Home আসবো ফিরে আবারো আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৩৪ (২)

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৩৪ (২)

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৩৪ (২)
সুরভী আক্তার

মৃদু হাসে রৌদ্র । ছোট্ট ছানা টাকে নিজের প্রশস্ত বুকে আগলে নেয় । ঠান্ডা স্বরে প্রত্যুত্তর করে…
” লাভ ইউ ঠু মাম্মা । বাট , হোয়াই হ্যাভ ইউ কাম হেয়ার ?
বাচ্চাটা তোতলানো স্বরে মুখ খোলে…
” মিত করতিলাম তোমায় ।
” আচ্ছা ? আমার মাম্মা মিস করছিলো আমায় ?
রৌদ্র কে ছেড়ে পিটপিট করে চোখ তুলে মাথা দোলায় বাচ্চাটা । রৌদ্র ফিক করে হাসে,, বলে তার মাথায় হাত বুলিয়ে….

” কার সাথে এসেছো ?
” মাম্মা !
” মাম্মা কোথায় ?
পেছনে তাকালো পিচ্চি টা । সাথ সাথ রৌদ্র নিজেও । কেবিনের দরজা ঠেলে সদ্য প্রবেশ করেছে শুচি শুভ্র ছিপছিপে এক রমনী ।
রৌদ্র ওকে দেখা মাত্রই কিছুটা ধমকানোর সুরে বলল….
” ওকে একা ছেড়েছো কেনো ?
রমনী চোখ গোল করে তাকায় । ধাপ বাড়িয়ে বলে দ্বিরুক্তি করে…..
” ওকে আমি একা ছেড়েছি ? জিজ্ঞেস করে দেখো তো… খুব দুষ্টু হয়েছে তোমার আদরের মেয়ে । লিফট থেকে হুড়মুড়িয়ে বেরিয়েই ছুটে এসেছে তোমার কেবিনে । আটকাতে পারলে তবেই না সামলাবো !
কথা শেষ করে দুহাত বুকে আড়াআড়ি ভাঁজ রেখে চোখ পাকিয়ে তাকায় বাচ্চাটার দিকে । মায়ের এমন সূচালো দৃষ্টি দেখে কোমল হাসে বাচ্চা টা । রমনী কন্ঠ ভার করে মুখ খোলে পূণরায়….

” #মিনি আমার কাছে এসো । পানিশমেন্ট পাওয়া বাকি আছে তোমার । বলেছি না ছোটাছুটি করবে না । লিফট থেকে বেরিয়েই ছুটে এসেছো তুমি । পড়ে গেলে কি হতো ?
” নো মাম্মা ! পলে যাই নি আমি ।
” পড়ে যাও নি , যদি পড়ে যেতে ?
রৌদ্র উঠে দাঁড়ালো । মিনি কে কোলে নিলো আদর করে ।
” #রিসা , বকবে না আমার মাম্মা কে । আমার মাম্মা মিস করছিলো আমায় তাই চলে এসেছে । তাই না মাম্মা ?
” ইয়াহহহ পাপা ।
মিনি কে সোফায় দাঁড় করাতেই রিসা মুখ খুললো এগোতে এগোতে…..
” আর আশকারা দিও না ওকে । বাসায় মাথা খাচ্ছিলো পুরো । সে তার পাপার কাছে আসবে । অনেক দিন দূরে ছিলে তো , তাই বারবার কাছে আসতে চাইছে । এ কদিনে ভীষণ মিস করেছে তোমায় !
” ইটস্ ওকে । বসো , কফি নেবে ?

