Home এক প্রণয় রাত্রি এক প্রণয় রাত্রি পর্ব ১৭

এক প্রণয় রাত্রি পর্ব ১৭

এক প্রণয় রাত্রি পর্ব ১৭
আসিফা খান

রিফাত এর ভারী,গভীর এবং উষ্ণ নিশ্বাসে ইয়ানা বারে বারে কেপে উঠছে। নিজের পেটের কাছে রিফাতের তন্দ্রায় জর্জরিত মুখখানার দিকে স্নিগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ইয়ানা। তার হাত এখনও রিফাত এর সিল্কি চুলের মাঝে। তখনকার বলা রিফাতের,,,’ বেশ ক্লান্ত আমি,,,আরাম চাই।,,,একটু মাথা টিপে দেবে। ‘ কথা কিছুতেই ফেলতে পারলো না ইয়ানা। রিফাত এর বলার ধরন এতটাই প্রবল ছিল যে ইয়ানার না করার কোনো উপায় ছিল না,,,আর কোথাও না কোথাও তার না বলার ইচ্ছেও ছিল না।।,,,ইয়ানা তখন রিফাত এর হাত ধরে শব্দহীন তাকে রুমে নিয়ে আসে। নিজে বিছানার পাশে বোসে রিফাত কে ঠিক তার পাশেই ঘুমানোর জায়গা করে দেয়,,,রিফাত ও বাধ্য ছেলের মত কথা না বাড়িয়ে বালিশে মাথা রাখে আর মুহূর্তের মধ্যেই অনুভব করতে পারে যে মেয়েটার নরম হাতের ছোটো ছোটো আঙ্গুল ছুঁয়ে যাচ্ছে তার চুলের মাঝে,,, রিফাত অনিমেষ তাকায় ইয়ানার পানে,,,নিজেকে এই মেয়েটা হতে যতই দূরে সরিয়ে রাখার চেষ্টা করছে ততই যেন তার চেষ্টা বিফলে যাচ্ছে। যেমন এখন,,,নিজের ক্লান্তি ভরপুর পুরুষালী দেহের ক্লেশ যেনো এই মেয়েটার সামান্য ছোঁয়াতে কেমন উবে যাচ্ছে।। ব্যাস ক্লান্ত রিফাত নিমিষেই ডুবে যায় ঘুমের সাগরে।

এখন রিফাত এর উপস্থিতি ইয়ানার অসহ্য লাগছে না বরং আজ সারাদিন যখন রিফাত তার আসে পাশে ছিলো না তখন ইয়ানার সহ্যাতীত লাগছিল।।
ঘুমের ঘোরে রিফাত কখন বালিশ ছেড়ে ইয়ানার কোলে মাথা রেখে,পেটে মুখ গুঁজে ইয়ানার কোমর আকড়ে ধরেছে তাহ ইয়ানা ও জানে না,,,তবে ভালো লাগছে। এক আলাদা প্রশান্তি অনুভব করছে মেয়েটা,,, অবশ্য লজ্জায় লাল ও হচ্ছে।
এদিকে মিসেস আসফিয়া আর মিস্টার আফতাব অনুমতি ছাড়াই হুট করেই রিফাত এর রুমে ঢুকে পড়ে,,,”রিফাত আসোলে,,,,,,”

