ইশকে দে ফানিয়ার পর্ব ৩১
মেহজাবিন নাদিয়া
জেবার কথার পিঠে উল্টো আর কোনো তর্কে গেলেন না আরিশান মৃধা। ওনার গম্ভীর মুখে এবার রাগের বহিঃপ্রকাশ ঘটল না, বরং ওনি জেবাকে অবাক করে দিয়ে আচমকা নিজের এক হাত বাড়িয়ে ওকে শক্ত করে টেনে নিজের চওড়া বুকের সঙ্গে মিশিয়ে নিলেন। জেবা কিছু বুঝে ওঠার আগেই আরিশান মৃধা শক্ত বাহুডোরে ওকে বন্দি করে ফেললেন। অত্যন্ত ধীরস্থিরভাবে জেবার মাথায় নিজের হাত বুলাতে লাগলেন। ওনার গম্ভীর কণ্ঠস্বর থেকে সমস্ত রুক্ষতা উধাও হয়ে সেখানে স্থান নিল এক অদ্ভুত শান্ত সুর। ওনি শুধু একটি শব্দ উচ্চারণ করলেন
_”ঘুমাও।”
জেবা এই আকস্মিক পরিবর্তনে বেশ চমকিত হলো।লোকটা এতটা শান্ত কীভাবে হয়ে গেল-তা কিছুতেই মাথায় ঢুকল না ওর।আরিশান মৃধা কোনো কৈফিয়ত না দিয়ে অনবরত জেবার রেশমি চুলে নিজের আঙুল চালিয়ে বিলি কেটে দিতে থাকলেন, মাথায় হাত বুলাতে থাকলেন।
আরিশান মৃধার এই শান্ত রূপটা জেবার মনের ভেতর একটা তীব্র ভালো লাগার আলোড়ন সৃষ্টি করল। ভেতরের অবাধ্য অনুভূতিগুলো যেন ডানা মেলে উড়তে শুরু করল।জেবা কখনো ভাবেনি এই গম্ভীর, ধরাছোঁয়ার বাইরের লোকটার এতো কাছাকাছি সে কোনোদিন আসতে পারবে, তাও আবার ওনার বুকের এত গভীরে! জেবা নিজের দুহাতে আরিশান মৃধাকে শক্ত করে জাপটে ধরল, যেন এই আশ্রয়টুকু ও কোনোভাবেই হারাতে চায় না। ও ওনার বুকে নিজের মুখটা পরম শান্তিতে ঘষতে লাগল।
আরিশান মৃধা চুপচাপ নিজের পিচ্ছি বউটার বাচ্চামিতে ভরা কার্যকলাপগুলো দেখতে ব্যস্ত হলেন। জেবা তখনও ওনাকে বাচ্চাদের মতো জড়িয়ে ধরে ওনার বুকে অনবরত নাক ঘষে চলেছে, ওনার গায়ের চেনা সুবাস টেনে নিচ্ছে নিজের ভেতর। এই পুরো ব্যাপারটা আরিশান মৃধার কাছেও প্রশান্তির মতো ঠেকল।অজান্তেই তার ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসির আভাস দেখা দিল। কিন্তু পরক্ষণেই জেবা দেখার আগেই ওনি সেই হাসি মিলিয়ে ফেলে নিজের চিরচেনা গম্ভীর ভাবটা ফিরিয়ে আনলেন।
জেবা বুক থেকে আস্তে করে চোখ তুলে ওনার মুখের দিকে চাইল। আরিশান মৃধার এই ক্ষণে ক্ষণে বদলে যাওয়া আচরণ আজ জেবাকে বড্ড দ্বিধায় ফেলে দিয়েছে। ওর মনের ভেতর লুকিয়ে থাকা সবচেয়ে বড় প্রশ্নটা আজ খুব করে জানতে ইচ্ছে করছে-এই লোকটা কি আদেও ওকে ভালোবাসে, নাকি সবটাই স্রেফ মায়া?জেবা আরিশান মৃধার দিকে তাকিয়ে নরম গলায় বলল,
_”একটা কথা বলি হানি?”
