Home obsession vs love obsession vs love part 4

obsession vs love part 4

obsession vs love part 4
নিরুর কল্পনারাজ্য

–ঝিলিক সুইসাইড করেছে আইয়ুশ ভাই, তাও প্রায় অনেকঘন্টা আগে। গলগল করে রক্ত বেরোচ্ছে। আমরা ওকে হসপিটাল নিয়ে যাচ্ছি। তুমি যত দ্রুত সম্ভব চলে এসো।
নির্ঝর এক নাগারে অস্থির ভঙ্গিতে সকল কথা বলে থামলো নির্ঝর। সকালে নিজের প্রজেক্টটা আনতে গিয়ে যখন ঝিলিক দরজা খোলেনা, তখনই সবাইকে ডাকে সে। অতঃপর দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করা হয়। কী যে বিভৎস অবস্থা ছিলো তার! নির্ঝর কল্পনা করতে পারেনা। বাম হাতের শিরা কেটে মাংস দেখা যাচ্ছিলো। কী বিশ্রী ছিলো সে দৃশ্য। চৈতী চৌধুরী নিজের বাবার বাড়িতে থাকতেই দু’বার জ্ঞান হারিয়েছেন।
আইয়ুশের কানে এমন খবর যাওয়াতে সে যেনো সেই মুহূর্তের জন্য শ্বাস নিতেই ভুলে গেলো। তার হাতে থাকা দামী ফোনখানা খসে পড়ে গিয়ে শব্দ তুললো। অথচ আইয়ুশের কোনো ভাবান্তর নেই। হাত দুটো তখনও কাঁপছে। গতকাল রাতই বাড়ি থেকে বেড়িয়ে গিয়েছিলো। অফিসের কাজের বাহানায় সারারাত সেখানেই ছিলো। বাড়িতে ঢোকামাত্র হুট করে এমন কিছুর জন্য সে প্রস্তুতই ছিলোনা। আইয়ুশের হাঁটু ভেঙে এলো। সে শ্বাস রোগে ভুক্তভোগী রোগীর ন্যায় হাঁপাতে লাগলো। সেসবকে উপেক্ষা করে ছুটে গেলো ঝিলিকের রুমের দিকে। শাহদাদ মির্জা তখন মেয়েকে কোলে তুলে সিড়ি ভেঙে আসছিলেন। কাঁদতে কাঁদতে। আইয়ুশ ঝট করে গিয়ে ঝিলিককে নিজের কোলে নিয়ে নেয়। সকলকে তাড়াহুড়োয় বলে,

—এম্বুলেন্স আসতে অনেক দেড়ি হয়ে যাবে। গাড়িতে নিয়ে যাচ্ছি আমি। নির্ঝর, সাথে আয় দ্রুত।
নির্ঝর দৌড়ে গিয়ে গাড়ি বের করে। আইয়ুশ দ্রুতপায়ে ব্যাকসিটে গিয়ে বসে পড়ে ঝিলিককে কোলে নিয়ে। ঝিলিকের মাথাটা নিজের বুকের সাথে শক্ত করে চেপে ধরে অন্য হাতে রক্ত ঝরতে থাকা হাতখানা শক্ত করে চেপে ধরে। আইয়ুশের সাদা শার্ট সম্পূর্ণ রক্তাক্ত।
—ভাই, সামনে রেড সিগন্যাল দিয়ে রেখেছে। এখন কী হবে?
আইয়ুশ অস্থির কন্ঠে চিৎকার করে বলে,
—তো ভেঙে ফেল সিগন্যাল। যত দ্রুত সম্ভব ড্রাইভ কর। এসব দেখার সম নেই এখন!
আইয়ুশ অসহায় চোখে তাকিয়ে থাকে ঝিলিকের পানে। চোখ থেকে টপটপ করে পানি পড়ছে। অথচ মুখে কোনো শব্দ নেই। হৃদযন্ত্র যেনো কোনো বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে আছে। সে তার কম্পনরত হাত ঝিলিকের নাকের কাছে নিয়ে যায়। নিশ্চিত হতে চায় যে ঝিলিকের শ্বাস তখনও চলমান। অথচ এমন হয়না। ঝিলিকের শ্বাা যেনো কচ্ছপের মতো ধীরগতিতে চলছে। আইয়ুশ এই প্রথমবারের মতো শব্দ করে কাঁদে। আশপাশ ভুলে ডুকরে উঠে। ঝিলিকের মাথাটা আরও কিছুটা শক্ত করে ধরে বলে,

