Home অবেলার প্রণয়ভেলা অবেলার প্রণয়ভেলা পর্ব ৪১

অবেলার প্রণয়ভেলা পর্ব ৪১

অবেলার প্রণয়ভেলা পর্ব ৪১
ফাহিমা ইসলাম

রৌদ্রময় আবহাওয়া, চারিদিকে কোমল আলোকরশ্মি ছড়িয়ে আছে। সূর্য এখন মধ্যগগনে। বসার কক্ষে অনেকগুলো মহিলা বসে রয়েছে। দিনের মধ্যে অনেকেই আসেন গল্প-গুজব করার জন্য। আজকেও এর ব্যতিক্রম হয়নি, তবে আগের দিনের তুলনায় আজকে বেশি মানুষ এসেছে। নানান কথায় মজে আছে
সকলেই, তূর্ণা ঘুমন্ত রোদেলাকে নিয়ে নিজ কক্ষে ফিরে যাচ্ছিলো। হুট করেই পিছন থেকে ফিসফিস করে ভেসে আসা কয়েকটা বাক্য শুনে তার পা থমকে গেলো।

“ রৌদ্রিকের মা, এই বউ কি বাচ্চা-গাচ্চা নিবে নাকি? দেখলাম তো রৌদ্রিক কেমন করে পাগল বউকে ঠিক করলো। বাচ্চা নিলে তো ওমন পাগলই হবে, মায়ের যেহেতু সমস্যা আছে বাচ্চা নিলেও তো ওমন হবে।”
মহিলার কথায় রৌদ্রিকের মা সহ রোমানা সিকদারও অসন্তুষ্ট হলেন। তারা এতকিছু ভাবেনি এখন অব্দি, অথচ বাহিরের মানুষ এতকিছু ভেবে বসে আছে। কথায় আছে না যার বিয়ে তার হুঁশ নেই, পাড়াপড়শি ঘুম নেই। জবা সিকদার নিজের রাগটাকে দূরে রেখে,শান্ত স্বরে বলে-
“ আপা কিছু না মনে করলে বলি কি, আমার ছেলে আর ছেলের ব্যক্তিগত ব্যাপারে আমরা নাক না গলানোই ভালো। আর কে বলেছে পাগল হলে তার গর্ভ থেকে পাগল জন্মাবে? একটু ভেবেচিন্তে কথা বলবেন, আল্লাহ দিলে আমার ছেলের বউ যেমন সুস্থ হয়েছে। আল্লাহ দিলে তেমন সুস্থ সন্তানও দিবেন। যদি ওমন কিছু হয়েও থাকে আমার আছি তো। আমার বাড়ির সন্তাকে,আমরা সামলাতে পারলেই হলো।”

কথাটুকু শেষ করে তিনি আর বসলে না উঠে পরলেন। জবা সিকদারের এমন উত্তর আশা করেনি মহিলাটা। তাই কিছুটা থমথমে হয়ে গেলেন, ভেবেছিলেন এই করে সংসারে অশান্তি লাগাবে। তবে তার বিপরীত হয়ে গেলো, জবা সিকদার তাকেই বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে দিলো। তূর্ণা আর সেখানটায় দাঁড়াতে পারলো না, দ্রুত পায়ে উঠে গেলো সিড়ি বেয়ে। নেত্রকোণে অশ্রু চিকচিক করছে! মস্তিষ্কে মহিলার বলা প্রতিটা কথা বাজছে, সে পাগল বলে তার গর্ভের সন্তানও পাগল হবে! তূর্ণার বুকটা কেঁপে উঠলো। সত্যিই কি এমন কিছু হবে? নিজের মতো নিজের সন্তানের ওমন করুন পরিণতি ভাবতেই অশ্রুবিন্দু গড়িয়ে পরলো গাল বেয়ে। রোদেলা আস্তে করে শুইয়ে দিয়ে নিজের সঙ্গে মিশিয়ে নিলো। ভাগ্য তাকে একে একে সব ফিরিয়ে দিয়েছে, সুখ,শান্তি,হাসি সব কিন্তু তারপরও মানুষের মন থেকে নিজের অতীতটা সরাতে পারে না। সে সরাতেও চায় না, তবুও মানুষ তাদের এমন বিষাদে ভরা বাক্য দিয়ে তাকে ক্ষতবিক্ষত করে! ভয় হতে শুরু করলো সত্যিই যদি এমন কিছু হয়? তখন সে কি করবে? তার বর খুব ভালো সে জানে, লোকটা ওমন কিছু হলেও তাকে অবহেলা করবে না সেটাও জানা তার। তারপরও সইতে পারছে না ওই মহিলার বাক্যগুলো মনে হচ্ছে তার মা হওয়া উচিৎ নয়।
নিজের কান্না থামিয়ে এতদিনের করা পরিকল্পনায় জল ঢেলে, ডয়ারে থাকা জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল নিয়ে পানি দিয়ে খেয়ে নিলো। সে কি খুব ভুল করলো? তার তো কষ্ট হচ্ছে প্রচন্ড! রৌদ্রিক যখন বলবে তখন ভাববে। একা এতবড় সিদ্ধান্ত আর নিবে না। রৌদ্রিক তো বলেনি সে তাকে সন্তান দিবে না, রৌদ্রিকের কাছে তার সুস্থ আগে। তার সকল চিকিৎসা শেষ হওয়ার পর সে বেবি নিবে। তখন কেউ বলতে পারবে না সে পাগল বলে তার বাচ্চাও পাগল হবে।

