Home আত্মার অঙ্গীকারে অভিমোহ আত্মার অঙ্গীকারে অভিমোহ পর্ব ৭৫ (৩)

আত্মার অঙ্গীকারে অভিমোহ পর্ব ৭৫ (৩)

আত্মার অঙ্গীকারে অভিমোহ পর্ব ৭৫ (৩)
অরাত্রিকা রহমান

এই যে নাচ গানের শুরু হলো আর থামলো না। যে যার যার মন মতো গানে মন খুলে নাচছে। তবে মিরা, রিমি সোরায়া ঠায় বসে আছে নিজেদের হাত পেতে। তিনজন একটু পর পর ভারী চাহুনিতে একে অপরের দৃষ্টি আকর্ষণ করে যাচ্ছে। মন যেন টিকছেই না আর। ইচ্ছে করছে ছুট্টে স্টেজে উঠে গানের তালে তাল মেলাতে। কিন্তু কথায় আছে না- বিউটি ইজ পেইন..! কথাটা তারা এখন হারে হারে টের পাচ্ছে। হাতের মেহেদী লাগানো এখনো মাঝে পথে। মেহেদী আর্টিস্টরাও ক্লান্ত হয়ে কিছুক্ষণ পর পর ব্রেক নিচ্ছেন। তাদের জন্য হালকা নাস্তার আয়োজন করা হয়েছিল এর মাঝে। এখন একনাগাড়ে বসে থাকায় মিরার বেশ খিদে পেয়ে গেছে। মেয়েটা এমনিতেই অন্তঃসত্ত্বা, তার উপর সকাল থেকে কিছু না কিছু করেই যাচ্ছে অথচ খাওয়ার মধ্যে তার আট আনার কদরও নেই। মিরা করুন মুখে রিমির দিকে তাকালো, সেই বেচারির মুখ ও মলিন হয়ে আছে। আনন্দের মাঝে খিদে অনুভব না হলেও পেট যে খালি তা মুখ প্রমাণ দিচ্ছে। রিমির চোখ মিরার চোখে পড়তেই রিমি খেয়াল করলো মিরা বেশ মনমরা হয়ে গেছে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে। মিরার শরীরের অবস্থা চিন্তা করে রিমি একটু সিরিয়াস হয়ে মিরাকে জিজ্ঞেস করলো-

“মিরু..জান, কি হয়েছে তোর? হঠাৎ চুপ করে গিলি যে! শরীর খারাপ করছে?”
রিমির কথায় মিরার দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল-
“আমার না কেমন খিদে খিদে পাচ্ছে রে..! এইটা এখন আমার ওনাকে বললে খুব রাগ ঝাড়বে আমার উপর। আগেই বলেছিল খেয়ে নিতে, কিন্তু আমার খেয়াল ছিল না। এখন খুব খিদে পাচ্ছে।”
-“আরে কি যে বলিস তুই..! রায়ান ভাইয়া তোর খাওয়া নিয়ে যে পরিমাণ আগ্রহ দেখায়..নাসা বিজ্ঞানীরা মহাকাশ নিয়েও এত আগ্রহ দেখায় না মনে হয়।”
মিরা রিমির কথায় মনে মনে এক মত প্রকাশ করলো‌। সত্যিই, শুরু থেকে এখন অব্দি রায়ান কখনো মিরার খাদ্যাভ্যাসে অনিয়ম দেখতে পারে না। হয়তো রায়ানের লাভ ল্যাঙ্গুয়েজই এটা- “বউ ঠিক মতো খাচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করা।” রিমি মিরাকে খাবার আনানোর জন্য বলল-

“মিরু, তুই ভাইয়াকে ডেকে বল একটু কিছু খাওয়ার জন্য আনতে।”
-“তোদের খিদে পায় নি? বনু কে জিজ্ঞেস করতো কিছু খাবে কিনা? সেই কখন খেয়েছে মেয়েটা।”
রিমি সোরায়াকে ডেকে জিজ্ঞেস করলো-
“সোরা..তোর কি খিদে পেয়েছে? কিছু খাবি..?”
সোরায়া মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বোঝালে রিমি মিরাকে স্পষ্ট করে বলল-
“হ্যাঁ, খাবে বলছে। আমারও বেশ খিদে পেয়েছে।”
মিরা হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে পড়লো। তিন জনের দুই হাতেই মেহেদী তাহলে খাবে টা কিভাবে! ঠিক তখনই ভীরের ঘনঘটা সরিয়ে রায়ান একহাতে প্লেট ভর্তি করে বিরিয়ানী আর অন্য হাতে একটা বড় পানির বোতল এনে ঠিক মিরার পাশে তার গা ঘেঁষে বসলো। মিরা অবাক হয়ে একবার রায়ানের হাতের দিকে আবার রায়ানের দিকে তাকালো। রায়ান হাতের বোতল টা নিচে রাখতে রাখতে সব মেহেদী আর্টিস্টকে উদ্দেশ্যে করে বিনয়ী কণ্ঠে বলল-
“আপু, আপনারা অনেকক্ষণ ধরে কাজ করছেন। গিয়ে খাওয়া দাওয়া করে নিন এবার। আপনার গুনধর ক্লায়েন্ট সারাদিন খাওয়ার অনিয়ম করেছে আজ। অনেকক্ষণ ধরে বসে আছে একটু খেয়ে নিক আগে, পরে না হয় কন্টিনিউড করবেন।”

