Unpredictable part 9
Jannatul firdaus mithila
সাই সাই করে একগাদা কালো গাড়ির বহর ছুটছে কানাডার Ottawa সিটির রাস্তা দিয়ে। সামনে বেশ কয়েকটা মার্সিডিজ বেঞ্জ ছুটছে জোরালো গতিতে আর তার ঠিক মাঝখানে ছুটছে লম্বা লিমুজিন গাড়ি।পেছন পেছন আসছে আরও কিছু সশস্ত্র বডিগার্ড ভর্তি গাড়ি। কুচকুচে কালো রঙা লিমুজিন গাড়িটায় পায়ের ওপর পা তুলে, বেশ আয়েশ করে বসে আছে এডওয়ার্ড জেডি।গাড়ির ভেতরের জ্বলতে থাকা হালকা সোনালী আভার হলদেটে আলোয় সুদর্শন যুবকের ফর্সা লম্বাটে মুখখানার একাংশ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।ক্লিন-শেভ করা লম্বা চোয়ালখানা ফুটে উঠেছে ব্লেডের ন্যায় তীক্ষ্ণভাবে। ডানহাতে তার ধরে রাখা হুইস্কির স্বচ্ছ গ্লাস!
ডানহাতের তর্জনী ও মধ্যমা আঙুলের ভাঁজে গুঁজে রাখা জ্বলন্ত ক্রটস নিকারাগুয়ান সিগার। যুবকের বাজপাখির ন্যায় দৃষ্টি যুগল আপাতত তার বা- হাতে ধরে রাখা কাগজটায়। যেথায় স্পষ্ট জ্বলজ্বল করছে আয়রার শুভ্র নির্মল মুখখানা! মেয়েটার মুখাবয়ব ছবিতেও যথেষ্ট গম্ভীর। তার বাদামী চোখদুটোর পানে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে এডওয়ার্ড। তার কেন যেন মনে হচ্ছে — মেয়েটার চোখদুটো বুঝি বেশ গভীরভাবে তাকিয়ে আছে তার দিকে। এডওয়ার্ড হাসলো! ঠোঁট কামড়ে, নিঃশব্দে! সময় নিয়ে হালকা চুমুক বসালো হুইস্কির গ্লাসে।
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
এদিকে সিগারটা কেমন অবহেলিত আকারে এখনো জ্বলছে তার! দয়াবান এডওয়ার্ড জেডি পরক্ষণেই সিগারটা গুঁজল নিজের দু-ঠোঁটের ফাঁকে। বিশাল বড় এক টান নিয়ে অধরযুগল হালকা ফাঁক করে, মুখের ভেতরকার সকল কলুষিত ধোঁয়াগুলো আয়রার ছবিটার ওপর ধীরে ধীরে ফেলতে লাগলো। এটুকু করেই যেন বড্ড শান্তি মিললো তার! সে কেমন ঠোঁট কামড়ে বাঁকা হাসলো! বা-হাতের বৃদ্ধা আঙুল উঠিয়ে আলতো করে স্পর্শ করলো আয়রার ছবিটায়। রহস্যময় বাঁকা হেসে বিরবির করে বলল,
“ একবার হাতে পেয়ে নেই টুইঙ্কেল, আই সয়্যার,তোকে আমি সোনার খাঁচায় বন্দী করে রাখবো! আমার সবচেয়ে পছন্দের খাঁচায়, যেখানে বন্দী করলে তোর ছায়াঁটাও দেখতে পাবেনা কেউ! ইউ উইল অলওয়েজ বি মাইন, অনলি মাইন!”
বিরবিরিয়ে থামলো এডওয়ার্ড। ধীরেসুস্থে গা এলিয়ে দিলো পেছনের সিটের সঙ্গে। চোখদুটো আলতো করে বুঁজে নিয়ে, কাগজটাকে হাতের মুঠোয় একপ্রকার দুমড়েমুচড়ে গলা উঁচিয়ে ডাকলো,
“ নিহাদ!”
হকচকিয়ে ওঠে নিহাদ।রাত হয়েছে বেশ! চলন্ত গাড়ির মৃদু দুলুনিতে চোখদুটো কেমন হালকা লেগে এসেছিল বেচারার। ওমনি এডওয়ার্ডের এহেন ধমকে ওঠা কন্ঠে ছেলেটার চোখ থেকে মুহুর্তেই সরে গেলো সকল তন্দ্রা। সে কেমন নড়েচড়ে বসলো তক্ষুনি। হতবুদ্ধির ন্যায় আমতা আমতা করে এডওয়ার্ডের দিকে ক্ষুদ্র চোখে তাকিয়ে বলল,
“ জ্বি?”
এডওয়ার্ড সময় নিলো। ডানহাতের হুইস্কির গ্লাসটা পাশের টেবিলে রেখে, সিগারে টান বসালো আরেকবার।তারপর ঠোঁট গোল করে ধোঁয়া ছড়িয়ে, কঠিন গলায় আদেশ ছুড়ে বলল,
“ আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে ওকে আমার চাই! কোথা থেকে আনবি, কীভাবে আনবি ইউ নো দেট বেটার।বাট ওকে আমার লাগবেই লাগবে এট এনি কস্ট!”