মাহির ,, কফি নিয়ে আসতে বলো তিনটে । আর আমার মাম্মার জন্য তার ফেভারিট আইসক্রিম ।
মিনি উজ্জ্বল হেসে হাত বাড়িয়ে দিলো….
” ফোন দাও তোমাল । আমি গেমত খেলবো !
রৌদ্র হেসে পকেটে হাত ঢোকালো । মিনির স্বভাব রৌদ্রের ফোনে গেমস খেলা । রিসা ওকে ফোন থেকে যথাসম্ভব দূরে রাখে । কেবলমাত্র রৌদ্রের কাছে আসলেই বায়না জুড়ে বসে মেয়ে । আদুরে আদুরে আহ্লাদ আবদার করে । সেই ছোট থেকেই । সাড়ে চার বছর পেরোলো ।
মিনির বয়স এখন সাড়ে চার । কথা বলতে গিয়ে বেগ পায় এখনো । রৌদ্রের জীবনের অন্যতম সফট কর্নার সে । দ্বিতীয় তম বলা চলে । রৌদ্রকে পাপা ডাকা প্রথম কেউ । রৌদ্রের কোলে ওঠা প্রথম কোনো ছোট্ট শিশু ।
রৌদ্রের সমস্ত রাগ গলে জল হয় তার সামনে । কি মিষ্টি একটা মেয়ে । খুব আদুরে । রৌদ্র ওর জন্মের পর যখন ওকে কোলে নিলো, তখন পুরো দুনিয়া থমকে গেছিলো ওর সামনে । স্তব্ধ হয়ে গেছিলো সে । সেই থেকেই আজ অবধি স্তব্ধ সে এই অবুঝ নিষ্পাপ শিশুটার সামনে ।
সবকিছু হার‌ মেনে যায় ।
মিনির নিষ্পাপ আদুরে মুখশ্রী হতে চোখ সরিয়ে ফোনের দিকে তাকালো রৌদ্র । লক খুলে এগিয়ে দেওয়ার আগেই থামলো । ফের ফিরিয়ে নিলো ফোনটা । বুকের সাথে চেপে ধরে আড়চোখে পাশে রিসার দিকে তাকালো ।

” মাম্মা, আমার ফোনে কিছু ইম্পর্ট্যান্ট ডকুমেন্ট আছে । তুমি মাহির আঙ্কেলের ফোনে গেমস খেলো, ওকে ??
মাহির , তোমার ফোন দিয়ে যাও আমার মাম্মা কে ।
মাহির আদেশ তামিল করলো ।
রিসা এতক্ষণে পূর্ণ দৃষ্টিতে তাকালো রৌদ্রের দিকে । মিনির ধ্যান এদিক থেকে সরতেই নিচু স্বরে বলল….
” রৌদ্র , তোমার সাথে কথা আছে আমার !
” বলো !
” শুনলাম প্রজেক্ট কনফারেন্স এগিয়ে এনেছো !
” হু , কাল !
” ফিরবে আবার ?
” দেরি আছে !
” দেরি কেনো ? আমি তো বলি , এতো তাড়াতাড়ি তোমার আসাই উচিত হয় নি ।
রৌদ্র হাসলো ।
” তাড়াতাড়ি ফেরাটাও উচিত হবে না । কেউ একজন মনে করুক আমায় ‌, ডাকুক নিজে থেকে , তারপর ফিরবো ?
” তাহলে কনফারেন্স এগোলে কেনো ?
” এগোনোর ক্ষমতা আছে তাই । ক্ষমতা খাটাতে ইচ্ছে হয় মাঝে মাঝে ।
রিসা মুচকি হাসে ।

শহরের বুকে নতুন সকালের আবির্ভাব । ব্যালকনির পর্দা ভেদে আসা এক ফালি রোদের সোনালী আলো মুখে পড়া মাত্রই ঘুম ছুটে যায় একবিংশীর । মাঝে কয়েকটা দিন কেটেছে । ফাইভ কোর্সের এক্সাম চলছে টানা । চারটে শেষ ‌। আর একটা । এ একটাই যেনো গলায় বিঁধে আছে মেঘার । সময় কাটছে না । কাটতে চাইছে না । যেনো থমকে আছে এক জায়গায় । কি আশ্চর্য , আকাঙ্ক্ষিত সময় গুলো কেটে যায় কত তাড়াতাড়ি , চোখের নিমেষেই । অথচ অনাকাঙ্ক্ষিত সময় গুলো যেনো কাটতেই চায় না । এই যে রৌদ্র দেশে ফিরলো । ফিরে প্রায় মাস দুয়েক ছিলো দেশে । চোখের পলকেই যেনো সেসময় গুলো পেরিয়ে গেছে ‌। অথচ ও চলে গেছে আজ প্রায় সপ্তাহ দুয়েক ‌। এই কয়েকটা দিন যেন কয়েক বছরের সমান লাগছে । সময়ের পতন হয় না কিছুতেই । মেলে না তৃপ্ত ফুরসৎ । লোকটাও আর ফিরে আসে না ।
কথাও বলে না কারোর সাথে ।