রায়ানের কথায় মিরা সরু সরু চোখে তাকিয়েই রইল। মেহেদী আর্টিস্টরা উঠে নিজেরা খাওয়ার জায়গায় চলে গেলেন। রিমি সোরায়া মিরার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো। রিমি মজা করে বলল-
“হ্যাঁ ভাইয়া , ভালো করে খাওয়ান তো। ওর নাকি ভীষণ খিদে পেয়েছে। তাই না মিরু?”
মিরা রিমির দিকে চোখ পাকিয়ে তাকালো। রিমি মুখে হাত দিয়ে হাঁসি আড়াল করার চেষ্টা করলো। রায়ান মিরার দিকে দেখলো একনজর। বান্ধবী খেপাচ্ছে এখন যদি সেও তাল দেয় তাহলে মিরার মন খারাপ হবে ভেবে মিরাকে ডিফেন্ড করে বলল-
“আমার বউয়ের পিছনে লাগা বন্ধ করো। খিদে কি ওর একার লেগেছে নাকি? আমার বাচ্চা টার ও তো খিদে পায়।”
সোরায়া শালির আচরণ ধরে রেখে রায়ান কে খোঁচা মেরে বলল-
“হ্যাঁ হ্যাঁ বুঝেছি, তুমি তোমার বউ বাচ্চা কেই খাওয়াও। খিদে তো আমাদের ও পেয়েছে কই আমাদের নিয়ে তো কেউ ভাবে না।”

-“জান তোমার খিদে পেয়েছে তুমি আমাকে আগে বলতে পারতে না?”
সোরায়া মাহিরের কণ্ঠ পেতেই দরজার দিকে তাকালো। মাহির ও হাতে খাবার নিয়ে ঢুকলো। পিছন পিছন রুদ্র ও প্রবেশ করলো। সোরায়া রিমি পুরো অবাক। রায়ান সোরায়ার কথার মজা বানিয়ে বলল-
“তোদের খিদে পেলে সেটা দেখার জন্য তোদের বর রা আছে‌। আমার দেখে কাজ নেই।”
রায়ান কথাটা বলে খাবারের প্লেট হাতে নিয়ে কিছু টা খাবার পাকিয়ে মিরার মুখের সামনে ধরে বলল-
“হা করো..!”
মিরা আবেগী হয়ে বাধ্য মেয়ের মতো হা করলো‌। রায়ান তার মুখে খাবার টা পুরে দিয়ে জিজ্ঞেস করলো-
“আমার পাখিটার সত্যিই কি খুব খিদে পেয়েছিল?”
মিরা চিবোতে চিবোতে মাথা উপর নিচ নেড়ে হ্যাঁ বলল। সাথে নিজেও কৌতুহলী হয়ে জিজ্ঞেস করলো-
“আমার খিদে পেয়েছে সেটা আপনি কি করে জানলেন? খাবার নিয়ে এলেন যে।”
রায়ান আবার মিরার মুখে খাবার তুলে দিয়ে শান্ত কণ্ঠে বলল-
“তোমার খিদে পেয়েছে তাই খাবার এনেছি এমন কিছু না। তোমার এখন খিদে না থাকলেও খাওয়াতাম আর তোমাকে খেতেও হতো।”

মিরা শুধু চিবিয়েই গেল এরপর। আর একটা বারতি কথা বলল না। রায়ান মিরাকে চুপচাপ খেতে দেখে মিরার উদরের দিকে তাকিয়ে অদৃশ্য ছোট্ট আত্মাকে বলল-
“প্রিন্সেস, খুব কষ্ট হয়েছে আজ তাই না? খিদে পেয়েছিল খুব..? পাপা কয়েকদিন ধরে ঠিক মতো তোমার প্যাম্পার করতে পারছি না। আর আজকে তো..”
সম্পূর্ণ কথাটা শেষ না করে মিরার মুখের দিকে চাইলো। বোকা বোকা চাহুনিতে মেয়েটা তার দিকেই ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে, যেন বোঝার চেষ্টা করছে রায়ানের কথাগুলো। ঠোঁটের কোণে খাবার দানা লেগে আছে দেখে রায়ান দীর্ঘশ্বাস ফেলে তা পরিষ্কার করে দিয়ে নিজের কথা শেষ করলো-
“থাক প্রিন্সেস, মাম্মার উপর অভিমান কোরো না কেমন? তোমার মাম্মাও তো ছোট্ট এখনো‌। পাপা এরপর থেকে আরো খেয়াল রাখবো। ঠিক আছে? অনেক ইয়াম্মি ইয়াম্মি ট্রিট দিবো‌। Now, eat and grow bigger and healthier..”

