এক দেখায় পর্ব ২২
সুরভী আক্তার
মাঝে কেটে গেল আরো বেশকিছু দিন । নাদিয়ার বিয়ের দিন এগিয়ে আসছে । এর মধ্যে সোহেলের সাথে তেমন আর দেখা হয় না । কারোর সাথে ঠিকমতো কথাও বলে না সোহেল । সেই দিনের পর একদিন এসেছিল ক্লাসে । চোখ মুখ কেমন শুকিয়ে গেছে । সবসময় মাথা নিচু করে থাকে । সবসময় হাসি খুশি থাকা লাফাঙ্গা চঞ্চল ছেলেটা কেমন নিষ্ক্রিয় হয়ে নেতিয়ে পড়েছে । সেই যে একদিন এসেছিল, জোরপূর্বক দু-একটা কথা ব্যতীত আর কোন কথা বলে নি । ক্লাস শেষ না হতেই মাঝে পথে ক্লাস থেকে বেরিয়ে গেছে ।
আর কোচিংয়েও আসে নি । ওদের সবার মেসেঞ্জার , হোয়াটসঅ্যাপ ফ্রেন্ডস গ্রুপ থেকেও লিভ নিয়ে নিয়েছে ।
ক্লাসে আনমনে বসে আছে মিহি, রুহি, মিরা, আর রৌনক । ওদের মুখেও কোন কথা নেই । ওরা বন্ধুরা মিলে কতো আনন্দই না করতো ।
এখন আর মন বসে না কোনো কিছু তে । একদিকে নাদিয়ার বিয়ে , অন্যদিকে সোহেলের জন্য মন খারাপ সবার । এদিকে সোহেল নিজে থেকে যোগাযোগ ও করে না ওদের সাথে ।
নাদিয়ার বিয়েতে না গেলেও নয় , সেখানে যেতেই হবে ।
মিহি কে আগে থেকেই পারমিশন দিয়েছে । মিরার ও কোনো প্রবলেম নেই । তবে আটকে গেছে রুহি । রাফি ওকে কড়া ভাবে না করে দিয়েছে । এই কদিনে সকাল-সন্ধ্যা রাফির পিছু পিছু ঘুরেছে রুহি । তবে রাফি ওর সিদ্ধান্ত থেকে এক চুলও নড়েনি ।
বড় একটা ব্রেঞ্চের উপর বসে নখ খুঁটছে রুহি । পাশেই আছে বাকিরা । একটা ক্লাস শেষে একটু সময় পেয়েছে । পরের ক্লাস শুরু হতে একটু দেরি আছে । রুহির বরাবরের অভ্যাস নখ খোঁটা । ও আপন মনে নিজের নখগুলোর উপর যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে ।
নখ খেতে খেতেই রুহি বলে ওঠে…
” ভাইয়া তো আমাকে যেতে দেবে না রে । এখন আমি কি করবো ?
” নাদিয়া বারবার করে যেতে বলেছে আমাদের । আর একবার তোর ভাইয়া কে বলে দেখ , যদি যেতে দেয় !
মিরার কথায় রুহি শ্বাস ফেলে বলে…
” এই নিয়ে হাজার বার পার করেছি বলা, রাজি হয় নি । আর তুই বলছিস আর একবার বললে যেতে দেবে …
” তোর ভাইয়াটা এমন কেনো রে ? এমনিতে তো তোকে খুব ভালোবাসে , তাহলে এই সামান্য বিষয় গুলোতে এতো বাঁধা দেয় কেনো তোকে ? তোর ভাইয়া সুপারস্টার , তুই নোস, গেলে ওনাকে তুলে নিয়ে যাবে তোকে কেউ তুলে নিয়ে যাবে না – যে এতো ভয় পায় উনি ।
মিরার খানিক ঝাঁজালো কথায় বিরক্ত হয় রুহি । ভারী গলায় বলে….
” আমার ভাইয়া আমাকে অনেক ভালোবাসে, তাই এমনটা করে । এটাও আমার ভাইয়ার ভালোবাসার একটা বড় নমুনা । তুই বুঝবি না এসব ।
মিহি মুচকি হাসে রুহির কথায় । রুহির চোখ যায় মিহির নীরব হাসির দিকে । রুহি তাৎক্ষণিক কিছু একটা ভেবে হুড়মুড়িয়ে ব্রেঞ্চ থেকে নেমে পড়ে । মিহির হাত দুটো ধরে বলে….
” পাখি,, একটা আইডিয়া পেয়েছি ভাইয়া কে রাজি করানোর ! চল ওদিকে…
বলেই মিরা আর রৌনকের সামনে থেকে মিহি কে টেনে নিয়ে যায় রুহি । মিহিও রুহির টানে এগিয়ে যায় । ওরা গিয়ে বসে নিজেদের ব্রেঞ্চে । এদিকে মিরা ওদের গলাগলি দেখে নাক সিটকে বিরক্তি সূচক শব্দ উচ্চারণ করে মুখে ।
বসেই মিহির হাত দুটো নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে নিচু স্বরে উত্তেজিত কন্ঠে রুহি বলে…
” শোন পাখি….