সেদিন লাস্ট কথা হয়েছিলো মেঘার সাথে । ঐ যে বললো , কল করবে মেঘাকে ! কিন্তু কই ? আর তো কল করলো না । খোঁজ নিলো না । এই কটা দিন নিখোঁজ রইলো ।
মেঘা কে তার ? কেনোই বা খোঁজ নেবে ?
ঘুম ভেঙ্গে আলগা হতে না হতেই এসব আজগুবি চিন্তা মাথাটাকে কুড়ে খেলো মেঘার । চোখ না মেলেই নিস্তেজ হয়ে পড়ে রইলো বিছানায় । চিন্তা পরিবর্তন করার চেষ্টা করলো । কাল লাস্ট এক্সাম । তার পর শেষ । মুক্তি মিলবে কিছুটা চাপ হতে ।
কে খোঁজ নিলো না নিলো , তাতে কিছুই এসে যায় না রমনীর । পাঁচটা বছর নিখোঁজ হয়ে থেকেছে । এখন কেনো খোঁজ প্রয়োজন ? কিসের তাগিদে ?
মেঘার মন ভার । ঘড়ির কাঁটায় সময় গড়িয়ে যাচ্ছে ।
নয়টা বাজতে চললো । ছুটির দিন গুলোতে আলসেমি করে একসাথে ব্রেকফাস্ট করা হয় না । শাফাহ্ ও ঘুমিয়ে এখনো । দরজায় খট করে শব্দ হতেই হুড়মুড়িয়ে উঠে বসলো মেঘা । একটু খানি ভড়কেছে ।
রুবিনা কাবির এসেছেন । মেঘা অবাক হলো । অপ্রস্তুত কিছুটা । ঘুম ঘুম চোখ ডলে পরিস্কার করলো । পরিপাটি হয়ে বসলো অতঃপর । রুবিনা কাবির ভেতরে ঢুকে নিজে থেকেই বললেন ….

” সকাল হয়ে গেছে , উঠবি না ?
” হ…. হ্যাঁ মামনি । এইতো উঠছিলাম কেবল ।
” ঘুম হয় নি । আরো ঘুমাবি ?
” না , হয়েছে ঘুম । তুমি এখানে ‌, আমাদের রুমে ?
মেঘা ইতস্তত । কথা বলতে গিয়ে কথার ভার মেপে নেয় প্রথমে । কখন হুট করে চড়ে যান রুবিনা কাবির , বলা যায় না । ভদ্র মহিলা সরু চোখে মেঘা কে পরখ করলেন ।
এগিয়ে বললেন সোজাসুজি…..
” রৌদ্রের সাথে কথা বলেছিস ?
মেঘা অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে দ্বিগুণ । চোখ নামিয়ে সত্য উত্তর করে…
” না ।
” ফোন কর । কথা বলবো আমি ।
” আমিই ?
” হু , তোর ফোন থেকে !
একবিংশী তব্দা মেরে বসে রইলো । আবার এক আদেশ করলেন রুবিনা কাবির । এই কদিন চুপ ছিলেন তিনি ‌। ছেলের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন নি । আজ এই একটু আগে ফোন করেছিলেন বেশ কয়েকবার । ছেলে ফোন ধরে নি । তাই সোজাসুজি এখানে এসেছেন ।
তার তপ্ত কন্ঠে কাঁপা হাতে ফোন তুলে নেয় মেঘা । জেদ ভেঙে রৌদ্রের নাম্বারে ডায়াল করে । সে তো নিজে ফোন করছে না , রুবিনা কাবির করতে বলেছেন তাই করছে ।
ফোন রিসিভ হওয়ার আগে মেঘা ভদ্র মহিলার দিকে বাড়িয়ে দেয় ফোন । এতে ভিমড়ি খান তিনি । সেদিনের ইতস্ততা ধরে রেখে ঠোঁট ভিজিয়ে বলেন….

