Home এক প্রণয় রাত্রি এক প্রণয় রাত্রি পর্ব ১৫

এক প্রণয় রাত্রি পর্ব ১৫

এক প্রণয় রাত্রি পর্ব ১৫
আসিফা খান

হুট করেই খেতে খেতে ইয়ানার চোখ পড়ে নিজের ডান হাতের কব্জির দিকে। সেখানে কিছুটা ব্যাথা অনুভব করতেই,, ধীরে ধীরে কাল রাতের সেই বিশ্রী সৃতি মস্তিষ্কে এসে হাজির হতে লাগলো। শরীর শিউরে উঠলো,,, নিশ্বাষ ভারী হয়ে ডুকরে কেদে উঠল ইয়ানা। সাথে হিচকি।। বিচলিত হলো রিফাত। চট জলদি সোফা ছেড়ে ওঠে ইয়ানার সামনে এসে বসলো। কান্নার সাথে হিচকি,, মেয়েটার যাচ্ছে তাই অবস্থা। রিফাত বুঝতে পারলো এই কান্নার কারণ। কি ভাবে থামাবে মেয়েটা কে! কি ভাবে শান্তনা দিবে সে!কিছুই মাথায় আসছে না।। রিফাত ইয়ানার মাথায় হাত রাখল,,, হুট করে এরকম হাত রাখায় ইয়ানা তব্ধা খেয়ে তাকালো রিফাতের দিকে। কান্না হালকা কমলেও হেঁচকি থামলো না মেয়েটার। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে রিফাত বললো,,,

“কান্না থামাও,,,কান্না করলে একটুও ভালো লাগে তোমায়,,,”
কি ছিল রিফাতের এই কথার মাঝে! কি মোলায়েম আদুরে এক ভাব। রিফাতের কথার সাথে সাথে ইয়ানার হিচকিও থেমে গেল। ফুপানো সুরে, নাক টেনে ,ঠোঁট উল্টে নালীশ সুরে বলিতে উদ্যোগী হল,,,”ক..কাল”
“উম হুঁ,,,সব শুনবো। এখন খাওয়া টা শেষ করো দেখি।”
ধীরে ধীরে ইয়ানা প্লেটের সমস্ত খাবার শেষ করল। দুধের বেলায় নাক শীটাকেলেও রিফাতের কঠিন চোখের দিকে তাকাতেই গ্লাসটা সাপাট করে ফেলল।। তত্পর রিফাত ড্রয়ার থেকে একটা ওষুধ বের করে ইয়ানার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলল,,,

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

“swallow it.”
“ট্যাবলেট খেতে ভালো লাগে না,,,”
“আচ্ছা,,,, ইনজেকশন দিচ্ছি তাহলে,,, ওয়েট।”
“এই না না না,,,আমি,,,আমি খাচ্ছি।। রাক্ষস লোক একটা।”
শেষের কথাটা আস্তে বললেও তাহ ঠিকই রিফাত এর কান পর্যন্ত এলো,,,”রাক্ষস কি করে জানো তো! মানুষ খায়। আমি খেয়েছি তোমায়,,?”

ইয়ানা ভরকে গেল। এই লোকটা বিড়বিড় শব্দ ও শুনে ফেলে! ইয়ানা কোনো রকম ট্যাবলেট গিলে ফেললো চোখ মুখ কুচকে।। রিফাত উঠে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিলো। ধির পায়ে হেঁটে আবার ইয়ানার সামনে বসলো। মেয়েটার হাত নিজের হাতের মধ্যে নিয়ে নিল খুবই কৌশলের সাথে। ইয়ানা কেপে উঠল,, মূখের অদল লাজুক হলো,, কিছুটা চমকিত হলো বটে,,এই ভাবে রিফাত এর নৈকট্য ইয়ানার ভাবনায় ছিল না ।। রিফাত নিজের জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজালো। ইয়ানার দিকে তাকিয়ে চোখে চোখ মেললো।। ইয়ানা চুপ চাপ বসে রইলো।অন্তর কোণে শনশনে হওয়া বয়ে গেলো। এরই মধ্যে শুনতে পেলো রিফাত এর অত্যন্ত নমনীয় কণ্ঠ,,,,
“জানো ইয়ানা,,,নারী হলো আল্লাহর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। আশরাফুল মাখলুকাতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।।
যদি তাদের দিকে কেউ রুক্ষ নজরে তাকানো কিংবা তাদেরকে বাজে ভাবে ছুঁয়ে দেওয়ায় স্বয়ং আল্লাহ নারাজ হয়।। মেয়েরা হল পবিত্র আর তাদের অববিত্র করার চেষ্টা করলেই রয়েছে কঠিন বিধান,,ভয়ংকর সাজার অধিকারী তারা। ইয়ানা সাহসী বাঘিনী হতে হবে,রুখে দাঁড়াতে হবে,,, মোকাবিলা করতে হবে। তোমার পাশে সব সময় সবাই থাকবে না,,,তাই নিজেকেই নির্ভীক, শৌর্যপূর্ণ হতে হবে। নিজের চোখের পানি সস্তা, নিকৃষ্ট মানুষদের জন্য ফেললে হবে না,,,শক্ত হতে হবে।।