নিহাদ বোকার ন্যায় মাথা কাত করতে গিয়ে থেমে গেলো হঠাৎ। তড়িৎ ভড়কে যাওয়া চোখে তাকালো এডওয়ার্ডের দিকে। সামান্য ঢোক গিলে নিচু কন্ঠে বললো,
“ কিন্তু কাকে খুঁজব?”
ফট করে চোখ মেললো এডওয়ার্ড। ঘাড় বাঁকা করে আগুন চোখে তাকালো নিহাদের দিকে। নিহাদ ফের ভড়কায়। ভয়ার্ত কন্ঠে আমতা আমতা করে বলে,
“ জেডি! ইয়ে মানে বলছিলাম.. তুই এখনো ঐ মেয়ের ডিটেইলস আমাকে দেখাসনি।আগে কাগজটা আমায় দেখতে দে,তারপর নাহয়….”
চোয়াল শক্ত এডওয়ার্ডের।বলা নেই কওয়া নেই হুট করেই কেন যেন মেজাজ চটলো তার! সে কেমন ঝাঁঝ দেখিয়ে বলল,
“ তোর মেইলবক্স চেক কর! নামসহ সকল কালেক্টিং ডিটেইলস দেওয়া হয়েছে শুধু ছবি ছাড়া। এটুকু ইনফরমেশনই আশা করি এনাফ!”
অগত্যা এমন কথার পিঠে আর কথা বাড়ালো না নিহাদ। তৎক্ষনাৎ এদিক ওদিক খোঁজাখুজিঁ চালিয়ে অবশেষে ল্যাপটপটা হাতে নিলো নিজের। পরক্ষণে মেইলবক্স চেক করে একবার দেখে নিলো ডিটেইলগুলো। মনে মনে ভীষণ বিরক্তি নিয়ে ভাবতে লাগলো,
“ ছবিটা দিলে কী এমন হতো? শুধু শুধু আমার কাজ বাড়ানোর পায়তারা সব!”
আগত স্টুডেন্টদের জন্য নির্ধারিত ইক্যুয়েপ হোটেলে রয়েছে সকল ধরনের সুবিধা। রেস্টুরেন্ট হতে শুরু করে জিম,সুইমিং এরিয়া, ক্যাফেটেরিয়া, ইনডোর গেমস হাউজ ইত্যাদি সবকিছুই রয়েছে এখানে।
রাত পৌনে এগারোটা!সকলের খাবার-দাবারের পর্ব শেষ হয়েছে বেশ আগে। তবে আয়রা এখনো খাবার খায়নি। নিজ কামরায় বসে ফাইল সেট করছে আগামীকালের জন্য। কাল থেকে শুরু হবে প্রতিযোগিতা। হাতে ভীষণ কাজ!সবটা ভালোয় ভালোয় মিটে গেলেই হয়! আয়রা যখন নিজ কাজে ব্যস্ত ঠিক তখনি তার ঘরের দরজায় কড়া নাড়লো কে যেন। আয়রা থামলো। ভ্রু কুঁচকে একপলক তাকালো বন্ধ দরজার দিকে। এতোরাতে কে এলো? তার ওমন ভাবনার মাঝেই আরেকবার টোকা পড়লো দরজার গায়ে। আয়রা এবার আর সময় নিলো না। তক্ষুনি গটগট পায়ে চলে গেলো দরজা খুলতে। কিয়তক্ষন বাদেই দরজা খুলে বাইরে তাকায় আয়রা।দেখতে পায় — একখানা সিল্কের লং নাইট ড্রেস গায়ে, নোয়া কেমন দু’হাত বুকের কাছে বেঁধে দাঁড়িয়ে আছে চুপচাপ! আয়রাকে দেখতে পেয়ে মেয়েটা কেমন ফোঁস করে নিশ্বাস ফেললো। আয়রাকে একপ্রকার পাশ কাটিয়ে ঘরে ঢুকে বলল,
“ মাই গড! ভেবেছিলাম আজকে বোধহয় আর দরজাই খুলবেনা!”
আয়রা প্রতিত্তোরে নিশ্চুপ! দরজা আটকিয়ে ফের চলে এলো বিছানার কাছে। নোয়াও এলো পিছুপিছু। বিছানার ওপর দুপা উঠিয়ে হাঁটু ভাঁজ করে বসলো মেয়েটা।ভীষণ মনোযোগ দিয়ে দেখতে লাগলো আয়রার কাজকর্ম। আয়রা একবার আড়চোখে তাকালো নোয়ার দিকে। পরক্ষণে ফের নিজের কাজে মত্ত হয়ে গম্ভীর কন্ঠে বললো,
“ এতোরাতে এখানে কেনো?”
