Home অনুভূতি সব তোমায় ঘিরে অনুভূতি সব তোমায় ঘিরে পর্ব ১৮

অনুভূতি সব তোমায় ঘিরে পর্ব ১৮

অনুভূতি সব তোমায় ঘিরে পর্ব ১৮
সাজিয়া জাহান সুবহা

গাঢ় অন্ধকার জঙ্গলের মধ্যে একফালি আলো হিসেবে জ্বলছে ঝোপের মধ্যে কাঁচ ভাঙা হারিকেনটা। কেরোসিন ছড়িয়ে পড়ায় খুব দ্রুত আগুন ছড়িয়ে গেলো ঝোপের ভেতর। মুহূর্তেই শুকনো লতা পাতার মধ্যে দাউদাউ আগুন জ্বলে হলদে হয়ে উঠলো চারপাশটা৷ সেই আলোয় নিভু নিভু চোখে সায়েরী দেখলো রক্তাক্ত সাদা টি-শার্ট জড়ানো চিরপরিচিত গোমড়ামুখো মানবটা ধারালো ছুরি ঢুকিয়ে দিয়েছে তার বলিষ্ঠ হাতের নিচে পিষ্ট হতে থাকা ছেলেটার ডান হাঁটুর উপরিভাগে।

ব্যাথায় আর্তনাদ করে উঠলো ছেলেটা। সেই চিৎকারের নিচে চাপা পড়ে গেলো সায়েরীর দুর্বল কন্ঠের ডাক। তবুও ফিরে তাকালো সাফওয়ান। হাতের ছুরিটা দূরে ছুড়ে ফেলে দৌঁড়ে আসলো সায়েরীর দিকে। পাথরের কোণায় লেগে গলগল রক্ত বেরুচ্ছে সায়েরীর কপাল থেকে। সাফওয়ান অস্থির হয়ে উঠলো। মাটি থেকে নিজ বাহুতে তুলে নিলো সায়েরীর মাথা-টা। অথচ সায়েরীর চেয়েও গভীর ক্ষত তার নিজের বুকে৷ আড়াআড়িভাবে ছুরির টান পরেছে তার বুকের বাম পাশ হতে ডান পাশে। ফিনকি দিয়ে রক্ত বেরুচ্ছে সেই স্থান থেকে৷ কিন্তু সাফওয়ানের সেদিকে খেয়াল-ই নেই৷ পকেট থেকে রুমাল বের করে সায়েরীর রক্তাক্ত কপালে চেপে ধরলো সে। সায়েরীর নিভু নিভু চোখজোড়া দেখে কাতর কন্ঠে বারবার আওড়াতে লাগলো,

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

‘ স..সুবহা! সুবহা!! এই মেয়ে? চোখ খোলো। সুবহা!!! প্লিজ ডোন্ট ক্লোজ ইউর আইস। (গালে চাপড় মেরে) হেই!! চোখ বন্ধ করো না সুবহা! ডোন্ট ডু দিস প্লিজ!! ‘
সায়েরী শুনতে পেলো সবই। কিন্তু চোখ খোলার মত শক্তি পেলো না। তার অবচেতন মস্তিষ্ক জানান দিলো এই মুহূর্তে সে সবচেয়ে নিরাপদ জায়গায় রয়েছে৷ সাফওয়ান ভাই’র বুকে! মন বলছে, যায় হয়ে যাক না কেনো, সাফওয়ান ভাই রক্ষা করবে। কিছু হতে দিবে না। কিচ্ছুটি না।
সাফওয়ান উঠে দাঁড়ালো। পাজা কোলে তুলে নিলো সায়েরীর ছোট্ট দেহটা। বড় বড় কদম ফেলে এগিয়ে গেলো জঙ্গলের দিকে। পেছনে ফেলে গেলো তিন যুবকের রক্তাক্ত দেহ।

চাঁদের ক্ষীণ আলোয় সাবধান পায়ে এগিয়ে চললো সাফওয়ান। বুকের কাছটা জ্বালা করছে ভীষণ। দগদগে লাল রক্ত গড়িয়ে ভিজিয়ে তুলেছে সম্পূর্ণ শার্ট। ক্লান্ত হয়ে হাঁপাচ্ছে সে। তবুও থামলো না একবিন্দু। বড় বড় পা ফেলে এগিয়ে চললো নির্দেশ পাওয়া পথ ধরে। এবং সৌভাগ্যক্রমে মিনিট বিশেকের মধ্যে দেখা পেলো হাইওয়ে’র। স্বস্তির শ্বাস ফেললো সে। মাথা ঝুকিয়ে একপলক তাকালো বুকের মধ্যিখানে নিশ্চিত মনে চোখ বুজে পড়ে থাকা মুখশ্রী’টার দিকে। কপাল থেকে রক্ত গড়িয়ে একপাশ লাল হয়ে উঠেছে তার৷ সাফওয়ানের মায়া হলো ভীষণ। বারবার মন বলে উঠছে, কেনো একা ছাড়লো মেয়েটাকে? কেনো ভরসা করলো অপরিচিত মানুষগুলোকে!! আজ সায়েরীর এই অবস্থার জন্য সম্পূর্ণ দায়ী সে। না জানে কোন মুখে দাঁড়াবে বন্ধুর সামনে!

