এক চিলতে রোদ পর্ব ১ || Nondini Nila

8385

এক চিলতে রোদ পর্ব ১
Nondini Nila

পিরিয়ডের সময় অতিরিক্ত ব্যাথায় কাতর হয়ে পরি। পেটে হাত চেপে ধরে ঠোঁট কামড়ে ধরে ফুঁপিয়ে কাঁদছি। প্রতিবার এমন ব্যাথায় আমি অসুস্থ হয়ে পরি। তাই চোখ বন্ধ করে শুয়েই আছি। তখন কেউ আমার হাত ধরে টেনে তুললো আমি চমকে শক্ত হয়ে বিছানায় বসলাম।
সামনের ব্যাক্তি আমার দিকে অগ্নি দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।
আমি তার দিকে তাকিয়ে ভয়ে গুটিয়ে গেলাম।
সামনের মানুষটি আমার চুলের মুঠি শক্ত করে ধরে বলল,,,
“এই যে নবাবের বেটি, সকাল দশটা বেজে গেল আপনার এখন ও ঘুম হলো না। এখন ও বিছানায় পরে পরে ঘুমাচ্ছিস? তোর সাহস দেখে আমি চমকে উঠলাম।”
চাচি কথাটা খুব রাগান্বিত হয়ে বলল।আমি চাচির দিকে তাকিয়ে ছিলাম কথা শেষ হতেই বললাম,
“চাচি আমি অসুস্থ উঠতে পারছি না। একটু শুয়ে থাকতে দাও বিকেলে সব করবো‌।”
“কি বিকেলে? চুপচাপ উঠ না হলে আমার থেকে খারাপ আর কেউ হবে না।আজকে আমার ছেলে আসবে এতোদিন পর ছেলেটা বাঁড়ি আসবে। কতো কাজ তুই না করে বসে থাকার জন্য সুযোগ খুঁজছিল।

“চাচি আমি …
“উঠ তোর কোন অজুহাত আমি শুনছিনা। তারাতাড়ি কাজে লেগে পর। কতোদিন পর আমার ছেলে আসছে বিদেশ থেকে। কতো কাজ পরে আছে।
চাচি কথাগুলো বলতে বলতে চলে গেল। আমি চুলের মধ্যে এক হাত দিয়ে চোখের জল ফেলছি। চোখ বন্ধ করে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললাম,
উঠতেই পারছি না কাজ করবো কি করে?
তারপর চোখ মেললাম চাচি কি বলল ভাইয়া আসছে? পাঁচ বছর আগে ভাইয়া বিদেশে গিয়েছিল আজ দেশে আসছে।ভাইয়ার যখন বিদেশে গিয়েছিল তখন আমি অনেক ছোট ছিলাম তাই ভাইয়ার চেহারা ভুলে গেছি‌। ভাইয়ার আসায় আনন্দ হচ্ছে কিন্তু বেশিক্ষণ থাকলো না কাজের লোক বললো,,
ঊষা তাড়াতাড়ি বাসা মুছে ফেল। ম্যাডামের আদেশ।
বলেই চলে গেল।
আমি দূর্বল শরীর নিয়ে উঠে দাঁড়ালাম। ব্যাথা চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে। কিন্তু দেখার মতো কেউ নেই পাশে।

আরও গল্প পরতে ভিজিট করুন

পাব কোথায় কাউকে যার মা বাবা নেই সে তো এভাবেই থাকবে।চাচিরা তো তাও আমাকে বাসায় রেখেছে এই তো অনেক তাদের কথা না শুনলে আমাকে র্টচার করবে।
পেটের সাথে এখন মাথা ও ব্যাথা করছে এক হাত চুলে নিয়ে দীর্ঘ শ্বাস ফেললাম তারপর অনেক কষ্টে চুল বাধলাম। বাথরুমে থেকে পানি এনে বালতি করে দুতালায় চলে এলাম।চাচির রুমে থেকে মুছা শুরু করলাম উঠা বসা করতে খারাপ লাগলেইও দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করলাম। সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে এলাম কাজ শেষ হতে অনেকটা সময় পেরিয়ে গেল। পুরো বাসা মুছে আমি থপ করে সোফায় বসে গা এলিয়ে দিলাম।এতো খারাপ লাগছিল যেন মরে গেছি।চোখ বন্ধ করে বসে আছি।‌সারা শরীর অসার হয়ে আসছে।
তখন চাচির ককর্শ গলায় আওয়াজ করতে করতে আমার কাছে এলো তার আওয়াজ পেয়ে উঠি দাঁড়িয়ে পরলাম।
“কি হচ্ছে তুই আবার কাজ ফেলে বসে আরাম করছি? সত্যি কি রেখেছি বাড়িতে এজন্য এমন আপদ বাসায় রাখতে চাইছিলাম না আমার হার মাস শেষ করে দিল।বসে বসে শুধু অন্ন ধংস করেছ কাছের বেলায় অষ্টরম্বা।

