এক প্রণয় রাত্রি পর্ব ৪০
আসিফা খান
কেটেছে বেশ গুটি কয়েক দিন। সময়ের স্রোত বাঁধাহীন । ইয়ানার পরীক্ষা শুরু হয়েছে এরই মাঝে। সারাদিনের বেশিরভাগ সময় বইয়ের পাতায় মুখ গুঁজে থাকে মেয়েটা। রিফাত নিজেও স্ত্রীকে গাইড করে। কোন বিষয় বুঝতে না পারলে রিফাত নিজে সময় নিয়ে তাকে বুঝিয়ে দেয়।। পড়াশোনায় গাফিলতি রিফাত এর পছন্দ নয়। পড়ার সময় ইয়ানা খুসখুস করলে রিফাতের কঠিন নজর হতে রেহাই পায়না সে।। দিনের বেশিরভাগ সময়ই নার্সিংহোমে কাটালেও দিনশেষে স্ত্রীর সান্নিধ্য পেতে ভোলেনা রিফাত। ইয়ানা ও হাত বাড়িয়ে কাছে টানে তার স্বামী কে।। তাদের সম্পর্ক এখন আকাশের জ্বলন্ত তারার ন্যায়। রিফাত ইয়ানার পূর্ণ প্রেমিক। রিফাত যেন ইয়ানার সান্নিদ্ধ পেয়ে আরো বেশি বেসামাল হয়ে যায়।
সময়টা প্রায় রাত বারোটার কাছাকাছি। বাহিরে তুমুল বেগে হাওয়াব বইছে। আকাশ মাঝে মাঝে ডেকে উঠছে বিকট শব্দে। সোফার উপরে আদো শোয়া হয়ে তন্দ্রায় নিমজ্জিত ইয়ানা । বুকের উপরে তার বই। এক হাত টি টেবিলের ওপর। পরনে নীল সাদা রংয়ের শাড়ির আঁচল ফ্লোরে লুটুপুটি খাচ্ছে।
এ যেনো এক সদ্য স্ফুটন অপরাজিতা। নিজের ছোট্ট বুকের উপর ভারী ভাব স্পষ্ট হলে ভুরু কুচকায় ইয়ানা,, লম্বা প্রশ্বাস টেনে পিটপিট করে চোখ খুলে।। নাকে আশা পরিচিত এবং মাতাল ঘ্রাণ বলে দিচ্ছে তার অবয়বের উপর অবস্থানরত মানুষটি কে।। প্রথম কিছু মুহূর্তের জন্য বিচলিত হলেও পরমুহূর্তে নিজেকে শান্ত করে হাত রেখে রিফাতের ঘন কালো চুলের মাঝে। তার স্বামী ক্লান্ত। দুপুর দুইটার দিকে ইয়ানার কপালের মধ্যেখানে চুম ু এঁটে বেরিয়েছে মানুষটা আর ফিরলো সবেমাত্র।
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
ইয়ানা তন্দ্রারত কন্ঠে সুধায়,,,”কখন ফিরলেন? ডোর খুললেন কিভাবে! কেউ তো জেগে নেই। আপনি নিশ্চয়ই আমাকে ফোন করেছিলেন। আই এম সরি,, আমি ঘুমিয়ে পড়েছিলাম কখন বুঝতেই পারিনি।”
ইয়ানার এরকম কণ্ঠস্বরে রিফাত মাথা তুলে তাকায়। কারোর কণ্ঠস্বর কি করে এত মোহিত হতে পারে! কিভাবে কিছু মুহূর্তের মধ্যে কারোর হৃদয় পরিবর্তন করে দিতে পারে! রিফাত পারেনা মেয়েটাকে নিজের বুকের মধ্যে ঢুকিয়ে ফেলতে।
রিফাত পূর্ণ নয়নে তাকায় স্বাভাবিক কণ্ঠে বলে,,,
“সরি বলতে হবে না ইনু,,,আমার কাছে এক্সট্রা চাবি ছিল।”
ইয়ানা উঠে বসে। শাড়ি ঠিক করে সোফা ছেড়ে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বলে,,,”আপনি ফ্রেশ হয়ে যান। আমি আপনার জন্য খাবার নিয়ে আসছি।”
ইয়ানা দুই পা ফেলতেই রিফাত তাকে হেচকা টানে নিজের কোলে বসায়।। আঁচল সরিয়ে অধর ছোঁয়ায় গলার কিনারে। সময় নিয়ে ব্যাথাতুর এক চুম্বন এঁকে তাকায় প্রিয়তমার দিকে। ইয়ানা রিফাত এর চশমা খুলে টেবিলে রাখে। তার ঘনো কালো চুলের ভাঁজে হাত বুলিয়ে আরো বেশি এলোমেলো করে দেয় ইয়ানা। দাত বের করে হাসে। রিফাত দেখে মেয়েটা কে। রিফাত মনে প্রাণে বিশ্বাস রাখে যে, ইয়ানার দিকে তাকিয়ে সে শত সহস্রবছর কাটিয়ে দিতে পারবে।।
“ডিনার করবেন না! তাই তো!”
