Home unpredictable Unpredictable part 10

Unpredictable part 10

Unpredictable part 10
Jannatul firdaus mithila

“ ভুলে যাওয়ার ক্ষমতাটা আরেকটু প্রখর হলে, আমি হতাম এ পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ!”
কন্ঠ কাঁপছে আয়রার! শুভ্র মুখখানার সর্বত্র লেপ্টে গিয়েছে লালাভ আভা। মেয়েটা আর একমুহূর্তও দাঁড়ালো না সেথায়। গটগট পায়ে সকলকে পাশ কাটিয়ে চলে গেলো কিচেন থেকে। নোয়া চিন্তিত হয়ে আয়রার পিছু ছুটতে চাইলেই বাঁধ সাধলো রিয়াদ।একহাত সম্মুখে বাড়িয়ে পথ আঁটকালো নোয়ার। নোয়া ভ্রু কুঁচকায়।সন্দিহান গলায় জিজ্ঞেস করে উঠে,

“ পথ আঁটকালে কেনো?”
রিয়াদের দৃষ্টি অন্যত্র। মাথাটা কেমন নুইয়ে রাখা! সে সময় নিয়ে প্রতিত্তোরে বললো,
“ যেও না নোয়া! এমুহূর্তে আয়রার একা থাকা প্রয়োজন!”
এহেন বাক্যে বেশ অবাক হলো নোয়া। হতবাক কন্ঠে চিন্তিত হয়ে বলল,
“ কিন্তু… আরু তো অনেক ঝাল খেয়েছে! এন্ড আই থিংক, ওর এখন মিষ্টি জাতীয় কিছু একটা খাওয়া দরকার!”
এরূপ কথায় ঠোঁটের কোণে তাচ্ছিল্যের হাসি টানলো রিয়াদ। মাথা তুলে পাশ ফিরে তাকায় শান্ত চোখে। নোয়ার চিন্তিত মুখপানে তাকিয়ে থেকে বলে,
“ তুমি এখনো ওকে ঠিকমতো চিনতে পারোনি নোয়া! এসব ঝাল খাওয়া ওর জন্য খুব একটা নতুন বিষয় নয়! এসব ছাড়াও ওর আরও ডেঞ্জারাস কিছু অভ্যাস আছে। আই উইশ! ওসব যেন কখনো তোমার কিংবা অন্য কারো সামনে না আসে।”

হতভম্ব চোখে তাকিয়ে আছে নোয়া! রিয়াদের প্রতিটি কথায় কেমন ঘোর রহস্য। সে তৎক্ষনাৎ আমতা আমতা করে জিজ্ঞেস করল,
“ কেনো? আমার সামনে এলে কি এমন হবে?”
এপর্যায়ে বাঁকা হাসলো রিয়াদ। ডানহাতের তর্জনী উঁচিয়ে কপাল চুলকালো খানিকটা। রয়েসয়ে কিছু একটা বলার জন্য উদ্যোত হবে তার আগেই নোয়ার পেছন থেকে ভেসে আসে আয়ানের গুরুগম্ভীর কন্ঠ!
“ তেমন কিছু না! হয়তো ভয়ে আর কোনোদিন আয়রার নামটা অব্ধি মুখে আনতে পারবেনা।”
চমকে পেছনে তাকায় নোয়া। হতবিহ্বল কন্ঠ ফুঁড়ে আর কিছু বেরুচ্ছে না তার। মস্তিষ্কে চলছে নানান প্রশ্ন! আয়রা কী তবে স্বাভাবিক কেউ নয়?

শক্ত মুখে হাটঁছে আয়রা।আশেপাশে একটাবারও না তাকিয়ে ডাইনিং সেকশন পেরিয়ে চলে গেলো গ্রাউন্ড ফ্লোরের লিফটের দিকে। ওদিকে ডাইনিং এ দাঁড়ানো এক সুদর্শন যুবক যে এতক্ষণ তার সকল কর্মকাণ্ডগুলো একদৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করেছে সে খবর কী আর আছে তার? থাকবেই বা কীভাবে? অপরুপা কী আর আদৌও ওসবে নজর রাখে?প্রায় মিনিট দুয়েক পরেই লিফটের সামনে এসে দাঁড়ায় আয়রা। তবে লিফট এখনো নামেনি গ্রাউন্ড ফ্লোরে। সে সময় নিয়ে দাঁড়িয়ে রইলো বন্ধ লিফটের বাইরে।কিয়তক্ষন বাদেই লিফটের দুয়ার খুললো।আয়রা খানিক পাশ হয়ে দাঁড়ায়। লিফট থেকে জনে জনে বেরুনোর পরপরই সে গিয়ে ঢুকলো লিফটে।তড়িঘড়ি করে সেভেনথ ফ্লোরের সুইচ টিপে,দু’হাত বুকের কাছে বেঁধে দাঁড়ায় লিফটের একদম মাঝামাঝি। সেকেন্ড ত্রিশেক পর লিফটের দুয়ার ধীরে ধীরে বন্ধ হতে লাগলো। আয়রার রক্তবর্ণ বাদামী চোখদুটো আনমনেই সামনে তাকালো একবার।

