Home আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে সিজন ২ আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে সিজন ২ পর্ব ৭১+৭২+৭৩

আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে সিজন ২ পর্ব ৭১+৭২+৭৩

আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে সিজন ২ পর্ব ৭১+৭২+৭৩
ফারজানা মনি

ঘর জুড়ে স্নিগ্ধ আলো, ফুলের মালা, আর হালকা instrumental সঙ্গীত। দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে আলী আহমেদ খান, মোজাম্মেল খান, ইকবাল খান, মালিহা খান ,হালিমা খান, আকলিমা খান সহ পরিবারের সকল সদস্য।
প্রত্যেকের চোখে একরাশ উচ্ছ্বাস। হঠাৎ করেই দরজায় কলিং বেল বেজে ওঠে।
মিম: এসেছে.. ভাইয়ারা এসেছে..

হালিমা খানের চোখ ভিজে গেছে জলে। বলল: আমার নাতি নাতনি এসেছে।
মালিহা খান মেঘের ছেলেকে কোলে নিয়ে বললেন: আল্লাহ তায়ালার রহমত নামিয়ে দিস ঘরে।
আলী আহমেদ খান সামনে এগিয়ে গিয়ে আবিরের কোল থেকে নাতনিকে কোলে নিয়ে বললেন: আমার নাতনি কি কম নাকি? দেখেছো.. ও এসেছে আর সারা ঘর আলোয় আলোয় ভরে গেছে।
মা বাবার খুনসুটি দেখে আবির হাসলো।
ইকবাল খান হেসে হেসে বললেন: আবারো খান পরিবার আরো দুইজন নতুন উত্তরসূরী পেয়ে গেল।
আজ শুক্রবার..

বাড়ির বাগানের ছোট একটা মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। যেখানে ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে বসে আছে মেঘ ও আবির। আজ ওদের নামকরণ করা হবে। আত্মীয়-স্বজনরা ও পাড়া-প্রতিবেশী সবাই এসেছে আবিরের ছেলে মেয়েকে দেখতে। আদি একটা ছোট কবিতা পাঠ করে বাবুদের উদ্দেশ্যে__
আলো হয়ে এলে তোমরা, খান ঘরে সুর বাজে
তোমাদের হাসিতে যেন, খান পরিবারের নতুন দিন সাজে
তারপর মালিহা খান ছেলে বাবুকে একটা ছোট সোনার লকেট সহ চেইন ও মেয়ে বাবুকে সোনার ছোট ২টা চুড়ি পরিয়ে দিল। যা খান বাড়ির ঐতিহ্যের প্রতীক।
মালিহা খান গভীর আবেগী কণ্ঠে বাবুদের উদ্দেশ্যে বলল: এক সময় এই চুরি ও চেইন তোমাদের মা-বাবা পড়েছিল। আর এখন থেকে এগুলো তোমাদের।

একে একে সকলেই এসে দোয়া করে গেল ও অনেক গিফট দিল। এখন নাম রাখার পালা…
আবির মেয়ের নাম রাখল “মেহেবুবা খান আহিয়া”। আর মেঘ ছেলের নাম রাখল “মাহাদীব খান আহিয়ান”।
তাছাড়া পরিবারের সকলেই ভিন্ন ভিন্ন নাম রাখল। যেমন ছেলের নাম রাখল: ফারাজ, আয়ান, রাফি, আহিল, মাহির, মাহতাব ,আহির, মৃদুল, আইয়ুশ, ইসরাক, মাহিম, আদিল, মাশরাফি ,সাফওয়ান ,মাহিদ, মেহরাব ইত্যাদি।
আর মেয়ের নাম রাখল: আশিরা, জানাবির, আরিবা, আফরিন ,মাহিরা, মেহেজাবিন, মুঞ্জা, মুবিনা ,মাইশা, মাহফুজা ইত্যাদি।
নামের এত বড় লিস্ট দেখে তানভীর মাথায় হাত রেখে বসে পরে বলল: আমার মাত্র একটা ভাগিনা ও একটা ভাগ্নি.. ওদের এত নাম হলে তো ওরা নিজেরাই নিজের নাম ভুলে কনফিউজড হয়ে যাবে। ভাইয়া আর বনু যা নাম রেখেছে তাই থাকবে।
কিন্তু আমি আমার ভবিষ্যৎ মেয়ে জামাইকে তাশফিন খান বলেই ডাকবো। যার অর্থ একজন সুশৃংখল ও বুদ্ধিমান ব্যক্তি। আর আমার মেয়ের ভবিষ্যৎ একমাত্র ননদের নাম হবে তাশফিয়া খান। যার অর্থ বিশুদ্ধ, পবিত্রতা, পরিশুদ্ধতা ও সততা।