“হুম। ক্যান্টিন থেকে খেয়েছি।”
“ফ্রেশ হয়ে যান তাহলে।”
“এক সাথে ফ্রেশ হই।”
বলেই কুটিল একটা হাসি দিল রিফাত। ইয়ানা চোখ ছোটো ছোটো করে ভ্রু কুঁচকায়। উন্মুক্ত কোমরে হাতের অবাধ্য নৃত্য চলছে। ইয়ানা রিফাত এর গালে আঙ্গুল ছুঁইয়ে বলে,,,”জ্বী না। মাথায় আসা চিন্তা ভাবনাকে গুলি মারুন। আর যান ওয়াশরুমে।”
ইয়ানা একপ্রকার জোর খাটিয়ে উঠে আলমারির দিকে এগায় আর সেই মুহূর্তেই বিদ্যুৎ যায়,সাথে বিকট শব্দে আকাশ ডাকে। চিৎকার করে উঠল ইয়ানা। সে ভয় পেয়েছে। প্রবল ভয়। বিদঘুটে অন্ধকার চারিপাশ। ম্যাচ কাঠির আওয়াজে চৈতন্য ফিরলো। খাটের পাশে রিফাত মোমবাতি প্রজ্বলনে ব্যাস্ত। ইয়ানা ছুটে যায়,,পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে রিফাত কে। রিফাত বাঁকা হাসলো। মম হাতে ঘুরে দাড়ায় সে।
মম বাতির মায়াবী আলোয় প্রেয়সীর ভয়ার্ত চেহারার বর্ণনা কিভাবে করবে রিফাত জানে না! শুধু জানে সে দেখছে পৃথিবীর অনন্য দৃশ্য। এমন দৃশ্য সে আর কোথাও দেখেনি এ জীবনে। অভূতপূর্ব। মোমবাতির হলদেটে আলোয় ইয়ানা কে গোধূলি বধূ লাগছে। তার বৃহৎ আঁখি জোড়া রিফাত এর পানে। খোলা চুল এলোমেলো। দুই হাতে খামচে ধরে আছে রিফাত এর শার্ট। শুকনো ঢোক চিপে রিফাত,,শরীর গরম হয়ে আসছে তার। পরিশ্রান্তি ভাব কেটেছে অনেক আগেই কিন্তু এখন পেয়েছে তৃষ্ণা,,,যা নিবারণ করতে পারে শুধুই ইয়ানা। মোমবাতি ধরে রাখা হাত সামান্য দূরে সরায়,, অতঃপর ইয়ানার খুব কাছে যায়,,,চিবুক ধরে তোলে মেয়েটার মায়াবী অনন অতঃপর নিজে মাথা ঝুঁকিয়ে অধর চুম্বনে লিপ্ত হয়। অধরের অশান্ত সাগরের তলিয়ে যাচ্ছে ইয়ানা। উদ্বিগ্ন,বিশ্রামহীন চুমুতে ঊরু ঊরু ইয়ানা অন্তর। একটা সময় স্থির হয় রিফাত।
ভারিক্কি নিঃশ্বাস টেনে ইয়ানা রিফাত এর দিকে তাকিয়ে বলে,,,”বাজে লোক।”
রিফাত হেসে উঠলো সামান্য,,,”কিছু করার নেই ইয়ানা। এই বাজে মানুষটার সাথেই কাটাতে হবে সারাটা জীবন।”
“এবার কি করবো! কারেন্ট তো গেছে।”
রিফাত গা ছাড়া ভাব নিয়ে বলে,,”ওয়েল,,, করার তো অনেক কিছুই আছে। তোমার মুড আছে কিনা বল।”
রিফাত ঠোঁটকাটা,,প্রচণ্ড রকমের বেলাজ সে কিন্তু তাহ শুধুই ইয়ানার সম্মুখে।
“ছিঃ,,, অসভ্য।”
“আচ্ছা তাহলে চলে যাচ্ছি।”
ইয়ানা ত্বরিত বলে,,,”কোথায়?”