এরপর সে পুরোপুরি মিরাকে খাওয়ানো তে মনোযোগ দিল।
এইদিকে রুদ্র আর মাহির ও একই কাজে লেগেছে। শুধু কী খাওয়া! খাওয়ার পাশাপাশি উড়ন্ত চুলের গুচ্ছ সামলাচ্ছে, মেহেদীর নকশার প্রশংসা করছে, অনবরত গল্প করে যাচ্ছে যেন তারা বিরক্ত না হয়। সোরায়ার অবস্থা তো এমন যেন ঘুমিয়েই যাবে। অনেকক্ষণ বসে ছিল বলে মাহির তার পিঠের দিকে একটা কুশন দিয়ে গা হেলিয়ে বসতে দেওয়ায় এখন শুধু খাবার মুখে নিয়ে চোখ বন্ধ করেই চিবিয়ে যাচ্ছে। মুখের টুকু শেষ হলে মাহির টেনে তুলে আবার মুখে খাবার দিচ্ছে। রিমির ও এক অবস্থা রুদ্র রিমির দিকে নিজের কাঁধ এগিয়ে দিয়ে তাঁকে ইশারায় মাথা ঠেকিয়ে রাখতে বলল। রিমিও মাথা ঠেকিয়ে রাখলো। মিরা তো রায়ানের বাহু জড়িয়ে ধরে সেই বলিষ্ঠ, শক্ত পোক্ত বাহুতেই মাথা ঠেকিয়ে খেয়ে যাচ্ছে শুধু। রায়ান, রুদ্র, মাহির একজন আরেকজনের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলল। তিন জনে একসাথে তাদের নিজ নিজ অর্ধাঙ্গিনীর দিকে তাকিয়ে একসাথে আওড়ালো-“কি একটা অবস্থা?!”
রায়ান এদের এমন ঝিমিয়ে পড়তে দেখে জোড়ে চেঁচিয়ে ডিজেকে বলল-

“ভাই এটা তো একটা বিয়ে বাড়ি নাকি? সবাই তো ঝিমিয়ে পড়েছে‌ আপনাদের চট্টগ্রামের বিয়ে বাড়ি কি এমন হয় নাকি?”
নিজের হোম টাউন নিয়ে খোটা শুনে মিরা আর সোরায়া সঙ্গে সঙ্গে মাথা চাড়া নিয়ে উঠে বাঁকা চোখে রায়ানের দিকে চাইলো। রায়ান নিজেকে তাদের দৃষ্টির কেন্দ্র বিন্দু হিসেবে আবিষ্কার করতেই নিজের মুখে তালা দিল। রায়ানের কথায় ডিজে সিলেক্ট করে রাখা গান গুলো বাজানো শুরু করলো। গানের টিউন বাজতেই মিরা চিৎকার করে উঠলো –
“রিমি, বনু আমাদের সিলেক্ট করা সং..!”
রিমি আর সোরার হুস ফিরলে। তারা কান খাড়া করে বড় বড় চোখ করে মিরার দিকে তাকালো। উচ্চ স্বরে গানের প্রথম লাইন বাজলো-
“AAA re Pritam piyare..
Bandook mein na toh goli mere..”
মেয়ে গুলো একসথে চিৎকার দিয়ে উঠে এক দৌড়ে স্টেজে উঠে গেল। রায়ান রুদ্র আর মাহির হা হয়ে আছে এদের কান্ড দেখে। বেচারা হাতে খাবার প্লেট নিয়ে দাঁড়িয়ে আর তাদের বউরা স্টেজে উঠে গেছে নাচতে।

-“AAA re Pritam piyare..
Bandook mein na toh goli mere..
AAA re Pritam piyare..
Sab aag toh meri choli mein re..
Jara hukka utha, Jara chillam Jalaaa…
Hayyyy..
Pallu ke niche chupake rakkha hey..
Dikhadu to hanggama hooo..”
বউদের এমন গানে তাল মিলিয়ে নাচতে দেখে ছেলে গুলো হতভম্ব। মেয়েগুলো তো মনের আনন্দে কেবল নেচেই যাচ্ছে। রায়ান মিরার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে তার বউ এতো ভালো বাইক চালানোর পাশাপাশি এতো ভালো নাচতেও পারে তা তো সে জানতো না। চোখের পলক এক মূহুর্তের জন্যও পড়ছে না তার। রায়ান মুগ্ধ দৃষ্টিতে মিরার দিকে তাকিয়ে বলল-

