Home সে খলনায়ক সে খলনায়ক পর্ব ৩৯ (২)

সে খলনায়ক পর্ব ৩৯ (২)

সে খলনায়ক পর্ব ৩৯ (২)
ফারহানা সানিয়াত

তুমি চাও বা না চাও আমার স্পর্শ তোমার মেনে নিতে হবে। তার ধীর ফিসফিস কন্ঠ ,
Because Your everything is mine little bird,
প্রানপ্রিয়ার গাল বেঁয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়েছে। শরীর নিস্তেজ হয়ে হেলে পড়েছে। বিড়বিড় করে ছাড়া পাওয়ার আকুতি মিনতি, প্রতিটা হিংস্র স্পর্শ মনে হচ্ছে তার শরীর ছুরি দিয়ে চিঁড়ে ফেলেছে। গভীর নিঃশ্বাসের শব্দ যেন বিশ । কেনো অসহায়ত্ব এতটা করুন? কেনো বাবা মা একা তাকে এতিম বানিয়ে রেখে গেল দুনিয়াতে? খুবলে খাওয়া ভয়ংকর হিংস্র পশুর জন্যে,
প্রানপ্রিয়া চোখ বুজে ডুকরে কেঁদে ওঠে অনুভব করে শরীরের হাতের স্পর্শ গভীর থেকে গভীর হচ্ছে। সে বিড়বিড় করে, না, না, না দয়া করে এমটা করবেন না বলতে বলতে আকম্মিক উচ্চকণ্ঠে হৃদয় বিধায়ক এক চিৎকার দিয়ে চোখ খুলতেই ,,তীব্র আলো তার চোখে মুখে।

প্রানপ্রিয়া দ্রুত হাত উল্টে চোখের ওপর রাখে।
কানে পাখির কিচিরমিচির আর অস্পষ্ট সিলিং ফ্যান ঘুরার শব্দ। প্রানপ্রিয়া কিছুক্ষণ চোখের উপর হাত দিয়ে বোঝার চেষ্টা করে কি হলো, বা কি হচ্ছে কিন্তু মস্তিষ্ক যেন তার শূন্য। সে এক লাফে শোয়া থেকে উঠে ঘনঘন নিশ্বাস ফেলের সাথে চারপাশে বুলায় মাথা এর উপর সিলিং ফ্যান চলার সত্ত্বেও কেমন ঘেমে একাকার, গলাটাও শুকিয়ে কাঠ।
প্রানপ্রিয়ার ভীত দৃষ্টি।
ঘর! তার ঘর! কিকন্তু ,,,,এএখানে? সে জানালা দিকে তাকায় নীল রঙের পর্দা হাওয়ায় দুলছে বাহিরে তীব্র সূর্যের কিরণ । সে কপাল গুটিয়ে বাহির থেকে দৃষ্টি দিয়ে সরিয়ে নিজেকে এক‌ নজর দেখে অস্থির মনে চোখ বুজে হাত দিয়ে মুখ আর কপাল ঘষা শুরু করে। তার কি এখন বিশ্বাস করতে হবে এতক্ষণ স্বপ্ন দেখছিল ! সঙ্গে সঙ্গে তার ভেতরটা কেমন ভারী হয়ে মুখ ভেঙ্গে কান্না চলে আসলেও গিলে ফেলে সে । তার স্পষ্ট মনে আছে অন্ধকার, হিংস্র স্পর্শ, বিড়বিড় ধীর কণ্ঠস্বর যা এখনো ভেবে গায়ে কম্পন অনুভব করল।
প্রানপ্রিয়া মুখ চেপে ছটফট করে ওঠে, এ,,,টা স্বপ্ন ছিল না। কখনোই না।
দরজা খুলে ঘরে প্রবেশ করল সেলিনা, এক হাতে নাস্তার প্লেট অন্য হাতে পানির গ্লাস।