ভাইয়া কে যদি কেউ রাজি করাতে পারে , তাহলে একমাত্র তুই পারবি !
সহসা চোখ বড় বড় করে মৃদু চেঁচিয়ে ওঠে মিহি…
” আমি..?
” হুম,, তুই …!
” কিন্তু,, আমি কি করে ?
” আমি জানি তুই পারবি ! আর এটাও জানি ভাইয়া কারো কথা শুনলে সেটা তোর কথাই শুনবে । তোর কথা কিছুতেই ফেলতে পারবে না ভাইয়া ।
” পাগল হয়েছিস ? আমি কোন দেশের গঙ্গা ফড়িং, যে উনি আমার কথা শুনবে ?
” তুই গঙ্গা ফড়িং না কি , সেটা জানি না । তবে এটা জানি তুই আমার ভাবি ,, আর আমার ভাবির কথা ভাইয়া ফেলতে পারে নাকি ? আমার ভাইয়ার ঘাড়ে কটা মাথা আছে ?
মিহি নাকের পাটা ফুলিয়ে ভ্রু যুগল অত্যাধিক কুঁচকে বলে…
” তোর ভাইয়ার ঘাড়ে একটা মাথাই আছে । আর আমার ঘাড়েও । আমি যদি ওনার কাছে যাই, তাহলে আমার এই একটা মাথাও বিসর্জন দিয়ে আসতে হবে আমাকে । আমি ওসব পারবো না । এমনিতেই ওনার সামনে গেলে বা ওনাকে দেখলে আমার কেমন যেনো লাগে ।
” প্লিজ পাখি না করিস না । প্লিজ ….
ভাইয়া তোর কথা শুনবে… শুধু একবার চেষ্টা করে দেখ । নয়তো আমার যাওয়া হবে না,, প্লিজ জান…
মিহি ঠোঁটের কোণা কামড়ে একটু ভেবে বলে…
” আচ্ছা ঠিক আছে… আমি না হয় একবার বলে দেখবো…
রুহি গদগদ হয়ে মিহির গলা জড়িয়ে বলে…
” Thank you জানু… আচ্ছা দাঁড়া, আমি ভাইয়া কে ফোন করে ডাকি !
বলেই ফোন হাতে নেয় রুহি । রাফির নাম্বারে ডায়াল করে । প্রথম বারেই রিসিভ হয় । রুহি গলা খাঁকারি দিয়ে শান্ত স্বরে বলে….
” অফিসে আছো ভাইয়া…?
রাফি রাশভারী কন্ঠে উত্তর দেয়…
” হুম,, কেনো ? কিছু বলবি..?
” আ… একবার আসতে পারবে কোচিংয়ে ? পাখি দেখা করতো একটু, কতদিন দেখেনি তোমায় । আমার পাখি তোমাকে দেখার জন্য একেবারে ছটফট করছে !
রাফি রুহির কথা শুনে থতমত খেয়ে ফোনের ওপাশেই শুকনো কাশি দিয়ে ওঠে । রুহি ফোন স্পিকারে দিয়ে একহাতে মুখ চেপে হাসছে । মিহি কিছু বলতেও পারছে না । ও শুধু ক্ষিপ্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে রুহির দিকে । রাফি খানিক বাদে ঢোক গিলে বলে…
” ওকে….
আসছি আমি !
রুহি ফোন কেটে দেয় সাথে সাথে । মিহিকে ভ্রু নাচিয়ে বলে….
” দেখলি… বউয়ের ডাকে সাড়া না দিয়ে কিভাবে থাকতে পারে আমার ভাইয়া ! দেখবি.. ঠিক দশ মিনিটের মধ্যে রুজান রাফি চৌধুরী এখানে এসে হাজির হবে ।
এদিকে ফোন কেটেই তড়িঘড়ি করে নিজের কেবিন থেকে বেরিয়েছে রাফি । কেবিনের বাইরে দেখা হয় শান্তর সাথে । ও ভেতরেই আসছিলো । রাফি কে গাড়ির চাবি হাতে বাইরে আসতে দেখে দাঁড়িয়ে যায় ও । হাতের ঘড়িতে সময় দেখে জোড়ালো কন্ঠে রাফি কে শুধায়….
” কি রে, কোথায় যাচ্ছিস ?
রাফি যেতে যেতেই বলে….
” বাইরে…
” What..? পাঁচ মিনিট পর মিটিং আছে আমাদের ! কনফারেন্স রুমে অপেক্ষা করছে সবাই আমাদের জন্য । ফোন ওয়েটিং দেখাচ্ছিলো দেখে তোকেই ডাকতে আসলাম আমি । আর তুই এখন বাইরে যাচ্ছিস..?
