Home শেহেজাদার আদর শেহেজাদার আদর পর্ব ২৯

শেহেজাদার আদর পর্ব ২৯

শেহেজাদার আদর পর্ব ২৯
সুমাইয়া ইসলাম নূর

বাইরে তখন টুপটাপ করে বৃষ্টি পড়ছে।
রাতটা কেমন ঠান্ডা আর নীরব হয়ে আছে।
মাঝে মাঝে হালকা বাতাসে জানালার পর্দা দুলে উঠছে।দূরে কোথাও মেঘের গর্জন শোনা যাচ্ছে ক্ষীণভাবে।
এইদিকে—
ইনায়া রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে এসে ধপ করে বিছানায় শুয়ে পড়ল। পিয়াসা আর তুবা দুজনেই অবাক হয়ে তাকাল।
পিয়াসা ভ্রু কুঁচকে বলল—
কি রে? কী হইছে তোর? এমন করছিস কেন?
ইনায়া কাঁদো কাঁদো গলায় বলল আমার সব শেষ হয়ে গেছে রে
তুবা সাথে সাথে উঠে বসল কেন? কী হইছে?
ইনায়া কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
তারপর কী যেন ভেবে মুখ ঘুরিয়ে বলল—

কই কিছু না… ঘুমা।
এই বলে আবার বালিশে মুখ গুঁজে শুয়ে পড়ল ইনায়া তুবাও পাশে শুয়ে আছে।
আর পিয়াসা ফোন হাতে রেদোয়ানের সাথে মেসেজ করছে।ইনায়া শক্ত করে বালিশটা বুকের সাথে জড়িয়ে ধরল।কানে শুধু বারবার বাজছে ইউভির বলা কথাগুলো।
মনে মনে হাজারটা গালি দিল—
“ধান্দাবাজ… এলোমেলো ভণ্ড… অসভ্য… নোংরা বালের শেহেজাদা! ছিঃ! এক নাম্বারের লুচ্চা। কোন লেভেলের ঠোঁটকাটা ভাবা যায় কী সব বলে! শালা সবসময় মুডে থাকে মনে হয়।
দরজা ঠেলে নুসরাত চৌধুরী রুমে ঢুকলেন।
তিনটাকেই একবার দেখে গম্ভীর গলায় বললেন—
শুনে রাখ সকাল ৭ টায় আমরা রওনা দিবো। সবাই ready থাকিস।
ব্যাস!পিয়াসা সাথে সাথে উঠে বসে বলল—
সাতটাআআ? মানে ভোর সাতটা?
নুসরাত চৌধুরী ভ্রু কুঁচকে বললেন—
না। রাত সাতটা।তুবা বালিশ জড়িয়ে ধরে কাঁদো কাঁদো গলায় বলল—

আন্টি… মানুষ কি এত সকালে ওঠে ?
নুসরাত চৌধুরী বললো তোরা মানুষ বুঝি।
ইনায়া বালিশের নিচ থেকে মুখ বের করে বলল—
“মা… একটা কথা বলি? আমরা যদি দুপুরে যাই গ্রামের মানুষ গুলো কি আমাদের গ্রামে ঢুকতে দিবে না না কি।
নুসরাত চৌধুরী চোখ বড় বড় করে বললেন—
তোরা তিনটা একেকটা আজাইরা প্রাণী!
পিয়াসা বলল—
মেঝো মা beauty sleep বলে একটা জিনিস আছে।
নুসরাত চৌধুরী এবার ধমক দিয়ে বললেন—
তোদের সৌন্দর্য আর কত বাড়বে? আর বাড়লে মানুষ ভয় পাইবো!
তুবা হঠাৎ পিয়াসার হাত চেপে ধরে ফিসফিস করে বলল বেবি… আমি তো সাতটায় শুধু ঘুমের first part শেষ করি।
নুসরাত চৌধুরী বের হয়ে যেতে যেতে আবার বললেন আর শোন! কেউ সকালবেলা উঠাতে না পারলে পানি ঢেলে তুলবো!”
ব্যাস!
তিনজন একসাথে চিৎকার দিয়ে উঠল—
এটা মানসিক নির্যাতন!

সকালের নরম রোদ ধীরে ধীরে চৌধুরী বাড়ির বারান্দা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে।
রাতের বৃষ্টির পর চারপাশটা কেমন ঝকঝকে হয়ে আছে।
বাগানের পাতাগুলোতে এখনও ছোট ছোট পানির ফোঁটা ঝুলে আছে। দূরে কোথাও কোকিল ডাকছে…
আর পুরো চৌধুরী বাড়ি আজ একদম উৎসবের মতো ব্যস্ত। সবাই রেডি হচ্ছে।একটু পরেই তারা রওনা দিবে মাগুরার গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে।
বাড়ির তিন গিন্নি— রেসমা চৌধুরী, নুসরাত চৌধুরী আর সাবিহা চৌধুরী আগের রাতেই কত রকম মজার মজার খাবার রান্না করে রেখেছেন মোস্তাক চৌধুরীর জন্য।
কেউ পিঠা প্যাক করছে কেউ কাবাব কেউ আবার বড় বড় ডাব্বায় মিষ্টি ভরছে।
তার সাথে গ্রামের বাড়ির সবার জন্য গিফট নিয়েছে।
এইদিকে—