চাচির কথা শুনে আমার বুকের ভেতরটা দুমড়ে-মুচড়ে যাচ্ছে।চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পরছে। চাচি আমাকে এভাবে বলতে পারলো আমার তো সব কাজ‌ই করি সব সময় চাচি তার বলে তাই করি আজ শুধু পিরিয়ড এর জন্য করতে চাইছিলাম না তাও তো করছি।
“আবার ন্যাকা কান্না শুরু হয়েছে।এতো নাটক করতে পারিস তুই। কিছু বলতেই কান্না করে ভাসিয়ে দেওয়ার স্বভাব যতসব আপদ।
“চাচি আমি তো মুছে দিয়েছি।
“হুম দেখেছি একটা ঘর বাদ দিলি কেন?
আমি চাচির দিকে তাকিয়ে বললাম,, কোন ঘর তো বাদ দেয়নি।
“ইহান এর ঘর তো কিছুই করিস নি। যা ওই ঘরে গিয়ে পরিষ্কার কর।ও কিন্তু একদম নোংরা অপরিষ্কার পছন্দ করেনা।একদম ঝকঝকে চকচকে করে দিবি।”
আমি বললাম, ওই ঘরে তো সবাইকে যেতে মানা করেছিলে তাই।
“সে করেছিলাম কিন্তু এখন না গেলে পরিষ্কার করবি কি করে। দরকার ছাড়া ওই রুমে যাবি ইহান পছন্দ করেনা।”
আমি মাথা নেড়ে সম্মতি দিলাম।

ইহান ভাইয়ার রুমে এসে পুরো রুমে ঝারলাম। ধূলোয় ভয়ে ছিলো‌ বিশাল বড় বিছানা আলমারি থেকে চাদর, বালিশের কভার এনে বিসালাম।সব কিছু পরিষ্কার করে ফুলের টবের ফুল নিয়ে ফেলে দিলাম নষ্ট হয়ে গেছে এখন ভালো লাগছে না এখানে ফুল রাখলে ভালো লাগবে আমি কিছু একটা ভেবে বাগানে চলে এলাম বাইরে আর আমার পছন্দ মতো ফুল নিলাম তারপর টবে রাখলাম। ইহান ভাইয়ার ছোট কালের ছবি আছে দুটো একটা তার বাবা মার সাথে একদম ছোট। আরেকটা একটু বড় সেখানে চশমা পরিহিত মুখে হাসি আমি ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে আছি তখন চাচি রুমে আসলো।আর আমার দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে পুরো রুমে চোখ বুলিয়ে নিলো।
“হয়েছে।
“জি চাচি।
“যা তাহলে। রান্নাঘরে গিয়ে বাসন মেজে ফেল।
আমি রান্না ঘরে চলে এলাম।

সারাটা দিন আর বসতে পারলাম না। একবার খাবার দিয়েছিল তাও খেতে পারিনি।সারে তিনটায় কাজ শেষ হলো বাসায় ইহান ভাইয়ের নানা বাড়ির লোক ফুফু রা সবাই এসেছে।‌ভাইয়াকে আনতে গেছে তার বোন ইমা- ইলা জমজ ওরা। চাচাকে সারাদিন দেখিনি। চাচি বলেছে কাজ শেষ। আমি রুমে এসে থপ করে বিছানায় শুয়ে পরলাম।আর পারছিনা। কিন্তু এভাবে ঘুমানো ও যাবে না তাই উঠে বাথরুমে গিয়ে কোন রকম গোসল সেরে নিলাম। তারপর ঘুমিয়ে পরলাম। চাচি বলেছে মেহমানদের সামনে যেন না যাই আমাকে রুমেই থাকতে বলেছে রাতে খাবার রুমে দিয়ে যাবে।
আমার জন্য ভালোই হয়েছে।
ঘুম ভাঙল ঠান্ডা বাতাস এ। শীত করছে খুব আমি চোখ মেললাম শীত কেন করছে আজ তো গরম ছিলো তাকিয়ে দেখি বাইরে অন্ধকার তারমানে রাত হয়ে গেছে। এতো সময় ঘুমালাম।আমি উঠতে গেলাম উঠতে পারছি না শরীর ব্যাথা গা গরম জ্বর এসেছে।
ইহান ভাইয়া চলে এসেছে বোধ হয় এতোক্ষণ এ।পানি পিপাসা পেয়েছে গলাটা শুকিয়ে কাঠ হয়ে আছে। রুমে পানি নেই বাইরে যেতে হবে। দরজা ফাঁকা করে দেখলাম বাইরে ফাঁকা কেউ নেই সবাই কি ঘুমিয়ে পরেছে নাকি‌।

