অন্তস্থ হৃদয়ের তৃষ্ণা পর্ব ২৪
শ্রাবণী ইয়াসমিন
একটা বয়সে এসে সব মানুষই, হোক সে নারী বা পুরুষ তার বিপরীতে লি*ঙ্গের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করবেই। ভিক্টরও এই পথেই বা বাড়িয়েছিলো সবে। তার বাবা ছিলো একজন বিশাল বড় ব্যবসায়ী তবে এই ব্যবসার আড়ালে চলতো স্মাগলিং এর ব্যবসা।
এর জন্য তার বাবার সাথে প্রায়ই সেও নাইট ক্লাব গুলোতে যেত। কারণ যত গুপ্ত মিটিং সব তো সে ক্লাবেই হতো। এমনই একবার সে তার বাবার সাথে ক্লাবে গিয়েছিলো। তার আশেপাশে ঘুরছে সুন্দরী সব রমনীরা। ছোট ফিটিং পোশাক পরিহিত।
দেহের প্রতিটি ভাজ পোশাকের ওপর দিয়েই বোঝা যাচ্ছে। ঠোটে রংচটা গাঢ লাল রঙের লিপ্সটিক। তাদের যে নারীটি সার্ভিস দিচ্ছিলো সে নারীর পোশাক এর গলা ছিলো বড় যার ফলে তাদের সামনে বিভিন্ন মদের বোতল টেবিলে রাখার জন্য সামান্য ঝুকে আসতেই বুকের গোপনাঙ্গের ভাজ বেশখানিকটা স্পষ্ট হলো।
না চাইতেও ভিক্টরের মনে এক দৈহিক তৃষ্ণা দেখা দেয়। বার বার তার চোখ আটকে যাচ্ছিলো সে সুন্দরী রমনীর দেহের প্রতিটা ভাজের ওপর। আর লোভ জাগবে না-ই বা না কেন? তখন সে ২১ বছরের পরিপক্ব যুবক। তার মনে শারীরিক চাহিদা মেটানোর তৃষ্ণা আশাটা তো অস্বাভাবিক কিছু নয়।
তার মনের কমনা হয়ত তার বাবা বুঝতে পেরেছিলেন। তাইতো তিনি সেদিন নিজ থেকেই ছেলেকে ক্লাবের একটি প্রাইভেট রুমে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন সেই নারীর সঙ্গে। তবে নারীর বয়স যে খুব বেশি এমন না কিন্তু। বয়স আনুমানিক ১৯/২০ হবে। এরা ছিলো বিভিন্ন কলেজ এবং ভার্সিটির স্টুডেন্ট যারা টাকা ইনকামের লোভে এইসব অবৈধ পথ বেছে নেয়। দেহ বিক্রি করে টাকা তুলে।
জেভিয়ার এর সাথে ভিক্টরের বন্ধুত্ব টা বেশ পুরোনো ছিলো। জেভিয়ার ছোট থেকেই ছিলো ভিষণ চুপচাপ স্বভাবের। তার মুখে হাসিটা সচরাচর আসত না। তবে ছোট থেকেই তার একটি মেন্টাল ডিজঅর্ডার আছে যে। যেটা প্রথম দেখায় কেউ ধরতেই পারবে না। ভিক্টরও প্রথমে ধরতে পারেনি বিষয়টা। তবে একদিন সে জেনেছিলো।
ভিক্টরের নারী দেহের প্রতি লোভ দিনে দিনে বাড়তে লাগলো। এমনও দিন গিয়েছে তার একদিনে ৩টা মেয়ের সাথেও সে*ক্স করেছে। এক মেয়ের সাথে একবার মিলন করাই তার সেই মেয়ের সাথে শেষ মিলন। জেভিয়ার কেউ কম বুঝায়নি সে এইসবের জন্য। তার ধারণা অতিরিক্ত মানসিক চাপের সময় সে*ক্স করা উচিত। এতে নাকি মানসিক চাপ কমে যায়।
১৯শে এপ্রিল ২০১৬, জেভিয়ার রাশিয়ার মস্কো শহরে স্থায়ীভাবে থাকতে শুরু করেছিল। আগে সে সেন্ট-পিটার্সবার্গে ছিল।
সেই গভীর রাতে, ভিক্টর মদ্যপান করে ফিরছিল। তার বাড়ি জেভিয়ার বাড়ির পাশের দোতলা বাড়িটিতে। নেশার ভুলে, সে হঠাৎ জেভিয়ার বাড়ির দরজায় ঢুকে পড়ে। দরজায় নক করতেই ১২ বছরের ছোট্ট সোফি দরজা খুলে দিল।
প্রথমে ভিক্টর কিছুটা অবাক হলো, কারণ তার ধারণা সে তার বাড়িতে এসেছে, তবে তার বাড়িতে সোফি এলো কি করে? এছাড়াও যেহেতু সে প্রায়ই জেভিয়ারের সঙ্গে এই বাড়িতে আসত, সোফিও কিছু মনে করল না।
