদ্ধিমার বুকে কাটার মত বিঁধে যাচ্ছে। তবুও হেসে বলে,

” অনেক ভাগ্যবতী সে।
নাভিদ আচমকা বলে,
” তোমার ভয় করছে না?
” কেনো?
” আমার কাছে আসতে? একজন যুবতী মেয়ে হয়ে একটা প্রাপ্ত বয়স্ক যুবকের সামনে আসতে?
রিদ্ধিমা হেসে বলে,
” বিশ্বাস আছে বলেই তো আসতে পেরেছি। আমি জানি আপনি অনেক ভালো।
নাভিদ বিদ্রুপের হাসি হাসে। হুট করে গাড়ির হর্ন সাথে চারপাশ আলোকিত হয়ে পড়ে। নাভিদ চোখ ছোট ছোট করে সেদিকে তাকায়।।অধিরাজকে দেখে কপালের ভাঁজ আরও প্রখঢ় হয়। গাড়ি থেকে নিক আর আরিশ নেমে আসে। নিককে দেখেই ভেতরের হিংস্র দাবানল জ্বলে উঠে। রিদ্ধিমা কাউকে চিনতে পারছে না। তবে লোক দুইটা অসম্ভব সুন্দর!লোক তিনটা তো তাদের দিকেই এগিয়ে আসছে।
নাভিদের সাথে কোনো মেয়েকে দেখে মজার ছলে বলে,

” ভেবেছিলাম কখনো মেয়েদের কাছে যাবি না। এখন তো দেখছি মেয়ে নিয়ে সমুদ্র বিলাস করছিস ব্রো।
রিদ্ধিমা ঠিক বুঝতে পেরেছে। তাকে মিলিয়ে অন্য কিছু মিন করছে। প্রতিবাদ করে বলে,
” না জেনে বাজে কথা বলবেন না।
রিদ্ধিমার রাগান্বিত স্বর সবার কানে যায়। নিক চোখ তুলে তাকায় মেয়েটার দিকে। বিরক্তিতে নাভিদের দিকে তাকাবে তার আগেই থমকে যায়। রিদ্ধিমার কাটা কান দেখে কপালে ভাঁজ ফেলে সে। এই দৃশ্য গ্যাংস্টার বসের হৃদয়ে পীড়া দিচ্ছে। নিক খেয়াল করছে তার গলা কাঁপছে।

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৫৬ 

” কে তুমি? বাবা – মা কে?
রিদ্ধিমা ভদ্রভাবে বলে,
” আমি রিদ্ধিমা। বাবা আছেন কিন্ত মা নেই।
নিক অশান্ত গলায় বলে,
” এই কান কেটেছে কিভাবে?
রিদ্ধিমা অপ্রস্তুত হয়ে বলে,
” জন্ম থেকেই এমন।
নিকের এমন আচরন দেখে অধিরাজ সহ আরিশ আর নাভিদ অনেক অবাক হয়। নিক চোখ বন্ধ করে শ্বাস নেয়। রিদ্ধিমার ভালো লাগছে না এখানে। নাভিদের দিকে তাকিয়ে বড় বড় পা ফেলে চলে যায়।

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৫৭