“দেখি যেদিকে দুচোখ যায়।। বউ কাছে রাখবে না বলছে!”
বলে মোমবাতি সহ দরজার দিকে এগিয়ে যায় রিফাত। ঠোঁটের কোণে তার দুষ্টু হাসি। ইয়ানা কে জ্বালাতে তার ভালো লাগে।। ইয়ানা আঁৎকে ওঠে। ঝটপট রিফাত কে। বহু ধরে আটকায়। নাক টেনে বলে,,,,”যাবেন না প্লিজ,,, ভয় করে আমার।”
রিফাত ঠোঁট চিপে পিছন ফিরে তাকায়।
“আমি কি পাবো?”
ইয়ানা ফ্যাসাদে পড়েছে। কি দেবে! কিছুই নেই তার কাছে দেওয়ার মত। এই অন্ধকার কক্ষে মোমবাতির ধিমে আলোয় ইয়ানাকে আরো আবেদনময়ী করে তুলেছে। মেয়েটা কি জানে রিফাত ক্ষনে ক্ষনে বেসামাল হচ্ছে! তাকে সামলাবে কে? তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ছোট্ট হৃদয়ের, চিকন বদনের নারী? বাহিরে কটু শব্দ শোনা যায়।
ইয়ানা তরাগ করে ওঠে। রিফাতের শার্ট ত্বরিত খামচিয়ে বলে,,,”আ আমাকে,,,আমাকে পাবেন।”
ইয়ান া কথাটি বলে মাথা নুয়ে ফেলে। রিফাত দুষ্টু হাসে। সে তো এটাই শুনতে চাইছিল। মেয়েটার কাছ থেকে কিছু চায়না,, সে চায় শুধু মেয়েটাকে। মেয়েটার পুরো অবয়ব কে, মেয়েটার সর্বসত্ত্বা কে।
রিফাত হাত টেনে ধরে ইয়ানার। ব্যালকনির থাই গ্লাস খুলে দিতেই পাগল হাওয়া ছুয়ে দেয় দুই নর নারীকে। হাতে থাকা মোমবাতি নিভু হয়ে আসে কিন্তু নিভে যায় না।। ব্যালকনির মাঝ বরাবর দাঁড়াতে ইয়ানার শাড়ি এলোমেলো হয়ে আসে। রিফাত দেখে এই ভয়ংকর পরিস্থিতির মধ্যেও সাংঘাতিক আরো একজন, তার বউ কে।
“মনে হয় বৃষ্টি হবে।”
ইয়ানা চুলের গোছা সরিয়ে রিফাত এর দিকে তাকিয়ে বলে কথাটি।। রিফাত আলগোছে ইয়ানার কোমর জড়িয়ে ধরে। মৃদু স্বরে বলে,,,
“untimely rain”
ইয়ানা দেখে রিফাত এর আঁখি জোড়া। সেথায় লাগামহীন অনুভূতি। হাত বাড়িয়ে স্পর্শ করে রিফাত এর চাপ দাড়ি। মানুষ টা মাত্রতিক সুদর্শন।
“আপনার এই দাড়ি আমার ভীষণ পছন্দের।”
“অসুবিধায়ও তুমি বেশি পড়ো। সকালে দেখি তোমার গাল,গলা,,, দাড়ির ঘর্ষণে কেমন লালচে হয়।”
“হোক,,,তাও পছন্দের।”
রিফাত খানিক ঝুঁকে গাঢ় কন্ঠে বলে,,,
“প্রেমে পড়েছ?”
“সে তো কবেই।”
“কবে?”
