Home এক দেখায় এক দেখায় পর্ব ৪৫

এক দেখায় পর্ব ৪৫

এক দেখায় পর্ব ৪৫
সুরভী আক্তার

সাফির কথা গুলো মগজে আঘাত হানছে । মেহজাবিনের হলুদের রাতে সাফি ছিল ওটা ? মিহি কে অধীক চমকে সাফি আবারো দু বাক্য বললো দাঁত পিষে…
” হেয় মিহি ,, ডাকছি না তোকে ? বেরিয়ে আয় তাড়াতাড়ি । আমাকে তোর কাছে আসতে বাধ্য করিস না । কাম হেয়ার বেইবি ডল ,,, তাড়াতাড়ি চলে আয়…
রুহি ওকে আঁকড়ে ধরলো । রাফি আঙ্গুল তুলে ফুঁসে উঠলো….
” ওকে ছাড় ! এসবে জড়াবি না ওকে । তোর শত্রুতা তো আমার সাথে তাই না ? যা বোঝার আমার সাথে বুঝবি । আমার বোন আর মিহি কে জড়াবি না এসবে !
কেনো এসেছিস এখানে ? কি চাই তোর এখানে ?
” তোকে চাই আমার ? তোর প্রাণ চাই । আমি কিন্তু মেরে দেবো তোকে , সত্যি বলছি একদম মেরে দেবো । তোকে মেরে মিহি কে নিয়ে যাবো । আমার বোনকে মেরেছিস তো তুই, মরার পর মৃতের দৃষ্টিতে আমার দিকে চেয়ে ছিল আমার বোন । কি বলেছে জানিস , বলেছে আমি যেন ওর মৃত্যুর প্রতিশোধ নেই । ভাই হোই তো আমি ওর , ওর কোনো আবদার, চাওয়া পাওয়া অপূর্ণ রাখি নি , এটা কি করে রাখি বল ?

” এনাফ ইজ এনাফ… অনেক হয়েছে । তুইও পাগল হয়ে গেছিস । তোর বোন সুইসাইড করেছে….
শান্তর কথায় ঝেড়ে উঠলো সাফি….
” আরে সুইসাইড তো করেছে এই রাফির জন্য । ওকে না পেয়ে সুইসাইড করেছে । কে বলেছিল ওকে আমার বোনকে রিজেক্ট করতে ? রিজেক্ট করেছিস তো করেছিস , চড় ও মেরেছিস আমার বোনকে । আরে আমরা কোনো দিন ওর শরীরে একটা ফুলের টোকাও দেইনি , আর তুই ওকে মারলি ? তুই তো জানতিস ও মেন্টালি নরমাল নয় , ওর উপর সবকিছুর তীব্র এফেক্ট পড়ে,, তাহলে মারলি কেন ওকে ? বল ? কেন ওকে সুইসাইড করতে বাধ্য করলি ?
” ওকে কেনো মেরেছিলাম তুই খুব ভালো করেই জানিস ?
” জানি , কিন্তু মানি না । শুধু মানি তোর জন্য আমার বোন মরেছে । আর আমি তোকে মারবো , বাঁচতে দেবো না তোকে…

কথা শেষ হতে না হতেই পিছনের সব ছেলেরা তেড়ে আসলো । রাফি আর শান্ত কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই এলোপাথাড়ি মারতে লাগলো ওদের । সকলের হাতেই মোটা মোটা লোহার রড । লোহার রডের একেকটা বাড়িঁ আঁচড়ে পড়তে লাগলো দুই পুরুষালি পেটানো শরীরে । আচমকা আক্রমণে প্রস্তুত না থাকায় টাল সামলে উঠতে পারলো না শান্ত আর রাফি । মিহি আর রুহি আঁতকে উঠলো । চিৎকার করে উঠলো সমস্বরে । হুড়মুড়িয়ে ধড়ফড়িয়ে গাড়ি থেকে নামলো দুজন । রাফি আর শান্ত কে মার খেতে দেখে স্বশব্দে আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে হাসছে সাফি ।
রুহি, মিহি ছুটে আসার আগেই একটা রডের শক্ত কঠোর বাড়ি পড়লো রাফির মাথায় । ধ্যান জ্ঞান ক্ষুইয়ে পুরো দুনিয়া কেঁপে উঠলো রাফির । মুখ দিয়ে রক্ত বেরিয়ে আসলো গলগলিয়ে । কানে ঝিঁঝিঁ ধরে থমকে গেলো পুরো মস্তিষ্কের সচলতা । ধপ করে মাটিতে পড়লো রাফি । গগন কাঁপিয়ে চিৎকার করে উঠলো রুহি….

