অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ২০
Maha Aarat
কেটেছে সপ্তাহখানেক।এই একটা সপ্তাহ আরহামকে ব্যস্ত থাকতে হয়েছে।হোক সেটা বিজনেস বা নিজের ডিউটি।পাশাপাশি দূটোতেই সময় দিতে হয়েছে।ফ্যাক্টরির মজুদকৃত সব প্রোডাক্টগুলো আগুনে পোড়ার পর ধৈর্য্যের পরিক্ষা হিসেবে সেটার পরপরই এক ট্রন প্রোডাক্ট কোম্পানি থেকে ব্যাক হয়ে এসেছে।অথচ সেই প্রোডাক্ট থেকে নেওয়া অগ্রীম কর ব্যয় করা হয়ে গেছে অন্যখাতে।মার্কেটিং লস সাথে ডিল ক্যানসেল হওয়ায় বেশ দফারফা অবস্থা বিজনেসের।গোটা এক সপ্তাহ ডকুমেন্টস নিয়ে রিসার্চ করে সেগুলোর সোল্যুশন করতে অবশেষে মোটামুটি সফল হয়েছেন।রাত অবধি উনাকে মিলাতে হয়েছে এমাউন্টের রেকর্ড,প্রোডাক্ট অর্ডার বা ইলিমেন্টসের হিসাব।রাতে দেরি করে বাড়ি ফেরা ক্লান্ত দেহ শুধু বিশ্রাম চাইতো।তবুও উনাকে ল্যাপটপ নিয়ে বসতে হতো।হাফসা বা মাইমুনার সাথে দীর্ঘ কথোপকথনের সুযোগ হয়নি।
সব ঝামেলা শেষ করে একটু নিস্তার পেলেও কাজের চাপ অনেক।সেই সব মাথা থেকে ঝেড়ে আপাতত একদিন ছুটি নেওয়া হলো।আজকে শুক্রবার।জুমআ’র নামাজ শেষে স্পেশিয়ালি মাহের আর কাকামণির ইনভাইট।মাহের শহরে বাসা দেখেছেন।সামনের সপ্তাহে শিফটও হবেন।আরহামের বাসা থেকে সেটা মাএ মিনিট চল্লিশের দূরত্বে।মাহের এদিক দিয়ে নিশ্চিন্ত বোনটা উনার খুব বেশী দূরে তো নয়।
ড্রয়িং রুম টা আইরা গোছাচ্ছিলো।সবকিছু ঠিকটাক করে সবে ব্রাশ টা হাতে নিচ্ছিলো ফ্লোর ক্লিন করার জন্য।হাফসা আম্মুর সাথে কিচেনে।সার্ভেন্টদের যতক্ষনে সে বলবে,ততক্ষণে সে নিজেই করে ফেলবে।কলিং বেলের আওয়াজ হতেই আইরা এগোয়।এখন ভাইয়ার আসার কথা।
দরজা খুলতেই সে চমকে যায়।ততক্ষণে মুখে হাত চেপে পিছু ফিরে।তাঁর হাতে ভারী ব্রাশ।পাশেই বালতি।দৌড়াতে গেলেই আরহাম পেছন থেকে বললেন, ‘আস্তে পড়ে যাবে…
স্লিপ কেটে পড়ে যাওয়ার আগেই আরহামের উছিলায় সে বেঁচে গেলো।বালতির পানি ছড়িয়ে পড়লো চারদিকে।মাহের ভেতরে ঢুকলেন না। দরজায় বাইরে দাঁড়িয়ে থাকলেন।আরহাম তাকে সাহায্য করতে গিয়ে বললেন, ‘নিজের সেন্সের কি ব্যালেন্স থাকে না?এত তাড়াহুড়োর কি ছিলো?’