তক্ষুনি তার চোখাচোখি হলো অদূরে দু’হাত পকেটে গুঁজে দাঁড়িয়ে থাকা এক অচেনা সুদর্শন যুবকের সাথে। যুবকের গভীর চাহনি মেয়েটাতেই নিবদ্ধ। আয়রা তৎক্ষনাৎ নিজের দৃষ্টি সরায় অন্যত্র। কপাল কুঁচকে তক্ষুনি সরে গেলো দরজার কাছ থেকে। ওদিকে লিফটের দরজা বন্ধ হলো। ধীরে ধীরে লিফট উঠতে লাগলো ওপরের দিকে। বলাবাহুল্য, লিফটের দেয়াল সম্পূর্ণ স্বচ্ছ কাঁচের তৈরি! যার ভেতরটা বাইরে থেকে স্পষ্ট পরিলক্ষিত। নিচের ডাইনিং এ দাঁড়িয়ে থাকা যুবকের অপলক দৃষ্টি এখনো মেয়েটাকে দেখেই যাচ্ছে! আশ্চর্য! কেনো এমন বেহায়ার মতো একটা অচেনা মেয়ের দিকে তাকিয়ে আছে সে? কেনো এমনটা মনে হচ্ছে তার চোখদুটো বুঝি আঁটকে গেছে কোনো এক ঘোরের মাঝে! যুবক ঘাড় উঁচিয়ে তাকায় এবার। ইতোমধ্যেই লিফট উঠে গিয়েছে বহু উঁচুতে। অথচ তার দৃষ্টি অনড়!তবে যুবকের ঘোরের স্থায়িত্ব বেশিক্ষণ টিকলো না। তা হুট করেই ভেঙে গেলো একপা দূরে দাঁড়িয়ে থাকা উইলিয়াম হেরির শান্ত কন্ঠে,

“ মিস্টার মেহমেত! হোয়াট আর ইউ লুকিং ফর?”
হঠাৎ সম্বোধনে সম্বিত ফিরল মেহমেতের। তড়িৎ ঘাড় বাকিয়ে চাইলো পেছনে।কমিউনিটিভ এক্সপার্ট মিস্টার উইলিয়াম কেমন দু’হাতে দুটো স্টারবাকসের কফি ধরে দাঁড়িয়ে আছেন।লোকটার চোখেমুখে একরাশ জিজ্ঞাসা। মেহমেত তৎক্ষনাৎ এগিয়ে আসে এক-কদম। ঠোঁটের কোণে কৃত্রিম হাসি ঝুলিয়ে উইলিয়ামের হাত থেকে একটা কফির কাপ তুলে নিয়ে বলে,
“ থ্যাংকস ফর দা কফি!”
উইলিয়াম সাহেব ভিনদেশী মানুষ! সৌজন্য বজায় রেখে মুখের সামনে হাত এনে মাছি তাড়াবার ভং ধরে বললেন,
“ আরে না না! এতে আবার থ্যাংকস বলার কি আছে। তা মিস্টার মেহমেত! আপনি ওভাবে ওপরে তাকিয়ে কী দেখছিলেন?”

হঠাৎ প্রশ্নে কেমন থতমত খেয়ে গেলো মেহমেত। তবুও বাইরে থেকে নিজের চিরায়ত গম্ভীর অভিব্যাক্তি ধরে রাখলো বড্ড অভিজ্ঞতার সাথে। প্রসঙ্গ এড়াবার উদ্দেশ্যে খানিক গলা খাঁকারি দিয়ে জবাব দিলো,
“ নাহ তেমন কিছু না।এমনিতেই আশপাশটা একটু দেখছিলাম আরকি!”
এহেন কথা উইলিয়াম সাহেব বিশ্বাস করলেন কি-না কে জানে! লোকটার মুখাবয়বের অভিব্যক্তি বড্ড চোরা।বাইরে থেকে বোঝা যায় না তেমন! তিনি কফির স্ট্র-তে একটুখানি চুমুক বসিয়ে সময় নিয়ে বললেন,
“ ওহ আচ্ছা! বাই দা ওয়ে, কিছুক্ষণ আগে না-কি ডাইনিং এ কিসের শোরগোল হয়েছিল! ক্যাফেটেরিয়ায় এ নিয়ে কয়েকজন কথা বলছিলো সেখান থেকেই টুকটাক শুনলাম আরকি! তা কী এমন হয়েছিল একটু বলুনতো? আপনিতো ডাইনিংয়েই দাঁড়িয়ে ছিলেন। দেখেছেন নিশ্চয়ই!”