—শ্বাস নাও ঝিলিক। প্লিজ ব্রিথ!
অথচ ঝিলিকের নিথর দেহ পড়ে থাকে তার বাহুডোরে। শ্বাস নিচ্ছে কিনা তাও বোঝা দায়। কিছুক্ষণের মাঝেই তারা এভারকেয়ার মেডিকেলের সামনে এসে পৌঁছায়। আইয়ুশ দ্রুত ঝিলিককে স্ট্রেচারে তুলে ইমার্জেন্সিতে নিয়ে যায়। আসার আগে সকল ব্যবস্থা করে রাখা হয়েছিলো। ততক্ষণে পরিবারের বাকি সদস্যরাও এসে পৌঁছেছে। নির্ঝর কাঁদতে কাঁদতে চোখমুখ ফুলিয়ে ফেলেছে। চোখদুটো টকটকে লাল। সকলেরই একই অবস্থা। সাঁঝ তখন নিজের বাবাকে সামলাচ্ছিলো। শাহমীদ মির্জা আর ওসমান মির্জা দুজনেই চুপ সাথে তাদের স্ত্রীরাও। চৈতী চৌধুরী ও এসে পৌঁছালেন। অথচ আসা মাত্রই আরেক দফায় জ্ঞান হারালেন তিনি। মালিহা বেগম এবং প্রহেলী আক্তার তাকে নিয়ে পাশের কেভিনে গেলেন। তাদের চোখেও অশ্রু। তাদের কারও ধারণা নেই–ঝিলিক হঠাৎ এমন কেনো করলো। কারণ-ইবা কী? আইয়ুশ এক ধ্যানে অপারেশন থিয়েটর এর দিকে তাকিয়ে রইলল। ডাক্তাররা তাকে নিয়ে গিয়েছে মিনিট কয়েক হয়েছে।সে আইয়ুশকে দেখেই শাহমীদ মির্জা এগিয়ে গেলেন। ছেলেটার চোখদুটো অসম্ভব লাল হয়ে আছে সাথে চুলের দশা শোচনীয়। শাহমীদ মির্জা তাকে দেখতেই জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেললেন। কাঁদতে কাঁদতে বললেন,

—এটা কী করলো মেয়েটা? আমার মেয়েটা মরে যাচ্ছে। কালও তো এলো, বললো-‘বাবা ওষুধগুলো সময়মতো খাবে’। আমার মেয়েটা এমন কেনো করলো আইয়ুশ? কী এমন করেছি আমরা।
কাঁদতে কাঁদতে তার শ্বাসকষ্ট উঠে গেলো। আইয়ুশ কিছু বলতে পারেনা। যার কাধ ভরসার কাধ মনে করে শাহদাদ মির্জা কেঁদে যাচ্ছেন সে কাধ-ই তো তার মেয়ের এ অবস্থার জন্য দায়ী। আইয়ুশ শাহদাদ মির্জাকে কিছু বলার ভাষা পেলোনা। সে এগিয়ে গেলো ঝিলিকের কেভিনের দিকে। তোতা-তিয়া, ঐশি, সাঁঝ সকলেই তখন গুণগুণিয়ে কেঁদে যাচ্ছে। কিছু দেখা যাচ্ছেনা। অথচ ওর মন বারবার ওদিকেই ছুটছে। কতক্ষণ চেয়ে থাকলো চাতক পাখির ন্যায় সেদিকপানে। অতঃপর দ্রুত পায়ে বেরিয়ে গেলো হসপিটাল থেকে। পাশে থাকা মসজিদে গিয়ে কাজা নামাজের জন্য অতি শান্ত ভঙ্গিতে অজু করলো। অতঃপর নামাজে বসে পড়লো। ফজরের নামাজটা কাজা হিসেবে আদায় করে দোয়া চাইলো সে,