এবার নির্ভয়ে আমায় সব টা খুলে বলো। প্যানিক হবে না,,,আমি আছি।”
হাতের দৃঢ়তা বাড়লো,,, বাড়লো চোখের গভীরতা ও।। কি এক প্রচ্ছন্ন অনুভুতি গ্রাস করেছে দুই নর-নারীকে। একে অপরের কাছ থেকে পালানো দুই হৃদয় আজ ক্লান্ত হয়ে বসে গিয়েছে কোন এক অনুরাগের বটতলায়।। আজ দুইজনেই শান্ত,, কি এক শিথিল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ইয়ান া ফুপিয়ে উঠলো চোখের কোন দিয়ে গড়িয়ে পড়ল বারি বিন্দু।।
তার সামনে বসে থাকা মানুষ,, চোখে গোল ফ্রেমের চশমা, ফর্সা শরীরে কালো টি শার্ট আর ট্রাউজার,,, চাপ দাড়ির সাথে মুখমণ্ডলের সুশ্রী গঠন,, যে এখন তার হাত খুবই দৃঢ়ভাবে ধরে আছে,,, দৃষ্টির গভীরতা তার ওপরেই সীমাবদ্ধ।। তাকে যেন ভীষণ আপন মনে হচ্ছে। মনে হচ্ছে তার সর্ব সুখ এই মানুষটার কাছেই আছে। আজ হঠাৎ অন্তর কোন থেকে আওয়াজ আসছে, যদি তার বাবা বেঁচে থাকতো তাহলে হয়তো এই বিষাদ পরিস্থিতিতে তাকে এই ভাবেই আগলে নিত।। জেদ, অবহেলার, নিষ্ঠাহীনতার বেড়াজাল পেরিয়ে এ কোন কাঠগোলাপ হাতে তুলে নিল ইয়ানা।। হাত উছালো রিফাত খুবই আলতো ভাবে মুছে ফেললো ইয়ানার চোখের পানি। চোখে চোখে আশ্বাস দিল অভয় দিলো,,, বোঝালো আমি আছি।।

রুতবার বাহুতে কেউ ঠেলা মারতে তার হাতে থাকা চকলেট পেস্ট্রি টা গিয়ে পড়ল ইয়ানার নীলাভ গাউনে।। রুদবা পাশে তাকাতেই দেখল এ তো তার স্বয়ং স্বামী দানিশ,,, রুতবা ফুসে উঠলো দানিশের দিকে রাগান্বিত বাক্যে বলল,,,”কি করলে এটা! দেখো আমার হাত থেকে পেস্ট্রিটা পড়ে গিয়ে ইয়ানার কাপড়টা কেমন খারাপ হয়ে গেল।,,, সরি ইনু,,,।”
ইয়ানা সৌজন্যতার খাতিরে মিষ্টি হেসে বলল,,,”ইটস ওকে আপি। আমি কিছু মনে করিনি। এটা ওয়াশ করলেই ঠিক হয়ে যাবে।”
“আচ্ছা চলো আমি যাই তোমার সাথে ওয়াশরুমে তোমার হেল্প করে দেব।”
“থাক না আপি। আমি পারব তুমি দানিশ ভাইয়ের সাথে কথা বলো ,,,আমি আসছি।”

ইয়ানা চলে গেল,,, তার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রুতবা দানিশ এর উদ্দেশ্যে বলে,,,”মেয়েটা কি মিষ্টি তাই না?”
বউয়ের কথা শুনে দানিশ বাঁকা হাসলো একটু এদিক ওদিক তাকিয়ে রুতবার কোমর জড়িয়ে ধরে আলতো কণ্ঠে কানে কানে বলল,,,”সেটা রিফাত বলতে পারবে। আমি শুধু জানি আমার সামনে এখন একটা রসগোল্লার হাড়ি রাখা আছে,,, জাস্ট বাড়ি যাওয়ার অপেক্ষা। তরপর সব ভ্যানিশ।”