” ভাইয়া….
সাফি হাত তুলে ইশারা করতেই মার থামালো ছেলে গুলো । শান্ত হাঁটু ভেঙ্গে বসে পড়লো । এতো গুলো তাগড়া ছেলেদের সাথে ওদের পক্ষে পেরে ওঠা মুশকিল । তার উপর নিজেরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই হামলা চালিয়েছে ওরা । রুহি,মিহি হুমড়ি খেয়ে বসলো রাফির সম্মুখে । হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো রুহি । শান্ত নিজের অবস্থা ভুলে আগলে ধরলো রাফি কে । মাথার কাঁটা অংশ এক হাতে চেপে ধরে উত্তেজিত হয়ে পড়লো সে…
” এই রাফি…. এই ?
এই চোখ খোল ? তাকা আমার দিকে..
” ভাইয়া… ভাইয়া চোখ খোলো না প্লিজ ।
মিহি জড়বুদ্ধি হয়ে থমকে দাঁড়িয়ে । দপ করে হাঁটু ভেঙ্গে পড়লো ও । টপটপ করে চোখ থেকে পানি পড়লো রাস্তায় । ধীরে ধীরে চোখ খুললো রাফি । ঝাঁপসা চোখে বোনকে ঠোঁট উল্টে কাঁদতে দেখলো । হাত বাড়িয়ে থেমে থেমে বললো ও…

” রুহি ,,, আমি গাড়ি থেকে নামতে বারন করেছিলাম তোদের । মিহি কে নিয়ে চলে যা এখান থেকে….
শান্ত ,, ওর শত্রুতা আমার সাথে । তুই আমার বোন আর মিহি কে নিয়ে যা এখান থেকে ।
” পাগল হয়েছিস তুই । তোকে এখানে একা ফেলে পালাবো আমি ?
” রুহি , মিহি বিপদে আছে শান্ত । ওদের নিয়ে যা…
” থাকুক বিপদে , বিপদে তুইও আছিস । এখান থেকে কোত্থাও যাবো না আমি ….
রুহি , মিহি কে নিয়ে যাও এখান থেকে…
শান্তর আদেশে গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে উঠলো মিহি….
দুহাতে আকড়ে ধরলো রাফি কে । হাউমাউ করে উঠলো…
” কোত্থাও যাবো না আমি । কোত্থাও যাবো না আপনাকে ছেড়ে । ঐ জানোয়ার টা মেরেছে আপনাকে , আমি ছাড়বো না ওকে….
কথা শেষ করে রাফি কে ছাড়লো মিহি । উঠে দাঁড়িয়ে জ্বলে উঠলো…. সাফি এক হাত কোমরে রেখে নাটক দেখার ন্যায় চোখ ভরে দেখছে এসব । মিহি এক ঝটকায় এগোলো ওর দিকে । ক্ষিপ্ততায় সাফির কলার চেপে ধরলো দুহাতে । ভরাট চোখে গলার কম্পন ঠেলে , হুংকার তুললো চিকন স্বরে…

” এই ,, কি চাই তোর এখানে ? ওনাকে মারার সাহস কি করে হলো তোর ? ওনার শরীর থেকে রক্ত ঝড়ানোর সাহস হলো কি করে তোর । এতো দিন ধরে সবকিছু তুই করেছিস ? আমাকে দূরে সরিয়েছিস তুই । আর এখন , এখন ওনাকে মারবি ? ওনার গায়ে আর একটা আঁচড় পড়লে মেরে ফেলবো তোকে…
সাফি দাঁত পিষলো কথা গুলো শুনে । এক ঝটকায় মিহির হাত নিজের কলার থেকে সরিয়ে সপাটে একটা থাপ্পর মারলো মিহির নরম গালে । ছিটকে মাটিতে পড়লো মেয়েটা । রুহি চেঁচিয়ে উঠলো…
” পাখি…?
রাফি আর বসে নেই । ক্ষোয়ানো শক্তি মুহুর্তেই জাগ্রত হলো ওর । দপ করে জ্বলে উঠলো মস্তিষ্ক । এক ছুটে এসে এলোপাথাড়ি মারতে লাগলো সাফি কে । কলার ধরে আছড়ে ফেলে গর্জন করে উঠলো….
” কুত্তার বাচ্চা ,, ওকে মারার সাহস কি করে হলো তোর ? ওর গায়ে কারো অযাচিত স্পর্শ ও সহ্য করবো না আমি ‌, আর তুই ওকে মারলি ? জানোয়ার , হাত কেটে ফেলবো তোর ।
রাফি বেশি বাড়াবাড়ি করার আগেই ছেলে গুলো তেড়ে আসলো আবার । শান্ত ছুটতে গেলে কয়েক জন চেপে ধরলো ওকে । রাফি কে টেনে হিচড়ে সরালো সাফির থেকে । হিসহিসিয়ে উঠলো রাফি । পাঁচ জন মিলে ওকে আটকাতে হিমশিম খাচ্ছে । রুহি ভয়ে ডুকরে উঠে , দুকান চেপে ধরে সিটিয়ে গেলো ।
সাফি বসলো মিহির সামনে..