সে নড়েচড়ে উঠতে উঠতে বলল, ‘দোষ তোমার ভাইয়া।গেস্ট নিয়ে আসবে জানালে না কেন?আমি তো তুমি ভেবেই…
আরহাম তাকে সতর্কের ইশারা দিয়ে চাপা কন্ঠে বললেন, ‘আস্তে বলো…
তাকে রুমে পৌঁছতে হেল্প করে এসে মাহেরকে তখনো বাইরে থাকতে দেখে আরহাম সরি হয়ে বললেন, ‘সরি সরি আসো ভেতরে।
আহমাদ,মাহের দূজনেই আসতে আরহাম সার্ভেন্টকে ডেকে ফ্লোর পরিষ্কার করার কথা বলে তাদের সাথে কুশলাদি আলাপে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন।নামাজ থেকে বেরিয়ে আরহাম নিজেই তাদের সাথে করে নিয়ে এসেছেন।
তাঁর কাপড় ভিজে আছে।সে এসে ডুকেছে গেস্টরুমে।শাওয়ার নিয়ে কাপড় চেইন্জ করতে হলে তাকে তাঁর রুমে যেতে হবে।রুমে যেতে হলে ড্রয়িংরুম পাড়ি দিতে হবে।অথচ ড্রয়িংরুমে মেহমান।আইরা উঁকি মারলো মুখ বাড়িয়ে। কোনোভাবে লুকিয়ে চুরিয়ে সে কেটে পড়তে পারলে ভাবির রুমে চলে যাবে।
ডার্ক ব্লু পান্জাবির সাথে ঘিয়ে রঙ্গের প্যান্ট।টুপির নিচ দিয়ে কিছু চুল বাইরে এসে পড়েছে।হাত গোটানো কনুই পর্যন্ত।কালো বেল্টের ঘড়ি, চোখে চশমা।পাত্র লুকে একদম পার্ফেক্ট মানাবে।ঘটক এভাবে বর্ণনা দিবে,পাত্রের একগুচ্ছ ঘন চুল,হলদে ফর্সা রং,চোখে চশমা হয়তো কম দেখেন।বাট ছেলে ডাক্তার।এটিটিউড বেশি, গম্ভীর ভাবসাব।হার্টের যন্ত্রপাতি নিয়ে কাজ করেন।মেয়েদের পাত্তা দেন না অথচ বিয়েও করছেন না….উহু,আইরা আর ভাবতে পারছে না।সে কেন এসব ভাববে,ভাবতেই নিজের গালে আঘাত করলো সে।বারবার ইস্তেগফার আওড়ে মন থেকে এসব আবোলতাবোল চিন্তা ঝেড়ে ফেললো।কিন্তু তাকে বেরোতে হবে।সেই সুযোগ টা করে দিলেন ভাবি’পু।গেস্টদের সাথে মিট করতে ব্যস্ত থাকায় এই সুযোগে সে বেরিয়ে গেলো।কেউ তাকানোর সুযোগ পেলো না ভেবে তাঁর মনটা খুশিতে লাফাচ্ছে।সে একজন গুপ্তচর হলে বিষয়টা খারাপ হতো না।
দূপুরের খাবারের প্রস্তুতি চলছে।মেজবানদের গেস্টরুমে নিয়ে গেলেন আরহাম।জার্নি করে আসা তাদের।ফ্রেশ হওয়ার উদ্দেশ্যে হাতমুখ ধুয়ে নিচ্ছিলেন।
আইরা খাবারগুলো সার্ভ করতে সাহায্য করছিলো।তারাহুড়োই করেই করছিলো কখন না তাঁরা আবার সামনে পড়ে যান।তাঁড়াহুড়োয় তাঁর লম্বা ওরনার অংশ গ্লাসের চিরে আটকে ঠাস করে পড়ে যাওয়ার শব্দ হতেই আইরা থামে।কি অঘটন ঘটালো ভেবে পেছন ফিরে তাকাতেই দেখে গ্লাস পড়ে ভেঙে চুরমার।তৎক্ষনাৎ ভয়ে মুখে হাত দেয় সে।এক্সিডেন্টের চশমার এক্সিডেন্ট ঘটিয়ে ফেলেছে সে।এখন কি হবে!