কথাটা শেষ হতেই মেহমেত কেমন বাঁকা হাসলো! ঠোঁট কামড়ে আপনমনে বিরবির করে বলতে লাগলো,
“ শুধুই কী শোরগোল? বলুন এক বাঘিনীর আক্রমণ!”
এদিকে মেহমেতকে ওমন একা একা হাসতে দেখে ভ্রু কুঁচকায় উইলিয়াম। একহাত এগিয়ে এনে মেহমেতের মুখের সামনে তুড়ি বাজাতেই ধ্যান ভাঙে যুবকের। উইলিয়াম সাহেব ভ্রু কুঁচকে বলে ওঠে,
“ আজ আপনার কী হয়েছে মিস্টার? হুটহাট কোথায় হারিয়ে যাচ্ছেন আপনি?”
মেহমেত সময় নিলো। হাতের কফিটায় একটুখানি চুমুক বসিয়ে রয়েসয়ে শান্ত কন্ঠে বলল,
“ হুটহাট কোথায়? আমিতো অলরেডি হারিয়ে গিয়েছি।”
বুঝলেন না উইলিয়াম। মুখটা কেমন বাংলার পাঁচের ন্যায় বানিয়ে বলে ওঠেন,
“ সরি? কী বললেন?”
এবার যেন বেজায় বিরক্ত হলো মেহমেত!যুবকের কপাল কুঁচকে গেলো বিরক্তে। লোকটা এতো কথা বলে! মেহমেত নাক উঁচিয়ে বলে,

“ কিছু না! চলুন রুমে যাই!”
অগত্যা এমন কথার পিঠে আর কথা বাড়ালেন না উইলিয়াম। মেহমেতের অলক্ষ্যে এক-আধবার মুখ বাঁকিয়ে ফের চুমুক বসালেন কফির স্ট্রয়ে। ওদিকে মেহমেত কেমন ঠোঁট কামড়ে হাসছে আপনমনে। একহাতে কফির কাপ নাড়াচ্ছে আরেক হাত গুঁজে রেখেছে প্যান্টের পকেটে। ঢিলেঢালা সফেদ রঙা শার্টের আবরণে লুকায়িত বলিষ্ঠ টানটান দেহখানা। শার্টের বুকের কাছের বেশ কয়েকটা বোতাম এখনো হা করে খুলে রাখা! পৃথিবীর সকল সুদর্শন যুবকদের এই এক কান্ড! শার্ট পড়লে বুক দেখাবেনা তা কী আর হয় না-কি? বোধহয় এটাই নিয়ম তাদের গুরু নিয়ম! যাকগে, শার্টের খোলা অংশে মেহমেতের লোমহীন উজ্জ্বল শ্যামবরণ বুকটা স্পষ্ট পরিলক্ষিত। মেহমেত পা বাড়াচ্ছে ধীরেসুস্থে। আপনমনে বিড়বিড় করে আওড়াচ্ছে,
“ যে নজরে একবার তুমি আঁটকেছো মেয়ে! জেনে রাখো — তোমার ঐ ছোট্ট দেহে প্রাণ থাকাকালীন সে নজর থেকে তুমি আর সরছো না! আজকে থেকে তুমি আমার নজরবন্দি হলে! মেহমেত রায়ানের নজরবন্দি!”

সরু করিডর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে আয়রা। আশেপাশে কেউ নেই। দু’পাশের সকল রুমের দরজা বন্ধ। কিছুটা পথ এগোতেই হঠাৎ পা থামায় আয়রা। ভ্রু কুঁচকায় অজানা কারণে। কেন যেন তার মনে হচ্ছে কেউ তাকে দেখছে! পিছুপিছু আসছে। আয়রা মোটেও পিছু ফিরলো না। উল্টো মনের কোণে একরাশ সন্দেহ বজায় রেখে পা বাড়ালো সম্মুখে। তবে এবার তার পায়ের গতি আগের চেয়ে কম। কান হয়েছে সজাগ। আয়রা সম্মুখে হাঁটতে হাঁটতেই হঠাৎ টের পেলো পেছনে কারো পায়ের খসখস শব্দ! আয়রা আবারও থামলো! বাঁকা হেসে একহাঁটু গেঁড়ে বসলো ফ্লোরে। ওদিকে পেছন থেকে কালো হুডি পরিহিত এক লোক হাতে চাকু নিয়ে ধীরপায়ে এগিয়ে আসতে লাগলো আয়রার নিকট। সে হয়তো ধরেই নিয়েছে আয়রা বোধহয় শ্যু-লেইস বাঁধছে। তাইতো সে এগিয়ে আসার সাহস করলো। ইতোমধ্যেই মেঝেতে নুইয়ে থেকে আয়রা নিজের হিজাবের নিচ দিয়ে গলার লকেটটা একটানে ছিঁড়ে আনে।