” বেইবি ডল ,, আমায় মারবি তুই ? এতো সাহস , এতো শক্তি হয়েছে এই শরীরে । আমার কলার ধরেছিস ? রাফির জন্য এতো দরদ ? কি দিয়েছে ও তোকে ? এতো দিন আমার আন্ডারে থেকেও ফুঁসছিস ওর জন্য ? ওর গায়ে আঁচড় পড়লে আমায় মেরে ফেলবি । চল মেরে দেখা … মার আমায় । দেখি তোর নরম দুহাতে কতো শক্তি । মার আমায়….
বলতে বলতে মিহির মুখের দিকে ঝুঁকে অগ্রসর হতে লাগলো সাফি । ঘেন্নায় দিক দিশা না পেয়ে এক দলা থুতু ছুড়ে মারলো মিহি । সাফি হাসলো পৈশাচিক । ওর বাহু ধরে একটানে তুললো ওকে । হিসহিসিয়ে উঠলো….
” উপস…
এতো তেজ ? সব রাফির জন্য তাই না ? চল‌ আমার সাথে…
বলেই মিহির হাত ধরে টেনে নিয়ে যেতে লাগলো । গলা ফাটিয়ে চিৎকার করলো রাফি…
” সারফারাজ ,, ছাড় ওকে । ওকে কিছু করিস না প্লিজ ? ও জান আমার । তোর তো আমার সাথে শত্রুতা বল , আমায় মার ,কাট , যা খুশি কর । আমাকেই তো মারতে এসেছিস , নিয়ে নে আমার প্রাণ, মেরে ফেল আমায় । কিন্তু আমার বোন আর ওকে ছেড়ে দে ।
সাফি থেমে পিছু ফিরলো…

রাফির অশ্রু সিক্ত চোখ দুটো দেখলো । রাফি কাঁদছে, এই মেয়েটার জন্য ? পৈশাচিক আনন্দ জাগলো সাফির মনে । এটাই তো দেখার ছিলো ওর । রাফি কে এই অবস্থাতেই ছটফট করতে দেখতে চেয়েছিলো ও ।
” ওকে তো ছাড়বো না । আমি তো জানি ও তোর জান । আর তোর এই জান টাকেই তো কেড়ে নিতে চাই আমি…
বলেই ফের টেনে হিড়চে হিড়হিড়িয়ে নিয়ে যেতে লাগলো মিহি কে । মিহি ঝটকা মারলো…
” ছাড় আমায় , আমি যাবো না তোর সাথে….
সাফি বিরক্তিতে বিড়বিড় করলো কিছু । দাঁত পিষে দুই আঙ্গুলে কপাল চুলকে পাগলের ন্যায় বিলাপ করলো মনে মনে । এদিক ওদিক মাথা ঝাঁকিয়ে এবার পকেটে হাত ঢোকালো । এক মুহুর্তেই পকেট থেকে হাত বের করে একহাতে টুটি চেপে ধরলো মিহির । অন্য হাতের পিস্তলটা ঠেকালো মিহির কপালে…
” মেরে দেই তোকে ? হুম , বল ? মেরে দেবো । আমার সাথে যাবি না যখন , তখন মেরে দেই একেবারে ? চালাবো গুলি ? চালাই ?
না , না … প্রথম গুলিটা অন্য কাউকে করে শুদ্ধ করে নেই ! আমি তো মারবোই ,, তোকেও , আর রাফি কেও । রাফি কে আগে মারি ? দেখবি ? এই দেখ…

কথা শেষ হতেই একটা বিকট শব্দের ঝংকার উঠলো নিস্তব্ধ রাস্তায় । গুলি চললো একটা । সেকেন্ডের মাথায় পাঁচজনের শক্তিতে বন্দি রাফির পুরুষালি শরীর খানা দুলে উঠলো । সবাই ছাড়লো রাফি কে ।
মিহি কেও ছাড়লো সাফি । বিরাট হেসে উঠলো ঝংকার তুলে । মিহি নিস্তব্ধ হয়ে পিছু ফিরলো । রুহি আর শান্ত কিংকর্তব্য বিমূঢ় । রুহির ভীত অক্ষি যুগল‌‌‌ থেকে পানি গড়ালো টপাটপ । শান্ত কে ছাড়লো বাকিরা । রাফির ডান দিকে ছিটকে পড়েছে । গুলি লেগেছে ডান হাতের বাহুতে । ভারী কাপড়ের ব্লেজার ভেদ করে গলগলিয়ে রক্ত বেরিয়ে এসেছে । ব্লেজারের‌ নিচের সাদা শার্ট টা তো আগেই রক্তের ছোপ ছোপ দাগে রাঙা হয়ে আছে ।
বৃহৎ অক্ষি যুগল‌‌‌ থেকে একই ধারায় পানি গড়ালো মিহির । নীরবতা ভেদে অন্তরীক্ষ কেঁপে উঠলো ওর চিৎকারে…
” নাহহহহহ….
সাথে সাথে রুহির চিৎকার..
” ভাইয়া..
মিহি নিজের সর্ব শক্তি দিয়ে সবে ছুটতে গিয়ে দুধাপ মাটিতে ফেলেছে .. তৃতীয় ধাপ মাটিতে পড়ার আগেই আরো একটা বিকট শব্দে গুলি বর্ষণ হলো । তৃতীয় ধাপটা মাটিতে পড়ে আটকে গেল মিহির চঞ্চল উদগ্রীব পা যুগল । কেঁপে উঠলো সম্পুর্ন নারী দেহ ।