একটু পর ড্রয়িং এ আসলেন তাঁরা।পর্দার ফাঁক দিয়ে ভীতু নজরে লোকটার দিকে তাকাচ্ছিলো সে যখন মাহের সেন্টার টেবিলে উনার গ্লাস খোঁজছিলেন।ভয়ে আইরার গলা শুকিয়ে কাঠ।ইসস কী বলবে সে।
মাহের কাঙ্ক্ষিত বস্তু খুঁজে না পেয়ে আরহামকে যখন বললেন আরহাম নিজে খুঁজে এসেও কিচেনে আম্মুকে জিজ্ঞেস করছিলেন, ‘আম্মু মাহেরের গ্লাসটা দেখেছেন?টেবিলে ছিলো খুঁজে পাচ্ছে না।’
আম্মু অপকটে উত্তর দিলেন, ‘না তো।’
আরহাম চলে যাচ্ছিলেন আইরা পিছু ডাকে, ‘ভাইয়া?’
আরহাম ঘুরে বললেন, ‘হু?তুমি দেখেছো?’
আইরা ওরনার কোণায় আঙ্গুল প্যাঁচাতে প্যাঁচাতে ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে বলল, ‘ও্ ওটা আমি ভেঙে ফেলেছি।’
আরহাম চমকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘মানে?’
‘আ্ আমি তাড়াহুড়ো করে সার্ভ করছিলাম।তখন বেখেয়ালে ওরনায় আটকে পড়ে যায়।’
পিছনে হাফসা এসে দাঁড়িয়েছে।কথোপকথন শুনেছে সে।
আরহাম কড়া কন্ঠে বললেন, ‘বেখেয়ালে নয়।তোমার দোষ আছে।তুমি ছটফট করো বেশি স্থির হয়ে থাকতে পারো না।ও গ্লাস ছাড়া থাকে না।ওর প্রবলেম হয়।এখন কি বলবো?’
আম্মু কিছু বলতে চাচ্ছিলেন।আরহামে কড়া কন্ঠে তিনি নিজেও দমে গেলেন।আরহাম আরও কিছু বলতে যাচ্ছিলেন তার আগেই ভাইয়ের কড়া চেহারায় দৃষ্টি রাখতে ভয়ে কান্না করে ফেললো আইরা।হাফসা এসে তাকে আগলে নিয়ে আরহামকে ইশারায় বুঝালো, ‘সমস্যা নেই।সে ভাইকে বলবে।এটা তো ইচ্ছাকৃত নয়,এক্সিডেন্ট।’
আরহাম নিরুত্তর চলে গেলে আইরা অনুতপ্ত সুরে বলে, ‘সত্যি বলছি আমি ইচ্ছে করে ভাঙ্গিনি।’
হাফসা তাকে ইশারায় আশ্বস্ত করে বুঝালো, ‘কোনো সমস্যা নেই।ভাইয়া নতুন একটা চশমা নিয়ে নিবে।’
আজকে মাহেরের সাথে আরহামের কথোপকথনের মধ্যে বারবার যে বিষয়টা উঠে এসেছে সেটা হচ্ছে মাহেরের বিয়ে।বাবা বারবার আরহামকে ইশারায় বুঝিয়ে দিচ্ছেন আরহাম যেনো তাকে ভালো করে বুঝিয়ে কনভিন্স করেন।কিন্তু আরহামের কথাবার্তা পুরোদমে এড়িয়ে মাহের বললেন, ‘বোনের সাথে দেখা করতে এসেছি অথচ তুমি দেখি আমাকে ভীষণ জ্বালাচ্ছো!হাফসা তোমাকে এসব শিখিয়ে দিয়েছে না?’
‘উহু,মোটেও না।’
‘ও দিয়েছে হয়তো।নাহলে তুমি আজ এতো উঠেপড়ে লেগেছো কেন?’
আরহাম অকপটে উত্তর দিয়ে বসলেন, ‘উনার সাথে তো আমার কথাই হয়না তাহলে…তৎক্ষনাৎ অন্য প্রসঙ্গে চলে গেলে মাহের ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কথা হয়না কেন?’