হাটু গেড়ে বসে সায়েরীকে গাছের সাথে হেলান দিয়ে রাখলো সে। মাঝে মাঝে একটা দুইটা গাড়ি চলছে রাস্তায়। বেশ অনেক্ষন পর একটা জিপ গাড়ি এগিয়ে আসতে দেখলো। লক্ষ্য করলো গাড়িতে মেয়ে মানুষ রয়েছে। একটুখানি আশার আলো খোঁজে পেয়ে সায়েরীকে রেখে চট করে রাস্তায় নেমে পড়লো সে৷ হেডলাইটের আলোয় সাফওয়ানকে দেখে সহসা ব্রেক কষলো গাড়ি চালাতে থাকা ছেলেটা। পাশে একজন মেয়ে৷ এবং পেছনে দুইজন মেয়ে, একজন ছেলে৷ এভাবে রক্তাক্ত শরীর নিয়ে গাড়ির সামনে এসে পড়ায় খানিকটা ভীতি সৃষ্টি হয়েছে তাদের মনে৷ রাত দুপুরে এ কেমন কান্ড! ডাকাতদের ষড়যন্ত্র নয়তো? এসব পাহাড়ি এলাকায় এমন অহরহ ঘটনা ঘটে৷ মেয়ে তিনজন ঠাই বসা৷ ড্রাইভিং সিটে বসা ছেলেটা ভ্রুঁ কুঁচকে উচ্চ স্বরে বললো,

‘ এইযে, এভাবে মাঝ রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছেন কেনো? সরুন। আমাদের যেতে হবে। ‘
সায়েরীর দিকে একপলক তাকিয়ে গাড়ির দিকে এগিয়ে গেলো সাফওয়ান। তার এমন উদাসীন ভাব দেখে মেয়েগুলোর ভয় বাড়লো দ্বিগুণ। হেডলাইটের আলোয় সাফওয়ান বলিষ্ঠ শরীর, এলোমেলো চুলের সুদর্শন মুখখানা দেখে তারা খানিকটা ভাবুক হলো। এতো সুন্দর একটা ছেলে শেষে কিনা ডাকাতি করছে!! তাদের ভাবনার মাঝে ড্রাইভিং সিটে বসা ছেলেটার পাশে গিয়ে দাঁড়ালো সাফওয়ান। তখনই পেছনে বসা ছেলেটা বলে উঠলো,
‘ এই ছেলে! খু*ন টু*ন করে এসেছো নাকি? এভাবে মাঝরাস্তায় গাড়ি থামিয়ে এখন আবার ছিন্তাই করার মতলব তাইনা? দ্বীপ!! গাড়ি স্টার্ট দে। এখানের মানুষের বিশ্বাস নেই কোনো। ‘

ড্রাইভিং সিটে বসা দ্বীপ নামক ছেলেটা গাড়ি স্টার্ট দিয়েছিলো তখনই সাফওয়ান তাড়াহুড়ো করে বলে উঠলো ,
‘ আমার কথা শুনোন..আমি মোটেও কোনো খারাপ মতলব নিয়ে গাড়ি থামাইনি। আসলে, আমি এখানে ঘুরতে এসে বিপদে পড়েছি। আর আমার সাথে আরও একজন আছে। আমাদের শুধু হোটেল অবধি পৌঁছে দিলেই হবে৷ উই ব্যাডলি নিড ইউর হেল্প। প্লিজ! ‘
সাফওয়ানের কথা শুনে একে অপরের মুখ চাওয়া চাওয়ি করতে লাগলো তারা। পেছন সিটে বসা একজন মেয়ে ফিসফিস করে বললো,

‘ এই ছেলে কি ফটাফট ইংলিশ বলছে রে! হাতে দেখ, অ্যাপল ওয়াচ! সাথে ব্রেন্ডের জুতা পরে আছে। মনে হয় সত্যি বলছে। ‘
তাদের এমন ফিসফিসানি-তে অধৈর্য হয়ে উঠলো সাফওয়ান। ঘাড় বাঁকিয়ে একনজর দেখে নিলো সায়েরীকে। জায়গাটা অন্ধকার হওয়ায় স্পষ্ট কিছু দেখা না গেলেও হলুদ জামাটা লক্ষ্য করে আবারো তাকালো ছেলে-মেয়ে গুলোর দিকে। অধৈর্য কন্ঠে বললো,
‘ দেখুন, আমাকে শুধু হোটেল অবধি পৌঁছে দিলেই হবে। বিনিময়ে আমি পে করতেও রাজি আছি। যতো টাকা লাগে দিয়ে দিবো। প্লিজ হেল্প আস!! ‘