” মিহিইইই….
চিৎকারের ইতি টানতেই নারী দেহ খানা শূন্যে ভেসে না থেকে লুটিয়ে পড়লো খাজকাটা পিচের রাস্তায় । রুহি বিড়বিড় করলো শূন্য জড় মস্তিষ্কে…
” পাখি ?
নিজের ব্যাথা ভুলে হুমড়ি খেয়ে ছুটে আসলো রাফি । মেয়েটার নেতিয়ে যাওয়া শরীর টা দখলে নিলো দুহাতে আগলে । মিহির ভেজা ছলছল আধো আধো চোখ । কর্নিশ ঘেঁষে গরম নোনতা জল গড়িয়ে পড়ছে আপনা আপনি । রাফি ওকে জড়ানো এক হাত ভেজা অনুভব করলো । কম্পিত হাত খানা নিজের ঝাপসা চোখের সামনে ধরে লাল তরল দেখতে পেলো । লাল তরলে ভিজে গেছে হাত খানা । এই হাতটা দিয়ে তো মিহির কোমর জড়িয়েছিল রাফি । তার মানে , কোমর থেকে রক্ত ঝড়ছে ? রাফির হাতের দিক থেকে চোখ ফিরিয়ে মিহির দিকে তাকালো । এক দৃষ্টে তাকিয়ে মেয়েটা । রাফি কেঁপে কেঁপে ডাকলো….

” মিহি ,, এই জান ? কি হলো এটা ?
মিহি হাসলো মুচকি । ভেজা হাত খানা কেঁপে কেঁপে বাড়িয়ে রাফির বাম গালে রাখলো । খচখচে দাঁড়ি হাতের নরম তালুতে বিদ্ধ হলো মিহির । অদ্ভুত শিহরণ জাগলো শরীরে । মেয়েটা শ্বাস টেনে বললো থেমে থেমে…
” আ…আমি কিন্তু আপনাকে ভালোবাসি ! সত্যিই ভালোবাসি..! আপনিও তো বাসেন তাই না ! আমার পাখির বড় ভাইয়া আমাকে ভালোবাসে ? এভাবেই ভালোবাসবেন আমায়‌ ? মনে রাখবেন ? মিস করবেন ? ভুলে যাবেন না কিন্তু !
আমি আবারো মিস করবো আপনাকে..
জড়ানো গলায় কোনো রকমে কথা গুলো বলে ফিকড়ে উঠলো মিহি । শ্বাস টানলো হাঁ করে ।
” এই… বলেছি না সারাজীবন ভালোবাসবো..
কিচ্ছু হবে না তোমার ? কিচ্ছু, হতে দেবো না আমি । মিহি তাকাও আমার দিকে ,, চোখ খুলে রাখো জান । প্লিজ আমার কথা শোনো । এই ,, এই জান ,, প্লিজ নিজের চোখ খোলা রাখো..
শান্তওও..
গাড়ি বের কর তাড়াতাড়ি..

কেঁপে উঠলো শান্ত । সাফি হাসছে এদিকটায় তাকিয়ে । ওর‌ পেছনে ছেলে গুলো , সবার ঠোঁটেই বক্র হাসি । শান্ত কুল কিনারা হারিয়ে গাড়ি স্টার্ট করে সামনে আনলো । ওদের আর বাঁধা দিলো না কেউ । রাফি টলছে । উঠে দাঁড়িয়ে একটানে কোলে তুললো মিহি কে । ধরা পায়ে কোনো রকমে ওকে কোলে করেই গাড়ির ব্যাক সিটে বসলো । রুহি বসলো সামনে । বাক্ হারা ও । নিরীহ চোখে শুধু দেখেই যাচ্ছে । মুহুর্তেই গাড়ির ইঞ্জিন চালু করলো শান্ত । মাথা এলোমেলো । হাত কাঁপছে । স্টিয়ারিংয়ে ব্যালেন্স রাখলো কোনো রকমে ।
রাফির চোখ ভেজা । পানি গড়াচ্ছে অনবরত । মস্তিষ্ক অচল । কোনো দিকে না তাকিয়ে ও শুধু পাগলের ন্যায় বকেই যাচ্ছে..
” এই জান ,, প্লিজ চোখ খোলা রাখো তোমার । কিছু হবে না তোমার । আমি কিচ্ছু হতে দেবো না । প্লিজ, শুধু চোখ দুটো মেলে রাখো । তাকিয়ে থাকো আমার দিকে । দেখো আমায় । এই দেখো আমি তোমার কাছেই আছি । ভীষণ ভালোবাসি তোমায় । অনেক অনেক অনেক বেশি । প্লিজ, শুধু দুচোখে তাকিয়ে থাকো আমার দিকে । তোমার চোখের দৃষ্টি আমার সব , সব তুমিই আমার । প্লিজ সেই দৃষ্টি আড়াল করো না ।
মেয়েটা দীর্ঘ শ্বাস টানলো । দৃষ্টি মেলে রাখতে পারলো না আর । রাফির কথার অবাধ্য হয়ে বন্ধ করলো দৃষ্টি যুগল । ধক্ করে উঠলো রাফি । এক টানে শক্ত করে মিহি কে মেশালো নিজের বুকের সাথে । চেপে ধরলো শক্ত বাঁধনে…
” শান্ত..