—ইয়া মাবুদ! আপনি ছাড়া আমার আর কোনো গতি নেই। আমি একমাত্র আপনার ভরসাতেই টিকে আছি। আমাকে ধৈর্য্য দিন। আমার আয়ু সেই মানুষটিকে দান করুন যে আমার বেঁচে থাকার উৎস। আমার কৃতকর্মের ফল তাকে দিবেন না। আমার সন্তান-স্ত্রী উভয়কে রক্ষা করুন। আমার বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বনকে রক্ষা করুন।
সে কাঁদতেই রইলো। সেজদায় কাঁদতে কাঁদতে সে শুধু তার স্ত্রীর প্রাণ ভিক্ষে চাইলো। বিপদ–যখন মানুষ বুঝতে পারে সৃষ্টিকর্তা ব্যতীত তাদের আর কেও নেই। সেই মহান সৃষ্টিকর্তা চাইলেই সব পারেন। আইয়ুশ তা খুব ভালোভাবে বিশ্বাস করে। সে জানে এমুহূর্তে একমাত্র মহান আল্লাহতায়ালা ব্যতীত তার হৃদয় শান্ত করার ক্ষমতা কারও নেই। কিছুসময় পরই তার পকেটে থাকা আরেকটি ফোন বেজে উঠলো। আইয়ুশ অতিদ্রুত তা রিসিভ করলো। ওপাশ থেকে নির্ঝর কাঁদছে। বলছে,
—ভাই, কোথায় তুমি? ডাক্তার বলে গিয়েছে দুই ব্যাগ রক্ত লাগবে এ’বি পজিটিভ। এখানে কোথাও তো পাচ্ছিনা ভাই। মেডিকেলেও সকল ব্যাগ অলরেডি ফিনিশ হয়ে গিয়েছে। আশেপাশে দেখো না তুমি একটু। ডাক্তার বলেছে বনুর নাকি বাঁচারই ইচ্ছে নেই। যার জন্য ডক্টররা কিছুই বলতে পারছেনা। ও..ও কো-অপারেট না করলে ওকে নাকি বাঁচানো সম্ভব হবেনা ভাই। তুমি জলদি রক্ত নিয়ে এসো।
আইয়ুশ মুহূর্তেই ছুটে গেলো। যেতে যেতে ফোন লাগালো তার এসিসট্যান্ট রায়ান কে।

—হ্যালো রায়ান!
—হ্যাঁ স্যার। বলুন!
—আমাকে যতদ্রুত সম্ভব এ’বি পজিটিভ এর দুই ব্যাগ ব্লাড জোগাড় করে দাও। রাইট নাও। পাঁচ মিনিটের মধ্যে।
এটুকু বলেই কল কেটে দিলো সে। কেমন উদ্ভ্রান্তের ন্যায় চুল খামচে ধরে নিজের, গর্জে উঠে বলে,
—এবার খুশি তো তুই, এটাই চাইছিলি তুই তাইনা? শুনছিস তুই? তোকে পেলে আমি টুকরো টুকরো করে নদীতে ভাসাবো। আমার ঝিলিকের যদি কিছু হয় তবে দেখিস তুই যেখানেই থাকিস না কেনো। জাহান্নামে হলেও সেখান থেকে টেনে এনে মার্ডার করবো আমি তোর!
অতঃপর কিছুক্ষণের মাঝেই রায়ান ছুটতে ছুটতে দু’ব্যাগ রক্ত নিয়ে এলো কোথা থেকে যেনো। রক্ত জোগার করে উদ্ভ্রান্তের ন্যায় নার্সের হাতে দিলো হাতে দিলো। উপস্থিত সকল নাড়সেরা অদ্ভুত চোখে দেখছে তাকে। প্রায় দু’ঘন্টার ইমার্জেন্সি অপারেশনের পর ডক্টর বেরিয়ে এলেন। তিনজনের একত্র প্রচেষ্টায় ঝিলিককে বাঁচানো সম্ভব হয়েছে। সেখানে থাকা সবচেয়ে সিনিয়র ডক্টর জুনিয়র ডক্টরদের পাঠিয়ে দিলেন। তিনি ওসমান মির্জার খুব ভালো বন্ধু। তার চিন্তিত মুখ দেখে শাহদাদ মির্জা এগিয়ে গেলেন। সাথে আইয়ুশ নিজেও এলো। তার সাহস হলো কিছু জিজ্ঞেস করার।