এদিকে লোকটার দুরত্ব যখন আয়রার খুব নিকটে তক্ষুনি ঘটলো আরেক কান্ড! আয়রা তৎক্ষনাৎ পিছু ঘুরে নিজের লকেটে লুকায়িত ছোটখাটো ইলেকট্রিক টেজারটা চেপে ধরে লোকটার হাঁটু বরাবর। মুহুর্তেই ইলেক্ট্রিক শক খেয়ে কেঁপে ওঠে মুখোশধারী লোকটা! এই ফাঁকে আয়রা উঠে গিয়ে একটানে লোকের হাত থেকে চাকুটা ছিনিয়ে নেয়। অতঃপর চোখের পলকে সে চাকু ঢুকিয়ে দেয় লোকটার উরু বরাবর! এতসব কান্ডকারখানা হুটহাট ঘটে যাওয়ায় হতভম্ব মুখোশধারী! ঠিকঠাক মতো চিৎকারটা অব্ধি দিতে পারছেনা লোকটা! তার আগেই আয়রা লোকের উরুতে ঢুকিয়ে রাখা চাকুটা আরেকটু ঘুরিয়ে দেয়।সে মুহূর্তে লোকটা কেমন চিৎকার দিয়ে ওঠে! নিজের শক্তপোক্ত হাতের মুঠোয় আয়রাকে ধরতে নিলেই সরে গেলো আয়রা। চোয়াল শক্ত করে লোকটার উইক পয়েন্টে সজোরে বসায় লাথি।এবার আর ব্যাথা সহ্য হলো না লোকটার।

পায়ের ব্যাথা ভুলে সে কেমন নিজের গোপনাঙ্গ চেপে ধরে ফ্লোরে বসলো হাঁটু গেঁড়ে। মুখ কুঁচকে আর্তনাদে ব্যস্ত সে! এসব দেখে মোটেও মায়া হলোনা আয়রার। সে উল্টো এগিয়ে এসে লোকটার বুক বরাবর আরেকদফা লাথি বসায়। উঁচু হিলের চিকন গোড়ার অংশটা লোকের বুক বরাবর পড়তেই সেখানটায় খানিক ক্ষত হয়ে গেলো যেন। লোকটা তক্ষুনি চিৎ হয়ে পড়লো মেঝেতে। একহাত বুকে চেপে রেখে, আরেক হাত গোপনা*ঙ্গে চেপে রেখে কাঁদছে সে! আয়রা শক্ত চোয়ালে এগিয়ে এলো। লোকটার হাতের ওপর দিয়েই নিজের হাই হিলের গোড়াটা চেপে ধরে লোকের গোপনা*ঙ্গ বরাবর। এবার বোধহয় প্রানটাই বেরিয়ে আসা বাকি লোকটার! সে কেমন তড়পাচ্ছে ব্যাথায়। আয়রা বিরক্ত! মুখ কুঁচকে ক্রন্দনরত লোকটাকে দিলো এক বিরাট ধমক!

“ হেই ইউ! সান অফ আ বি*চ..স্টপ শাউটিং!”
কে শোনে কার কথা! লোকটার প্রাণপাখি আপাতত আয়রার হিলের গোড়ায় পিষে যাচ্ছে সে কষ্ট কী আর ওতো সহজে ভোলা যায়? আয়রা তখন আরেকদফা পা পিষলো। চোয়াল শক্ত রেখেই কঠিন গলায় বললো,
“ কে পাঠিয়েছে তোকে?”
লোকটা থেমে থেমে বললো,
“ কেউ না! কেউ না!”
আয়রা ঠোঁট পিষে হাসলো! হিলের গোড়া আরেকটু চেপে ধরে হাতের চাকুটা নাড়ালো বেশ প্রফেশনাল কায়দায়। চোখে তীর্যক চাহনি ফুটিয়ে তাচ্ছিল্যের সুরে বলল,

“ নেক্সট টাইম এক্টিং ভালো করে শিখে আসবি! এন্ড ওয়ান মোর থিংক — নিজের প্রতিপক্ষকে কখনো দূর্বল ভাবার ভুল করবিনা! কেননা সব মেয়ে শুধু কেঁদেকেটে বাঁচার জন্য রিকুয়েষ্ট করেনা, কেউ কেউ আবার মরণ যন্ত্রণা দিয়ে কাঁদাতেও জানে! আই হোপ তুই ইতোমধ্যেই এর প্রমান পেয়েছিস! নাউ টেল মি! হু সেন্ট ইউ? লিসেন এবার না বললে তোর ঐটা আজ শেষবারের মতো তোর সঙ্গে থাকবে!”
ভয়ার্ত ঢোক গিললো লোকটা! রোমান ভাষায় চিড়বিড়িয়ে বলল,
“ মুখ দেখিনি তার। আমায় কেবল আপনার ছবি দেখিয়ে বলল আপনাকে মেরে ফেলতে। তারপর আপনার মৃতদেহটা তার কাছে নিয়ে যেতে। এমনটা করলে সে আমায় ফোর্টি থাউজ্যান্ড ডলারস দিবে বলেছিল। দেট স ইট!”
থমকায় আয়রা! তাকে মারতে চাচ্ছে কেউ একজন? কিন্তু কেনো? তাছাড়া তার মৃতদেহ দিয়ে কার কি’বা দরকার থাকতে পারে? ব্যাপক প্রশ্নে জর্জরিত আয়রা। গম্ভীর মুখে লোকটার ওপর থেকে পা সরালো ধীরে ধীরে। অতঃপর খানিকটা এগিয়ে এসে দাঁড়ালো লোকটার মাথা বরাবর। লোকটা কেমন ভয়ে থরথর করে কাপছে। আয়রা বসলো হাঁটুগেড়ে। লোকটার দিকে শক্ত চোখে তাকিয়ে বাঁকা হেসে রোমান ভাষায় বললো,

