আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৩৪
সুরভী আক্তার
রৌদ্র ভাবুক হয় । আকস্মিক মেঘার এহেন জোরালো তোরজোর বুঝলো না । আবার কিছুটা বুঝলোও হয়তো । শুধালো….
” হোয়াট আর ইউ সেয়িং ? আমার জন্য তোর পরীক্ষা খারাপ হবে কেনো ?
মেঘার থেকে উত্তর আসার আগেই হঠাৎ মনে ভাসলো একবিংশীর বলা শেষের লাইনটা । ওর মাথায় গেঁড়ে বসেছে মানে ? রৌদ্র গেঁড়ে বসেছে মেঘার মাথায় ?
মেঘা তাহলে ভাবছে ওর কথা ? মস্তিষ্ক জুড়ে রৌদ্রের বিচরন চলছে তবে ? মাথা দোলায় রৌদ্র । সে এখন এগোরো তলা ভবনের আট তলার একটা কেবিনে সটান দাঁড়িয়ে । পিকচার উইন্ডোর কাঁচ ভেদে তাকিয়ে ছিলো জুরিখ শহরের বিশাল বিশাল প্যাস্টেল শেডের অন্যান্য বিল্ডিং গুলোর দিকে । আকাশে মেঘের ভেলা ভাসছে । বিকেলের মধ্যভাগ সেখানে ।
রৌদ্র চোখ মেঝেতে নামালো । চকচকে স্বচ্ছ মার্বেলের মেঝেতে তার প্রতিকৃতি দৃশ্যমান । পড়নে শুটবুট টানটান । গলায় টাই বাঁধা । এটা তার ভিন্ন রুপ । বাড়ির যে কেউ ওকে এভাবে দেখলে হয়তো চিনবে না । টাস্কি খাবে সেখানেই । তাদের বেপরোয়া ছেলে এতোটা গোছালো , পরিপাটি, অভিজাত পোশাক পড়েছে নাকি কখনো ? তার তো পোশাকের ভিন্ন রুচি । এভাবে তাকে দেখা কোনো দুঃস্বপ্নের থেকে কম নয় । বাড়ির কেউ কল্পনাও করতে পারবে না কখনো ।
মেঘার কথার অর্থ খুঁজতে গিয়ে বিচলিত হয়ে পড়লো তার বেপরোয়া হৃদয় । পকেট থেকে হাত বের করে দু কদম পাশে সরে দাঁড়ালো । ছটফট করে বললো….
” হেয়য়য় সানি ,,, মাথায় গেড়ে বসে আছি মানে ? আমার কথা ভাবছিলি তুই ? বল একবার ? ভাবছিলি আমার কথা ? মিস করছিস আমায় ?
মেঘার ঘোর কাটে । সম্বিত ফিরে পায় রমনী । রাগ,জেদ, ছটফটানি , সব কিছুই একাধারে তড়পাচ্ছিলো তাকে । কোন ঘোরের বশে ফোন দিয়ে এতো গুলো কথা বললো , ভেবে পায় না মেঘা ।
রৌদ্রের উদ্বেগাকুল আগ্রহী কন্ঠে নড়েচড়ে ওঠে । কান থেকে নামায় ফোন । চোখ বুজে নেয় । শ্বাস টেনে নেয় বুক ভরে । সে কি সত্যিই মিস করছে ঐ বেপরোয়া লোকটাকে ? উত্তর করে দেয় জেদি মন , মোটেও না ! ও কেনো মিস করবে ? অনুভব মানুষ তাকেই করে , যে অনুভবে , অনুভুতিতে বিরাজ করে । রৌদ্রের ঠাঁই কেবলই মেঘার ঘৃণায় । অন্যথায় নয় ।
গলা টাটায় মেঘা….
” মিস করবো ? আপনাকে ? কে আপনি , যে আমি আপনাকে মিস করবো ? সকাল থেকে মাথা গরম করে রেখেছেন আমার । নির্লজ্জ বেহায়া লোক , বাড়ির সবার সামনে অপ্রস্তুত অবস্থায় ফেলেছেন আমায় । কারোর সামনে দাঁড়ানোর মুখ রাখেন নি । সকালে কি সব বলেছেন খেয়াল আছে ? লজ্জা নেই ?
আর আমি আপনাকে মিস করবো ? কাভি নেহি ! আই জাস্ট হেইট ইউ, রাইনো মুখো । এসব করে কেবলই আপনার প্রতি ঘৃণার মাত্রা বাড়িয়ে তুলছেন আপনি !
রৌদ্র হাসে । হাসি চেপে শুধায় গাঢ় দীর্ঘ শ্বাসে….