“সময় মনে নেই।”
“আমার মনে আছে।”
“তাই! বলুন তাহলে কবে।”
“যেদিন আমার নামে কবুল বলেছো। উপলব্ধি পরে হলেও প্রেমের শুরু সেখান থেকেই।।”
ইয়ানা মাথা নাড়ায়। সম্মতি জানায়। ঠিকই তো বলছে রিফাত। কিশোরী বয়সে বিয়ে তার। রিফাত তাঁর জীবনের প্রথম পুরুষ এবং শেষ ভালোবাসা।রিফাত কে স্বামী হিসাবে গ্রহণ করার পর আর কিছুই মাথায় আসেনি। প্রথম অনুভূতির সঞ্চার রিফাত। হুট করেই ধরণীর বুকে নেমে আসে মেঘের বুক ভাঙ্গা বৃষ্টি। মুহূর্তেই সিক্ত হলো দুই অবয়ব। নিভলো সেই জ্বলন্ত শিখা। রিফাত ঝটপট বলে,,,
“ভিজে যাবো,,,ভিতরে চলো।”
ইয়ানা ঠাই দাঁড়িয়ে রইলো। ছাড়লো না রিফাত এর বহু, মুঠো ভর্তি খামচে ধরা শার্ট। রিফাত চাইলো তার বোকা প্রেয়সীর পানে। ইয়ানা রিনরিনে স্বরে সুধায়,,,
“ভিজবো আমি। আপনিও ভিজুন না আমার সঙ্গে।”
আবদার,,,এক প্রনয়ময় আবদার। এতক্ষণে বৃষ্টির জলে শাড়ি লেপ্ট ে বসেছে ইয়ানার মেদহীন ওঠানামা শরীরের। স্পষ্ট হয় মেয়েলি কাঠামোর প্রত্যেক অঙ্গ। লম্বা কেশ ভিজে আটকে রইলো ইয়ানার বুকে,পিঠে। কিছু চুল ঝুলন্ত অবস্থায় ইয়ানার কপালে,, তা থেকে পানি চুয়ে চুয়ে পড়ছে গলায় এবং গলা থেকে আরো নিচে। রিফাত শুকনো ঢেঁকুর গেলে। দৃষ্টি তার নিষিদ্ধ। আকাঙ্ক্ষা ও তার বৃহৎ।। রিফাত নিজেও ভিজে একাকার। দীর্ঘ, প্রশস্ত শরীরচর্চার কারণে পেটানো তার দেহ ভারী অ্যাট্রেক্টিভ।। ইয়ানা ঠান্ডায় কেপে উঠছে মাঝে মধ্যে। বিকট শব্দে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে ক্ষণে ক্ষণে।। রিফাত মাতাল হচ্ছে। মনে জাগ্রত তার আকাঙ্ক্ষাকে দূরে ঠেলার চেষ্টা করছে সে। ইয়ানার পরীক্ষার কারণে সে ইয়ানার সান্নিধ্য হতে দূরে আছে।। ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত পার করিনি বেশ কিছুদিন।। কাল ইয়ানার পরীক্ষা কোনরকম ভাবে সে ভুল করতে চায় না। তাই কন্ঠে দৃঢ়তা এনে বলল,,,
“শরীর খারাপ করবে না!? ভেতরে এসো, রাত বাড়ছে ঘুমাবে।।”
“যাবো না। আপনি যান”
জেদ চেপে ধরলো ইয়ানা কে। বৃষ্টি তার পছন্দের। অনেকদিন পর বৃষ্টিবিলাসের সুযোগ পেল সে কোন রকম ভাবেই হাতছাড়া করবে না।। আচানক শব্দ হয়। যেনো কোথাও বাজ পড়লো। ইয়ানার আত্মা বের হওয়ার উপক্রম। দিক বেদিক শূন্য হয়ে ঝাপটে ধরে রিফাতকে। থরথর করে কাঁপছে তার শরীর।
রিফাত যেনো হুস হারালো। ভয় কাঁপতে থাকা নারী কে টেনে নিজের সত্তায় মিশিয়ে ফেললো। ইয়ানা ছুটতে চাইলেও পারলো না। রিফাত বিভোর তার প্রণয়িনীর মোহে। এতক্ষণে সংযম ভঙ্গুর হলো গম্ভীর পুরুষ এর। ধরণীতে তখনও বৃষ্টির মেলা। সব ভাসিয়ে দেওয়ার চেষ্টা।। হরতাল বাঁধে মস্তিষ্কে।