“ থ্যাংকস ফর দিস ইনফরমেশন বাস্টার্ড! নাউ ইউ শ্যুড স্লিপ!”
এহেন কথাটা পুরোপুরি বুঝে ওঠার আগেই আয়রা লোকটার ঘাড় বরাবর হাত কাত করে সজোরে আঘাত করে। মুহুর্তেই লোকটা কেমন জ্ঞান হারালো! আয়রা তক্ষুনি উঠে দাঁড়ায়। গম্ভীর মুখে কিছু একটা ভাবতে ভাবতেই ওমনি বারান্দার অন্যদিক থেকে ছুটে আসে রিয়াদ ও আয়ান। আয়রার সামনে অজ্ঞাত এক মুখোশধারীকে দেখে ভড়কায় দুজন। একে-অপরের দিকে মুখ চাওয়াচাওয়ি করে পরক্ষণেই একযোগে জিজ্ঞেস করে ওঠে,
“ কে এটা?”
আয়রা ভাবলেশহীন গলায় জবাব দেয়,
“ আমায় মারতে এসেছিলো!”

এহেন কথায় হাসবে না কাঁদবে তা নিয়ে রিয়াদ পড়লো মহা বিপাকে। কিন্তু পাশ থেকে আয়ান কেমন হো হো করে হেসে ওঠে! হাসতে হাসতে বেচারার চোখের কোণায় জল জমেছে দেখো। আয়রার মুখ কুঁচকে আসে তা দেখে। রিয়াদ আড়চোখে দেখলো সবটা। ছেলেটা তৎক্ষনাৎ আয়ানের দিকে তাকালো কপট শক্ত চোখে। মুহূর্তেই চুপ করে গেলো আয়ান।ঠোঁটের ওপর চেপে ধরলো ডানহাতের তর্জনী। রিয়াদ তখন ঘাড় ঘুরিয়ে আয়রার দিকে তাকায়।খানিক গলা খাঁকারি দিয়ে বলে ওঠে,
“ বাট আরু! এটাকে পাঠাইলো কে?”
আয়রার কপাল বরাবর স্পষ্ট বিরক্তির ছাপ।মেয়েটা গম্ভীর মুখে জবাব দেয়,
“ তোর না হওয়া শ্বশুর!”
এরূপ কথা শুনে আয়ানকে আর আটঁকায় কে! ছেলেটা ঠোঁটের ওপর হাত চেপে রেখেই হাসতে হাসতে শেষ! ওদিকে রিয়াদের মুখটা দেখো! কেমন কাচুমাচু হয়ে গেলো। আয়রা সময় নিয়ে বলে,
“ গায়েস! বাস্টার্ডটাকে আজকে নিজেদের হেফাজতে রাখ। কাল সকালে প্রজেক্টের ফার্স্ট শোডাউন শেষে এর পর্দা উঠাবো।”
হুকুম যথাযথ তামিল করলো রিয়াদ ও আয়ান। অবচেতন লোকটাকে চ্যাংদোলা করে নিয়ে গেলো নিজেদের রুমে। এদিকে আয়রা এখনো চিন্তায় বিভোর। তার এই ছোট্ট জীবন নিয়ে নতুন করে কার ওতো মাথাব্যথা হলো কে জানে!

নিজ কক্ষে বসে আছেন হেনরি। মুখ কুঁচকে কেটে যাওয়া কপালে এন্টিস্যাপটিক লাগাচ্ছেন কোনোরকম। আর মুখ ভরে গালি দিচ্ছেন আয়রাকে। মেয়ে মানুষের হাত ওতো চলবে কেনো? তারা থাকবে মোমের মতো নরম! যেন ধরলেই গলে যায়। কিন্তু এ মেয়ে তো সাক্ষাৎ আগুন! কী আশ্চর্য! বিদেশে তো ওয়ান নাইট স্ট্যান্ড একদম ডাল-ভাত ব্যাপারস্যাপার। সবাই করে! সে-তো ভালোয় ভালোয় বলেছিল। তাই বলে ওতো রিয়েক্ট করার কী আছে? হেনরি নিজ চিন্তায় বিভোর। ডানহাতের মধ্যমা আঙুলে আরেকটু এন্টিস্যাপটিক নিয়ে যেইনা কপালে লাগাবে ওমনি ঘরের দরজায় কেমন কড়া নাড়ানোর শব্দ হলো। এতে যেন বড্ড বিরক্ত হলেন হেনরি। মুখ কুঁচকে উঠে গেলেন দরজার কাছে। নব ঘুরিয়ে দরজা খুলতেই সম্মুখ থেকে কেউ একজন এসে তক্ষুনি ঝাপিয়ে পড়লো হেনরির বুকে। হেনরি ভড়কায় এরূপ কান্ডে। হকচকিয়ে বুকের ওপর থেকে আগত মানুষটাকে সরিয়ে দিয়ে অনিহার সুরে বলল,

