Home অবেলায় ফোঁটা পুষ্প অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ৩৭

অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ৩৭

অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ৩৭
রুপা

রাত বাজে সাড়ে বারোটা। সরকার বাড়ির সবাই রাতের খাবার শেষ করে যে যার রুমে ঘুমাতে চলে গেছে; রুমে যায়নি শুধু আর্য। সে এখনো সিমরানের রুমের সামনে করিডোরে অস্থির চিত্তে পায়চারি করছে—সুযোগ বুঝে বউকে নিজের কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য। শিকারি যেমন শিকারের জন্য উঁতপেতে থাকে, আর্যর অবস্থাও এখন ঠিক সে রকম; সে যেন শিকারি, আর বউ তার শিকার! একবার সামনে পেলে যেকোনো মূল্যে তাকে নিজের কাছে নিয়ে গিয়ে ছাড়বে, কিন্তু বউ তার সামনে আসছে না! সেই যে শাশুড়ির সাথে রুমে ঢুকেছে, বেরোনোর নাম নেই।
খাবার টেবিলে আর্য সবার আগে গিয়ে পুষ্পর পাশের চেয়ারটা দখল করেছিল এই আশায় যে বউ তার পাশে বসবে; কিন্তু তার আশায় একবালতি পানি ঢেলে দিয়ে বউ তার খেতেই আসেনি! আহ্, এই দুঃখ আর্য রাখবে কোথায়? বউকে যখন দূরে রাখতে চেয়েছিল, তখন তার মা জোর করে তার কাছে পাঠাতো; আর এখন সে বউকে কাছে চায়, কিন্তু তার মা বউকে দূরে রাখায় ব্যস্ত! আর্যর কাণ্ড দেখে সবাই মিটমিট হেসেছে ঠিকই, কিন্তু জোরে হাসতে পারেনি—যদি আর্য রেগে কিছু বলে, এই ভয়ে! শেহনাজ সরকার নিজেও আর্যর ছটফটানি দেখেছেন, তবে কিছুই বলেননি। ওনার ভাবনা—কয়েকদিন দুজনকে দূরে রেখে পুষ্পর প্রতি আর্যর অনুভূতি পরিষ্কার ও আরও গভীর করা যাক, যাতে পুষ্পর গুরুত্ব আর্য বুঝতে পারে এবং পরে আর পুষ্পকে নিজের থেকে দূরে সরিয়ে না দেয়, কষ্ট না দেয়।

এই সময়টাতে পুষ্পকেও সংসার সম্পর্কে অবগত করবেন তিনি। পুষ্প ছোটবেলা থেকে কীভাবে বড় হয়েছে, সব জেনেছেন উনি। একটা মেয়েকে ছোটবেলা থেকে সংসার ও স্বামী সম্পর্কে যে বোঝাপড়া একজন মা দেন, তা পুষ্পকে কেউ দেয়নি। ওনার ভাবনা, পুষ্পকে সেসব কিছু উনি বুঝিয়ে দেবেন, যাতে দুজনেই খুব সুন্দর সংসার করতে পারে। আর ছেলের মধ্যে পুষ্পর প্রতি যেই উন্মাদনা বা অন্ধ আসক্তি দেখতে পাচ্ছেন, তা একমাত্র পুষ্পই নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবে; তাই ওনাকে পুষ্পকে সেই বোঝাপড়াটাই দিতে হবে। তাই তিনি ছেলের ছটফটানি দেখেও না দেখার মতো করে সবাইকে খাবার পরিবেশন করতে লাগলেন।
এদিকে আর্য বউয়ের জন্য ছটফট করতে করতে খাবার আর গলা দিয়ে নামাতে পারল না। শেষে বিরক্ত হয়ে টেবিল থেকে উঠে গেল! সে ভেবেছিল, মেয়েটা তার কাছে না থাকলে তীব্র অশান্তি ও অস্থিরতা শুরু হয়; এখন দেখছে, মেয়েটা কাছে না থাকলে গলা দিয়ে খাবারও নামে না! এখন তাকে বাঁচতে হলে বা সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে হলে তার ফ্লাওয়ারকে লাগবেই। খাবার পর সবাই যে যার রুমে ঘুমাতে চলে গেছে। আর্যও গেছিল রুমে, কিন্তু রুমের চার দেওয়ালে তার দমবন্ধ হয়ে আসছিল—তার ফ্লাওয়ারকে তার চাই-ই চাই! তাই তো আবার বেরিয়ে এসেছে বউকে নিয়ে যাওয়ার আশায়। সেই থেকে সিমরানের রুমের বাইরে পায়চারি করছে।
ঘড়ির কাঁটা বারোটা পেরিয়ে দুটোর ঘরে পৌঁছেছে, কিন্তু সিমরানের রুমের দরজা আর খুলল না! না পুষ্প বের হলো, না সিমরান। আর্য এবার অসহ্যকর অস্থির এক অনুভূতি নিয়ে ছাদের দিকে চলে গেল। আজকেও তার নির্ঘুম রাত কাটবে, তা সে বেশ বুঝতে পারল।

