Home এক রহস্যময় ভালোবাসা এক রহস্যময় ভালোবাসা পর্ব ৬২

এক রহস্যময় ভালোবাসা পর্ব ৬২

এক রহস্যময় ভালোবাসা পর্ব ৬২
Chadny islam

“হ্যালো,
বৃষ্টি ভয়ে তঠষ্ত হয়ে আছে, এর মাঝে আবার কল টাও বেজে উঠছে বার বার, বৃষ্টি শুকনো ডোক গিলে ভয়ে ভয়ে কল টা রিসিভ করলো!!
____এই অসময়ে কল দিছো ক্যান???
অপর পাশ থেকে রনি চোয়াল শক্ত করে বললো!!
___বাড়ি আই!

“আমি এহন বাড়ি টারি যামু না,এইহানে সমস্যা হয়ছে!
“কি সমস্যা হয়ছে??
“খা..নির ছাওয়াল “কার চেন দিছোস আমারে, সোজা বাঁশ দিয়া দিতাছে ???
“এই বেডি স্বামী হয় তোর, মুখে লাগাম দিয়া কথা কো !
“তোর মতোন স্বামীর মাই..রে বাপ! ফোন দিছস কেন সুয়ার লাইগা??
“চুপ কর মা..গি! আমি আসলে তোর খবর আছে??
“তোর এই সব সাও..য়া মার্কা কথায় এহন আর আমি ভয় পাই না! ফোন রাখ!!
রনি ঠোঁট কামড়ে চোখ বন্ধ করে নিলো, এখন রাগ দেখানোর সময় নয়, ২ লাখ টাকার ব্যাপার, মাএ বিরিয়ানি রান্না করবে, এখন ঝামেলা করার সময় নয়! ওরে বুঝিয়ে বাড়িতে আনতে হইবো! রনি রাগ কমিয়ে ভালোবাসা বাড়িয়ে বললো!!

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

___তোরে মেলা মিস করতাছি, বাড়িত আয়!!
হঠাৎ স্বামীর গলার স্বর খাদে নেমে গেছে দেখে বৃষ্টি ও কথা বাড়ালো না “বরং সম্মতি প্রকাশ করে বললো!!
____আইতাছি!
বৃষ্টি সাথে সাথে ব্যাগ পএ গুজিয়ে নিলো, টেবিলের উপর রাখা ছোট একটা বতলের শিসি হাতে তুলে নিয়ে বেরিয়ে গেলো রুম থেকে !!!
এদিকে মাইমুনা সিকদার বেশ কৌতুহল নিয়ে ইরা কে রুমে যেতে দেখলেন!! তারপর তিনি ছোটে গেলেন বৃষ্টির দিকে, বৃষ্টি ও রুম থেকে বের হয়ে গেছে! মাইমুনা সিকদার বৃষ্টি কে উদ্দেশ্য করে বললেন!!
___বউমা কিছু জিজ্ঞেস করছিলো তোমারে??
বৃষ্টি আর কারোর সন্দেহের কারন হতে চাইলো না, তাই খুব স্বাভাবিক ভাবে বললো!!

____ছোট ম্যাডাম তো আমাকে কিছু জিগায় নাই, বরং আমারে কিছু টাকা দিলেন বাড়ি যাওয়া লাইগা!
“মিথ্যা বলছিস না তো???
“না ম্যাডাম একদম হাসা কইতাছি!!
“আচ্ছা যা তুই!!
“বৃষ্টি তাড়াতাড়ি বাড়ি থেকে বের হয়ে গেলো! নিজের বাড়ির উদ্দেশ্য!
আশরাফ সিকদার বসে বসে কফি খাচ্ছেন, এবং ফোনে কথা বলছেন, কিছুটা শোনা যাচ্ছে কোনো রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে!
ইরা সোজা উপরে নিজের রুমে চলে গিয়েছে,, তারপর কিছু টাকা নিয়ে আবারও বের হলো রুমে থেকে! আশরাফ সিকদার ইরা কে তথাগতি বের হতে দেখে জিজ্ঞেস করলেন!!

