Home এক রহস্যময় ভালোবাসা এক রহস্যময় ভালোবাসা পর্ব ৪৫

এক রহস্যময় ভালোবাসা পর্ব ৪৫

এক রহস্যময় ভালোবাসা পর্ব ৪৫
Chadny islam

নতুন সকালের মিষ্টি আবহাওয়া! রাতে প্রচুর পরিমানে ঝড় বৃষ্টি হয়েছে।বাইরের তাপমাত্রা এখন বেশ ঠান্ডা!সেই এখনো কিছুটা টুপটুপ আওয়াজে বৃষ্টি পরছে।
সিকদার বাড়িতে সবাই মিলে এক সাথে সকালের নাস্তা করছেন। অহনা সিকদার কালকে থেকে খিপ্ত মেজাজে নিয়ে আছেন! আদিল এর উপর ভিষণ ভাবে রেগে আছেন। কতটা ডিসেপ্রিল্ন হলে ফ্যামিলিতে ফোকাস না করে,কাজে ঠিক কতটা ফোকাস করে একদম বাবার মতোন। এর জন্য অহনা সিকদার বার বার চেয়ে ছিলেন যেনো আদিল অনন্ত রাজনীতিতে জড়িয়ে পরুক! কিন্তু কে শুনে কার কথা কোনো ভাবে আটকাতে পারেনি তিনি৷আজ হয়তো সেই জন্যই বাইরের পেসার সামলাতে না পেরে বাড়ির কথা এবং বাড়ির মানুষ এর কথা সব কিছু ভুলে যায়।সেই সাথে নিজের পারসোনাল লাইফের!

গায়ে কম্ফোর্ট জড়িয়ে বেশ কাছাকাছি একে অপরের সাথে আষ্টে পিষ্টে জড়িয়ে সুয়ে আছে আদিল এবং ইরা! ইরা কাচুমাচু হয়ে জড়িয়ে আছে আদিল এর শক্ত বাহু ডোরে। আদিল নিজের ছোট বউ টাকে বুকের সাথে মিশিয়ে দিয়ে সুয়ে আছে সেই গভীর রাত থেকে।এখন বেশ অনেক টাই সকাল হয়ে গেছে।সারা রাত এক ফোটা ও ঘুমাতে দেয় নি আদিল ইরা কে! নিজের উন্মাদ ভালোবাসা দ্বারা প্রভাবিত করে তুলে ছিলো বার বার।আদিল কিছু মিনিট যাবত ঘুম থেকে ওঠেছে,এবং গভীর দৃষ্টিপাত করে তাকিয়ে আছে ঘুমন্ত ইরার দিকে।যার লম্বা চুল গুলা ছড়িয়ে আছে এদিক সেদিক এলোমেলো হয়ে।আদিল আলতো হাতে চুল গুলো কে একপাশ থেকে আরেক পাশে রেখে কপালে বাজে শব্দ করে একটা চুমু খেয়ে নিলো। তার পদক্ষেপ চুমু টা ঠোঁটে দিবে ঠিক তার আগ মূহুর্তেই ইরা আদিল এর ঠোঁটের উপর আঙুল চেপে খিদখিটে মেজাজ দেখিয়ে বললো!!

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

____সরকারি মাল পাইছেন! যখন তখন ডিস্টার্ব করেন!আগে আমাকে ঘুমাতে দেন৷
আদিল মূহুর্তেই কপাল কুঁচকে ফেললো এবং সিরিয়াস হয়ে বললো!!
____আমার বউ কোনো সরকারি মাল নয়!তুমি হলে আমার ব্যাক্তিগত মাল! আর হ্যা আজকে থেকে ঘুমানোর স্বপ্ন টা বরং ভুলে যাও। আজ রাত থেকে তোমার স্পেশাল ট্রেনিং শুরু হবে।
ইরা কপাল কুঁচকে ফেললো!!
____কিসের ট্রেনিং আমি আপনার কাছে কোনো পড়াশোনা করবো না!
আদিল বলল!
___স্পেশাল ট্রেনিং বউ!এই ট্রেনিং স্বামী ছাড়া অন্য কেউ শেখাতে পারবে না!