এই পর্যায়ে গিয়ে টাকার জন্য না হলেও সাফওয়ানকে বিশ্বাস করে রাজি হলো দ্বীপ নামক ছেলেটা। তার সম্মতি পেয়ে বাকিরাও অমত করলো না। স্বস্তির নিশ্বাস ফেললো সাফওয়ান। সায়েরী-কে নিয়ে আসার জন্য পা বাড়াতে গিয়েও থেমে গেলো হঠাৎ। একপলক তাকালো জিপে বসা যুবক দুজনের দিকে। একই ভুল বারবার করার মানুষ নয় সে। তাই পেছন ফিরে মেয়ে দুজনের দিকে তাকিয়ে বললো,
‘ আপনারা একটু আমার সাথে আসুন। আমার সাথে একজন মেয়ে আছে। ওর কন্ডিশন ঠিক নেই। একটা মেয়ের প্রয়োজন ওকে নিয়ে আসার জন্য। ‘

উক্ত বাক্যটি শুনে ভ্রুঁ কুঁচকালো উপস্থিত ছেলে-মেয়েরা। একে অপরের চোখে তাকিয়ে নিরব সম্মতি পেয়ে তারা এগিয়ে গেলো সাফওয়ানের সাথে। জিপ থেকে প্রায় দশ বারো হাত দূরত্বে রাস্তার ধারে গাছের আড়ালে সায়েরীকে রেখেছিলো। মোবাইল ফ্ল্যাশ হাতে মেয়ে দুজন সেদিকে এগিয়ে সায়েরীকে দেখে আঁতকে উঠলো।হলুদ জামাটার একপাশ ছিরে সায়েরীর কাঁধ, পিঠ অর্ধ উন্মুক্ত হয়ে আছে। কপাল থেকে রক্ত গড়িয়ে রক্তিম হয়ে আছে মুখ থেকে গলাসহ বুকের একপাশ। হাতে, ঘাড়ে আঁচড়ের দাগ স্পষ্ট। তার অবস্থা দেখে মৃদু চিৎকার দিয়ে একজন বলে উঠলো,
‘ মাই গড! ওর এই অবস্থা কীভাবে হলো! আপনি…আপনার কে হই ও? আপনি কি করেছেন ওর সাথে? ‘
তাদের থেকে কয়েক হাত দূরে উল্টো দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে থাকা সাফওয়ান গোপনে দীর্ঘশ্বাস ফেললো। ব্যস্ত কন্ঠে জবাব দিলো,

‘সেটা নাহয় যেতে যেতে জানতে পারবেন। ওকে একটু ঢেকে দিন আগে।প্রচুর ব্লিডিং হচ্ছে। সি নিড ট্রিটমেন্ট। ‘
তার কথায় সায় জানিয়ে একজন বললো,
‘ নীরা, আমার হ্যান্ড ব্যাগে যে স্কার্ফ-টা আছে ওটা নিয়ে আয়, ফাস্ট। ‘
নীরা নামের মেয়েটা ছুটলো স্কার্ফ আনতে। অন্যজন সাবধানে রক্তাক্ত রুমালটা সরিয়ে নিলো সায়েরীর কপাল থেকে। লক্ষ্য করলো সায়েরীর গায়ের জামাটার গলার দিকে দুটো বোতাম খোলা। বক্ষস্থল দেখা দিচ্ছে তাতে। মেয়েটার মায়া লাগলো বেশ। আলতো হাতে বোতাম লাগিয়ে নীরা’র আনা স্কার্ফ-টা দিয়ে শরীর ঢেকে দিলো ভালো করে। তারপর ডাকলো সাফওয়ান’কে। লাইটের আলোয় সায়েরীকে ভালোভাবে একনজর দেখেই পাজা কোলে তুলে নিলো সাফওয়ান। পেছন সিটে বসিয়ে দিতেই তার দুপাশে দুজন মেয়ে এসে আগলে নিলো সায়েরী’কে। সাফওয়ানও উঠে পড়লো ঝটপট। বসে পড়লো অন্য ছেলেটার সাথে অপজিট সিটে। গাড়ি স্টার্ট হলো। সাথে সাথে সায়েরীকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে উঠলো সকলে। নীরা বললো,