____আম্মু কোথায় যাচ্ছো??
ইরা আশরাফ সিকদার কে খেয়াল করেনি, পেছনে ডাকের শব্দ কানে ভেসে আসতেই পেছনে তাকায়, এর পর খুব স্বাভাবিক ভাবে উওর করলো!!
__আমি একটু নিচে যাচ্ছি, রিফাত ভাইয়া কে খাবার টা দেয়ার জন্য!!
“ওর কাছে যাওয়ার প্রয়োজন নেই, ভারসাম্য হারিয়ে পাগল হয়ে গিয়েছে, তোমাকে যেকোনো সময় এ্যাটাক করতে পারে!!
ইরার ইচ্ছে করলো না বড় দের মুখের উপর বেয়াদব এর মতোন উওর দিতে, তাও ইরা নিজেকে কিছুটা শান্ত রেখে বললো!!
___আব্বু আপনি চিন্তা করবেন না, রিফাত ভাইয়া আর যাই করুক এ্যাটাক করবে না!
“আমি আসবো তোমার সাথে,
ইরা মনে মনে কিছু একটা ভেবে এরপর বললো,

___না আব্বু, আপনাকে যেতে হবে না আমি যেতে পারবো, আপনি চিন্তা করবেন না!!
ইরা আর কথা বাড়ালো না, কিচেন থেকে খাবার নিয়ে হাটা শুরু করলো কবর স্থানে যাওয়ার জন্য!ইরা মাথায় কাপর টেনে এগিয়ে গেলো বাইরের দিকে!!! বাইরে আসতেই দেখলো মতি মিয়া গাছে পানি দিচ্ছে!!ইরা এগিয়ে গেলো মতি মিয়ার দিকে, এর পর হাতের টাকা টা মতি মিয়ার হাতে দরিয়ে দিয়ে বললো!!
___সালফিউরিক অ্যাসিড, বিলেট একটা ছুরি নিয়ে আসুন তাড়াতাড়ি!
মতি মিয়া ভয়ে ভয়ে তাকালো বার বার ইরার দিকে, তিনি বেশ ভয় পেয়ে যাচ্ছেন! একজন নারী হয়ে এই গুলা দিয়ে কি করবে?মতি মিয়া কে এক নজরে তাকিয়ে থাকতে দেখে” ইরা মৃদু হেসে বললো!!

___ভয় পাওয়ার কিছু নেই, আপনি যান নিয়ে আসুন!!
ইরা মতি মিয়া কে রেখে চলে আসে সামনের দিকে, যেখানে কলি এবং রিমঝিম এর কবর দেয়া হয়েছিলো!রিফাত কলির কবরের উপর সুয়ে আছে, ইরা কে খাবার হাতে দেখে ছুটতে ছুটতে চলে আসে খাবার নিতে,দেখে মনে হচ্ছে অনেক টাই ক্ষুর্ধাথ রিফাত ইরার হাত থেকে খাবার কেড়ে নিয়ে আবার ও ছুটে যায় কবরের পাশে! কলির কবরের পাশ ঘেসে বসে পরলো মাটিতে এরপর য়খাবার খেতে বসে পরলো! বেশ মনোযোগ এবং তৃপ্তি সহকারে খাবার খেতে শুরু করলো! ইরা বেশ দূরে দাড়িয়ে দেখলো বিষয় টা!

কিছুসময় নীরবে চোখের পানি ঝরালো,এক হাতের ডগা দিয়ে চোখ মুছে এগিয়ে গেলো রিমঝিম এর কবরের দিকে, মেয়ে দের কবর ঘেসে বা কবরের কাছাকাছি থাকা উচিত নয়! তাই ইরা বেশ অনেক টাই সরে দূরে দাড়ালো, আশে পাশে আদিব কে দেখা যাচ্ছে না! এই খানে আসলে সবার আগে রিফাত এর দিকে নজর যায় এর পর আদিব!
ইরা কিছুটা সময় নিয়ে কবর টিকে ভালোভাবে দেখে নিলো, মনের অজান্তেই কিছু কথা বার বার বেড়িয়ে আসছে, খুব ইচ্ছে করছে চেচিয়ে বলতে, কিন্তু তা আর সম্ভব নয়! কলির মৃত্যু টা স্বাভাবিক হলেও রিমঝিম এর মৃত্যু টা অস্বাভাবিক! কত টা যন্ত্রণা কষ্ট হা_হা কার নিয়ে মেয়ে টা এই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করছে! ভাবলেই শরীরের প্রতিটি শীরা উপশিরা তান্ডব নৃত্য চলতে থাকে! ভাবনারাও এসে বলে কেনো ভাবছিস এসব??