দরকার নাই কোনো ট্রেনিং এর! ইরা মুখ বাঁকিয়ে, বিছানা থেকে ওঠে যাওয়ার ব্যার্থ চেষ্টা করতে লাগলো! গায়ে পরিহিত আদিল এর লং টিশার্ট! রাতে সাওয়ার এর পর অতিরিক্ত ঠান্ডায় শরীরের কাঁপা-কাঁপি শুরু হয়ে গিয়েছি! তাই আদিল হাতের কাছে থাকা নিজের টিশার্ট টি ইরা কে পরিয়ে দদিয়ে ছিলে।ইরা বিছানা থেকে উঠতে চাইলে, ঠিক তখনি টনটন ব্যার্থার অনুভব করতে পাই!গত রাতে স্বামীর মাএাএিক ভালোবাসায় তার শরীরের এই হাল! ইরা অল্প অল্প করে চেষ্টা করে বিছানা থেকে নেমে যাওয়ার,কিন্তু দূর ভাগ্য বসত চলাচল তো দূরেই থাক ঠিক মতোন দাঁড়াতে পর্যন্ত পারছে না। আদিল দূত উঠে আসে ইরা কে হেল্প করতে।তাই দেখে ইরা রাগে রিরি করে উঠে দাঁতে দাঁত পিসে কিরমির করে বলে উঠলো!!

____অতিরিক্ত ভালোবাসা দেখাতে হবে না আমাকে! রাতের কথা আমি এখনো ভুলে যায় নি! সব দুষ আপনার! ছি কি বাজে আপনি!!
বলেই ইরা দূত বিছানা থেকে নেমে যেতে চাইলে, তখনি ধপাস করে ফ্লোরে বসে পরে। সত্যি ব্যাথা টা বেশ! ইরার এমন নাজে হাল অবস্থা দেখে আদিল ঠোঁট কামড়ে নিজের হাসি সংবরন করে বললো!!
____হেল্প লাগবে মুখে বললেই পারো! নাটক করছো কেনো??
ইরা শক্ত গলাই বলে উঠলো!!
____সব দুষ আপনার!! বাজে লোক একটা! এখন বেশ মজা নেয়া হচ্ছে তাই না!
আদিল আর এক সেকেন্ড ও দাড়ালো না! বরং ফ্লোর থেকে ইরা কে কোলে তুলে নিয়ে এগুলো ওয়াশ রুমের দিকে।ইরা ফ্রেশ হয়ে নিলো সাথে আদিল নিজেও! ওয়াশরুম এর ছোট একটা মিরুরে বেশ ভালো ভাবে লক্ষ্য করলো ইরা, আদিল এর গাড় সহ মুখে বেশ কিছু আঘাত এর দাগ। দাগ গুলো যে নখের তা একদম স্পষ্ট! ইরা লজ্জায় মাথা নত করে ফেললো!ইরা ভাবলো,যদি কেউ এমন ভাবে দেখে আদিল কে তখনি কি ভাববে সবাই ইরা কে! ছি, ছি কি করছে স্বামীর মুখ সহ ঘাড়ে! ইরা কে এমন ভাবে মাথা নত থাকতে দেখে আদিল কোমর চেপে গাড়ে আলতো চুমু খেয়ে বললো!!