“আমার বউটা এত ভালো নাচে..! কই এর আগে তো আমাকে একবারও নেচে দেখালো না।”
রুদ্র রায়ানের কথার পৃষ্ঠে বলল-
“আরে মিরা কই তেমন ভালো নাচ করছে? রিমির বডি মুভম্যান্ট পুরো এ্যাকুরেট।”
রায়ান বাঁকা চোখে রুদ্রর দিকে তাকালো। রুদ্রর কথায় আবার মাহির প্রতিবাদ করে বলল-
“বডি মুভম্যান্ট হলেই কি নাচ হলো? এ্যাক্সপ্রেশন ম্যাটার করে। এটায় সোরা বেস্ট। ওর নাচ দেখেই তো আমি ফিদা হয়ে গেছিলাম।”
এবার রায়ান রুদ্র একসাথে বাঁকা চোখে মাহিরের দিকে চাইলো। মাহির মোহিত চাহুনিতে সোরায়ার দিকে তাকিয়ে আছে। যেন নবীনবরণের দিনটা চোখের সামনে ভাসছে। রায়ান তাদের সবার কথার খন্ডন করে বলল-
“আরে তোরা কিসের সাথে কি মিলাচ্ছিস? আমার বউ পুরো তিন মাসের প্রেগন্যান্ট। তার পরও ওর এনার্জি দেখ শুধু। ওর সাথে রিমি আর সোরায়ার তুলনা চলে? আমার হৃদপাখির চোখে মুখে প্রেগন্যান্সির গ্লো দিখছিস? পুরো চোখে বিঁধছে।”

মাহির রুদ্র এবার রায়ানের দিকে বাঁকা চোখে তাকালো‌। রায়ান ও এক মনে মিরাকে দেখতে ব্যস্ত। মাহির সোজা হয়ে সোরায়ার দিকে তাকিয়ে বলল-
“আর সোরায়ার চোখে মুখে নিউ ব্রাইড গ্লো কি তোর চোখে পড়ে না? আমার তো চোখই ঝলসে যাচ্ছে ওকে দেখে।”
রুদ্র রায়ান আর মাহিরের কথায় বেশ বিরক্ত হলো কারণ তার বলার মতো তো কোনো জায়গা নেই। বেচারা মনে মনে ঠিক করলো তার বউয়ের প্রকৃতিগত একটা গ্লো এর ব্যবস্থা করতেই হবে তার। কিন্তু এই মুহূর্তে আর তার কিছু বলার নেই তাই শান্ত গলায় শুধু বলল-
“হয়েছে হয়েছে, যে যার যার বউকে দেখ তাহলেই হয়।”
রায়ান স্টেজের দিকে এগিয়ে গিয়ে মিরার দৃষ্টি আকর্ষণ করে নিজের কাছে ডাকলো। মিরা উচ্ছসিত হাঁসি মুখে রায়ানের দিকে গিয়ে ঝুঁকে গেল। রায়ান মিরার মুখে খাবার দিয়ে সাবধান করে বলল-
“হৃদপাখি, একটু ধীরে নড়াচড়া করো সোনা। তোমাকে দেখে তো আমার ভয় করছে। বেশি লাফালাফি করা যাবে না এখন।”

মিরা লক্ষ্মী মেয়ের মতো মাথা নেড়ে আবার রিমি আর সোরায়ার কাছে চলে গেল নাচতে। এভাবে করে রুদ্র আর মাহির ও ফাঁকে ফাঁকে রিমি আর সোরায়া কে খাইয়ে দিতে লাগলো। সময় পার হতে হতে বউদের খাওয়ানো শেষে তারা নিজেরাও খাবার নিয়ে এসে বউদের নাচ দেখতে দেখতে খেয়ে নিল। এর মাঝে তিন জনের তর্ক ও অব্যাহত ছিল-কার বউ বেশি ভালো নাচ করছে এই নিয়ে। খাওয়া দাওয়ার পর্ব শেষ হলে মিরা রিমি সোরায়া স্টেজ থেকে নেমে দলবদ্ধ হয়ে ছেলে তিনজনের সামনে গিয়ে একসাথে বলল-
“খালি দেখলে হবে? খরচা আছে।”
রায়ান রুদ্র তাদের কথা বুঝে একে অপরের সাথে চোখাচোখি করে মাহির কে মাঝে ফেলে দুজন দু দিকে সরে গিয়ে একসাথে বলল-

“যার বিয়ে তার খরচা।”
মাহির পর পর রায়ান রুদ্র দিকে এক নজর তাকিয়ে মনে মনে বিড়বিড় করলো-
“দুই ভাই মিলে আমাকে সাইড লাইনে করে দিলি তো! এবার দেখ।”
মাহির পকেট থেকে দুটো ৫০০ টাকার নোটের বান্ডিল বের করে একটা মিরার হাতে আর একটা রিমির হাতে দিয়ে ইচ্ছে করে রায়ান আর রুদ্র কে খোঁচা মেরে মিরা আর রিমা কে উদ্দেশ্য করে বলল-
“তা তো অবশ্যই। যার বিয়ে খরচ তো তারই হওয়ার কথা। আমি তো আর অন্য দের মতো তুলে নিয়ে গিয়ে বা হঠাৎ বিয়ে করে ঘরে বউ আনি নি। আমার তো আর শালিদের ঠাকানোর সুযোগ নেই। শালিদের ডিমান্ড অনুযায়ী তারা যা চাইবে তাই পাবে।”
মিরা আর রিমি মাহিরের কথায় মুখ টিপে হেঁসে মাহির কে উৎসাহ দিলো-“ওয়াওওও..what a big heart personality…!”