” হুম… যেতেই হবে । কেউ ডেকেছে আমায় ! তুই সামলে নে….
” আরে আমি সামলাতে পারলে তোকে বলতাম না । তোকে থাকতেই হবে, আফটার অল তুই এই ইন্ডাস্ট্রির CEO…
” তাহলে মিটিং ক্যান্সেল করে দে । সময় নেই আমার, আমি গেলাম !
বলতে বলতে চোখে সানগ্লাস লাগিয়ে আবারো হাঁটা লাগায় রাফি । শান্ত পেছন থেকে চেঁচিয়ে বলে….
” ওরে কোন রাজ কার্যে যাচ্ছিস শুনি ? আজকের মিটিং টা কিন্তু ক্যান্সেল করলে পরে সমস্যা হবে । অনেক গুলো টাকার ব্যপার আছে এতে, বোঝ একটু । বড় মামাও আসে নি আজকে, আমি একা একা কি করবো…?
রাফি শান্তর কথা শুনলে তো ! ও একবারও পিছন না ফিরে উদ্দাম পায়ে বেরিয়ে পড়লো ।
দ্বিতীয় ক্লাস শুরু হয়েছে কোচিংয়ে । সবাই মনযোগ দিয়ে ক্লাস করছে । সবার মনোযোগের বিঘ্ন ঘটে পরিচালকের আগমনে । তিনি এসেই রুহি আর মিহি কে উদ্দেশ্য করে বলেন…
” রুহি আর মিহি,, তোমাদের জন্য রুজান রাফি চৌধুরী অপেক্ষা করছে বাইরে ! ব্যাগ নিয়ে এসো….
ক্লাস নেওয়া টিচার সহ ক্লাসের সবাই চকিতে তাকায় রুহি আর মিহির দিকে । রুহি নিজের হাতটা মিহির দিকে বাড়িয়ে ঘড়ি দেখিয়ে ফিসফিস করে বলে…
” ৯ মিনিট ৫৪ সেকেন্ড….
দেখেছো জান… দশ মিনিট ও লাগে নি ভাইয়ার আসতে । কি টান দেখেছো তোমার প্রতি ।
বলেই উঠে দাঁড়ায় রুহি । মিহিও উঠে দাঁড়ায় । ক্লাস থেকে বেরিয়ে আসার জন্য পা বাড়াতেই ক্লাস টিচার বলে ওঠেন….
” রুজান রাফি চৌধুরী মানে ? সংগীত শিল্পী – রুজান রাফি চৌধুরী ?
রুহি দাঁড়িয়ে যায় । আলতো হেসে বলে….
” জ্বি স্যার….
” সিরিয়াসলি..? কি হও তোমরা ওনার ?
” আমি বোন… আর ও ব..উ…
না মানে আমার বেস্ট ফ্রেন্ড !
মিহির কড়া দৃষ্টিতে চুপসে যায় রুহি । এই মুখ ফসকে কিছু একটা বেফাঁস বলে দিচ্ছিলো ।
ক্লাস থেকে বেরিয়ে আসে দুজনে । মিহি রুহির পিছু পিছু গুটি গুটি পায়ে এসে দাঁড়ায় । গলি পেরিয়ে মেইন রোডের কাছে গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছে রাফি । মিহি আর রুহি ওর কাছে এসে দাঁড়ায় । চশমার আড়াল থেকে বেশ কয়েক মুহূর্ত মিহির দিকে অপলক চেয়ে থাকে রাফি । মিহি চোরা চোখে এদিক ওদিক তাকাচ্ছে । হার্টবিট ইতিমধ্যেই বেড়ে গেছে । রুহি গলা খাঁকারি দিতেই রাফি গম্ভীর স্বরে বলে…
” কেনো ডেকেছিস ?
রুহি অবাক হওয়ার ভান করে বলে…
” কোই, আমি তো তোমাকে ডাকি নি !
আর তুমি তো আমার ডাকে এখানে আসো নি । যার ডাকে এসেছো তাকেই জিজ্ঞেস করো সে কেনো ডেকেছে তোমাকে ?
মিহি মাথা নামিয়ে পিছন থেকে রুহির কোমরে একটা চিমটি কাটে । ‘আউউ’ বলে দাঁত চেপে চেঁচিয়ে ওঠে রুহি । রাফি ভ্রু কুঁচকায় । রুহি মিহি দিকে তাকিয়ে ফ্যাল ফ্যাল করে হাসার চেষ্টা করে বলে….
” কি হলো ভাইয়ার ম্যাডাম….?
ভাইয়া কে কেনো ডেকেছো বলো !
ও ,, সরি পার্সোনাল কথা আছে হয়তো । আমি বরং এখান থেকে যাই । তোমরা তোমাদের পার্সোনাল কথা বলো ।
ভাইয়া, পাখিকে নিয়ে একটা লং ড্রাইভে যাও তো.. ও কিছু বলবে তোমায় । মন দিয়ে শুনবে কিন্তু ! আমি আসি..?
