Home আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে সিজন ২ আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে সিজন ২ পর্ব ৭৪+৭৫+৭৬

আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে সিজন ২ পর্ব ৭৪+৭৫+৭৬

আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে সিজন ২ পর্ব ৭৪+৭৫+৭৬
ফারজানা মনি

সন্ধ্যা বেলা..
কিছুক্ষণ আগেই মাগরিবের আজান পড়েছে। বন্যা মাগরিবের নামাজ শেষ করে এসে দেখল তৃধা রুমে নেই। বন্যা মনে মনে কি যেন ভেবে রুমটাকে তাড়াতাড়ি গুছানো শুরু করলো।
তখনি তানভীর হঠাৎ বন্যাকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরল। তানভীরের শীতল স্পর্শ গায়ে লাগতেই বন্যা লজ্জায় কুঁকড়ে গেল। এই মেয়েটা এখনো সেই প্রথম দিনের মতোই লাজুক। সেই প্রথমের মতোই মিষ্টি।
তানভীর বন্যাকে নিজের দিকে ঘুরালো। তারপর বন্যার দিকে একটা ছোট বক্স বাড়িয়ে দিল।
বন্যা চমকে গিয়ে জিজ্ঞাসা করল: এটা কি? আজ তো কোন স্পেশাল দিন না।
তানভীর মুচকি হেসে জবাব দিল: ভালোবাসা কি ক্যালেন্ডার দেখে আসে?
তারপর বক্সটা এগিয়ে দিয়ে বলল; এটা তোমার জন্য..

বন্যা: হঠাৎ?
তানভীর বন্যার নাকে নাক ঘেঁষে জবাব দিল: কারণ, আমার দিনগুলোকে সর্বদা তুমি স্পেশাল বানাও। তাই তোমারও তো স্পেশাল কিছু পাওনা।
বন্যা বক্সটি খুলে দেখে, একটা ছোট্ট পেন্ডেন্ট-তাদের দুজনের নামের প্রথম অক্ষর খোদাই করা।
এটা দেখে বন্যা খানিকক্ষণ চুপ করে থাকে। তারপর তানভীরকে আষ্টেপিষ্টে জড়িয়ে ধরে।
তারপর ধীর কন্ঠে বলে: গিফটের কি প্রয়োজন ছিল? বারবার প্রেমে পড়ার জন্য এই আপনি টাই তো যথেষ্ট।
তানভীর মুচকি হাসলো।
মা-ম-মা-ম..
তৃধার কণ্ঠ শুনে দুজনেই হকচকিয়ে উঠলো। বন্যা ও তানভীর মেয়ের দিকে ছুটে গেল। দেখল কেঁদে কেটে সুন্দর মুখটাকে লাল করে রেখেছে।
তানভীর আদুরে কন্ঠে জানতে চাইলো: কি হয়েছে আমার মামমামের?

তৃধা কাঁদতে কাঁদতে আধো আধো কণ্ঠে বলল: ভা-ভা-ই-য়া। বন্যার আর বুঝতে কিছুই বাকি রইল না। তৃধা ছোট । কিন্তু মেয়েটা মায়ের মতই বুঝদার। যখন থেকে বুঝতে পেরেছে আহিয়ান ওকে সুযোগ পেলেই মারে। তখন থেকে আহিয়ানের সামনে তেমন একটা যায়না। সারাদিন আহিয়ার সাথেই খেলাধুলা করতে পছন্দ করে। কিন্তু তবুও মাঝে মাঝে আহিয়ানের সামনে পড়েই যায়।
ফোনে টুংটাং শব্দে তানভীর বিছানার দিকে তাকালো। এগিয়ে গিয়ে ফোনটা কানে ধরলো আবার কেটেও দিল।
তারপর পাঞ্জাবি টা চেঞ্জ করে টি-শার্ট গায়ে জড়ালো।
এই ভর সন্ধ্যাবেলা তানভীরের হঠাৎ পোশাক পরিবর্তন দেখে বন্যা কাছে এসে জিজ্ঞাসা করল: কোথাও বের হচ্ছেন?
তানভীর তৃধাকে কোলে নিতে নিতে বলল: হুম.. অনেকদিন হলো রাকিব ও রাসেল ভাইয়াদের সাথে আড্ডা দেওয়া হয় না। সেখানেই যাচ্ছি।