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

কথা শেষ করার আগেই মিস্টার আফতাব সামনে তাকাতেই লজ্জায় পড়ে যায়,,,ছেলে আর বৌমা কে এই সুন্দর অবস্থায় দেখে অসস্তি হয়। মিসেস আশফিয়ার ও একই অবস্থা।,,,আর ইয়ানা,,সে চোখ বড় বড় করে সামনে তাকিয়ে আছে,,,ভেবাচেকা খেয়ে গেছে মেয়েটা,,,লজ্জায় একাকার সে,,মুখ থেকে কথা তার উবে গেছে।।
মিসেস আসফিয়া মেকি হাসি দিয়ে আফতাব মিয়ার হাত টেনে বাহিরে নিয়ে আসে আর রুমের দরজা বন্ধ করে দেয়।,,
“বয়স বাড়লো কিন্তু আক্কেল আর হলো না,,,ছেলে ছেলের বউ এর রুমে কেও নক না করে প্রবেশ করে নাকি,,,”
মিস্টার আফতাব থমথমে মুখে বলে,,,”আমি তো আর অত ভাবিনি,,,”
“ভাববেনা কেনো হ্যাঁ!,,, অধ্ধামরা বুড়ো,,,ইসস মেয়েটা কি লজ্জাই না পেলো,,,”
“তবে যাই বলো আশফু,,,ওদের সম্পর্কের উন্নতি দেখে আমার যে কি খুশি লাগছে তাহ আমি প্রকাশ করতে পারবো না,,,,ইয়ানা কে আমি সুখী দেখতে চাই,, প্রচণ্ড সুখী।”

আশফিয়া ও তার স্বামীর কথার সহমত পোষণ করলো। তারা তো তাদের এই দুই সন্তান কে সব সময় সুখে দেখতে চেয়েছিলেন,,,আর আজ যখন সেই আশা পূর্ণ হতে দেখছে তখন তাদের আনন্দের আর বাঁধ সয়না।
এদিকে গ্লানি ইয়ানা কে চেপে ধরেছে,,,লজ্জায় নতজানু হতে হতে মাথা ঠেকলো রিফাতের প্রশস্ত ললাটের উপর।চোখ বন্ধ করে নিজেকে সামাল দেওয়ার কিছুক্ষন পর চোখ খোলে আর চোখের সামনে ভেসে ওঠে রিফাত এর ঘুমন্ত সুদর্শন চেহারা। এই তন্দ্রার ঘোরে বুদ লোকটা এমনিতেই অনেক রুপবান্ তার উপর যখন মনে হয় এটা তার বর,,তখন যেনো ইয়ানা শিউরে ওঠে যেমন এখন,এই মুহূর্তে লোকটার দিকে পলকহীন তাকিয়ে আছে।একটা ঘোর কাজ করছে,,, কি যেনো মনে করে,,,হাত বাড়িয়ে রিফাত এর সুন্দর চাপ দাড়ি ছুঁয়ে দিতে লাগলো।আপন মনে,কোনো বাঁধন ছাড়াই।

“এতো সুন্দর হতে আপনাকে কে বলেছিল হ্যাঁ?,,,পার্টিতে সব ললনারা চোখে গিলে খাচ্ছিলো আপনাকে,,,,”
“কেনো?,,তুমি কি জেলাস ফিল করছিলে?”
ইয়ানা এবার তড়িৎ গতিতে মাথা তুলে তাকায় রিফাত এর দিকে,,,চোখ বন্ধ তো বন্ধই আছে। ইসস,,তার মানে ইয়ানার সব কথা শুনে ফেলেছে । নিজের কপাল চাপড়াতে মন চাইছে ইয়ানার,,, লোজ্জা নিবারণ করতে গিয়ে তাকে আবারও সেই লজ্জায় পড়তে হবে তাহ জানলে সে এই রুম থেকেই চিরো বিদায় নিতো।,, দক্ষিনা দমকা হাওয়া যেনো ইয়ানার সর্বাঙ্গে জুড়িয়ে দিলো,, , ইয়ানার মনে হচ্ছে,,,কেও মাটি ফাঁকা করে দিক আর সে তার মধ্যে ঢুকে যাক।।,,,এরই মাঝে রিফাত ইয়ানার হাত আবারও নিজের মাথায় রেখে বলল,,,
“ঘুম হালকা আমার,,,খুব নিম্ন আওয়াজে খুলে যায়।,,,ভালো করে মাথা টিপে দাও,,,ঘুমাই।”
ইয়ানা ভ্রু,চোখ কুচকে চোখ বন্ধ করে নার্ভাস হাসি দেয়,,, বাকরুদ্ধ সে,,, নরম গাল দুটো লাল রঙ ধারণ করেছে,,রুদ্ধ নিশ্বাস ফেললো,,,।। তত্পর আবারও রিফাত এর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো।।,,,এই যে রিফাত চাইলেও সরিয়ে আনতে পারলো না নিজেকে মেয়েরা সান্নিধ্য হতে,,,এই রকম অনুভুতির নাম কি দেবে সে!

