Naar e Ishq part 30
তুরঙ্গনা
রাত তখন আটটা ছুঁইছুঁই। মিলানের আকাশটা রাতের গাঢ় অন্ধকারে ছেয়ে আছে। অথচ সেই বিশাল প্রাসাদের লনজুড়ে জ্বলে উঠেছে মৃদু আলোকসজ্জা। সাদ তার জেদ ধরে রেখেছে—আজ রাতে কিছুতেই সে সুহিন আর নিমরাকে হোটেলে ফিরতে দেবে না। এমনকি রোজি বা বাকিদের হাবভাব দেখেও মনে হচ্ছে, তাদের এই বাড়িতে আটকে রাখাটা যেন এক অঘোষিত পরিকল্পনা।
নিমরা সাদের ওপর বিরক্ত হতে হতে ক্লান্ত। লনের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে সাদ তাকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে আজেবাজে সব তর্কে ব্যস্ত রেখেছে। নিমরা রাগে গজগজ করতে করতে একবার সুহিনের দিকে তাকাল। সুহিন তখন চুপচাপ রোজির পাশে বসে আছে। সেখানে ফারিস, জায়ান আর তালহাও উপস্থিত থেকে হালকা মেজাজে আড্ডা দিচ্ছে।
সুহিন সহ সকলের ধ্যান ভাঙল সন্ধ্যা নাগাদ; বাড়ির গেট দিয়ে কালো কুচকুচে একটি ফেরারি ঝড়ের বেগে বাড়ির ভেতরে ঢুকে থামল। গাড়িটা থামার সাথে সাথেই রোজি যেন চপল হয়ে উঠল। সে সবার আগে হাসিমুখে এগিয়ে গেল গাড়ির দিকে। কেকে গাড়ি থেকে নামতেই রোজি যে ভঙ্গিতে তার সাথে কথা বলছিল—সেই সখ্যতা আর আহ্লাদী ভাবমূর্তি সুহিন একদৃষ্টিতে চেয়ে চেয়ে দেখল।অজান্তেই তার বুকের ভেতরটা কেমন যেন দুমড়ে-মুচড়ে গেল।
নিমরাও আড্ডার এক ফাঁকে সুহিনকে একপাশে টেনে নিয়ে চুপিচুপি জিজ্ঞেস করল,
“এই মেয়েটার সাথে কেকের আসলে সম্পর্কটা কী রে ভাই? একটু বেশিই মাখামাখি মনে হচ্ছে না? কেমন যেন লাগছে দেখতে!”
সুহিন কোনো উত্তর দিতে পারেনি। সে শুধু অনুভব করছিল, এই বাড়িতে প্রতিটি মুহূর্ত কাটানো তার জন্য অসহ্য যন্ত্রণার হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কেকে ভেতরে ঢোকার সময় একবার সুহিনের দিকে তাকিয়েছিল। সেই তীক্ষ্ণ শীতল দৃষ্টিতে সুহিন একবারের জন্য থমকে গিয়েছিল; কিন্তু কেকে মুহূর্তেই দৃষ্টি সরিয়ে অত্যন্ত স্বাভাবিক ভঙ্গিতে দোতলায় নিজের ঘরে চলে যায়। এরপর হতে রাতের ডিনার পর্যন্ত-ও সে আর নিচে নামেনি। সুহিনও মনে মনে চাইছিল সে যেন সামনে না আসে, কারণ তার উপস্থিতি মানেই সুহিনের স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া।
রাত আরও বাড়লে শোয়ার ব্যবস্থা হলো। গেস্ট রুম থাকা সত্ত্বেও রোজি জেদ ধরল তারা যেন তার রুমেই থাকে। এই রুমটা রোজি অনেক আগে থেকেই নিজের মতো করে ব্যবহার করে আসছে। সে এ বাড়িতে স্থায়ী নয়, কিন্তু যখনই আসে কয়েক দিন থেকে যায়। আজ রাতে রোজি, নিমরা আর সুহিন একই রুমে আশ্রয় নিল।