তানভীর মেয়ের কপালে গভীর চুমু এঁকে দিয়ে বলল: মামমাম.. তুমি তোমার মায়ের কাছে একটু থাকো। নিচে তোমার বড় পাপা অপেক্ষা করছে, আমি যাব আর আসবো ।
এই নিন কফি… আবির ফোন স্ক্রল করতে করতে কফিটা হাতে নিল। কফির কাপ টা টি টেবিলে রেখে মেঘের এক হাত টেনে নিজের কোলে বসিয়ে দিল।
এই.. এই .. কি করছেন? কেউ দেখবে..
মেঘের আতঙ্কিত কন্ঠ শুনেও আবিরের কোন ভাবান্তর নেই। তার নির্লিপ্ত জবাব: দেখুক.. তাতে আমার কি?
মেঘ ভ্রু কুচকে বলল: আপনি এত নির্লজ্জ কেন বলুন তো..
আবিরের শান্ত জবাব: ম্যাম.. আপনি এত সুন্দর কেন বলুন তো।
মেঘ: উফফ.. আহিয়ার আব্বু..
আবির:উফফ.. আহিয়ার আম্মু..

মেঘ এবার বিরক্তিকন্ঠে বললো: ধুর.. এবার ছাড়ুন তো.. কেউ চলে আসবে।
এবার আবির ও ভদ্রভাবে মেঘকে ছেড়ে দিল।
আবির: আচ্ছা মিম কোথায় বলতো? ওকে দেখতে পাচ্ছি না কেন?
মেঘের নিশ্চিন্ত জবাব: আছে হয়তো রুমে..
আবির: ওহ..
মেঘ: শুনুন..
আজো আবিরের কণ্ঠে সেই চিরচেনা সুর: হুম।
মেঘ: কোথাও বের হচ্ছেন?
আবির: হুম।
মেঘ: পারলে একটু তাড়াতাড়ি ফিরে আইসেন। ছেলেমেয়েগুলো আপনার অপেক্ষায় থাকে।
আবির হঠাৎ কিছু মনে পরার ভঙ্গিতে বলল: ভালো কথা মনে করেছো.. আমি বাহিরে অপেক্ষা করছি, তোমার গুণধর ভাই নিচে নামলে বলো বাহিরে আছি।
মেঘ জবাব দিল: ঠিক আছে যান।

আবির মুচকি হেসে বলল: এখন জান ডাকলেও বাহিরে যাওয়া বন্ধ করতে পারবো না, জরুরী কাজ আছে।
মেঘ রাগী কন্ঠে বলল: আমি আপনাকে যেতে বলেছি, জান ডাকিনী। আর যাওয়ার হলে তাড়াতাড়ি যান আপনার ছেলে মেয়ে দেখলে আবার আটকে দিবে।
আবির খানিকটা মাথা ঝুকিয়ে বলল: যথা আজ্ঞা মহারানী..
মেঘ একটা মুচকি হাসি উপহার দিয়ে আবার রান্না ঘরের দিকে হাঁটলো।
১. ২ .৩ .৪. ৫. ৬ .৭ .৮. ৯. ১০ ভাইয়া এবার তো ক্ষমা কর। তানভীরের কন্ঠে ক্লান্তির সুর।
আবির কখন থেকে বাড়ির বাহিরে গাড়ির সামনে তানভীর কে কান ধরিয়ে ওঠ বস করাচ্ছে।
এবার আবির মেজাজি কন্ঠে বলল: বের হতে এত লেট কেন করলি? তুই জানিস না, আজকে তাড়াতাড়ি যাওয়াটা আমাদের কত জরুরী।
তানভীর হাঁপাতে হাঁপাতে উত্তর দিল: আরে ভাইয়া.. আগে শোনো তো.. আজকাল মেয়েটার জন্য কোথাও বের হতেই পারি না। বাড়ি থেকে বের হতে গেলেই গলা জড়িয়ে আবদার জুড়ে বসে, ও যাবে আমার সাথে। নিতে না চাইলেই কান্নাকাটি করে রুম মাথায় তুলে বসে। তৃধার কান্না থামাবো তারপরে তো আসবো নাকি?