আরিশান মৃধা চুপ ছিলেন। জেবার কথার পিঠে ওনি শুধু একটা সংক্ষিপ্ত শব্দ উচ্চারণ করলেন
_”হুম।”
জেবা আরিশান মৃধার চোখের দিকে তাকাল গভীর মনোযোগ দিয়ে। আরিশান মৃধাও ওনার গম্ভীর ধারালো দৃষ্টিতে ওর দিকেই তাকিয়ে ছিলেন। দুজনের এই চোখাচোখি আর নীরবতার মাঝেই জেবা হঠাৎ করে বুক ঢিপঢিপ করা প্রশ্নটা করেই ফেলল-
_”আপনি কি আমাকে ভালোবাসেন?”
জেবার এই আকস্মিক প্রশ্নে আরিশান মৃধা বিন্দুমাত্র চমকালেন না। ওনার চেহারার নির্বিকার ভাব দেখে মনে হলো ওনি আগে থেকেই জানতেন জেবা এইরকম কিছু একটা বলতে চলেছে বা ওনার কাছে এই উত্তরটাই জানতে চাইবে। ওনি চোখের পলক না ফেলে, একদম নিস্পৃহ গলায় বললেন,
_”না।”
সরাসরি এমন একটা নির্মম উত্তর শুনে জেবার বুকের ভেতরটা ছ্যাঁত করে উঠল। ও দমে না গিয়ে কাঁদোকাঁদো গলায় বলল,
_”তাহলে এত সব আমার জন্য কেন করছেন?”
আরিশান মৃধা এক মুহূর্ত সময় না নিয়ে জবাব দিলেন,
_”দায়িত্ববোধ।”
‘দায়িত্ববোধ’ শব্দটা জেবার কানে তপ্ত সিসার মতো ঠেকল।মনে মনে খুব কষ্ট পেল জেবা,চোখের কোণে এক ফোঁটা জল চিকচিক করে উঠল।জেবা নিজেকে সামলে নিয়ে ভাঙা গলায় বলল,
_”দ্বায়িত্ববোধ হাহ্। ”
হাসলো জেবা। বিষাদমাখা হাসিটা।_”তার মানে… আপনি এখনো আনতারা আন্টিকে ভালোবাসেন?”
আরিশান মৃধা এবারও কোনো লুকোছাপা করলেন না। ওনি ওনার আগের জায়গাতেই অটল থেকে বললেন,
_”হয়তো।”
এই একটা বাক্যেই জেবাকে ভেতরে ভেতরে ভেঙে চুরমার করে দিলো। ও একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে তিল ধারণের মতো তাচ্ছিল্যের হাসি হাসল। নিজের এই করুণ পরিস্থিতির ওপর নিজেই হাসল সে। ধীর গলায় বলল,
_”তাহলে আমার থেকে বাচ্চা কেন চান?”
আরিশান মৃধা স্বভাবসুলভ কণ্ঠে উত্তর দিলেন,
_”প্রয়োজন, তাই।”
_”প্রয়োজন? তার মানে আপনি আমাকে স্রেফ প্রয়োজনে ব্যবহার করছেন?”
আরিশান মৃধা এবারও ওনার চাউনি স্থির রেখে শীতল গলায় বললেন,
_”হয়তো।”
জেবার সারা শরীর কাঁপতে লাগল। ও শেষবারের মতো করুণ চোখে তাকিয়ে ওনার কাছে জানতে চাইল-
_”আমাকে একটুও ভালো কেন বাসলেন না?”