লজ্জায় লাল হয়ে গেল রূতবা। তার অসভ্য বর তাকে একটা দিনও লজ্জায় না ফেলে থাকতে পারে না।।
বিশাল ওয়াশরুমে নিজেকে একা পেয়ে অনেক টা ভয়ে আছে ইয়ানা। ওয়াশরুম তাও এত বড়ো,,,কেনো?,,,তার রুম,ব্যালকনি সাথে পাশের আলেয়ার রুম মিলিয়ে এই ওয়াশরুম হয়তো তার থেকেও বেশী বড়ো।। ইয়ানা ভেবেছিল কেও না কেউ তো থাকবেই এই ওয়াশরুমে তাই একা একা আসার সাহস পেয়েছে,,, কিন্তু তার ভাবনা চিন্তাকে ভুল করে দিয়ে একরাশ ভয় নিয়ে এখন সে ওয়াশরুমে একা।। একবার চারিপাশে তাকিয়ে সিঙ্ক এর কল চালিয়ে দ্রুত নিজের কাপড় পরিষ্কার করতে উদ্যোগি হলো ইয়ানা। মনে মনে কলমা দরুদ পড়ে নিজেকে সাহসী রাখার চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু এরই মাঝে ঘটল একটা অপ্রত্যাশিত ঘটনা হঠাৎ করেই পুরো ওয়াশরুমের লাইট অফ হয়ে যেতে ইয়ানা ঘাবড়ে গেল। চমকে এদিক ওদিক তাকাতেই কারোর আলতো স্পর্শ পেল নিজের কোমরে। সিটকে দূরে সরে এলো ইয়ান া, ভয় থরথর করে কাঁপছে সে। জোরে জোরে নিঃশ্বাস ফেলে সামনের মানুষটাকে দেখার বৃথা চেষ্টা করছে,,, কিয়ৎকাল পর শোনা গেলো কারোর কণ্ঠ,,,

“দূরে সরিয়ে দিলেই কি দূরে সরে যাব ইয়ান া বেবি। আমি যদি জানতাম মিস্টার রিফাতের এরকম একটা বিউটিফুল হট কাজিন আছে তাহলে তার সাথে সম্পর্কটা আমি আরো আগেই তৈরি করতাম।। তোমার ঐ আঁকাবাঁকা শরীরে আমার নজর পার্টিতে আসার সঙ্গে সঙ্গে পরেছিল শুধু সুযোগে ছিলাম তোমাকে একা পাবার ,,,পেয়েছি আর ছাড়ছি না এখন কাছে আসো তো দেখি।”
ইয়ানা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হল নিজের সম্বন্ধে এরকম অশ্লীল কথাবাত্রা শুনে কান গরম হয়ে এলো। কান্না করে দিল। ওয়াশরুমের বড় দুই স্লাইডিং জানলা খোলা থাকার সুবাদে বাইরের ল্যাম্পপোস্টের আলো কিছুটা ওয়াশরুমে প্রবেশ করছে। যার দরুন ইয়ানার শুধুই সামনে থাকা মানুষের ঘোলাটে চোখ আর বিশ্রী মার্কা হাসি টাই চোখে পড়ল।।,, ইয়ানা পিছনে যেতে যেতে বলতে লাগলো,,,,
“ক কে আপনি,,,আমায় যেতে দিন প্লিজ।”