ভিক্টর ঢুলতে ঢুলতে কোথাও পড়ে গেল। এরপর তার মনে আর কিছুই নেই।
সকালে ভিক্টরের ঘুম ভাঙল দরজা জোরে ধাক্কানোর শব্দে। সে তড়াক করে চোখ মেলে তাকাল পাশে দরজার দিকে তাকাতেই দরজার সাথে ফ্লোরে ফুটে উঠল এক অবিশ্বাস্য, ভয়ঙ্কর দৃশ্য।
ফ্লোরে পড়ে আছে সোফির উ*ল*ঙ্গ দেহ। ঠোঁটের অংশ কেটে গেছে, এক চোখের পাতা ছিড়ে র*ক্ত ঝরছে। পুরো শরীর ক্ষ’তবি’ক্ষ’ত। পা দুটো দুদিকে ছড়িয়ে, মাঝে র’ক্ত শুকিয়ে আছে। সবচেয়ে নি’র্মম দৃশ্য তার কাছে সেইটা ছিলো যখন সে দেখলো সোফির স্ত’নের নি’প’ল কাটা।
আচমকাই দরজা ভেঙে রুমে প্রবেশ করল জেভিয়ার, সাথে এরিক্স এবং জন ড্রেভেন।
নিজের বোনের এমন ভয়ঙ্কর অবস্থায় জেভিয়ার যেন নিস্তব্ধ হয়ে গেল। চোখের সামনে যা দেখল, তার ধাক্কা, আতঙ্ক এবং ক্রোধ সব মিলিয়ে তাকে স্থির করে দিল। মনে হচ্ছিল, এখনো সে ভিক্টরকে চোখে দেখেনি। আশেপাশের কোনো শব্দই তার কানে পৌঁছাচ্ছিল না। সে হাটু গেড়ে বসে আছে, শীতল ঘরের মেঝেতে, চোখ যেন স্থির হয়ে গেছে।
তার বোনের উলঙ্গ দেহের দিকে তাকিয়ে জেভিয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার শার্ট খুলে, গায়ে পেচিয়ে ধরল এক অচেতন, স্বাভাবিক মানবিক প্রতিক্রিয়া, কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে তার হাতে কাঁপন ধরল।
হঠাৎ এরিক্স হুট করে এগিয়ে এসে ভিক্টর এর গলার কাছে চেপে ধরে চিৎকার করে বলল,
“এই কু’ত্তা’র বাচ্চা! তুই একটা বাচ্চা মেয়ের সঙ্গে এ সব কী করে করলি? তুই তো জেভিয়ার এর ভাইয়ের মতোই ছিলিস। কিভাবে পারলি নিজের বোনের মতো মেয়ের সঙ্গে এই নৃ’শংস’তা?”
এরিক্সের শব্দ যেন রুমে প্রতিধ্বনিত হলো।
”তোর কি বুকে একটুও মানবতা ছিল না?”
জেভিয়ার স্থির, কিন্তু তার চোখে ধীরে ধীরে রক্তরাঙা ক্রোধ ফুটে উঠতে লাগল। ঘরটি এক অদ্ভুত সঙ্কুচিত নীরবতায় ডুবে গেল।
ভিক্টর যেন কথা বলার ভাষাই খুঁজে পাচ্ছিল না। তার মাথা ঘুরছে, চোখে অন্ধকার, মনে হচ্ছে সবকিছু অচেনা। সে ভাবছিল, এইসব কখন করল সে? কাল রাতের কথা তার মনে আসছে না। ড্রাংক অবস্থায় কীভাবে এই বাড়িতে এলো, তা তার কোনো সঠিক ধারণা নেই।
হঠাৎ ভিক্টর বলে উঠলো,
“আরেহ… কি যা তা বলছিস! আমি এইসব কেন করব? আমি… আমি এইসব করিনি!”
এরিক্স তার দিকে তীব্র চোখে তাকাল,
“তাহলে তোর গায়ের পোশাক কোথায়? তোর বুকে, হাতে এত র’ক্ত কেন লেগে আছে বল! আর… তুই আর সোফি ছাড়া এই রুমে কেউ ছিল না। দরজাও ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। তাহলে এই সব কে করেছে, তুই ছাড়া বল?”
জেভিয়ার মাথা উঁচু করে ভিক্টরের দিকে তাকাল। ভিক্টর তার চোখের দিকে তাকাল সেই চাহনিতে বিস্ময়, আর হাহাকার মিলেমিশে রক্তিম। ঢোক গিলে, নিজের দিকে তাকিয়ে সে হঠাৎ মাথা চক্কর দিয়ে উঠল। কি করছে সে? কীভাবে এমন অ’মা’নুষিক কাজ করতে পারল? একটা বাচ্চা মেয়েকে এত নৃ’শংস’ভাবে ধ’র্ষ’ণ করল? আবার তাকে এত বাজেভাবে আঘাতও করল?
