জল ফড়িঙের খোঁজে পর্ব ৩০ || রোমান্টিক ভালবাসার গল্প

জল ফড়িঙের খোঁজে পর্ব ৩০
লেখিকা: অনিমা কোতয়াল

পার্কের নিরব পরিবেশের একটা বেঞ্চে রিখিয়া আর বিহান দুজনেই চুপচাপ বসে আছে। সবসময় এই পার্কে বসেই সময় কাটাতো ওরা। দুজনেই চুপ করে আছে, দুজনেই দুজনকে কিছু বলতে চাইছে কিন্তু কী দিয়ে শুরু করবে বুঝতে পারছেনা। রিখিয়াতো মনে মনে লজ্জায় মরে যাচ্ছে একপ্রকার। কীকরে বলবে বিহানকে ভালোবাসার কথা? বিহান কতটা অবাক হবে? খুশি হবে? কতটা খুশি হবে? আর অন্যদিকে বিহান অপরাধবোধে ভুগছে। ও যা করেছে ভয়ংকর অন্যায় করেছে। এখন সত্যিটা কীকরে বলবে রিখিয়াকে? মেয়েটা এমনিতেই নরম মনের, সাদামাটা। মানতে পারবেতো এই সত্যি? তবে এখনও যে ও বিহানকে ভালোবেসে ফেলেনি এটাই স্বস্তির। বিহান রিখিয়ার দিকে তাকিয়ে বলল,

” তুমি কিছু বলবে বলছিলে?”
বিহানের কথায় নিজের ভাবনা থেকে বেড়িয়ে এলো রিখিয়া। তারপর অনেকটা ইতস্তত করে বলল,
” আপনি আগে বলুন।”
বিহান চুপ আবার হয়ে গেল, রিখিয়াও চুপ করে রইল। কিছুক্ষণ চুপ করে থাকার বিহান বলল,
” রিখিয়া! আমি তোমাকে এখন কিছু কথা বলব। জানিনা এগুলো শোনার পর তোমার কী রিঅ্যাকশন হবে বা তুমি আমার কী মনে করবে। হয়ত আমাকে খুব বাজে ছেলে ভাববে, ঘৃণাও করবে। কিন্তু এখনও যদি তোমাকে সব সত্যিটা না বলে দেই তাহলে অনেক দেরী হয়ে যাবে।”
রিখিয়া প্রথমে অবাক হলেও পরে ভাবল বিহান হয়ত ওকে প্রপোজ করবে। তাই এসব বলছে। বিহানও ওকে ভালোবেসে ফেলেছে? ভাবতেই কেমন খুশি আর লজ্জা দুটোই লাগছে ওর। তবে ভালোই হবে যদি বিহান আগে বলে দেয়। তাই মাথা নিচু করে কাঁপা কন্ঠে বলল,

” বলুন না।”
বিহান কয়েকসেকেন্ড আবার চুপ থেকে বলল,
” তোমার ঐদিনের কথা মনে আছে যেদিন তুমি আমাকে সবার সামনে চড় মেরেছিলে, অপমান করেছিলে? লকাপে পাঠিয়েছিলে?”
রিখিয়ার সেদিনের কথা মনে পরতেই অনেকটা মন খারাপ হল। লজ্জিত কন্ঠে বলল,
” হ্যাঁ। আসলে আমি না বুঝেই রিঅ্যাক্ট করে ফেলেছিলাম। শুধু শুধুই সাফার করতে হয়েছে আপনাকে। আ’ম সরি ফর দ্যাট। কিন্তু আজ আপনি এসব কেন বলছেন?”
” কারণ আছে। রিখিয়া সেদিনের আগে তোমার সাথে দুষ্টুমি করলেও সেদিনের পর তোমার ওপর আমার ভীষণ রাগ জন্মায়। এমনিতেই আমি মেয়েদের সহ্য করতে পারতাম না। সব মেয়েকে স্বার্থপর, লোভী, ছলনাময়ী মনে হতো। সেই ঘটনার পর আমার ধারণা দৃঢ় হয়ে গেল। তোমার প্রতি তীব্র রাগ আর ঘৃণা ছিল। তুমি যখন আমায় বলেছিলে ‘আমি মেয়েদের মন নিয়ে খেলি’। সেই কথাটাই কানে বাজছিল। এতোই রাগ হচ্ছিলো যে মনে প্রতিশোধের নেশা জেগে ওঠে। মনে হচ্ছিল তোমাকে শিক্ষা দেওয়াটাই আমার একমাত্র লক্ষ্য।”