চৌধুরী তিন জানোয়ার তুবা, পিয়াসা আর ইনায়া নিজেদের রুমে রেডি হতে ব্যস্ত।
তিনজনেই matching করে সাদা থ্রি-পিস পরেছে।
চুলগুলো খোলা রাখছে হালকা কাজল দিয়েছে চোখে ব্যাস! এতেই তারা রেডি।
এক এক করে সবাই নিচে নামছে।
রিমঝিম আর রাশেদ মির্জাও মাত্র নিচে নামল।
পুরো বাড়ি ভর্তি হৈচৈ কিন্তু তারপরও একজন মিসিং সে আর কেউ না আমাদের যাওরা নাম্বার ওয়ান। ইনায়া পিয়াসা আর তুবাকে নিচে পাঠিয়ে দিয়ে চুপিচুপি ইউভির রুমে গেল।
কিছু টি-শার্ট নিতে। আলমারি খুলে ইউভির কয়েকটা টি-শার্ট বের করল সে।
তারপর নিজের ওড়নার নিচে লুকিয়ে নিয়ে নিচে নেমে এল। নিচে এসে ব্যাগ খুলে টি-শার্টগুলো যত্ন করে ভেতরে রেখে বলল—

“আই’ম ready চলো তোমরা।
আয়াত আর আতিকা দৌড়ে এসে ইনায়া আর পিয়াসাকে জড়িয়ে ধরে বলল আমরা এক গাড়িতে যাবো আপি! ঠিক তখনই—
রবিউল চৌধুরী গম্ভীর গলায় বললেন ভাইয়া রেদোয়ান এখন যেতে পারবে না।
রাতিব চৌধুরী সাথে সাথে রেগে বললেন—
কেন যেতে পারবে না? ওকে তো বলা হয়েছে চারদিনের ছুটি নিতে! রবিউল চৌধুরী ধীরে বললেন
“যাবে… তবে এখন না। যেতে যেতে রাত হবে। ওর একটু কাজ আছে। আমি তোমাকে যেতে যেতে বলছি। কথাটা শুনেই পিয়াসার বুকের ভেতরটা কেমন মোচড় দিয়ে উঠল। কাল রাতেই তো বলল—
এক গাড়িতে যাবে দুজনে সারাটা রাস্তা একসাথে থাকবে হঠাৎ কী হলো? মিথ্যাবাদী লোক।
কথা দিয়ে কথা রাখলো না।

এক এক করে সবাই গাড়িতে উঠে পড়ল।
পিয়াসা, তুবা, ইনায়া, আয়াত আর আতিকা এক গাড়িতে।
রাতিব চৌধুরী আর নুসরাত চৌধুরী রিদ এক গাড়িতে।
লিখন চৌধুরী আর রেসমা চৌধুরী একটায়।
রবিউল চৌধুরী আর সাবিহা চৌধুরী একটায়।
রিমঝিম আর রাশেদ মির্জা একটায়।
আর বাড়ির helping hand দের জন্য আলাদা গাড়ি।
মোট ছয়টা গাড়ি একসাথে রওনা দিল চৌধুরী বাড়ি থেকে মাগুরার উদ্দেশ্যে।
এইদিকে—
ইনায়া ফোন scroll করতে করতে হঠাৎ থমকে গেল।একটা পোস্ট ক্যাপশন টা

“ব্যাস… এইটুকুই চাই আমি সারাজীবন।”
তিয়া চৌধুরীর আইডি থেকে ৭ ঘণ্টা আগে পোস্ট করা। ছবিতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে ইউভি তিয়াকে কেক খাওয়াচ্ছে একটা ফুলের bouquet gift করছে…
আর পাশাপাশি দাঁড়িয়ে ছবি তুলছে।
ইনায়ার হাত কাঁপতে শুরু করল।
“না… না… এটা হতে পারে না…”
ইউভি ভাইয়া তো আমাকেই ভালোবাসে
মুখে না বললেও আমি জানি… বিশ্বাস করি…
কিন্তু মনটা কেন বুঝতে চাইছে না?
তিয়া আপু যে ইউভি ভাইিয়াকে অন্য চোখে দেখে—
সেটা তো ওইদিনই বুঝেছিলাম…
হাই আল্লাহ আমি এখন কী করবো ভীষণ কষ্ট হচ্ছে আমার ও ইউভি ভাইয়া… শুনছেন?
খুব কষ্ট হচ্ছে আমার।