নিজ পুরুষালি শক্ত বুকের সহিত আগলিয়ে তোলে ইয়ানা কে। আকস্মিক কর্মে গলা জড়িয়ে ধরে রিফাত এর। ইয়ানার নরম বুক খানা শক্ত বুকে লেপ্টে গেলো,মিশে রইলো।। ইয়ানার অনুভূতি খলখল করে উঠলো। সময়ের সামান্য ব্যবধানে অনুভব করলো নিজের গলার ভাঁজে উত্তপ্ত চুম্বন। ইয়ানা আঁকড়ে ধরে রিফাত এর ঘাড়ের কাছের চুল। খেই হারায় রিফাত। প্রকৃতির শীতলতার মাঝে ইয়ানার দেহের গরম আবহ যেন রিফাতকে আরো উত্যক্ত করে তুলছে। ইয়ানার গালে চুমু দিয়ে নাক ঘষে। গম্ভীর মোলায়েম কন্ঠে বলে,,,
“আমি নিয়ন্ত্রণ করে রেখেছিলাম কিন্তু তুমি আমায় বেকায়দায় ফেললে, আমার দোষ নেই।।”
ইয়ানা শুকনো ঢুক চিপে। রিফাত এর আচরণ পরিবর্তন হচ্ছে ধীরে ধীরে।।
“নামিয়ে দিন আমায়,,, আ..আমি ঘুমাবো। প্রমিজ,,,।”
রিফাত আলগাছা চুল সরিয়ে নরম কানের লতিতে দন্ত বাসায়। স্বাদ নেয় আপন নারীর। এ নারী সুধা। ইয়ানা কে নিয়ে রুমের দিকে যেতে যেতে বলে,,,
“উম হু,,, ঘুমানোর কথা আমাকে প্রভোক করার আগে মনে রাখা উচিত ছিল।। প্রথমে শাড়ি পড়ে আর দ্বিতীয় বৃষ্টির মাঝে আমার কথা না শুনে। দোষ তোমার,,, শাস্তি তুমি পাবে।”
অধরের মালিকানা হারায় ইয়ানা। অধরের নতুন নৃত্য ভঙ্গি। ইয়ানা পারেনা এই ভালোবাসা সামাল দিতে। রিফাত প্রতিবার ইয়ানা কে প্রনয়ের নতুনত্ব লেসন এর সাথে পরিচয় করায়। শাড়ীর অবস্থা নাজুক ইয়ানার। সিক্ত তুই নর নারী। ইয়ানার অধর জ্বলে। রিফাত কে আঁকড়ে ধরে ভারিক্কি নিঃশ্বাস ফেলে বলে,,,
“এত অশান্ত হবেন না রিফাত।”
বিছানার চাদর ভিজে যায় হালকা। উন্মুক্ত অবয়বে বিরাজ করে আপন পুরুষের আধিপত্য। বেসামাল,বেপরোয়া হাতের স্পর্শ। ইয়ানার অস্পষ্ট শব্দ করে। তার সমস্ত কায়া যেনো দুলছে। প্রণয়ের চূড়ান্ত আলিঙ্গন সহ্য করে। প্রিয় মানুষের সান্নিধ্য আনন্দদায়ক,,,সৌভাগ্য।
বিবস্ত্র বক্ষ বন্ধনী এবং সারা বদনে গরম ভাব স্পষ্ট আনুভব করলে তড়াক করে চোখ খোলে ইয়ানা। নিজের অবয়বের উপর অবস্থানরত মানুষটি মৃদু কাপছে। বুঝতে বাকি নেই রিফাত এর জ্বর এসেছে। তীব্র জ্বর। ইয়ানা হুস হারায়। ঝট করে ওঠে ইয়ানা। রিফাত এর শরীর থেকে ভেসে আসা গরম ভাব বলে দিচ্ছে তার জ্বরের মাত্রা। ইয়ানা নিজ হাতের উল্টো পিঠ ছুঁইয়ে দেয় রিফাত এর ললাটে। ছ্যাক করে ওঠে সেথায়। ইয়ানার চোখ জ্বলে ওঠে। কোনরকম কান্না আটকিয়ে কাপড় জোড়ায় শরীরে। বিছানা থেকে নামার উদ্যোগী হতেই হাতে টান পরে,,,রিফাত বির বির করে উচ্চারণ করে,,,
“যেওনা,,,কোথাও।”
ইয়ানা কাপা কাপা কন্ঠে বলে,,”যাচ্ছিনা কোথাও। এখানেই আছি। আপনার জ্বর এসেছে রিফাত,,,”