ভাবতে ভাবতে বেরিয়ে এলাম ড্রিম লাইটের আলোতে আমি ড্রাইনিং টেবিলে এলাম। পানি খেয়ে নিলাম খিদে পেয়েছে খুব সারাদিন ভালো মতো খেতে পারিনি‌রাতে তো খাবার দেয়নি এখন পারছি না ফ্রিজ খুলে দেখলাম খাবার নেই শুধু মিষ্টি আছে। খিদে মধ্যে আমি দুটো মিষ্টি খেয়ে নিলাম। খালি পেটে মিষ্টি খেয়ে ভালো লাগছে না আমি পানির জন্য পেছনে ঘুরতেই কারো বুকের সাথে বাঁডি খেলাম।
সারা শরীর কেঁপে উঠলো আমার কেউ আমার সামনে দাড়িয়ে আছে যার মুখ বুঝা যাচ্ছে না আমি তার বুকের সাথে লেপ্টে আছি।
আমি ভয়ে এক পা পেছনে গেলাম একি সামনের লোকটা আমার হাত ধরে টেনে আমার কোমর জড়িয়ে ধরলো,,
আমি বিষ্ময়ে হতদম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে আছি।এটা কে আমি ভূতে ভয় পাই খুব এটা কি ভূত আমি বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে আছি সামনের আবসা অন্ধকারে লোকটার দিকে। আমি ভয়ার্ত চোখে তাকিয়ে আছি আমার সারা শরীর থরথর করে কাঁপছে ভয়ে। নিজকে আর ঠিক রাখতে পারলাম না ভয়ে জ্ঞান হারিয়ে লোকটার উপর ঢলে পরলাম।

সামনের লোকটা আমার দিকে তীক্ষ্ণ নজরে তাকিয়ে আছে। সে আর কেউ না ইহান ছিলো। ও একটা দরকার এ নিচে এসেছিল বাসায় আসার পর‌ই ও সবার আক্রমনের শিকার হয়েছে।এটা খাও ওটা খাও সবাইকে পরিয়ে বিশ্রাম নিয়েছে।
নিচে এসে ওর চোখ যায় নিচে কেউ ফ্রিজ খুলছে লুকিয়ে ও ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে একটা মেয়ে আছে সন্দেহ আছে নিচে আসে মেয়েটা দুটো মিষ্টি গপাগপ খেয়ে নেই ওর সন্দেহ হয় চুর না তো তাই কাছে যায়। অদ্ভুত মেয়েটা ও কে ভয় পায় দেখে ইহান সিওর হয় যে চুর হবে কিন্তু মেয়েরাও চুরি করে ভেবে কপাল কুচকায়।
ও মেয়েটা শক্ত করে ধরে আর মেয়েটা হঠাৎ ঢলে পরে ওর উপর।তখন লাইট জ্বালিয়ে কেউ ছুটে আসে।
“ভাইজান ঊষার কি হয়েছে?
ইহান কাজের মেয়ে লতার দিকে তাকিয়ে বলে,
কে ঊষা?
এই যে ঊষা‌‌।

ইহান বুঝতে পারে ওর ধরে রাখা মেয়েটাই ঊষা।ও উষার দিকে তাকিয়ে বলে,
“জ্ঞান হারালো কেন? আমি তো চুর ভেবেছিলাম।
“ভাইজান ওরে এদিকে নিয়ে আসেন দয়া ক‌‌ইরা। শরীর তো আগুন এর মতো গরম জ্বর আসছে।
ইহান খেয়াল করলো সত্যি শরীর অনেক গরম। ঊষার দিকে তাকায় পূর্ন দৃষ্টিতে চোখ মুখ ফুলে আছে ক্লান্ত ভড়া এই টুকু মেয়ের এতো ক্লান্ত। ও ঊষাকে পাজকোলে তুলে নিলো লতা ঊষার রুম দেখিয়ে দেয় ইহান ঊষাকে নিয়ে ওর রুমে এসে বিছানায় শুইয়ে দেয়।

( ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।)

এক চিলতে রোদ পর্ব ২