হঠাৎ ইনায়া চিৎকার করে কেঁদে উঠল।
পিয়াসা ভয় পেয়ে ইনায়াকে জড়িয়ে ধরে বলল—
কি হইছে বেবি? কাঁদছিস কেন? কী হইছে বল!
তুবা আয়াতকে সিটে বসিয়ে দ্রুত ইনায়ার কাছে এসে বলল বেবি বল! কোথাও ব্যথা পাইছিস?
ড্রাইভার পিছনে তাকিয়ে বলল নুর মা… গাড়ি থামামু?”
ইনায়া কাঁদতে কাঁদতেই পিয়াসাকে জড়িয়ে ধরে বলল না চাচা… আপনি চালান। তারপর আর একটা কথাও বলল না।
পিয়াসা শুধু চুপচাপ ইনায়ার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।
তুবা ধীরে বলল ভাইয়াকে মিস করছিস তুই?
ভাইয়া চলে আসবে… আর কিছুদিন কষ্ট কর।
ইনায়া হঠাৎ রেগে উঠে বলল চুপ করবি! আমার কিছু ভালো লাগছে না। যে আমাকে ভালোবাসে না তাকে কেন মিস করবো?

পিয়াসা এবার বুঝতে পারল—
নিশ্চয়ই ভাইয়ার সাথে কিছু একটা হয়েছে।
নিজেকে আর আটকাতে না পেরে ধীরে বলেই ফেলল জানিস বেবি… আমার ভাইয়া তোকে অনেক ভালোবাসে তাহলে শোন
“ব্যাস! চুপ কর! আমাকে আর কিছু বলিস না। আমাকে একটু একা থাকতে দে
এই বলে চুপ করে জানালার বাইরে তাকিয়ে রইল ইনায়া।আয়াত আর আতিকা ছোট ছোট হাত দিয়ে ইনায়ার মাথায় হাত বুলিয়ে বলল—
তুমি কষ্ট পেও না আপি… তোমার ব্যথা কমে যাবে।
তুবা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল অথচ আমরা কত কিছু plan করে রাখছি… যাওয়ার সময় কত কিছু করবো…”
এইদিকে রেদোয়ান একের পর এক মেসেজ দিয়েই যাচ্ছে পিয়াসাকে।
কিন্তু পিয়াসা কোনো রিপ্লাই দিল না।
শেষমেশ সব জায়গা থেকে রেদোয়ানকে ব্লক করে দিল।
কিছুটা সময় পার হওয়ার পরও ইনায়া যখন স্বাভাবিকভাবে কারও সাথে কথা বলছে না ঠিক তখনই পিয়াসা চুপিচুপি ইউভিকে মেসেজ করল।

— “ভাইয়া… তুমি কি কিছু বলছো ওকে?
ওপাশ থেকে সাথে সাথেই রিপ্লাই আসলো— — “কাঁদছে?” পিয়াসা একবার ইনায়ার দিকে তাকাল। জানালার পাশে মুখ ঘুরিয়ে বসে আছে মেয়েটা… চোখদুটো এখনও টকটকে লাল। পিয়াসা দীর্ঘশ্বাস ফেলে লিখল— — “অনেক।”
কিছুক্ষণ দুই ভাইবোনের মধ্যে আরও কিছু কথা হলো। তারপর পিয়াসা ফোনটা silent করে রেখে দিল।
এদিকে গাড়ি তখন পদ্মা সেতু পার হচ্ছে। চারপাশে শুধু বিশাল নদী… ধূসর আকাশ… হালকা বাতাস। আয়াত আর আতিকা excitement এ চিৎকার করছে— “আপি! পানি দেখো! কত বড়!”
পিয়াসা হেসে বললো ধূর পাগলি পানি আবার বড় হয় নাকি।।
কিছুক্ষণ পর সবাই একটা বড় রেস্টুরেন্টে নামল দুপুরের খাবারের জন্য। সব গাড়ি এসে একসাথে থামতেই পুরো জায়গাটা কেমন জমজমাট হয়ে উঠল।
সবাই গোল হয়ে বসলো। টেবিলে একের পর এক খাবার আসতে লাগল— গরম গরম খিচুড়ি… ইলিশ মাছ ভাজা… বেগুন ভাজি… ইলিশ মাছের লেজ ভর্তা
গরম ভাপে পুরো টেবিল ম-ম করছে।

কিন্তু এত কিছুর মাঝেও ইনায়া চুপচাপ। চামচ দিয়ে শুধু খিচুড়ি নাড়ছে।
ঠিক তখনই— লিখন চৌধুরী পানি খেতে খেতে ইনায়ার দিকে তাকিয়ে বললেন— “কি ব্যাপার নুর মা? কান্না মনে হচ্ছে একটু কম করা হইছে। কি হে… এই কান্নার পিছনে কি আমার বেয়াদব ছেলেটা আছে নাকি?
ইনায়া থমকে গেল। অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল লিখন চৌধুরীর দিকে।
লিখন চৌধুরী মুচকি হেসে বললেন এত অবাক হওয়ার কিছু নাই। তোমার চোখ-মুখ দেখেই যে কেউ বুঝবে তুমি কাঁদছো।