কণ্ঠনালী কেঁপে যাচ্ছে অনবরত। বেড সাইড টেবিলে হাতড়িয়ে হার্মমিটার নিয়ে রিফাত এর জিহ্বার তলায় রাখে। তার মাথার কাছে বসে হাত বুলিয়ে দেয় চুলের ভাঁজে। মিনিট অতিক্রম হতে থার্মোমিটার হাতে তুলে নেয়,,,, ঝাঁকিয়ে চোখের সামনে আনতেই দেখে ১০৩ জ্বর। ইয়ানা ঠোঁট কামড়িয়ে ধরে। চোখের কোণ বেয়ে গড়িয়ে পড়ে নোনা পানি।।
“আল্লাহ এত জ্বর! আমার জন্য হয়েছে। আমি যদি তখন জিদ না করতাম তাহলে হতোনা এমন কিছু।।”
ইয়ানা প্রথমে টাওয়াল ভিজিয়ে আনে। বলিষ্ঠ দেহের রিফাত এর শরীর মুছিয়ে দেয় কসরত করে।
অতঃপর জলপট্টি দিতে থাকে। সময় পারায় চল্লিশ মিনিট এর উর্ধে । বাহিরে তখন নিস্তব্ধতা। ভোরের আলো ফোটার মুহূর্ত। ধরণী চুপ চুপে। সময় ঘড়িতে সাড়ে তিনতে। এবার হয়তো আধা ঘণ্টা পরেই ফজরের আজান দেবে। রাত প্রণয়ময় কেটেছে, তাদের গোসল করা জরুরি। রিফাত এর জ্বর আগের তুলনায় কম হলেও শরীরে অগ্নিতাপ বিদ্যমান। ইয়ানা দেরি না করে নিজে দশ মিনিট এর মধ্যে গোসল সেরে বেরিয়ে আসে। এবার ইয়ানা রিফাত এর ঘুম ছুটাতে রিফাতের মাথায় গালে হালকা চাপড় মেরে ডাকতে থাকে,,,
“রিফাত উঠুন। গোসল করতে হবে তারপরে ওষুধ খাবেন। উঠুন প্লিজ।”
রিফাত টেনে টুনে নিজের চোখ খোলে। বিছনায় উঠে বসে। ইয়ানার দিকে তাকিয়ে নিভু নিভু চোখে অসুস্থ স্বরে বলে,,,”বেশি জ্বর ইনু!?”
“হুম,,,আগে উঠুন।”
ইয়ানা সাহায্য করে রিফাত কে। কিন্তু এই সুদীর্ঘ,বলিষ্ঠ দেহের রিফাত কে কি ইয়ানার মত চুনোপুটি সামলাতে পারে!? নাহ পারে না। তীব্র জ্বরের ঘোর এবং ক্লান্তিতে রিফাত নিজের দেহের বেশিরভাগ ভার ছেড়ে দেয় ইয়ানার চিকন কাঁধের উপর।। কোনরকমে রিফাতকে ওয়াশরুমে নিয়ে যায়। ইয়ানা নিজেই রিফাত কে গোসল করাতে সাহায্য করে। ৫ মিনিটের মধ্যে গোসল ছেড়ে ইয়ানা রিফাতের হাতে তাওয়াল দিয়ে বাহিরে আসে। রিফাতের টি-শার্ট, ট্রাউজার সমস্ত কিছু বিছানার ওপরে রাখে।। আবার ওয়াশরুম থেকে রিফাতকে রুমে আসতে আগলিয়ে ধরে।
ইয়ানা মুখের সামনে ট্যাবলেট ধরতে চোখ মেলে তাকায় রিফাত। গভীর নয়ন লাল আভায় জর্জরিত।কোনমতে ট্যাবলেট গিলে রিফাত। ইয়ানা কপালে হাত রেখে তাপমাত্রা বোঝার চেষ্টা করলে দেখে জ্বর অনেকটাই সেরেছে।
“আপনার বৃষ্টির পানিতে জ্বর ওঠে,,,আমি জানি কথাটা,,তাও তখন বুঝে উঠতে পারিনি। বেশি খরাপ লাগছে।”
রিফাত মৃদু হাসে ইয়ানা কে জড়িয়ে ধরে কাধে মাথা রেখে বলে,,,”আই এম ফাইন। ভালোই হয়েছে জ্বর হয়ে না হলে এরকম বউয়ের সেবা পেতাম কিভাবে! এরকম সেবা পেলে তো আমি রোজ জ্বরে পড়তে রাজি।”
“বাজে কথা রাখুন।। খাবার নিয়ে আসি আপনার জন্য,,,দুর্বল লাগছে আপনাকে।”
