এক প্রণয় রাত্রি পর্ব ১৩
আসিফা খান
রিফাত এর নার্সিং হোম এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আজ।। বিভিন্ন মানুষ দ্বারা পরিপূর্ণ লন এরিয়া।বন্ধু বান্ধব আত্মীয় স্বজন দ্বারা ভরপুর এই পার্টি।। রিফাত এর কলিগ,নার্সিং হোম এর সাথে জড়িত প্রত্যেক মানুষই এখানে একত্রিত। নানা রকমের ড্রিংক,ফাস্টফুড,খাবার দাবার এর কোনো ত্রুটি নেই।। সবাই নিজ নিজ ভাবে মশগুল,,,কেও গল্পে তো কেও খেতে।
দানিশ, আহিল আর রিফাত হাতে সফট ড্রিংকস নিয়ে দাড়িয়ে আছে। নানান রকমের বিষয়ে কথা বলছে তারা। কিন্তু এদিকে রিফাত এর দৃষ্টি সামনে,,,তার থেকে কিছু দূরে দাঁড়িয়ে থাকা নেভি ব্লু কালারের লং গাউন সাথে ম্যাচিং হিজাব পরিহিত মায়াবী মেয়ে,ইয়ানার দিকে।।কোনো রকম ভাবে হাজার চেষ্টা করার পরেও তার চোখ জোড়া সরছেই না ইয়ানা হতে,,,চোখ দুটোর নাম বেসরম দিতে মন চাইছে । ইয়ানার দিক থেকে দৃষ্টি সরানোর কথা ভাবলেই চোখ দুটো যেনো রিফাত কে হুমকি দিয়ে বলে ‘ ইয়ানার দিক থেকে আমাদের সরালেই তোর নামে আমরা বিদ্রোহ ঘোষণা দেবো ‘,,,,ভাগ্যিস রিফাত আজ চাষমিস,,,নাহলে সে আজ বাহায়ার ট্যাগ অর্জন করেই ফেলত।
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
এরই মধ্যে একটা অল্প বয়সী যুবক হেঁটে আসে ইয়ানার কাছে,,,এসেই হালকা হেসে কি যেনো জিজ্ঞাসা করছে মেয়েটা কে,,,ইয়ানা ঠোঁটের কোণে সুপ্ত হাসি টেনে,অসস্থির মুখ নিয়ে ছেলেটির সাথে কথা বলছে।। রিফাত এর চোয়াল শক্ত হয়,,, আসা থেকে এখন পর্যন্ত এই নিয়ে প্রায় চারটা ছেলে তার সাথে আগ বাড়িয়ে কথা বলতে এসেছে।।,,,হুট করেই রিফাত এর রাগ হচ্ছে,,, মন বলছে,,,’ মেয়েটা এত সুন্দর,মায়াবী না হলেও পারতো।। কি দরকার ছিল এত সেজে গুজে আসার।।তার ওই মিষ্টি সাজে যে তার আসে পাশে পিপড়ের আমদানি হয়েছে সেটা কি মেয়েটা বুঝছে না?’
রিফাত নিজের ভাবনায় অবাক হয়,,,কিন্তু তারপরেও রাগ তার কমে না,,মনে হচ্ছে সবার সামনে থেকে মেয়েটা কে নিয়ে বেরিয়ে যেতে।।এদিকে রিফাত এর পাশে দাড়িয়ে থাকা দানিশ আর আহীল ,,,রিফাতের শক্ত চোয়াল আর দৃঢ় দৃষ্টি লক্ষ্য করে।
“করোর হৃদয় পুড়ছে,,,,গন্ধ পাচ্ছিস আহিল।”
দানিশ কথা কিছুটা হেয়েলি স্বরে বলে,,, আহিল হো হো করে হেসে দেয়। তাদের বন্ধুকে তারা মারাত্মক ভাবে বুঝে।।দানিশ কিছু একটা ভেবে পকেট থেকে মোবাইল বের করে আর ফোন করে ইয়ানার সাথেই গল্পেরত তার বউ কে।।,,,দানিশ এর ফোন পেয়ে তার বউ রুতবা ভ্রু কুঁচকে ফোন রিসিভ করে,,,বলে,,,
“কি ব্যাপার ,,,আমায় দেখতে পেয়েও ফোন করছো কেনো?”