আরিশান মৃধা ওনার দৃষ্টি সরিয়ে নিয়ে উদাসীন গলায় বললেন,
_”জানি না।”
জেবা আরিশান মৃধার এই শেষ কথাটি শোনার পর আর কিছুই বলল না। সে তার কাঙ্ক্ষিত উত্তর পেয়ে গেছে। লোকটা ওকে প্রয়োজনে ব্যবহার করছে, ওনার জীবনে ওনার দায়িত্বের খাতিরে একটা পুতুলের মতো স্থান দিয়েছে ওনি জেবাকে।অরির জন্য সারিমের মতো কোনো ভালোবাসা ওনার মনে জেবার জন্য নেই। জেবা আসলে একটু বেশিই এক্সপেক্ট করে ফেলেছিল লোকটার কাছ থেকে। ও ভুলে গিয়েছিল, এই লোকটা এখনো নিজের প্রথম স্ত্রীকেই মনপ্রাণ দিয়ে ভালোবাসে। শুধু শুধু জেবা এই দুজনের পবিত্র ভালোবাসার মাঝে খলনায়িকার মতো এন্ট্রি নিল!ওর নিজের ভালোবাসা পায়নি তো কী হয়েছে? জেবা মনে মনে এক কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে নিল। লোকটাকে সে আবার ওনার প্রথম ভালোবাসার সাথেই মিলিয়ে দেবে।জেবা আর এই সম্পর্কে জোর করে থাকতে চায় না।
জেবা ততক্ষণে নিজেকে আরিশান মৃধার বুক থেকে জোর করে ছাড়িয়ে নিয়ে এসেছে। আরিশান মৃধা বউয়ের অভিমান আর দূরত্ব তৈরি করাটা বুঝেও ওকে আটকানোর কোনো চেষ্টা করলো না,জেবা ওনার থেকে মুখ ফিরিয়ে, বিছানার অন্যপাশে গিয়ে দেওয়ালের দিকে ফিরে শুয়ে পড়ল।আরিশান মৃধার অলক্ষ্যে নিজের চোখের জল ফেলতে ফেলতে, নিঃশব্দে বালিশ ভেজাতে ভেজাতে একসময় ক্লান্তিতে ঘুমিয়ে পড়ল জেবা। আরিশান মৃধা সেদিকে তাকিয়ে এক গভীর দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।
নিকষ কালো অন্ধকার আর একটানা ঝিরঝির বৃষ্টির মাঝে লাল রঙের প্রাইভেট কারটি শহরের মূল সড়ক ছেড়ে নির্জন, পরিত্যক্ত উপকণ্ঠের দিকে এগিয়ে চলল। গাড়ির ভেতরে গম্ভীর নীরবতা। পেছনের সিটে বসা আনতারা মৃধার মুখের কালো মাস্কটা তখনো খোলা হয়নি। ড্রাইভিং সিটে বসে অত্যন্ত সাবধানে স্টিয়ারিং ধরে আছেন সোলেমান শেখ। কপালে চিন্তার ভাঁজ, বারবার লুকিং গ্লাসে পেছনে তাকিয়ে আনতারা মৃধার রহস্যময় অবয়বটা বোঝার চেষ্টা করছেন তিনি।বেশ কিছুক্ষণ চলার পর, গাড়িটি একটা ভাঙাচোরা রাস্তার মাথায় এসে থামল। সোলেমান শেখ হেডলাইটের আলোয় চারপাশটা দেখে কিছুটা অস্বস্তি বোধ করলেন। গাড়ি থেকে প্রথমে নামলেন আনতারা মৃধা। ওনার দেখাদেখি সোলেমান শেখও ছাতা মাথায় দিয়ে গাড়ি থেকে নেমে এলেন। চারদিকে চোখ বুলিয়ে দেখলেন-সামনে একটা বিশাল, পরিত্যক্ত পুরনো ফ্যাক্টরি দাঁড়িয়ে আছে। দেয়ালের আস্তর খসে পড়েছে, চারপাশটা আগাছা আর ভুতুড়ে অন্ধকারে ছেয়ে গেছে। বৃষ্টির শব্দে জায়গাটা আরও বেশি গা ছমছমে লাগছে।
সোলেমান শেখ ছাতাটা একটু উঁচিয়ে ধরে আনতারা মৃধার দিকে তাকিয়ে সন্দিহান ও কিছুটা বিরক্ত গলায় জিজ্ঞাসা করলেন,
_”এটা কোন জায়গা, আনতারা?রাতের বেলা এমন বৃষ্টির মধ্যে আমাকে এখানে কেন নিয়ে এসেছ?”