তাড়াতাড়ি গাড়ি চালা ভাই,, নয়তো বাঁচবো না আমি । আমার জান কথা শুনছে না আমার ,, মরে যাবো আমি ওর কিছু হলে । তাড়াতাড়ি গাড়ি চালা , বাঁচা ওকে… নয়তো শেষ হয়ে যাবো আমি । এভাবে মারিস না আমায় ! ওকে বাঁচিয়ে দে শুধু… ওকে ছাড়া বাঁচব না আমি ‌।
রাফির গলা ধরে আসছে । নিভে আসছে অক্ষি যুগল‌‌‌ । একেই মাথার চোট , তার উপর হাতে গুলি । রক্ত চুঁইয়ে চুঁইয়ে পরছে উভয় স্থান থেকেই । নেতিয়ে আসছে রাফির শরীর ও । তবুও ও শক্ত হাতে জড়িয়ে আছে ওর ব্লোসোম কে । একটু ও ছাড় দিচ্ছে না , দিলেই যেন পালিয়ে যাবে । আর তো পালাতে দেওয়া যাবে না । রাফি পালাতে দেবে না ওকে ।
মিহি কে বুকের মাঝে সেপ্টে ধরে ঝড়ে পড়লো রাফি । নেতিয়ে আসলো সে ‌। রুহির খেই ধেই নেই । সবকিছু উল্টে পাল্টে আসছে ওর কাছে । ও শুধু পাগলের ন্যায় মাথা দুলিয়ে শান্ত কে ইশারা করলো তাড়াতাড়ি গাড়ি চালাতে । ভেজা চোখ শান্তর । ভিজে আসছে বারবার । রাফি কে ও খুব ভালো করেই চিনেছে , ও আর পারবে না মিহি কে হারাতে । মরে যাবে ও !

পরদিন সকাল এগারোটা । ঢাকা শহরের কোলাহলে পূর্ণ চারদিক । হসপিটালে ও তাই । এমার্জেন্সি বিভাগটা শান্ত । আইসিইউ তে একের পর এক ডাক্তার দের টহল চলছে । সেই রাত থেকে জ্ঞান শূন্য অবস্থায় পড়ে আছে রাফি । সিলেটের হসপিটাল থেকে ঢাকায় ট্রান্সফার করা হয়েছে ইমিডিয়েট সিচুয়েশন বুঝে । রাতের মধ্যেই ঢাকায় ফিরেছে ওরা । তবে রাফি এসবে অবগত নয় । ও নিজেই জ্ঞান হীন হয়ে পড়ে আছে ‌। মাথার চোট , সেখানে মোটা ব্যান্ডেজ । ডান বাহুতেও মোটা ব্যান্ডেজ ‌। বাম হাতের উল্টো পিঠে ক্যানুলা । ব্লাড যাচ্ছে শরীরে । গুলি বের করা হয়েছে ঢাকায় এসেই , শরীর থেকে রক্ত পাত হয়েছে অনেক । সেসব পুষিয়ে রক্ত ডোনেট করা হচ্ছে ।
জ্ঞান ফেরেনি এখনো । বড় বড় ডাক্তাররা টহল দিচ্ছেন বারবার । এগারোটার পর ডান হাত খানা একটু কেঁপে উঠল রাফির । অর্ধচেতন অবস্থায় ভারী অনুভব করলো নিজের হাতটা । ধীরে ধীরে লেগে আসা চোখ দুটো পিটপিট করে খুললো রাফি । শরীরের তীব্র যন্ত্রণায় কাতরে উঠলো । হাতটা নাড়াতে পারছে না । পুরো চেতনা ফেরার আগে যথাসম্ভব চেষ্টা করলো হাতটা নাড়ানোর , পারলো না । চোখ মেলে খোলা কেবিনের আশপাশ ঠাহর করার চেষ্টা করলো সে । অনেক টা মুহূর্ত লাগলো নিজের অবস্থান সম্পর্কে অবগত হতে । কোথায় আছে ও ? আরো কিছু সময় লাগলো নিজেকে বুঝতে ! নিজের অবস্থা বুঝতে ! হাত নাড়াতে পারছে না কেনো সেটা বুঝতে । হাতের দিকে তাকাতেই দৃষ্টি তীক্ষ্ণ করলো রাফি । এবার পুরোপুরি চেতনা , ধ্যান , জ্ঞান ফিরলো । কাটলো অবচেতনা । নিভু ব্যাথা তুর মুখ খানা আঁতকে উঠলো রাফি । এক ঝটকায় উঠে বসল ও । কাঁপা গলায় বিড়বিড় করলো…