____স্বামী কে আড্রেস-এ দেখে যদি নিজেকে কন্টোল করতে না পারো, তাহলে স্বামী কে জানাও! আই আম সিউর, সে মাইন্ড করবে না!
ইরা কপাল কুঁচকে বললো!!.
____তাহলে আপনি কে??
“””হয়তো তোমার স্বামীর ভুত!
“”তাহলে ছাড়েন! আমার স্বামী আমার পাশে ভুত কেনো বাতাস কেও সহ্য করবে না! আপনাকে তো সোজা উপরে পাঠানোর টিকিট দরিয়ে দিবে হাতে ।
“”স্বামীর প্রতি এত কনফিডেন্স ভালো না ম্যাডাম!
“”কেনো??
“”পুরুষ মানুষ কিন্তু ভালো মানুষ হয় না ম্যাডাম!
“”যদি পুরুষ টা স্বামী রুপে হয় ঠিক তখন??
“”অসাধারণ!
“”আর স্বামী রুপে কেমন!
আদিল ইরা কে কোলে তুলে নিয়ে বিছানার দিকে এগতে এগতে বলে উঠলো!!

____সেই! প্রমাণ চাই তোমার??
ইরা শক্ত গলাই বলে উঠলো!!
____না না! আর কোনো প্রমাণ চাই না আমার!
আদিল হাত দিয়ে নাক ঘসতে ঘসতে বলে উঠলো!
____আর এক বার!!
ইরা এক লাফে বিছানা থেকে সরে গিয়ে দাঁতে দাঁত খিসে বলে উঠলো ‌!!!
____অসভ্য লোক! মেরে ফেলবেন নাকি??
আদিল ঠোঁটে ঠোট কামড়ে হেসে ফেললো! আর বললো!!
____স্বামীর আদরে কেউ মরে না জান!
আদিল এর ফোনে একটা টেক্সট আসতেই! আদিল ইরার থেকে মুখ ঘুরিয়ে ফোকাস করলো ফোনে!যেখানে “রিজ লুমান” লিখে পাঠিয়েছে!
____আমি রেস্টুরেন্টে ওয়েট করছি ইমিডেটলি চলে আই!
আদিল ছোট করে রিপ্লাই করে জানায়!

___ওকে!
আদিল ইরা কে উদ্দেশ্য করে বললো!
____সব মান অভিমান এর পালা শেষ হলে এবার তো দয়া করে বাড়ি চলেন!
তৎক্ষনাৎ ইরার মনে পরে যায়,সে তো খুব করে রেগে ছিলো আদিল এর উপরে। তাহলে কালকে কি এমন হলো হঠাৎ করে সব রাগ মূহুর্তেই বিলিন হয়ে গেলো। ইরা দীর্ঘ শ্বাস টেনে তাকিয়ে থাকে আদিল এর দিকে। তাই দেখে আদিল গম্ভীর মুখে বলে উঠলো!!
____তাড়াতাড়ি চলো! এখন আবার বলো না যে যাবো না আপনার সাথে। তাহলে নিজের মান সম্মান বিসর্জন দিয়ে হলেও তোমাকে কিডনাপ করে নিয়ে যাবো। বউ ছাড়া রাতে ঘুম হয় না আমার।
ইরা ভ্রো নাচিয়ে বললো!
____এত দিন তো ডিব্বি ঘুম হতো! এখন আবার কি হলো??
“”বিয়ে করেছি কি বউ কে ছাড়া ঘুমামোর জন্য!এক রাত ও বউ ছাড়া ঘুমাবো না! এর জন্য যদি মিছিল ও করতে হয় আমি তাতেও রাজি।
ইরা ফিক করে হেসে দিয়ে, এগিয়ে গেলো কার্বাড এর দিকে।এবং ড্রয়ার থেকে ফাস্ট এইড বক্স টা নিয়ে বিছানার কাছে আসে। বক্স থেকে কয়েক টা ওয়ান টাইম ব্যান্ডেজ বের করে আদিল এর গাড়ে বুকে লাগিয়ে দিয়ে মুচকি মুচকি হেসে ফেললো! তা দেখে আদিল ইরার হাত টেনে একটা চুমু খেয়ে বলে উঠলো!!