” তুই আগে কথা বল । পরে আমি বলছি ।
এবারো সেদিনের ন্যায় প্রথম বারেই ফোন রিসিভ হলো । সেখানে ভোর চারটে । রৌদ্র ঘুমে টাল । আধো আধো স্বরে মুখ খোলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলো সবে , তার আগেই ধড়ফড় করে জবান উঁচালো একবিংশী……
” মামনি আপনার সাথে কথা বলবে । কথা বলুন…..
বাক্য খানা শেষ করেই রুবিনা কাবিরের হাতে ফোন ধরিয়ে দিলো সে । ঝটপট করে নেমে দ্রুত কদমে ওয়াশ রুমে ঢুকে পড়লো ফ্রেশ হওয়ার জন্য । ফোন কানে ঠেকালেন রুবিনা কাবির । দৃঢ় কন্ঠে বললেন সব দূর্বলতা ঠেলে…
” কেমন আছিস ?
” ভালো….
তার ছেলের এক শব্দের উত্তর । পাল্টা কিছুই শুধালো না । মেঘার উপর বিরক্ত হয়েছে সে । এই কদিন নিজে থেকে যোগাযোগ করে নি ‌‌। আজ এই মেয়ে ফোন করলো , তাও আবার নিজে কথা বলার জন্য নয় ‌।
” আমাকে জিজ্ঞেস করবি না , আমি কেমন আছি ?
” কেমন আছো মম ?
” হু, ভালো । ফোন দিচ্ছিলাম এতক্ষণ । ধরছিলি না কেনো ?
” ঘুমোচ্ছিলাম ।

” চার মিনিট আগে ফোন দিয়েছি আমার ফোন থেকে , তখন ধরিস নি । এখন এই চার মিনিট পর ঘুম ভেঙ্গে গেলো ? মেঘা ফোন করেছে বলে ঘুম ছুটিয়ে এক বারেই রিসিভ করলি ফোন । অথচ আমি তোর মা , আমার ফোন ধরার প্রয়োজন বোধ করিস না ?
” প্রয়োজন যেখানে, সেখানেই তো প্রয়োজন বোধ করবো । ওর জন্য ঘুম হারাম করলেও আরাম আসে । তুমি বুঝবে না । মুখ খুলতে বাধ্য করো না । কি বলবে বলো ….
রুবিনা কাবির চুপ হয়ে যান ।
মেঘা ওয়াশ রুম থেকে বেরোনো মাত্রই তিনি ফোনটা ওর হাতে ধরিয়ে দিয়ে চুপচুপ বেরিয়ে আসেন ঘর থেকে ।
ফোনের স্ক্রিনে তাকানো মাত্রই মেঘা বুঝলো , ফোন কাটা হয় নি এখনো ।
ওপাশ নীরব । মুখের উপর কল কাটতে গিয়ে থমকে গেলো রমনী ‌। না চাইতেও কেঁপে কেঁপে কানে ঠেকালো ফোনটা ‌। যদি লোকটার স্বর শোনা যায় একবার , এতেই তৃপ্তি । কিছুক্ষণ দুপাশে পিনপতন নীরবতা । কেউ আর আগ বাড়িয়ে কথা বললো না । ফোনের এপাশে এখন একবিংশী রয়েছে । তা বেপরোয়া যুবকের বোঝা হয়ে গেছে ‌। মন বলেছে তার কথা । ইচ্ছে করেই চুপ রইলো কিয়ৎ কাল ।
অতঃপর ফিসফিস শব্দে ডাকলো….
” ইভারা ?
রমনীর সর্বাঙ্গ কম্পিত হয় হীম ডাকে । আঁখি দ্বয়ের দীঘল পাপড়ি নিভিয়ে আসে । হাতের টাওয়েল টা চেপে ধরে সে । মুখ এখনো ভেজা । মোছা হয় নি । চিবুকের মধ্যমায় বিন্দু কয়েক পানি গড়িয়ে নামার উপক্রম ।
মেঘা ঢোক গিললো । উত্তর বেরিয়ে আসলো কন্ঠ চিরে…