__ ঘুম ভাঙলো তবে, বিছানার কাছে আসতে আসতে বলে ওঠলেন তিনি ।
প্রাণপ্রিয়ার মধ্যে পরিবর্তন নেই সে একই ভঙ্গিতে ছটফট করছে।
সেলিনা প্লেট আর গ্লাস পাশে পড়ার টেবিলের উপর রেখে বিছানায় বসে দেয়ালে ঝুলানো ঘড়ির দিকে তাকান,সকাল ১১ :১৫ ঘন্টাখানেক পর বেলা গড়িয়ে দুপুর হবে। তিনি সূক্ষ্ম শ্বাস ফেলে প্রানপ্রিয়ার পানে চেয়ে বলেন।
__ কাল কি হয়েছিল প্রিয়া, জ্ঞান হারালে কি করে?আমরা কত দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম হঠাৎ কি থেকে কি হয়ে গেল মাথাই ধরছিল না।
প্রানপ্রিয়ার অশ্রুসিক্ত নয়ন, সেলিনার কপালে ভাঁজ ফেলেন,
__ কি হলো কাঁদছো কেন ?
প্রানপ্রিয়ার শরীর কাঁপছে, সেলিনা এবার বিচলিত হয়ে ওঠেন, প্রানপ্রিয়ার আর একটু কাছে গিয়ে মাথায় হাত রাখতে ই,, মুখ চেপে হু হু করে কেঁদে ওঠে প্রানপ্রিয়া। ভয় আতঙ্ক তাকে কাবু করে রেখেছে। কি হয়েছিল তার সাথে? কি হয়েছিল?
সেলিনা এভাবে প্রানপ্রিয়াকে কান্না করতে দেখে চিন্তিত মুখে ফের জিজ্ঞেস করে,

__ কি হলো কাঁদছো কেনো? বলো ?খারাপ স্বপ্ন টপ্ন দেখেছো? কি হলো?
প্রানপ্রিয়ার ঠোঁট কাঁপছে চোখে ভেসে ওঠেছে কাল রাতে ঘঠনা এটা সত্যি হ্যাঁ হ্যাঁ সত্যি কি করবে সে এখন,
সেলিনা প্রানপ্রিয়াকে জড়িয়ে ধরে মাথায় হাত বুলিয়ে দেন,,
__ তোমাকে এভাবে দেখতে আমরা অভ্যস্ত না প্রিয়া। কাল থেকে টেনশনে আছি অজ্ঞান হয়ে বাহিরে পড়েছিল ভাগ্যিস ছোট সাহেব আর রহমান ভাই তোমাকে দেখতে পেয়ে আশ্রমে দ্রুত নিয়ে এসেছেন। এখন আবার এভাবে কাঁদছো,,,,
কথাটা শুনা মাত্র ই প্রানপ্রিয়ার কান্না থেমে শরীরটা
মুহূর্তে ঝংকার দিয়ে ওঠে,
সেলিনা ফের বলেন, কি বলবো ছোট সাহেব ছিল বলে দ্রুত ডক্টর আশ্রমে নিয়ে এসে তোমার শরীরের অবস্থা জানতে পেরেছি। পেশার লো হয়েছিল দুধ ডিম খাওয়ালেই ঠিক হয়ে যাবে। সব কিছুর ব্যবস্থা ছোট সাহেব ই করেছিলেন তিনি আসলেই বড় মনের মানুষ তার সাথে দেখা হলে অবশ্যই ধন্যবাদ জানাবে।
কথা গুলো প্রাণপ্রিয়া মনোযোগ দিয়ে শুনলেও সে স্তব্ধ, মস্তিষ্কে যেন আবারও শূন্য হয় গেল সেলিনার বুকে মাথা রেখে ভেতর থেকে আবারো ছটফট করে উঠল তার হিংস্র স্পর্শ গুলো এখনো শরীরের কাটা দিচ্ছে। সেই অন্ধকার মুখ চেপে ধরা, ফিসফিস কন্ঠ সব বাস্তব ছিল সব ,, কিন্তু ,,,কিন্তু আবার এসব কেনো,,, কি করবে সে? বিশ্বাস করতে হবে কল্পনা ! এটা কল্পনা! এত ব্যস্ত!
প্রানপ্রিয়ার মাথাটা যেন গুরিয়ে গেল । চোখ বুজে বিড়বিড় করে ওঠল,, কি হচ্ছে জীবনে ?কেনো হচ্ছে? কোনটা সত্যি? আবারো সে ডুকরে ওঠে,
রেস্টুরেন্টের একদম কোনার টেবিলের বসে আছে আহানাফ আর সারা। দুজনের সামনে টেবিলে ধোঁয়া ওঠা কফি।