রুতবা কিছু দূরে দাঁড়িয়ে থাকা দানিশ এর দিকে তাকিয়েই কথা টা বলে। দানিশ একটা উড়ন্ত চুমু ছুড়ে ফোন লাউড মডে দিয়ে বলে,,,,”একটু আগে একটা ছেলে কে দেখলাম ইয়ানার সাথে বলতে,,,কি বলছিল সে?”
দানিশ এর কথায় রুতবা হেসে দেয়,,,বলে,,,”একটা ছেলে দেখলে তোমরা মাত্র ! এই নিয়ে চার জন এসেছে,,,,সবার একটাই কথা,,,’ মিস ইয়ানা আপনার ফোন নাম্বার টা পাওয়া যাবে ‘,,,,অবশ্য ইয়ানা ভদ্র মেয়ের মতো তাহ মানা করে দিয়েছে।”
রুতবার প্রতিটা কথা রিফাত এর কানে আসে,,, হাতে থাকা গ্লাস চেপে ধরে,,মনে হচ্ছে এবার গ্লাস টা রিফাত এর হাতেই ব্লাস্ট করবে।। এরই মাঝে রুতবা আবার বললো,,,
“এই যে শোনো না।”
“হ্যাঁ,,,,বলো না ।”
“রিফাত ভাইজান কে বলো ইয়ানা কে চোখে চোখে রাখতে,,, নাহলে মেয়েটার মায়ায় ভরপুর চেহারায় যেকেও হারিয়ে যাবো,,,তারপর ফুড়ুৎ।”
কথা রুতবা হেসেই বললো,,,কিন্তু তার কথা ইয়ানার কান পর্যন্ত পৌঁছালো না।। বউয়ের কথায় দানিশ অমাইক হেসে বলল,,,,”আর কি জান,,,, যার বউ সে বুঝুক,,,নাহলে চোখের সামনে দেখুক তার বউকে অন্য কেও নিয়ে উড়াল দিচ্ছে।,,,সে তো আর বাচ্চা নয় নিজের সব ভালো বোঝার ক্ষমতা থাকলে নিশ্চই এই বিষয়েও সচেতন হবে।”
দানিশ কথাটা কিছুটা রিফাত কে ঝাড়ি দিয়েই বললো,,,তত্পর ফোন কেটে দিলো,তার আগে অবশ্য রুতবা কে love you বলা বাদ দিলো না।।
দানিশ ফোন পকেটে ঢুকিয়েই আহিল এর দিকে তাকিয়ে চোখ টিপ দিলো,,, আহিল ও কম যায় নাকি,,,সুযোগের সদ্ব্যবহার করে সেও রিফাত কে বিদ্রুপ করে বললো,,,
“আমার বউ হলে ,,,তাকে আমি চোখের পলকে সাজিয়ে রাখতাম।।,,,বগলের তলায় লুকিয়ে রাখতাম।। যত্নে মুড়িয়ে রাখতাম ,,,আর আজ কালের ছেলেরা দাত থাকতে তার মর্ম বুঝে না,,,, ইয়া আল্লাহ,,,তাদের তুমি বউ কে ভালোবাসার তৈফিক দান করো,,, আআআমিইইননন।”
“কেও যেনো,,,লুচির মত ফুলছে,,,,,তার ফেটে যাওয়ার আগেই চল আহিল ,,,,আমরা ওই দিকটা যাই,,,”
রিফাত কে একশ শতাংশ খেপিয়ে দিয়ে মানে মানে কেটে পড়লো দুইজন।। এদিকে রিফাত রাগে ফুঁসছে,,,শরীর গরম হয়ে আসছে,,,সাদা শার্ট এর উপর গ্রে কালারের কোট খুলে ফেলে,,, কপালে পড়ে থাকা চুলের মধ্যে আঙ্গুল চালিয়ে পিছনে ঠেলে দেয়। গোল চশমার আড়ালে থাকা আঁখি দ্বয় লাল রঙ ধারণ করেছে।।,,,চোয়াল শক্ত রেখেই বড়ো বড়ো পা ফেলে রিফাত হেঁটে গেলো ইয়ানার সামনে।। হঠাৎ রিফাত কে নিজের সম্মুখে দেখে কিছুটা চমকে গেলো ইয়ানা,,,সাদা শার্ট,গ্রে প্যান্ট যা টাখনুর উপর,লোফার শু,,,সব মিলিয়ে ছেলেটা কে বেশ আকর্ষণীয় লাগছে। তাই তো অ্যার চোখে সেও অগুণিত বার দেখেছে রিফাত কে।কিন্তু ফর্সা মুখশ্রী এরকম লাল হয়ে আছে কেনো?,,,রিফাত কিছু ভেবেই ইয়ানার হাত চেপে ধরে,,,বলে,,,