____বা কি কপাল আমার! পুরাই সোনাই বাঁধানো একবার বউ খামচে চেহারার নকশা পাল্টে দেয়। তো আরেক বার সে গুলোকে ডেকে রাখার ব্যবস্থা টাও করে রাখবে। লোক লজ্জা ভয়ে!
কথা শেষ করে আদিল শব্দ করে হেসে দেয়!তা দেখে ইরা কপাল কুঁচকে বিছানা থেকে ওঠে চলে যায় ওয়াশরুমে ।
আদিব প্রোপার ভাবে রেডি হয়ে নিচে অপেক্ষা করছে কলির জন্য!আজকে আদিব কালো সিল্কের পাঞ্জাবি পরেছে সেই সাথে পরিপাটি করে রেখেছে নিজেকে, সেই সাথে দেখতে ও বেশ আকষনীয় করে তুলেছে নিজে কে।আদিব ফোনে ছোট বাচ্চাদের মতোন গেমস খেলছিলো,বেশ ব্যাস্ত এর মাঝে কলি কালো রংঙের লং একটি চুরিদাড় পরে নিচে নেমে আসছে। দুই জন এর এক সাথে কালো রং এর জামা পড়ার কারন টা অজানা সবারি কেউ জানে না। গতকাল রাতে আদিব কলি কে এই জামা টা দিয়ে বলেছিলো পরতে। তারা নাকি কোথাও ঘুরতে বের হবে। কলির বরাবরি ঘুরাঘুরি করতে বেশ পছন্দ, তাই আদিব কে মুখের উপর নিষেধ করতে পারেনি কলি। কলি বেশ অনেক টাই সেজে গুজে এসেছে।আজকে বার বার কলির মনে হচ্ছে, হয়তো আজ স্পেশাল কিছু ঘটতে চলেছে তাদের সাথে! কলি একটু আগ বাড়িয়ে আদিব কে জিজ্ঞেস করলো!!

____আমাকে কেমন লাগছে দেখতে??
আদিব পা থেকে মাথা পর্যন্ত ভালো ভাবে চোখ বুলিয়ে দেখে নিয়ে তার পর বললো!!
____একদম সাত চুন্নির মতোন লাগছে!
কলি এবার একটু হেসে কনফিডেন্সের সাথে বললো!
___থ্যাক্সং!!
আদিব একটু কৌতুহল নিয়ে জিজ্ঞেস করলো!!
___সাত চুন্নি বলে প্রশংসা করলে বুঝি, থ্যাক্সং জানাতে হয়!
কলি সিরিয়াস হয়ে বললো!!
___তুমি যেহেতু বলেছো আমাকে সাত চুন্নির মতোন লাগছে! তাহলে তাইি ঠিক! তুমি তো আমার জন্য হলেও জীবনে একবার সাতচুন্নি কে দেখলা! তা নয়তো তোমার যে চেহারা সাতচুন্নি কেনো, কোনো টিকটিকির মাও আসবে না তোমার সাথে দেখা করতে।
আদিব কপাল কুঁচকালো! কলি কিছু একটা আচ করতে পেরে বলে উঠলো!!

___না ধন্যবাদ টা এর জন্য দেয় নি তো!আমাকে এত সুন্দর একটা চুড়িদার গিফট করছো তার জন্য দিলাম!
আদিব গম্ভীর গলাই বললো!!
____তোর কাজ একটাই তাই না! আমার পেছনে লাগা! অবশ্য তুই এই কাজ টাই ভালোই পারিস!
ওদের এত কথা কাটাকাটি দেখে আশরাফ সিকদার আদিব এর দিকে তাকালেন কর্কশ গলায় বলে উঠলেন!!
____কি হয়েছে মামুনি!
আশরাফ সিকদার কে দেখে কলির মনে হলো, না চাইতেই জল ভাইয়া কে ইচ্ছে মতোন কয়েক টা বকা খাওয়াতে পারলে মনে একটু শান্তি লাগলো! তাই কলি নিষ্পাপ গলাই বলে উঠলো!!
____দেখো না বড় আব্বু! ভাইয়া তখন থেকে আমাকে বকেই চলেছে।
কলির কথা শুনে আদিব উঠে দাড়াতে দাড়াতে কলির মাথাই টোকা মেরে বললো!!