আরহাম মনে মনে নিজের প্রতি ক্রুদ্ধ হলেন।বেঁফাস কথাবার্তা বলার আর সময় পেলেন না।একেবারে সমন্ধিকের সামনে!অজুহাত দিয়ে মাহের তাকে নিয়ে গেলেন ছাদে।সোজাসুজি প্রশ্ন করে বসলেন, ‘হাফসার সাথে কোনো সমস্যা হচ্ছে?বা মিসআন্ডারস্ট্যান্ডিং?’
‘না তো।’
‘তাহলে?’
‘তুমি এতো সিরিয়াস হচ্ছো কেন?আমি বলছিলাম ব্যস্ততায় গিয়েছে লাস্ট কয়দিন।তুমি তো জানোই।এসবের মধ্যে উনার এসব কথা শোনতাম কখন?’
‘ওহ।আচ্ছা বাড়িতে যাচ্ছো কবে?’
‘কেন?’
‘নতুন জামাই তো যেতে হয়।আমাদের বাড়ির এটাই কালচার।”
জামাই শব্দটা বেশ জোর দিয়ে বলে ঠোঁট চেপে হাসলেন মাহের।আরহাম তাঁর দিকে শাসানোর দৃষ্টি দিয়ে বললেন, ‘একটা জিনিসেই পারো।বাচ্চাদের মতো।’
‘তাহলে তুমি কি বাচ্চা?তুমি কেনো ক্ষেপে যাও?
‘আমার সাই ফিল হয়।’
মাহের হাসলেন।
‘নিচে চলো।’
‘একটু পরে আসছি।’
বাবাকে একা বসিয়ে রেখেছেন বিধায় আরহাম তাড়াতাড়ি নিচে চলে গেলেন।মাহের একটু দূরে দাঁড়িয়ে সিগারেট বের করলেন।লাইটার দিয়ে আগুন ধরিয়ে লম্বা একটা টান দিয়েই ধোঁয়া উড়াতে উড়াতে অন্যমনষ্ক হয়ে গেলেন।
মাহেররা যাবার সময় ভুলবশত সামনে পড়ে গেলো সে।মাহের তার দিকে অদ্ভুত দৃষ্টিতে একপলক তাকিয়েই চোখ সরিয়ে নিলেন।আইরা যেনো স্পষ্ট বুঝতে পারলো সেই দৃষ্টির মমার্থ।লোকটা যেনো চোখ দিয়ে তাকে বলে গেলেন, ‘এই পাজি মেয়ে।আমার গ্লাস ভেঙেছেন কেন?আমি এখন কীভাবে দেখেশুনে বাসায় যাবো?’
আইরা মনে মনে জবাব দিলো,হাঁটি হাঁটি পা পা করে গাড়িতে উঠলেই তো বাড়িতে গিয়ে থামবেন।যাওয়ার পথে নতুন গ্লাস নিয়ে নিলেই তো হলো।
প্রিয় মানুষদের বিদায় দেওয়ার কষ্ট মেয়েরা ভালো করেই বুঝে।তাঁর কাছের মানুষ এতক্ষণ ছিলো হাফসার মনে হয়েছে এই তো সে নিজের বাড়িতে প্রিয়জনদের সাথে আছে।সে একা নয়।কিন্তু চোখের পলকে তাঁরা চলে যেতেই ভীষণ রকমের কান্না আসলো তাঁর।অদ্ভুত রকমের যন্ত্রণার একটা অনুভূতি তাকে বিঁধছিলো যখন তাঁরা বিদায় নিচ্ছিলেন।যন্ত্রণার সূঁচ যেনো বসিয়ে গেলেন তাঁর রন্ধ্রে রন্ধ্রে।একা কিছুক্ষণ কেঁদেকেটে হালকা হয়ে আম্মুকে সাহায্যের উদ্দেশ্যে গেলো সে।
সন্ধ্যার পরের পরিবেশটা অদ্ভুত রকম সুন্দর।এ বাড়িতে ভেতরে যেনো কোনো শহুরে ছোঁয়া নয়।বাড়িটা দালানবাড়ি হলেও এর আশেপাশের পরিবেশ গ্রামীণ প্রকৃতির।সন্ধ্যার সময় নামাজে যাওয়ার আগে আরহাম বলে গিয়েছিলেন,এসে তিনি তিলাওয়াত শুনবেন সবার।