__ বলো কি বলবে? হঠাৎ আমার সাথে দেখা করতে চাওয়া। সারা কফি হাতে নিতে নিতে বলল।
আহানাফ বিশাল কাঁচের দেয়ালের ওপারে দুপুরের ব্যস্ত নগরী দেখছিল ।
__ মিস করছিলাম তোমাকে,
সারা কফি কাপ ঠোঁটের কাছে ধরে হেসে ফেলে,
__ সিস্টার ইন ল কে মিস করা ভালো, খারাপ না।
আহানাফ মৃদু হাসে বাহির থেকে চোখ সরিয়ে কফি কাপ হাতে নেয়,
__ বাসায় কবে যাবে?
__ আসলাম ই কিছু দিন হলো এক্সাম শেষ হয়নি,
__ আমাদের বাসা থেকে তোমার ভার্সিটি তোমার বাসা থেকেও অনেক কাছে।
সারা কপালে ভাঁজ ফেলে কফি কাপ টেবিলে রাখে মুখে এখনো তার হাসি বিস্তৃত।
__ কি বলতে চাইছো তুমি?
__ ব্রো বাসায় আছে তোমার তার কাছে কাছে থাকা উচিত। সবকিছুতে তোমার খেয়াল রাখা উচিত। এখন থেকেই নিজের টা বুঝে রাখো, চোখে রাখো ,আমি জানি‌ তুমি নিজের সবকিছুতে সচেতন ।
__ এটা‌ তুমি বলছো আহানাফ? সারার হঠাৎ মলিন কন্ঠ তবে পরক্ষণেই হেসে বলে এসবের দরকার নেই আমি এখন মনে করি যেটা আমার, আমারই থাকবে আর এতো খেয়াল, চোখে রাখার কি আছে তোমার ব্রো তলে তলে কিছু করছে নাকি?
আহানাফ সারার মুখের দিকে তাকায়

__ তোমার কি মনে হয়? তার চোখ মুখ দৃঢ়।
সারা আবারো হাসে তবে কিছু বলে না।
__ আমি কি এটা বুঝে নিবো তুমি বুঝেও গুরুতর বিষয় ভাবছো না।
__ জানি না। তার শান্ত কন্ঠ
আহানাফ হতাশার শ্বাস ফেলে কফি কাপ টেবিলের উপর রাখে। ।
সারা বাহিরের দিকে দৃষ্টি ফেলে, আমি জানি খুব জলদি আমি মিসেস আবরার হবো।
সারা চোখে মুখে কোনো ঈর্ষা বা কষ্ট কিছুই নেই। তার মধ্যে শুধু একঘেয়ামি দামিয়ানকে বিয়ে করে নিজের যোগ্যতা সফলভাবে প্রমাণ করার এক উপায়।