নুসরাত চৌধুরী এবার চিন্তিত গলায় বললেন কি হইছে তোর? একটু আগেও তো কত হাসিখুশি ছিলি!
ইনায়া একবার পিয়াসা আর তুবার দিকে তাকাল। দুজনের মুখেও এখন কোনো হাসি নেই।
হঠাৎ ইনায়ার বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল। মনে মনে বলল— “না… আমার জন্য ওদের আনন্দ নষ্ট হতে দিবো না। তারপর জোর করে ছোট্ট হাসি দিয়ে বলল কিছু না মা… একটু শরীর খারাপ লাগতেছে।
ব্যাস! রেসমা চৌধুরী সাথে সাথে ইনায়ার হাত ধরে পাশে নিয়ে গেলেন।
নিচু গলায় বললেন শোন… অনেক কষ্ট হচ্ছে তোর তাই না? আমি তো একদম ভুলেই গেছিলাম মা তোর কথা। না হলে পাঁচদিন পরে গ্রামের বাড়ি যেতে বলতাম। ইনায়া অবাক হয়ে তাকাল মানে?
রেসমা চৌধুরী ফিসফিস করে বললেন তোর তো মাসের এই কয়টা দিন অনেক পেট ব্যথা থাকে। এতটা রাস্তা জার্নি করে তুই কেমনে যাবি মা?
কথাটা শুনেই ইনায়ার চোখ ভিজে উঠল। এই মানুষগুলো তাকে কতটা যত্ন করে।
ইনায়া জোর করে হাসল। “ও বড় মা… তুমি চিন্তা করো না। আমি ঠিক হয়ে গেছি। চলো গরম গরম খিচুড়ি খাই… দেখবা পেট ব্যথাও পালাবে।
রেসমা চৌধুরী মমতা ভরা চোখে মেয়েটার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন।
তারপর সবাই আবার খাওয়ায় মন দিলেও— পিয়াসা বারবার ফোনের দিকে তাকাচ্ছে। স্ক্রিনে শুধু একটাই নাম বারবার ভেসে উঠছে—
রেদোয়ান সালা

দুপুর বারোটার মধ্যেই পুরো চৌধুরী পরিবার মাগুরাই পৌঁছে গেল।
শীতারামপুর গ্রামটা খুব বেশি বড় না… ছোট্ট একটা শান্ত গ্রাম। কিন্তু গ্রামের সৌন্দর্য এমন— একবার দেখলে চোখ সরাতে ইচ্ছে করে না।
চারপাশে শুধু সবুজ আর সবুজ। দূরে বিস্তীর্ণ ধানের ক্ষেত হালকা বাতাসে ঢেউ খেলছে। পাকা রাস্তার দুপাশে সারি সারি তালগাছ, নারিকেল গাছ আর সুপারি গাছ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। কোথাও গরুর গাড়ি ধীরে ধীরে চলে যাচ্ছে কোথাও আবার কয়েকজন কৃষক মাথায় গামছা বেঁধে মাঠ থেকে ফিরছে।
গরম রোদের মাঝেও গ্রামের বাতাসে এক অদ্ভুত শান্তি দিচ্ছে । শহরের কোলাহল নেই… হর্ন নেই… শুধু পাখির ডাক আর গাছের পাতার শব্দ।
আর এই শীতারামপুর গ্রামেই চৌধুরীদের আলাদা একটা নামডাক আছে। পুরো গ্রামের মানুষ তাদের অনেক সম্মান করে। কারও বিপদে সাহায্য লাগলে— সবার আগে চৌধুরী বাড়ির নামই আসে।
তাই সকাল থেকেই গ্রামের মানুষ অপেক্ষা করছিল— “কখন আসবে চৌধুরীরা?”
কেউ রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে… কেউ বাড়ির উঠানে… আবার ছোট ছোট বাচ্চারা তো গাড়ির শব্দ শুনলেই দৌড়ে রাস্তার দিকে চলে আসছে।

চৌধুরী বাড়িটাও যেন পুরো গ্রামের মধ্যে আলাদা এক রাজবাড়ি।
বিশাল বড় দোতলা বাড়ি… সামনে লম্বা খোলা উঠান। বাড়ির ডানপাশেই বড় একটা পুকুর। পুকুরের পানি এত পরিষ্কার যে দূর থেকে আকাশের নীল রং পর্যন্ত দেখা যায়।
পুকুরের চারপাশ জুড়ে সারি সারি নারিকেল গাছ আর সুপারি গাছ। হালকা বাতাস এলেই গাছগুলো দুলে উঠে… আর পানির উপর ছায়া পড়ে কেমন সুন্দর দৃশ্য তৈরি হয়।
বাড়ির পেছনটা যেন এক টুকরো ফলের বাগান। চারদিকে আমগাছ… কাঁঠালগাছ… লিচুগাছ… জামগাছ… গরমের প্রায় সব ফলের গাছেই ভরা পুরো বাড়ি।
কোথাও কাঁচা আম ঝুলছে… কোথাও বড় বড় কাঁঠাল গাছের গায়ে লেগে আছে। মাটিতে শুকনো পাতার গন্ধ… তার সাথে কাঁচা আমের হালকা মিষ্টি ঘ্রাণ মিশে পুরো পরিবেশটা আরও মায়াবী করে তুলেছে।
উঠানের একপাশে পুরোনো দোলনা… আরেক পাশে ফুলের বাগান। শিউলি, গোলাপ, জবা, বেলি— নানারকম ফুলে ভরা চারপাশ।