ভিক্টর যেন নিজের ওপর থেকে ভরসা হারাচ্ছে। কাল রাতের ঘটনা, যা তার সমস্ত প্রাণে ভয় তৈরি করেছে, তা তার স্মৃতিতে নেই। সে স্থির হয়ে রইল, চোখ বড় করে, আর অজান্তে নিজের হাতে ঝুলছে।
জেভিয়ার চোখে পানি টলমল করল। সে ধীরে ধীরে সোফির লাশ বুকে জড়িয়ে ধরল, শক্ত করে আঁকড়ে ধরল। ভিক্টরের দিকে ভাঙাচোরা কন্ঠে বলে উঠলো,
“কেন করলি ভিক্টর, এমনটা? আমার ছোট ফুলের মত বোনটার সাথেই কেন করলি?”
এই কথার সঙ্গে সঙ্গে জেভিয়ার চোখ বেয়ে দুই ফোটা পানি ঝরে পড়ল।
আচমকাই দরজায় কারও কড়াঘাত পড়ে। ভিক্টর চোখ মেলে তাকায় তার চোখ রক্তিম বর্ণ ধারণ করেছে। সে আর ভাবতে পারলো না। সেদিনের কথা ভাবলেই আজও তার চোখে অশ্রু জমে আসে। সে নিজেকে দেখে ভাবল, কতটা ন’রপি’শা’চ হয়ে উঠেছিলো সে। এই সব ভয়ঙ্কর কাজের জন্য নিজেকেই শাস্তি দিতে ইচ্ছে হয়।
ভিক্টর চোখ বন্ধ করে, বড় করে দুবার নিশ্বাস ফেলে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করল। এরপর দরজার বাহিরে দাড়িয়ে থাকা লোককে ভেতরে আসতে বলল।
প্রায় পনেরো দিন হয়ে গেল, অ্যাশলি অ্যালেক্সের বাড়িতে, আলাদা এক রুমে বন্দী। পনেরো দিন, কিন্তু মনে হচ্ছিল যেন পনেরো বছর হয়ে গেছে। সময় যেন এখানে থেমে গেছে, প্রতিটা মিনিট দাপিয়ে চলছে। রুমের চার দেওয়ালে নিস্তব্ধতা। বাড়ির বাইরে বেরোলেই তার জন্য বিপদ এরিক্সের পাগলা লোকেরা এখনও তার খোঁজে আছে। তাই এখানে থাকা বাধ্যতামূলক।
কিন্তু এইখানে থাকতে যে তার অসুবিধা হয় এমন না। রোজ ঠিক সময়ে তার দরজার কাছে খাবার রেখে আসে অ্যালেক্স। কোনও ঝামেলা নেই, সব স্বাভাবিক, শান্ত। তবে যেদিন থেকে এখানে এসেছে, সে কখনোই অ্যালেক্সের সাথে কথা বলেনি। সে কথাও বলার সাহস পায়নি।
অ্যাশলি জানে, অ্যালেক্স অন্যদের মতো নয়। সেই অদ্ভুত কিছু জিনিস আছে তার মধ্যে যা অ্যালেক্সকে সমস্ত পুরুষদের থেকে আলাদা করে তুলেছে। ঠিক কী তা বুঝতে পারে না সে।
অ্যাশলি নিজেও বুঝতে পারছে না, যা অনুভব করছে তা কি তার কিশোরী মনের অচেনা আবেগ মাত্র, নাকি অন্য কোনো গভীর, অদ্ভুত অনুভূতি। তবে অ্যালেক্সের প্রতি তার শরীরের প্রতিক্রিয়া অস্বীকার করার মতো নয়।
কেন যেন অ্যালেক্স তার সামনে এলে, তার ছোট্ট দেহ অচেতনভাবে কম্পিত হতে থাকে। প্রতিটি স্পর্শহীন মুহূর্তে হৃদয় তীব্রভাবে ধড়াধড় করে, মনে হয় নিজের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে। আর যখন অ্যালেক্স ভারী, গভীর কণ্ঠে কোনো কথা বলে, তখন যেন অ্যাশলির হৃদপিণ্ড নিজেই খুলে বাইরে এসে তার হাতে চলে যেতে চায়।
অ্যাশলি সুইমিং পুলের ধারে বসে পা ভিজিয়ে রেখেছে। তার মন এখনো সেই বিভ্রান্ত অনুভূতি আর অ্যালেক্সের রহস্যময় উপস্থিতি নিয়ে ভাবতে ব্যস্ত। হঠাৎ, সে অনুভব করল কেউ একাগ্র দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।