দিনে দুপুরে হাতে ওয়াইনের গ্লাস নিয়ে ল্যাপটপের মুখোমুখি পায়ের ওপর পা তুলে বসে আছে দামিয়ান। মুখে তার অত্যাধিক গম্ভীরতা স্পষ্ট হাতের ওয়াইনের গ্লাসটা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখছে।
ল্যাপটপের স্ক্রিনে নিকোলাই সাবধান কণ্ঠে রাশিয়ার
খবরা খবর জানাচ্ছে। তার মধ্যে একটা হলো মিখাইল সুস্থ হয়ে ব্যবসায় হাত লাগিয়েছে কিছুদিন ধরে তবে এবার একা না তার একমাত্র পুত্র ব্লাদিমীর কে নিয়ে যার সাথে দামিয়ানের রক্তের সম্পর্ক না হলেও মা আর সৎ বাবার কারনে ভাই ভাই সম্পর্ক।
নিকোলাই সাবধান কণ্ঠে বলে,,
__ স্যার কিছুদিনের জন্য আপনাকে রাশিয়াতে প্রয়োজন মিস্টার বরিস আপনার সাথে সামনাসামনি ডিল ফাইনাল করতে চান।
দামিয়ান গ্লাসে দৃষ্টি রেখে সোফায় এলিয়ে দেয়।
__ ১৫ দিনের সময় নাও তার কাছ থেকে।
নিকোলাই মাথা নাড়ায়, ওকে স্যার,
দুজনের মাঝে বেশ কিছুক্ষণ কথা হয় সেখানকার ব্যবসার বিষয় নিয়ে অতঃপর ফোন কেটে দামিয়ান হাতের ওয়াইনের গ্লাস টানিয়ে ড্রেসিং টেবিলের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। পড়নে তার অফ হোয়াইট কালার শার্ট বুকের সামনে দিয়ে দুটো বোতাম খোলা সাথে হাতার বোতাম গুলো ও। সিল্কি চুল কপালের ওপর পড়ে আছে মুখে গম্ভীর্যতা শান্ত ভাব তার ব্যক্তিত্বের সাথে একদম মানানসই। সে হাতের গ্লাসটা কিছুটা শব্দ করে টেবিলের উপর রেখে আস্তে আস্তে শার্টের বাকি বোতাম গুলো খোলা শুরু করে। তার ফর্সা লোমহীন জিম করা বডি যেকোনো মেয়ের আকর্ষণ নেওয়ার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু! কিন্তু! লক্ষ্য করে দেখলে বোঝা যাবে তার ফর্সা ঘাড়ে আর বুকে নখের আঁচড় স্পষ্ট যা লাল হয়ে আছে।
দামিয়ান ঘাড় এদিক ওদিক ঘুড়িয়ে ঠোঁটে বিশ্রী একটা হাসি ফুটিয়ে তুলে ওয়াইনের গ্লাসটা আবার হাতে নিয়ে এক ঢোকে সব গিলে ফেলে,

__ আহ!
বিরক্তিতে দামিয়ান গ্লাসটা ফ্লোরে ছুড়ে মারে সঙ্গে সঙ্গে তা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে যায়।
ওই আশ্রিতা কেনো তার স্পর্শ সহ্য করতে পারলো না! তার কি ধরনা আছে আগামীতে তার আরো কি কি সহ্য হবে।
দামিয়ান ড্রেসিং টেবিলের সামনে থেকে সরে কালকের কথা ভাবে। প্রানপ্রিয়া যখন জ্ঞান হারিয়ে তার ওপর ঢলে পড়েছিল সে বিরক্ত হয়ে তার কামুক হিংস্রতা সংযত করে তাকে নিয়ে নিচে বসতেই চারপাশে আলোকিত হয়ে মিস্টার রহমান ও সেখানে চলে আসে যার কারনে সবকিছু থামিয়ে দিতে হয়েছিল।
দামিয়ান তার কালো ফর্মাল প্যান্টের পকেটে হাত গুজে বাহিরে জঙ্গলের কিছু অংশ দেখা যাচ্ছে সে দিক টায় কিছুক্ষণ তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে অতঃপর চলে যায় ওয়াশরুমে সাওয়ার নিতে।