শহরের মানুষ হয়তো এই জায়গাটাকে শুধু গ্রাম।বলবে… কিন্তু চৌধুরী পরিবারের কাছে— এই শীতারামপুরই শান্তি। এই জায়গাটাই তাদের শিকড়
গ্রামে আছে বিশাল বড় একটা পুকুর— যেটাকে সবাই “শীতারাম রাজার পুকুর” বলেই চেনে। এই পুকুরের নাম থেকেই নাকি গ্রামের নাম রাখা হয়েছে “শীতারামপুর”।
পুকুরটা এতটাই বড়— এই পাড়ে দাঁড়ালে ওই পাড় ঠিকমতো দেখা যায় না। দূর থেকে শুধু মনে হয় বিশাল কোনো জলরাশি… হালকা বাতাসে পানির ঢেউ চিকচিক করছে। বিকেলের রোদ পড়ে পানিগুলো রুপার মতো ঝলমল করছে।
আর পুকুরের পাশেই পুরোনো একটা গোরস্থান। চারপাশে বড় বড় গাছ… শান্ত নিরিবিলি পরিবেশ। সব মিলিয়ে গ্রামটার মধ্যে একটা আলাদা মায়া আছে। ভয়, শান্তি, সৌন্দর্য— সব একসাথে মিশে আছে শীতারামপুরে।
গাড়ি থেকে নামতেই— মোস্তাক চৌধুরী আর তার স্ত্রী জামেলা চৌধুরী এগিয়ে এসে সবাইকে জড়িয়ে ধরলেন।
জামেলা চৌধুরী চোখ মুছতে মুছতে বললেন— “আমার কথা তোদের মনে পড়লো অবশেষে?
একমাত্র ইউভি আর রেদোয়ান দাদুভাইই আমাদের মনে রাখছে… তোরা তো ভুলেই গেলি!
পিয়াসা আর ইনায়া গিয়ে জড়িয়ে ধরে বলল।আহহ দাদুমণি… নাটক কম করো তো পিয়ো তুমি ও কম মনে রাখো নাই।

এইদিকে— মোস্তাক চৌধুরীর ছোট ছেলে রুবেল চৌধুরী, একজন সেনাবাহিনীর অফিসার। তার দুই মেয়ে বড় মেয়ে তারিন ক্লাস টেনে পড়ে আর ছোট মেয়ে তুলি ক্লাস এইটে।
আয়াত, আতিকা আর পিয়াসাদের দেখে দুই বোন তো খুশিতে একদম আত্মহারা। কিছুক্ষণের মধ্যেই গল্প জমে গেল তাদের।
আর ইনায়া… সে যেন পুরো গ্রামের প্রেমেই পড়ে গেছে।
চারপাশে তাকিয়ে অবাক হয়ে বলল।আল্লাহ… এত সুন্দর জায়গা হয়! ছোটবেলায় আসছিলাম কিন্তু এত কিছু তো মনে নাই… এই প্রকৃতি দেখে পাগল হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা!
তুবা দুহাত ছড়িয়ে ঘুরতে ঘুরতে বলল তোদেরকে অনেক অনেক thank you পাখি… আমাকে এখানে আনার জন্য। ইসস! কী সুন্দর জায়গা!

মোস্তাক চৌধুরী হেসে বললেন আগে সবাই fresh হও। তারপর খেয়ে একটু rest নাও।
ইনায়া সাথে সাথে বলল কিসের rest দাদুভাই? এখানে তো শুধু chill হবে!
ইনায়ার মুখে এমন কথা শুনে পিয়াসা আর তুবা অবাক হয়ে একে অপরের দিকে তাকালো। এই কি সেই মেয়ে— যে একটু আগেও কান্না করছিল?
পিয়াসা ধীরে বলল যাইহোক বেবি… তোকে আমরা সবসময় এমনই দেখতে চাই।
ইনায়া মুচকি হেসে মনে মনে বলল আমার জন্য তোদের মন খারাপ করতে দিবো না। যা হবে আমি সামলে নিবো… আমি এতটাও স্বার্থপর না।
এরপর সবাই বাড়ির ভেতরে চলে গেল। শুধু তিন যাওরা— ইনায়া, পিয়াসা আর তুবা বাড়ির পেছনের দিকে ঘুরতে বের হলো।