পাশে সিমরান মরার মতো ঘুমিয়ে আছে, আর পুষ্প শুধু এপাশ-ওপাশ করছে। ঘুম তার চোখে ধরা দিচ্ছে না। এক তীব্র অস্থিরতা গ্রাস করছে, কিছুই ভালো লাগছে না! সরকার সাহেবের কথা মনে পড়ছে, আজকে একটু বেশিই মনে পড়ছে। ফলস্বরূপ চোখের ঘুম উধাও! বারবার মনে পড়ছে শেহনাজ সরকারের বলা কথাগুলো—সংসার করতে হলে তাকে সরকার সাহেবের সাথে আরও অনেক সহজ হতে হবে, ভয় পাওয়া যাবে না। কিন্তু সে কী করবে? সরকার সাহেবের সামনে গেলেই মন নিজে থেকেই ভয়ে পালাতে চায়! কতবার নিজের মনকে বুঝিয়েছে যে সে ভয় পাবে না, কিন্তু কিছুতেই কিছু হয় না। পুষ্প এসব ভাবতে ভাবতে এবার বিরক্ত হয়ে উঠে বসল।
তার কেন ঘুম আসছে না? হঠাৎ পুষ্প কিছু একটা ভেবে ভালো করে মাথায় ওড়না জড়িয়ে গুটিগুটি পায়ে রুম থেকে বেরোতে লাগল। সিমরানের রুম থেকে বেরিয়ে চারপাশে তাকিয়ে দেখল, বড় সব লাইট বন্ধ, শুধু ড্রয়িংরুমের বড় ঝাড়বাতির আলোয় আবছা আলোকিত হয়ে আছে চারপাশ। পুষ্প এদিক-ওদিক তাকিয়ে আর্যর রুমের দিকে এগিয়ে গেল। রুমের সামনে এসে পুষ্প অবাক হলো—রুমের দরজা খোলা দেখে! সে যতটুকু জানে, সরকার সাহেব রুমে ঢুকেই দরজা বন্ধ করে দেন; তাহলে আজকে হলোটা কী? সরকার সাহেব কী রুমে নেই?

ভাবতে ভাবতে রুমে প্রবেশ করল রমণী। সত্যি সত্যি আর্যকে রুমে না দেখে অবাক হয়—তাহলে এত রাতে গেল কোথায় সরকার সাহেব? কিছুই বুঝতে পারলো না পুষ্প, কিন্তু বেশি ভাবলো ও না; সে গিয়ে খাটের ওপর বসে পড়ল। সে কি একটু বেশি সাহস দেখিয়ে ফেলল? সরকার সাহেব তো বারণ করেছিলেন, ওনার অনুমতি না নিয়ে যেন ওনার কোনো কিছুতেই হাত না দেয়; কিন্তু উনি নিজেই তো তাকে এই বিছানায় শুইয়ে দেন! সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতে রমণী বিছানায় শুয়ে পড়ল। বালিশে মাথা দিতেই নাসারন্ধ্রে এসে ভারী খেল পুরুষালি, মাদকতা পূর্ণ, তীব্র এক অদ্ভুত নেশা ধরানো ঘ্রাণ! এটা আর্যর ঘ্রাণ; এটা রমণীর অতিপরিচিত, এই ঘ্রাণের জন্যই সে সরকার সাহেবকে না দেখেও চিনতে পারে।
এতক্ষণ ধরে অস্থির হয়ে নির্ঘুম ছটপট করতে থাকা রমণী অদ্ভুতভাবে ঘুমিয়ে পড়ল। হয়তো পরিচিত ঘ্রাণ আর সেই চেনা ওম পেয়ে ঘুমপরী তার ডানা মেলে দিয়েছে!