আম্মু,আইরা মাইমুনা হাফসা কুরআন হাতে পাশাপাশি বসেছে।নামাজ শেষে এসে উনিও কুরআনসহ তাদের সাথে বসলেন।বিয়ে সম্পর্কিত ঝামেলা বা ব্যস্ততায় তাদের পূর্বেকার ডেইলি রুটিনে বাঁধা পড়েছে।ফজরের পর বা এশার পর আরহাম প্রতিদিন নিয়ম করে তাদের মশক দিতেন এবং তিলাওয়াত শুনতেন।হাফসা আসায় প্রথম থেকে শুরু হলো আবার।আরহাম শুরুতে নিজেই তিলাওয়াত করলেন।আরহামের তিলাওয়াতের সুর নিস্তব্ধ ঘরে যেনো মধুর আওয়াজে ছড়িয়ে পড়লো।হৃদয়ের অন্তস্তল থেকে উঠে আসা সেই অমায়িক অনুভূতি নিয়ে কুরআনের তিলাওয়াত শুনছিলো হাফসা।এতো সুন্দর সুর সে ইতোপূর্বে শুনেনি।বাবার তিলাওয়াতের সুর থেকেও ভালো লাগছে তাঁর।এতো সুন্দর কন্ঠ কীভাবে হয় মানুষের!
অমায়িক সুরের সাথে কড়া খুশবুর ঘ্রাণ।এ যেনো রবের কাছাকাছি পৌঁছার আরেক সূর্বণ সুযোগ।কারন পরিবেশই মনের মধ্যে মনোযোগ এবং ভালোলাগা তৈরী করে দেয়।সেই সময়গুলো থমকে গেলে হাফসা কখনোই বিরক্ত হতো না।
একে একে মাইমুনা,আইরা আম্মুর তিলাওয়াত শুনলেন তিনি।অতপর হাফসাকে ইশারা করলেন সামনে আসতে।হাফসার এ মুহুর্তে প্রচন্ড রকমের খারাপ লাগতো।তাঁর কন্ঠে তো আওয়াজ নেই।সে কীভাবে তিলাওয়াত শোনাবে।আরহাম তাকে প্রশ্ন ধরলেন,কোন জায়গায় কতটুকু গুন্নাহ,কোথায় সাকতা বা কোথায় কত আলিফ দীর্ঘ।সে ঠিকটাক উত্তর দিতেই ছোট্ট করে মোনাজাত শেষে মশক শেষ হয়।আইরা ঘুমে ঢুলতে ঢুলতে রুমে চলে গেলো।আম্মুও চলে গেলেন রুমে।মাইমুনাকে রুমে পৌঁছতে সাহায্য করে আরহাম যখন ঘরে আসলেন হাফসা কুরআন শেলফে রেখে সবে পা বাড়িয়েছে কিচেনের উদ্দেশ্যে।আরহাম তাকে পাশে বসিয়ে বললেন, ‘আমি যখন ডাকলাম মন খারাপ করলেন কেন?’
অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ১৯
হাফসা এলোমেলো দৃষ্টি লুকায়।সে মোটেও ইচ্ছুক নয় এ বিষয়ে কথা বলতে।তবুও আরহাম দ্বিতীয়বার জানতে চাইলে,সে বুঝায় তাঁর নার্ভাসনেস এর জন্য।লোকটা কি তাঁর লুকোচুরি ধরে ফেললেন!গুটি গুটি পায়ে আরহামের সামনে দিয়ে সে বেরিয়ে এলো।নিচে নেমে কৌতূহলবশত একবার তাকালো।তাঁর মন বলছে লোকটা তাঁর কথা বিশ্বাস করেননি।নিচে নেমে উপরের বারান্দায় তাকাতেই চোখাচোখি হতেই সে ছুট লাগালো কিচেনের দিকে।লোকটা রেলিং এ হাত রেখে ওর দিকেই তাকিয়েছিলেন।শেষ!নিজের কার্যকলাপই নিজের লুকোচুরির কথা আরহামকে যেনো সে নিজেই বুঝিয়ে দিলো।এত বোকা কেন সে!