রাস্তার পাশে ছোট্ট একটা পুকুর। সেখানে কয়েকটা ছোট ছোট বাচ্চা খেলছে।
ইনায়া একটা বাচ্চার দিকে তাকিয়ে বলল এইই বেবি… তোমার জামা কই হুম? আর আঙুল খাচ্ছো কেন? আঙুলে ময়লা থাকে নামাও!
কিন্তু বাচ্চাটা কথা শোনার বদলে উল্টো ভেংচি কাটল।
এই দেখে— পিয়াসা আর তুবা গিয়ে বাচ্চাটার দুই হাত ধরে ফেলল।
তুবা চোখের ইশারায় ইনায়াকে বলল— খুলে দে!
ব্যাস! ইনায়া দুষ্টু হাসি দিয়ে বাচ্চাটার প্যান্ট খুলে দিল।
আর তারপর— তিন জানোয়ার এমন দৌড় দিল!
পিছনে বাচ্চাটা চিৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে বলছে— “মাআআ! আমার নুনটু পাখি ওরা দেখে ফেলছে!
এই কথা শুনে— তিনজন একসাথে মিরাক্কেল হাসি দিয়ে উঠল।
পিয়াসা হাসতে হাসতে তুবা আর ইনায়া কে চর ঘুশি দিচ্ছে । আর তুবা আর ইনায়া একদম চুপ হয়ে ওর হাসি দেখছে।

ইনায়া ভ্রু কুঁচকে বলে লাউড়া করে কী?
পিয়াসা সাথে সাথে হাসি থামিয়ে বলল Sorry babys… আর হবে না!
এরপর ইনায়া নাটকীয় ভঙ্গিতে বলল—বুঝলি… লাইফে যাই ঘটুক না কেন, হাল ছাড়া যাবে না। happy থাকতে হবে… chill করতে হবে। লাইফে কোনো কষ্ট থাকতে দেওয়া যাবে না।
পিয়াসা কিছু বলতে যাবে— ঠিক তখনই দূর থেকে দেখা গেল বাচ্চাটার মা রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে এদিকে আসছে।
পিয়াসা চোখ বড় বড় করে বলল— “এই দেখ! ওই বাচ্চার মা আসতেছে! দৌড় দে!!!”
ব্যাস! তিন জানোয়ার আবার এমন দৌড় দিল— পিছনে শুধু বাচ্চাটার মায়ের চিৎকার কে করলো এমন
ইনায়ার ভীষণ খারাপ লাগছে… ভীষণ মনে পড়ছে ইউভিকে। আমার শেহেজাদা… তুমি কি সত্যিই আমাকে ভুলে গেছো?

ফোন চেক করে দেখল— একটা মেসেজ ফোন… কিছুই দেয়নি ইউভি।
ব্যাস! ইনায়া এবার দুমড়ে মুচড়ে কেঁদে উঠল।
“তাহলে কি সত্যিই ইউভি ভাইয়া তিয়া আপুকে ভালোবাসে? এইজন্যই তার বার্থডে সেলিব্রেট করতে লন্ডন গেছে? আমারও তো কাল বার্থডে… কই? আমার কথা তো ভুলেই গেছে।
ইনায়া কাঁদছে… ভীষণ কাঁদছে। বুকের ভেতরটা যেন ফেটে যাচ্ছে তার। হঠাৎ চিৎকার করে বলে উঠল— ও ইউভি ভাইয়া… কই আপনি? আমার যে ভীষণ কষ্ট হচ্ছে… খুব দেখতে ইচ্ছে করছে আপনাকে… জড়িয়ে ধরতে মন চাচ্ছে… একটু বুকে জড়িয়ে নিবেন…?
দু’হাত তুলে শূন্যে ধরতে গিয়েও থেমে গেল সে।
মনে মনে তিক্ত হাসি দিয়ে বলল—
“সে তো নাই… থাকলে তো ধরবে। সে তো এখন তার প্রেমিকার কাছে।
এই বলেই আবার কান্নায় ভেঙে পড়ল ইনায়া।
আর এইদিকে— পুরো চৌধুরী বাড়ির সবাই ইনায়াকে রুমে পাঠিয়ে দিয়ে ছাদে ডেকোরেশন করছে। রাত ১২ টায় ইনায়াকে সারপ্রাইজ দিবে বলে সবাই মিথ্যা ঘুমের অভিনয় করছে।
রেদোয়ান সব ডেকোরেশনের জিনিসপত্র নিয়ে হাজির হয়েছে। সাথে কেক… আর ইনায়ার প্রিয় খাবারগুলোও।
এইদিকে— কাঁদতে কাঁদতেই ঘুমিয়ে পড়েছে ইনায়া।
আর ইউভি এতক্ষণ বারান্দায় দাঁড়িয়ে সব দেখছে।

বারান্দাটা অন্ধকার থাকায় ইনায়া ইউভিকে দেখতে পায়নি। কিন্তু ইউভি পুরো সময়টা মুগ্ধ হয়ে তার চাচির অসভ্য বেটিকে দেখেছে। মৃদু হেসে ফিসফিস করে বলল—
“কান্না করলেও কাউকে এত সুন্দর লাগে ইসস… আদর… এতটা সুন্দর কাউকে লাগতে হয় না জানিস না তুই?
তারপর কফির মাগে চুমুক দিয়ে আবার তাকালো ইনায়ার দিকে।ইচ্ছে করলে তোর কান্না আমি মাঝপথেই থামিয়ে দিতে পারতাম… কিন্তু তুই কান্না করলে যে অনেক মায়াবী লাগে… ওই মায়াভরা মুখটা দেখার জন্য হলেও তোকে আমি রোজ কাঁদাবো…”এরপর ইউভি বিছানায় গিয়ে এক ঝটকায় ইনায়াকে বুকে নিয়ে আসে।
শক্ত করে জড়িয়ে ধরে… কানের কাছের চুলগুলো সরিয়ে মুখ ডুবায় ইনায়ার ঘাড়ের কাছে।
“ইসস… কী শান্তি… এই শান্তিটা আমার সবসময় চাই আদর।
আরও একটু শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলে—
“কষ্টের কান্না করলেও যদি তোকে এতটা মায়াবী লাগে… না জানি যখন সুখের কান্না করবি… তখন কতটা সুন্দর লাগবে তোকে…”