আর্য ছাদের একদম রেলিং ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে, হাতে জ্বলজ্বল করছে সিগারেটের আগুন। নিজের অস্থিরতা কমানোর জন্য নিকোটিনের ধোঁয়া উড়াচ্ছে আবার। করবে তো করবে কী? তার মা কেন বুঝতে চাইছেন না যে, তার ফ্লাওয়ারকে তার চাই-ই চাই, অ্যাট এনি কস্ট চাই! আজ তিন রাত সে ঘুমাতে পারছে না, মেয়েটার দূরত্ব সহ্য হয় না তার। শুরুতে সে নিজেকে অনেক কষ্টে আটকেছিল, যাতে মেয়েটার প্রতি দুর্বল না হয় কিন্তু তবুও আটকাতে পারেনি। মেয়েটাকে বিয়ে করার আগে সে রাত বারোটার আগে বাড়িতে ফিরে আসত; কিন্তু বিয়ের পরে মেয়েটার প্রতি দূর্বল না হওয়ার জন্য দূরে থাকার জন্য সে বাড়িতে এসেছে মাঝরাতে যাতে মেয়েটার থেকে দূরে থাকতে পারে।
যেদিন প্রথম মেয়েটাকে দেখল—নিজের রুমে একটা লাল রঙের বেনারসি শাড়ি পরে বউ সেজে ঘুমিয়ে ছিল তার খাটের ওপর—সেদিন প্রথম দেখায় তার নিঃশ্বাস আটকে এসেছিল। সে বিয়ে করতে চায়নি, মেয়েদের প্রতি ছিল তীব্র ঘৃণা ও অনীহা, বিশ্বাস করতে পারত না মেয়েদের; কিন্তু সেদিন যখন রাত বারোটার পরে নিজের রুমে ঢুকল, প্রথমে নাকে এসেছিল তার চিরচেনা পুরুষালি ঘরে মেয়েলি মিষ্টি ঘ্রাণের অস্তিত্ব। সেই ঘ্রাণ টেনে শুষণ করে নিজের ভেতরে নিয়ে নিয়েছিল আর্য।

সেই মেয়েলি ঘ্রাণের উৎস খুঁজতে যখন রুমের এদিক-ওদিক তাকিয়ে চোখ বুলাল, তখন চোখ আটকে ছিল তার সাদা বিছানায় গুটিসুটি মেরে শুয়ে থাকা রমণীর ওপর—টকটকে লাল বেনারসি শাড়ি পরিহিত তার নববধূর ওপর। আর্যর সবচেয়ে অপছন্দের তালিকায় সবার প্রথম রং ছিল লাল, অথচ সেদিনের পরে সেই অপছন্দের লাল রংটা অকারণেই পছন্দের তালিকায় যোগ হলো! কী নিষ্পাপ ছিল সেই ঘুমন্ত চেহারা! তার নিঃশ্বাস আটকে এসেছিল সেই রূপ দেখে, নিজের ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারাতে বসেছিল। তার মনে হয়েছিল, ওই ঘুমন্ত চেহারাই যত নষ্টের মূল, সে নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে শুধু ওই ঘুমন্ত চেহারার কারণে। তাই তো ইচ্ছে করে মেয়েটাকে ধাক্কা দিয়ে ঘুম থেকে জাগিয়ে দিয়েছিল, পাষাণের মতো অপমান করেছিল, যাতে মেয়েটার ওই নিষ্পাপ মুখটা দেখে সে নিয়ন্ত্রণ না হারিয়ে বসে!
কিন্তু তারপর বাঁধল আরেক বিপত্তি—মেয়েটার কান্নারত মুখ যেন আরও ভয়ঙ্কর, যা সহ্যের ক্ষমতা ছিল না শক্তপোক্ত আব্রাহাম আর্য সরকারের! তাই তো মেয়েটাকে তার থেকে, নিজের সব জিনিস থেকে দূরে থাকতে বলে বেরিয়ে গেছিল বাড়ি থেকে, ড্রিংক করে বাড়ি ফিরেছিল সকালে। তারপর থেকে মেয়েটাকে সামনে থেকে আঘাত করেছে, আবার আড়ালে তার খেয়াল রেখেছে। মেয়েটা ভাবত, প্রতিদিন সে মেঝেতে ঘুমিয়েছে, অথচ বোকা রমণী কোনোদিন জানতেও পারবে না—রমণী মেঝেতে নয়, প্রতি রাতে ঘুমিয়েছে পুরুষালি শক্ত বুকে, আর পুরুষটা ঘুমাতো মেঝেতে! মেয়েটা ঘুম থেকে ওঠার আগেই কঠোর মানবটা আবার মেয়েটাকে মেঝেতে রেখে নিজে খাটে শুইয়ে পরতো।