সোরায়ার মুখে গর্বিত ভাব সাথে ঠোঁটের কোণে একটা হাঁসি লেগেই আছে। মাহিরের কথায় নিজের বউদের সম্মতি প্রকাশ করতে দেখে রায়ান আর রুদ্রর গায়ে ফোস্কা পড়লো। দুজন ভাব দেখিয়ে সোফা থেকে উঠে পাঞ্জাবি টা ঝাড়া দিয়ে দাঁড়ালো। মাহির আড় চোখে দুজনকে দেখলো একনজর। প্রথমে রায়ান নিজের পকেট থেকে দুটো ১০০০ টাকার নোটের বান্ডিল বের করে একটা রিমির আর একটা সোরায়ার হাতে দিল। আর পরে রুদ্র তার নিজ হাতে মিরার হাতে আর সোরায়ার হাতে ৫০০টাকার নোটের বান্ডিল দিল। রায়ান রুদ্রর কাছে স্পষ্ট বোঝা গেল মাহিরের খোঁচা ঠিক কতটা জোরে লেগেছে তাদের গায়ে। মাহির মনে মনে সফলতার হাসি হাসলো। মিরা রিমি আর সোরায়া একজন আরেকজনের হাতের টাকার বান্ডিলের দিকে তাকিয়ে কুটিল হাসলো। নিজেদের বরের এমন ছোটখাটো খোঁচাখুঁচি তে তাদের লাভই হলো। মিরা দুষ্টু হেঁসে মাহির কে উৎসাহিত করে বলল-
“মাহির ভাই, বলি কি, আপনারা আরেকটু খোঁচাখুঁচি করে আরো কয়েকটা বান্ডিল বের করুন পকেট থেকে।”
রিমি সোরায়া মিরার কথায় সম্মতি দিয়ে মাথা একনাগাড়ে হ্যাঁ সূচক নাড়ালো‌। ছেলে গুলো কয়েকবার পলক ফেলে তাদের বউদের অবস্থা দেখলো। এখন আর কেউ কিছু বলছে না দেখে মিরা আর কথা না বাড়িয়ে হিহি করে হেঁসে রিমি আর সোরায়াকে উদ্দেশ্যে করে বলল-

“আচ্ছা, থাক। এনারা লেগে থাকুক। আয় আয় আমরা মজা করি গিয়ে। মেহেদী ও শুকিয়ে গেছে। এইগুলো তুলে আবার বাকি টুকু লাগিয়ে নিবো।”
মিরার কথা মতো রিমি আর সোরায়া নিজেদের টাকার বান্ডিল গুলো দিয়ে ভাব নিয়ে মুখে হাওয়া করতে করতে স্টেজে ফিরে গেল। ছেলে গুলো পুরো বোকা বনে গেল যেন। রায়ান মাহিরের মাথায় গাট্টা মেরে বলল-
“তোর জন্য হলো এসব।”
মাহির উল্টো রায়ানের কাঁধে ধাক্কা দিয়ে বলল-
“তোরে কি আমি বলছি ভাব মারিয়ে টাকা দিতে? বেশ হয়েছে, তোরই বেশি টাকা গেছে।”
কথাটা বলেই ঠাট্টা করে মাহির আর রুদ্র হেঁসে উঠলো। রায়ানের কথা গেছে বলে আফসোস না হলেও সবার কাছে বোকা হয়ে গেল সেটা সহ্য হচ্ছে না। তার থেকেও বেশি হয়তো গায়ে লেগেছে মিরাও সবার সাথে মিশে তাকে ধোঁকা দিল তাই। ছেলেটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে সোফায় বসতে যাবে তখনি মিরা হুট করে এসে ছেলেটার হাত ধরে টেনে দাঁড়া করিয়ে বলল-