ওয়াশরুম থেকে ফোনের অনবরত কটু শব্দে বিরক্তি নিয়ে চট জলদি মুখ ধুয়ে বেরিয়ে এলো আতিকা। দৌড়ে গিয়ে ফোনের স্ক্রীন এর দিকে তাকাতেই কপালে ভাঁজ এর দেখা মেলে।,,অচেনা নাম্বার আবার এত রাতে,,,ঘড়িতে তখন ১১ টা বেজে ৫।।,,,রিসিভ করে কানে ফোন রেখে খুবই আলতো কণ্ঠে বলে,,,,
“হ্যাল্লো,,,,কে?”
“তোমার হবু বর,,,কতক্ষন ধরে ফোন করছি রিসিভ করছিলে না কেনো?”
একে তো অচেনা নাম্বার তার ওপর এমন অধিকার খাটিয়ে কথা বলা শুনে আতিকা অবাকের চরম পর্যায়ে পৌঁছে যায়।। তার উপর আবার বলে ‘ তোমার হবু বর’,,,আতিকা এবার কিছুটা শক্ত সুরে বলল,,,,
“কে আপনি না বললে ফোন কেটে দেবো।”
ওপাশের ব্যাক্তি কিছুটা ফিচলে হাসে যা আতিকা বুঝতে পারে,,, ব্যক্তিটি অত্যন্ত নমনীয় কণ্ঠ ধরে বলে,,,”ব্যালকনি তে আসো,,,”

আতিকার কেনো যেনো আর কথা বাড়াতে মন চাইলো না,,,কৌতূহল সৃষ্টি হলো মনে। বিছানা থেকে স্কার্ফ নিয়ে মাথায় আর গায়ে জোড়ায় তত্পর ধির পায়ে হেঁটে ব্যালকনিতে দাড়াতেই তার চোখ যায় সামনে,,,রাস্তার ঠিক ওপাশে সাদা গাড়ির সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে সুঠাম দেহী এক যুবক, গায়ে জড়ানো হুডি, প্যান্টের এক পকেটে হাত গুজে, ঠিক তার দিকেই তাকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে কানে তার ফোন,, এই কুয়াশা আচ্ছন্ন পরিবেশেও মানুষটিকে চিনতে খুব একটা ভুল করল না আতিকা।।,,, চোখে মুখে বিস্ময় ফুটিয়ে বলল,,,
“আপনি, আপনি এখানে কি করছেন ? আর, আর আমার নাম্বার পেলেন কোথা থেকে?”
“হা হা হা,,,, মিস আতিকা টুয়েন্টি ওয়ান সেঞ্চুরিতে দাঁড়িয়ে তুমি বলছো আমি নাম্বার পেলাম কোথায়,,, আর ফার্স্ট স্টেপেই এত বেশি বিস্ময় চোখে মুখে রাখলে এর পরের পদক্ষেপগুলো তো তোমার কাছে বিস্ফোরণের মত।”
ব্যক্তিটির ত্যাড়া কথাতে আতিকা ভালই বুঝতে পারে সে বলবে না তার নাম্বার সে কোথা থেকে পেয়েছে ,,,কিন্তু মনে প্রশ্ন জাগছে একটা না দুটো না অনেকগুলো প্রশ্ন।।,,, আতিকা এবার কিছুটা টনটনে গলায় বলল,,,
“মিস্টার ডক্টর আহিল শেখ,,, এত রাতে একটা মেয়েকে ফোন কোরে আবার তার বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকার ব্যাপার টা কেমন একটা দেখাচ্ছে না?”