বলেই কোচিংয়ের দিকে ছুট লাগায় রুহি । পিছন থেকে মিহি ডাকে । মিহির ডাকে রুহি চেঁচিয়ে বলে….
” আমি ক্লাসে যাচ্ছি, পাখি ! ক্লাস শেষে বাড়ি ফিরে যাবো । তোরা যা….
And… Best of luck…..
রুহি চোখের আড়াল হতেই ধীরে ধীরে রাফির দিকে ফেরে মিহি । রাফির চোখের দিকে তাকানোর সাহস হচ্ছে না । দ্বিধা কাটিয়ে পিটপিট করে মাথা তুলে তাকায় মিহি । রাফি প্রশ্ন সূচক তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে । মিহি বোকার মতো একটু হাসে । রাফি ঘুরে গিয়ে গাড়ির দরজা খুলে দিয়ে বলে….
” এসে বসুন….
রাফি সামনে থেকে সরতেই মিহি যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো । জোরে শ্বাস ফেললো সে । গাড়িতে গিয়ে বসলো । রাফি ড্রাইভিং সিটে বসে সিট বেল্ট লাগিয়ে নেয় । মিহির দিকে তাকায়, মিহি আজ নিজে থেকেই লাগিয়ে নিয়েছে । রাফি স্টিয়ারিংয়ে হাত রেখে মিহির দিকে চেয়ে কোমল কন্ঠে শুধায়…..
” আজ্ঞা করুন ম্যাডাম.. কোথায় যেতে চান আপনি ? আর হঠাৎ আমাকে এমন জরুরি তলব করার কারণটা কি ?
মিহির বুকটা ছ্যাঁত করে ওঠে । বরাবরেই রাফির এই শীতল কন্ঠ মিহির মনে তোলপাড় চালায় । আজও তার ব্যতিক্রম নয় । মিহি শুল্ক ঢোক গেলে । গলা শুকিয়ে গেছে । গাড়ির এসির মধ্যেও ঘামছে মিহি । সে কোন রকমে বলে….
” পা.. পানি আছে ?
রাফি তড়িঘড়ি করে পানির বোতল এগিয়ে দেয় মিহির দিকে । মিহি ঢাকনা খুলে ঢকঢক করে পুরো পানি টুকু শেষ করে । আবারো জোরে একটা শ্বাস ফেলে । রাফির দিকে ঘুরে অস্থির কন্ঠে অনবরত বলে….
” বিশ্বাস করুন, আমি আপনাকে ডাকি নি । ডেকেছে রুহি । আর এর কারণ টা হলো….
মিহি কে কথার মাঝে থামিয়ে রাফি বলে….
” আরে আস্তে,,, শুনবো তো সবটা । শান্ত হন একটু । আমি এখানেই আছি , ধীরে সুস্থে বলুন । আচ্ছা আগে বলুন… কোথায় যাবেন ?
মিহি নিজেকে সামলে ভালোভাবে গুটিয়ে বসে, নিচু স্বরে বলে….
” আপনি যেখানে নিয়ে যাবেন সেখানে !!
রাফি মুচকি হেসে গাড়ি স্টার্ট দেয় ।
বেশ কিছু মুহূর্ত ধরে গাড়ি চলছে । কোথায় যাচ্ছে জানা নেই । গাড়ি চলছে কোন এক অজানা পথে । দুজনের মাঝেই নীরবতা । খোলা জানালা দিয়ে আসা মৃদু বাতাসে মিহির মাথার হিজাবটা খানিক এলোমেলো হয়ে গেছে । মিহির দৃষ্টি জানালার বাইরে ।
রাফি বলে ওঠে….
” কি যেনো বলবেন বলছিলেন ?
মিহি চোখ ফেরায় রাফির দিকে । হাত কচলাতে কচলাতে কন্ঠ খাদে নামিয়ে বলে….
” একটা আবদার করবো , রাখবেন ?
” বলেই দেখুন..!
” ২৯ তারিখ নাদিয়ার বিয়ে… বিয়ের দু’দিন আগে সবাই যাবে । আর আমিও.. রুহিকে যদি যেতে দিতেন তাহলে….
” যাওয়া হবে না কারোর….
মিহির পুরো কথা শেষ হওয়ার আগে গম্ভীর কণ্ঠে বাঁধ সাধে রাফি । মিহি চোখ তুলে তাকিয়ে একই স্বরে বলে….
” প্লিজ… যেতে দিন না ?
ফ্রেন্ড গ্রুপে প্রথম কারো বিয়ে ।
ও না গেলে আমার ও যেতে ইচ্ছে করবে না । ভালো লাগবে না ওকে ছাড়া ।
” আপনাকে যাওয়ার পারমিশন কে দিয়েছে ?