ক্লান্ত নিমরা বিছানায় শোয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বেঘোরে ঘুমিয়ে পড়ল। কিন্তু সুহিন আর রোজির চোখে ঘুম নেই। সুহিন জানালার দিকে মুখ করে শুয়ে ছিল, কিন্তু তার কান ছিল রোজির দিকে। রোজি তখন একে এ কেকে সম্পর্কিত নানান সব গল্প শুরু করেছে। রমণীর কণ্ঠস্বরে এক তীব্র অধিকারবোধ। সে বলতে থাকল,
“জানো সুহিন, কেকে মানুষটা বাইরে থেকে যতটা কঠিন, ভেতরে হয়তো ততটা না। আমি তো ওকে প্রায় অনেক বছর ধরে চিনি! ওর কোন রঙ পছন্দ, ও কখন কফি খায়, কী দেখে রেগে যায়—মোটামুটি সবই আমার নখদর্পণে। তবুও ওর অনেক কিছুই আজও আমার বোধগম্য হয়নি। আমাদের সম্পর্ক নিয়ে এখনো চূড়ান্ত কিছু না হলেও, ফিউচার প্ল্যান নিয়ে আমি অনেক কিছু ভেবে রেখেছি।”
সুহিন অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে রোজির প্রতিটি কথা গিলছিল। প্রতিটি শব্দ যেন এক একটা তপ্ত তীরের মতো তার অন্তরালে বিঁধছিল। রোজি সাগ্রহে তাদের সম্ভাব্য সুন্দর ভবিষ্যতের বর্ণনা দিয়ে চলেছে; সুহিন নিজের অজান্তেই চোখ বন্ধ করে নিল। এক অদ্ভুত জ্বালাপোড়া আর দহন তার সমস্ত সত্তাকে কুরে কুরে খাচ্ছে। তার বিষণ্ণ মন খুঁজে পাচ্ছে না, এই দহনের কারণ কি! কেকের সাথে তার সম্পর্কের গভীরতা খুব তো বেশি নয়। না কখনো একে অপরকে জানা হয়েছে আর না কখনো ভালো করে বোঝা হয়েছে। তবুও মানুষটার জীবনের কেন্দ্রবিন্দুতে আজ অন্য কোনো নারী তার ঘর গোছানোর স্বপ্ন দেখছে—এটা যেন সে মেনে নিতেই পারছে না।
রোজির উচ্ছ্বাসের বিপরীতে সুহিনের নীরবতা যেন এক বিশাল বিয়োগান্তক কাব্যের ন্যায় সেই অন্ধকার ঘরে জমে রইল। বিশ্বখ্যাত মিলানের এই বিলাসবহুল প্রাসাদ সরূপ বাড়িটাও বিষন্ন রমণীর কাছে হঠাৎ করে পৃথিবীর সবচেয়ে নির্জন মরুভূমি বলে মনে হতে লাগল।
রাত ক্রমশই গভীর হতে লাগল। ঘড়ির কাটা ধীরে ধীরে বারোটার ঘর পেরলো হয়তো। বাহিরের শীতল হাওয়া মস্তবড় জানালার কাঁচগুলোতে মৃদু টোকা দিয়ে যাচ্ছে; জোছনার মৃদু নীল আলোয় পরিবেশটা এক অদ্ভুত মায়াবী নিস্তব্ধতায় ডুব দিয়েছে।
রোজি উপুড় হয়ে শুয়ে হাতের ওপর চিবুক রেখে সুহিনের দিকে তাকাল। তার চোখে এক ধরণের কৌতূহল আর মুগ্ধতা। কিছুক্ষণ নিরব থেকে সে খুব নিচু স্বরে জিজ্ঞেস করল,
“সুহিন, একটা কথা বলব? মাইন্ড করবে না তো?”