“চলো আমার সাথে।”
ইয়ানা ভরকে যায়,,,,এই ভাবে রিফাতের হাত ধরে টেনে নিয়ে যাওয়াতে কিছুটা হলেও চমকে উঠে মেয়েটা। আশে পাশের কিছু মানুষ জন বিস্ফোরিত চোখে দেখছে তাদের দিকে।। এতক্ষণ যেই সব মেয়েরা রিফাত কে চোখে গিলে খাচ্ছিল তারা ইয়ানার দিকে কেমন ঈর্ষার নজরে দেখছে।।
ইয়ানা কে কিছুটা দূরে নিয়ে গিয়ে একটা কোন ঘেঁষে দাঁড় করায় রিফাত,,,তত্পর ইয়ানার সান্নিধ্যে গিয়ে তার পাশে পিলারে হাত রাখে,,,এই মধ্যে শোনা যায় ইয়ানার জিজ্ঞেসু কণ্ঠ,,,,”এই ভাবে আমায় এখানে আনলেন কেনো?,,,সবাই কি ভাবে দেখছিল!,,কি ভাবছে সবাই।”
ইয়ানার কথা একেবারে অগ্রাহ্য করে রিফাত তার পকেট থেকে রুমাল বের করে ইয়ানার সামনে ধরে গম্ভীর স্বরে বলল,,,”লিপস্টিক মুছো।”
হতচকিত হয় ইয়ানা। রিফাত এর কথা বুঝতে কিছুটা সময় লাগে তার। তার উপর ছেলেটার এত কাছে থাকাতে ইয়ানা সুপ্ত ভাবে কাপতে শুরু করেছে,,গলা জড়িয়ে আসছে তার ,,,কি বলবে ভেবে পাচ্ছে না,,,ভ্রু কুঁচকে কম্পন কন্ঠে বলে,,,
“কিইই?”
“রিমুভ ইউর লিপস্টিক,,, স্টুপিট।”
রিফাত এর ঝাঁঝালো কন্ঠে ইয়ানার বুক ধক করে ওঠে।। সময় ব্যয় না করে রিফাত এর হাত থেকে রুমাল নিয়ে ঠোটে লেগে থাকা হালকা পিংক রঙের লিপস্টিক মুছতে থাকে যা ড্রিংক আর খাবার খাওয়ার ফলে অনেকটাই উঠে গেছে ।। কিন্তু ওই অধখাচড়া লিপস্টিক ও রিফাত কে অশান্তিতে রেখেছে। রাফাত জানে ইয়ানা তার মুখে কোনো প্রসাধনী ব্যবহার করে না,,,তার পরেও অজান্তেই রিফাত এর ইয়ানার এই সামান্য সাজ ও অস্বস্থিতে ফেলছে।।,,, ইয়ানার ঠোঁট মোছা রিফাত এর যেনো পছন্দ হচ্ছে না,,,তাই খপ করে রুমাল কেড়ে নিজেই মেয়েটার ঠোঁট মুছতে আরম্ভ করলো,,,,
এদিকে ইয়ানার অবস্থা কাহিল। রিফাত এর আঙ্গুল যতবার তার অধর স্পর্শ করছে ততবার যেনো দক্ষিণা বাতাস তাকে ছুঁয়ে দিচ্ছে।। কিছুক্ষণ পর,,,রিফাত ইয়ানার অবস্থা কিছুটা আঁচ করতে পারে,,,,চোখ তুলে মেয়েটার দিকে তাকাতে দেখলো সেও তার ডগোর আঁখি দিয়ে তাকেই দেখে চলেছে।। চোখের কোনে পানি চিক চিক করছে।। রিফাত ফট করে হাত সরিয়ে দেখলো মেয়েটার ঠোঁট লাল হয়ে গেছে। রাগের চোটে, জেদের বশে খেয়াল না করেই বাসন মাজার মত মেয়েটার ঠোঁট ও মেজে দিয়েছে।।
“কেনো করলেন এরকম?”