রাফির গম্ভীর প্রশ্নে মিহি চকিতে চেয়ে বলে…
” আব্বু তো সেই প্রথম দিনেই আমাকে পারমিশন দিয়ে দিয়েছে । আটকে আছি আপনার জন্য,, প্লিজ রুহিকে যেতে দিন !!
” আমি পারমিশন দেই নি আপনাকে যাওয়ার । আর না রুহিকে দেবো । কারোর যাওয়া হবে না ।
রাফির জোরালো কথার মিহি থমকায় । মিহির মনে হলো রাফি জোর খাটিয়ে বললো কথাটা ।
” কিন্তু কেনো ? কি হবে গেলে ? আমিও তো মেহজাবিন আপুর বিয়েতে এসেছিলাম আপনাদের বাড়িতে । এখন ওখানে গেলে কি হবে ?
” এখানে আমি ছিলাম, ওখানে থাকবো না । যদি কোন সমস্যা হয় ?
আমাদের বাড়িতে থাকতেই কি হয়েছিল ভুলে গেছেন ? আমি ছিলাম, তবুও কিচ্ছু করতে পারি নি । ঐ জানোয়ার টাকে ধরতে পারি নি এখনো আমি । কিন্তু ওকে ধরতে পারলে আমি…..
বলতে বলতে চোয়াল শক্ত হয়ে যায় রাফির । নিজেকে স্বভাবিক করে আবারো বলে….
” বাই দা ওয়ে…. যাওয়া হবে না কারোর । কথাটা যেন মাথায় থাকে । আপনি ও যাবেন না । বিয়ের দিন দুপুরে যাবেন, আর সন্ধ্যায় আমি গিয়ে নিয়ে আসবো । এমনিতেও সামনে এডমিশন আসছে,, পড়াশোনায় একটুও ফাঁকি দিলে চলবে না…
” এতো পড়াশোনা করে কি হবে শুনি…?
” কেনো ? পড়াশোনা করলে আর কি হবে না হবে সেটা বাদ দিন, বরং সুন্দর একটা বর পাবেন পড়াশোনা করলে ! ফেল্টুস মেয়েকে কিন্তু কেউ বিয়ে করতে চাইবে না !
” আমার সুন্দর বরের প্রয়োজন নেই !
” আরে বাহ্,, তাহলে সেই দিন এতো সুন্দর করে নিজের জীবন সঙ্গীর বর্ননা দিলেন যে ? তার বেলা..?
” আমি তো সুন্দর জীবন সঙ্গী চাই নি, আমি চাই যত্নশীল জীবন সঙ্গী । একদম আমার আব্বুর মতো ।
আর এমনিতেও সুন্দর হ্যান্ডসাম ছেলেদের অতটা পছন্দ করি না আমি । ছেলেদের বেশি সুন্দর হতে নেই । এতে নজর পড়ে তাদের উপর । আমার জীবন সঙ্গীকে হতে হবে একদম সাধারণ, যার উপর আমি ছাড়া আর অন্য কেউ নজর দেবে না ,, বুঝলেন ?
রাফি ভ্রু কুঁচকালো । কন্ঠ নিচু করে বললো….
” অন্যরা নজর দেয় তো কি হয়েছে ? নিজের সুন্দর হাজবেন্ডের উপর নজর টিকা লাগিয়ে দেবেন । তাহলে আর কারোর নজর লাগবে না । আর এমনিতেও নজর লাগলেও কাজ হবে না, কারন আপনার যে জীবন সঙ্গী হবে সে শুধু আপনার মাঝেই আটকে থাকবে, আপনাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে সে , তার নজর শুধু আপনার উপর আটকে থাকবে এতে তার উপর অন্যদের নজর লাগলেও কোন পরোয়া নেই তার ।
মিহির মাথায় রাফির কথার অর্থ গুলো ঢুকলো কি না কে জানে । সে আবদারের সুরে বলে উঠলো….
” সেসব পরে ভাবা যাবে, আর আমার জীবনে যে আসার সে এমনিতেই আসবে, পুরো পৃথিবী ঘুরে হলেও সে আসবে, তাকে কেউ আটকাতে পারবে না ।
আর একবার বলবো… যেতে দিন প্লিজ…!
” না… যাওয়া হবে না ।
রাফির গম্ভীর উত্তরে মিহি আর একটা কথাও বাড়ালো না । মুখ ভার করে মুখ ফিরিয়ে চেয়ে রইল বাইরের দিকে । মুখ ভার থাকলেও মন ভার নয় । খারাপ লাগছে না একটুও । এই যে, রাফি বারন করলো যেতে, এখন রুহির সাথে সাথে ওরো যাওয়া হবে না, তবুও খারাপ লাগছে না ।
কিছু সময় পর রাফি শীতল কন্ঠে বলে উঠলো…
” মন খারাপ হলো…?