আহিল হাসলো ,,,শব্দহীন হাসে তবে আতিকা ভালই বুঝতে পারল লোকটা তার কথা উপহাস হিসাবে নিয়েছে,,, “উম হুঁ,,,, এখন ডক্টর আহিল তো কোন ডক্টর নয়, সে এখন একটা ছেলে শুধুমাত্র একটা ছেলে,, যে কিনা এই শীতের ঠান্ডা কনকনে রাতে লেপের তলায় ঘুমিয়ে থাকার বদলে একটা মেয়ের বাড়ির নিচে দাঁড়িয়ে আছে,,, ব্যাপার সত্যিই অনন্য।”
আতিকা কেপে উঠল,,, আহিল এর কথায় কি যেনো একটা ছিলো।,,, আতিকার এখনো মনে আছে আহিলের সাথে তার প্রথম দেখার কথা,,,
প্রায় ১০-১৫ দিন আগে আতিকা কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার সময় এক বৃদ্ধ ব্যক্তিকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে,,ছুটে যায় আতিকা কৌতূহলবশত লোকটিকে ডাকতে লাগে কিন্তু দেখে সে নিথর, অজ্ঞান।,,, আতিকা নিজের ব্যাগ থেকে জলের বোতল বের করে লোকটার মুখে ছিটালেও কোনো পরিবর্তন ঘটে না। এদিকে আতিকা লোকটা কে ছেরেও যেতে পারছে না,,,মায়া হচ্ছে।।,,

আতিকা অনেকের কাছেই সাহায্য চায় কিন্তু ব্যাস্ত শহরে সবাই অনবসর।,,,শেষে যখন আতিকা আশাহত ঠিকই তখনই তার সামনে এসে হাজির হলো একটা গাড়ি আর সেটা থেকে মেনে আসে আহিল।।,,,
“কি হয়েছে উনার?”
“জানিনা,,,রাস্তায় অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে ছুটে আসি,,,পানির ছিটা ও দিয়েছি কাজ হয়নি,,,প্লিজ একটু হেল্প করুন।”
আতিকার ঘাবরিয়ে যাওয়া কন্ঠ শুনে আহিল নিবিড় চোখে তাকায় মেয়েটার দিকে ততপর এগিয়ে যায় লোকটার কাছে,,,কিছুক্ষন দেখার পর আহিল বলে,,,”ওনাকে ইমিডিয়েটলি হসপিটালে ভর্তি করতে হবে,,, আপনি ওনার কে?”
“কেও না,,,”
আতিকার কথা শুনে আহিল এর বুঝতে বাকি থাকে না মেয়েটার মনে মনুষ্যত্ব বোধ প্রখর তাইতো কোন অচেনা ব্যক্তির কষ্ট দেখে সেও পীড়ারত।। কথা না বাড়িয়ে লোকটিকে নিজের গাড়িতে তুলে নিয়ে আতিকা কেও বসতে বলে। আতিকা ও কথা না বাড়িয়ে নিঃশব্দে বসে যায়।।,,,সামনের এক হসপিটালে সমস্ত ফরমালিটি পূরণ করে লোকটা কে অ্যাডমিড করে দেয় আহিল,,,লোকটির বাড়ির সদস্য কেও জানিয়ে দেয়।।,,,