নোয়া ঠোঁট উল্টায়। বাম-পায়ের উরুতে হাতের কনুই ঠেকিয়ে, থুতনি রাখলো হাতের ওপর। উদাস গলায় বলতে লাগলো,
“ একটা প্রবলেম হয়েছে। তোমার হেল্প দরকার! করবে?”
আয়রা চোখ না তুলেই বলল,
“ কী হেল্প?”
এহেন কথায় নড়েচড়ে বসলো নোয়া। ভীষণ উদগ্রীব হয়ে দাঁতকপাটি বের করে হাসলো কিয়তক্ষন। আয়রা তা দেখেও দেখলো না যেন। সে-তো নিজের ফাইল গোছাতে ব্যস্ত! এরইমধ্যে নোয়া বলে ওঠে,
“ আরু! তুমি তো একজন সাইকিয়াট্রিস্ট। কারো মনের মধ্যে ঘটে যাওয়া ব্যাপার-স্যাপার , তোমার চেয়ে ভালো কে বুঝবে?”
আয়রা নিজের কাজে মত্ত! বেডসাইডের টেবিলের ওপর থেকে মার্কার পেন নিয়ে এসে ফাইলের ওপরে গোটা গোটা অক্ষরে কিছু একটা লিখতে লিখতেই বলে ওঠে,
“ মুখ থেকে সুপারি বের করে কথা বলো!”
বুঝলোনা নোয়া। বোকার ন্যায় মাথা চুলকে জিজ্ঞেস করল,
“ কী বললে?”
এপর্যায়ে খানিক গম্ভীর হলো আয়রা। হাতের কাজ শেষ করে ফাইলটা সরিয়ে রাখলো টেবিলের ওপর। পরক্ষণে নোয়ার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ফেলে গম্ভীর মুখে বলল,
“ বললাম এতো না পেঁচিয়ে যা বলার সরাসরি বলে ফেলো!”
এরূপ কথায় বড্ড সাহস পেলো নোয়া। মেয়েটা খানিক এগিয়ে এসে বসলো কেমন। হাসি হাসি মুখে বলতে লাগলো,
“ আমার না.. একটা বয়ফ্রেন্ড আছে। বাট উই আর নট ইন এ সিরিয়াস রিলেশনশিপ অর কমিটমেন্ট। যার জন্য আমাদের দু’জনের ওপর তেমন কোনো চাপ নেই এ সম্পর্কটা নিয়ে। তো এখানে আসার পর আমার একজনকে ভালো লেগেছে। এন্ড ইউ নো না..হোয়াট কামস নেক্সট? বাট আমি কেন যেন একটা দ্বিধা দ্বন্দ্বে আঁটকে পড়েছি।সরাসরি নতুন ছেলেটাকে নাও বলতে পারছিনা আবার হ্যা ও বলতে পারছিনা। প্রচুর মানসিক চাপ লাগছে! এজন্যই তোমার কাছে এলাম!”
মনোযোগ দিয়ে পুরোটা শুনলো আয়রা। নোয়ার কথা শেষ হওয়া মাত্রই সে কেমন স্মিত হাসলো। সময় নিয়ে ভীষণ প্রফেশনালিজন মেইনটেইন করে বলতে লাগলো,
“ লিসেন নোয়া! কারোর প্রতি ফিলিংস আসা,এবং ঐ ফিলিংসের তাড়নায় পড়ে যেকোনো কাজ করা ইজ নট সেম। দেখো — তুমি তোমার ফিলিংসকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেনা এটা সত্যি! বাট… কারো প্রতি ফিলিংস চলে এলে পরবর্তীতে তুমি ঠিক কী করবে, না না করবে সেটা অবশ্যই তোমার নিয়ন্ত্রণে আছে। এক্ষেত্রে আমি বলবো — আগে তুমি নিজেকে প্রশ্ন করো তুমি কী চাচ্ছো? তুমি কী নেহাৎই নিজের আকর্ষণের তাড়নায় পড়ে এমনটা বলছো? না-কি আগের সম্পর্কটা থেকে বিরক্ত হয়ে এমনটা বলছো?”
চিন্তায় পড়লো নোয়া। কিয়তক্ষন চুপ থেকে মিনমিনিয়ে বলতে লাগলো,
“ হ্যারি আমার প্রতি খুব একটা কনসার্ন না আরু! হি জাস্ট ওয়ান্ট মি ফর হিজ ডিলাইট।”
মুখ কুঁচকায় আয়রা। মনে মনে ছেলে-মেয়ে দু’টোকে একদফা গালি দিয়ে নিজেকে শান্ত করলো কোনরকম। কী সুন্দর কথা! ‘ হি জাস্ট ওয়ান্ট মি ফর হিজ ডিলাইট!’ বাহ! এমনভাবে বলছে যেন বেশ পূন্যের কাজ করছে তারা! যত্তসব… আয়রা সময় নিয়ে মৃদু গলা খাঁকারি দিয়ে ওঠে। বিছানা ছেড়ে নামতে নামতে বলে,
“ শুধু কী সে-ই ডিলাইটনেসের জন্য সম্পর্কে আছে? না-কি তুমিও?”