সুহিন অন্ধকারের দিকে চেয়ে ছিল, রোজির কথায় সে আলতো করে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাল।
“না, বলুন।”
রোজি একটু ইতস্তত করে বলল,
“আসলে কেকের যে কোনো বোন আছে, এটা আমার জানাই ছিল না। হ্যাঁ, ও খুব নিভৃতচারী স্বভাবের মানুষ, কিন্তু তাই বলে নিজের বোনের কথা কখনো বলবে না? তোমরা কি আপন ভাই-বোন?না… মানে…তুমি ওর ঠিক কেমন বোন?”
সুহিনের অন্তরাল অচিরেই কিঞ্চিৎ কেঁপে উঠল। বারবার এই প্রশ্নটার জন্য সে মানসিকভাবে তৈরি ছিল না। সে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে দৃষ্টি সরিয়ে ছাদের দিকে তাকাল। অত্যন্ত শান্ত স্বরে বলতে লাগল,
“আসলে আমার বাবা আর ওনার বাবা দূরসম্পর্কের বংশসূত্রে আত্মীয় ছিলেন। তবে আত্মীয়তার চেয়েও বড় ছিল তাদের বন্ধুত্ব। সেই সূত্রে আমাদের পরিবার দুটো খুব ঘনিষ্ঠ ছিল। আমি ওনাকে ছোটবেলা থেকেই চিনি। সম্পর্কটা অনেকটা কাজিনের মতোই, তাই সাদ ভাইয়া বা বাকিরা সহজভাবে আমাকে ওনার বোন বলেই পরিচয় দেয়।”
কথাগুলো বলতে বলতে সুহিনের কেনো যেন নিজেরই মনে হতে লাগল—সে এক বিশাল মিথ্যের আড়ালে নিজেকে আড়াল করছে। রোজি সুহিনের কথা শুনে বিস্তৃত তৃপ্তির মুচকি হাসি হাসল। হয়তো সুহিনকে ভিন্ন কিছু না ভেবে কাজিন হিসেবে জেনে তার মনের কোথাও একটা স্বস্তি কাজ করছে।
রোজি আবার সেই কেকে সম্পর্কিত আলাপেই ফিরে গেল,
“তোমার ভাই আমার দেখা পৃথিবীর সবচেয়ে অদ্ভুত একটা মানুষ। ওকে ভালোবাসাটাও বোধহয় খুব কঠিন একটা কাজ। অনেকটা বরফ-শীতল আইসবার্গের মতো। যার উপরিভাগটা দেখা যায় কিন্তু গভীরে কী আছে কেউ জানে না।ও না শুরুতে আমাকে পাত্তাই দিত না, কিন্তু আমিও হাল ছাড়িনি। ওর পছন্দ-অপছন্দগুলো আয়ত্ত করতে আমার অনেক সময় লেগেছে। তবুও ওকে কখনো ছেড়ে যেতে পারিনি। নে’শাগ্রস্ত মানুষ যেমন প্রিয় নে’শার জন্য পাগল হয়,আজকের দিনে এসে কেকে আমার কাছে ঠিক তেমনই এক মারা’ত্মক নে’শাদ্র’ব্যের মতো।”
সুহিন নির্বাক হয়ে শুনে যাচ্ছে। এসব শুনে তার বা কি-ই আর বলার আছে। সে তো অপেক্ষা করছে পাকাপাকি এক বিচ্ছেদের। বিচ্ছেদ হলেই তো মুক্তি! তখন আর কোথায় ঐ অদ্ভুত লোকটার পরোয়া করবে সে?