“কেমন আছেন উনি,,,,?”
আতিকার অস্থির কন্ঠে আহিল হালকা হেসে বলল,,,”ডোন্ট ওরি,,,সব ঠিক আছে।”
“আলহামদু-লিল্লাহ,,, আপনার অনেক ধন্যবাদ,,,আপনি সাহায্য না করলে আজ হয়তো খারাপ কিছু ঘটে যেত।”
“একজন ডক্টর হিসেবে আমি যা করেছি সেটা আমার কর্ম,,,কিন্তু তুমি মনুষ্যত্ব কে প্রাধান্য দিয়ে যা করেছ সেটা অতুলনীয়,,,সরি তুমি কেরেই বললাম,দেখেই বুঝা যাচ্ছে তুমি অনেক ছোট আমার থেকে।”
“ইটস ওকে,,,আপনি ডক্টর?”
“হ্যাঁ, বাবা মার স্বপ্ন পূরণ করতে এখন আমি,,, ডক্টর. আহিল শেখ।”
“আতিকা,,,আতিকা জামান।,,আচ্ছা ,আল্লাহ হাফিজ।”
আতিকা চলে যেতে নিলে আহিল্ এর কথায় থেকে যায়,,,”মিস,,,দুপুর গড়িয়ে বিকেল প্রায় শেষের দিকে ঠান্ডা ও বাড়ছে,,,আমি তোমাকে বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছি,,,ভরসা করতে পারো।”
“কিন্তু।”
“কোনো কিন্তু না ,,,গাড়িতে বসো।”
সাত পাঁচ চিন্তা করে আতিকা সম্মতি প্রকাশ করে।। এই ভাবে হয় তাদের প্রথম দেখা।।
‘.
“আতিকা।”
আহিল এর কণ্ঠে আতিকা বাস্তবে ফিরে আসে।।
জোরে নিঃশ্বাস ফেলে,,,তাকায় সামনের দিকে,,,মানুষ এখনও ঠাই দাড়িয়ে আছে,,,চোখ এখনও তার দিকেই।,,

“নীচে আসো।”
আহিল এর স্বল্প বাক্যে ভীতির স্বীকার হয় আতিকা। শুকনো ঢুক গিলে,,,বলে,,,”কিইই?”
“নিচে আসো আতিকা না হলে এই বান্দা এরকম ভাবেই তোমার বাড়ির নিচে দাঁড়িয়ে থাকবে,,, ব্যাপারটা তখন অত্যাধিক অনন্য দেখাবে।”
“কিন্তু,,,,”
“কোন কিন্তু না,,, এটা ডিসেম্বর মাসের শেষ সময়। কুয়াশাচ্ছন্ন রাতে,, ব্যস্ত মানুষেরা এখন নিদ্রায় নিমজ্জিত।।”
আতিকা চোখ বুজে রুদ্ধশ্বাস ফেলে,,, মানুষটা যাবে না সে বুঝে গিয়েছে তারও যেন মন টানছে এক,,, অদৃশ্য শক্তি আহিল এর কথা মানতে বাধ্য করছে।।
রুমে এসে নিজের ওভার সাইজ হুডি শরীরের জড়িয়ে টুপিটা মাথায় টেনে নেয় ততপর অত্যাধ িক সংগোপনে, কৌশলের সাথে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসে।।,,