ইরা চোখ বন্ধ করতেই ভেসে আসে রিমঝিম এর কোমল উজ্জ্বল মুখ খানা!কি মায়াবী সেই চাহনি, হাসি ঠোঁটের এক কোনে লেগেই থাকতো! আর সেই মেয়ে টাকেও কিনা নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়েছে!
ইরা শুকনো ডোক গিলল, এবং ওয়াদা করলো, যারা তোমাকে নির্মম ভাবে হত্যা করছে আমি তাদের কে ছারবো না, তিন গুন কষ্ট দিয়ে মারবো তাদের! তাদের মৃত্যু এত টাই যন্ত্রণা হবে যে মরার আগেই চাইবে বার বার মরে যেতে, তাদের এমন মৃত্যু দিবো যে মৃত্যু ও ভয় পাবে! যারা তোমাকে এবং আমার নিষ্পাপ বোন কে নির্মম ভাবে হত্যা করছে আমি তাদের কাউকেই ছারবো না! তাদের অবস্থা করুন থেকেও করুন করবো! এই আমি তোমাকে ওয়াদা করে গেলাম!
ইরা এক হাতে চোখের পানি মুছে দৌড়ে চলে গেলো রুমের দিকে, অন্যদিকে রিফাত অপলক ভাবে তাকিয়ে দেখলো ইরার যাওয়া প্রানে! রিফাত মুচকি হেসে প্লেট টাকে কবরের পাশে রেখে আবারও কলির কবর জড়িয়ে সুয়ে পরলো!আর বললো‌!!

____তোমার ঘুম কি শেষ হয় না, আমি যাবো তোমার কাছে আমাকে নিয়ে যাও!!!
আশরাফ সিকদার কিছুটা রাগী গলায় আদিব কে উদ্দেশ্য করে বললেন ‌!!
____কালকে তোমাকে বলে ছিলাম আসার সময় আমার ঘুমের ঔষধ নিয়ে আসো, নিয়ে আসো নাই কেনো??
আদিব শুধু বিরক্ত না, ভিষন রেগে গেলো,সকালের বিষয় নিয়ে এখনো মাথা ঠিক নেই তার মধ্যে আবার আশরাফ সিকদার কি বলছে আবুল তাবুল!! আদিব রাগ চেপে শান্ত গলাই বললো!!
____ড্যাড আমি কালকে ওষুধ নিয়ে গিয়ে ছিলাম পুরো এক ফাইল চেক করো!!
আশরাফ সিকদার চেতে গেলেন,
___তোমার কি মনে হয় আমি কানা, চোখে দেখি না??
“আরে ড্যাড ভুল বুঝতেছো, আমি ওষুধ দিয়ে আসছি তোমাকে হয়তো তোমার মনে পরছে না,!!
আশরাফ সিকদার মেজাজ ঝাঁঝিয়ে উঠলেন!!

___তুমি গাধা পেয়েছো আমাকে, যা বলবা তাই মানতে হবে! আমি তোমার মতোন মন ভোলা না!
হুম, হয়তো আদিব এর মাথা সত্যি ঠিক নেই, হয়তো সব তারি ভুল, সে ভুল করে হয়তো ওষুধ বাসায় নেই নি, আর ড্যাড কেও দেই নি, সব কিছুই কাল্পনিক ছিলো “মাথা ঠিক না থাকার কারনে এসব হয়েছে! আদিব কিছু সময় চুপ থেকে এরপর বললো!!