” ঘৃণা করিস আমায় ? কতটুকু করিস ? যতটুকু ঘৃণা করিস , তার চেয়েও বেশি ভালোবাসবি আমায় ! বাসিস কি না জানি না । বাট আই স্যয়ার সুইটহার্ট , ভালোবাসবিই তুই আমায় । আমি বাসাবো ভালো । শেখাবো ভালোবাসা ! ভালোবাসার ক্লাস নেবো তোর । যে ক্লাসে প্রফেসর আমি নিজেই । আর আমার একমাত্র স্টুডেন্ট হবি তুই । হটি নটি সুইটহার্ট ,, ভালোবাসবি তুই আমায় ?
মেঘা ক্ষুব্ধ হলো । কথা কোথা থেকে কোথায় গড়িয়ে নিয়ে গেলো এই লোক । রাগ দেখালো সে….
” ইউ রাইনো ,, বাজে কথা বলবেন না ।
” বাজে কথা শোনার জন্য ফোন দিয়েছিস কেনো ইডিয়ট ?
” দেবো না আপনাকে আর ফোন ! আপনার মতো নির্লজ্জের সাথে কথা বলার বিন্দুমাত্র ইন্টারেস্ট নেই আমার । ফোন রাখুন ।
” বাট তোর মতো ইডিয়টের সাথে কথা বলার এক বুক ইচ্ছে আমার । ফোন করবো বারবার , কলটা যেন রিসিভ হয় ।
মেঘা শুনেই কটমট করে ফোন কেটে দিয়েছে ।
এপাশে হাত মুঠো করে নরম চোয়াল শক্ত করে বিড়বিড় করলো রমনী…
” রাইনো মুখো ।
অন্যপাশে কান হতে ফোন নামায় রৌদ্র । বুক ফুলিয়ে শ্বাস টানে । মৃদু হাসে গাল ভরে । ফোনের স্ক্রিনের দিকে শান্ত চোখে তাকায় । হুট করে ঠোঁট ছোঁয়ায় ওয়াল পেপারে । অতঃপর বৃদ্ধা আঙ্গুলে স্ক্রিনে আলগোছে স্লাইড করে বলে….
” ইডিয়ট , আর কতো তড়পাবি আমায় ? আর কত বাঁচবো এভাবে ! পাঁচ বছর কি কম ছিলো না এভাবে বাঁচা ? তোকে ছাড়া , তোখে হীনা , আর কতো ?
বুক চিরে শ্বাস পড়ে । আকস্মিক বিষন্নতায় বুজে আসে চোখ । পেছন থেকে একখানা ঠান্ডা পুরুষালি কন্ঠে নীরবতা ভাঙে পুরো নিস্তব্ধ কেবিনের ।
দরজা ঠেলে কেউ অনুমতি চায় বিনয়ের সুরে…..
” স্যার , মে আই কাম ইন ?
রৌদ্র কপাল গুটিয়ে কিছুটা বিরক্তি নিয়ে সহসা তাকালো । শুটবুট পড়নে তড়তাজা এক যুবক । চেহারায় বেশ বিদেশি আভিজাত্য । দেশি ছেলে । গত পনেরো বছর ধরে এই বিদেশের মাটিতে পড়ে আছে । ফুল ফ্যামিলি এখানেই ।চেহারাতেও রপ্ত হয়েছে বিদেশি ভাবটা ।
রৌদ্রের পার্সোনাল এসিস্ট্যান্ট । নাম #মাহির_রাইয়ান । বেশ সুন্দর একটা ছেলে । বয়সে রোদ্রের ছোটই হবে । সেই পাঁচ বছর ধরে রৌদ্রের সাথে ছায়ার মতো মিশে আছে সে ।
ওকে দেখে রৌদ্র ঘুরে এসে সটান ভঙ্গিতে নিজের চেয়ারে বসতে বসতে বলল…
” পারমিশন নিচ্ছো কেনো ?
মাহির ভেতরে আসে দরজা ঠেলে । রৌদ্রের পাশে দাঁড়িয়ে একটা ফাইল এগিয়ে দেয় ।
” ফোনে কথা বলছিলেন তো , তাই ভাবলাম ডিস্টার্ব না করাই ভালো ।
” কথা শেষ !
ফাইল টা খুলে চোখ বোলায় রৌদ্র । মনযোগ বসলো না । বন্ধ করে ইজি চেয়ারে মাথা এলিয়ে দিলো ।
ছেলেটা কিছুটা ইতস্তত । জড়তা কাটিয়ে ডাকলো কিয়ৎ কাল বাদ….
” স্যার ?
রৌদ্র হাত উচায় । কপালের পাশে আঙ্গুল ঠেকিয়ে ধীরুজ উত্তর করে….
” হুঁ !
” ফোনের ওপাশে ম্যাম ছিলেন ?