____ছোট্ট জেরির মতোন সারা দিন আমার পেছনে পরে থাকিস! আর এখন কিনা অভিযোগ এর বস্তা খুলে বসেছিস! তুই অভিযোগ কর বসে বসে আমি বরং যাই!
কথা শেষ করে আদিব দূত বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়! এখন এই খানে আর এক মিনিট সময় ও থাকলে আশরাফ সিকদার জ্ঞান দিতেই থাকবেন। একটি শুভ কাজে যাচ্ছি! যাওয়ার আগে এত জ্ঞান শুনলে সব মাথা থেকে খসে পরে যাবে। আদিব কে যাওয়ার প্রানে আশরাফ সিকদার পেছন থেকে কয়েক বার ডাকলেন! কিন্তু অধেয্য আদিব পেছন ফিরে না তাকিয়ে সোজা চলে গেলো গাড়িতে! তাই দেখে কলি কোনো রকম দৌড়ে এসে বসলো গাড়িতে! আদিব কপাল কুঁচকে বললো!!

____কি চাই! যা বের হও গাড়ি থেকে! ড্যাড এর কাছে গিয়ে অভিযোগ কর, আরও আমার নামে।
কলি অল্প হেসে বললো!
____আগে তোমার সাথে একটু ঘুরাঘুরি করে আসি! পরে এক বারে সব অভিযোগ ঢেলে দিবো নি বড় আব্বুর কাছে। বলেই কলি আবারও হিহিহি করে হেসে ফেললো!
আদিব রেগে কলির মাথা গাঁট্টা মেরে বললো!!
____সারা রাস্তা চুপ করে বসে থাকবি নয়তো ধাক্কা মেরে গাড়ি থেকে ফেলে দিবো।
কলি বলল!
__আমি একশো বার কথা বলবো! সাহস থাকলে ফেলে দাও! বড় আব্বু আসার সময় কি বলছে জানো!
আদিব জিজ্ঞেস করে না, বরং হা করে তাকিয়ে থাকে তাই দেখে কলি বলে উঠলো!!
____আমাকে যদি একটা মশা ও কামুড় দেয়, তাহলে তোমার জন্য বাড়ির দরজা জানালা সব বন্ধ!
আদিব গম্ভীর মুখে বলে!!
____বিশ্ব নাটক বাজ! তোরে আজকে আমি ঠান্ডা পানিতে আরামছে চুবিয়ে মারবো! দেখিস!
কলি কাঁদো কাঁদো গলায় বলে উঠলো

___তুমি আমাকে নামিয়ে দাও! আমি যাবো না তোমার সাথে! বড় আব্বু বাঁচাও….
কে শুনে কার কথা আদিব গাড়ির স্পিড দ্বিগুণ বাড়িয়ে চালাতে লাগলো! সেই সাথে গাড়িতে একটা গান ছেড়ে তালে তালে গেয়ে উঠলো কলি কে রাগানোর জন্য!!
কত দিন ভেবেছি শুধু দেখবো যে তোমায়
ক্লান্তহীন! তুমি ছিলে আমার কল্পনায়
সেই ছবি উঠলো ভেসে চোখেরি পাতায়
আমি শুধু চেয়েছি তোমায়!
আশরাফ সিকদার এতখন আদিব এর দিকে তাকিয়ে থাকলেও এখন খানিকটা রাগে তটস্থ হয়ে আছেন।কালকে ডক্টর এর চেম্বার খোলে দেয়া হয়েছে আজকে কিনা টৈয়ঠৈয় করে ঘুরতে চলে গেলো। চেম্বারে কিছু নতুন ডক্টর প্লাস আদিব এর কিছু বন্ধুরা আছে। অহনা সিকদার গত রাতে দুই চোখের পাতা এক করতে পারেনি ছেলের টেনশনে! আশরাফ সিকদার অহনা সিকদার কে গম্ভীর গলাই বলে উঠলো!!