বন্যা রেগে ফুসে উঠে বলল: এই… আপনি না এই মাত্র বললেন , ভাইয়া আর মেঘের ছাড়া আর কারো নাম গ্রহণযোগ্য না। তাহলে আপনি কেন রেখেছেন?
তানভীর দাঁত কেলিয়ে জবাব দিল: কারণ, ওদের সাথে আমার ভবিষ্যৎ সম্পর্কটা অন্যরকম। চাইলে তুমিও রাখতে পারো। কারণ তুমি আর আমি একই তো বউ।
তানভীর এর কথা শুনে মিম আর আদি রাগে কটমট করছে।
পরিস্থিতি ভয়ংকর বুঝতে পেরে তানভীর ছুটে সিঁড়ি বেয়ে নিজের রুমের দিকে চলে গেল।
একদিন সন্ধ্যাবেলা।
আবির অফিস থেকে বাড়ি এসেই দেখতে পেল ডাইনিং টেবিলের উপর ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে চকলেটের মোরক।
আবিরকে দেখে মেঘ রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এসে রাগী কণ্ঠে বলল : আপনার ছেলে আবারও লুকিয়ে রাখা চকলেট গুলো চুরি করে খেয়ে ফেলেছে।

চার বছরের আহিয়ান আধো আধো কণ্ঠে বলল: আমি তো খাইনি পাপা.. আহিয়া আমাকে জোল কলে খাইয়েছে!
আহিয়া আহিয়ানের থেকে কয়েক মিনিটের ছোট হলেও বেশ চালাক। সঙ্গে সঙ্গেই বলল: পাপা.. ভাইয়া মিত্তা বলিচে মিত্তা। আমি.. তো.. বলেতিলাম, খেওনা। সেই জোল করে সব খেয়ে ফেলেচে।
আবির মুচকি হেসে ছেলে মেয়েকে একসাথে কোলে নিয়ে সোফায় গিয়ে বসলো।
আহিয়ান ও আহিয়া সন্ধ্যায় সোফায় বসে আঁকা আঁকিতে ব্যস্ত । আবির একটু আগেই রুমে গেছে ফ্রেশ হতে। এখন আর আগের মত বাড়ি ফিরেই ফ্রেশ হতে পারে না। এসেই ছেলে মেয়ের সকল আবদার শুনতে ব্যস্ত থাকে।
আহিয়া মায়ের একটা পুরনো ছবি নিয়ে আঁকার চেষ্টা করছে। কিন্তু কিছুতেই পারছে না। পারবেই বা কি করে? মাত্র চার বছরের শিশু এত কঠিন ড্রইং কি করে করবে।
তাই একটু আগেই মিমকে চকলেট দেওয়ার কথা বলে জোর করে এনে ড্রয়িং এ হেল্প করতে বসিয়ে রেখেছে।
আহিয়ান বাবাকে এঁকেছে। একটা বিশাল স্যান্ডউইচ মুখে পুরে খাচ্ছে। মিম ওদের সাহায্য তো করেছে। কিন্তু জানে, একটু পর এসবের জন্য ওর উপর দিয়ে ঘূর্ণিঝড়, টর্নেডো, নার্গিস সব একসাথে যাবে।
আবিরকে নিচে নামতে দেখেই আহিয়া দৌড়ে গিয়ে সামনে দাঁড়ালো।
আবির: কি হয়েছে মামনি?
আহিয়া: পাপা.. এই দেখো মাম্মা..