আজকাল বিষন্নতা কাটিয়ে উঠতে এতটা সময় লাগছে কেনো প্রানপ্রিয়া ভেবে পায় না। আশ্চর্য ব্যাপার হলো বিষন্নতার সামনে প্রকৃতি হেরে যাচ্ছে কিন্তু এমনটা তো হওয়ার কথা ছিল না। তার ভাবনা তো অন্য কিছু ছিল কিছুদিন আগে ঠিক এই রাস্তায় হেঁটে হেঁটে ভাবছিল এত সুন্দর পরিবেশে কি মন খারাপ করে থাকা যায় কিন্তু আজ , আজ কিছুদিন যাবত ধরে তার মুখের হাসি খুঁজে পাওয়া যায় না। কেনো যেনো সে যা ভাবে সবকিছু কোথায় একটা গিয়ে পরিবর্তন হয়ে যায়। এত পরিবর্তন তার জীবনে! এতটাই ! প্রানপ্রিয়া হা করে স্বাস ফেলে। রাস্তার দু’পাশে গাছ গাছালির ছায়া নিচে পিচ ঢালা রাস্তায় হাঁটছে সময় টা স্কুল থেকে আশ্রমের ফিরে যাওয়ার সময় । মাঝে সাঝে তাকে পাশ কাটিয়ে দু-একটা গাড়ি বা মানুষ চলে যাচ্ছে।
প্রানপ্রিয়া কাঁধের ব্যাগটা শক্ত করে ধরে পাশের খালের দিকে দৃষ্টি ফেলে,,আজ স্কুলে চাকরি ছেড়ে দেওয়ার জন্য হেডমাস্টারের সাথে কথা বলে এসেছে ,তার অবশ্য কারণ আছে। কিছুদিন ধরে ভেবে একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ঠিক না ভুল সে জানে না । তবে জীবনের করুন পরিবর্তনের পিছে ভয়ঙ্কর হিংস্র কালো ছায়া পড়েছে এটা ভালো করে বুঝতে পারছে সে ।

জানে না সেটা কল্পনা নাকি বাস্ত তবে কালো ছায়া নিচ থেকে বের হতে হলে তার এই চেনা পরিচিত জায়গা রক্তের সম্পর্ক না হলেও আপন মানুষদের ছেড়ে কোথাও দূরে চলে যেতে হবে যেখানে সে নতুন জীবন শুরু করবে। সে খুব নিখুঁতভাবে ভেবেছে আগামী মাস থেকে চাকরি আর তার নেই দূরে অন্য কোন স্কুলে চাকরি খুজবে। কিছুদিনের মধ্যে ভার্সিটির ভর্তি পরীক্ষার জন্য ফরম ফিলাপ এরপর ভালো একটা হোস্টেলে গিয়ে উঠবে।
প্রানপ্রিয়া ফের রাস্তার দিকে মুখ করে। তার নিখুঁত ভাবনার বিষয়টা আপাতত আশ্রমের কাউকে জানাইনি জানাবেও না সবকিছুর ব্যবস্থা করে এরপর,,
কিন্তু এমনটা কি হওয়ার ছিল? সে প্রশ্ন করে নিজেকে। মনে পড়ে সে ভীত ছিল এক সময় যখন ইভান কে হারিয়েছিল । সে ভয় পাচ্ছিল তার জীবনে যা আছে সবকিছুই কি আস্তে আস্তে গায়েব হয়ে যাবে।
ঠোঁট কামড়ে ধরে প্রাণপ্রিয়া আঁখি দুটো টলমল করে ওঠে তার, ভয়ের কারন টা তাহলে সত্যি ই হলো।
আনমনা বেখেয়ালি হাঁটতে থাকে তৎক্ষণাৎ তার সামনে দিয়ে একটা কালো রঙের গাড়ি পাশ কেটে চলে যায়।

সে খলনায়ক পর্ব ৩৯

স্যার পূর্বাঞ্চলের যতগুলো প্রাইমারি স্কুল আছে বাচ্চাদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণের জন্য অনুষ্ঠানে আয়োজন করা হয়েছে। চিফ গেস্ট হিসেবে স্যারদের যাওয়া কথা ছিল কিন্তু তারা বাংলাদেশে নেই তাই আপনাকে যাওয়ার জন্য খুব রিকোয়েস্ট করছে। আমি তাদের কি বলবো স্যার?
নিলয় ড্রাইভিং এর দিকে মনোযোগ দিয়ে খুব গুছিয়ে কথাগুলো বলল,,
কালো কোট প্যান্ট পড়া দামিয়ান হাতের আইপেডে
দৃষ্টি রেখে ফিচেল হাসে,,
__ ইনভিটেশন একসেপ্ট করো আমি যাব সেখানে।

সে খলনায়ক পর্ব ৪০