“ সারাহ! এসব কী? কেউ যদি দেখে ফেলে?”
মিস সারাহ আবেদনময়ী বৈচিত্র্যে হাসলেন। সিম্পল একটা নাইট গাউন পড়া,ঠোঁটে লাগানো টকটকে লাল লিপস্টিক। গাউনের গলা বড্ড গভীর হওয়ায় নারীদেহের অপার সৌন্দর্য বেশ ভালোভাবেই চক্ষুগোচর হচ্ছে আপাতত। হেনরি সেদিকে তাকিয়ে থেকে ঢোক গিললেন। নেশাগ্রস্ত কন্ঠে বললেন,
“ সারাহ! আর ইউ প্ল্যানিং টু টার্ন মি অন?”
আচ্ছন্ন দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে মিস সারাহ। বয়সে হেনরির তুলনায় বেশ বড় হলেও উনার ভীমরতি কমেনি যেন। বিদেশিনী হওয়ায় শরীরে তেমন বয়সের ছাপ নেই। সারাহ আলতো করে হাত উঠিয়ে আনলো হেনরির ঘাড়ে। সেথায় ধীরে ধীরে আঙুল বুলিয়ে আবেদনময়ী কন্ঠে বললো,

“ ধরে নাও তাই!”
এবার কেমন পৈশাচিক হাসলো হেনরি। তৎক্ষনাৎ একহাতে ঘরের দরজা লাগিয়ে দিয়ে ঝাপিয়ে পড়লো সারাহ-র ওপর। ভীষণ আশ্লেষে টেনে নিলো মধ্যবয়সীর লাল টকটকে অধরজোড়া। শুধু কি সে? মিস সারাহ ও তো এতে কম যায় না! তিনি কেমন অভিজ্ঞের ন্যায় গভীর চুম্বনে মত্ত হলো হেনরির সাথে। দু’জনার উত্তেজনা বাড়ছে ক্রমশ। একে-অপরে লেপ্টে যাচ্ছে গভীরভাবে। যখন দুজনায় আরেকটু ডুব দিবে নিজেদের মাঝে ঠিক তখনি হেনরির ঘরের দরজায় টোকা পড়লো। এহেন শব্দ পেয়ে থামলো দু’জন। এমন একটা রোমান্টিক মুহূর্তে বাগড়া পড়ায় দু’জনেই যেন বড্ড বিরক্ত! হেনরি বিরক্ত হয়ে ছেড়ে দিলো সারাহকে। এরইমধ্যে আরেকবার টোকা পড়লো দরজায়।হেনরি বিরক্ত হওয়া স্বত্বেও সারাহ-র দিকে তাকায় ফের।হাস্কিটোনে বলে,

“ ওয়াশরুমে গিয়ে বোল্ড ভাবে রেডি হয়ে আসো মমি!”
লাজুক হাসলেন সারাহ! ওপর নিচ মাথা নাড়িয়ে আওড়ালেন,
“ ইয়েস ড্যাডি!”
বলেই তিনি ছুটলেন ওয়াশরুমে। এদিকে তিনি ওয়াশরুম যেতেই হেনরি গেলো দরজার কাছে। বিরক্ত মুখে দরজা খুলতেই দেখলো — সামনে কেউ নেই! হেনরি ভ্রু গোটায়। খানিকটা বাইরে এসে সন্দিষ্ট দৃষ্টিতে ডানদিকে তাকিয়ে দেখে কেউ নেই! একইভাবে বা দিকে ফিরতেই হঠাৎ তার সম্মুখে এসে দাঁড়ালো কালো রঙা জ্যাকেট পরিহিত, সাদা গুমোট মাস্কে আবৃত এক ব্যাক্তি। হেনরি হকচকিয়ে ওঠে। ভড়কে গিয়ে মুখ খুলবে তার আগেই সম্মুখে দাঁড়িয়ে থাকা মুখোশধারী হেনরির মুখে কিছু একটা স্প্রে করলো। প্রায় সেকেন্ড খানেকের মাঝেই চোখের পাতা ভারী হয়ে গেলো হেনরির। শরীর হয়ে গেলো অবশ! লোকটা জ্ঞান হারালো ধীরে ধীরে। পরমুহূর্তে অবচেতন হেনরি মেঝেতে পড়ে যেতেই মুখোশধারী তাকে একটানে নিজের কাঁধে উঠায়। অতঃপর কোনোদিক না তাকিয়ে হেনরিকে নিয়ে হাঁটতে লাগলো সরু করিডর দিয়ে।