‘ মেহুল, মেয়েটার শরীর গরম হয়ে উঠছে। ওর ব্লিডিং বন্ধ করতে হবে আগে। আমাকে ফাস্ট এইড বক্সটা এগিয়ে দে জলদি। ‘
কথামতো তারা দুজন দক্ষ হাতে সায়েরীর কপাল পরিষ্কার করে ব্যান্ডেজ করে দিলো। সাফওয়ান লক্ষ্য করলো দুজনকে। অন্য মেয়েদের মতো এদের কারোরই রক্ত, ক্ষত জায়গা দেখে ভয় লাগলো না। হাত কাঁপলো না একবিন্দু। যেনো নিত্যদিনের দেখা দৃশ্য এসব। সে গা এলিয়ে দিলো সিটের সাথে। শরীরের শক্তি সব যেনো এবার ফুরিয়ে এসেছে। বুকের ক্ষত জায়গাটা-তে ব্যথায় টনটন করছে। যখন ছেলেগুলো বুকে ছুরি চালিয়ে ছিলো তখন সাফওয়ানের গায়ে ছিলো সাদা টি-শার্ট’টা’টা। আর স্কাই ব্লু কালারের শার্ট’টার সব বোতাম খোলা ছিলো বিধায় সেটা অক্ষত রয়েছে। গাড়ি থামানোর আগেই শার্টের সব বোতাম লাগিয়ে দিয়েছে সে। যাতে হুট করে বুকের ক্ষতটা দেখে কেউ ভয় না পেয়ে যায়। উপস্থিত ছেলে-মেয়েরাও ভেবে নিলো হয়তো বা সায়েরী’র রক্ত লেগে আছে শার্টে। তাই আর ঘাটালো না তাকে।
সায়েরীর ঘাড়ে টকটকে লাল আঁচড়ের দাগটা দেখে মেহুল নামক মেয়েটা বললো,

‘ এবার কি বলবেন আপনারা এখানে ওই অবস্থায় কীভাবে পৌছালেন? এই বাচ্চা মেয়েটা কি হয় আপনার? ওর এই অবস্থা কীভাবে হলো?কে করেছে? ‘
সকলে উৎসুক নয়নে তাকিয়ে উত্তরে আশায়৷ মেহুলের একত্রে এতো প্রশ্ন শুনে লম্বা শ্বাস নিয়ে সাফওয়ান একে একে সব ঘটনা খুলে বললো। সবটা শুনে অবাক বিষ্ময়ে হা হয়ে গেলো তারা। মেহুল সায়েরীর মাথাটা নিজের কাঁধে নিয়ে আলতো হাতে জড়িয়ে ধরলো তাকে। বুকের ভিতরটা ছটফট করে উঠলো সে সায়েরীর কথাটা ভেবে। নীরা বললো,
‘ ইশশ!! এমন স্টুপিডিটি কেউ করে! আজ আপনি না বাঁচালে কি যে হতো ভেবেই বুক কাঁপছে! ‘
‘ স্টুপিডিটির নানী হয় এই মেয়ে৷ রাত দিন থাপড়ালেও সুধরাবে না। ‘
নিচু কন্ঠে বলা সাফওয়ানের কথাটা শুনেই আচমকা হেসে ফেললো সকলে। মেহুল হঠাৎ লক্ষ্য করলো এতোক্ষণ বুক অবধি ছোপ ছোপ রক্তের দাগ লাগা সাফওয়ানের শার্টখানা এখন বুক থেকে পেট অবধি ভেজা লাল রক্তে জুবুথুবু হয়ে আছে। আতংকের সাথে সে বললো,

‘ আপনার শার্টে এতো রক্ত জমছে কেনো? আপনিও কি কোথাও আঘাত পেয়েছেন?? ‘
নড়েচড়ে বসলো সাফওয়ান। না চাইতেও পাশে বসা ছেলেটার জোড়াজুড়ি-তে একে একে শার্টের সব বোতাম খুলে উন্মুক্ত করে দিলো ক্ষত স্থানটা। যেটা দেখে আঁতকে উঠলো বাকিরা। মেহুল আশ্চর্যের সাথে বললো,
‘ আপনি মানুষ! এমন গভীর ঘা নিয়ে এতো সময় ধরে চুপচাপ বসে আছেন কীভাবে? রক্তে আপনার শরীর ভেসে যাচ্ছে। কতো বড় ক্ষতি হবে ভাবতে পারছেন? ‘
সাফওয়ান নিশ্চুপ। নীরা ফাস্ট এইড বক্সটা সাফওয়ানের পাশে বসা ছেলেটাকে এগিয়ে দিয়ে বললো,
‘ আকাশ, উনার ঘা’টা একটু ক্লিন করে দাও। আমাদের স্টকে যা আছে এসব দিয়ে ব্লিডিং বন্ধ করা যায় কিনা দেখো। ‘
আকাশ নামক ছেলেটা ব্যাস্ত হাতে তুলো এবং স্যাভলন তুলে নিলো হাতে। সাফওয়ানের দিকে তাকিয়ে বললো,