চোখ ঘোরা মাত্রই দেখল, অ্যালেক্স বসে আছে পুলের পাশের ছোট্ট একটি টেবিলে। টেবিলের চেয়ারগুলো কিছুটা খাটো হওয়ায় তার লম্বা পা মাটিতে ছড়িয়ে রয়েছে, আর সামান্য ঝুঁকে বসার ভঙ্গিতে তার দেহ যেন আরও গম্ভীর দেখাচ্ছে।
তার সামনে টেবিলে রাখা একটি অ্যালকোহলের বোতল এবং কাচের গ্লাস, যার মধ্যে অ্যালকোহল রয়েছে। অ্যালেক্স ধীরে ধীরে গ্লাস থেকে অ্যালকোহল চুমুক দিচ্ছে, আর তার নিগাঢ় দৃষ্টি অক্ষরে অক্ষরে অ্যাশলির দিকে।
অ্যাশলির হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। চোখ সরানোর ইচ্ছে হয়, কিন্তু সেই দৃষ্টিকে কোনোভাবেই অস্বীকার করা যায় না। সে বুঝতে পারল, শুধু চোখে চোখ মিললেই যেন তার শরীর অজান্তেই তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে।
অ্যাশলি জানে না কখন অ্যালেক্স এসে বসেছে। পুল থেকে পা তুলে, মাথা নিচু করে সে চুপচাপ সেইখান থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করতেই…ঠিক সেই সময়, অ্যালেক্সের ভারী, গভীর কণ্ঠ পেছন থেকে ভেসে এলো,
“এই মেয়ে, দাঁড়াও।”
অ্যাশলির পা যেন রোবটের মতো থেমে গেল। সে থমকে দাঁড়ালো। অ্যালেক্স ধীরে ধীরে উঠে অ্যাশলির একদম কাছে চলে এলো। অ্যাশলি একটু পিছিয়ে গেল। অ্যালেক্সও তার সাথে তাল মিলিয়ে ধীরে ধীরে এগোল।
“তোমার নাম যেন কি?”, অ্যালেক্স গভীরভাবে প্রশ্ন করল। অ্যাশলি পেছাতে পেছাতে, কণ্ঠে কম্পন ধরে বলল, “অ…অ্যাশলি।”
অ্যালেক্স কিছুক্ষণ চুপ থেকে শুধু তার দিকে তাকাল। তারপর ধীরে ধীরে বলল,
“তোমার এই নামটা আমার ঠিক পছন্দ হয়নি। তোমাকে আমি অন্য নামে ডাকবো, ওকে?”
অ্যাশলি পেছাতে পেছাতে দেয়ালের কাছে ঠেকে গেল। আর এক মুহূর্তে অ্যালেক্স তার একদম সামনে চলে এলো। তার গরম নিশ্বাস চোখের ওপর এসে পড়ল।
“কি নামে ডাকবেন?”, অ্যাশলি কাপাকাপা কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল।
অ্যালেক্স ধীরে ধীরে এগিয়ে এল। ডান হাত মাথার পাশে, বাম হাত কোমরের পাশে দেয়ালে রেখে অ্যাশলিকে আবদ্ধ করল। কানের কাছে ঝুঁকে হিসহিস করে বলল, “চেরি।”
অ্যাশলির হৃদপিণ্ড থমকে গেল। চোখ বন্ধ হয়ে যেতে চাইল, শরীর অচেতনভাবে কম্পিত হলো। সেই এক শব্দ “চেরি” মনে হঠাৎ করে সবকিছু নেমে এলো।
অ্যালেক্স অ্যাশলির থেকে কিছুটা দূরে দাঁড়াল। অ্যাশলির বুক অচেনা উত্তেজনায় দ্রুত ধরফর করছে। অ্যালেক্স এখন অবধি একদিনও এত কাছে আসেনি। অ্যাশলির কিশোরী মনে সব অনুভূতি একসাথে ঝড়ের মতো উঠছে।
সে হঠাৎ বুঝল, এই জায়গা থেকে বেরিয়ে যেতে হবে। নয়ত, তার হার্টবিট আর ফুসফুস ঠিক মতো কাজ করবে না। অ্যাশলি দ্রুত উলটো ঘুরে বের হওয়ার চেষ্টা করল।
তখনই আচমকাই অ্যালেক্স তার হাত ধরে বলল—
“কোথায় যাচ্ছো? তোমাকে আমি যেতে বলেছি?”