লাজুক হাসলো নোয়া।মুখটায় কেমন কাচুমাচু ভাব নিয়ে বলতে লাগলো,
“ ইয়ে মানে…আমিও!”
শ্লেষাত্মক হাসলো আয়রা। ঘাড় বাকিয়ে চাইলো নোয়ার দিকে। গম্ভীর কন্ঠে বলে ওঠলো,
“ তাহলে প্রবলেম কী? দুজনেই তো সমান সমান! বাই দা ওয়ে লিসেন টু মি!”
মনোযোগী হলো নোয়া। মুখ তুললো ওপরে। আয়রা কেমন শান্ত কন্ঠে বলতে লাগলো,
“ যা-ই করোনা কেনো,এটলিস্ট এমন কিছু করোনা যার জন্য পরবর্তীতে আয়নাতে নিজের দিকে তাকাতেও লজ্জা বোধ হয়!”
কথাটুকু বলেই হাঁটা ধরলো আয়রা। উদ্দেশ্য, খাবার খেতে যাওয়া। তবে হঠাৎ কী মনে করে যেন থেমে গেলো সে। কিছুটা সময় নিয়ে পেছন ঘুরে বলল,
“ নোয়া?”
ভাবুক নোয়া তড়িৎ ঘাড় বাকিয়ে তাকায়। জিজ্ঞাসু চোখে তাকিয়ে থাকতেই আয়রা কেমন সন্দিহান গলায় বলে ওঠে,
“ আজকের ব্রেকফাস্টে আমাদের কী কী মিল দেওয়া হয়েছিল?”
নোয়া কিছুক্ষণ ভেবেচিন্তে বলে,
“ কী আবার? ফিশ কাটলেট, ব্রেড-চিকেন,জুস এন্ড স্যুপ।”
“ স্যুপটায় কী মাশরুম ছিল?
“ নাতো! আমিওতো খেলাম।কই মাশরুমের ছিটেফোঁটাও তো পেলাম না!”
এহেন বাক্যে গম্ভীর হলো আয়রা। বিচক্ষণ মস্তিষ্কে তার হঠাৎ কড়া নাড়লো আরেক চিন্তা।নোয়ার স্যুপে মাশরুম না থাকলে তারটায় এলো কোত্থেকে? তার জানামতে, এখানে সবার মিল-ই তো একসঙ্গে প্রিপেয়ার করা হয়।ইভেন মিল কার্ডে খাবারের ইনগ্রেডিয়েন্টসে মাশরুমের কথা উল্লেখ ছিলোনা। এরমানে কী দাড়াচ্ছে? কেউ ইচ্ছে করে কেবল তার স্যুপে মাশরুম দিয়েছে? দুশ্চিন্তায় মগ্ন হলো আয়রা।তক্ষুনি তার ঘোর ভাঙলো নেয়ার ডাকে,
“ আয়রা? হোয়াট হেপেন্ড?”
হকচকিয়ে ওঠে আয়রা।তড়িৎ দু’ধারে মাথা নাড়িয়ে জানায়,
“ না কিছু না।তুমি বসো,আমি খাবার খেয়ে আসছি!”
কথাটা শেষ হবার প্রায় সঙ্গে সঙ্গে নোয়া নেমে আসে বিছানা থেকে। আয়রার সাথে পা মিলিয়ে বলে,
“ চলো আমিও যাবো!”
ভ্রু কুঁচকায় আয়রা। সন্দিহান গলায় জিজ্ঞেস করে,
“ তুমি কোথায় যাবে?”
নোয়া দাঁতকপাটি বের করে হাসলো কেমন। বলল,
“ চকলেটের ক্রেভিংস হচ্ছে!”
আয়রা আর কথা বাড়ালো না। চুপচাপ হাঁটা ধরলো ঘরের বাইরে।
গটগট পায়ে পাঁচ তারকার হোটেলটায় ঢুকছে এডওয়ার্ড। দুপাশে সটান হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বডিগার্ডেরা। আশেপাশের মানুষজন কেমন স্থির হয়ে গেছে নিজ জায়গায়। এডওয়ার্ড হাঁটছে নিজ আঙ্গিকে। চোখে আটাঁ কালো রঙা সানগ্লাস। গায়ে ট্রেঞ্চ কোট! একহাত প্যান্টের পকেটে গুঁজে রাখা। ঠোঁটের কোণে গুঁজে রাখা মোটা সিগার। তার খানিকটা পেছন পেছন এগিয়ে আসছে নিহাদ। সম্মুখের দু’জন বডিগার্ড একপ্রকার হাতাহাতি করে আশেপাশের মানুষজনকে সরাচ্ছেন।সেদিকে অবশ্য ভ্রূক্ষেপ নেই এডওয়ার্ডের। সে-তো চলছে নিজের মতো।
বলিষ্ঠদেহী বডিগার্ড-দ্বয় ভীষণ রাগী! কৃষ্ণাবয়ব মুখটায় কেবল দাঁতগুলোই দেখা যায় কোনরকম। এরইমধ্যে বডিগার্ডদের একজন ঘটায় আরেক কান্ড। আশেপাশের মানুষদের সরাতে গিয়ে, হুট করেই একজন বৃদ্ধের গায়ে ধাক্কা দিয়ে বসেন তিনি। বৃদ্ধ হঠাৎ আক্রমণের তাল সামলাতে না পেরে তৎক্ষনাৎ ছিটকে পড়লেন মেঝেতে। বডিগার্ড সেসব দেখেও পাত্তা দিলোনা একবিন্দুও। তিনি উল্টো নিজের মনিবের খাতিরে বাদবাকিদের সরিয়ে যাচ্ছেন হাত দিয়ে। এদিকে এডওয়ার্ডের পায়ের গতি জোরালো। ইকুয়েপ হোটেলের একপাশের সম্পূর্ণটা আগত ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বরাদ্দ হলেও অন্যপাশটা বরাদ্দ হয়েছে আগত ভিআইপিদের জন্য। এডওয়ার্ড রিসেপশন পেরিয়ে অন্যপাশে যেতেই হঠাৎ তার কানে এলো এক পরিচিত কন্ঠ!