আকস্মিক প্রশ্ন । তৎক্ষণাৎ রৌদ্রের প্রতিক্রিয়া দেখা গেলো না । মুচকি হাসি চোখে পড়লো এক মুহুর্ত পর । একই ভঙ্গিমায় এক ফালি হেসে একটু খানি উত্তর করে রৌদ্র….
” হুঁ !
মাহির যেন ছটফট করে উঠলো । প্রকাশ পেলো চেহারায় । আগ্রহ দমিয়ে রাখতে না পেরে ফটাফট পরবর্তী প্রশ্ন করলো…..
” দীর্ঘ পাঁচ বছর পর তাকে দেখে অনুভুতি কেমন ছিলো আপনার ? জানতে বড্ড আগ্রহী আমার মন ? দেশে ফিরলেন , দেখলেন তাকে , কেমন লাগলো ?
রৌদ্র সোজা হয়ে বসে । অনুভুতি ? কেমন ছিলো তার বেপরোয়া হৃদয়ের অবাধ্য অনুভুতি ? এই ছেলে তো জানতে চাইছে । রৌদ্র বর্ননা করবে কি করে ? অঢেল অনুভূতি কি একটা,দুটো শব্দ – বাক্য দিয়ে বর্ননা করা যায় নাকি ? কিছুক্ষণ চুপ থেকে অনুভুতি গুলো মেপে নিলো সে ।
মাহির বড্ড উৎকন্ঠিত । তড় সইছে না উত্তর না পাওয়া অবধি । রৌদ্র কেবলই দীর্ঘ হাঁফ ছাড়ে ।
” তাকে দেখার অনুভুতি ? আই ডোন্ট নো , কেমন ছিলো সেই অনুভূতি !
একটু থামলো । পিছিয়ে বসে বেখেয়ালে বলতে আড়ম্ভ করলো….
” তবুও যদি বলি , তাহলে বলতে হয় হৃদয় থমকে যাওয়ার মতো অনুভুতি । আমার সমস্ত অবাধ্যতা গুলো দ্বিতীয় বার কাঁচের ন্যায় টুকরো টুকরো করে গুঁড়িয়ে ভেঙ্গে দেওয়ার মতো অনুভুতি । আমার এই বেপরোয়া সত্ত্বার খেই হারানোর মতো অনুভুতি । উত্তপ্ত অনলে ধিক্ ধিক্ করে পুড়ে ছাই হওয়ার মতো অনুভুতি । আমার ষোড়শী কন্যার একবিংশী রুপ দেখে অমৃত সুধা হাতে পাওয়ার মতো অনুভুতি । আই এম আনাবেল টু এক্সপ্লেইন দিস ফিলিং , মাহিরর….
বলতে গিয়ে রৌদ্রের গলা কাঁপে । কেমন ব্যাকুল দেখায় তাকে । ছেলেটা প্রশান্ত হাসলো বুক ফুলিয়ে । তৃপ্ত হয়ে বললো….
” তাহলে সব ঠিকঠাক ?
” উঁহু , সব উল্টো ।
” কেনো ? আর আপনি একা ফিরলেন যে ? ম্যাম কে নিয়ে আসার কথা ছিলো তো ।
” পাঁচ বছর আগে ওকে ফেলে আসা উচিত হয়নি আমার । আমি ভুল করেছি মাহির ! দীর্ঘ পাঁচটা বছর সুখ বিসর্জন দিয়েছি । অবাধ্যতা ভুলতে এসে ওর সামনে আরো বেশি অবাধ্য হিসেবে পরিচিত হয়েছি । ইভারা নামক এক অমৃত সুখ থেকে দূরে রেখেছি নিজেকে । সময় দিতে গিয়ে অসময় ডেকে এনেছি । এতোটা লেইট করা উচিত হয় নি আমার ।
” তা ঠিক , আমি বলেছিলাম আপনাকে ! এবার বলুন , আপনি সামনে যাওয়ার পর ম্যামের অনুভুতি কি বুঝলেন ?
” সে বড্ড জেদি ! অনুভূতি প্রকাশ করে না , ইডিয়ট ।
” মেয়েরা অনুভুতি প্রকাশ করতে বরাবর নাজুক । তাদের অনুভুতি গুলো বুঝে নিতে হয় স্যার ।
রৌদ্র হাসে । পূর্ণ চোখে তাকায় ছেলেটার দিকে ।
” তুমিও বেশ ভালোই বোঝো দেখছি !
বাই দ্যা ওয়ে , যেটার জন্য হঠাৎ এখানে আসা ! কিকঅফ মিটিং ডেকে অ্যানাউন্স করে দাও , প্রজেক্টের কনফারেন্স কাল হবে । কর্পোরেট ডিলের ডেট এগিয়ে এসেছে । কালকেই ফাইনাল । যে করেই হোক এই প্রজেক্ট আমাদের হাতে আসা চাই ।
” কিন্তু স্যার , কনফারেন্স তো আরো তিনদিন পর হওয়ার কথা ছিলো !