রাত ৯ টা বেজে ৩০ মিনিট
হাতেগোনা কয়েকজন ছাড়া খান বাড়ির সকলেই রাতের খাবার খেতে বসেছে। খান বাড়ির ডাইনিং টেবিলটা আবির বহু আগেই পরিবর্তন করেছে। এনেছে নতুন ও বড় মাপের একটা টেবিল। যেখানে অনায়াসেই পুরো খান পরিবার বসে খাবার খেতে পারে। বিশেষ বিশেষ দিনে বাড়িতে কোন মেহমান আসলে এই টেবিলটাতেই যোগ হয় আরো কয়েকটা চেয়ার। নতুন ডাইনিং টেবিলে আহিয়ান সর্বদা আলী আহমেদ খান এর পাশে বসতেই পছন্দ করে। দাদু হিসেবে আলি আহমেদ খান কে আহিয়ান এর ভীষণ পছন্দ।
আর আহিয়া ও তৃধা ২ আহ্লাদি খাওয়ার সময় হলেই সব সময় দৌড়ে গিয়ে মোজাম্মেল খান ও ইকবাল খান এর মাঝের দুই চেয়ার দখল করে বসে থাকে। প্রতিদিনের ন্যায় আজও আহিয়া ও তৃধা ছুটে গিয়ে মোজাম্মেল খান ইকবাল খানের মাঝের চেয়ারে বসে পড়ল। আহিয়ান আলী আহমেদ খানের পাশেই বসে আছে। আহিয়া ও তৃধার কাহিনী দেখে বলে উঠল: উফফ ।
আলী আহমেদ খান একবার আহিয়ানের মুখের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো। হয়তো তিনি বুঝতে পেরেছেন এই ছেলেটার বিরক্তির কারণ।

আহিয়ানের বয়স কম। কিন্তু এই বয়সেই বাবার মতো নিজের গাম্ভীর্য বজায় রাখতে সে একটুও ভুলিনি। আহিয়ান যেন আবিরের প্রতিচ্ছবি। রাগী, গম্ভীর, বদমেজাজি সব গুণ তার মধ্যে বহমান। কিন্তু বাড়ির সকলে তা নিয়ে একটুও টেনশন করে না। কারণ তারা জানে আগে আবির ও এমন ছিল কিন্তু সেই ছেলেটাই বর্তমানে সারাক্ষণ বউয়ের আঁচল ধরে বলতে থাকে আমার বউ, আমার বউ।
বাড়ির তিন কর্তা তাদের নাতি নাতনিদের নিয়ে রাতের খাবার খাচ্ছেন। তিন কর্তি তাদের খাবার পরিবেশন করছেন। মেঘ আর বন্যা মাঝে মাঝে তাদের সাহায্য করছে। অবশ্য মালিহা খান বারবার মেঘ ও বন্যাকে বলেছে খেতে বসতে। কিন্তু মেঘ ও বন্যার একটাই কথা বাড়ির বাকি মহিলাদের সাথে খাবে।
হঠাৎ করেই আলী আহমেদ খান বললেন: মিমকি রাতে খাবে না? মিম কই?
ইকবাল খান নিচের দিকে তাকিয়ে খাবার খাচ্ছে। আলী আহমেদ খানের কথায় কোন জবাব দিল না। আকলিমা খান বলল: ভাইজান ও রুমে আছে।