” হুঁ !
” কি হয়েছে ?
” কি হবে ?
” ফোন দিস নি কেনো আর ?
” আমার দেওয়ার কথা ছিলো নাকি ?
এক দন্ড বিরতি নিয়ে আবার বললো..
” কোথায় আপনি ?
” রুমে !
মেঘে শুনে কিছু একটা ভাবে । কন্ঠের রোধ বিসর্জন দিয়ে বলে কম্পিত স্বরে…..
” ভি…ভিডিও কল দিন । আমি দেখবো….
রৌদ্র এক ঝটকায় উঠে বসে । সন্দিহান হয় কিছুটা । শুধোয়…..

” আমায় ?
” আপনার রুম ! কি কি আছে , আর কে কে আছে তাই দেখবো আমি ।
” আমায় দেখতে ইচ্ছে করে না ?
মেঘা এবার উত্তর করলো না দোটানায় । ওকে নিশ্চুপ দেখে রৌদ্র আবার বলে….
” এ্যাপার্টমেন্টে একলা থাকি , কেউ নেই এখানে !
” তবুও দেখবো আমি ।
একবিংশীর জেদি স্বরে বিছানা ছাড়ে রৌদ্র । কল কেটে হোয়াটসঅ্যাপ এ কল লাগায় ‌। মেঘা ফোন রিসিভ করে । নিজের দিকটা ব্লার রেখে ক্যামেরা অফ করে দেয় । ওপাশে রৌদ্র কে দেখা যাচ্ছে । লোকটার চোখ মুখ ফোলা ফোলা ‌। সদ্য ঘুম ভাঙ্গার রেশ স্পষ্ট ।

চুল গুলো ভীষণ এলোমেলো । মেঘা যেনো মূর্ত বনলো এক মুহুর্ত । লোকটাকে ঠিক মতো দেখার আগেই ব্যাক ক্যামেরায় পুরো অ্যাপার্টমেন্ট ঘুরিয়ে দেখাতে লাগলো লোকটা । বিলাসবহুল একটা ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাট । রৌদ্রের রুমটা দোতলায় । রুম ছাড়িয়ে নিচতলা অবধি পুরোটাই ঘুরিয়ে দেখালো রৌদ্র । মেঘা কেবলই থম মেরে কিংকর্তব্য বিমূঢ় রইলো । মুখ দিয়ে আওয়াজ বেরোলো না আর । পুরো বাড়িতে রৌদ্র একলা । তবুও গোছানো পুরো ফ্লাট । চকচকে সব আসবাব ঠিক ঠিক জায়গায় গোছানো । যেন খুব যত্ন নিয়ে সাজানো হয়েছে । এলোমেলো নেই কোনো খানে । একলা থাকে সে , এসব গোছায় কে ?
রৌদ্র এসব করবে ? নিশ্চয়ই নয় ! এতো দামি দামি চকচকে জিনিস দিয়ে সাজানো পুরো বাড়ি । কে সাজিয়েছে ?
মেঘা নাক ফুলিয়ে প্রশ্ন করে….

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৩৪

” আপনি একা থাকেন ওখানে ?
” হুঁ ! তুই আসলেই দুজন হয়ে যাবো !
” ফ্ল্যাট এতো সাজানো গোছানো কেনো ?
” তোর জন্য ! তুই এসে সংসার করবি , তাই সব সাজিয়ে রেখেছি ! নিজের সংসার দেখতে চেয়েছিস ? আফটার অল,এখানে এসেই থাকতে হবে তোকে । দেখে নে , গুছিয়ে রেখেছি তোর জন্য সবটা । কাউকে ভাগ দেই নি তোর সংসারের । আমি তোর হকের সংসার গুছিয়ে রেখেছি , এবার তুই আমার হক গুছিয়ে বুঝিয়ে দিবি আমায় । আর কোনো টালবাহানা শুনবো না সুইটহার্ট । আ’ম কামিং সুন….

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৩৫

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here