___তোমার ছেলের কমনসেন্স দেখে আমি শিহরণ অহনা!
অহনা সিকদার চোখ গুরে আশরাফ সিকদার এর দিকে তাকিয়ে বললেন!!
____তোমার ছেলে মানে কি? তোমার ছেলে, তোমার ছেলে করছো কেনো! ছেলে কি আমি বাবার বাড়িতে থেকে নিয়ে আসছি!
আশরাফ সিকদার গম্ভীর গলাই বললেন!!
____কেনো তুমি কি অস্বীকার করছো! আদিব তোমার ছেলে নয়!
“”হুম আমাদের দুইজন এর ছেলে! তাই তুমি তোমার তোমার করা বন্ধ করো।
__ওকে আমাদের! দেখছো কর্মকান্ড কালকে চেম্বার ওপেন করলাম আর আজকেই ঘুরতে চলে গেলো। ম্যানারলেল্স ছেলে একটা!
অহনা সিকদার স্বাভাবিক ভাবে বললেন!!
___ঠিক বাবার মতোন!।।
মূহতেই আশরাফ সিকদার গলা খাঁকারি দিয়ে বলে উঠলেন!!
___তুমি আমাকে ইনসাল্ড করতে পারো না অহনা! আমি কিন্তু এখন এমপির ড্যাড হয়ে গেছি!!
এত দিনে অনন্ত নিজের পরিচয় টা বাদ দিয়ে ছেলের পরিচয় দিলা, ভালো লাগলো অনন্ত!
আশরাফ সিকদার এতখনে গম্ভীর গলাই বললেন!!

___ছেলের পরিচয় দিতে যাবো কোন সুখে আমারি নিজস্ব পরিচয় আছে! আমি একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তুমি ভুলে যাও কিভাবে!!
আদিল সহ ইরা রেডি হয়ে নিয়েছে বাসা থেকে বেরিয়ে যাবে বলে! ঠিক তখনি আদিস সিকদার বললেন!
___এমপি হয়েছো আমি শুনে অনেক টাই খুশি হয়েছি! তবে সব সময় চেষ্টা করবা জনগণের মতামত এর প্রাধান্য দেয়ার৷ জনগণি হলো তোমার উপরে ওঠানোর একমাএ হাতিয়ার!
আদিল আদিস সিকদার এর সাথে সহমত প্রকাশ করে ইরা কে সাথে নিয়ে বেরিয়ে আসে বাড়িতে থেকে। আসার আগে ইরার মুখ টা ছিলো দেখার মতোন পুরাই কাঁদো কাঁদো! আদিল মুখে ভেঙ্গচি কেটে গাড়িতে বসতে বসতে বলে উঠলো!!
____বাবার বাড়িতে থেকে আসার সময় তোমার মতোন সবাই কি ভেটকায়া ভেটকায়া কান্না করে!
ইরা রাগে রিরি করে উঠলো! সব বিষয় নিয়েই কি এই লোকের ফাজলামো করতে হবে! ইরা বললো!!
____আমি কি আর এমনি এমনি আপনাকে অসভ্য বাজে লোক বলি! আপনি শুধু অসভ্য বাজে খারাপ না, আপনি সব কিছুর মিক্স ফিমেল ভার্সন!
আদিল ঠোঁট উল্টে গাড়ির স্পিড বাড়িয়ে দিয়ে বলে উঠলো!!