___সরি ড্যাড, হয়তো আমি ওষুধ টা বাসায় নেই নি, ভুল গিয়ে ছিলাম, মিস্টেক ড্যাড, আই আম সরি!
আদিব বাকি কথা শেষ করার আগেই ফোন টা কেটে দিলো,মাথার চুল গুলোকে শক্ত করে টেনে দরলো, দাঁতে দাঁত পিসে নিজের রাগ কে কন্ট্রোল করলো! হয়তো কেউ এই সময় মাথার চুল টানাটানি করতে দেখলে পাগল ভেবে বসবে! তখন হসপিটাল এবং ডক্টর এর বদনাম, সেই সাথে ক্যারিয়ার টাও নষ্ট! কেন এমন হচ্ছে উল্টা পাল্টা! কবে সব কিছু ঠিক হবে! কোথায় চলে গেলে তুমি”

আমার সাজানো জীবন টাকে অগো ছালো করে ??? তোমরা মেয়েরা সত্যিই বড্ড বেইমান! নিজের স্বার্থ ছাড়া কিছু বুঝো না! তুমি তো ঠিকি ভালো আছো শান্তির ঘুম ঘুমাচ্ছো!আর এদিকে আমাকে দেখো তোমার বিরহে পাগল প্রায় আর অবস্থা !এখন শুধু অপেক্ষার পালা সভ্য সমাজের পাগল নামে উপাধি নেয়া!
আশরাফ সিকদার এর কথোপকথন ইরা মনোযোগ সহকারে শুনলো,সেই সাথে মুচকি এক হাসি টেনে চলে গেলো নিজের রুমে!
ইরা রুমের বেলকনিতে দাঁড়িয়ে আরেক বার নজর ঘুরালো কবর স্থানে! রিফাত কে দেখলো বেশ ভালো করে, আর ভাবলো,

___সব পুরুষ বেইমান হয় না”কিছু পুরুষ সত্যি কারের ভালোও বাসে!
রূপবতী হয়ে কি হলো “সেই তো ভাগ্যবতীর কাছে হেরে গেলাম!
আমাদের একটা সংসার হলো, তবে তা সাজানো হলো না!
বুকের বাম পাশ টা কেমন যেনো ছটপট করছে, মনে হচ্ছে এই বুঝি সব কিছু শেষ হয়ে যাচ্ছে!আপনাকে অনেক কিছু বলতে গিয়েও আজ আমি থেমে যাচ্ছি বার বার! কেন এলেন আমার জীবনে অভিশাপ হয়ে! কেন ক্ষমা করতে পারলাম না আপনাকে! পাপী হয়ে কেন এলেন আমার জীবনে! আপনার মতোন পাপীর সাথে চলতে চলতে আমি ও আজ বড্ড পাপী হয়ে গিয়েছি!

ইরা বলতে বলতে ধপাস করে ফ্লোরে বসে পরলো, আর সহ্য হচ্ছে না, আপনাকে একবার জড়িয়ে দরতে খুব ইচ্ছে করছে! চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করছে, বড্ড ভালোবাস তাম আপনাকে!!!
ইরা ফোন টা হাতে তুলে নিলো, সেভ করা সিকদার সাহেব নাম্বারে কল করলো, একবার রিং হওয়ার সাথে সাথে আদিল কল রিসিভ করলো!! ইরা কখনো আদিল কে কল করে না, আজ করেছে তাহলে হয়তো কারন আছে!! আদিল মিটিং এ ছিলো, ইরার ফোন আাসার সাথে সাথে এক্সকিউজ মি. বলে বেরিয়ে আসে! অপর পাশ থেকে আদিল ইরা কে ডাকতেই!!
ইরা বেশ স্বাভাবিক ভাবে জিজ্ঞেস করলো!!