“ হোয়াট দা হেল ইউ থিংক ইউরসেলফ? মানুষকে মানুষ বলে চোখে লাগেনা তাই-না? ভিআইপি বলে মাথায় চড়ে নাচবেন আপনারা?”
মুহুর্তেই থমকালো এডওয়ার্ডের চলন্ত পা! কান খাঁড়া করে সে আবারও শুনতে লাগলো সেই দারাজ কন্ঠ!
“ কেনো? আপনার ভিআইপি স্যারের জন্য এতো ভিড় ঠেলতে হবে কেনো? বাইরে তো যথেষ্ট কড়া সিকিউরিটি আছে। ইভেন ভেতরেও।তারপরও যতটুকু দেখলাম — আপনারা যেভাবে সাধারণ মানুষজনদের ঠেলাঠেলি করছেন, মনে হচ্ছে এদের গায়ের সাথে আপনার ভিআইপির গায়ের টাচ লাগলে বোধহয় উনার গায়ে ফোঁসকা পড়বে!”
আয়রার দারাজ কন্ঠে হতবিহ্বল সকলে। নিহাদ হাঁটা থামিয়ে হঠাৎ পেছনে ফিরে চাইলো এহেন বক্তব্য শুনে। পরমুহূর্তে অদূরে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটার পানে চোখ পরতেই চমকায় সে। চোখে ভুল দেখছে কি-না যাচাই করতে তৎক্ষনাৎ চোখদুটো ডলে নিলো দু-আঙুলে। পরক্ষণে আবারও দৃষ্টি ফেললো সেদিকে। নাহ! এবারেও একই ব্যাক্তিকে দেখছে সে। কিন্তু এটা কীভাবে সম্ভব? হুবহু একইরকম দেখতে চোখ,নাক,মুখ কীভাবে হতে পারে আরেকজনের? নিহাদ অবিশ্বাস্যে তাকিয়ে রইলো আয়রার পানে।কিয়তক্ষন বাদেই সে কিছু বলতে যাবে ওমনি তার কানে ভেসে আসে এডওয়ার্ডের শান্ত অথচ নিরেট কন্ঠ!
“ টুইঙ্কেল!”
তড়িৎ ঘাড় বাকিয়ে তাকায় নিহাদ। ভয়ার্ত চাহনিতে সামান্য ঢোক গিলে আমতা আমতা করে বলে,
“ জেডি প্লিজ স্টপ! এখানে না!”
কে শোনে কার কথা! জেডি ধীরেসুস্থে পেছনে ঘুরলো। হাত উঁচিয়ে নিজের চোখের ওপর থেকে সানগ্লাসটা সরিয়ে নিলো রয়েসয়ে। মুহুর্তেই উম্মুক্ত হলো তার নীলচে-সবুজ চোখদুটো! ছেলেটার ঠোঁটের কোণে লেপ্টে আছে ক্রুর হাসির রেশ। সে পা বাড়ায় সামনে যেতে। তবে তার যাওয়ার আগেই আয়রা সেখান থেকে প্রস্থান ঘটায়। ভীষণ মেজাজ দেখিয়ে বেশ কিছু কটুবাক্য বলে গিয়েছে মেয়েটা! এসব অবশ্য গায়ে মাখেনি বডিগার্ডেরা। শত হলেও সুন্দরী বলে কথা! এদের মুখে গালি শুনতেও তো ভালো লাগে!
রাগে গজগজ করতে করতে ডাইনিং স্পেসে চলে এলো আয়রা। বড় টেবিলটার একপাশের চেয়ার টেনে বসে পড়ে আলগোছে। কন্ঠ উঁচিয়ে ওয়েটারকে ডেকে বলে ওঠে,
“ এক্সকিউজ মি!”