অ্যাশলির পা থমকে গেল। কপালে ছোট ছোট ঘামের ফোটা দেখা যাচ্ছে। কাচ ঘেরা এই সম্পূর্ণ উন্মুক্ত দালানে হঠাৎ তার গরম লাগতে শুরু করল। প্রতিটি নিঃশ্বাস ভারী, প্রতিটি হৃদস্পন্দন দ্রুত। সে বুঝতে পারছিল না, কি করবে, কোথায় তাকাবে, কীভাবে নিজের দম নিয়ন্ত্রণ করবে।
অ্যালেক্স ধীরে ধীরে অ্যাশলির হাত ধরে তাকে নিজের কাছে টেনে দাঁড় করালো। তারপর ধীরে ধীরে তার চুল কানের পিছে গুঁজে দিতে দিতে বলল,
“বয়স কত তোমার?”
অ্যাশলি আস্তে আস্তে বলল,
“১৭… শেষের দিকে ১৮ হবে সামনের মাসে।”
অ্যালেক্স বেশ ভালো করে অ্যাশলিকে পর্যবেক্ষণ করল। তার মুখটা হালকা কোকড়ানো, চুলগুলো একটু ফুলে থাকার কারণে মুখটাকে আরও কোমল ও ছোট্ট দেখাচ্ছে। আর নীল চোখের মণিটা জ্বলজ্বল করছে।
অ্যালেেক্স ধীরে ধীরে বলল,
“জিজ্ঞেস করলে না, তোমার নাম চেরি কেন দিলাম?”
অ্যাশলি চোখে পলক ফেলে, লজ্জায় কপাল ঢেকে বলল, “কেন?”
অ্যালেক্স হেসে উঠল, অ্যাশলির লজ্জা মাখা চেহারা দেখে।
অ্যালেক্স ধীরে ধীরে অ্যাশলিকে নিয়ে পুলের কাছে এগোতে শুরু করল। হাঁটার মধ্যেই বলল,
“তোমার এই লাল রঙের চুল, গালে লালচে আভা, আর তোমার লালচে ঠোটের জন্য।”
অ্যাশলি কিছু বলতে গেলে তার আগেই অনুভব করল,সে কোনো উঁচু জায়গা থেকে নিচে পড়ছে। সে অ্যালেক্সের শার্ট খামচে ধরে ফেলল। অ্যালেক্সও তার ওপরেই পড়ল।
ঝপাৎ করে পানিতে পড়তেই তাদের দুজনেরই পুরো শরীর ভিজে গেল।
অ্যাশলি এখনো অ্যালেক্সের শার্টের দুই সাইডের কলার ধরে রেখেছে। জোরে জোরে নিশ্বাস নিচ্ছে, যার ফলে তার বুকও দ্রুত ওঠানামা করছে।
অ্যাশলির গায়ের সাদা রঙের টপস পানিতে ভিজতেই সেটি তার গায়ের সাথে এমনভাবে মিশে গেল যে প্রতিটি ভাঁজ স্পষ্ট হয়ে উঠল। ভেজা কাপড়ের আড়ালে লুকানোর মতো কিছুই রইল না।
অ্যালেক্স কিছুক্ষণ নিরব দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল তার দিকে। দৃষ্টি এত গভীর, এত নিগাঢ় যে অ্যাশলি বুকের ভেতরটা ধপধপ করতে শুরু করল।
হঠাৎই অ্যালেক্স নিচু গলায় বলল,
“হার্টব্রেক হচ্ছে আমার… এই ট্রান্সপারেন্ট ড্রেস পড়েছো কেনো?”
অ্যাশলি এক মুহূর্তের জন্য অচেনা ভয়ে কেঁপে উঠল। তারপর নিজের হাতটা সামান্য সরিয়ে নিতেই ভিজে টপসের ভেতর দিয়ে নিজের বুকের তীব্র ওঠানামা টের পেল। তার নিঃশ্বাস এত দ্রুত উঠানামা করছে যে নিজেকেই অস্বস্তি লাগছে।
হাতে তখনো অ্যালেক্সের শার্টের কলার শক্ত করে ধরা। আর সেই কলারের ঠিক নিচে অ্যালেক্সের বুক যেখানে দ্রুত ছুটে চলেছে তার হার্টবিট। প্রতিটি স্পন্দন অ্যাশলির হাতের তালুতেও টের পাওয়া যাচ্ছে। যেন অ্যালেক্সের শরীরের প্রতিক্রিয়াটা তার শরীরেও ঢেউ তুলছে।
ঠোঁট শুকিয়ে গেছে। ভেজা চুল চোখের উপর এসে পড়েছে। কপালে আর গালে অজান্তেই লালচে আভা ছড়িয়ে পড়েছে।
সে কিছুটা গুটিয়ে গিয়ে কাপাকাপা কণ্ঠে বলল,
“ম…মানে? এটা ট্রান্সপারেন্ট ড্রেস কোথায়? আর আপনি এমন করছেন কেন, শ্বাসকষ্ট হচ্ছে আপনার?”
অ্যালেক্সের চোখ যেন হালকা ঘোরে ভরা, গভীর ও কাঁপা স্বরে সে বলল,
“হ্যাঁ… প্রচুর শ্বাসকষ্ট হচ্ছে আমার! তোমার থেকে একটু শ্বাস দেবে আমায়?”