আলী আহমেদ খান: খাওয়ার সময় হয়েছে। মেয়েকে তো ডাকো।
আকলিমা খান: জ্বি ভাইজান।
কিরে, তোদের আসতে এত দেরি হল কেন?
রাকিবের কন্ঠে আবিরের তাৎক্ষণিক জবাব: ভুলে গেলি, তোকে তো আগেই বলেছিলাম যে এক জায়গায় যাব।
রাকিব: ওহ হ্যাঁ.. দেখ আমি ভুলেই গেছি।
আবির ভ্রু কুচকে বলল: তোরে কি আজকাল তোর বউ ডোজ একটু বেশি দেয় নাকি?
রাকিব হতবাক কণ্ঠে বললো: মানে!
আবির সন্ধিহান কন্ঠে বলল: মাথার ব্রেন কি জুস বানাইয়া খেয়ে ফেলছোস নাকি? আজকাল কিছুই মনে থাকেনা।
আবিরের ব্যঙ্গ করা কথা শুনে তানভীর দাঁত কেলিয়ে হাসলো।
রাকিব চোখে অগ্নি নিয়ে তানভীর এর উদ্দেশ্যে বলল: এত দাঁত কেলাইয়েন না। মেয়ে হয়েছে তো তাই টের পান না। একটা ছেলে হলে বুঝতেন ছেলের কি জ্বালা।
আবির রাকিবের কাঁধে এক হাতে রেখে বলল: কিরে বাসায় কি কোন সমস্যা?
রাকিব মাথায় হাত দিয়ে বলল: বন্ধু মহা সমস্যা.. যা করোনা ভাইরাসের থেকেও বেশি ভয়ংকর।
আবির: কেন আবার কি হলো?

রাকিব মাথায় হাত দিয়ে চায়ের দোকানের টেবিলটায় বসলো। আবির কে বলল: আগে বল চা অর্ডার দিব।
আবির: না.. আমাকে যেতে হবে বাড়িতে তোর ভাবি অপেক্ষা করছে
রাকিব: ওহ.. তাহলে শোন.. করোনা ভাইরাসের থেকেও বড় মহামারী আমার ছেলে। সারাদিন দুষ্টুমি করতেই থাকে। যদি দুষ্টুমির জন্য কোন অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হতো তাহলে আমার ছেলেই ফার্স্ট হতো নির্ঘাত। দুষ্টুর রাজা.. বাড়িতে থাকলে আমার মাথাটা খারাপ হয়ে যায়।
তানভীর সান্ত্বনা কণ্ঠে বললো: আরে রাকিব ভাই কষ্ট পাইয়েন না.. এই একই মহামারীতে আমি ও ভাইয়া দুজনেই আক্রান্ত। এইতো আসার সময় ও মেয়ে আবদার জুড়ে বসেছে আমার সাথে বাহিরে আসবে। আর ভাইয়ার ছেলে মেয়ে তো সারাদিন আমার বোনটাকে নাজেহাল বানিয়ে ছাড়ে। এই কথা শুনে তিন বন্ধু একসাথেই হুহু করে হেসে দিল।

মিম, এই মিম, দরজা খোল বলতেছি। আকলিমা খান বহু সময় ধরে মিমের দরজায় ধাক্কা দিচ্ছে কিন্তু মিম দরজা খুলছে না। বারবার শুধু একটা কথাই বলতেছে, আম্মু এখন আমার খিদে নেই পরে খাবো তুমি চলে যাও
সদর দোজা দিয়ে আবিরও তানভীরকে ঢুকতে দেখেই আহিয়া ও তৃধা দৌড়ে গিয়ে কোলে উঠলো।
কিন্তু আবি র ওপর থেকে আকলিমা খানের চেঁচামেচি শুনে দৌড়ে উপরে গেল। তারপর মিমকে ধমকের সুরে বলল পাঁচ মিনিটের মধ্যে ফ্রেশ হয়ে নিচে খাওয়ার টেবিলে আসতে। মিম শুনল কিন্তু কিছুই বলল না। অবশ্য আবিরের মুখের উপর কথা বলার সাহস মীমের নেই। তাই ভদ্র মেয়ের মত আবিরের পিছু পিছু নীচে এসে ডাইনিং টেবিলে বসলো। ইতিমধ্যে বাড়ির কর্তা দের খাওয়া প্রায় শেষ। আবির বলল: আব্বু একটু বসো তোমাদের সাথে কথা আছে। এর মাঝে ফ্রেশ হয়ে তানভীর ও এসে খেতে বসেছে।
আবির বলল: আব্বু, চাচ্চু, কাকামনি আমি তো তোমাদের আগেই বলেছি মীমের বিয়ের কথা। আজ আমি ছেলের বাড়িতে গিয়েছিলাম ও। ওরা চায় বিয়ের তারিখটা একটু তাড়াতাড়ি ফেলতে।