ওয়াশরুম থেকে বেরিয়েছেন সারাহ।পরনে গাউন নেই। কেবল খোলামেলা অন্তর্বাস।চোখে বেঁধেছেন কালোপট্টি। তিনি কেমন উচ্ছ্বসিত কন্ঠে সুর তুলে ডাকলেন,
“ হেনরি! ডিয়ার…কোথায় তুমি? আ’ম রেডি!”
প্রতিত্তোর আসেনি। মিস সারাহ আরেকবার ডাকলেন। তবে নাহ! এবারেও নিস্তব্ধতা চারিদিকে! সারাহ কপাল কুঁচকে চোখ থেকে কাপড় সরালেন। পুরো ঘরময় চোখ বুলিয়ে বুঝলেন — হেনরি ঘরে নেই! এতে যেন বেশ নাখোশ হলেন তিনি। তৎক্ষনাৎ দাঁত কিড়মিড় করে ফের ঢুকলেন ওয়াশরুমে। কিয়তক্ষন বাদেই ফিরে এলেন গাউন পরে। মেজাজ চটিয়ে প্রস্থান ঘটাতেই হঠাৎ খেয়াল করলেন দরজার সামনে কেমন ছিটেফোঁটায় র*ক্ত পড়ে আছে। সারাহ ভড়কালেন। ভয়ার্ত ঢোক গিলে এদিক-ওদিক তাকালেন কেমন! কিন্তু নাহ! কাঙ্ক্ষিত ব্যাক্তির টিকিটা অব্ধি দেখতে পাচ্ছেন না তিনি।

সারারাত ঘুম হয়নি আয়রার। অবশ্য এসবে খুব একটা সমস্যা হয়না তার। কত রাত এভাবে জেগে জেগে কাটিয়েছে সে! আয়রা সকাল সকাল চলে এসেছে প্র্যাকটিস রুমে। অ্যাইডেন ক্যানভাসে স্কেচ এঁকে দিয়েছে তাতেই মার্কিং করছে আয়রা। প্রয়োজনে কিছু তথ্য সংযোজন এবং বিয়োজনও করছে। ঠিক তখনি মিস সারাহ একপ্রকার হন্তদন্ত পায়ে ছুটে এলেন প্র্যাক্টিস রুমে। ভয়ার্ত কন্ঠে বলতে লাগলেন,
“ প্রফেসর হেনরিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না সকাল থেকে।আপনারা কেউ কী দেখেছেন তাকে?”
রুম ভর্তি শিক্ষার্থী। সকলেই কেমন ঠোটঁ উল্টায় এহেন কথায়। দুয়েকজন মাথা নাড়িয়ে একযোগে বলে ওঠে,
“ না মিস।আমরা তো দেখিনি।কেনো কী হয়েছে?”
মিস সারাহ-র কন্ঠ কাঁপছে। কপালে জমেছে বিন্দু বিন্দু ঘাম।তিনি বারকয়েক শুকনো ঢোক গিলে বলেন,
“ ঠিক এজ্যুম করতে পারছিনা। ওনার রুমে গিয়েছিলাম সেখানে দেখলাম… ”
গলা ধরে আসছে মিস সারাহ-র।এতো ঠান্ডার মাঝেও তার পুরো শরীরে ছুটে যাচ্ছে ঘাম!তিনি কেমন আতঙ্কিত গলায় ফের বললেন,

“ দেখলাম স্যারের সম্পূর্ন ঘরে ছিটেফোঁটায় র*ক্ত পড়ে আছে। আশ্চর্য!রাতেও লোকটাকে ঠিকঠাক মতো দেখে গেলাম, এরইমধ্যে সুস্থ সবল মানুষটা হুটহাট উধাও হলো কীভাবে?”
এহেন কথায় মুহুর্তেই সবার চোখেমুখে ছড়িয়ে পড়লো এক ভিন্ন উৎকন্ঠা। সকলের কপালেই ভাজঁ পড়লো চিন্তার। অথচ খানিকটা দূরে ক্যানভাসের সামনে নির্বিকার ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে আয়রা।তার ভাব এমন — এখানে বুঝি তেমন কোনো জরুরী কথাবার্তা হচ্ছেই না!
মেয়েটা গম্ভীর মুখে হোয়াইট বোর্ডে মার্কার চালাচ্ছে দক্ষতার সাথে। তার ওমন ভাবলেশহীন ভঙ্গিমা দেখে মিস সারাহ ভ্রু গোটালেন। গটগট পায়ে তক্ষুনি এগিয়ে এলেন আয়রার নিকট। ক্যানভাসের ওপারে দাঁড়িয়ে গলা খাঁকারি দিয়ে ওঠেন সামান্য। অথচ আয়রা একটু নড়লোও না অবধি! গম্ভীর মুখে ঠায় মনোযোগী নিজ কাজে। সারাহ কেমন গম্ভীর মুখে চাপা স্বরে ডেকে ওঠে,