” মিহি ? মা..মাই ব্লোসোম…?
ভীত আত্মা ছলকে উঠলো ওর । ও তাকালো বাইরের দিকে । ব্যাথায় হাত নাড়াতে পারছে না । ও একটানে খুলে ফেলল ক্যানুলার সূচ । ব্যাথা তুর ভঙ্গিমায় মুখখানা কুঁচকে আসলো । ফিনকি বেয়ে রক্ত গড়ালো গলগলিয়ে । রাফি সব উপেক্ষা করে ছুটলো বাইরের দিকে । কেবিনের বাইরে শান্ত ‌, ডাক্তারের সাথে কথা বলছে সে । চোখে মুখে স্পষ্ট চিন্তার ছাপ । রাফি চেঁচিয়ে ডাকলো । হুমড়ি খেয়ে পড়ল ওর উপর । এলোমেলো মস্তিষ্কে বলতে লাগলো…
” শান্ত ,, আমার মিহি ? মিহি কোথায় আমার ? বল , ও কোথায় ? কোথায় আমার ব্লোসোম ?
শান্ত ছ্যাঁত করে উঠলো । ব্যস্ত হয়ে পড়লো ডাক্তার …
” আরে মি. চৌধুরী ,, আপনি এই অবস্থায় উঠে এসেছেন কেনো ? কি অবস্থা করেছেন হাতের ? ব্লাড ডোনেট হচ্ছিলো আপনার শরীরে । আর আপনি এভাবে উঠে আসলেন…
ইটস্ নট গুড ফর ইউর বডি এট অল…
রাফি শুনলো না…
” শান্ত ,, শুনতে পারছিস না কি বলছি ? আমার মিহি কোথায় ?
” মি. চৌধুরী , কাম ডাউন । এতো হাইপার হচ্ছেন কেনো আপনি ?
” আরেএএ চুপপপ..

আমার কথা কানে যাচ্ছে না আপনার ? আমি ওকে কিছু জিজ্ঞেস করছি ? স্টপ ইউর মাউথ শাট… ওকে ?
ডাক্তার চমকে উঠলেন এহেন গর্জনে । রাফি এবার শান্তকে চেপে ধরলো…
” এই , তোরও কানে কথা যাচ্ছে না তাই না ? মারতে চাস আমায় , তুই চাস আমি মরে যাই ? বলছিস না কেনো আমার মিহি কোথায় ? দেখ ,মরে যাচ্ছি আমি । আর পারছিনা । বলনা মিহি কোথায়…
করুন হয়ে আসলো রাফির কন্ঠ স্বর । আহত দৃষ্টি শান্তর । ও হাত ইশারা করে আইসিইউ এর পাশের কেবিনটা নির্দেশ করলো । ঝট করে ইশারা অনুযায়ী সেদিকে তাকলো রাফি । আরো একবার শান্তর দিকে । করুন স্বরে কেমন করে শুধালো…

” ও ঠিক আছে তো ? ওকে বেঠিক অবস্থায় দেখার শক্তি নেই আমার !
শান্ত মাথা ঝাঁকালো শুধু । রাফি ছুটলো ইশারায় দেখানো পথে । ঠান্ডা শীতল ঘরটায় ঢুকলো হুড়মুড়িয়ে । ঠিক চোখের সামনেই তার ব্লোসোমের দেহ খানা নেতিয়ে পড়ে আছে । থমকালো রাফি । চোখের জ্বলন কমিয়ে দুফোঁটা অশ্রু বিন্দু গড়ালো । তার ব্লোসোম ভালো নেই ! মুখে অক্সিজেন মাস্ক ! কেঁপে কেঁপে হাঁসফাঁস করে শ্বাস নিচ্ছে সে । শরীর খানা ফুঁসে উঠছে প্রত্যেক বার শ্বাস টানার সাথে সাথে । হার্ট মনিটরে হৃৎপিণ্ডের ওঠা নামার ছন্দ রেকর্ড হচ্ছে তার ব্লোসোমের । রাফি ঢোক গিললো , এগোলো জড় পায়ে ।
ভেতরে প্রবেশ নিষিদ্ধ ।
রাফি কোনো রকমে নিজের পা দুটো ঠেলে ঠুলে মিহির পাশে গিয়ে দাঁড়ালো । দাঁড়াতে পারলো না , কম্পন রত হাঁটুর টাল হারিয়ে হুমড়ি খেয়ে হাঁটু মুড়ে বসলো বেডের পাশে । মেয়েটার চোখ বোজা । বন্ধ চোখেই পানি গড়াচ্ছে কর্নিশ বেয়ে । যা হয়তো বুঝিয়ে দিচ্ছে ওর কষ্টের মাত্রা । রাফি হাত বাড়িয়ে দিলো ওর দিকে । বাম গালে আলতো স্পর্শ করে ডাকলো…