কান্না কোনো রকম আটকিয়ে ইয়ানা জিজ্ঞাসা করে। ঠোঁট জ্বলছে তার।।,,,রিফাত গলা কেশে সোজা হয়ে দাড়ায়,,,এদিক সেদিক তাকিয়ে বলে,,,
“এর পরে আর লিপস্টিক দেবে না।”
“কেনো দেবো না?,,,আপনার কথা শুনতে যাবোই বা কেনো?”
রাগে দুঃখে ইয়ানা শক্ত কন্ঠে বলে কথাটা।।,,রিফাত এবার মেয়েটার মুখের সামনে ঝুঁকে পড়ে,,,চোখে চোখ রেখে বলে,,,”তুমি বাধ্য আমার কথা শুনতে।”
“কিসের জন্য বাধ্য? কোন অধিকারে?”
“অনেক কথা বলে ফেলছো।।,,,আমি না বলেছি মানে না।”
“কিসের জোর এত?,,,,আমি রুতবা আপির কাছে থেকে আবার লিপস্টিক দেবো।। কি করবেন আপনি?”
রিফাত এবার হুট করেই ইয়ানার কথায় বাঁকা হাসলো,,, তারপর অনেকটাই ঝুঁকে গেল মেয়েটার মুখের কাছে।।,,,একে অপরের থেকে দূরত্ব বজায় এর কামনা করা দুই মানব মানবী এখন একে অপরের সান্নিধ্যে। অনেক টা কাছে। যাতে করে একে অপরের নিশ্বাস মুখে আঁছড়িয়ে পড়ছে।।,,ইয়ানা পিলারের সাথে নিজেকে মিশিয়ে ফেললে,,রিফাত আরো বেশি দূরত্ব গুছিয়ে সামনে এলো,,,কি এক স্লো কন্ঠে বলল,,,
“রুমাল ছাড়াও আরও অনেক পদ্ধতিতে লিপস্টিক মুছো যায়,,, আন্ডারস্ট্যান্ড মিসেস ইয়ানা।”
ফোন বেজে ওঠে রিফাত এর,,, ইয়ানার দিকেই তাকিয়ে পকেট থেকে ফোন বের করে কানে দেয়,,,তত্পর কথা বলতে বলতেই চলে যায় মেয়েটার সামনে থেকে।।,,,এদিকে ইয়ানা বরফ,,,শরীর এখনও জমে রয়েছে।। ইয়ানাও যে জানে রিফাত এর এই আচরণের কারণ। হৃদয়ে খেলে যায় এক সুপ্ত অনুভুতির ঢেও। লজ্জায় মুখে হাত দিয়ে হেসে ফেলে মেয়েটা।
কালো ড্রেসেও যে কাওকে এত সুন্দর লাগতে পারে তঃ আলেয়া কে না দেখলে উপলব্ধি করতে পারতো না হাফিজ।। সাদা বস্ত্রে মেয়েদের পরি লাগে এটা হাফিজ এর জানা কিন্তু কালো অবরণও কাওকে এত টা মুগ্ধিময়ি করে তুলতে পারে তঃ তো
অজানা ছিল।।
এক প্রকার মুখ হা করে তাকিয়ে আছে হাফিজ আলেয়ার দিকে। চোখে এক রাশ মুগ্ধতা,,,মনের কোণে সৃষ্টি হয়েছে অস্থিরতা। মেয়েটা যেনো দিন দিন আরো বেশি বস করে ফেলছে তাকে।।,,,
আলেয়া অনেকক্ষণ ধরেই হাফিজ এর হ্যাবলাকান্ত চাহনি লক্ষ্য করছিল।। কোমরের দুই দিকে হাত রেখে ছোটো ছোটো চোখ করে আলেয়া হাফিজ এর সামনে এসে দাঁড়ায়।। হুট করেই আলেয়ার এরকম সামনে চলে আসতে হাফিজ হকচকিয়ে যায়,,,শুকনো ঢুক গিলে নজর এদিক ওদিক ঘোরাতে থাকে।।
“কি ব্যাপার,,,,সেই কখন থেকে দেখছি,,,জীবনে মেয়ে না দেখার মত আমার দিকে হ্যাবলাকন্তের মত তাকিয়ে আছো।।,,,নজর লেগে যাবে তো।”