তবুও সুহিনের মনের ভেতর এক অদ্ভুত জ্বালাপোড়া হচ্ছে—এক ধরণের ঈর্ষা, আবার এক ধরণের হাহাকার। গল্প করতে করতে এক সময় রোজির কণ্ঠস্বর বুজিয়ে এল। তার চোখের পাতা ভারী হয়ে এল আদুরে ক্লান্তিতে। বিড়বিড় করে কেকে-র কোনো এক স্বভাবের কথা বলতে বলতেই সে সুহিনের কাঁধের পাশে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়ল।
পুরো ঘর জুড়ে এখন শুধু ঘড়ির কাঁটার শব্দ আর নিমরা-রোজির নিয়মিত নিশ্বাসের আওয়াজ। কিন্তু সুহিনের চোখে ঘুমের ছিটেফোঁটাও নেই। কিসব ভাবনা ভাবতে ভাবতেই গলাটা শুঁকিয়ে গেল। সে ধীরে ধীরে বিছানা ছেড়ে উঠে জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়াল। বাইরের আকাশটা আজ মেঘলা। মেঘের আড়ালে চাঁদটা কখনো দেখা দিচ্ছে, আবার কখনো ঢেকে যাচ্ছে। সুহিন সেই মেঘে ঢাকা চাঁদের দিকে চেয়ে রইল। তার জীবনটাও যেন ওই চাঁদের মতোই—মেঘের আড়ালে ঢাকা পড়ে আছে এক বিষণ্ণ সত্য, যা না পারছে প্রকাশিত হতে, না পারছে পুরোপুরি মিলিয়ে যেতে।
এক অদ্ভুত তৃষ্ণায় তার গলা বারবার শুকিয়ে কাঠ হতে লাগল। সে জানালা হতে ঘুরে দাঁড়িয়ে, সাইড টেবিলের ওপর রাখা কাঁচের জগটা হাতে নিতেই দেখল—সেটি একদম খালি। তৃষ্ণার এই তীব্রতায় ঘরে বসে থাকা অসম্ভব বুঝে সে অতি সন্তর্পণে রুম থেকে বেরিয়ে এল।
হাতে খালি জগটা নিয়ে সুহিন বিশাল বড় করিডোরে পা রাখতেই এক হিমশীতল নীরবতা তাকে অভ্যর্থনা জানাল। পুরো বাড়িটা যেন এক অন্ধকার প্রেতপুরী ন্যায় রূপ ধারণ করেছে। সুহিন মনে মনে আওড়াল,
“এরা কি মানুষ না প্রেতাত্মা? পুরো ঘরটাকে এভাবে ভুতুড়ে বানিয়ে রাখার মানে কী! একটা ঝকমকে ডিমলাইটও কি কোথাও জ্বালিয়ে রাখা যেত না?”
দেয়াল ঘেঁষে সে অত্যন্ত সাবধানে দোতলা থেকে নিচে নামতে লাগল।এই বাড়ির সুইচ বোর্ড কোথায় আছে,তা তার জানা নেই। তবে সৌভাগ্যবশত ডাইনিং আর লিভিং রুমের বিশাল সব কাঁচের জানালা দিয়ে মেঘমুক্ত আকাশের নীলচে চাঁদের আলো ভেতরের ইন্টেরিয়রে আছড়ে পড়ছে। যদিও সেই মায়াবী রহস্যময় আলোতে সাদা-কালো দেয়ালগুলো যেন আরও বেশি ভয়ংকর দেখাচ্ছে।
সুহিন চোরের মতো পা ফেলে ফেলে বিশাল বড় রান্নাঘরটার দিকে এগিয়ে গেল। চাঁদের আলো সেথায় ছায়া আর আলোর এক অদ্ভুত মেলবন্ধন তৈরি করেছে। সে দ্রুত পায়ে সিঙ্কের কাছে গিয়ে ট্যাপ ছেড়ে জগটা ভর্তি করে নিল। পানির কলকল শব্দে নিস্তব্ধ রান্নাঘরটা যেন এক মুহূর্তের জন্য সজীব হয়ে উঠল।
জগটা পূর্ণ হতেই সে ট্যাপ বন্ধ করে এক মুহূর্তের জন্য কান খাড়া করে নড়েচড়ে দাঁড়াল। এক অদ্ভুত অনুভূতি তাকে আচ্ছন্ন করছে—এই নিশ্ছিদ্র অন্ধকারের মাঝেও সে একা নয়। কেউ একজন ওত পেতে আছে! কেউ একজন তাকে খুব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে!