কেটেছে সময়, চোখের পলকেই মাসগুলো কিভাবে পার হলো সেটা বোঝা দায়। ইরার প্রেগ্ন্যাসির ৭ মাস চলছে, আগের থেকে অনেকটা গুলুমুলু হয়ে উঠেছে মেয়েটা। শরীরে এসেছে নানান পরিবর্তন, পেট খানি উঁচু হয়েছে। দেখেই বোঝা যায় তার মধ্যে বেড়ে উঠছে ছোট্ট একটা অস্তিত্ব! তূর্ণাও পড়ালেখায় মন দিয়েছে, পুরো দমে সংসারী নারী সে এখন। আল্লাহ দিলে তূর্ণা যতটুকু সুস্থ হওয়া সম্ভব ছিল সে ততটুকুই সুস্থ, হয়তো বা এর থেকেও বেশি। বাচ্চা করলে শুধু কাছের মানুষগুলোর সামনেই করে, যারা তার এই বাচ্চামোগুলোর মূল্যায়ন করে তাদের নিকটই তূর্ণা তার এই রূপটা বের করে। রোদেলাও বড় হয়ে উঠছে একটু একটু করে, পাকনা পাকনা কথা শিখেছে এখন।

তূর্ণার দিন যায় স্বামী-সন্তান, সংসার আর পড়া লেখা নিয়ে। রৌদ্রিক তাকে সবদিক দিয়েছে সাবলীল করে তুলেছে একটু একটু করে। যা জানা দরকার সেটা জানিয়েছে, যা পারা দরকার সেটাও শিখিয়েছে। মানুষটা নিজের অনুভূতি প্রকাশে বরাবরই শান্ত। ভালো লাগা, খারাপ লাগা কিছুই তাকে দেখে বোঝার উপায় নেই। রৌদ্রিকের ভালোবাসা প্রকাশ পায় তার যত্নে, যে মানুষগুলো নিজেদের অনুভূতি মুখে প্রকাশ করে না। তাদের অনুভূতি,যত্ন, ভালোবাসা সবকিছু তার আচার-আচরণের মাধ্যম প্রকাশ ঘটে। তাদের বিয়ের দুই বছর হতে চলেছে, সত্যি ই অনেকটা পথ এগিয়ে এসেছে তারা। ভাবা যায় তূর্ণাও সংসার করছে, বেশ ভালো করে সংসার করছে। তার অতীত, তার বর্তমানের কাছে ফিঁকে হয়ে গেছে। কালকে তাদের বিবাহবার্ষিকী, তূর্ণার মনটা বেশ ফুরফুরে। ভাবছে রৌদ্রিকে কিভাবে সারপ্রাইজ দিবে। আচ্ছা রৌদ্রিকের কি মনে আছে কালকে যে তাদের বিবাহবার্ষিকী? কই একবারও তো রৌদ্রিক কিছু বললো না তেমন। এইসব ভাবতে ভাবতে রৌদ্রিকের জামা-কাপড় গুছিয়ে আলমারিতে রেখে দিলো সে। রিনির সঙ্গে বাহিরে গেছে রোদেলা, মেয়েটা বাহিরে ঘুরতে বড্ড পছন্দ করে। ইরা নিজের ঘরে আরাম করছে, হাঁটাহাঁটিতে বেশ কষ্ট হয়। তাই রুম থেকে বের হয় কম, অল্পেই হাঁপিয়ে ওঠে। ইরার সবকিছুই দেখেছে সে, তূর্ণার ভাবতেই গা কেঁপে ওঠে। মাঝে মাঝেই ব্যথা উঠছে কি কষ্টটাই না পায় ইরা, সেটা দেখার পর তূর্ণা ভাবে সে কি করে পারবে? তার মাও তো তাকে এত কষ্ট করে জন্ম