এরপর ইনায়ার কপালে… ঘাড়ে… গলায় ছোট ছোট ভালোবাসার পরশ এঁকে দেয়।
ইনায়া ঘুমের মাঝেই নড়ে ওঠে। ইউভিও আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ইনায়াকে নিজের বুকের উপর নিয়ে আসে।কপালের উপর পড়ে থাকা চুলগুলো সরিয়ে… হালকা করে ঠোঁট ছোঁয়ায় কপালে।
ইউভিও শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রাখে ইনায়াকে।
এক মিনিট… পাঁচ মিনিট… দশ মিনিট…
এইভাবেই কেটে যায় এক ঘণ্টা।
ইউভি একইভাবে ইনায়াকে নিজের বুকের সাথে আগলে রেখেছে। আর পুরো মুখে… কপালে… গলায় ভালোবাসার ছোঁয়া এঁকে যাচ্ছে।হঠাৎ ইনায়ার ঘুম ভেঙে যায়।ইউভিকে দেখেও আবার চোখ বন্ধ করে ফেলে। স্বপ্ন ভেবে আবার চোখ বন্ধ করে নেয়।
ঠিক তখনই ইউভি ইনায়ার কানের লতিতে কুটুস করে কামড় দিয়ে বলে—

“জান আদর… খেতে কি অনেক ভালো লাগছে? আরও করি আদর?
ব্যাস! ইনায়া যেন এক লাফে উঠে বসলো ইউভির পেটের উপর।
আপনি… সত্যি? আপনি ইউভি ভাইয়া?
ইউভি উঠে বসে ইনায়াকে কোলের মাঝে নিয়ে বলল—
“জি ম্যাডাম। আমি শেহেজাদা ইউভি চৌধুরী। আপনার একমাত্র বালের শেহেজাদা।
এরপর ইউভি ইনায়ার ঠোঁট দুটো নিজের ঠোঁটের মাঝে বন্দি করে নিল। একটানা পাঁচ মিনিট নিজের মতো করে ইনায়ার ঠোঁটের অভিমান ভাঙাতে লাগল।
তারপর কপাল ঠেকিয়ে ফিসফিস করে বলল—

“মেরি জান… বলেছিলাম না… আমার আদর-ভালোবাসা তুই সহ্য করতে পারবি না…”
ইনায়া রেগে গিয়ে ইউভির গলায় কামড় বসিয়ে দিল।
ইউভি কোনো শব্দ না করে সেই সুখময় ব্যথাটা উপভোগ করতে লাগল।
এরপর ইউভি যখন কিছুই বলছে না দেখে ইনায়া ইউভির বুকে কিল-ঘুষি দেওয়া শুরু করে দিল।
“আপনি অনেক খারাপ ইউভি ভাইয়া… অনেক খারাপ…”মাঝপথেই ইনায়াকে থামিয়ে দিল ইউভি। আবারও একইভাবে ইনায়ার ঠোঁট দুটো নিজের ঠোঁটের মাঝে বন্দি করে নিল।
যখনই ছাড়ল— ইনায়া আবার শুরু করে দিল—
“আপনি আমাকে অনেক কষ্ট দিছেন… এখন আসছেন লুচ্চামি করতে! অসভ্য… একদম অসভ্য!
ইনায়া বলে যাচ্ছে… আর মাঝেমধ্যেই ইউভি চুপ করানোর মতো করে ইনায়ার ঠোঁটে আলতো চুমু এঁকে দিচ্ছে।
এইভাবেই চলতে থাকল তাদের সুন্দর মুহূর্তগুলো।
একসময় ইনায়া ক্লান্ত হয়ে ইউভির বুকের উপর ঢলে পড়ল।
ইউভি মুচকি হেসে বলল—
এতটা অভিমান জমিয়ে রেখেছেন ম্যাডাম?
ইনায়া এবার সত্যিই কেঁদে দিল।
ভালোবাসেন না আমাকে… তাহলে কী করে থাকলেন এতদিন? আমার যে খুব কষ্ট হয়।
কিন্তু ইউভি যেন ইনায়ার কোনো কথাই কানে নিচ্ছে না। একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার অসভ্য বউটার দিকে।
মনে মনে বলল—