হাফিজ এবার কিছুটা ঠোঁট বাঁকায়।। মাওয়ালি দের মত কিছুটা কলার টেনে উপরে দিকে ওঠায়,,, অন্তত অ্যাটিটিউড এর সাথে,,,এক ভ্রু উচিয়ে বলে,,
“এ্যা,,, আইসে। তোকে কে বললো আমি তোকে দেখছিলাম। তোর পাশে ওই যে সুন্দরী মত মেয়ে আছে,আমি তো তার দিকে তাকিয়ে ছিলাম। হায়রে,,,কি সুন্দর মেয়ে,,গায়ের রং যেনো দুধে দেওয়া আলতা,চোখ হরিং এর মত, চুল যেনো ঘন কালো মেঘ,,,,উফফ।”
বুকের ডান পাশে হাত রেখে কথা গুলো বললো হাফিজ। এদিকে আলেয়া চোখ মুখ কুচকে পিছন ফিরে তাকালো,,তার পাশে দাড়ানো মেয়েটির দিকে আর মেলাতে থাকে হাফিজ এর প্রশংসার সাথে মেয়েটির রূপ।। গায়ের রং শ্যাম বর্ণ, চোখে দাওয়া বেশ বেশি পাওয়ার এর চশমা, চুল গুলো কাধের কাছে এসে শেষ,,,,হাফিজ এর বলা কথার সাথে উত্তর দক্ষিণ এর তফাৎ।
আলেয়া এবার রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে তাকালো হাফিজ এর দিকে তাকিয়।। মিথ্যা বলার লিমিট এই ছেলে আজ ক্রস করে দিয়েছে।।,,,পাশের টেবিল থেকে একটা কাটা চামচ হাতে নিয়ে সেটা সোজা হাফিজ এর মুখের কাছে ধরে,,,, দাতে দাঁত পিষে বলে,,,
“এতই যখন মেয়েটাকে পছন্দ,,,তাহলে বিয়ে করে নাও না মেয়েটার সাথে।”
হাফিজ ভয় পেয়ে কিছুটা পিছন দিকে হেলে যায়,,,তত্পর আমতা আমতা করে বলল,,,”ক করবো,,,তুই ব বললেই,,করবো নাকি।।,,,এখন এই চামচ টা সরা,,,আমার হ্যান্ডসাম ফেস এ এই চামচের আঘাত বেমামান লাগবে।।”
আলেয়া এবার কিছু ভেবে কুটিল হাসি দিল,,,চোখ টিপ দিয়ে বললো,,,,”তোমার কাজ আমি কিছুটা সহজ করে দিচ্ছি।”
সময় ব্যয় না করে আলেয়া এগিয়ে গেলো সেই মেয়েটির দিকে তত্পর কি সব যেনো গুজ গুক করে বলতে আরম্ভ করলো,,,বলার এক পর্যায়ে আলেয়া হাতের ইশারায় হাফিজ কে দেখলো,,,আর মেয়েটি তার ত্যাঁরাব্যাকা দাতের স্মাইল দিলো হাফিজ এর দিকে তাকিয়ে।।
ভরকে গেলো হাফিজ,,, রাগি লুক দিয়ে তাকালো আলেয়ার দিকে তত্পর মেয়েটির দিকে একটা নার্ভার হাসি দিয়ে,নয় দুই এগারো হয়ে কেটে পড়ে।।
“আলেয়ার বাচ্চা,,তোকে তো আমি পরে দেখে নেবো।” চোখের ইশারায় কথাটা বুঝিয়ে দেয় হাফিজ,,,আলেয়া ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে তাহ পাত্তা দেয় না।
রাত প্রায় সাড়ে নয়টা চল্লিশ এর কাছা কাছি। সমস্ত কিছু গুছিয়ে রিফাত গাড়ির দিকেই যাচ্ছিল এমন সময় রিফাত এর ফোন বেজে ওঠে,,,দেখে দাদু কল করেছে।।,,,ফোন রিসিভ করতেই দাদু বিচলিত কন্ঠে বলল,,,
“দাদুভাই ইনু মা তোমার সাথে।”
“না তো?,,,কেনো ও তোমাদের সাথে বাড়ি যায়নি?”