আতিকার হেটে আসা দেখে আহিল বাঁকা হাসি দিয়ে ফোনটা পকেটে পুরে নেয় ,,,বুকের মধ্যে কেমন অস্থির লাগছে।।,,, আতিকা নতজানু হয়ে হেঁটে এসে আহিলের কিছুটা সামনাসামনি দাঁড়ায় এই কুয়াশা আচ্ছন্ন রাতে, ফাঁকা রাস্তায় দুই নরনারী অনুভূতি আলাপ করছে।। একে অপরের দ্বিতীয় আলাপে কেমন এক দীর্ঘকালের চেনা জানার চেতনা বার্তা পাচ্ছে।।,,
আহিল দুই পকেটে হাত ঢুকিয়ে এগিয়ে আসে আতিকার দিকে ততপর ঝুঁকে যায় মেয়েটার মুখের কাছে,,গ্লান স্বরে বলে,,,
“পনেরো দিন, আট ঘণ্টা আর তেইস সেকেন্ড আগে এক মেয়ের আলাপ আমার মন ,মস্তিষ্ক আঁকড়ে ধরেছে ,, আমার রাতের ঘুম করেছে হারাম, আমার শান্ত হৃদয়টাকে অশান্ত করেছে, ,,, তার দর্শনায় কাতর চোখ দুটো বিদ্রোহ শুরু করেছে যেনো,,, তাই নীড় ভুলে যাওয়া পাখির ন্যায় ছুটে এসেছি তার কাছে, মেয়ে তুমি বড্ড ভয়ঙ্কর এক দেখাতেই আমার হৃদয় কেড়েছো,,, শাস্তি তোমার কাম্য,,,আজীবন আমার হয়ে যাওয়ার শাস্তি দিলাম তোমায়।”
পুরো শরীর শিউরে উঠলো আতিকার,,,,বয়ে গেলো এক শিহরণ। কেপে উঠলো মস্তিষ্ক,,, রন্দ্র চলমান যেনো। একি নব অধ্যায় উজ্জাপন।। আজ আতিকা আকাশ পানে চাহিয়া বলবে,,,এত মধুর শাস্তি ও হয় নাকি?

সকালের হালকা রোদ চোখে পড়ার সুবাদে রিফাত এর ঘুম ভাঙ্গে।।,,,উপলব্ধি করতে পারে সে কারোর অনেক আছে,,,অত্যাধিক কাছে। যার উষ্ণ গভীর নিশ্বাস তার বুকে আছড়ে পড়ছে,,,একই ব্লাংকেলট এর মধ্যে দুই জন।,,,মূলত ইয়ানাকে নিজের সাথে আষ্টেপৃষ্ট জড়িয়ে ধরে ঘুমাচ্ছে সে,,,এক সেকেন্ড এর জন্য রিফাত এর পুরো শরীর কেপে উঠলো।,,, ইয়ানার ঘুমন্ত চেহারার মোহনীয় রূপের ঝলকানি রিফাতের আঁখিদয় শিথিল করে দিচ্ছে।,,, সুদীর্ঘ কেশ এর অল্পক্ষনেক ঘুমন্ত চড়ুই পাখিকে বিরক্ত করছে,,,রিফাত হাত বাড়িয়ে গাল থেকে চুল সরিয়ে কানের পাশে গুজে দিতেই ইয়ানা হাশপাশ করে ওঠে,,,আর রিফাত সাথে সাথেই উঠে বসে।।
ওয়াশরুমে থেকে গোসল করে বেরিয়ে দেখে ইয়ানা বিছানার ওপরে বসে আলোসি ভাঙছে। ইয়ানা চোখ পিটপিট করে তাকালো ঘড়ির দিকে,,, দেখলো সরে সাতটা বেজে ঘড়ির কাঁটা ঘুরছে সবে। এতো সকালে রিফাত কে গোসল করে রেডি হতে দেখে ইয়ানা অবাক সুরে বলল,,,,

“এতো সকালে গোসল করেছেন,,,আপনার কি শীত করে না?,,,আর এত সকালে পরিপাটি হয়ে কোথায় যাচ্ছেন?”
রিফাত আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে একবার ইয়ানার দিকে তাকালো,,,পাক্কা বউ দের মত কথা বলছে ইয়ানা।,,,তত্পর হাতে ঘড়ি পড়তে পড়তে বললো,,
“নার্সিংহোম যাই,,, ওটি আছে।। আর শীত করবে কেনো,,, গিজার লাগিয়েছি কিসের জন্য,,, স্টুপিড্।”
“এই,,,,আপনি আমায় খালি স্টুপিড বলেন কেনো হ্যাঁ?”
রিফাত তার ল্যাপটপ ব্যাগ নিয়ে ইয়ানার কাছে যায়,,,মেয়েটার মুখের দিকে ঝুঁকে গিয়ে বলে,,,
“আচ্ছা এবার থেকে নির্বোধ বলবো।,,,কলেজ ছুটি হলে ফোন করবে আমায়।”
বলেই বেরিয়ে গেল রিফাত,,,ইয়ানা এদিকে হাবাগোবা হয়ে বসে আছে,,,,অনেকক্ষণ ভেবে চিন্তে মিনমিনে কন্ঠে উচ্চারিত করে,,,
“স্টুপিড আর নির্বোধ কি আলাদা!”