অ্যাশলি হতভম্ব হয়ে, পুরোপুরি বিভ্রান্ত চোখে তাকাল। তার ঠোঁট শুকিয়ে যাচ্ছে, বুকের ভেতর হৃৎপিণ্ড ধুকপুক করছে। কেঁপে কেঁপে জিজ্ঞেস করল,
“ক…কিভাবে?”
এক মুহূর্ত দেরি না করে অ্যালেক্স পানির নিচে থেকেই দুহাতে অ্যাশলির ভেজা কোমর শক্ত করে চেপে ধরল। হঠাৎই তাকে নিজের দিকে টেনে নিল। তাদের মাঝের দূরত্ব মুহূর্তেই মিলিয়ে গেল।
অ্যালেক্স ফিসফিস স্বরে, নিঃশ্বাস গরম হয়ে তার কানের পাশে এসে লাগল,
“আমি দেখিয়ে দিচ্ছি… তুমি শুধু আমার সাথে কো-অপারেট করো। ওকে?”
অ্যাশলি পুরো শরীর কাঁপতে কাঁপতে বলদের মত মাথা সামান্য কাত করল। চোখ দুটো নিস্পন্দ হয়ে গেল।
এরপরই অ্যালেক্স তার ঠোঁট চেপে ধরল অ্যাশলির ঠোঁটে। আচমকা বিদ্যুতের মত কেঁপে উঠল অ্যাশলির সারা শরীর। চোখ শক্ত করে বন্ধ করে নিল সে। দু’হাতে অ্যালেক্সের ভেজা শার্ট শক্ত করে খামচে ধরল, যেন সেই ভেজা কাপড়ই তার একমাত্র ভরসা।
পানির ভেতর তাদের নিঃশ্বাস, দেহের কম্পন আর চারপাশের নিস্তব্ধতা একাকার হয়ে গেল শুধু তাদের হৃদস্পন্দনের দ্রুত ছন্দটুকুই টের পাওয়া যাচ্ছিল।
অ্যালেক্স হঠাৎই দু’হাত দিয়ে অ্যাশলির মাথার দুই পাশ শক্ত করে ধরে ফেলল। তার ঠোঁটের উপর নিজের ঠোঁট আরও গভীরভাবে চেপে ধরে সুধা লুট করতে লাগল। অ্যাশলির শরীর ক্রমে আসাড় হয়ে আসছে, যেন শক্তি হারিয়ে ফেলছে। ভেতরে ভেতরে বুকের ভেতরটা কাঁপছে, হাতগুলো কাঁপতে কাঁপতে আবারও অ্যালেক্সের শার্ট আঁকড়ে ধরল।
কিন্তু আচমকাই যেন ভেতর থেকে এক ঝাঁকুনি এলো। অ্যাশলি হঠাৎই নিজের সর্বশক্তি দিয়ে অ্যালেক্সকে ধাক্কা মেরে দূরে সরিয়ে দিল।
অ্যালেক্স থমকে গেল। তার চোখে এক অচেনা নিস্তব্ধতা ছড়িয়ে পড়ল। যেন বিশ্বাসই করতে পারছে না, মুহূর্ত আগে যা ঘটছিল তার প্রবল দখলদারির মাঝেই অ্যাশলি তাকে প্রত্যাখ্যান করল।
অ্যাশলির চোখ টলমল করছে, শ্বাস দ্রুত, বুক ওঠানামা করছে অস্থিরভাবে। কিছু না বলে শুধু একবার অ্যালেক্সের দিকে তাকাল, আর পরের মুহূর্তেই পানি থেকে উঠে ভেতরের দিকে দৌড়ে চলে গেল।
অ্যালেক্স স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। তার চোখ এখনো অ্যাশলির চলে যাওয়া দিকেই নিবদ্ধ। কয়েক মুহূর্ত পর ভেতর থেকে আগুনের মত রাগ ফুঁসে উঠল। হঠাৎই গর্জে উঠে নিজের ওপর ক্ষোভে দেয়ালে এক প্রচণ্ড ঘুষি মারল। তবুও সে নড়ল না শুধু ভারী নিঃশ্বাসে বুকে জমে থাকা দহনটা চাপা দিল।
ইলোরার সামনেই বসে আছে জেভিয়ার।
ভয়ে ইলোরার সারা শরীর অনবরত কাঁপছে। নিঃশ্বাস টান টান হয়ে যাচ্ছে, বুকটা যেন ছিঁড়ে বেরিয়ে আসতে চাইছে। কিন্তু মুখ খুলে কিছু বলার সামর্থ্য নেই তার। কীভাবে বলবে? তার ঠোঁট শক্ত লোহার শিকল দিয়ে বাঁধা।
চাপা ব্যথায় ঠোঁট ফেটে গিয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে চিবুক বেয়ে।