—কোনো সমস্যা আছে কী আর, বলুন? আমার মেয়ে ঠিক আছে তো?
—হ্যাঁ, মেয়ে ঠিক আছে কিন্তু…
তিনি একটু চিন্তিত হলেন। কীভাবে কী বলবেন বুঝতে পারলেন না। যতদূর জানে ঝিলিক অবিবাহিত। অল্প সংকোচ নিয়েই বললেন তিনি,
—ঝিলিকের ক্ষত ততটাও মজবুত ছিলোনা তাই ও এখন একদম ঠিকাছে তবে..তবে ও সন্তানসম্ভবা!
মুহূর্তেই বিস্ফোরণ হলো যেনো সকলের মাঝে। চৈতী চৌধুরীও মাত্র এসেছিলেন ছুটে এদিকটায়। এমন কথা শুনে তিনি পড়ে যেতে নিলেন; পাশে থাকা মালিহা বেগম এবং শাহমীদ মির্জার স্ত্রী প্রহেলী আক্তার এসে দ্রুত তাকে ধরে ফেললেন। শাহদাদ মির্জাও দু’পা পিছিয়ে গেলেন। আইয়ুশের শক্তি হলোনা যে সে এগিয়ে যাবে। কী জবাব দিবে সে? এই মুহূর্তে তার সেই পরিস্থিতি নেই যে অবস্থায় সে ঝিলিককে এসব থেকে প্রোটেক্ট করতে পারবে। ডক্টর ফের বললেন,

—এসব নিয়ে এখন আপনারা এখানে কিছু বলবেন না ওকে। ওর মেন্টাল হেল্থ যথেষ্ট খারাপ এখন। আরও বেশি এফেক্ট পড়লে অনেক বাজে কিছু হয়ে যেতে পারে। সুতরাং, জ্ঞান ফিরলেই তাকে অতিরিক্ত প্রেশারাইজ করবেন না।
সকলেই হতভম্বের ন্যায় দাঁড়িয়ে রইলো। শুধুমাত্র ঐশি ছাড়া। ঐশি অবাক চোখে তাকিয়ে রইলো আইয়ুশের দিকে। তার মানে ও যা ভেবেছিলো তা? আগে ওদের মাঝে বহুকিছু লক্ষ্য করেছিলো ঐশি। তবে এতোকিছু? নিজের ভাইয়ের প্রতি ঘৃণায় তার গা গুলিয়ে উঠলো। কিন্তু সে তো এমন নয়। তাহলে কী এমন হলো যে আইয়ুশ এতোটা বদলে গেলো? মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকা আইয়ুশের দিকে দ্বিধাভরা দৃষ্টিতে চেয়ে রইলো সে। সকলের মাঝেই কেমন যেনো এক ধরণের নিস্তব্ধতা বয়ে গেলো। নীরবে অশ্রু ঝরে পড়তে লাগলো শাহদাদ মির্জার চোখ হতে।

গত দু’ঘন্টা আগেই জ্ঞান ফিরেছে ঝিলিকের। ঝিলিকের জ্ঞান ফিরতেই সকলেই ওর সাথে দেখা করতে এলো। শাহদাদ মির্জা দৌড়ে এলেন প্রথমেই। সাথে ওসমান মির্জা আর শাহমীদ মির্জাও। তিয়া-তোতা, ঐশী, সাঁঝ সকলে মিলে ওকে আলতো ভাবে জড়িয়ে ধরে। কেঁদে ওঠে স্বল্প-স্বরে। ঝিলিকের ভাবান্তর নেই। যেনো তার জন্মের আফসোস সে যে বেঁচে আছে। তবু তার তৃষ্ণার্ত চোখদুটো খুঁজে বেড়ায় সেই একটি মানুষকে। অথচ…অথচ সে নেই। সে আসলেই নেই। এতো মানুষের ভীড়েও সে নেই। চৈতী বেগম মুখ ভার করে মেয়ের কাছে এগিয়ে এলেন। শাহমীদ মির্জা নিজের স্ত্রীকে ইশারা করলেন তাকে এখান থেকে নিয়ে যেতে। প্রহেলী আক্তার এবং মালিহা বেগম তাকে নিয়ে সরে এলেন। চৈতী চৌধুরী রাগে-দুঃখে চোখের জল ফেলছেন। শাহদাদ মির্জা মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন,