‘ ব্রো, তোমার টি-শার্ট খুলতে হবে। এই অবস্থায় বেশিক্ষণ থাকলে তোমার জন্য ক্ষতি হবে। যেভাবে কেটেছে। দুইটার বেশি সেলাই লাগতে পারে। আপাতত আমি ব্লিডিং টা বন্ধ করার চেষ্টা করছি। নাও নাও টি-শার্ট খোলো। ‘
এভাবে দুজন যুবতী মেয়ের সামনে টি-শার্ট খুলতে বেশ ইতস্ততবোধ করলো সাফওয়ান। তার অবস্থা বুঝতে পেরে নীরা এবং মেহুল মোবাইলে ঢু মারলো। তাকালো না আর অন্যদিকে। সাফওয়ান না চাইতেও আকাশের জোরাজোরিতে শার্ট খুলে টি-শার্ট ও খুলে নিলো শরীর থেকে। তার পেশিবহুল বলিষ্ঠ শরীরটা দেখে আকাশ কৌতুক গলায় বললো, “বাহ! বডি তো সেই বানিয়েছো!!”

সাফওয়ান মৃদু হাসে। আকাশের কথায় নীরা এবং মেহুল চোরা চোখে একবার সেদিকে তাকিয়ে আটকে গেলো। সাফওয়ানের ধবধবে ফর্সা, রক্তাক্ত বুকের নিচে মেদহীন পেটে চারটা ভাজ স্পষ্ট। যাকে বলে সিক্স পেক। এখানে সিক্স না হলেও চারটা ভাজই যথেষ্ট হয়েছে সাফওয়ানের দেহটাকে আকর্ষণীয় করে তুলতে। আবার ভাঁজে ভাঁজে ঘাম জমে চিকচিক করে উঠছে আলোর প্রতিফলনে। হাতের দুই বাহুর ঊর্ধাংশের সম্মুখের বৃহৎ ফর্সা মাংসপেশি নজর কাড়ছে বেশ।ফর্সা হাতের উপরিভাগে ঘন কালো লম্বা লোমগুলো কতো সুন্দর লাগছে! সাফওয়ানের ক্লিন সেভ করা ফর্সা শক্ত চোয়াল, হালকা গোলাপি ঠোঁট, সরু লালছে নাক এবং সবচেয়ে আকর্ষণীয় বাদামী মনির চোখজোড়া দেখে চোখ নামাতেই পারছিলো না তারা। এমন এলোমেলো, বিধ্বস্ত শরীরেও ছেলেটা এতো আকর্ষণ করছে তাদের। না জানে তার পরিপাটি রূপ কেমন মনকাড়া হয়!! কথাগুলো ভেবে সাফওয়ানের আগাগোড়া চোখ বুলিয়ে ফাঁকা ঢোক গিললো নীরা এবং মেহুল। নীরা নিজেদের গ্রুপ আইডি তে ঢুকে ঝটপট লিখলো,

‘ আ’ম ডায়িং গাইস!! এই ছেলের রূপে আমার পরাণ পাখি ধরাস ধরাস করে লাফাচ্ছে। হাউ কোড বি সামওয়ান সো হট লাইক হিম! ‘
নীরার টেক্সট পেয়ে সামনের সিটে দ্বীপের পাশে বসা মেয়েটা ফিক করে হেসে দিলো। কৌতুহল বশত পেছন ফিরে নীরাকে কিছু বলবে এমন সময় সাফওয়ানকে দেখে খানিকের জন্য থমকালো সে। ড্যাবড্যাব নজরে সে যখন সাফওয়ানের শরীরে আনাচে কানাচে চোখ বোলাচ্ছে তখন হুট করে দ্বীপ তার চোখে হাত চেপে সিটে বসিয়ে দিলো। চাপা স্বরে বললো,

‘ হোয়াট আর ইউ ডুয়িং! এভাবে চোখ দিয়ে গিয়ে খাচ্ছো কেনো ওকে? আমাকে কি চোখে পড়ছে না? ‘
‘ দ্বীপ! নীরা ঠিকই বলেছিলো। হি ইজ ড্যাম হট! ‘
‘ স্টপ ইট রাই। আ’ম ইউর বয়ফ্রেন্ড। ডোন্ট ফরগেট দ্যাট। ‘
দ্বীপের জেলাসি মুখ দেখে দাঁত কেলিয়ে হাসলো রাই। আড়চোখে আরেকবার সাফওয়ানকে দেখে চুপচাপ সামনে ফিরে বসে পড়লো। ইতোমধ্যে আকাশের কাজ শেষ। সাফওয়ান ঝটপট স্কাই ব্লু শার্ট-টা গায়ে জড়িয়ে নিলো। বহু বছরের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী বিগত কয়েক মিনিটে নীরা, মেহুল এবং রাই-এর মুগ্ধ দৃষ্টি লক্ষ্য করছিলো সে। মনে মনে ভাবলো মেয়েগুলোর ভাগ্য ভালো। নয়তো সাফওয়ান খানের উদাম শরীর এতো কাছ থেকে দেখার ভাগ্য কোন মেয়ের হয়না।
সায়েরীর অচেতন মুখখানা দেখে হঠাৎ কিছু মনে পড়ার ভঙ্গিতে আকাশের কাছ থেকে মোবাইল নিয়ে দ্রুত কল করলো কাউকে। উপাশ থেকে রিসিভ হওয়া মাত্র ভেসে আসলো মিহাদের ক্লান্ত কন্ঠ,