শুষ্ক ঢোক গিলল ভীত রমণী। আর এক মুহূর্ত সেখানে থাকা নিরাপদ মনে করল না সে। হাতের পানি ভর্তি ভারী জগটা আঁকড়ে ধরে সে যেই না দ্রুত ঘুরে ফিরে যেতে চাইল, ঠিক তখনই সে ধাক্কা খেল এক দুর্ভেদ্য, পাথরের ন্যায় নিরেট অবয়বের সাথে।
তীব্র বিস্ময় আর বুক ফাটানো আতঙ্কে সুহিনের হাত থেকে কাঁচের জগটা মেঝেতে আছড়ে পড়ল। ঝনঝন! শব্দে পুরো বাড়ির নিস্তব্ধতা যেন খানখান হয়ে গেল। কাঁচের টুকরোগুলো হীরের কণার মতো ছড়িয়ে পড়ল মেঝেতে। সুহিন ভয়ে দু-পা পিছিয়ে গিয়ে চিৎকার দিতে চাইল, কিন্তু শব্দগুলো গলার কাছে আসতেই একখানা শক্তপোক্ত, পেশিবহুল হাড়হিম করা শীতল হাত তার মুখ চেপে ধরল।পরক্ষণেই সেই আগন্তুক তাকে সজোরে পেছনের বিশাল বড় কালো মেটালিক রেফ্রিজারেটরের সাথে চেপে ধরল।
সুহিনের পিঠ ফ্রিজের বরফশীতল ধাতব গায়ে ঠেকে যেতেই সে শিউরে উঠল। তার চশমার আড়ালে থাকা নীল চোখ দুটো আতঙ্কে বিস্ফোরিত হওয়ার উপক্রম। আলগা খোঁপা বাঁধাচুলগুলো এলিয়ে কোমড় ছুঁয়ে গেল এক লহমায়। অন্ধকারের মধ্যেও আগুন্তকের সেই তীব্র হিং’স্ত্র চোখের চাউনি আর অবিন্যস্ত ওল্ফ-কাটের চুলগুলো চিনতে এক মুহূর্তও ভুল করল না সুহিন। এটাই সেই মানুষ, যাকে সে প্রতি মুহূর্তে এড়াতে চেয়েছে।
কেকে তার মুখের অত্যন্ত কাছে মুখ নামিয়ে আনল। অন্ধকার ছায়া হয়ে ঝুঁকে পড়ল ভয়ে কুঁকড়ে যাওয়া নাজুক রমণীর উপর। তার তপ্ত নিঃশ্বাস সুহিনের নাকে আছড়ে পড়ছে। পুরুষালি সুঘ্রাণ ও কোরাল পারফিউমের কড়া সুগন্ধে সুহিনের মস্তিষ্ক যেন ক্রমশই অবশ হয়ে আসছে।
কেকে তার অবিন্যস্ত চুলে ঢাকা দুচোখের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দিয়ে একনাগাড়ে সুহিনের মুখপানে চেয়ে রইল। এই নিকষিত আঁধারে চাঁদের আলোয় রমণীর বিস্ফোরিত ভীতু চোখদুটো, কোনো এক অত্যধিক মূল্যবান নীলরত্নের মতোই জ্বলজ্বল করছে।
Naar e Ishq part 29
খানিকক্ষণ পিনপতন নীরাবতা চলল দুজনের মাঝে। কেকে সম্পূর্ণ স্থির রইলেও, ঠিকমতো শ্বাস-নিতে না পাড়ায় সুহিন ভয়ে-আতঙ্কে হাঁপিয়ে উঠল। তার পরিস্থিতির অবনতি আন্দাজ করে কেকে সদয় না হয়ে আরো বেশি কঠোর হলো। হাতে আরেকটু বল প্রয়োগ করে শক্তভাবে চেপে ধরল রমণীকে। চোখে চোখ মিলিয়ে অত্যন্ত চাপা, কর্কশ ও কর্তৃত্বপূর্ণ হাস্কি স্বরে হিসহিসিয়ে উঠল,
“ডোন্ট ইউ ফাকিং ডেয়ার মেক অ্যা সাউন্ড। আই হেইট নয়েজ ঠু মাচচচ!”