__কখন বাসায় আসবেন???
ইরা হঠাৎ কল করে বাসায় আাসার কথা কেন বলছে, যাক হোক আদিল ভালো ভাবে সময়,টা দেখে নিলো প্রায় বিকেল পাঁচ টার কাছাকাছি! রাত সাত টা বাজলে যেতেহবে ব্লাকরোজ বাড়িতে সবার পাসপোর্ট দিতে, আসতে আসতে দশ টা তো বাজবেই! আদিল কে কিছু একটা ভাবতে দেখে ইরা বললো!!
___কিছু বলছেন না যে???
“কেনো মিস করছো??
“না!
“আসবো দশটার দিকে!
ইরা সময় টা জানার সাথে সাথে কল টা কেটে দিলো, এর পর কল করলো জুথীর নাম্বারে, জুথী বিকেলের এই সময়ে বাড়ির সবার জন্য হালকা নাস্তা রেডি করছিলো! ফোন বাজতেই ছুটে আসে, ফোন হাতে নিতেই দেখে ইরা কল করেছে, এই অসময়ে! জুথী বেশ স্বাভাবিক ভাবে জিজ্ঞেস করলো!!

____ঠিক আছিস তুই??
“হুম! আমি ঠিক আছি! একটা কথা রাখবি প্লিজ!
“হুম অবশ্যই! বল কি হয়েছে??
“আমি যদি আর না ফিরি তাহলো আমার বাবা মা কে দেখে রাখবি প্রমিজ কর!!
“কি হয়েছে তোর??
“কিছু হয়নি আমি ঠিক আছি, তুই বল!
“হুম দেখে রাখবো, কিন্তু তুই কোথায় যাবি??
“আমি আছি, এখন রাখি,
ইরা ফোন রাখার জন্য কল কাটতে যাবে তখন আবার ও বললো!!

___প্লিজ আমার বাবা মা কে দেখে রাখিস!
“ওকে, কিন্তু তুই
তোর মতোন একটা বেস্ট ফেন্ড জীবনে থাকা ভাগ্যের ব্যাপার! আমি সবসময় লাকি, লাভ ইউ সো মাচ! সারাজীবন তোকে মনে রাখবো আল্লাহ হাফেজ!
ইরা দ্রুত ফোন কেটে দিলো, আর কিছু সেকেন্ড কথা বললে নিজের চোখের পানি কে হয়তো দরে রাখতে পারবে না!
সাত টার দিকে,

বৃষ্টি স্পেশাল ভাবে বিরিয়ানি রান্না করে হাজির হয়েছে গুপ্ত ঘরে, গায়ে জড়ানো ফ্যালফেলে পাতলা কালো রংঙের শাড়ী, শাড়ী এত টাই পাতলা যে তা ছেদ করে কোমর বদ্ধ গোপনীয় জায়গা স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে! যাকে বলে ব্যাটা দের দৃষ্টি আর্কশন করা! এই শাড়িটা প্রিয়াশ অনলাইন থেকে অডার করে রনি কে দিয়ে ছিলো সেই সাথে তার বউ কে পরে আসতে বলেছে! প্রথমে রনি বুঝতে পারেনি শাড়িটি এত পাতলা তাহলে হয়তো বউ কে পরতে দিতো না! দেখার পর ও যখন বারন করে তখন বৃষ্টি শাড়ি পাল্টাতে নাকোচ,সেই কারনে আসার সময় রনি কসিয়ে একটা থাপ্পড় মেরে ছিলো যা ঠোঁটের এক পাশে কেটে গেছে, বৃষ্টি লিপস্টিক দিয়ে তা পরিপূর্ণ করে নিয়ে এসেছে!
হালকা হওয়ায় চুল গুলো কেমন হেলে দুলে নরছে, কোমরের একবার এই পাশে দুল খাচ্ছে তো আবার আরেক পাশে! বৃষ্টি গুপ্ত ঘরে দাড়ানোর সাথে সাথে প্রিয়াশ উঠে আসে বৃষ্টির কাছাকাছি! প্রিয়াশ এক হাতে বৃষ্টির কোমর আঁকড়ে দরলে, মূহুর্তেই বৃষ্টি বিরক্তিতে কপাল কুঁচকে ফেলে! রনি দেখার সাথে সাথে ধাক্কা মেরে সরিয়ে দেয় প্রিয়াশ কে! রনির ধাক্কায় প্রিয়াশ ধপাস করে মাটিতে পরে যায়, সাথে সাথে লুমান গিয়ে তুলে ওঠায় প্রিয়াশ কে!
লুমান তুলার সাথে সাথে দাত খিচে কয়েক টা বকা দিয়ে নিলো প্রিয়াশ কে, এই সালা সব সময় শুরু টাই নষ্ট করে দেয়! মন ডাই চাই এই ডারে জানে মাইরা দেয়!