“দুর্বল!? সিরিয়াসলি ইনু! সামান্য জ্বরে কেউ দুর্বল হয়!”(অথচ কন্ঠে ব্যায়রামী ভাব)
“হয়,,,আমি নিয়ে আসছি কিছু।”
ইয়ানা, যেতে নিলে রিফাত আঁকড়ে ধরে আরো বেশি করে।।
“এই আমি ডক্টর না তুমি ডক্টর হ্যাঁ! সেবা করবে প্রপার ভাবে করো। আমার যদি কিছু দরকার লাগে সেটা হল,, আ লং কিস। জাস্ট কিস মিঃ।”
রিফাতের কন্ঠ কেমন জড়িয়ে আসছে।জ্বরের ঘোরে, কি ভুলভাল বকছে!? ইয়ানা পরে ফ্যাসাদে।
সে নিজের থেকে কখনোই রিফাত কে কিস করেনি
তাই নার্ভাস সে। এদিকে রিফাত এর মাতাল চাহনি দেখে ইয়ানা শুকনো ঢুক চিপে,,,মেয়েটা বোঝে রিফাত যা বলেছে সেটাই চাই তার।। ইয়ানা জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজায়। কিছু করার আগেই চারি দিক থেকে ভেসে আসে আজান এর সুমধুর ধ্বনি। ইয়ানার জানে জান আসে। সস্থির এক নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। রিফাতের দাড়ির ভাজে হাত বুলিয়ে বলে,,,,
“নামাজ পড়বো। আপনি পারবেন?”
রিফাত মাথা নাড়ায় অতঃপর দুইজন একসাথে ফজরের নামাজ আদায় করে । মোনাজাত দীর্ঘ হয় ইয়ানার। রিফাতের সুস্থতা তার একান্ত কাম্য এই সময়। ঘুমানোর সময় রিফাত জড়িয়ে ধরে ইয়ানাকে। গলায় মুখ খোঁজে কামিজের আড়ালে হাত রাখে। ইয়ানা ঘাড়ে পিঠে হাত বুলিয়ে দেয় রিফাতের। একটা সময় দুজনের তন্দ্রার ঘোরে নিমজ্জিত হয়ে ডুবে যায় আখি।।
মাথায় হিজাব বেঁধে শেষ পিন লাগায়। সাদা সিম্পল গাউন এর সাথে হালকা পিংক রঙের হিজাবে ইয়ানা কে অতি আদুরে লাগছে।। কাঁধে ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার আগে রিফাত উঠে বসে। রাতে রিফাতের আবারো জ্বর এসেছিল তাই ঘুম থেকে উঠতে আজ বেশ ভালোই দেরি হয়েছে। ইয়ানা নিজেও ডাকতে চাইনি। ভেবেছে আজকে রিফাত রেস্ট করুক বাড়িতে। কিন্তু এই বান্দা তো উঠে পড়ল! ইয়ানা কে রেডি দেখে বিছানা থেকে ঝটপট নেমে দাঁড়ায়,,,
“গিভ মি ফাইভ মিনিটস। আমি রেডি হয়ে আসছি।”
“আপনি কোথায় যাবেন!?”
“পরীক্ষা না তোমার?”
“হ্যাঁ,,,কিন্তু আমি একা চলে যেতে পারবো,,,”
“কোন দরকার নেই । আমার সাথে যাবে তুমি।”
“কিন্তু,,,”
“বেশি বুঝো হ্যাঁ! একবার বললাম তো আমার সাথে যাবে।”
কথাটি বেশ ধমক দিয়েই বললো রিফাত। ইয়ানা চমকে উঠে সরে দাড়ালো। অভিমান জাগলো মনে।
৫ মিনিটের মধ্যে রিফাত প্যান্ট শার্ট পরে রেডি হয়ে গাড়ির চাবি পকেটে নিয়ে,, ইয়ানার হাত ধরে।। ইয়ানা ঝাড়া দিয়ে হাত সরিয়ে নেয়। রিফাত রুদ্ধ শ্বাস ছেড়ে বলে,,,
“আমি ফাইন ইনু। আমি জানি তুমি আমার কথা ভেবে একা যেতে চেয়েছো,,, কিন্তু আমি তো ঠিক আছি।”
“আজ সকাল পর্যন্তও আপনার শরীর গরম ছিল আর আপনি বলছেন আপনি ঠিক আছেন!?”