“ আয়রা!”
আয়রা চোখ তুললোনা। ক্যানভাসে মার্কার চালিয়ে গম্ভীর মুখে কেবল প্রতিত্তোরে বললো,
“ জ্বি বলুন!”
মিস সারাহ নড়েচড়ে দাঁড়ালেন। খানিকটা এগিয়ে এসে ফের বললেন,
“ প্রফেসর হেনরির ব্যাপারে জানো কিছু?”
এপর্যায়ে আয়রা কেমন বাঁকা হাসলো। চোখের চিকন ফ্রেমের নীল রঙা চশমার আড়ালে বাদামী চোখজোড়ার তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ফেললো মিস সারাহ-র দিকে। ঠোঁটের কোণে রহস্যময় হাসি টেনে শান্ত মুখে বলল,
“ সারারাত দুজনে মিলে কোয়ালিটি টাইম স্পেন্ড করেও আমাকে জিজ্ঞেস করছেন — আমি তার খোঁজ জানি কি-না? ব্যাপারটা কেমন হাস্যকর না?”
থতমত খেলেন মিস সারাহ। আমতা আমতা করতে করতে তক্ষুনি সরে গেলেন সেখান থেকে। আয়রা বাঁকা হাসলো নিঃশব্দে। বিরবির করে বলল,

“ সাচ আ স্লাট!”
মিস সারাহ চিন্তিত মুখে উদ্যোত হলেন ক্লাসরুম থেকে বেরিয়ে যেতে। ঠিক তখনি পেছন থেকে একজন শিক্ষার্থী চেঁচিয়ে বললো,
“ আরে! এটা কী হচ্ছে?”
সারাহ থামলেন। হতবিহ্বলের ন্যায় পেছনে ফিরে জিজ্ঞেস করলেন,
“ কী হয়েছে?”

শিক্ষার্থীরা প্রতিত্তোর করার বদলে সবাই কেমন হা করে তাকিয়ে আছে বড় টিভির পর্দায়। যেখানে এতক্ষণ সংবাদ দেখানো হলেও এখন দেখানো হচ্ছে ভয়ংকর কিছু! অজ্ঞাত এক মুখোশধারী যুবক, যার হাতে ধারালো ছুরি। তার সামনে নিথর হয়ে পড়ে আছে — প্রফেসর হেনরি! মুখোশধারী যুবক একহাঁটু গেঁড়ে বসে আছে হেনরির নিথর দেহের পাশে।তার হাতে বেশ কায়দা করে ঘুরপাক খাচ্ছে ধারালো ছুরি। প্রায় মিনিট খানেক পেরুতেই যুবক কেমন অদ্ভুতভাবে তাকালো ক্যামেরার দিকে। সাদা মুখোশের আড়ালে তার চেহারা স্পষ্ট নয়।তবে সে যে ক্রুর হাসছে তা বোঝা যাচ্ছে বেশ! সকলে যখন একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার দিকে ঠিক তখনি ঘটলো এক ভয়ানক ঘটনা। যুবক একাধারে ছুরি*কা*ঘাত করতে ব্যস্ত হলো হেনরির বুক বরাবর। মুহুর্তেই র*ক্তের ছিটেফোঁটায় ভরে গেলো মুখোশ, হাত,জ্যাকেট! অথচ থামছেনা সে।

Unpredictable part 9

এদিকে তার এহেন দৃশ্য দেখে সকলেই কেমন ভয়ে জড়সড়! মিস সারাহ চিৎকার দিয়ে ওঠেন তৎক্ষনাৎ। টিভির পর্দায় সকলের চোখ স্থির হলোনা বেশিক্ষণ।কেউ কেউ এই নৃশংসতায় মাথা ধরে বসে পড়েছে। আবার কেউ বমি করে ভাসাচ্ছে!ওদিকে যুবক এলোপাথাড়ি ছুরি*কাঘা*তে বিধ্বস্ত করছে হেনরির বুক।প্রায় বেশ কিছুক্ষণ পর যুবক থামে।লাল তরলে রঞ্জিত ছুরি হাতে নিয়েই দাঁড়িয়ে পড়ে ক্যামেরায় চোখ রেখে। তারপর খানিকটা এগিয়ে এসে হাত বাড়িয়ে ব্যাকগ্রাউন্ডে মিউজিক বাজায় প্রে সং। সেই গানের তালে তালে ভীষণ অভিজ্ঞভাবে কোমর দোলায় সাইকোদের মত।নাচার একপর্যায়ে নিজের হাতের চামড়ায় ছু*রি দিয়ে লেখে — টুইঙ্কেল!
সকলের অবাক চাহনি টিভিতে নিবদ্ধ! আয়রার দৃষ্টিও একইভাবে নিবদ্ধ সেথায়।তবে মেয়েটার চোখেমুখে তেমন কোনো ভয়ের ছাপ নেই আছে কেবল একরাশ হতবাকতা!!

Unpredictable part 11

1 COMMENT

Comments are closed.