আবির বলল: আব্বু, চাচ্চু, কাকামনি আমি তো তোমাদের আগেই বলেছি মীমের বিয়ের কথা। আজ আমি ছেলের বাড়িতে গিয়েছিলাম ও। ওরা চায় বিয়ের তারিখটা একটু তাড়াতাড়ি ফেলতে।
আলি আহমেদ খান জবাব দিল: তারিখ তাড়াতাড়ি ফেলতে চায় এতে সমস্যা কি.. ওদের বল আমরা প্রস্তুত।
আবির ও আলী আহমেদ খানের কথাপকথন শুনে মিমের খাওয়া যেন থমকে গেছে। এক দৃষ্টিতে প্লেটের দিকে তাকিয়ে থ মেরে বসে আছে। মেঘ আশ্চর্যের ভঙ্গিতে বলল: কার বিয়ে! মেঘের মুখে বিয়ের কথা শুনে বাড়ির সকল মহিলারা পুরুষদের দিকে প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে তাকালো।
আবির সকলের দৃষ্টি বুঝতে পেরে বলল: এত অবাক হওয়ার কিছুই নেই। আমরা অবশ্যই বাড়ির সকলকে আজকে সবকিছুই বলতাম।

মালিহা খান আগ্রহী কণ্ঠে বললেন: আবির.. এত বর্নিতা না করে কি হয়েছে পরিষ্কার করে বল।
আবির গলা খাকারি দিয়ে বলা শুরু করলো: আম্মু.. আমার বন্ধুর এক ছোট ভাই আছে। ছেলে ব্যবসা করে। অনেকদিন ধরেই মিমের সাথে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে রেখেছে ওদের পরিবার। এতদিন আমি তেমন গুরুত্ব দেইনি। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে মীমের এবার বিয়েটা দেওয়া উচিত। আজ দুপুরেই আব্বু ও চাচ্চুর সাথে এই ব্যাপারে আলোচনা করা শেষ করে কাকা মণি কে জানিয়েছি। কাকামনি ও সম্মতি দিয়েছে। তাই আমি ও তানভীর সন্ধ্যার দিকে ওই বাড়িতে গিয়েছিলাম। ওরা বিয়ের কাজটা তাড়াতাড়ি শুরু করতে চায়। আর তোমরা তো শুনলে আব্বু ও চাচ্চুর এতে কোন আপত্তি নেই। তোমরা সবাই অনুমতি দিলে আগামী সপ্তাহের দিকেই বিয়ের তারিখ নির্ধারণ করব ইনশাল্লাহ।
দীর্ঘ কথার পর আবির থামল। আবিরের কথা শুনে হালিমা খান বললেন: কিন্তু আবির বাবা.. এইভাবে তো আর বিয়ে হয় না। ছেলে পক্ষকে বল মিম কে এসে দেখে যেতে। উনারা মেয়ে না দেখেই কিভাবে বিয়ের তারিখ নির্ধারণ করতে চায়।

আবির মুখে হাসির রেখা টেনে বলল: মামুনি_ আসলে তুমি যেমন ভাবছো ব্যাপারটা তেমন না। ছেলের বাড়ির সকলেই মিমকে আগেই দেখেছে। আর আমাদের বাড়ির পক্ষ থেকে আব্বু, চাচ্চু ,কাকামনি, তানভীর ,আমি সহ সকল পুরুষেরাই দীর্ঘদিন যাবত ছেলে এবং ছেলের পরিবারকে চিনি এবং জানি। তোমরা নিশ্চিন্তে থাকো।
মেঘ এবার মুখ খুলল। বলল: তাই বলে ছেলে মেয়ে দুজন দুজনকে দেখবে না। আর আমরা বাড়ির মহিলারাও তো ছেলে এবং ছেলের পরিবারকে দেখি নি
মেঘের চিন্তাযুক্ত চেহারা দেখে আলী আহমেদ খান বলল: মেঘ মামুনি_ এত চিন্তার কিছুই নেই তোমরা কি আমাদের বিশ্বাস করো না? আমরা ছেলে এবং ছেলের পরিবারের সকল খোঁজখবরই নিয়েছি। ছেলে নিজেই মিমকে পছন্দ করেছে। আর রইল কথা মিমের..
এবার আলী আহমেদ খান মিমের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন: মিম আম্মাজান_ ছেলে এবং ছেলের পরিবারকে আমরা সকলেই দেখেছি। তারা খুবই ভালো। আশা করি তোমার আমাদের উপর বিশ্বাস আছে। আর তারপরও যদি তোমার মনে হয় তুমি ছেলের সাথে দেখা করতে পারো।
মিম চোখ তুলে তাকালো। চোখগুলো রক্ত লাল হয়ে আছে। টলোমলো চোখে কিছু বলার আগেই তানভীর বলে উঠলো: আরে মিম দেখতে চাইবে না.. আমাদের ছোট বোনের আমাদের উপর অবশ্যই বিশ্বাস আছে। তাই না বল মিম।