‘ হ্যালো?? ‘
‘ সাফওয়ান বলছি। ‘
কন্ঠটা শুনে চমকে উঠলো মিহাদ। উত্তেজিত কন্ঠে চেঁচিয়ে বললো,
‘ সাফওয়ান! থ্যাংক গড তুই ফোন করলি। কোথায় তুই? ঠিক আছিস তো? সায়েরী….সায়েরী কি তোর সাথেই আছে?? তোরা ঠিক আছিস? ‘
‘ মিহাদ! কাম ডাউন। সায়েরী আমার সাথেই আছে। আমরা হোটেলে ফিরছি। এবার শুন, একটা কাজ করতে হবে তোকে। ‘

‘ বল ভাই বল। আমরা তো আছিই তোর সেবাযত্ন করতে। ‘
‘ শাট আপ অ্যান্ড লিসেন টু মি কেয়ারফুলি। রিসেপশনে গিয়ে আমার নামে একটা রুম বুক কর। সব রুম যদি বুকিং থাকে তবে এক্সটা টাকা পে করে একটা বুকিং করে নে। যতো লাগে দিয়ে দে। আমি ফিরার আগেই যেনো রুম রেডি থাকে।
‘ হঠাৎ এক্সটা রুম দিয়ে কি করবি তুই? ‘
‘ আমরা আসলেই জানতে পারবি। যা বলছি কর আগে। আর আমাদের ব্যাপারে আশা করি তোরা ছাড়া অন্য কেউ জানে না? ‘
‘ না। জানতে দেইনি কাউকে। ‘

‘ গুড। রুম ম্যানেজ কর যেভাবেই পারিস। আর রুম যে ফ্লোরে নিবি সেই ফ্লোরে আমাদের কলেজের কোনো স্টুডেন্ট বা টিচারদের রুম না থাকলেই ভালো। থাকলে নাহয় ম্যানেজ করে নিবো৷ আপাতত এটুকু কর। রাখছি। ‘
মিহাদের সাথে কথা শেষে আকাশ সাফওয়ানের সাথে কথা বলে তার এবং সম্পর্কে অনেক কিছুই জেনে নিলো। কথা বলতে বলতে এক সময় পৌঁছে গেলো সাফওয়ানের দেওয়া ঠিকানায়। জিপ থেকে নেমে দাঁড়ালো সকলে। আকাশ এবং দ্বীপের সাথে হ্যান্ডশেক করে মন থেকে কৃতজ্ঞতা জানালো সাহায্যের জন্য। দ্বীপ মুচকি হেসে বললো,
‘ সময় সুযোগ পেলে একদিন তুমিও হেল্প করে ঋণ সুদ করে নিও৷ তাছাড়া এটা আমাদের দ্বায়িত্ব’র মধ্যে পড়ে। আমরা সবাই মেডিকেল স্টুডেন্ট। বর্তমানে একই হসপিটালে ইন্টার্নি করছি। এখানে এসেছিলাম ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পিং এর কাজে। আজ অফ ডে ছিলো বলে একটু ঘুরে বেড়াচ্ছিলাম। ভাগ্য ভালো তোমাদের সাথে দেখা হয়ে গেলো। ‘

‘ আপনাদের চিকিৎসা দেখেই আন্দাজ করেছিলাম কিছুটা। থ্যাংকস ফর অল ইউর হেল্প। আজ আপনারা না থাকলে না জানি এতো রাতে ওকে নিয়ে কোথায় পড়ে থাকতাম। থ্যাংকস অ্যা লট! ‘
সাফওয়ানের কথায় মেহুল মৃদু হেসে গাড়িতে বসা সায়েরীর দিকে তাকিয়ে বললো,
‘ সি ইজ সো লাকি। আপনার মতো হ্যান্ডসাম অ্যান্ড কেয়ারিং সিনিয়র ভাই কিন্তু সবার কপালে জুটে না। ‘
মেহুলের ইঙ্গিত বুঝে হেসে ফেললো সকলে। সাফওয়ান মৃদু হেসে মাথা নাড়ায়। ব্যাগ থেকে কাগজ কলম বের করে খসখস শব্দ তুলে কিছু একটা লিখে সাফওয়ানের দিকে বাঁড়িয়ে দিলো মেহুল। বললো,
‘ আমরা এই জায়গায় ক্যাম্প বসিয়েছি। কাল সকালে হোক বা অন্য কোনো সময়, সায়েরী’কে নিয়ে একবার আসবেন৷ আপনার বুকে সেলাই করা অত্যন্ত জরুরি। হেলা করলে বেশ ভুগতে হবে পরে। নিচে নাম্বার লিখে দিয়েছি। আসার আগে একবার জানিয়ে দিলে ভালো। ‘