আনতারা মৃধা ওনার দিকে সরাসরি না তাকিয়ে, ফ্যাক্টরির বিশাল লোহার গেটের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে অত্যন্ত ঠান্ডা গলায় বললেন,
_”সময় হলেই সব বুঝতে পারবে, সোলেমান। বেশি প্রশ্ন না করে আমার পেছনে পেছনে এসো।”
সোলেমান শেখের মনের ভেতর কু-ডাক ডেকে উঠল কেন জানি। আরিশান মৃধার স্ত্রী হিসেবে আনতারা মৃধাকে ওনি বহু বছর ধরে চিনলেও,স্ত্রী জাহরিমা শিকদারের সঙ্গে আনতারা মৃধার বেশ বন্ধুত পূর্ণ সম্পর্ক ছিলো। দুজনেই একি হসপিটালে জব করতো।সেই থেকে আনতারা মৃধার সাথে ওনার ফ্রেন্ডলি সম্পর্কটা আরো একধাপ এগিয়েছিলো। কিন্তু আজ আনতারা মৃধার এই রূপটা সম্পূর্ণ অচেনা, এক থমথমে রহস্যে ঘেরা মনে হচ্ছে তার কাছে। তবুও কৌতূহল আর অবাধ্যটানে ওনি আনতারা মৃধাকে অনুসরণ করে পেছনে পেছনে হাঁটতে লাগলেন।
ফ্যাক্টরির বিশাল মরচে ধরা লোহার গেটটি সামান্য খোলাই ছিল।তারা দুজন ভেতরে প্রবেশ করলো সেই গেইট ধরে।ভিতরে প্রবেশ করতেই হঠাৎ কোনো বাতাস ছাড়াই, বিকট একটা সশব্দে ভারী লোহার গেটটি পেছনের দিক থেকে নিজে নিজেই বন্ধ হয়ে গেল! যেন কোনো অদৃশ্য হাত ফেরার পথ চিরতরে সিলগালা করে দিল।
সোলেমান শেখ প্রচণ্ড চমকে উঠলেন। ওনি চট করে পিছু ঘুরে গেটটার দিকে তাকালেন।বুকের ভেতরটা এবার ধক করে উঠল। ওনি দ্রুতপায়ে আনতারা মৃধার সামনে এসে তার হাত চেপে ধরে ক্ষিপ্ত গলায় বললেন,
_”দরজা নিজে নিজে বন্ধ হলো কীভাবে? আর আমরা এখানে কেন এসেছি, আনতারা? তুমি বলেছিলে আরিশান আর তোমার ব্যাপারে খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা বলবে, যা জেবার কান পর্যন্ত যাওয়া যাবে না। তাহলে এসব কী থিয়েটার হচ্ছে এখানে?”
আনতারা মৃধা ওনার হাতটা ঝাড়া মেরে সরিয়ে দিলেন। মুখের মাস্কটা টেনে নিচে নামিয়ে বাঁকা হাসি দিলেন। অত্যন্ত শান্ত কণ্ঠে বললেন,
_”রিল্যাক্স সোলেমান, রিল্যাক্স! এই বয়সে এত হাইপার হতে নেই, নয়তো হার্ট অ্যাটাক হওয়ার সম্ভাবনাটা একটু বেশিই থাকে।”
সোলেমান শেখের এবার রাগ মাথার চাঁদিতে চড়ে গেল। ওনি আঙুল উঁচিয়ে গর্জে উঠে বললেন,
_”মশকরা করছ আমার সঙ্গে? আমি আর এক মুহূর্তও এখানে থাকব না!”
আনতারা মৃধা এবার খিলখিল করে উচ্চশব্দে হেসে উঠলেন। সেই হাসির শব্দ পরিত্যক্ত ফ্যাক্টরির দেয়ালে দেয়ালে প্রতিধ্বনিত হয়ে এক বীভৎস পরিবেশ তৈরি করল। ওনি হাসি থামিয়ে ঠাট্টার সুরে বললেন,
_”যাও… যাও! তোমাকে আটকে রাখছে কে? দরজা খোলো, আর চলে যাও!”