” মিহি ? এই মেয়ে ? কি হয়েছে তোমার ? এভাবে তোমার মুখে অক্সিজেন মাস্ক , ক.. কেনো ? শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে ,, আমি তো ইনহেলার কিনে দিয়েছিলাম ।
এই মিহি ,, কষ্ট হচ্ছে তোমার ? এই দেখো আমার ও ভীষণ কষ্ট হচ্ছে , আমি নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছি । প্লিজ আর এমন করো না ।
শান্ত দরজা ঠেলে ঢুকলো । সাথে ডাক্তার । রাফি মিহিকে ছেড়ে শান্তর কাছে উঠে আসলো…
” শান্ত , এই ? কি হয়েছে আমার মিহির ? ও এমন করছে কেনো ? কি হয়েছে ওর ?
ডক্টর ,, মিহির কি হয়েছে ?
ডাক্তার শান্তর দিকে তাকালেন । অতঃপর বললেন…
” মি. চৌধুরী ,, পেসেন্টের শরীরে যে গুলিটা লেগেছিলো , সেটা আমরা বের করতে পেরেছি ! উনি আপাতত আউট অফ ডেঞ্জার ! কিন্তু…

” কিন্তু ,, কিন্তু কি ??
” ওনার ব্লাড লস হয়েছে অনেক । আগে থেকেই হিমোগ্লোবিন অনেক কম ছিলো । তিন ব্যাগ রক্ত অলরেডি দিতে হয়েছে কাল থেকে । আরো দু ব্যাগ প্রয়োজন…
” আমার ,, আমার রক্ত নিন । তবু ওকে বাঁচান । আমি রক্ত দেবো ওকে !
” আপনাকেই আলাদা করে রক্ত দিতে হয়েছে , আর তাছাড়া ওনার ব্লাড গ্রুপ আলাদা । আর ভীষণ রেয়ার । এবি নেগেটিভ রক্ত ওনার । ইমিডিয়েট বাকি দুই ব্যগ রক্ত দিতে হবে । নয়তো এখনো লাইফ রিস্ক হতে পারে ওনার ।
আর আমাদের ব্লাড ব্যাংকে এই গ্রুপের রক্ত এভেইল্যাবেল নেই । অন্য সব হসপিটালে দেখা হয়েছে , পাওয়া যায় নি কোথাও ।
রাফি পেছালো । নিজের মাঝেই আওড়ালো কয়েক বার….
” এবি নেগেটিভ ,, এবি নেগেটিভ…
মা.. মামনি !!
কথা শেষ নিজের মাঝেই ।

রাফি ছুটলো এলোমেলো পায়ে । পিছু পিছু ওকে ডাকতে ডাকতে শান্ত । হিমশিম খেয়ে যাচ্ছে রাফি ।
চৌধুরী বাড়িতে এসে পৌঁছাতে লেগেছে মিনিট কয়েক । বাড়ির কেউ কোনো বিষয়েই জানে না এখনো । রুহিও আসে নি এখনো । ও শান্ত দের বাড়িতে । ঘুমিয়ে বেচারি ।
চৌধুরী বাড়ির ড্রইং রুম ফাঁকা এখন । রাশেদ রায়হান চৌধুরী আর জুবায়ের চৌধুরী অফিসে । হেনা বেগম আর হালিমা বেগম রান্নায় ব্যাস্ত । রাফি ধড়ফড়িয়ে বাড়িতে ঢুকলো । পিছু পিছু ছুটতে ছুটতে শান্ত । সে তখন থেকে এক নামে রাফি কে ডেকে যাচ্ছে , থামানোর চেষ্টা করছে ওকে , কিন্তু পারে নি ।
ফাঁকা ড্রইং রুমের সিঁড়ি বেয়ে দিকবিদিক হারিয়ে উপরে উঠতে গেলে হুমড়ি খেয়ে সিঁড়ির উপর পড়লো রাফি ।
শান্ত পেছন থেকে চেঁচিয়ে উঠলো ওর নাম সম্বোধনে । তবুও থামলো না সে । রাফির নাম শুনে কিচেন থেকে বেরিয়ে আসলেন হেনা বেগম । ছেলে কে খেই হারিয়ে ওভাবে উপরে উঠতে দেখে আঁতকে উঠলেন । পিছন থেকে অল্প বিস্তর ঠাহর করতে পারলেন ছেলের অবস্থা । আতঙ্কিত হয়ে ডাকলেন তিনিও । রাফি উপেক্ষা করলো সবাই কে ।
ছুটলো রাবেয়া চৌধুরীর ঘরের উদ্দেশ্যে । বাইরে থেকে দরজা খুলে উত্তেজিত হয়ে ডাকলো…