আবির আহিয়ার হাতের ড্রয়িং খাতার দিকে তাকিয়ে দেখলো, কাঁচা হাতে একটা ছবি আঁকা। একটা বাঁকা তেরা মেয়ে। বিশাল লম্বা চুল। যা পা পর্যন্ত । চোখ দুটো বড় বড় । আবির তো দেখে হাসতে হাসতে শেষ। বলল : এটা তোমার মাম্মা?
আহিয়া: হুম.. মাম্মা..
হঠাৎ আবির শুনতে পেল রান্নাঘর থেকে মেঘ ও বন্যার অট্টহাসির শব্দ। আবির সেদিকে এগিয়ে গেল , গিয়ে যা দেখল আবিরের তো চক্ষু চরক গাছ। আহিয়ানের হাতে একটা ড্রয়িং ।যেখানে একটা মোটা তাজা লোক হাঁ করে বড় একটা স্যান্ডউইচ খাচ্ছে। নিচে ভাঙ্গা ভাঙ্গা অক্ষরে লেখা “আমার পাপা”
আবির আহিয়ানকে ডাকলো: সোনা এদিকে আসো তো..
আহিয়ান আসলে আবির হাঁটু গেড়ে সামনে বসে জিজ্ঞেস করল :তোমাকে কে বলেছে এটা আমি? মানে তোমার কেন এমনটা আঁকতে ইচ্ছে হলো..
আহিয়ান হাসি হাসি মুখ নিয়ে বলল: আম্মু ই তো ছবছময় তোমাকে বুলে তোমার নাকি খাওয়া ও ঘুম ছালা কোন কাজ লেই।

আবির রাগে কটমট করে তাকালো মেঘের দিকে। মিম ও বন্যা মুচকি মুচকি হাসছে।
আলী আহমেদ খান হঠাৎ বলে উঠলো: ঠিকই তো বলেছে আমার বৌমা.. সকাল বিকাল অফিস, খাওয়া আর ঘুম ছাড়া তোমার আর কি কাজ? আলী আহমেদ খানের সাথে তাল মিলিয়ে তানভীর বলল: আমার মেয়ের জামাইয়ের ট্যালেন্ট আছে বল ভাইয়া.. বলেই দাঁত কেলিয়ে হাসলো।
আবির রাগী রাগী মুখ নিয়ে বলল: তোকে আমার বেয়াই জীবনেও বানাবো না। আমি উপরে যাচ্ছি। তোর মেয়েকে আজই অন্য কোথাও বিয়ে দিয়ে দিব। বলেই আবির সকলের মুখের দিকে একবার তাকিয়ে উপরে চলে গেল ।
বন্যা মাথায় হাত দিয়ে বলল: হায় আল্লাহ.. কবে যেন এদের দুই ভাইয়ের দুষ্টুমির জন্য আমার ছোট মেয়েটার কপাল পোড়ে। বন্যা ও তানভীর এর মেয়ে তৃধা খান। বয়স আড়াই বছর। ছোট ছোট পায়ে হেঁটে আহিয়ার সাথে পুরো বাড়ি মাতিয়ে রাখে। কিন্তু আহিয়ানের কাছে সে ভুলেও যায় না।
আহিয়ান ও সুযোগ পেলেই তৃধাকে মেরে দেয়। আর তৃধাও আবির বাড়ি আসলেই বড় পাপার কাছে বিচারের ঢালী নিয়ে বসে।