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

রিখিয়া অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে বিহানের দিকে। বিহান একটা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বলল,
” হ্যাঁ আর সেদিন থেকেই রাগের বসে আমি এই জঘন্য কাজ করা শুরু করি। বারবার তোমার সাথে দেখা হওয়া, তোমাকে হেল্প করা, তোমার সাথে ফ্রাঙ্ক হওয়া সবটা কাকতলীয় ছিলো না। দেখা হয়েছিল কারণ আমি চেয়েছি। তবে হ্যাঁ ঐ আশ্রমের বাচ্চাগুলোর সাথে যেই দুবার তুমি আমাকে দেখেছ সেটা আমার প্লানে ছিলোনা। ওটা কাকতলীয় ছিল। কিন্তু বাকী সবটাই আমার সাজানো ছিল। তোমার সাথে ইচ্ছে করেই এতো ফ্রেন্ডলী মিশেছি আমি। হ্যাঁ আমি কিন্তু আমার গার্লফ্রেন্ডদের সাথে মেলামেশা অফ করিনি। শুধু তোমাকে জানতে দেইনি। প্রতিনিয়ত তোমার কাছে গেছি তোমাকে দুর্বল করে দেওয়ার জন্যে। তোমাকে কষ্ট দেওয়ার জন্যে।”

রিখিয়া জলভর্তি চোখে তাকিয়ে আছে বিহানের দিকে। ওর সব আওয়াজ যেন গলাতেই আটকে আছে। বিহান আবারও কয়েকসেকেন্ড নিরব থেকে বলল,
” আমার উদ্দেশ্য একটাই ছিল তোমাকে আমার প্রতি দুর্বল করে দেওয়া। এতোটাই দুর্বল করে দেওয়া যখন আমি তোমাকে ছেড়ে দেব তখন যাতে তুমি প্রচন্ড কষ্ট পাও। তোমাকে প্রচন্ডরকম কষ্ট দেওয়াটাই আমার উদ্দেশ্য ছিল ”
রিখিয়া ধরা গলায় বলল,
” তা সফল হয়েছে আপনার উদ্দেশ্য?”
বিহান রিখিয়ার দিকে তাকিয়ে কেঁপে উঠল। চোখ লাল হয়ে আছে মেয়েটার। নিচের ঠোঁটটা কাঁপছে। মেয়েটা কী খুব বেশি কষ্ট পেয়েছে? বিহান কাঁপা গলায় বলল,

” না। যত সময় যেতে লাগল এমনিতেই আমার রাগটা আস্তে আস্তে কমে এলো। আর রাগটা কমে আসতেই প্রতিশোধের ইচ্ছেটাও কমতে লাগল। আর তখন বুঝতে পারলাম তুমি সেরকম মেয়ে নও যেরকমটা আমি ভেবেছিলাম। কাল সেটা আরও ভালোভাবে বুঝতে পেরেছি। যদিও অনেকটাই সময় চলে গেছে তবুও আমার মনে হল খুব বেশি দেরী হওয়ার আগে আমার তোমাকে সব সত্যিটা বলে দেওয়া উচিত। কারণ আমাকে ভালোবেসে ফেললে তুমি আরও বেশি কষ্ট পেতে। এমনিতেই অনেকটা কষ্ট দিয়ে ফেলেছি আর দিতে চাইনি। কারণ আমিতো তোমাকে ভালোবাসিনা। ভালোবাসা তো দূর সেরকম কোন অনুভূতিও নেই। তাই তোমার মনে ভালোবাসা জন্মানোর আগেই সবটা বলে দিলাম।”
রিখিয়া লম্বা শ্বাস নিল। চোখের জল আটকে রাখা যে কত কষ্টের সেটা আজ বুঝতে পারছে। নিজেকে অনেক কষ্টে সামলে নিয়ে কন্ঠস্বর শক্ত করে বলল,