—কেমন লাগছে মা এখন?
ঝিলিক কিছু বলতে পারেনা। মুখটা ফ্যাকাশে হয়ে আছে। তিনি মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন। বললেন,
—কিছু হয়নি মা, কিছু না। আমরা এক্ষুণি বাড়ি যাবো।
ঝিলিক ক্ষীণ হাসে। মনে মনে আওড়ায়,
—আমার মরণেও যার হৃদয় একবিন্দু টলেনি সে তো কখনোই আমাকে ভালোবাসেনি। আর আমি? আমি কিনা তার মতো একজনের জন্য নিজের জীবন দিতে যাচ্ছিলাম!
কেও অতিরিক্ত কথা বাড়ায় না। সরাসরি তাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে। বাকিসব ট্রিটমেন্ট সেখানেই হবে। মেয়েকে শাহদাদ মির্জা একবিন্দুর জন্যেও চোখের আড়াল করতে চাননা।

একটু আগেই বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে ঝিলিককে। ড্রইং রুমের সোফায় এসে বসলো সে। সাথে শাহদাদ মির্জা তাকে ধরে বসালেন। সকলেই উপস্থিত সেখানে। ওসমান মির্জা খুব ভালো করেই জানেন চৈতী চৌধুরীকে আটকে রাখা ভীষণ কঠিন হয়ে পড়বে। তাই তিনি আগে আগেই ছোটদের ওপরে পাঠিয়ে দিলেন। তারাও বুঝে গেলো এখন কী হতে পারে। ঝিলিকের জন্য চিন্তা হলেও তাদের হাতে কিছুই নেই করার মতো। তারা চলে গেলো। শাহদাদ মির্জা মেয়েকে এটা ওটা খাওয়ার জন্য বলছেন। আর ঝিলিক ক্রমশ মানা করছে। ঠিক তখুনি আইয়ুশ প্রবেশ করলো কোট হাতে। ভাবখানা এমন যেনো সে সবেমাত্র কাজ শেষে ফিরেছে। সে কোনোদিক না তাকিয়ে সোজা উপরে চলে যাচ্ছিলো। তাকে দেখেই ঝিলিক মলিন চোখে চেয়ে রইলো। সে কী একবারও তাকাবেনা? ওসমান মির্জা তাকে থামালেন।

—আইয়ুশ, এদিকে এসো।
আইয়ুশ শুনলো। সাথে সাথেই চোখ বুজে ফেললো। পা থমকে গেলো তার। যার সম্মুখীন সে হতে চায়না তার সামনেই কেনো বারবার যেতে হচ্ছে? সে রাশভারী কন্ঠে বলে,
—আমি টায়ার্ড আব্বু। পরে আসবো!
—এসো এদিকে। তোমাকে প্রয়োজন।
অগত্যা কিছুটা বাধ্য হয়েই গেলো সে। অথচ একবারের জন্যেও ঝিলিকের দিকে তাকালোনা। চৈতী চৌধুরী এসে ঝিলিককে হঠাৎ প্রশ্ন করলেন,
—এই বাচ্চা কার ঝিলিক? কার সাথে কী করে আমাদের পরিবারের নাম ডোবাতে চেয়েছিলি বল?
ঝিলিক যেনো জমে বরফ হয়ে গেলো। সে একবারের জন্যেও কল্পনা করেনি এমন কিছু হতে পারে। চৈতী চৌধুরী মেয়ের মৌনতায় রেগে থাপ্পড় বসালেন গালে। সবাই হতভম্ব হয়ে গেলো। শাহদাদ মির্জা চেঁচিয়ে উঠলেন।

obsession vs love part 3

—কী হচ্ছেটা কী চৈতি? আমি বলেছি তোমাকে কিছু বলতে?
—জিজ্ঞেস করো আগে তোমার মেয়েকে, কোন জারজ পেটে নিয়ে ঘুরছে ও?
জারজ? ওর বাচ্চা জারজ? কেও তার বৈধ সন্তানকে জারজ বলছে আর আইয়ুশ? সে না চাইতেও তার দিকে তাকায়। তার ভাবনায় ছিলো–হয়তোবা সুইসাইডের কারণে আইয়ুশের মনে তার প্রতি একটু হলেও মায়া সৃষ্টি হবে। অথচ এমনটা হয়না। আইয়ুশ তার দিকে ফিরেও তাকায় না। ঝিলিক তাচ্ছল্যে হাসে। ক্লান্ত স্বরে জবাব দেয়,
—কেউ না, এই বাচ্চার বাবা কেউ না। ওর বাবা-মা দুটোই আমি!

obsession vs love part 5