” না…!
ছোট্ট জবাবে মন ভরলো না রাফির । সে বললো…
” তাহলে হাসুন..! গম্ভীর মুখে একদম মানায় না আপনাকে । আপনার ঠোঁটের কোণের হাসি টুকু কারোর প্রশান্তির কারন ।
কখনো মুছতে দেবেন না ঐ হাসি ।
মিহি আপনা আপনি একটু হাসলো । দীর্ঘশ্বাস ফেলে সিটে মাথা এলিয়ে নিরস স্বরে বলল…
” জানেন… আমাদের না কেউ নেই !
না কোন আপনজন, না কোন আত্মীয় স্বজন, আর না কোন কাছের মানুষ, কেউ নেই ।
ছোট বেলা থেকে একা একা বড় হয়েছি, বন্ধু বান্ধব হয়েছে অনেক , একে বারে একা ছিলাম তা নয় ।
আমার ফ্রেন্ডরা যখন ছুটিতে নানু বাড়ি যেতো, বিভিন্ন আত্মীয় স্বজনের বাড়ি যেতো, এখানে যেতো ওখানে যেতো তখন আমারও খুব ইচ্ছে করতো, আমিও যদি যেতে পারতাম । আমাদের ও যদি ওদের মতো সবাই থাকতো । তাহলে কতোই না ভালো হতো বলুন !
এই দুনিয়াতে আমাদের না কেউ নেই । আমার জীবনে আব্বু আম্মু ছাড়া আর কেউ নেই ।
আর একটা বড় বিষয় কি জানেন… জীবনে প্রথম বার আমি আব্বু আম্মুকে ছেড়ে নিজের বাড়ি ছেড়ে আপনাদের বাড়িতে প্রথম বার রাত কাটিয়েছিলাম । আব্বু আম্মুর থেকে দুরে থেকে ছিলাম সেই প্রথম বার । সবসময় নিজের বাড়িতে থাকতে থাকতে বোর লাগে, ইচ্ছে করে এখানে ওখানে যেতে । কিন্তু কোথায় যাবো ? যাওয়ার তো কোন জায়গাই নেই ।
মিহির কথা গুলো অগোছালো । তবে রাফি এই অগোছালো কথা গুলোর মানে ঠিকই বুঝতে পেরেছে । মিহির গলার স্বর ক্রমস বিবস হয়ে আসছে । ও ভারী শ্বাস ফেললো । রাফি ধীর কন্ঠে শুধালো…..
” আপনার জীবনের বড় পাওয়া গুলো কি কি ?
মিহি আলতো হেসে জবাব দিল…
” আমার জীবনের সব চেয়ে বড় পাওয়া হলো আমার আব্বু আর আম্মু । ওরা আমার জীবনের সব কিছু । আমার বেঁচে থাকার একমাত্র কারণ বলতে পারেন । আমি যেমন ওদের পূর্ণতা,ওরাও তেমন আমার পূর্ণতা । ওদের ছাড়া আমি শূন্য । আর তো কেউ নেই আমার । ওরা থাকলে আমার আর কোনো কিছুর অভাব অনুভব হয় না ।
আর ওদের পর আমার জীবনের অন্যতম বড় পাওয়া রুহি । আমার জান ! ওর জন্য জীবনে অনেক কিছু পেয়েছি আমি । জীবনে অনেক বন্ধু এসেছে আমার, কিন্তু ওর মতো কেউ আসে নি । কাউকে পাই নি ওর মতো । এই এক বছরেই অনেকটা মিশে গেছি ওর মাঝে ।
ওর সাথে পরিচয় না হলে হয়তো অনেক কিছুই দেখা হতো না আমার, অনেক কিছুই হয়তো আসতো না আমার জীবনে ।
রাফি আলতো হাসলো । মনটা বলে উঠলো…
” আর আমি ? আমার কোন অস্তিত্ব নেই আপনার জীবনে ? আমিই বা কে ?
মনে মনেই আওড়ালো । মিহির উদাস হয়ে বসে আছে সিটে । গাড়ি চলছে তো চলছেই । কোথায় যাচ্ছে ওরা ? মিহি একবার বাইরের দিকে তাকালো । ঢাকা শহরের তেমন কিছুই এখনো চেনে না সে । এদিকটায় কখনো এসেছে বলেও মনে পড়ছে না । সম্পূর্ণ নতুন একটা রাস্তা । মিহি রাফির দিকে কোমল নেত্রে চেয়ে শুধালো….
” কোথায় যাচ্ছি আমরা ?
” জানি না…!
অবাক হলো মিহি । হাতের ঘড়ির দিকে তাকালো, কোচিং ছুটি হয়ে গেছে এতক্ষণে । রিকশা এসেও ফিরে গেছে হয়তো । কি জানি বাসায় গিয়ে কি বলবে ? মিহি চিন্তিত স্বরে বলল…
” বাসায় ফেরার সময় হয়ে গেছে,ফিরতে হবে ।
” আমার দেওয়া ঘড়িটা পড়েন নি কেনো ? পছন্দ হয় নি ?