“হাবি, চলুন না। আমার সাথে নাচবেন।”
রায়ান হকচকিয়ে গিয়ে মিরার থেকে নিজের হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করতে করতে বলল-
“পাগল নাকি? আমি নাচতে টাচতে পারি না। ছাড়ো হৃদপাখি। এই নিয়ে জোর করে লাভ নেই।”
-“পারতে হবে না আপনার। আমার সাথে শুধু কোমর দোলাবেন। চলুন না।”
রায়ান কিছু একটা ভেবে মিরাকে এক টানে নিজের দিকে টেনে নিল। মিরার কোমর জড়িয়ে ধরে বলল-
“কোমরে বেশি জোর হয়েছে তাই না? তখন থেকে দেখে যাচ্ছি শুধু। আজ ঘরে চলো একবার, রাতে দেখবো ভালো করে। এখন পাগল কোরো না আমাকে।”
মিরা ভয়ে শুকনো ঢোক গিলে রায়ানের দিকে পিট পিট করে তাকিয়ে বলল-
“সরি..আর নাচতে বলবো না। ছেঁড়ে দিন।”
রায়ান নিজেকে সামলে নিয়ে মিষ্টি হাসি দিয়ে মিরাকে মুক্ত করে দিল। মিরা ছাড়া পেতেই রায়ানের থেকে দূরে চলে গেল। রায়ান মিরা চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থেকে আনমনে গাইলো-

“তুমি দেখায়াও দেখলা না..
তুমি শুনিয়াও শুনলা না..
তুমি জ্বালা ইয়া গেল মনের আগুন..
নিভাইয়া গেলা না..!”
মিরা পিছন ফিরে রায়ানের দিকে তাকিয়ে শব্দ করে হেঁসে উঠলো। রায়ান মিরার হাঁসি মুখ দেখে বুকের বা পাশে হাত রেখে ঠাস করে সোফায় বসে পড়ে বলল-
“হায়য়য়..!
তারপর দৌড়ে মিরার পিছন পিছন গিয়ে মিরার পাশে কাটিয়ে স্টেজে উঠে যেতে যেতে মিরার উদ্দেশ্যে বলল-
“Watch your hubby My Mrs..!”

এরপর যা হলো মিরা সম্পূর্ণ অবাক। গান বাজলো সাথে রায়ান ও নেচে উঠলো-
“চিকন চাকন মান্জা দোলে গানের তালে তালে..
হায় হায়, গানের তালে তালে।
হাঁসি দিলে টোল পড়ে তোমার দুটি গালে,
চুপি চুপি থাকো তুমি কাছে আসো না,
আসলে তুমি আমায় ভালোবাসো না।
তুমি জ্বালাইয়া গেলা মনের আগুন,
নিভাইয়া গেলা না।”
মিরা মুখে হাত দিয়ে হা হয়ে শুধু দেখছে তার বরকে। এমন হাড় কষ্টা মানুষ তার জন্য নাচছে! ভাবা যায়? মিরার কিছু ছোট বেলার বান্ধবীরাও সেখানে উপস্থিত ছিল। রায়ান মিরার বর জানতে পেরে একজন মিরার পাশাপাশি এসে মিরার কাঁধে হেঁয়ালি করে ধাক্কা মেরে বলল-

“মিরু রে, এটা তোর বর?”
মিরা মিটিমিটি হেসে হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়লো রায়ানের দিকে মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকেই।
-“তাই নাকি? কই আজ অব্দি তো অনলাইনে একসাথে ছবি দিয়ে কোনো পোস্ট করলি না।”
মিরা তার ফ্রেন্ডের দিকে বাঁকা চোখে তাকিয়ে বলল-
“খালি নজর লাগবে বলে কিছু পোস্ট করি না। (আবার রায়ানের দিকে তাকিয়ে বলল) নাইলে আমার বেডায় যেই মাল..!”
মাঝ পথে কথা থামিয়ে দিয়ে মিরা চুপ করে কথা গিলে নিলো। একটুর জন্য তার ভেতর কার রায়া জেগে উঠেছিল যেন। মিরা কথা বলা থামিয়ে দৌড়ে স্টেজে উঠে গিয়ে চেঁচিয়ে উঠলো- “এই…গান থামাও..”
রায়ান এক সেকেন্ডের জন্য থেমে গেল। মিরা ডিজের উদ্দেশ্যে বলল-
“কাউন্টার হিসেবে আমি যা গাইবে সেই গান বাজবে।”

রায়ান নিজের দুহাত উঁচু করে নিয়ে সেরেন্ডার করার ভাব ধরলে মিরা বুকে হাত ভাব নিয়ে হাত বেঁধে গাইলো-
“দুইয়ে দুইয়ে চার হয় আর তিনে তিনে ছয়..
ভালো বাসাতে একটু দিওয়ানা হয়ে হয়..!”
রায়ান সম্মতি দিল-“জি জি অবশ্যই মিসেস.. আমি তো আপনার দিওয়ানাই হয়ে আছি সেই কবে থেকে।”
এরপর গান বাজলে মিরা রায়ানের হাত টেনে নিজের কাছে নিয়ে এসে একসাথে নাচতে শুরু করলো-
“দুইয়ে দুইয়ে চার হয় আর তিনে তিনে ছয়..
ভালো বাসাতে একটু দিওয়ানা হয়ে হয়..!
তোমায় দেখে সবই হলো এলো মেলো..
সবই দিয়েছি বাসো না ভালো।
ঘুরছি আমি কোন প্রেমেরই ঘুর্ণিরপাকে,
ইশারাতে শীষ দিয়ে কে ডাকে আমাকে..
ঘুরছি আমি কোন প্রেমেরই ঘুর্ণিরপাকে..
ইশারাতে শীষ দিয়ে কে ডাকে আমাকে..”
অব্যহত রইল তাদের নাচ। এরপর রিমি রুদ্র মাহির সোরায়াও তাদের সাথে যুক্ত হলো। গান বদলালো নাচের দলও বদলিয়ে ছেলেপক্ষ ও মেয়েপক্ষের সৃষ্টি হলো। এমন উৎসব মুখর পরিবেশ দেখে বাড়ির বড়রাও সেখানে এসে হাজির।
ছেলেরা একসাথে-“chunari chunari, chunari chunari..”
মিরা রায়ানের বিপরীতে-