কন্ঠ শোনামাত্রই ছুটে এলেন ওয়েটার। হালকা নুইয়ে কুর্নিশ জানিয়ে বললেন,
“ জ্বি ম্যাম!”
“ রাতের মিলে কী আছে?”
ওয়েটার মহাশয় মুচকি হেসে শুরু করলেন নাম জপা,
“ পুটিন,বাটার টার্ট, নানাইমো বার, ম্যাপল সিরাপ
প্যানকেক, ম্যাপল ক্যান্ডি, ম্যাপল গ্লেজড স্যামন।
স্ট্রিট ফুড এন্ড ফাস্ট ফুড — স্মোকড মিট স্যান্ডউইচ, বিভারটেইলস, হট ডগ, ডোনেয়ার!
ইন সি ফুড সেকশান, উই হেভ— সি-ফুড লবস্টার রোল, স্যামন, ফিশ অ্যান্ড চিপস, শাওয়ারমা, সুশি, বাটার চিকেন, ডিম সাম…!”
আরও বলতে চাইছিলেন মহাশয়।তবে এর আগেই আয়রা হাত উঁচিয়ে থামতে বললো তাকে। গম্ভীর মুখে অর্ডার করলো,
“ গো এন্ড গেট সাম পুটিন এন্ড প্যানকেক।”
অর্ডার পাওয়া মাত্রই ছুটে গেলেন ওয়েটার। ওদিকে আয়রা বসে রইলো চুপচাপ। পকেট হাতড়ে ফোনটা বের করে এনে টিপতে লাগলো কোনরকম। প্রায় মিনিট দুয়েক পেরুতেই আয়রার ফোনে কল এলো এক পরিচিত নম্বর থেকে। তা দেখে মুহুর্তেই মুখটায় কেমন বিষন্নতা ছেয়ে গেলো আয়রার! মেয়েটা চুপচাপ কিয়তক্ষন তাকিয়ে রইলো ফোনের স্ক্রিনে। ফোন বাজছে নিজের মতো। কল এসে কেটেও গেলো একটা সময়, তবুও আয়রা তুললো না সে কল। পরপর দুটো কল আসতেই এবারে কল রিসিভ করলো সে। ফোন কানে ঠেকিয়ে কাঠকাঠ কন্ঠে বললো,
“ আসসালামু আলাইকুম!”
ওপাশের ব্যাক্তি আর কেউ নন স্বয়ং রাশেদ আজিম। মেয়েকে বহুদিন পর কল দিলেন তিনি। এমনিতে কল দিলেও মেয়ে কী আর কল ধরে? রাশেদ সাহেব খানিক সময় নিয়ে বলে ওঠেন,
“ ওয়ালাইকুমুসসালাম মা! কেমন আছো?”
আয়রার মুখাবয়ব কঠিন! তারচেয়েও কঠিন তার কন্ঠ! মেয়েটা অনীহার সুরে জবাব দেয়,
“ জ্বি আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। আপনারা কেমন আছেন?”
মেয়ের এটুকু জিজ্ঞাসাবাদেই বড্ড খুশী হলেন রাশেদ সাহেব। মানুষটা কেমন গালভরা হাসি টেনে বললেন,
“ সবাই ভালো আছে মা। তোমার কী অবস্থা? কি করছো এখন?”
“ তেমন কিছু না। খেতে এসেছি।”
এপর্যায়ে কিয়তক্ষন নিরব রইলেন রাশেদ সাহেব।রাত বাজে পৌনে তিনটে।মেয়ের সাথে কথা বলার জন্য এতোরাত অব্ধি জেগে ছিলেন মানুষটা।অথচ এখন দেখো! মেয়ে কল ধরার পরও মুখ দিয়ে বলার মতো কথা বেরুচ্ছে না তার!রাশেদ সাহেব দীর্ঘ নিশ্বাস ফেললেন। সরু বারান্দায় হাঁটতে হাঁটতে বললেন,
“ দেশে ফিরবে কবে?”
তৎক্ষনাৎ জবাব দেয়নি আয়রা। সময় নিয়ে বলল,
“ আল্লাহ যেদিন চাইবে!”
এটুকু বলে থামলো আয়রা।ফোন কানে ঠেকিয়েই পাশে ফিরে দেখলো — প্রফেসর হেনরি এসে বসেছে তার পাশে। আরেকটু হলেই লোকটা তার গা ঘেঁষে বসবে! আয়রা তৎক্ষনাৎ নড়েচড়ে খানিকটা সরে বসলো। ব্যস্ততা দেখিয়ে বাবাকে বলল,
“ রাখছি! ভালো থাকবেন! ”
ওপাশের রাশেদ সাহেবের পেটভর্তি কথা! মেয়ের সাথে মন খুলে আড্ডা দেবার শখ।অথচ মেয়ে তো তার বিশাল ব্যস্ত! রাশেদ সাহেব আহত হেসে চাপা স্বরে বললেন,
“ ঠিক আছে। নিজের খেয়াল রেখো।”
বলেই কল কাটলেন তিনি। চোখ রাখলেন অদূরের আকাশপটে। আজ মস্তবড় চাঁদ উঠেছে আকাশে। মেঘেদের ভেলা একটু পরপর এসে ঢেকে দিয়ে যাচ্ছে চাঁদকে। রাশেদ সাহেব সেদিকে তাকিয়ে থেকে বিরবির করে বললেন,
“ আর কীভাবে মাফ চাইলে মাফ করবে মা?”