আজ শুক্রবার_
একটু আগেই জুম্মার নামাজ পড়ে এসে, সকলে একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া শেষ করেছে। এখন সবাই সবার রুমে বিশ্রাম নিচ্ছে।
মিম প্রায় ৩০ মিনিট ধরে বাবা মায়ের রুমের পাশে দাঁড়িয়ে আছে। মনে মনে ভাবছে রুমে যাবে নাকি যাবে না। দরজার ওপারে সামান্য পা দেখা যেতেই আকলিমা খান বলল: কে ওখানে? মিম গুটিসুটি পায়ে এগিয়ে গেল সামনে । বলল: আমি আম্মু
আকলিমা খান: দরজার বাহিরে দাঁড়িয়ে আছিস কেন? কিছু বলবি?
মিম: না_ মানে হ্যাঁ আম্মু
মাত্রই এসে বিছানায় শুয়েছে তাই মিমের শব্দ পাওয়া মাত্রই ইকবাল খানের ঘুম ভেঙ্গে গেল। আকলিমা খান কিছু বলার আগেই, ইকবাল খান মেয়েকে নিজের কাছে ডাকলেন, এবার মিম গিয়ে বাবার সামনে মাথা নিচু করে বসলো।
ইকবাল খান আধুরে কন্ঠে বললেন: কি হয়েছে আমার মায়ের?
মিম কোন জবাব দিল না। মাথা নিচু করে বসেই আছে।

এবার আকলিমা খান এসেও বিছানায় বসলেন। বললেন: তোমরা বাবা মেয়ে কথা বল আমি ঘুমাচ্ছি।
ইকবাল খান ও মিম আকলিমা খানের কথা শুনে একবার ওনার দিকে তাকালো। তারপর ইকবাল খান মিম এর উদ্দেশ্যে বললেন: বলো মা_ কি হয়েছে? কিছু লাগবে তোমার?
মিম কাচুমাচু করে বসে ওড়নার এক আঁচলের সাথে আরেক আচলে গিট্টু দিচ্ছে।
ইকবাল খান আবারও বলল: কিছু তো বলো_
মিম: আসলে আব্বু, আমি তোমাদের সঙ্গে একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা বলতে চাই।
মিমের মুখে গুরুত্বপূর্ণ কথা শুনেই আকলিমা খান ইকবাল খান উঠে বসলেন।
মিম কিছুক্ষণ থেমে আবার বলা শুরু করল: তোমরা তো জানো , আমি কখনো তোমাদের বিশ্বাস ভাঙ্গিনি। আমি আর আরিফ ভাইয়া- মানে আমরা প্রায় পাঁচ বছর ধরে একে অপরকে চিনি, বুঝি, ভালোবাসি। না মানে এটা হঠাৎ করে হয়নি। আমরা দুজনে বুঝে শুনে ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি। আমরা চাই তোমরাও আমাদের পাশে থাকো। কারণ আমাদের এই সিদ্ধান্তে আমরা পরিবারকে সম্মানের সঙ্গে পাশে রাখতে চাই।
মিমের কথা শেষ হতে না হতেই আকলিমা খান সজোরে থাপ্পর বসিয়ে দিল মিমের গালে। বলল: তোর সাহস কি করে হলো, তোর আব্বুর সামনে এই কথা বলার_

ইকবাল খান এক হাত তুলে আকলিমা খানকে থামিয়ে দিল।
ইকবাল খান গম্ভীর কন্ঠে বললেন: মাহমুদা আপা জানে?
মিম নিচের দিকে তাকিয়ে জবাব দিল: জ্বি_ আরিফ ভাইয়া তাদের পরিবারের সবাইকে জানিয়েছে।
ইকবাল খান:কবে জানিয়েছে?
মিম: ২ দিন আগে_
ইকবাল খান: কি বলেছে ওর পরিবার?
মিম কাঁপা কাঁপা কন্ঠে উত্তর দিল: ফুপি আর ফুপা জানিয়েছেন, আমাদের পরিবার মানলে তাদের কোন সমস্যা নেই।
ইকবাল খান রাগান্বিত কন্ঠে বললেন: আর তুমিও সেটা শুনে তোমার পরিবারকে মানাতে চলে এসেছো?
মিম ভয়ার্ত কন্ঠে বললো: না_ মানে আব্বু
ইকবাল খান ধমক দিয়ে বললেন: কি মানে মানে করছো?
তুমি কি ভুলে গেছো তোমার ফুপির পরিণতি। এই একই ভুলের কারণে 27 বছর আপা আমাদের বাড়িতে আসে নি। তুমিও কি চাও তোমার ভাগ্যটাও এরকম হোক?