দিয়েছে। তাকে জন্ম দিতে গিয়েই তো ম’রে গেছে তার মা। মায়ের মুখখানিও জীবনে দেখেনি সে, সে কি তার মায়ের মত হয়েছে? তূর্ণা দাদি তাকে বলে সে নাকি তার মায়ের মত হয়েছে দেখতে। মা নামক মানুষটাকে ছবি অব্দি দেখার সৌভাগ্য কোনোদিন হয়ে ওঠে, ঝাপসা ভাবেও মায়ের মুখশ্রী কেমন ছিল সেটাও স্মৃতির পাতায় ধরা দেয় না।

তূর্ণা সকল কাজ গুছিয়ে বাহিরে বাগানে বের হয়ে এলো। গুটিগুটি বৃষ্টি পরছে আকাশ ভেঙে, বাগানে পা রাখা মাত্রই দমকা হওয়ায় সারা গায়ে শিরশির অনুভূতি ধরিয়ে দিয়ে গেলো। বৃষ্টি আসার আগ মুহুর্তে চারিদিক থেকে ভেসে আসা মাটি ভেজা গন্ধটা যেনো মাতাল করে তোলে প্রকৃতিকে আরও। তূর্ণা চোখ বন্ধ করে বড় করে শ্বাস টেনে নিলো, বেশ ভালো লাগছে। বাতাসের তালে তালে অবাধ্য ভাবে তার শাড়ির আঁচল সহ পিঠ ছাড়িয়ে এলোমেলো ভাবে পরে থাকা কেশরাশি গুলো উড়ে চলেছে। তূর্ণা বাগান থেকে টকটকে একখান লাল গোলাপ ছিড়ে কানের পাশে গুঁজে দিলো। একমানেই হাত মেলে আকাশ পানে চোখ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে রইলো। হুট করেই অতি চেনা একখান গন্ধ নাসারন্ধ্রে এসে বারি খেলো। সময়ের সঙ্গে গন্ধটা তার অতি নিকট থেকে আসচ্ছে, তূর্ণা চোখ মেলে তাকানোর আগেই শান্ত কণ্ঠস্বর ভেসে এলো কর্ণকুহরে।

“ একাই বৃষ্টি বিলাস করছো বুঝি?”
তূর্ণা পট করে চোখ মেলে পিছ ফিরতেই রৌদ্রিকের প্রস্তর বুকের সঙ্গে বারি খেলো। হঠাৎ এমনটা হওয়ায় পরে যেতে নিলে রৌদ্রিক দক্ষ হাতে তূর্ণার কোমড় পেঁচিয়ে নিজের সঙ্গে মিশিয়ে নিয়ে, তূর্ণাকে ঠিক মত দাঁড় করালো। রৌদ্রিকে এই সময় দেখে তূর্ণা অধর ভাজে হাসির রেখা ফুটে উঠলো আপনা-আপনি।
“ কখন এসেছেন বর?”
“ এসেছি কিছুখন হয়। বৃষ্টিতে ভিজে জ্বর বাঁধানোর ধান্দা? ”
“ জ্বল বাঁধিয়ে বরের সেবা পাওয়ার জন্য এমন ধান্দা করাই যায়।”
“ চালাক হচ্ছো দেখি, যদি সেবা না করি তখন?”
“ আমার বরকে চেনেন আপনি? বড্ড ভালোবাসে আমায়, না বললেও সেবা করবে বুঝলেন!”
“ তাই নাকি! এতো বিশ্বাস বরের উপর বাহ! আপনার বর কি জানে আপনি আমার সঙ্গে এইভাবে গায়ে,গা মিলিয়ে বৃষ্টিতে ভিজচ্ছেন?”
তূর্ণা আর একটু নড়েচড়ে রৌদ্রিকের পানে পূর্ণ দৃষ্টি স্থাপন করে হেসে বলে-