ওয়েটার মহাশয় এতক্ষণে খাবার নিয়ে এলেন। ট্রে ভর্তি ধোঁয়া ওঠা খাবারগুলো আয়রার সামনে দিয়ে তিনি তৎক্ষনাৎ চলে গেলেন সেখান থেকে। এদিকে প্রফেসর হেনরি কেমন গায়ে পড়ে রাজ্যের কথা বলে যাচ্ছেন আয়রার সঙ্গে। আয়রা এতে বেজায় বিরক্ত! তবুও মুখাবয়ব গম্ভীর রেখে মেয়েটা যতটুকু পারছে হু,হা তে জবাব দিচ্ছে লোকটার সাথে। হেনরি বুঝি এতেই সুযোগ পেলো খানিকটা। আয়রা ট্রে থেকে প্যানকেক উঠিয়ে সেথায় এক কামড় বসাতেই পাশ থেকে হেনরি কেমন নেশালো কন্ঠে বলে ওঠে ,
“ আই মাস্ট সে আয়রা.. ইউর লিপস মুভমেন্ট লিট্রেলি টার্নিং মি অন!”
মুহূর্তেই থমকায় আয়রা। খাওয়া থামিয়ে শক্ত চোখে তাকায় হেনরির দিকে। হেনরি ভড়কায়নি। উল্টো মেয়েটার দিকে লোভাতুর চাহনি দিয়ে বলে ওঠে,
“ আয়রা! ইফ ইউ ডোন্ট মাইন্ড, আজকের রাতটা আমরা একসাথে কাটাই?”
কথাটা শেষ হতে দেরি, হেনরির মুখ বরাবর ধোঁয়া ওঠা কফিটা ছুড়তে দেরি হলোনা আয়রার! মুহুর্তেই এক বিকট চিৎকার দিয়ে ওঠে হেনরি। মুখটা জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে তার।এদিকে তার ওমন ভয়ংকর চিৎকারে কিচেন থেকে ছুটে আসেন দুয়েকজন। অন্যদিকে আয়রা রীতিমতো ফুঁসছে। হেনরি চিৎকার দিচ্ছে বলে সে তৎক্ষনাৎ নিজের হাতের প্যানকেকটা জোর করে ঠেলে দেয় হেনরির মুখ বরাবর। যার দরুন, হেনরির চিৎকারের আওয়াজ ক্ষীণ হয়ে আসে কিছুটা।আয়রা এটুকু করেই থামলোনা। তক্ষুনি হেনরির ঘাড় শক্ত করে চেপে ধরে, লোকটার কপাল একাধারে টেবিলের সঙ্গে মারতে লাগলো। ওদিকে কিচেনের লোকদুটো কেমন হা হয়ে গেলো মেয়েটার এহেন কান্ডে। তারা এগিয়ে আসতে চাইলেই আয়রা কেমন ভয়ংকর গর্জন তুলে বলে ওঠে,
“ ইউ ব্লাডি বাস্টার্ড! তোর কতবড় কলিজা তুই আমাকে এমন কথা বলিস? একদম কলিজা খুলে রাস্তার কুকুরকে খাওয়াবো জানোয়ারের বাচ্চা!”
আয়রার এহেন গর্জনে থমকে যায় সকলে। ওদিকে আয়রা এখনো হেনরির কপাল বারি দিয়ে যাচ্ছে টেবিলের সাথে।লোকটার কপালের চামড়া ফেটে ইতোমধ্যেই বেরিয়ে এসেছে লহু।অথচ সেদিকে ভ্রুক্ষেপহীন আয়রা! মেয়েটার সারা অঙ্গ জ্বলছে এখন। প্রায় বেশ কিছুক্ষণ পর থামলো আয়রা। ক্লান্ত হেনরির ঘাড় চেপে রেখেই ফিসফিস করে বললো,
“ তোর ভাগ্য ভালো তুই আমার প্রফেসর জানোয়ারের বাচ্চা! নাহলে তোর মুখে গরম কফির বদলে নির্ঘাত এসিড ছুড়তাম আমি!”
কথাটা বলেই হেনরিকে ছেড়ে দিলো আয়রা। চোয়াল শক্ত করে ফুটিয়ে উঠে দাঁড়ায় বসা ছেড়ে। খানিকটা এগোতেই খেয়াল করলো — তার হাত-পা কাঁপছে। আয়রা থমকায়। নিজের কাঁপা কাঁপা হাতদুটো সামনে এনে কিয়তক্ষন তাকিয়ে থাকে অপলক। পরক্ষণে দাঁত কিড়মিড় করে বলে ওঠে,
” উফ! দেট ফা*কিং এ্যাটাক!”