” আপনার বলা শেষ?”
বিহান করুণ গলায় বলল,
” রিখিয়া প্লিজ আমাকে মাফ করে দিও। আমি জানি আমি যেটা করেছি সেটা অন্যায়, জঘন্য অপরাধ। কিন্তু রাগের মাথায় করে ফেলেছি। তুমি আমাকে যা শাস্তি দিতে চাও দিতে পারো। আমি সবটা মাথা পেতে নেব।”
রিখিয়া কয়েকসেকেন্ড চুপ করে থেকে একটা তাচ্ছিল্যের হাসি দিল। তারপর বলল,
” আপনাকে কোন শাস্তি দেওয়ার অধিকার আমার নেই। খোলা মাঠে বিছিয়ে রাখা শস্য যদি কাকে খেয়ে ফেলে দোষটা কাকের না চাষীর। বোকা আমি ছিলাম। আর আপনি আমার বোকামির সুযোগ নিয়েছেন। তাই দোষটা আপনার না আমার ছিল।”
” রিখিয়া আমি..”
” আমি আসছি।”

বলে রিখিয়া উঠে উল্টো ঘুরে হাটা দিল। বিহান আটকালো না। সেই অধিকার নেই ওর। মাথা দুহাতে চেপে ধরে বসে আছে। আজ প্রথম ও ওর কোন কাজে অনুতপ্ত, ভীষণ অনুতপ্ত। কেন যেন ভেতর থেকে কান্না আসতে চাইছে ওর। কিন্তু চোখে জল আসছে না। বুকে চাপ দিচ্ছে এক অসহ্য ব্যাথা।
রিখিয়ার দ্রুতপদে হাটছে। ওর শ্বাস আটকে আসছে। বুকে ব্যাথা হচ্ছে ভীষণ। এতোক্ষণ আটকে রাখা চোখের জল এবার গাল বেয়ে গড়িয়ে পরল। একপ্রকার ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে রিখিয়া। সিএনজি তে উঠে মুখে হাত দিয়ে চেপে একপ্রকার আওয়াজ করেই কাঁদছে। ড্রাইভার বারবার তাকাচ্ছে ওর দিকে। রিখিয়ার খেয়াল নেই সেদিকে। সারারাস্তা কেঁদেই পার করেছে। আজ ওর মন ভেঙ্গে গুড়িয়ে গেছে। প্রথম কোন ছেলেকে ভালোবেসেছিল ও। আর সেই ওকে ঠকালো। ওর স্বপ্ন ছিল জীবনে একজনকেই ভালোবাসবে আর তাকেই সারাজীবন ভালোবেসে যাবে। কিন্তু ওর সব শেষ হয়ে গেল! সব। এতো কষ্ট এর আগে কোনদিন হয়নি। এরচেয়ে মৃত্যুও ভালো ছিল হয়ত।

সৌহার্দ্যর কেবিনে বসে তুর্বী আর সৌহার্দ্য কাজ করছে কিন্তু দুজনেই অস্হির হয়ে আছে। দুজনেই দুজনকে কিছু বলার জন্যে ছটফট করছে কিন্তু কাজে মন দিতে পারছেনা কেউই। সৌহার্দ্য বারবার আড়চোখে তুর্বীকে দেখছে, তুর্বীও তাই করছে। মাঝেমাঝে চোখাচোখিও হয়ে যাচ্ছে। তখন আবার কাজে মন দিচ্ছে। এভাবে সকাল থেকে অনেকটা সময় পার হয়ে গেছে। হাফ টাইম অফিস করে ওরা একটা কফিশপে ঢুকলো। দুজনেই চুপচাপ বসে কফি খাচ্ছে। তুর্বী ভাবল যে না এরকম করলে বলাই হবেনা। তাই নিজেকে শক্ত করে বলল,
” সৌহার্দ্য আমার তোমাকে কিছু বলার আছে।”
সৌহার্দ্য চোখ তুলে তাকাল। ও জানে তুর্বী সারাদিনই উদ্ভট কিছু না কিছু বলতেই থাকে। তাই হাসি মুখে বলে,
” আজ আবার নিশ্চয়ই উদ্ভট কিছু বলে মাথা খাবে? তার আগে আমার কথা শোন। আমি সিরিয়িসলি তোমাখে বলতে চাই।”