“Meri chunri Lal rang ke sharmaye ghabraye..
Wo Jo dale isqu najariya aur Lal ho jaye..”
আর রায়ান মিরার প্রতি উত্তরে-
“Teri chunri lipat lipat ke Pagal mujhe banaye..
Pahle SE hi tadap Raha tha AUR mujhe tarpaye..!”
মাহির সোরায়ার বিপরীতে-
“Jane tamanna Karna aise setamm..
সোরায়া তার প্রতি উত্তরে-
Kuch na mein Bolu tujhe Meri kasam..
রিমি রুদ্রর বিপরীতে-
“Aai jawani sar pe mere..
রুদ্র তার উত্তরে-
“”Tere pe kiya karu jawani be rehem..”
এই রইল অব্যহত ধারা।
মিরা-“aja na chule Meri chunri Sanam..”
রিমি-“Kuch na mein Bolu tujhe Meri kasam..”
সোরায়া-“ayie jawani sar oe mere…”
তিন জন একসাথে-“Tere pe kiya karu jawani be rehem..”

রাত-১.৩০~
অনুষ্ঠানের শেষে সবাই নিজেদের হাতে মেহেদি পড়ে নিয়েছিল আর এখন যে যার যার ঘরে। জামা কাপড় ছেড়ে ক্লান্ত শরীর যেন আর চলছে না কারোর। রিমি রুদ্র নিজেদের ঘরে গিয়ে চুপচাপ শুয়ে পড়েছে। মৃদু আলোয় আলোকিত ঘরে বিছানায় শুয়ে রুদ্র রিমির হাত নিয়ে আধো আলোয় নিজের নাম টা পলকহীন ভাবে দেখে যাচ্ছে‌। রিমি ঘুমন্ত চোখে বাধ্য হয়ে তাকিয়ে আছে রুদ্রর জন্য। রুদ্র আলতো করে রিমির হাতে ঠোঁট ছোয়ালো ঠিক তার নামটার উপর। রিমি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল-
“নিজের নামটা আর কতবার পড়বেন?”
-“সারা জীবন পড়বো। তোমার কি?”
রিমি বিরক্ত কণ্ঠে বলল- “আমারই সব কিছু। এই যে এতটা সময় হাত টা নিজের চোখের সামনে ধরে রেখেছেন for your kind information, এই হাতটা আমার।”
-“এটা আমার বউয়ের হাত।”
-“আপনার বউটা কে শুনি?”
রুদ্র দাঁত বের করে হেঁসে বলল- “এই যে তুমি।”

রিমি নিজের চোখের উপর হাত দিয়ে রুদ্রর হাত থেকে নিজের হাত টা ছাড়িয়ে নিয়ে বলল-
“রুদ্র প্লিজ, আমাকে হাসানোর চেষ্টা করবেন না তো। হাসলে এখন মাথা ধরে যাবে। ঘুম পেয়েছে আমার।”
রুদ্র বিছানায় ধপ করে উঠে বসলো হঠাৎ। রিমি চোখের উপর থেকে হাত সরিয়ে মাথা তুলে রুদ্রর দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো-
“কি হলো আবার? উঠলেন যে! ঘুমাবেন না? কাল অনেক কাজ আছে রুদ্র। আমাদের ঘুমানো উচিত।”
গম্ভীর গলায় রুদ্র রিমিকে আদেশ মূলক সুরে বলল-
“উঠে বসো।”
রিমি রুদ্রর এমন গলা শুনে চিন্তিত হয়ে হকচকিয়ে উঠে বসে জিজ্ঞেস করলো-
“কি হয়েছে? কোনো সমস্যা? কিছু চাই আপনার?”
রুদ্র রিমির দুই হাত নিজের হাতে নিয়ে খুব সিরিয়াসলি বলল –
“আমার একটা আলুভর্তা চাই ডালভাত।”
রিমি রুদ্রর কথা ঠিক বুঝে উঠতে পারলো না। রুদ্র মাঝে মাঝেই তাকে আদর করে ডালভাত ডাকে কিন্তু এখন আলু ভর্তা কোথা থেকে এলো সে বুঝতে পারছে না। রিমি দ্বিধায় প্রশ্ন করলো-
“আলুভর্তা চাই মানে? এখন এটা কেন চাই?”