ইকবাল খানের ধমক শোনে মিম মাথা নিচু করে, বসে বসে নীরবে চোখের জল ফেলছে।
আকলিমা খান মিমের এক হাত টেনে ধরে দাঁড় করিয়ে বলল: তুই এখনই রুম থেকে যা.. আমরা এই ব্যাপারে তোর সাথে আর কোন কথা বলতে চাই না।
মীর মায়ের হাতটা ছাড়িয়ে ছুটে গিয়ে আব্বুর পায়ে জড়িয়ে ধরল। কান্নায় জর্জরিত কন্ঠে বলল: প্লিজ আব্বু তোমরা এমন করো না। আমি আরিফকে ছাড়া বাঁচবো না।
মিমের কথার মাঝখানে মিমের মা ফোড়ন কেটে বলল: কিরে মিম.. আমি কি এত নির্লজ্জ মেয়েই পেটে ধরেছিলাম। আমার ভাবতেই অবাক লাগছে তুই আমার মেয়ে। কি করে পারছিস বাবার সামনে এসব কথা বলতে!!
মিম মায়ের কথায় কান না দিয়ে বাবার পা কে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলতে লাগলো: আব্বু.. আরিফ তো ভালো ছেলে । আমায় অনেক ভালোবাসে, আমাকে অনেক ভালো রাখবে। শুধু তোমরা যেন আরিফকে মেনে নাও সেই জন্য আরিফ নিজের বাবার ব্যবসার হাল ধরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সম্পর্কের শুরুতে আরিফ দুই থেকে তিন বছর সময় আমার থেকে চেয়ে নেওয়ার পরেও। পরবর্তীতে তোমাদের চোখে যোগ্য হওয়ার জন্য পাঁচ বছর সময় ব্যয় করেছে। এখন নিঃসন্দেহে আরিফ সর্ব দিক দিয়ে তোমাদের চোখে যোগ্য। প্লিজ আব্বু তুমি না করো না।
উফফফ মাম্মা.. আমি ব্যথা পেয়েচি.. আহিয়ার শব্দ পেয়ে মেঘ সেদিকে তাকালো। দেখল আহিয়ান আহিয়া কে চিমটি কেটেছে।

মেঘ ধমকের সুরে বলল: আহিয়ান.. তোমাকে কতবার বলেছি, ও তোমার ছোট বোন। তুমি ওর বড় ভাইয়া। আর বড় ভাইয়ারা ছোট বোনদের কখনো মারে না। অনেক আদর করে।
আহিয়ান: আমি মালিনি মাম্মা.. বোন মিথ্যে বলচে।
আহিয়া প্রতিবাদী সুরে বলল: না মাম্মা.. ভাইয়া মিথ্যে বলচে।
এইবার আহিয়ান রাগে আহিয়ার মাথার ঝুঁটির তুলি খুলে নিলো।
আর কি লাগে, শুরু হয়ে গেল রাজকন্যা আহিয়ার কান্না।
ঠোঁট ভাঙিয়ে ভাঙিয়ে পাপা পাপা বলে কাঁদতে লাগলো।
মেঘ পাশেই বাচ্চাদের জামা কাপড় গুলো গুছাচ্ছিল। ছুটে গিয়ে আহিয়াকে বুকে জড়িয়ে আদর করা শুরু করল।
আমি পাপার কাছে বিচার দিব। পাপা.. ওই পাপা.. তুমি কই!! বলেই আহিয়া আবারো কান্না শুরু করলো।
মেঘের তো মাথায় হাত। শুরু হয়ে গেল পাপার আদরের দুলালির কান্না। কিন্তু আহিয়ার আব্বু গেল কোথায়??
কাকামনি আসবো? আবিরের কণ্ঠস্বর পেয়ে ইকবাল খান, আকলিমা খান ও মিম দরজার দিকে তাকালো।
আকলিমা খান বিছানা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বললেন: আরে আবির.. কিছু লাগবে তোমার? ভেতরে আসো।
আবির একবার সারা ঘরে চোখ বুলিয়ে নিল। ইকবাল খান বিছানায় হেলান দিয়ে বসে আছে। সামনে মাথা নিচু করে বসে আছে মিম। পরিস্থিতি নীরব ও গুরু গম্ভীর।