“আচ্ছা বাবা আমি ঠিক নেই,,,খুশি! এবার চলো লেট হয়ে যাচ্ছে।”
“প্রচুর বাজে আপনি।”
“জানি আমি। পৃথিবীর প্রতিটা স্বামী তাদের বউয়ের কাছে বাজেই থাকে।”
“নাস্তা করেননি আপনি?”
“বাহিরে করে নেবো।”
রিফাত আবারো ইয়ানার হাত ধরতে নিলে ইয়ানা নিজের হাত দুটো পিছনে করে বলে,,,”কথা বলবেন না। ধরবেন না আমায়।”
এবার রিফাত এর চোয়াল শক্ত হয়। এক ঝটকায় ইয়ানা কে নিজের সাথে মিশিয়ে মুখ নামিয়ে কানের কাছে ফিসফিস করে বলে,,,
“আমার থেকে নিজেকে দূরে সরাতে চাইছো! পারবে না,,,বৃথা চেষ্টা তোমার।”
কলেজের সামনে এসে গাড়ি থামতেই ইয়ানা গোমড়া মুখে দরজা খুলে বেরিয়ে যাওয়ার আগেই হাতে টান পরে তার। পিছন ফিরে দেখে রিফাত তার দিকেই তাকিয়ে আছে। ইয়ানা ইনিয়ে বিনিয়ে বলে,,,
“ছাড়ুন।”
“রাগ ভাঙ্গতে পারি না ইনু,,,শিখিয়ে দেবে!?”
ইয়ানার মন গলে। সে পারে না রিফাত থেকে রেগে থাকতে। মানুষটার কথা এত স্পষ্ট কেন! কেন মানুষটা এত বিচক্ষণ! রিফাত একপ্রকার ইয়ানা কে টেনে নিজের বুকের বা পাশে জড়িয়ে ধরে। নিজ দায়িত্বে বউ এর দেহশ্রী আঁকড়ে ধরে বুক মাজারে।ইয়ানা শোনে রিফাত এর হৃদস্পন্দন। তীব্র হৃদস্পন্দন। কারো হৃদস্পন্দন বুঝি এত মধুর হয়! রিফাত এর শরীরের স্মেল টানে প্রাণ ভোরে।রিফাত হিজাবের ওপর থেকেই ঠোঁট ছোঁয়ায় বউ এর মাথায়। বিমহী কন্ঠে বলে,,,
“মানুষের যেরকম ঠোঁট দিয়ে কথা বলে, নিজেদের ভাব প্রকাশ করে,,ঠিক একই রকম ভাবে তাদের চোখ ও কথা বলে। কখনো যদি আমার মুখের ভাষা বুঝতে অসুবিধে হয় তাহলে আমার চোখের ভাষা পড়ে নিও।।”
রিফাত কিছুটা থেমে আবারও বলে,,,”চোখ মনের আয়না।। চোখের ভাষা তারাই বোঝে যারা হৃদয়ে স্থান রাখে।”
ইয়ানা শোনে শুধুই। বুক থেকে মাথা তুলে রিফাত এর দিকে তাকাতেই,,,রিফাত বলে,,,”কি শুনলে! কি বলছে বোবা মন?”
ইয়ানা হালকা হেসে বলে,,,”টপ সিক্রেট।”
“তাই!”
“ইয়েস,,,মিস্টার রিফাত।”
রিফাত ঠোঁটে ঠোঁট চেপে মাথা নাড়ায়। অতঃপর ইয়ানার হাতের পিঠে দীর্ঘ চুমু দিয়ে বলে,,
এক প্রণয় রাত্রি পর্ব ৩৯
“রেগে চলে গেলে এই আদর গুলো মিস হয়ে যেত না!?”
লাজে রাঙা হয় ইয়ানা। নাজুক হয়ে মুখ নামায়।রিফাত বলে,,,
“মন দিয়ে পরীক্ষা দেবে,,,আমি অপেক্ষা করবো।”
“শরীর বেশি খারাপ লাগলে মেডিসিন খাবেন।”
“জ্বী,,,, মাই পার্সোনাল ডক্টর।”