“ মানিয়ে নিবো বরকে তখন। বর আমার বড্ড ভালো মানুষ বলে কথা। আপনার বউ জানে আমাকে যে এইভাবে ধরেছেন?”
“ উমম, না বউটা আমার বড্ড অবুঝ। তাই অবুঝ বলেই আপনার ফায়দা নিচ্ছি। আপনি আপনার বরকে বলবেন না, আর আমিও আমার বরকে বলবো না এই কথা।”
তূর্ণা এবার হেসে ফেললো, রৌদ্রিক চেয়ে রইলো সেদিকে। তূর্ণা আকাশ পানে চেয়ে বলে ওঠে-
“ চলুন একসঙ্গে ভিজি।”
“ জ্বর আসবে। ”
“ আপনি আছেন তো।”
রৌদ্রিক তূর্ণার মুখের উপর লেপ্টে থাকা হালকা ভিজে যাওয়া কেশরাশি গুলো সড়িয়ে কানের পিছনে গুঁজিয়ে দিলো। আকাশ গর্জে উঠলো শব্দ করে, গুটিগুটি বৃষ্টি এখন রূপ নিয়েছে বিশাল দানায়। আকাশ ভেঙে বৃষ্টি ফোঁটা গড়িয়ে পড়ছে ধরণীর বুকে। বাগানের মধ্যে থাকা দু’টো নর-নারীকে ভিজিয়ে দিচ্ছে পুরো দমে। স্নিগ্ধতায় ভড়িয়ে দিচ্ছে তাদের, তূর্ণা হাত মেলে বাচ্চাদের মত লাফিয়ে উঠছে। আনন্দ তার চোখ-মুখে স্পষ্ট দেখা দিচ্ছে, রৌদ্রিক মুগ্ধ নয়নে সেদিকে তাকিয়ে রয়েছে। বৃষ্টিকে আজকে আর বিরক্ত লাগলো না, বরং বৃষ্টিকে ভালো লাগলো। কারণ এই বৃষ্টির জন্য সামনে থাকা রমণীর এত উচ্ছ্বাস! বৃষ্টি শব্দে মুখরিত হয়ে পরেছে জায়গাটা। তূর্ণা হঠাৎ রৌদ্রিকের মুখপানে চেয়ে চিৎকার করে বলে ওঠে-

“ শুনছেন আমার রোদের পাপা, ভালোবাসি আপনাকে,
ভালোবাসি আপনার গম্ভীর মুখখানা। ভালোবাসি আপনার সঙ্গে মিশে থাকা প্রতিটি জিনিসকে। অতঃপর
ভালোবাসি, শুধুই ভালোবাসি!”
রৌদ্রিক এগিয়ে এলো অতঃপর বৃষ্টিতে ভিজে একাকার হয়ে যাওয়া রমণীকে নিজের সঙ্গে গাঢ় ভাবে মিশিয়ে নিলো। অধর ভাবে হাসির রেখা ফুটে উঠেছে৷ তার গালে টোলটা স্পষ্ট হলো। টুপটাপ করে বৃষ্টিতে ভিজিয়ে দিয়ে যাচ্ছে এই দুই নর-নারীকে; যারা কিনা নিজেদের মধ্যেই বিভোর। তূর্ণা লজ্জায় লাল হয়ে আসা স্নিগ্ধ মুখশ্রীখানা পানে চেয়ে হালকা শব্দ করে হেসে ফেললো রৌদ্রিক। আচমকাই কোলে তুলে নিলো, তূর্ণা আশা করেনি এমন কিছু। তাই অবাক নয়নে চেয়ে রইলো রৌদ্রিকে হাস্যজ্বল মুখশ্রী পানে। লোকটা মাঝেমধ্যে হুটহাট কি করে বসেন নিজেও জানে না। তূর্ণার স্নিগ্ধ মুখখানে চেয়ে রৌদ্রিক বলে ওঠে-
“ আমার #অবেলার_প্রণয়ভেলা!”
তূর্ণা লজ্জায় মাথা নুইয়ে ফেললো, মানুষ সরাসরি ভালোবাসি শব্দটা উচ্চারণ করেনি। অথচ মানুষটার প্রতিটি কাজকর্ম বুঝিয়ে দেয়,মানুষটা তাকে কতখানি ভালোবাসে। রৌদ্রিক তূর্ণাকে কোলে করেই ভিতরে চলে গেলো। তূর্ণা আর কিছু বললো না, তার প্রচন্ড লজ্জা লাগছে এখন।