একটা ক্লাস বাঙ্ক করেছে ইয়ানা আর আতিকা।। শেষের বিনা পয়সায় থুতু দানকারি স্যার এর ক্লাস থেকে তারা দুই জন প্রায় বিরত থাকে। স্যার টা কথা বললেই মুখ থেকে গাদা থুতু এসে স্টুডেন্ট দের মুখে পরে তাই তো ছাত্র ছাত্রীরা ভালোবেসে ডাকে ‘ থুকদান ‘ স্যার।।
ক্যাম্পাসে বসে আড্ডা চলছে দুই জনের।।ইয়ানা ননস্টপ বকে যাচ্ছে কিন্তু আতিকা,,, সেতো ব্যাস্ত চ্যাটিং এ,,, আহিল এর সাথে জমিয়ে কথা চলছে তার। নব অনুভুতির জোশ খেলে যাচ্ছে অতিকার মনে,,,ভালো লাগার জোয়ারে ভাসছে সে।। কথায় কথায় আহিল কালকের ঘটনাও বলে দেয় আতিকা কে,,,মানে ইয়ানার সেই রাতের থাকে শুরু করে রিফাতের সেই হিংস্র রূপ,ওই লোকটাকে মারা পর্যন্ত সব।। সব কিছু শুনে আতিকা অবাক,,কারণ তার প্রিয় বান্ধবী এই বিষয়ে তাকে কিছুই যায়নি।।

“ওই আতু,,, কার সাথে চ্যাট করছিস বলতো,,,কতক্ষন ধরে কথা বলছি রেসপন্সই দিচ্ছিস না।”
আতিকা এবার মাথা তুলে ফোন থেকে। খুবই সিরিয়াস ভাবে বলে,,,”ইনু,,,তুই কিছু লুকাচ্ছিস না তো আমার কাছ থেকে।”
“কি লুকানোর কথা বলছিস?’
আতিকা সেই রাতের ঘটনা বর্ণনা করতেই ইয়ানার মুখ ছোটো হয়ে,,,বিষণ্ণ হয়ে বলে,,
“আসলে আতু,,,আমি ঐদিনের কথা ভাবতেই চাইছিলাম না,, তাই আমি আর ওই বিষয়ে কথা বলতে চাইনি।”
আতিকা ও এবার কিছুটা দুঃখ পায়,,,প্রিয় বান্ধবীর অপ্রিয় স্মৃতি আবারও তুলে ধরলো।। আতিকা নতজানু হয়ে বললো,,,”sorry inu,,,”

এক প্রণয় রাত্রি পর্ব ১৬

“বাদ দে,,,,আচ্ছা এই কথাটা তুই জানলি কই থেকে?’
এবার ফেঁসে গেলো আতিকা। আহিল এর কথাটা বলবে কি করে,,,তার তো লজ্জা করে,,, এমনিতেই কাল রাতের কথা ভেবেই মাঝে মাঝেই ব্লাশ করে উঠছে। এরকম টা নয় যে সে আহিল এর কথা ইয়ানা কে বলবে না,,কিন্তু এই মুহূর্তে বলতে চাইছে না,,,সময় বুঝে বলবে। তাই কথা ঘুরানোর জন্য আতিকা বললো,,,
“এই সব ছার,,,তোকে আরো একটা ধামাকা দার কথা বলি,,,,”

এক প্রণয় রাত্রি পর্ব ১৮