” আমি তিন দিন আগে এসেছি , সেক্ষেত্রে কনফারেন্স ও তিন দিন আগে এগিয়ে এসেছে । আমার হাতে সময় নেই মাহির । ফিরতে হবে আমায় । রিসেন্টলি , আই কান্ট স্টে উইদাউট হার ! ইট ফিলস লাইক আই কান্ট ব্রিদ !
মাহির মুচকি হাসে । এই বেপরোয়া লোকটাকে গত পাঁচ বছর ধরে দেখছে সে । প্রথম দু বছর দেখেছিলো ছন্নছাড়া হিসেবে । লাস্ট তিন বছরে লোকটা নিজেকে এতোটা গুছিয়ে ফেলেছে , দেখলে অবাক হয় সে । নিজেকে গোছানোর সাথে সাথে গুছিয়ে নিয়েছে পুরো #লোমাত_ইন্ডাস্ট্রি কে । জুরিখ শহরের অন্যতম নামকরা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির মধ্যে অন্যতম এটা । গত সাত বছরের ব্যাবধানে বেশ বড়ই জায়গা করে নিয়েছে ভিন্ন দেশি শহরের বুকে । যার প্রধান শাখা দেশের বরিশালে । প্রতিষ্ঠাতা আমজাদ তালুকদার । ট্রান্সন্যাশনালের প্রতিষ্ঠাতা তার একমাত্র ছেলে #আরাফ_তালুকদার ।
সেই লোমাত ইন্ডাস্ট্রির সব ক্ষমতা এখন রুডভিক কাবির রৌদ্র নামক এই বেপরোয়া ছেলের হাতে । যে ক্ষমতা হাতে পেয়ে পরোয়া শিখেছে সেই ছেলে । বুঝেছে কিছুটা কদর । গত পাঁচ বছরে খুব যত্ন করে গড়ে তুলেছে এই গোটা লোমাত ইন্ডাস্ট্রি । সামলেছে নিজ হাতে ।
পূর্ণ ক্ষমতা তার হাতেই । সেই তাগিদে একটা বড় প্রজেক্টের কাজে হুট করেই রৌদ্র কে চলে আসতে হয়েছে এখানে । বেশ বড় এ্যামাউন্টের ডিল হাতে আসতে চলেছে । যদিও বা রৌদ্র কেবলই এ কারনে আসে নি । তার আসার কারন আছে আরো একটা । মেঘার উদ্বিগ্নতা দেখতে চায় সে । পোড়াতে চায় ঐ ইডিয়ট কেও ।
মাহির কিছুক্ষণ চুপ থাকলো । রৌদ্র যেহেতু বলেছে , সেহেতু কালকেই সব হবে । দ্বিরুক্তি করলো না সে । বললো….
” ডিল সাইনিং করেই চলে যাবেন ? ইনসেপশনে থাকবেন না ? প্রয়োজন হবে আপনাকে এখানে ! আফটার অল , সব আপনার হাতে ।
” কিছুদিন থাকবো ! বাকিটা তোমাকে সামলাতে হবে ।
রৌদ্রের কথা শেষ হলো । তাৎক্ষণিক একখানা ছোট্ট চিকন বাচ্চা কন্ঠ ভেসে আসলো দরজার দিক থেকে । উদ্বেগ নিয়ে ডাকলো কোনো বাচ্চা….
” পাপা ?
” ইয়াহহহহ মাম্মা !
রৌদ্রের ভড়কানো পুরু উত্তর ডাকের বিপরীতে সহসা ।
চকিতে দরজার দিকে ছলকে তাকালো সে । সাথে সাথে মাহির ও । হাসি ফুটলো বেপরোয়া ছেলের ওষ্ঠপূটে । বেখেয়ালে তার হাসি প্রগাঢ় থেকে তৃপ্ত হয় । ভরা চোখে প্রশান্তির রেখা দেখা দেয় আপনা আপনি । দাঁড়িয়ে যায় সে ।
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৩৩
কাঁচের দরজা ঠেলে ছোট ছোট দুপায়ে পিটপিট করে ভেতরে ঢুকলো ছোট্ট একটা বাচ্চা । রৌদ্র কে দেখে ফিক করে হাসলো মুখে দুহাত রেখে । এক ঝটকায় ছুট লাগালো অতঃপর । ছুটে এসে দাঁড়ালো রৌদ্রের সামনে । উচ্চতায় রৌদ্রের হাঁটু ছাড়িয়েছে একটু আধটু ।
রৌদ্র চোখ সরু করে ভ্রু নাচায় । হাঁটু মুড়ে বসতেই বাচ্চাটা ছোট ছোট দুহাতে আকড়ে নিলো ওকে । বললো ঠোঁট নাড়িয়ে….
” লাভ ইউ পাপা !