কথা ঘুরিয়ে বললো রাফি । মিহি নিজের হাতের দিকে চেয়ে আবারো রাফির দিকে তাকালো । নিচু স্বরে বলল….
” পছন্দ হয়েছে,, কিন্তু ওটার দাম অনেক বেশি । অতো দামি উপহার আমাকে দেওয়াটা ঠিক হয় নি আপনার । আর অতো দামি জিনিস পড়িও না আমি । ওটা রেখে দিয়েছি…
” দাম বিচার করতে কে বলেছে আপনাকে । কেউ একজন ভালোবেসে একটা উপহার দিলো , আর আপনি সেটা তুলে রেখে দিলেন ? সব সময় পড়বেন ওটা,, আপনার হাতে যেন সবসময় ঐ ঘড়িটাই থাকে । আন্ডারস্ট্যান্ড..?
মিহি আলতো মাথা ঝাঁকালো ।
এদিকে রাফি ঘোর প্যাঁচ রাস্তায় কোন দিক থেকে কোন দিকে যাচ্ছে কে জানে । সেই তখন থেকেই এভাবেই চলছে গাড়ি । বসে থাকতে থাকতে আর ভালো লাগছে না মিহির । বিরক্তি ধরে এসেছে । যেটা ওর মুখে সম্পুর্ন প্রকাশ পাচ্ছে । রাফি বুঝতে পারলো সেটা । ও রাস্তার একপাশে গাড়ি পার্ক করলো । নিজে থেকেই নেমে গিয়ে পাশের দোকান থেকে অনেক গুলো চিপস, চকলেট আর আইসক্রিম কিনে নিয়ে আসলো । সেসব গাড়িতে রেখে আইসক্রিম খেতে খেতে রাস্তার পাশে গল্প করতে করতে একটু হাটলো দুজনে । আজ রাফি অনেকটা সময় কাটালো মিহির সাথে । অনেকটা সুন্দর মুহূর্ত । ওর ইচ্ছে করছে আরো একটু সময় কাটাতে । এদিকে সন্ধ্যার আঁধার ছেয়ে আসছে । মিহিকে বাড়িতে পৌঁছাতে হবে । দুজনে উঠে বসলো আবারো গাড়িতে । ইচ্ছে করেই রাফি বেশি দূরত্বের রাস্তা দিয়ে গাড়ি নিয়ে যাচ্ছে । জ্যামে আটকাচ্ছে বারবার । এতে রাফি একদমই বিরক্ত হচ্ছে না । বরং আরো বেশি ভালো লাগছে ।
ট্রাফিক সিগন্যালে আটকে আছে ওদের গাড়ি । মিহি জানালা দিয়ে দেখছে বাইরের অন্যান্য গাড়ি গুলো । এই ট্রাফিক পেরোলে আর ট্রাফিক নেই । সোজা মিহিদের বাড়ি । আর একটু সময় মিহি থাকবে রাফির সাথে । যার জন্য গুরুত্বপূর্ণ মিটিং ছেড়ে এক ডাকেই এক মূহুর্ত না ভেবে ছুটে চলে আসলো রাফি , সে আবার এক মুহুর্ত পর চোখের আড়াল হয়ে যাবে । রাফির সুপ্ত হৃদয় বলছে- যদি সময়টা এই মুহূর্তে থেমে যেতো তাহলে কতই না ভালো হতো । মিহি থাকতো ওর চোখের সামনে । সিগন্যাল পেরিয়ে রাফি কিছু একটা ভেবে গাড়িতে গান চালিয়ে দিল….
” এই পথ যদি না শেষ হয়, তবে কেমন হতো তুমি বলতো…
যদি পৃথিবীটা স্বপ্নের দেশ হয় , তবে কেমন হতো তুমি বলতো….
মিহি সহসা চকিতে তাকায় রাফির দিকে । গানের সুরে মাথা দুলিয়ে মুখ নাড়াচ্ছে রাফি । মিহি আলতো হাসলো তা দেখে ।
মাথা নামিয়ে ক্ষীন স্বরে বিড়বিড় করলো…
” তুমি বলো…..
অকস্মাৎ গাড়ির ব্রেক কষলো রাফি । মিহির দিকে ফিরে শান্ত কন্ঠে শুধালো….
” কি বললেন..?
মিহি থতমত খেয়ে চোখ ঝাপটে বলল…
” ক..কোই কিছু না তো….
রাফি ঠোঁট বাঁকিয়ে হেসে পূণরায় গাড়ি স্টার্ট দিতে দিতে বলল….