এবার আবির মুখ খুলল: কাকামনি.. কিছু মনে না করলে একটা কথা বলতে চাই।
ইকবাল খান মুখে হাসির রেখা টেনে বললেন: এত ফরমালিটির কি আছে? কি বলবি বল। আর দাঁড়িয়ে আছিস কেন.. এখানে এসে বস।
আবির: না.. এখন বসবো না.. হয়তো আহিয়া ও আহিয়ান এতক্ষন আমাকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করে দিয়েছে। তাছাড়া আব্বুর রুমে গিয়েছিলাম, সেখানে কথা বলতে বলতে একটু দেরি হয়ে গেছে।
ইকবাল খান: ঠিক আছে বল কি বলবি।
আবির গম্ভীর মুখ নিয়ে বলল: আমার বন্ধুর ছোট ভাইয়ের জন্য অনেকদিন ধরেই মেয়ে দেখা হচ্ছে। ওরা অনেক আগেই মিমের জন্য আমার কাছে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু মিমের লেখাপড়ার জন্য আমি রাজি হইনি। কিন্তু এইবার মনে হয় মিমের বিয়েটা দিয়ে দেওয়া উচিত। তুমি কি বলো?
মিমের মাথায় মনে হয় আবিরের কথা শুনে আকাশ ভেঙ্গে পড়েছে। লাল লাল ভেজা আখি যোগল নিয়ে আবিরের পানে তাকালো। কিন্তু আবির হয়তো তা দেখতেই পেল না। আকলিমা খানের মুখটা দেখে মনে হচ্ছে তিনি কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন।

ইকবাল খান খানিকক্ষণ চুপ করে থেকে কিছু একটা ভেবে তারপর বললেন: ঠিক আছে তুই ওনাদের খবর দে মেয়ে দেখতে আসতে বল।
আবির আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলল: ওরা মিমকে আগেই দেখেছে। ছেলের পরিবারের সবাই চায়। তোমরা যদি ছেলেকে পছন্দ করো, তাহলেই বিয়ের কথা সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে।
মিম উঠে দাঁড়িয়ে আবিরের দিকে তাকিয়ে কাঁপা কন্ঠে বলল: ভা ই য়া আমি….
আবির: তুই তোর রুমে যা। এখানে তোর কোন কাজ নেই।
মিম আবিরের ভয়ে আর কিছুই বলতে পারল না। ইকবাল খানের মুখের দিকে একবার তাকিয়ে দৌড়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেল।

আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে সিজন ২ পর্ব ৬৮+৬৯+৭০

ঠাস… শব্দ শুনে মেঘের বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠেছে। কি হয়েছে দেখতে তাড়াতাড়ি করে রুমের বাহিরে বের হলো। বুঝতে পারলো শব্দটা মিমের দরজা থেকেই এসেছে।
মিম দরজা বন্ধ করেই দরজায় পিঠ ঘেঁষে মেঝেতে বসে কান্নায় ভেঙে পড়ল। বারবার একটা কথা ই চিৎকার করে বলল : হে আল্লাহ, যারে আমার মনে দিলা, তারে আমার ভাগ্যে কেন দিলা না ? গায়ের ওড়নাটা খুলে কিছুটা মুখের ভিতর ভরে চিৎকার করে কান্না শুরু করলো। যে কান্নার নেই কোন শব্দ, শুধু আছে নীরব আর্তনাদ।
মিমের কান্নায় রুমের পরিবেশটা যেন ভারী হয়ে উঠেছে। কাঁদতে কাঁদতে একসময় মেঝেতেই হাত পা ছড়িয়ে শুয়ে ঘুমিয়ে পড়ল।

আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে সিজন ২ পর্ব ৭৪+৭৫+৭৬