” হ্যাঁ বলো।”
সৌহার্দ্য একটা লম্বা শ্বাস নিয়ে তুর্বীর দিকে তাকিয়ে বলল,
” তুর আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই। সারাজীবন তোমার সাথে থাকতে চাই। আমি চাই আমাদের সম্পর্কের একটা নাম হোক। তাও বৈধ। সো উইল ইউ ম্যারি মি?”
তুর্বী চরম অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল সৌহার্দ্যর দিকে। তারপর আবাক হয়েই বলল,
” হোয়াট?”
” হ্যাঁ তুর। বিয়ে করবে আমায়?”
তুর্বী কিছুক্ষণ অনেকটা শকের মধ্যে থেকে এরপর গম্ভীর মুখে সৌহার্দ্যকে বলল,
” সৌহার্দ্য আমাদের রিলেশনটায় কোন কমিটমেন্ট ছিলোনা, আর না আমরা সিরিয়াস ছিলাম। পুরোটাই একটা এক্সপিরিয়েন্সের জন্যে। আর সেইরকম কথাই আমাদের মধ্যে হয়েছিল। রাইট?”
সৌহার্দ্য একটু টেনস হলেও বলল,

” আই নো। বাট আমিতো রিলেশনের কথা বলছিনা। বিয়ের কথা বলছি। প্রেমটা নাই করলে। কিন্তু বিয়েতো তুমি করবে তাইনা। কাউকে না কাউকে সেটা আমি হতে সমস্যা কোথায়? এমন তো না তোমার বিয়ের বয়স হয়নি বা তুমি চিরকুমারী থাকবে।”
” পাগল হয়ে গেছো তুমি?”
” এখানে পাগল হওয়ার কী আছে? আমি ছেলে হিসেবে খারাপ?”
” সৌহার্দ্য প্রশ্নটা তুমি ভালো নাকি খারাপ সেটা নয়। প্রশ্নটা হল আমি কেমন? আমি বিয়ের জন্যে রেডি কি-না। যেখানে আমি রিলেশনে কমিটমেন্টের জন্যে তৈরী না। সেখানে বিয়ে কীকরে? বিয়ে মানেই তো দুটো মানুষের সারাজীবন একসাথের থাকার কমিটমেন্ট। এন্ড আ’ম নট রেডি ফর দিস।”

তুর্বীর এসব কথা শুনে সৌহার্দ্যর মনে ধাক্কা লাগল। ও এই ভয়টাই পাচ্ছিল। তবে তুর্বী এতোকিছুর পরেও এভাবে না করে দেবে সেটা ভাবতে পারেনি। পাগল পাগল লাগছে ওর নিজেকে। ও ডেসপারেট হয়ে বলল,
” আচ্ছা ঠিকাছে। তোমার যদি বিয়ের পর কোনদিন মনে হয় আমার সাথে থাকতে পারছ না। বা আমার সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক কন্টিনিউ করা তোমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছেনা। দেন আমি কথা দিচ্ছি তুমি চাইলেই আমি তোমাকে মুক্ত করে দেব। যখন চাইবে। জাস্ট একটা সুযোগ দাও।”
তুর্বী চোখ বন্ধ করে একটা শ্বাস ফেলে বলল,

” বিয়েতো সারাজীবনের একটা সম্পর্ক সৌহার্দ্য। এটা কোন ছেলেখেলা নয়। এটা জীবন। কোন থার্ডক্লাস টাইপের মুভি, সিরিয়াল বা গল্প না যেখানে যখন ইচ্ছে হুটহাট যার তার সাথে বিয়ে হয়ে যাবে, আবার হুটহাট করেই ডিবোর্স হয়ে যাবে, আবার আরেকটা বিয়ে হবে। বিয়ের কোন ভ্যালুই থাকবেনা? আজ একজনকে ভালোবাসবে তার সাথে থাকা সম্ভব হয় নি বলে কাল হুট করেই আরেকজনকে ভালোবেসে ফেলবে। এটা হয়? সবকিছু এতোই সহজ? আর আপনার মত একজন মানুষ যে সম্পর্ক, জীবন নিয়ে এতো সিরিয়াস তার মুখে এসব মানায় না।”
সৌহার্দ্য আজ সত্যিই নিজের মধ্যে নেই। ভালোবাসাকে পাওয়ার নেশায় ও ওর ব্যাক্তিত্ব থেকেই বেড়িয়ে গেছিল। সৌহার্দ্য নিজেকে সামলে বলল,