” আপনার মুখে তুমি সম্বোধন টা শুনতে খারাপ লাগলো না কিন্তু ।
রাতের খাবার খেয়ে সবে নিজের ঘরে এসেছে মিহি । ভাইব্রেট করা ফোনটা কাঁপছে খাটের উপর । মিহি ঘরে ঢুকেই ফোন হাতে তুলে নেয় । রুহি ভিডিও কল করছে । মিহি তড়িঘড়ি করে রিসিভ করে ফোনটা । রিসিভ করতেই রুহি উত্তেজিত কন্ঠে বলতে শুরু করে….
” মেরি ভাবি জান…
ভাইয়া রাজি হয়েছে তাই না ? আমি জানতাম ভাইয়া রাজি হবে ?
সেই কবেই ফোন করতাম কিন্তু চার্জ ছিল না ফোনে । এখন বল দেখি… কি বলল ভাইয়া ?
” মেরি ননদীনি…
আপনার ভাইয়া রাজি হয় নি । আমি জানতাম উনি রাজি হবেন না । সেই কবেই ফোন করেছিলাম আপনাকে কিন্তু আপনার ফোন সুইচ অফ দেখাচ্ছিলো । এখন বলো দেখি…কি বলবে তুমি ?
রুহিকে নকল করে ওর মতো একই স্বরে কথাগুলো বলল মিহি । মিহি নিজের এরূপ কথার অর্থ বোঝার আগেই রুহি নিজের ফোনের উপর যেন নিজেই হামলে পড়লো । নিজের ফোনটা দুহাতে শক্ত করে চেপে উবু হয়ে শুয়ে খুশিতে গদগদ হয়ে বলল….
” ওরে আমার ভাবি জানরে…
তোমার মুখে ননদীনি ডাকটা যে আমার…
উফফফ ইচ্ছে করছে একটা চুম্মা খাই তোমারে । এই মুহূর্তে যদি তোমারে সামনে পাইতাম না তাহলে দেখতা । ইশশশ কি কিউট আমার ভাবি জান । ইউ নো..? তোমার মুখে ননদীনি ডাক শোনার জন্য কত অপেক্ষা করেছি আমি ? অবশেষে তুমি আমার ভাবি জান.. আর আমি তোমার ননদীনি..!
রুহির কথায় থতমত খেয়ে যায় মিহি । রুহির সাথে পাল্লা দিতে গিয়ে কখন কিভাবে এসব বলে ফেলেছে নিজেও বুঝতে পারে নি । আর এদিকে রুহি এমন ভাব করছে যেন ফোনের মধ্য থেকে ফোন ভেঙ্গে বেরিয়ে আসবে এক্ষুনি । আচমকা নিজের বোকা বোকা কথায় লজ্জায় মাথা কাটা যাচ্ছে মিহির । মিহি ঘন পলক ফেলে গলা ভিজিয়ে বলে…
” চ.. চুপ কর..?
কখন বললাম আমি তোকে ননদীনি ? কি না কি বলেছি আমার নিজেরই মনে নেই ।
ওদিকে তোর কথা শোনোই উচিত হয়নি আমার । তোর ভাইয়ার সাথে দেখা করাই উচিত হয়নি …..
” কেনো ? কি করেছে আমার ভাইয়া ? উল্টা পাল্টা কিছু ? না না, আমার ভাইয়া উল্টা পাল্টা কিছু করার মানুষই নয় !
আমার ভাইয়ার মতো লয়াল পার্সোন তুই ইহজিন্দেগিতে একটাও খুঁজে পাবি না কিন্তু ?
” তুই না একটা মাথামোটা । আবার বুঝলে দু’লাইন বেশি বুঝিস !
তোর প্রাণ প্রিয় ভাইয়া রাজি হয় নি । উনি কড়া ভাবে বলে দিয়েছেন যাওয়া হবে না কারোর । না তোর, আর না আমার ।
” কি বলিস রাজি হয় নি ?
তোকেও যেতে দেবে না ? এটা তো স্বাভাবিক , বোনের আগে বউ !
বউয়ের উপর যদি অন্য কেউ নজর দেয় , তাই যেতে দেবে না ।
ইটস ওকে.. কেউ যাবো না আমরা !
মনে রেখো ভাবি জান… স্বামী আগ্যা করেছে তোমায়,, স্বামীর অনুমতি ব্যতীত সেখানে যাওয়া টা ঠিক হবে না ।
আমার না হয় একেবারে বিয়ের দিনই যাবো ।
মিহির রুহির মশকরায় পাত্তা না দিয়ে বলল…
এক দেখায় পর্ব ২১
” ঠিক আছে,, এমনিতেও আগে থেকেই অতটা ইচ্ছে ছিল না যাওয়ার । সোহেলের কথা ভাবলে খারাপ লাগছে এখনো । বিয়ের দিন গেলেই হবে ।
এর পর দুই বান্ধবী মিলে টুকটাক হাসি-মশকরার, খুনসুটি মূলক গল্প করে ফোন রেখে দেয় ।