আজ জেভিয়ার কোনো প্রশ্ন করছে না, কোনো হুমকি দিচ্ছে না, এমনকি একটাও কথা বলছে না। তবুও তার এই নিস্তব্ধতাই ইলোরার কাছে হাজার গুণ বেশি ভয়ংকর লাগছে।
ঘর ভরা নীরবতা, শিকলের শব্দ আর ইলোরার ভয়ের কাঁপুনি সবকিছু মিলেমিশে এক ভৌতিক আবহ তৈরি করেছে।
ইলোরার শ্বাস এখন একেবারে কাঁপা কাঁপা। মুখের রক্ত শুকিয়ে শক্ত হয়ে আছে, ঠোঁট ফেটে গেছে। শিকল বাঁধা মুখের ভেতর থেকে যন্ত্রণা গিলে নিতে নিতে সে কেবল ভয়ে কাঁপছে।
হঠাৎই জেভিয়ার চেয়ার থেকে ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল। তার মুখে টেনে নিল এক ভয়ংকর চওড়া হাসি। মাথা কাত করে নরম অথচ হাড় শীতল করা কণ্ঠে বলল,
“আই হ্যাভ আ বিগ সারপ্রাইজ ফর ইউ বেইব…”
তারপর ভারী বুটের শব্দ করতে করতে এগিয়ে গেল সামনে রাখা একটা বড় লোহার পাত্রের দিকে। পাত্রের ভেতর থেকে অদ্ভুত তীব্র ধোঁয়া উঠছে, টকটকে কেমিকেলের গন্ধ নাকে এসে লাগছে। ইলোরার বুক যেন ভেঙে পড়ল ভয়ে।
জেভিয়ার ধপ করে বসে তার পায়ের বাঁধন খুলে দিল, কিন্তু হাত আর মুখের শিকল আগের মতোই আটকে রইল। এরপর চুলের মুঠি ধরে টেনে তাকে টলতে টলতে দাঁড় করাল পাত্রের সামনে।
একটা তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে ইলোরার চোখের ভেতর তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল,
“এবার তোমার জন্য অপশন আছে, প্রিন্সেস… মুখটা আমি খুলে দিচ্ছি। এখন তুমি ঠিক করো।
যদি স্বেচ্ছায় এই পাত্রে নেমে একটা ডুব দিয়ে চলে আসো তোমার আগের ভুল আমি মাফ করে দেবো।
কিন্তু যদি আমার কষ্ট করে ফেলতে হয়
তাহলে আজীবন তোমার শরীরের প্রতিটা অঙ্গ মনে রাখবে আমি কেমন ‘শাস্তি’ দিতে পারি।”
জেভিয়ার মাথা কাত করে আবার সেই শীতল হাসিটা ছড়াল।
” নাও বেইব টেল মি। তুমি কি করবে?”
ইলোরা কিছুক্ষণ চুপ থেকে বসে রইল। শরীর কাঁপছে, চোখে জল জমে গেছে। ধীরে ধীরে সে জেভিয়ার পা ধরে বসে পড়ল। কাঁপতে কাঁপতে কাদতে কাদতে বলল,
“আমাকে মাফ করে দাও, জেভিয়ার আর এমন ভুল হবে না আমার। আমি… আমি তোমাদের জীবন থেকে চলে যাবো।”
জেভিয়ার ঠোঁটের এক চিলতে শীতল হাসি ফেটে উঠল। সে ধীরে ধীরে বলল,
“ঠিক আছে… এখন আমি ১ থেকে ৫ পর্যন্ত কাউন্ট করব। “ইউ হ্যাভ ফাইভ সেকেন্ডস টু জাম্প ইন।”
ইলোরা কাঁপতে কাঁপতে, চোখ ভিজিয়ে কেবল তাকিয়ে রইল। জেভিয়ার ভয়ংকর গলায় ধীরে ধীরে শুরু করল,
“১… ২… ৩…”
চতুর্থ সেকেন্ডে, ইলোরা একমাত্র সাহস জোগাড় করে উঠে দাঁড়াল।
জেভিয়ার কণ্ঠে শেষ সেকেন্ড,
“৫…”
সাথে সাথেই ইলোরা সেই অজানা, ভয়ঙ্কর পাত্রে ঝাপ দিয়ে পড়ল।
কিন্তু যদি সে জানতো—তার সামনে যা ছিল, সেই ভয়ঙ্কর বাস্তবতা, সেই মুহূর্তে হয়তো কোনোদিনই সে সাহস করতো না।
ইলোরা পাত্রে ঝাপ দেওয়ার সাথে সাথেই তার শরীরে এক অদ্ভুত, তীব্র পোড়া অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ল। প্রথম স্পর্শেই যেন চামড়ার ভেতরের প্রতিটি কোষে আগুন জ্বলে উঠল।