সামনে থাকা মানুষটা এবার বিশ্রী ভাবে হো হো করে হেসে উঠলো ইয়ানার দিকে এগিয়ে আসতে আসতে বলতে লাগলো,,,”যেতে দেওয়ার হলে কি আমি এরকম তোমার পিছনে ঘুরঘুর করতাম।”
লোকটা এবার দ্রুত পায়ে হেঁটে ইয়ানার দুই কাঁধ চেপে ধরল। সাথে হিজাবটা টেনে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করল,,, ততপর ইয়ানার দুই বাহু ধরে ঠেসে ধরলে দেওয়ালে নিজের মুখ এগিয়ে নিয়ে যেতে লাগলো ইয়ানার মুখের দিকে। অভিশপ্ত এক পরিবেশের সৃষ্টি হলো। ইয়ানা নিজেকে বাঁচাতে মরিয়া হয়ে পড়ল লোকটার বুকে ঠেশ দিয়ে তাকে সরিয়ে দেওয়ার মারাত্মক চেষ্টায় লিপ্ত হলো।। হয়তো লোকটার ইয়ান এই বিহেভিয়ার পছন্দ হলো না তাই তো নিজের হাতের নখ দিয়ে ইয়ানার কব্জির কাছে কিছুটা আঁচড় দিলো,,, কিন্তু ইয়ানা তাতেও থামল না ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে কোন রকম উপায় না পেয়ে পা উঠিয়ে হাটু দিয়ে লোকটার পেটে স্বজরে দিল এক লাথি।এতে করে কোকিয়ে উঠলো সেই অসাধু ব্যাক্তি। পেটে হাত রেখে ইয়ানা কে ছেড়ে কিছুটা দূরে সরে এলো,,,এই সুযোগে ইয়ানা দৌড়ে ঢুকে গেল পাশাপাশি অনেকগুলো বাথরুমের মধ্যে একটা বাথরুমে।।,,, ইয়ানা কে চোখের সামনে না পেয়ে লোকটা এবার ক্ষিপ্ত ষাঁড়ের মতো প্রতিটা বাথরুমের দরজা ধাক্কাতে লাগলো,, চিৎকার করে ডাকতে লাগল মেয়েটাকে।,,, অন্ধকারের মধ্যে এটা বুঝতে অক্ষম হয় যে কোনটা ভেতর থেকে বন্ধ আর কোনটা বাইরে থেকে।।,,, ইয়ানা দুই হাত মুখে চেপে ধরে। ডুকরে কেঁদে ওঠে,,,শরীর শিউরে উঠছে,,, মোনে মোনে সৃষ্টি কর্তার কাছে নিজের ইজ্জত রক্ষার ভিক্ষা চাইছে,,,খুব করে রিফাত এর কথা মনে পড়ছে। ।,,একটা সময় শোনা যায় সেই মানুষটির মেজাজি আওয়াজ,,,

“শা*,,,, তোর সব গরম বের করবো আজ। এক বার হাতের সামনে পাই,,,সব দেমাগ ছুটিয়ে দেবো।”
মাংসাশী হায়নার মত ওয়াশরুমের এমাথা থেকে ওমাথা পায়চারি করতে থাকে সেই ব্যাক্তি।। প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে নিজেকে সামলে বাথরুমের এক কোনায় পরে থাকে ইয়ানা।।,,, মরুর বুকে বৃষ্টির মত হঠাৎ করে শোনা যায় কারোর কণ্ঠস্বর,,, স্বল্প স্বর।ভালোভাবে যাচাই করতেই বোঝা যায় এটা রিফাত এর আওয়াজ যা বারংবার ইয়ানা কেই ডেকে চলেছে।। ইয়ানা যেনো খুশিতে আত্মহারা হয়,,, দ্রুত গিয়ে বাথরুমের দরজা খুলতে গেলেই আবার সেই ব্যক্তির মৃদু চিৎকারের সাথে কর্কশ কন্ঠ ভেসে আসে,,,,
“তোকে তো আমি পরে দেখে নেবো,,,পালাবি কোথায়!”
কথার সাথে গট গট আওয়াজ মিলিয়ে গেলো,,,হয়তো সেও রিফাত এর আওয়াজ পেয়েছে। ইয়ানা শুকনো ঢুক গিলে,ফুপিয়ে উঠলো। হালকা দরজা খুলে এদিক সেদিক তাকিয়ে কোনো কিছুই না ভেবে দৌড় দেয়।। বাহীরে এসে করিডোরের শেষ প্রান্তে দেখতে পায় রিফাত উল্টো ঘুরে দাড়িয়ে আছে। ইয়ানার জটিলতার বাঁধ ভাঙে। হওয়ার বেগে ছুটে যায় সেই কলঙ্কিত মানুষটির দিকে,,,জাপটে ধরে পিছন থেকে।