” জানি। কিন্তু কী করব বল? ভালোবেসে ফেলেছি তোমাকে। আই ওয়ান্ট ইউ ইয়ার।”
” বাট আমি আপনাকে ভালোবাসিনি। আর পরেও বাসতে পারব কি-না তার কোন গ্যারান্টি নেই সৌহার্দ্য। আর এই ওয়ান সাইডেট লাভ দিয়ে সংসার বা সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা যায়না। আর আমি ফিল করেছি যে আপনি দুর্বল হয়ে পরেছেন। যেটা আমি ভাবতেও পারিনি। তাই আমাদের মধ্যে যেই সম্পর্কটাই আছে সেটা এখানেই শেষ করা উচিত। আপনিও ভুলতে পারবেন আমায়। দুজনের জন্যে এটাই ভালো হবে। আমার সাথে এরকম সম্পর্কে থাকলে আপনিই অতিষ্ঠ হয়ে যাবেন। ”
সৌহার্দ্য গলা কাঁপছে। নাক চোখ লাল হয়ে গেছে। ও অনেক কষ্টে বলল,
” তুর আমার জন্যে ভাবতে হবেনা। তুমি তোমার কথা বল।”

জল ফড়িঙের খোঁজে পর্ব ২৯

” সৌহার্দ্য আমি একেবারে অন্যরকম। সমুদ্রের ঢেউ দেখেছেন? একেকটা ঢেউ একেকরকম সাইজের হয় আর তাদের জার্নিটাও আলাদা আলাদা হয়। কখন কোন ঢেউটার সাইজ কেমন হবে কেউ জানেনা। আমার লাইফটাও এরকম। কখন কী হয়? কী করি? কী ভাবি? কেন ভাবি? কোনটার সাথে কোনটার মিল নেই। সবটাই এলোমেলো বাট আমার কাছে ইন্টারেস্টিং। আমি খুব এক্সপিরিমেন্টাল। এসব ভালোবাসা, ফিলিংস, কমিটমেন্ট করার জন্যে যেই স্হির মেন্টালিটি, লাইফস্টাইল, পয়েন্ট অফ ভিউ লাগে সেট আমার নেই। আর এই তিনটে ছাড়া সম্পর্ক বা সংসার কোনটাই টেকেনা। তাই আপনি সুখি হবেন না আমার সাথে। উল্টো ফেড আপ হয়ে যাবেন আমার ডোন্ট কেয়ার কার্যকলাপে। যেরকমটা এই কমাসের সম্পর্কে বারবার হয়েছেন। সারাজীবন কীকরে?”
সৌহার্দ্য ঠান্ডা গলায় বলল,

” তুর ডোন্ট ডিসাইড ফর মি। তুমি কী চাও সেটাই বল।”
তুর মুখে হাত দিয়ে শ্বাস নিয়ে স্বাভাবিক হয়ে বলল,
” আমি চাই আমাদের মধ্যে যাই ছিল এখানেই শেষ করতে।”
” এটাই তোমার শেষ কথা?”
” হুম।”
সৌহার্দ্য উঠে দাঁড়িয়ে বেড়িয়ে গেল ওখান থেকে আসলে নিজের চোখের জলটা তুর্বীকে দেখাবেনা। আজ কতদিন পর কাঁদছে জানা নেই সৌহার্দ্যর কিন্তু অবাধ্য কান্নাগুলো আজ বুক চিড়ে বেড়িয়ে আসছে খুব করে। তুর্বী ওখানেই ঠায় বসে আছে। চোখদুটো টেবিলের দিকে। অকারণেই প্রচন্ড খারাপ লাগছে ওর। মনে হচ্ছে কিছু একটা হারিয়ে গেল। অনেক দূরে হারিয়ে গেল। আর পাওয়া যাবেনা। খেয়াল করল ওর চোখের কোণেও কারণ ছাড়াই সামান্য নোনাজল জমা হয়েছে।

জল ফড়িঙের খোঁজে পর্ব ৩১