কাগজের সাথে কিছু ঔষধ এগিয়ে দিলো নীরা। তারা জানে এসবের প্রয়োজন হবে। সব কিছু গ্রহণ করে শেষ বারের মতো তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে সায়েরীকে কোলে তুলে নিলো সাফওয়ান। ধীর কদম বাড়ালো হোটেলের দিকে। দুজনের দিকে তাকিয়ে আকাশের বাহু জড়িয়ে কাধে মাথা রেখে নীরা বললো,
‘ হায়ে!! কি কিউট লাগছে দুজনকে! ‘
হুট করে ঝাটকা মেরে হাত ছাড়িয়ে নিলো আকাশ। নীরা চমকালো। আকাশ নিজের এবং নীরার হাত একত্র করে অনামিকা আঙুলে ইশারা করে বললো,

‘ এসব কি? চেনা যাচ্ছে? ‘
‘ আশ্চর্য! চিনবো না কেনো? এগুলো আমাদের এনগেজমেন্ট রিং। ‘
‘ বাহ! তাহলে তোমার মনে আছে যে আমি তোমার ফিয়ন্সে। আর আমার সামনে বসে, বয়সে বছর দুয়েকের ছোট একটা ছেলের দিকে এমম ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে ছিলে। আবার কি লিখেছো…ড্যাম হট!! ‘
‘ ইশ!! তুমি সব দেখে ফেলেছো? ‘
‘ নীরা!! ‘
আকাশে রাগ দেখে আচমকা হেসে উঠলো নীরা। দুইহাত আকাশের গলা জড়িয়ে ধরে খানিকটা ঘনিষ্ঠ হয়ে বললো,
‘ আহা!! তুমি এতো রাগ করছো কেনো জান! আরে এসব হচ্ছে নায়াগ্রা জলপ্রপাতের মতো। যা দূর থেকেই সুন্দর, আকর্ষণীয়। এদের এতো কাছ ঘেঁষার ভাগ্য সবার হয়না। আমার জন্য তুমিময় সমুদ্রটাই বেস্ট। যেখানে রাতদিন ডুবে থাকা যায়। ‘
রাগ গললো আকাশের। নীরার কোমরে হাত রেখে একটু কাছে টানতে যাচ্ছিলো এমন সময় পেছন থেকে মেহুল গলা খাঁকারি দিয়ে বললো,

‘ তোমাদের লাভ রোমান্স দয়া করে হোটেলে ফিরে চালু করিও।আপাতত গাড়িতে বসো।আমাদের দেরী হচ্ছে। ‘
নীরা গাড়িতে উঠতে উঠতে বললো,
‘ তুই সিঙ্গেল মাইয়ার আমাদের রোমান্স সহ্যই হয়না। ‘
‘ হ্যাঁ সেই। যেখানে সেখানে শুরু করে দিলে পৃথিবীর কোন সিঙ্গেল মানুষই সহ্য করবে না। ‘

নিজেদের রুমের বারান্দায় দাঁড়িয়ে সাফওয়ানের জন্য অপেক্ষা করছিলো মিহাদ,জিহান এবং রায়ান। অতঃপর গাড়ির আওয়াজ শুনে এবং আবছা আলোয় সাফওয়ানকে দেখে দ্রুত নিচে নেমে আসলো তারা। রাত বারোটা পেরিয়েছে প্রায়৷ নিঃস্তব্দ হোটেল। মিহাদ আগেই টাকা দিয়ে হোটেলের দুজন স্টাফকে বলে গেট খোলা রেখেছে। তাই সাফওয়ানের কোনো সমস্যা হলো না আসতে। নীতি এবং ইরা সহ এগিয়ে আসলো তারা পাঁচজন। কাছাকাছি এসে সাফওয়ান এবং সায়েরীর অবস্থা দেখে ভেতরটা কেঁপে উঠলো তাদের। একের পর এক প্রশ্নে অস্থির করে তুললো সাফওয়ানকে। ক্লান্ত শরীর বহু কষ্টে টেনে আনছিলো সাফওয়ান।