প্রিয়াশ শক্ত হাতে নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করলো! তার মনে হচ্ছে তার সামনে মধু অথচ সে আহরন করতে পারছে না!
প্রিয়াশ আর বিষয় টাকে জটিল করল না, বরং দাঁত চেপে হাসলো বেহারা মতোন আর ভাবলো, তখন বুঝবি যখন তোর সামনে তোর বউরে উ…ঙ্গ করে চো…!খানকির ছেলে তোর জান আমি রাতেই কবজ করমো, আর তোর বউরে নিয়ে, আমি সাত সমুদ্র তেরো নদী পারি দিমু !
বৃষ্টি নিজের স্বামী কে কোনো রকম সামলে খাবার গুলা টেবিলেে উপর রাখলো, আর খেয়াল করলো আশে পাশে বেশ অনেক গুলা নামি দামি মদের বোতল! বৃষ্টি সব কিছু এড়িয়ে গেলো, বিরিয়ানির সুবাসে পুরো রুম জুড়ে ম ম করছে!

প্রিয়াশ ফোন বের করে কল করলো আদিল কে, আজ সবাই মিলে এই রুমে মাস্তি করবে মাস্তি! সেই সাথে স্পেশাল বোনাস হিসাবে থাকবে বন্ধুর বউ!
প্রিয়াশ কল করতেই আদিল কল রিসিভ করলো, প্রিয়াশ জিজ্ঞেস করলো!!
“কোথায় এখন?
“আসতেছি রাস্তায় অনেক ট্রাফিক, আধঘন্টা লাগবে আর!
“ওকে! সোজা গুপ্ত ঘরে আসবি!
“ওই খানে কেনো??
“পার্টি আছে!

প্রিয়াশ কল টা কেটে দিলো, আদিল দাত খিচে শব্দ করে একটা বকা দিলো প্রিয়াশ কে! আজকেই লাস্ট এরপর থেকে এদের মুখ ও দেখতে হবে না! সব কিছু বাদ দিয়ে সুন্দর একরা সংসার সাজাবো, যেখানে আমার বাচ্চা আমার পরিবার সবাই থাকবে! এই সব থেকে বেরুতে চাই আমি! তার একমাএ সোলিওশন তুমি ইরা!!
আশরাফ সিকদার অহনা সিকদার, মাইমুনা সিকদার আদিস সিকদার ইরা সবাই এক সাথে রাতের খাবার খাচ্ছেন, আশরাফ সিকদার খাবার টেবিলে আদিল কে দেখতে পেলেন না তাই ইরা কে জিজ্ঞেস করলেন!!
____আদিল এখনো বাসায় ফিরে নি???
“না আব্বু, আজকে ফিরতে লেট হবে!

আশরাফ সিকদার আর কথা বাড়ালেন না , বরং খাওয়ার দিকে মনোযোগ দিলেন সেই সাথে সবাই! খাওয়া শেষ করে ইরা বিশেষ করে অহনা সিকদার কে উদ্দেশ্য করে বললো!!
____আম্মু আমি কখনো কি আপনাদের সাথে খারাপ আচরন বা অসম্মান করেছি??
হঠাৎ ইরার এমন প্রশ্নে সবাই তাকালো ইরার দিকে, এসব কেনো বলছে হঠাৎ, কিছু হয়েছে! অহনা সিকদার ওঠে দাড়ালেন, ইরার মাথায় মমতার হাত রেখে বললেন!!
___না মা এমন টা কখনো হয় নি,কিছু হয়েছে তোমার??
“না,একটা রিকুয়েষ্ট করবো আম্মু!!
“হুম করো!
আমাকে একবার জড়িয়ে দরবেন প্লিজ!
এমন করে বলছো কেনো?? অহনা সিকদার ইরা কে জড়িয়ে দরে বললেন!!
____আমরা আছি তোমার পাশে সবসময়, কোনো বিষয় নিয়ে চিন্তা করবে না! কোনো প্রয়োজন হলে অবশ্যই আমাকে জানাবে!!!