দরজায় টোকার আওয়াজ পেয়েই থেমে যায় ইয়ানা।। চোখ, মুখ লাল করে ফেলেছে কাদতে কাদতে। রিফাত এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ইয়ানার পানে। শরীরের প্রত্যেক শিরায় আক্রোশ এর তেজ বয়ে যাচ্ছে।দাতে দাঁত পিষে নিজেকে সংযত রেখেছে। সেই ব্যাক্তি কে সামনে পেলে রিফাত কি করবে তাহ নিজেও জানে না,,,। ইয়ানার কান্না তার সহ্য হচ্ছে না।মেয়েটার উপর দিয়ে এত কিছু বয়ে গেলো আর সে জানতেই পারলো না।,, বুকের মধ্যে তৈরি হলো অসহনীয় ক্লেশ। দ্বিতীয় দফায় দরজায় টোকা পড়তেই রিফাত চকিত হলো,,,কিন্তু ইয়ানা একই রকম ভাবে কেঁদে যাচ্ছে।। মায়া হলো রিফাত এর,,,দুই হাত উচিয়ে ইয়ানার কান সমেদ ঘাড় চেপে ধরলো চোখের পানি মুছিয়ে দিয়ে মেয়েটার কপালে এক শিথিল চুমু এঁকে দিতেই,ইয়ানা বিস্ফোরিত নয়নে রিফাত এর দিকে তাকালো,,,রিফাত অবশ্য সেই দৃষ্টিকে বেশি পাত্তা না দিয়ে বললো,,,

“দরজায় কে দেখতে হবে!,,,ওড়না ঠিক করো।”
ইয়ানা নিজের দিকে তাকাতেই লজ্জায় কুকড়ে যায়,,,রফা দফা অবস্থা তার। তারমানে সে এতক্ষণ রিফাত এর সামনে এই অবস্থায় বসে ছিল,,ইসস।।
চটজলদি নিজের ওড়না মাথায় বুকে পিঠে জড়িয়ে নেয়।।,,, রিফাত একবার ইয়ানার দিকে তাকিয়ে দরজার দিকে এগিয়ে যায় ,,,রিফাত জানে ইয়ানা কোন সময় অমার্জিত ভাবে থাকে না মাথা থেকে ওর না তার খুব কম সময় পড়ে।।,,, দরজা খুলে দিতে দেখে সামনে ইব্রাহিম সাহেব দাঁড়িয়ে আছে,,, অত্যন্ত চিন্তিত মুখে আর কিছুটা হাপাচ্ছে না হয়তো সিঁড়ি ভেঙ্গে উপরে উঠে আসার জন্য এই অবস্থা।,, রিফাত ভদ্রতা সম্পন্ন ভাবে দাদুর হাত ধরে তাকে ভেতরে নিয়ে আসলো।,,, বুঝতে বাকি নেই এত কষ্ট করে সিঁড়ি ভেঙে ওঠার কারণ শুধুই ইয়ানা।।,,
এদিকে ইব্রাহিম সাহেব খুশিতে আত্মহারা তার প্রাণের নাতি আর তার নাত বউ কে একই রুমে একই সাথে দেখে তার যে আর খুশির বাঁধ সয়না।।

মনে মনে আল্লাহকে হাজার বার শুকরিয়া জানানো তাঁর মনোকামনা আজ পূরণ হল।। শুধু চোখ জুড়িয়ে যাবে সেই দিনে যেই দিনে তার নাতির ঘরের ছোট্ট সন্তানের মুখ দেখবে।।,,,
ইয়ানার পাশে বসে তার মাথায় হাত রাখতেই ইয়ানা মাথা তোলে এতক্ষণ লজ্জায় নতজানু হয়ে বসে থাকলেও এখন দাদুর জায়গা দেখে বেশ ঘাবড়ে যায়।।,,, দাদুর দিকে তাকিয়ে চিন্তিত কণ্ঠে বলে,,,
“দাদু উপরে উঠে এলে যে,,,তুমি জানো না তোমার হাঁটুর সমস্যা।”
“ধুর আমি সত্তোরের যুবক। হাঁটুর ব্যথা গেছে তেল নিতে।,,, শুনলাম নাকি আমার ইয়ানা দিদিভাইটার অনেক জ্বর তাকে না দেখে কি আর থাকতে পারা যায়।।,,,”

এক প্রণয় রাত্রি পর্ব ১৪

“আমি ভালো আছি দাদু,,, আলহামদুলিল্লাহ।”
“ভালো তো হতেই হত দিদিভাই।। আমার দাদু ভাইয়ের অক্লান্ত সেবা পেয়ে সুস্থ হওয়ারই কথা।”
ইয়ানা এবার ফট করে রিফাতের দিকে তাকায়,,, যে কিনা এতক্ষন তাদেরই কথা শুনছিল নিরবে দাঁড়িয়ে।। সত্যিই তো কাল রাতে সে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার পর তার যে আর কিছুই মনে নেই।।,,, ইয়ানার মনের কোন ছেয়ে গেল শীতল অনুভূতি আজ মানুষটাকে এতো ভালো লাগছে কেন?

এক প্রণয় রাত্রি পর্ব ১৬