প্যানিক এটাক হচ্ছে আয়রার। মেয়েটা তৎক্ষনাৎ জোরালো পায়ে ছুটলো কিচেনের দিকে। এদিক ওদিক নজর বুলিয়ে খুঁজল কিছু একটা। পরমুহূর্তে কাঙ্ক্ষিত জিনিস পেয়ে যেতেই আয়রা ছুটলো সেদিকে। কিচেন কাউন্টারের ওপর ঝুড়ি ভর্তি কাঁচা মরিচ।একদম ধুয়ে-টুয়ে রাখা! আয়রা তৎক্ষনাৎ এগিয়ে এসে একটার পর একটা কাঁচা মরিচ চিবাতে লাগলো। কিচেনে আগে থেকে উপস্থিত শেফেরা মেয়ের এহেন কান্ড দেখে বোকা বনে গেলেন যেন! তারা একবার একে-অপরের মুখ চাওয়াচাওয়ি করলেন।পরক্ষণে আয়রার নিকট এগিয়ে এসে চিন্তিত কন্ঠে বলতে লাগলেন,
“ আরে আরে কি করছো? পেট জ্বলবে তো!”
শুনলোনা আয়রা! উল্টো চোখ বুঁজে একটার পর একটা মরিচ চিবাতে লাগলো নিজের মতো করে। কে বলে কষ্ট নিবারণ করতে কেবল চিৎকার করতে হয়? আয়রা তো নিজেকে কষ্ট দিয়েই নিজের কষ্ট কমায়! মেয়েটার চোখবেয়ে নিরবে ঝরে পড়ছে অশ্রু। মুখটা হয়ে গেছে লাল টকটকে! তবুও থামছেনা সে। থেমেই বা কী লাভ? থামলে কথাগুলো ভুলতে পারবে সে?
মেয়েটার উদ্ভট কর্মকান্ডে হতবাক সকলে। শেফ কয়েকজন ছুটে গেলেন মেনেজারকে ডাকতে। এরইমধ্যে ডাইনিং থেকে হৈচৈ এর আওয়াজ শুনে ছুটে আসে নোয়া। কিচেনে পা রাখতেই তার চোখ গেলো কাঁচা মরিচ চিবাতে থাকা আয়রার দিকে।মেয়েটা তৎক্ষনাৎ ভড়কে গেলো!দ্রুত কদমে এগিয়ে এলো আয়রার নিকট। একহাতে আয়রার হাতটা শক্ত করে ধরে রেখে জোর গলায় বললো,
“ থামো আরু! হোয়াটস রঙ উইথ ইউ?”
আয়রা থেমেছে। অতিরিক্ত ঝালে মেয়েটা কেমন ঘনঘন নিশ্বাস ফেলছে! ওদিকে রিয়াদ এবং আয়ানও ছুটে এসেছে এতক্ষণে। এসেই আয়রার এহেন অবস্থা দেখে ভড়কায় তারা। বিচলিত কন্ঠে প্রশ্ন করে,
“ কী হয়েছে ওর?”
নোয়া ঠোঁট উল্টায়। চিন্তিত মুখে বলে,
“ ডাইনিং এ দেখলাম প্রফেসর হেনরির যাচ্ছে তা-ই অবস্থা! মুখে হয়তো গরম কিছু পড়েছে তার। আবার দেখলাম কপালেও র*ক্ত!”
এটুকু শুনেই দুয়ে -দুয়ে চার মিলিয়ে নিলো রিয়াদ আর আয়ান। কেননা তারা বেশ ভালো করেই চিনে আয়রাকে।এ মেয়ে ওতো সহজে নিজের নিয়ন্ত্রণ হারায়না। সেখানে আজ হারিয়েছে তারমানে নিশ্চয়ই ঐ প্রফেসর কিছু না কিছু করেছে! রিয়াদ নিজ উদ্যোগে এগিয়ে আসে। আয়রাকে কেমন নরম কন্ঠে বলে,
“ শান্ত হ আয়রা।যা হয়েছে বাদ দে! ভুলে যা এসব!”
Unpredictable part 8
হঠাৎ চোখ মেললো আয়রা।সম্মুখে দাঁড়িয়ে থাকা নোয়া মেয়েটার চোখ দেখে মুহুর্তেই কেমন পিছিয়ে গেলো দু-কদম। রিয়াদ এবং আয়ান ঠায় দাঁড়িয়ে রইলো নিজ জায়গায়। আয়রার চোখদুটো রক্তবর্ণ ধারণ করেছে। চোখের কার্নিশে জমেছে অশ্রুকণা। মেয়েটা তখন ঠোটেঁর কোণে ব্যাথাতুর হাসির ছাপ ফুটিয়ে বলে ওঠে,
“ ভুলে যাওয়ার ক্ষমতাটা আরেকটু প্রখর হলে, আমি হতাম এ পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ!”

6 din hoye gelo…akhono next part dissen na keno apu. Ai jonno running uponnas valo lage na.