_”যাচ্ছি তো অবশ্যই! তবে এর ফল ভালো হবে না বলেদিলাম।এভাবে ডেকে এনে অপমান করার রাইট তোমায় দেইনি। ”
সোলেমান শেখ আর এক সেকেন্ডও দেরি করলেন না।এই মহিলাকে তিনি পরেও দেখে নিবেন, ওনার সাথে মশকারি। সোলেমান শেখ দ্রুত পায়ে গেটের সামনে গেলেন। এরপর গেইটের হাতল ধরে টানাটানি শুরু করলেন। কিন্তু আশ্চর্য জনক ব্যাপার হলো,গেইটি খুলছে না।এমন মনে হচ্ছে যেন গেটটি বাইরে থেকে শক্ত কোনো শিকল বা তালা দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ভেতর থেকে তা খোলার কোনো উপায় নেই।
মুহূর্তের মধ্যে সোলেমান শেখের গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেল। কপালে ঠাণ্ডা ঘাম জমে উঠল ওনার। ধীর পায়ে পেছনে ফিরে আনতারা মৃধার পানে চাইলেন। আনতারা মৃধা তখনো ওনার দিকে তাকিয়ে সেই চেনা বাঁকা হাসিতে মেতে আছেন।চোখে কোনো ভয় নেই, আছে এক পরম অদ্ভুত পৈশাচিকতা।সোলেমান শেখের মনে এবার তীব্র সন্দেহ আর আতঙ্কের মেঘ দানা বাঁধল। ওনি কাঁপাকাঁপা সন্দিহান স্বরে জিজ্ঞাসা করলেন,
_”তুমি আসলে কে, আনতারা? তোমার উদ্দেশ্য কী?”
আনতারা মৃধা ওনার কথা শুনে হাসলেন,অদ্ভুত এক ভুতুরে হাঁসি,দেখলেই কেমন গা ছমছম করে উঠে।সোলেমান শেখ তা দেখে একটু ভয় পেয়ে গেলেন। কেন যেন আনতারা মৃধাকে ওনার মানুষ বলে মনে হচ্ছিলো না এই মূহর্তে, আনতারা মৃধার মুখো ভাবের আকৃতি তার ভিতরে অনেক কিছু বুঝিয়ে দিচ্ছিলো। এখানে অবিশ্বাস করারো কিছু নেই, যেই মহিলা চৌদ্দ বছর পর ফিরে আসতে পারে তার ভিতরে কোনো রহস্য থাকবেনা,এটা বড্ড বেমানান। এই মূহর্তে সোলেমান শেখের কাছেও ঠিক তেমনটাই মনে হচ্ছে।
তখনি আনতারা মৃধা ধীরলয়ে দুই হাত তুলে হাততালি দিলেন। আর সেই হাততালির শব্দ শেষ হতে না হতেই, ফ্যাক্টরির ভেতরের ঘুটঘুটে অন্ধকার কোণ থেকে দুজন দীর্ঘদেহী অবয়ব ধীর পায়ে আলো আঁধারির মাঝে বেরিয়ে এলো।
সোলেমান শেখ সেদিকে চাইলেন।প্রথমে অবয়ব দুটোর দিকে সাধারণ অপরাধীর মতো তাকালেন। কিন্তু যখন দুটো অবয়ব সম্পূর্ণ আলোর নিচে এসে দাঁড়ালো, তখন সামনের লোকটার মুখের ওপর চোখ পড়তেই সোলেমান শেখের সারা শরীর বরফের মতো জমে গেল।পায়ের তলা থেকে যেন আস্ত পৃথিবীটাই এক লহমায় সরে গেল!চোখ দুটো ঝাপসা হয়ে আসতে লাগল, মাথাটা তীব্রভাবে ভোঁ ভোঁ করতে শুরু করল।নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। ওনার ঠোঁট দুটো কাঁপতে কাঁপতে কোনোমতে একটা অস্পষ্ট নাম উচ্চারিত হলো।
ইশকে দে ফানিয়ার পর্ব ৩০
_”দে…দেলোয়ার। ”
এটা কীভাবে সম্ভব?লোকটা তো মারা গেছিলো!মরা মানুষ আবার জীবন্ত হয়ে আসে কিভাবে। প্রথমে আনতারা!আর এখন দেলোয়ার।এসব কিছু ওনি ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে সপ্ন দেখছেন না তো। একের পর এক ওনার জীবনে কতকিছু ঘটে যাচ্ছে আর ওনি কিছু বুঝেও করতে পারছেন না।আবার কিছু হাজার চেষ্টা করেও বুঝতে পারছেন না।সবকিছু যেন ওনার মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে।