দিনের আলো ফুরিয়ে রজনীর আগমন ঘটেছে বহু আগেই। বৃষ্টি হওয়ার দরুদ আবহাওয়া শীতল, বাহিরে বয়ে চলছে মৃদু ঠান্ডা হওয়া। রৌদ্রিকের পেটের উপর বসে আছে রোদেলা। কি করছে সে নিজেও জানে না, হুট করেই রোদেলা রৌদ্রিকের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে-
“ আত্তা পাপা বেবি ইরামুর পেতে কিভাবে এলো?”
“ এমনি এমনি এসেছে।”
“ এমনি এমনি কিভাবে এতেছে? হেঁটে এতো আসতে পারবে না, ও তো অনেক টেনি তাই না।”
“ উমম, চাচ্চু ম্যাজিক করেছে তোমার চাচিকে তাই এসেছে।”
“ কি ম্যাতিক পাপা? তুমাকে কে ম্যাতিক করেছে?”
“ আছে একটা ম্যাজিক, তোমাকে আমিই ম্যাজিক করে এনেছি।”
“ তাহলে মা’কে ম্যাতিক করে দাউ। আনি তো বিগ তিত্তাল হবো ।”
” বিগ সিস্টার হতে চায় রোদেলা?”
“ হ্যাঁ, এতগুলো চাই। সবাল সাথে আনি খেলনো অনেক। অনেক আদল করবো, খাইয়ে দিবো, ঘুম পালাবো।”
“ একাই সব করে ফেলবে বুঝি রোদেলা?”
“ হ্যাঁ করবো তো, আনি তো বিগ তিত্তাল তাই না।”
“ আদেশ মনজুর করা হলো আমার রাজকন্যার।”
“ সত্তি?”
“ তিন সত্যি।”
রৌদ্রিকের কথা শুনে রোদেলা খুশিতে গদগদ হয়ে রৌদ্রিকের আদর করে দিতে থাকলো। চুমু দেওয়া শেষে বেড থেকে নামার জন্য পা বাড়াচ্ছিলো, সেটা দেখে রৌদ্রিক জিজ্ঞেস করে-

অবেলার প্রণয়ভেলা পর্ব ৪০

“ কোথায় যায় আমার রাজকন্যা?”
“ মাকে বলে আতি, তুনি ম্যাতিক করে বেবি আনবে তাই।”
রৌদ্রিক মেয়েকে কাছে টেনে নিয়ে বলে-
“ না, এখন মাকে বলা যাবে না। মাকে সারপ্রাইজ দিবো কেমন?”
“ তালপ্রাইজ?”
“ হুম সারপ্রাইজ, পাপা আর রোদের মাঝের সিক্রেট এটা। মনে থাকবে তো?”
রোদেলা হাসি মুখে হ্যাঁ বলে দিলো, সে বলবে না কিছু। এরমাঝেই তূর্ণা কাজ সেড়ে রুমে এলো, বাপ-মেয়েকে গল্প করতে দেখে সেও তাদের সঙ্গে গিয়ে যোগ দিলো। মাথা থেকে কালকের দিনের কথা বেরিয়েই গেছে তার।

অবেলার প্রণয়ভেলা পর্ব ৪২

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here