রুদ্র কোনো রকম কপটতা ব্যতীত রিমির দিকে আগ্রহ নিয়ে এগিয়ে গিয়ে বলল-
“তুমি বলেছিলে ডালভাত প্রত্যেক টা মানুষের বেসিক নিড। আমার জীবনে আমার বেসিক নিড, আমার ডাল ভাত আছে। কিন্তু মানুষ মাত্রই লোভী। তাদের তো প্রয়োজনীয়তার সীমা নেই। তাই এখন আমার জীবনে বেসিক নিড ও বেড়েছে। আমি আমাদের আলুভর্তা কে চাই রিমি। দেবে না আমায়?”
রিমি এবার রুদ্রর কথা বুঝলো। আজ প্রথমবার রুদ্র তাদের মাঝে তৃতীয় একটা প্রাণের উপস্থিতি চাইছে। রিমি নিশ্চিত হতে পাল্টা প্রশ্ন করলো-
“তো, এই হঠাৎ নিড বেড়ে যাওয়ার কারণ টা কি শুনি?”
রুদ্র সোজা সাপ্টা উত্তর দিল-
“ভাইয়া বলছিল আজ মিরার চোখে মুখে নাকি প্রেগন্যান্সির গ্লো দেখা যাচ্ছিল। মাহির ভাই বলেছিল সোরার চোখে মুখেও নাকি নিউ ব্রাইড এর গ্লো দেখা যাচ্ছিল।”
-“হুম, কথা তো ঠিকই। তো?”
-“তো মানে? আমিও তোমাকে গ্লো করতে দেখতে চাই। I am so fascinated to see you glowing for our pregnancy.. that’s it..”

রিমি রুদ্রর কথায় পারছে না এখন গড়াগড়ি করে হাসতে। যে ছেলের চিন্তা ভাবনা এখনো এতো সরল তার বাচ্চা হলে কি হবে কে জানে। রিমি নিজের হাসি কন্ট্রোল করে রুদ্র কে শান্ত করতে বলল-
“আচ্ছা ঠিক আছে। সেটা পরে দেখা যাবে। আপাতত চলুন ঘুমিয়ে পড়ি। কাল অনেক ব্যস্ত দিন কাটবে।”
-“পরে দেখা যাবে মানে? এইটা যথেষ্ট লং প্রসেস। We need to hurry..”
রিমি অন্য দিকে ফিরে মুখ টিপে হেসে শোয়ার জন্য বালিশ ঠিক ঠাকই করতে করতে বলল-
“আজ ঘুমিয়ে একটু রেস্ট নিবো আমি। যেহেতু লং প্রসেস আমার একটু এনার্জি গেইন করা দরকার তাই না? We will hurry it up later..ok?”
-“later when?”
রিমি রুদ্রর দিকে তাকিয়ে এক নজর দেখলো। ছেলেটা সত্যিই খুব আশাবাদী এখন। রিমি মনে মনে বিড়বিড় করলো-“এই অধৈর্য মানুষ টাকে কিভাবে সামাল দিই এখন?”
-“বিয়ের ঝামেলাটা শেষ হলে মেইবি!”
-“you mean কাল থেকে?”
রিমি অস্বস্তিতে পড়ে গেল এখন। তার মাথায় ঘুরছে রুদ্র কি একটুও বুঝতে পারছে না যে তার লজ্জা করছে এমন কথায়। রিমি আর কিছু না বলে চুপচাপ রুদ্রর হাত ধরে টেনে ছেলেটাকে শুইয়ে রুদ্রর হাত নিজের কোমরে জড়িয়ে তার পাশে শুয়ে পড়ে বলল-

আত্মার অঙ্গীকারে অভিমোহ পর্ব ৭৫ (২)

“আমার লজ্জা করছে। এই নিয়ে আর কিছু বলবেন না প্লিজ। আপনি যা ভালো মনে করবেন আমি তাতে রাজি। Good night..”
রুদ্র সত্যিই বুঝতে পারছিলনা হয়তো কিন্তু রিমির সোজাসাপ্টা স্বীকারোক্তির পর এই নিয়ে আর কথা তুললো না। রিমির এলো মেলো চুল গুলো সরিয়ে মেয়েটার কানের কাছে আলতো করে ঠোঁট ছুঁইয়ে আবেশে নিজেকে সেই চুলের মাঝে ডুবিয়ে দিয়ে ঘুমিয়ে গেল। রিমিও চোখ দুটো বন্ধ করে মন শান্ত করার চেষ্টায় ঘুমিয়ে পড়লো।
___ মিরা-রায়ানের ঘর

আত্মার অঙ্গীকারে অভিমোহ পর্ব ৭৬

1 COMMENT

Comments are closed.