“নাহ,,,,আমরা জানি তুমি ওকে সাথে নিয়ে আসবে তাই নিশ্চিন্তে আমরা বাড়ি চলে এসেছি,,,,কিন্তু কিছুক্ষন আগে থেকেই ইনু মা কে কল করছি তার ফোন সুইচ অফ বলছে,,,আর এখন তুমি বলছো যে,ইয়ানা তোমার সাথে ও নেই।,,,দুশ্চিন্তা হচ্ছে দাদুভাই,,, একটু দেখোনা,,,,,,ইয়াসমিন কে জানালে ঘাবড়িয়ে যাবে।”
রিফাত এর বুকটা ধক করে উঠল,,,কোনরকম আশ্বাস কণ্ঠে বললো,,,”আমি দেখছি,,,ঘাবড়ানোর কিছু নেই।”
সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার পর থেকেই মানুষ জন বিদায় নিতে থাকে। সর্বশেষে আধা ঘণ্টা আগেই মিস্টার আফতাব,ইয়াসমিন বেগম,আসফিয়া আর দাদু রহনা দেয়। রিফাত সমস্ত কিছু গুছিয়ে এই সবে বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার আগেই দাদুর এই কল।।
অস্থিরতায় রিফাত রীতিমত ঘামছে,,,গলা শুকিয়ে আসছে,,,মাঝে মধ্যেই বুক কেঁপে উঠছে। বাজে চিন্তা মাথায় চেপে বসেছে।।,,, হন্তদন্ত হয়ে প্রতিটা কোনায় চেক করছে ইয়ানা কে,,হাক ছেড়ে ডাকছে বারবার কিন্তু ফাঁকা পরিবেশে তার আওয়াজ ইকো হয়ে আবারও ফিরে আসছে,,,কপাল ঘর্মবিন্দু তে একাকার। মেয়েটা গেলো কই?
এদিক সেদিক খুঁজতে খুঁজতে রিফাত একটা করিডোর এর মাঝে গিয়ে দাড়ায়,,,কোমরে হাত রেখে জোরে নিঃশ্বাস নিচ্ছে,,, বুকের বা পাশে শুরু হয়েছে চিনচিনে ব্যাথা,,,, মেয়েটির থেকে পালানো হৃদয় এখন মেয়েটিকে নিজের চোখের সামনে দেখার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। বার বার মনে হচ্ছে,,মেয়েটাকে একবার সামনে পেলে লুকিয়ে রাখবে বহু বন্ধনে।।
এক প্রণয় রাত্রি পর্ব ১২
দুশ্চিন্তা খেলে যাচ্ছে মস্তিষ্কে,,,নিজের সামনের চুল মুঠো করে ধরে সামনে ফেরার আগেই,,,হঠাৎ রিফাত কে পিছন থেকে একটা নরম হাতের স্পর্শ করে তাকে জড়িয়ে ধরে। শক্ত করে,, দৃঢ় ভাবে। ,,,যেনো রিফাত কে ছেড়ে দিলেই ও পালাবে। রিফাত প্রথমে চমকিয়ে যায়,,,মূর্তির মত দাড়িয়ে রয় কিছুক্ষন,,, নিশ্বাস ভারী হয়ে আসে,,,বুঝতে বাকি থাকেনা তাকে শক্ত ভেবে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে রাখা মানুষ আর কেউ না ইয়ানা,,,মেয়েটা থর থর করে কাপছে জা রিফাত উপলব্ধি করতে পারছে।।মেয়েটির মাথা রিফাত এর কোমরের কাছে ,,,মেয়েটির গরম শাস রিফাত এর পিঠে এসে পড়ছে,,,তাতে সর্বাঙ্গ শিহরিত হয়ে জমে যায় রিফাত।
রিফাত এর মনে প্রশ্ন জাগলে,,,,মেয়েটার হঠাৎ হলো কি?