কবে… কখন… এতটা আপন করে নিলি আমাকে? তুই যে অনেক বড় ভুল করে ফেলছিস আদর… আমি মানুষটাই যে ভীষণ অসভ্য
ইনায়া এখনও কিছু একটা বলেই যাচ্ছিল। হঠাৎ ইউভি তাকে কোলে তুলে নিল।
তারপর নিজের গায়ের টি-শার্ট খুলে ইনায়ার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল—
আদর… তুই আমার বিয়ে করা বউ। তোকে একবার না… হাজার বার কোলে নিয়ে আদর করতে পারি। আমাকে বাধা দিস না আদর… আজ অন্তত না
এরপর ইউভি আবার ইনায়ার ঘাড়ে মুখ গুঁজে দিল।
দু’জনের এলোমেলো শ্বাস ধীরে ধীরে মিশে যেতে লাগল একসাথে। ঘাড় থেকে ধীরে ধীরে উপরের দিকে উঠে আবারও হারিয়ে গেল সেই চেনা অনুভূতিতে।
আর ইনায়া…

সেও আর কোনো বাধা দিল না। নীরবে সায় দিল ইউভির সাথে।
এইভাবেই কিছু সময় ধরে চলতে থাকল তাদের ভালোবাসায় ভরা মুহূর্তগুলো।
ঠিক তখনই ঘড়ির কাঁটা রাত বারোটায় গিয়ে থামলো।
পুরো চৌধুরী বাড়ির সবাই কেক, মোমবাতি আর বেলুন নিয়ে হাজির— ইনায়াকে সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য।
রিমঝিম দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলল—
নুর! দরজা খোল নুর! ঘুমাইয়া পড়ছিস নাকি? নুররর!
ব্যাস! ইউভি আর ইনায়া যেন হঠাৎ নিজেদের জগৎ থেকে বাস্তবে ফিরে এলো।ইনায়া চোখ বড় বড় করে বলল—
ইউভি ভাইয়া এখন কী হবে? আমি পালাই? না না… আপনি পালান!
ইউভি ভ্রু তুলে তাকিয়ে বলল—

তুই মনে হয় একটা কথা খেয়াল করিস নাই আদর… তুই আমার বিয়ে করা বউ। তিন তিনবার কবুল বলা বউ।
গায়ে তাড়াহুড়ো করে টি-শার্ট পরতে পরতে আবার বলল—
এই দাদার ব্যাটারির আসার সময় পেল না! নামি শেষে একটা ডাউনলোড করে গেছে— আজকের আমার এই মুহূর্তটা নষ্ট করার জন্য!
এরপর ইউভি দরজা খুলতেই থমকে গেল।
ওহহ ভালো! শুধু ফুপি না পুরো চৌধুরীদের গুষ্টি হাজির!
সবাই দরজার সামনে দাঁড়িয়ে।
কেউ কেক হাতে কেউ বেলুন হাতে
ইউভি দুহাত কোমড়ে দিয়ে বলল—
তোমরদ কি জানো? একজন স্বামী-স্ত্রীর রুমে রাত বারোটার পর নক করতে হয় না!
লিখন চৌধুরী সাথে সাথে রেগে বললেন—
কি বলছো বেয়াদব ছেলে! তোমাদের বিয়ে হয় নাই এখনও!
ইউভি বলল—

আপনার কোন পাকা ধানে মই দিছি লিখন চৌধুরি বলেন তো? আজ দশ বছর হয়ে গেল বিয়ে করছি… শালার বাসর করতে পারলাম না আপনার জন্য!
ব্যাস! সবার মুখ হাঁ হয়ে গেল।
ইউভি এবার দরজার সাথে হেলান দিয়ে বলল—
জান আপনারা আগে বাসরটা করতে দেন… তারপর অন্যসব!
এই বলেই ধপ করে আবার দরজা বন্ধ করে দিল।
এক সেকেন্ড নীরবতা…
তারপর পুরো বাড়ি হেসে উঠল।
রাতিব চৌধুরী, রবিউল চৌধুরী, রেদোয়ান সবাই মুখ নিচু করে মুচকি মুচকি হাসছে। পাগল একটা…
রেসমা চৌধুরী মাথায় হাত দিয়ে বললেন—
চলো সবাই… একটু পরে আমার ছেলে তার ছেলের বউকে নিয়ে আসবে। অতটাও অসভ্য না আমার ছেলে… চলো চলো!

শেহেজাদার আদর পর্ব ২৮

সবাই ধীরে ধীরে চলে যেতে লাগল।
এইদিকে রাশেদ মির্জা সুযোগ বুঝে রিমঝিমের কানের কাছে ঝুঁকে ফিসফিস করে বলল—
তুমি আমাকে বাধা দাও মেনে নিলাম… কিন্তু ইউভির সাথে কাজটা ঠিক করলে না। ওর চোখ-মুখ দেখে খুব কষ্ট হচ্ছে… ওর কষ্টটা আমি বুঝি জান।
রিমঝিম চোখ রাঙিয়ে ফিসফিস করে বলল—
“এই চুপ করো! নাহলে কিন্তু গু*লি করে দিবো ক্রিমিনাল একটা !

শেহেজাদার আদর পর্ব ৩০