আর্য আর ভাবতে চাইল না। কত কিছু ঘটে যা সবার অজানা, লোকচক্ষুর আড়ালে থেকে যায়; থাকুক না অজানা আড়ালে! কে তার ভালোটা দেখবে? মেয়েটাকে তার বাইরের খারাপ দিকটাই দেখিয়ে রাখবে সে। এই খারাপ আব্রাহাম আর্য সরকারের সাথেই থাকতে হবে তার ফ্লাওয়ারকে। আর্য এবার হাতের সিগারেটের দিকে তাকিয়ে তাচ্ছিল্য হেসে বলল—
– “তুইও কোনো কাজের না! তুই ক্ষতিকর জেনেও মানুষ তোকে নিজের ভেতর শুষণ করে কারোর স্মৃতি ভুলতে, অস্থিরতা কমাতে; অথচ দেখ, তুই না পারছিস তাকে ভুলিয়ে দিতে, না পারছিস তার কথা ভেবে অস্থির হয়ে ওঠা মনকে শান্ত করতে!”
আর্য নিজের হাতের সিগারেটটা ফেলে পা দিয়ে পিষে ফেলল। মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে মাথার চুল খামচে ধরল, দৃষ্টি স্থির করল দূর আকাশে। সেই চাঁদবিহীন পুরো আকাশটা যেন একটা জীবন্ত ক্যানভাস, আর সেই ক্যানভাসে দেখতে পাচ্ছে লাল টুকটুকে একটা ঘুমন্ত চেহারা—যেটা দেখে শক্তপোক্ত পুরুষটার নিঃশ্বাস আটকে এসেছিল। আর্য সেই আকাশপানে তাকিয়ে খালি গলায় গুনগুন করে উঠল—

– “Aa tujhe inn baahon mein bhar ke
Aur bhi kar loon main kareeb..”
“Tu juda ho toh lage hai
Aata jaata har pal ajeeb..”
“Iss jahaan mein hai aur na hoga
Mujhsa koi bhi khush naseeb..”
“Tune mujhko dil diya hai
Main hoon tere sabse kareeb..”
“Main hi toh tere dil mein hoon
Main hi toh saanson mein basoon..”
“Tere dil ki dhadkanon mein
Main hi hoon main hi hoon..”
“Tu humsafar, tu humkadam,
Tu humnawah mera..” (২)
আর্যর গুনগুন করে গাওয়া গানটা নির্জন রাতে বেশ সুমধুর সুর শোনাল; কেউ শুনলে নিশ্চয়ই বলে উঠত, মাশাআল্লাহ! বন্ধুদের কাঁধ জড়িয়ে ধরে কতই না গান গেয়েছিল, সেসব আজ অতীত। আর্য চারপাশে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলল। আরও কিছুক্ষণ ছাদে থেকে এবার নিচে চলে গেল।

আর্য রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিল। হঠাৎ তার চোখ যায় খাটের ওপর—ধবধবে সাদা বিছানায় গুটিসুটি মেরে শুয়ে থাকা রমণীর ওপর! আর্য যেন নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারল না, বিশ্বাস করলও না; ভাবল, এ নিছক তার কল্পনা! মেয়েটা তো তার রুমে নেই, তাই তো বেশি কিছু না ভেবে সে বিছানায় শুয়ে পড়ল। কিন্তু ঘুরেফিরে তার চোখ গিয়ে স্থির হচ্ছে ঘুমিয়ে থাকা রমণীর ওপর। কল্পনা কি এতটা বাস্তবের মতো হয়? তারপর সে নিজেই বলল, কল্পনা হলে হোক, তার ফ্লাওয়ার তো তার সামনেই আছে! একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকল পুষ্পর ঘুমন্ত চেহারার দিকে।

অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ৩৬

দেখে আর তৃষ্ণা মেটাতে পারল কই আর্য? সে আলতো করে মেয়েটাকে নিজের চওড়া বুকে টেনে নিল। হোক না কল্পনা, তাতে কী? কল্পনাতেও যেন তার ফ্লাওয়ারের জায়গা তার বুক ছাড়া অন্য কোথাও না হয়! পুষ্পকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরল সে। এতে আর্যর বুঝতে আর বাকি রইল না যে, মেয়েটা কল্পনা নয়, সশরীরে তার কাছে উপস্থিত আছে! আর্য যেন না চাইতেও হাতে চাঁদ পেল। সে এবার পুষ্পর গলার ভাঁজে মুখ ডুবিয়ে দিল। রমণী কেঁপে উঠল, তবে গভীর ঘুম ভাঙল না। আর্য পুষ্পর স্পর্শকাতর জায়গায় ঠোঁট চেপে ধরে বিড়বিড় করে আওড়াল—
– “তোমার সরকার সাহেবের ৯৯% খারাপ দিকটা দেখে ভালোবেসো, ফ্লাওয়ার! পরিবর্তে বাকি ১% ভালো দিক দিয়ে ওই ৯৯% কে ঢেকে দেওয়ার দায়িত্ব আমার।”

অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ৩৮

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here