____ছি স্বামী কে এত বড় অপবাদ দিতে তোমার কি একটু ও গায়ে ফোসকা পরলো না!..
গাড়ি চলছে নিজ গতিতে তাদের গন্তব্য এখন সিকদার মহলে! ইরা চুপ করে বসে বসে এদিক সেদিক দেখছে! বাইরের মিষ্টি হাওয়া শয়ে শয়ে প্রবেশ করছে গাড়ির কাচের ভেতর দিয়ে। ইরা চুপটি করে সব কিছুর ফিল নিতে ব্যাস্ত ঠিক তখনি আদিল জিজ্ঞেস করলো!!
__কিছু খাবে??
ইরা মাথা ঝুকিয়ে জানায়! সে এখন কিছু খাবে না!
প্রায় আধঘন্টা পর আদিল ফের আবারও জিজ্ঞেস করে!!
___নিজ সংকোচে বলতে পারো! কি চাই তোমার। চকলেট আইসক্রিম ফুচকা বার্গার!
আদিল ইরা কে এত বার জিজ্ঞেস করতে দেখে! ইরার ভিষয় টা বেশ ভালো লাগলো! কেউ একজন আছে তার জীবনে তার কেয়ার করার জন্য!জীবনে এত অপশন থাকার পর ও ইরার জন্য এত টা পাগলামি! বেশ ভালো লাগে ইরার! তাই ইরা এবার বেশ স্বাভাবিক ভাবে বললো!!
___না আমি কিছুই খাবো না!
আদিল কিছুটা বিরক্তি নিয়ে বললো!!

____এইটা খাবো না সেইটা খাবো না! তাহলে কি খাবে, আমার কাছে আসো! আমাকে একটা চুমু খাও! আই ডোন্ট মাইন্ড!
ইরা মুখ বাঁকিয়ে আবারও গুরে তাকালো জানালার দিকে।সে এই মূহুর্তে ইচ্ছুক নয় কোনো রকম চুমু টুমু খেতে! জানার কাচের ফাক থেকে এই মূহুর্তে শয়ে শয়ে বাতাস বয়ে যাচ্ছে!ইরার ছোট মস্তিষ্ক জুড়ে বার বার উঁকি ঝুঁকি দিচ্ছে ছোট্ট একটি প্রশ্ন! শুধু আজ থেকে নয়, বরং বিয়ের পর থেকেই। আদিল এর সাথে তেমন পারসোনাল সময় কাটানো হয় না, খুব বেশি আদিল এর ব্যাস্ততার জন্য!তবে আজ খুব করে ইচ্ছে করছে প্রশ্ন টা করতে! তাই ইরা নিজ সংকোচ কাটিয়ে এক প্রশ্ন ছুরে মারলো আদিল এর দিকে!
____আমি শুনে ছিলাম, আপনার নাকি আইরা আপুর সাথে বিয়ে ঠিক হয়েছিলো! ওনি তো আমার থেকে হাজার গুন বেশি সুন্দর! আপনি ওনাকে কেনো বিয়ে করলেন না??
আদিল কপাল কুঁচকে তাকালো ইরার দিকে! ইরা মনে মনে আওড়াতে লাগলো, হয়তো প্রশ্ন টা আদিল এর ভালো লাগে নি! তাই ইরা আবারও বললো!!

এক রহস্যময় ভালোবাসা পর্ব ৪৪

___কিছু বলছেন না যে??
“”কি শুনতে চাও??
আইরা আপু কিন্তু বেশি সুন্দর ছিলো, আমি ওনার চোখে দেখেছি এক আকাশ পরিমাণ আপনাকে ভালোবাসে, তার চোখে আপনাকে না পাওয়ার এক দীর্ঘ হতাশা যা ওই মেয়ের চোখে স্পষ্ট! আপনাকে কিন্তু সারা জীবন সুখে রাখতো আইরা আপু!
আদিল নিলিপ্ত হাসলো! আর খুব স্বাভাবিক ভাবে বললো!!
____আমার সুখের প্রয়োজন নেই! যদি তোমাকে পাওয়ার জন্য,আমাকে সারাজীবন দুঃখ নিয়ে ও কাটাতে হয়,!আমি তাতেও রাজি….!
ইরা অল্প হাসলো এবং মনে মনে হাজার বার ভাবলো!!
___সঠিক পুরুষের কাছে তার সাদামাটা নারী টাও বিশ্ব সুন্দরী!!

এক রহস্যময় ভালোবাসা পর্ব ৪৬