এক মুহূর্তের জন্যো ইচ্ছে করলো না দাঁড়ানোর। কিন্তু কয়েক সেকেন্ডের জন্য যখন সে লনে দাঁড়িয়ে মিহাদকে বলছিলো দ্রুত রুমে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে, ঠিক সেই মুহূর্তে চারতলা থেকে দুই জোড়া কৌতুহলী চোখ খুটিয়ে খুটিয়ে দেখছিলো তাকে এবং তার কোলে চোখ বুজে থাকা সায়েরী’কে। একজন ইপ্সিতা এবং অন্যজন তার সাথী জুঁই। সাফওয়ানকে মাঝরাতে একজন মেয়েকে কোলে নিয়ে হোটেলে ফিরতে দেখে হিংসায় জ্বলতে শুরু করলো ইপ্সিতার শরীর। সে ব্যস্ত হলো কোলে অবস্থানরত মেয়েটার মুখ দেখতে। এবং ভাগ্যক্রমে হোটেলের আশেপাশে জ্বলন্ত লাইটের আলোয় স্পষ্ট দেখা গেলো সায়েরীর মুখ। যা দেখে আরো বেশি রাগ বাড়লো তার। পাশে থাকা জুঁই চট করে ছবি তুলে নিলো তাদের দুজনের। যেখানে দুজনের মুখ স্পষ্ট ধরা যাচ্ছে। ইপ্সিতা ক্ষুব্ধ নয়নে তাকিয়ে রইলো সায়েরীর মুখটার। নিজের রাগ হিংসায় তার নজরেই আসলো না সায়েরী কিংরা সাফওয়ানের ক্ষত, রক্তাক্ত শরীর।

লিফটের সাহায্য যত দ্রুত সম্ভব এগোলো বুকিং করা রুমে। নরম গদির বিছানার স্বযত্নে শুইয়ে দিলো সায়েরীকে। ঠিক সেই মুহূর্তে হুড়মুড়িয়ে রুমে ঢুকলো নাজরাত,সাফ্রিন, তোহা,আয়ান,ফায়াজ এবং নুহাশ। এসেই সবার আগে তাদের নজরে আসলো প্রাণ প্রিয় বান্ধবীর অচেতন রক্তাক্ত দেহটা। যা দেখে বুক কেঁপে উঠলো সকলের। নাজরাত এবং তোহার চোখ ছলছল করে উঠলো মুহূর্তেই। আয়ান এবং ফায়াজ স্তব্ধ, বাকরুদ্ধ। কি হলো! কীভাবে হলো কিছুই মাথায় আসলো না তাদের। নাজরাত এগিয়ে সায়েরীর পাশে বসলো। ব্যান্ডেজ করা কপালে হাত ছুঁইয়ে গলা থেকে স্কার্ফ-টা একটুখানি সরাতেই বুক ছ্যাঁত করে উঠলো তার। সাথে সাথে ঢেকে দিলো আবারো। কিন্তু সেই এক সেকেন্ডে উপস্থিত সকলের চোখে পড়লো সায়েরীর উজ্জ্বল শ্যামবর্ণ গলায় টকটকে লাল আঁচড়ের দাগগুলি। বিষ্ময়ে কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে নাজরাত তাকালো সাফওয়ানের দিকে। টলমল চোখ গড়িয়ে পড়লো একফোঁটা অশ্রু কণা। ছোট বোনের দিকে ইশারা করে কাঁপা কাঁপা গলায় বলার চেষ্টা করলো,

‘ ভা..ভাইয়া!! এই..এইটা কিভাবে…. ‘
নাজরাতের কথা শেষ হওয়ার আগেই সায়েরীর সাথে কি ঘটেছিলো ভেবেই মুখ চেপে ফুঁপিয়ে উঠলো তোহা। সাফ্রিনের চোখেও টলমল জল। আয়ান এবং নুহাশের চোখ চাপা রাগ। ফায়াজ তখনো ব্যথিত ,অবিশ্বাস্য নয়নে তাকিয়ে সায়েরী দিকে। সবার মুখের দিকে তাকিয়ে সাফওয়ান মুখ খুলে যেই কিছু বলতে যাবে এমন সময় আচমকা ফায়াজ তেড়ে এসে কলার চেপে ধরলো তার। রাগে চেঁচিয়ে বলে উঠলো,
‘ আপনি থাকতে সায়ুর এই অবস্থা কীভাবে হলো সাফওয়ান ভাই! আপনার বন্ধু তো খুব বড় গলা করে বলেছিলো আপনি থাকতে সায়ুর কিছু হবে না। তাহলে ওর এই অবস্থা কেনো? নাকি একা মেয়ে পেয়ে আপনার পুরুষত্ব জেগে উঠেছি…… ‘

অনুভূতি সব তোমায় ঘিরে পর্ব ১৭

‘ ফায়াজ!!!!! ‘
সাফওয়ানের এক হুংকারে কেঁপে উঠলো উপস্থিত সকলে। লাল লাল চোখ নিয়ে সে ক্ষুব্ধ নয়নে তাকিয়ে ফায়াজের দিকে৷ রাগে চোয়াল শক্ত হয়ে উঠলো তার। শক্ত হাতে ফায়াজের হাত ছুড়ে মারলো নিজের কলার থেকে। ফায়াজ ভয় পেলেও দমে গেলো না। চোখে চোখেই দুজনের নিরব যুদ্ধ চলতে লাগলো।

অনুভূতি সব তোমায় ঘিরে পর্ব ১৯