হাইড্রোফ্লোরিক এসিডে পড়ার কারণে তার সাদা কাপড় ভিজে, ত্বকের সঙ্গে মিশে যায়। ত্বকের উপরের অংশ দ্রুত গলে যেতে শুরু করে, গায়ের রং বদলে যায়, ক্ষত যেন জীবন্ত। প্রতিটি স্পর্শের সঙ্গে সঙ্গে তীব্র যন্ত্রণা ছড়িয়ে পড়ে।
শ্বাস নিতে চেষ্টা করল, কিন্তু মুখ ও গলার ভেতরের তিস্যু পুড়ে গেছে। তার ঠোঁট ফেটে যায়, মুখ বিকৃত হয়ে আসে। চোখে জল আসে, কিন্তু সেই চোখও ধোঁয়াটে এসিডের ধোঁয়া চোখে লেগে জ্বলছে।
দেহের নিচের অংশেও এসিড পৌঁছাতে থাকে। পেশি ও চামড়া গলে যাওয়া শুরু করে, হাত-পা অস্বাভাবিকভাবে কাঁপতে থাকে। হাড়গুলোতে গভীর ব্যথা ছড়িয়ে যায়।
প্রতিটি মুহূর্তেই সে অনুভব করে, মরণ হয়নি, কিন্তু জীবিত থাকা মানেই এক অবর্ণনীয় যন্ত্রণার খেলা।
বিছানায় বেঘোরে ঘুমিয়ে আছে আনায়া। গতরাতে সে ঘুমাতে পারেনি। পেটের তীব্র ব্যথা তাকে বারবার জাগিয়ে তুলেছে, এবং সেই সময় জেভিয়ার এর কাছে নিজের অক্ষমতা তার কাছে এক অসহনীয় ভার হয়ে দাঁড়িয়েছে। সে চাইতেও কিছুই করতে পারছিল না সাহায্য করার ক্ষমতা তার নেই। এই অক্ষমতায় সে নিজেকে ছোট, দুর্বল, নিরাশ অনুভব করেছে।
যা কিছু করতে পারত, সবই করেছে। গভীর রাতেও হিমশীতল ঘরের নিরবতা ভেঙে ডাক্তারকে ফোন করেছিল পেটে ব্যথা কমানোর ওষুধ জানার জন্য। ডাক্তার যখন বলল, “পিরিয়ডের সময় এটা স্বাভাবিক, সবারই হয় কম-বেশি,” সেই শব্দগুলো শোনার পরও তার মনকে শান্ত করতে পারল না।
সারারাতের তীব্র মানসিক যুদ্ধ, ঘুমহীনতা, ব্যথা সব মিলিয়ে অবশেষে ভোরে ঘুম এসেছে। কিন্তু জেভিয়ার? সে আজও ঘুমায়নি। সে সকালে উঠে প্রথমেই চলে গেছে ইলোরার ব্যবস্থা করার জন্য। অনিশ্চয়তার, ভয়ের, এবং নিয়ন্ত্রণের মাঝে সে নিজের দায়িত্ব পালন করছে।
এখন তাদের জীবনে আর কোনো থার্ড পার্সন নেই। এই একমাত্র বাস্তবতা, এই নিঃসঙ্গতা এটি জেভিয়ার কে দেয় অদ্ভুত এক শান্তি।
জেভিয়ার ধীরে ধীরে কাবার্ডের ভেতরের ছোট ড্রয়ার খুলল। তাতেই চোখে পড়ল একটি ছোট ডায়েরি, যার ওপরে ছিল এক জোড়া লাভ বার্ডের থ্রি-@ডি ছবি। ছবিটা দেখেই তার মুখে একটি মুচকি হাসি ফুটে উঠল।
সে ডায়েরিটি হাতে নিয়ে আনায়ার পাশে গিয়ে কাত হয়ে বসল। আনায়ার নিষ্পাপ, থাকা চেহারার দিকে তাকিয়ে রইল। জেভিয়ার এর চোখে এক অদ্ভুত আবেগ ও কল্পনার মিশ্রণ এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে সে ডায়েরিতে কলম চালাতে শুরু করল।
অন্তস্থ হৃদয়ের তৃষ্ণা পর্ব ২৩
“আমি যে কালবৈশাখীর ঝড়ের মত,
যা মানুষের জীবনকে তছনছ করে দেয়।
আর তুমি শীতের সকালের মিষ্টি রোদের মত,
যা মানুষকে পরম উষ্ণতায় মুড়িয়ে রাখে।
আমি অন্ধকার পথের শূন্যতা নিয়ে চলা এক পথিক।
আর তুমি আলোর জগতের পূর্ণতা নিয়ে ঘোরা এক পরি।
আমাদের গল্পে কি কখনো সুখকর সমাপ্তি হবে?”