মিম উঁচু মাথাটা আবার নত করে ভাতের প্লেটের দিকে চোখ রাখল। কিছু না বলে চুপচাপ বসে আছে।
এবার আবির বলল: দেখেছো আব্বু.. মিম আমাদের উপর ভরসা করে চুপ করে আছে। তাই বাড়ির সকলের উদ্দেশ্যে বলছি তোমরা কেউই এসব নিয়ে আর চিন্তা করো না।
বন্যা, মেঘ, হালিমা খান, মালিহা খান ও আকলিমা খান সহ বাড়ির সকল মেয়েরাই চুপ হয়ে গেল । মিম নিরবে ঘন ঘন দীর্ঘশ্বাস ফেলছে। ভাবছে আরিফের কথা। আরিফ যদি একবার জানে, তাহলে কি করবে? মিম নিজেও জানে না। এই ছেলেটা পাগলের মত ভালবাসে মীমকে। পরিবারের পরে মিমের চেয়েও বেশি মিমকে যদি কেউ ভালোবেসে থাকে তাহলে সেটা আরিফ।
মিম মনে মনে ভাবল: না অনেক হয়েছে। এবার আরিফকে ব্যাপারটা জানাতেই হবে। ও নিশ্চয়ই কিছু করবে।
বাড়িতে মিম আপুর বিয়ে! আহা! কি মজা। আমাকে কিন্তু অনেক শপিং করিয়ে দিতে হবে। অনেক বাজিও কিনে দিতে হবে, আপু হলুদের দিন ফাটাবো।
আদির কথা শুনে, তানভীর আদির কান ধরে বলল: এত চেঁচামেচি করিস না বলদ। না হলে মিমের সাথে তোর বিয়েটাও ঐদিন সেরে দিব।

খাবার সময় তানভীর এর মুখে বলদ ও আদির কান ধরা দেখে মোজাম্মেল খান কটমট চোখে তানভীরের দিকে তাকালো। আবিরের ইশারা পেয়ে তানভীর আদির কান ছেড়ে দিল।
ঘটনা অন্য দিকে ঘুরানোর জন্য এবার আবির মুখ খুলল: আব্বু, চাচ্চু.. আমার একটা রিকোয়েস্ট আছে।
আলী আহমদ খান আবিরের দিকে তাকালো।

আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে সিজন ২ পর্ব ৭১+৭২+৭৩

আবির সম্মতি বুঝতে পেরে বলল: আমার আর মেঘের বিয়েটা খান বাড়িতে হয়েছে, এমনকি তানবীরের বিয়েটাও খান বাড়ি থেকেই হয়েছে। আমি চাই এবার মিমের বিয়েটা স্পেশাল ভাবে হোক। যেটা হবে “স্প্যারো ড্রিম হাউসে”। মীমের হলুদ সন্ধ্যায় আমি কিছু স্পেশাল গেস্ট কে ইনভাইট করতে চাই।
আলী আহমেদ খান মুখে হাসির দেখা টেনে বললেন: তোমরা যেভাবে খুশি আনন্দ করো এতে আমার কোন সমস্যা নেই।

আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে সিজন ২ পর্ব ৭৭+৭৮+৭৯