” মামনি ?
খাটের উপর জড়োসড়ো হয়ে বসে কোলে নিজের মিফতাহুল কে নিয়ে বসে বসে নিজের ধ্যানে গুনগুন করছিলেন সালেহা । রাফির আকস্মিক ডাকে চমকে উঠলেন তিনি । রাফি আর কোনো কথা না বলে সোজা গিয়ে হাত ধরে নামালো রাবেয়া চৌধুরী কে ।
” ম.. মামনি আমার সাথে চলো ।
রাবেয়া চৌধুরী পিটপিট করে তাকিয়ে পা বাড়ালেন । দরজার সম্মুখে হেনা বেগম । ধড়ফড়িয়ে ছুটে এসেছেন তিনি ‌। রাফি কে অমন বিভৎস অবস্থায় দেখে আঁতকে উঠলেন । কেঁদে ফেললেন ঠোঁট উল্টে ‌। ছেলেকে জড়িয়ে ধরলেন মুহুর্তেই ।
” রাফি , কি হয়েছে তোর ? একি অবস্থা তোর ? এমন হলো কি করে ? তোর পুরো শরীরে এমন , এমন ব্যান্ডেজ কেনো ? কি হয়েছে ?
রাফির এই মুহূর্তে সময় নেই । সে রাবেয়া চৌধুরীর হাত ছেড়ে কোনো রকমে হেনা বেগম কে সামলানো ধরা গলায়…

” আম্মু ‌। এই দেখো কিচ্ছু হয় নি আমার ‌। একটু কেটেছে শুধু । এখন আমার হাতে সময় নেই আম্মু , আমায় যেতে হবে । প্লিজ কেঁদো না তুমি । আমি একদম ঠিক আছি , ফিরে এসে সব বলবো তোমায় ! সরি আম্মু ,আমায় যেতে হবে এখন….
বলেই আর অপেক্ষা করলো না । শান্ত কে ইশারা করে ছুটলো ও । হেনা বেগম পিছু ডাকতেই শান্ত সামলে নিলো তাকে । রুহি শান্তর বাড়িতে এটা জানেন তিনি ‌। কিন্তু ছেলের এমন দশা দেখে শান্তর হাজার শান্তনাতেও মন টিকলো না তার । কাঁদছেন তিনি । ছেলেকে আটকাতে পারলেন না , আর না পারলেন কিছু জানতে । রাফির অবস্থা দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে অনেক বড় কিছু ঘটেছে । আর রাবেয়া , ওনাকেই বা এই অবস্থায় কোথায় নিয়ে গেল রাফি । কাঁদতে কাঁদতে তিনি ফোন করলেন রাশেদ রায়হান চৌধুরী কে ।
যতটা দ্রুত হসপিটাল থেকে বাড়িতে ফিরেছিল তার থেকে বেশি দ্রুত বাড়ি থেকে হসপিটালে ফিরলো রাফি । উত্তেজিত হয়ে শোরগোল জুড়ে দিলো পুরো হসপিটালে …
ও আসতেই ডাক্তার একটু স্বস্তি নিয়ে আগেই জানালেন,আরো এক ব্যাগ রক্ত পাওয়া গেছে । আর মাত্র এক ব্যাগ প্রয়োজন । রাফি শ্বাস ফেললো দীর্ঘ । রাবেয়া চৌধুরী কে ইশারা করে বললো উদ্বিগ্ন হয়ে…

” ওনার ব্লাড গ্রুপ এবি নেগেটিভ । বাকি এক ব্যাগ উনি দেবেন । যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ব্লাড নিন আপনারা । তবুও আমার ব্লোসোম কে বাঁচান, ঠিক করে দিন ওকে প্লিজ !
ডাক্তার সরু চোখে তাকালেন । মেয়েটা কে চেনেন না তিনি । কাল থেকে মেয়েটার প্রতি শান্তর উদ্বিগ্নতা দেখে এসেছেন , আর এখন এই অবস্থায় রাফির । হয়তো মেয়েটা বিশেষ কেউ ।
রাবেয়া চৌধুরী বোধহয় বুঝলেন না কিছু । তিনি বাচ্চা সুলভ নয়নে তাকিয়ে শুধালেন..
” আমার রক্ত নিবি তুই ? আমায় কাটবি ? আমার কেটে , আমার রক্ত কাকে দিবি তুই ?
রাফি কিছু বলতে পারছে না । গলায় শব্দরা আসছে না । ও রাবেয়া চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে প্রশান্তিতে জড়িয়ে ধরলো তাকে ।

এক দেখায় পর্ব ৪৪

বিকাল পাঁচটা । মিহির অবস্থা নরমাল । রাফি শান্ত হসপিটালে নেই । খানিক আগে রাশেদ রায়হান চৌধুরী আর জুবায়ের চৌধুরী এসেছেন হসপিটালে । রুহিকে হসপিটালে দেখে তিনি হতবাক । আরো হতবাক মিহি কে দেখে । বাক হারালেন তিনি । এতো দিন কোথায় ছিলো এই মেয়ে টা ?
মিহি সেন্সলেস এখনো । রুহি কে ওর কাছে রেখে রাফি আর শান্ত বেরিয়েছে কোথায় । আইসিইউ এর ভেতরে মিহির পাশে রুহি । আর বাইরে সিভিল ড্রেসে কড়া পাহারা ।

এক দেখায় পর্ব ৪৬