হুম, ইরা কান্না মাখা মুখ নিয়ে ছুটে চলে গেলো রুমের দিকে!
অহনা সিকদার আশরাফ সিকদার কে রাতের সমস্ত মেডিসিন খাইয়ে তারপর রুমে চলে গেলেন!
রাত যত গভীর হচ্ছে, ততই বুকের ভেতরে রাখা তীব্র যন্ত্রণা বেরিয়ে আসতে চাইছে, দম বন্ধ হয়ে আসছে, শান্তির ছিটে ফোটা ও নেই, মস্তিক জুড়ে বিচরন করছে কিছু প্রতিশোধ! সব যন্ত্রণার অবসান ঘটিয়ে বেঁচে নিবো শান্তির জায়গা, না থাকবে ভালোবাসা আর না থাকবে হা হা কার!
গাড়ি এক পাশে রেখে আদিল বিরক্তি নিয়ে চলে গেলো গুপ্ত ঘরে! ভিষণ বিরক্ত লাগছিলো এই অন্ধকার ঘরে আসতে! তার এখন শুধু কাজ পাসপোর্ট গুলো ওদের হাতে দিয়ে ভালোই ভালো বেড়িয়ে যাওয়া! আদিল গুপ্ত ঘরে প্রবেশ করতেই দেখে সবাই বসে বসে কথা বলছে, পাশেই এক সুন্দরী রমনী বসে! যাকে সকাল বেলা সিকদার মহল থেকে আদিল বের করে দিয়ে ছিলো! মেয়ে টিকে দেখে আদিল বেশ বিরক্ত হলো, এই খানে মেয়ে কেনো, আজকে তো মেয়ের থাকার কথা নয়!
আদিল দাঁত খিসে প্রশ্ন করলো!!

____এই মহিলা এই খানে ক্যান, যা বের হ এখনি!!
আদিল এর হঠাৎ রাগের কারন টা প্রিয়াশ বুঝলো, ইরা কে বিয়ের পর থেকে সে মেয়ে সঙ্গ বাদ দিয়েছে! শুধু লাভের অংশ টা নেয়, এই গুপ্ত ঘরেও আসে না! প্রিয়াশ আদিল কে ডেকে বললো!!
___প্যারা নিস না, আমরা তো কাল চলেই যাচ্ছি, আজ না হয় একটু মাস্তি করে যায়, তুই চাইলে জয়েন করতে পারিস!

“থাপ্পড় মেরে তোর গাল লাল করে ফেলবো ইডিয়েট! এই মহিলা বের হো!!
রনি বিরক্ত হলো তার সামনে কেনো তার বউ কে শুধু শুধু অপমান করা হচ্ছে, সে তো চাই নি তার বউ কে এখানে আনতে!তাহলে ডেকে এনে অপমান করার কি আছে! রনি চোখ গরম করে তাকালো প্রিয়াশ এর দিকে! আর এ দিকে প্রিয়াশ রনি কে ইশারা করে বলল!!চুপ করতে সাথে সাথে রনি ও চুপ হয়ে গেলো! আর এদিকে বৃষ্টি চলে গেলো পাশের রুমে! বৃষ্টি আদিল কে বেশ কয়েক বার বাঁকা নজরে দেখে ছিলো! এমন সুদর্শন পুরুষ কে একবার নয়, হাজার বার দেখলেও মন ভরার নয়!!
আদিল পাসপোর্ট সবাই কে বুঝিয়ে দিয়ে উঠে যেতে চাইলে, প্রিয়াশ বাঁধা দিয়ে বলে!!
“ভাই শুনো!

কি ব্যাপার তোর, ভাই ডাকিস কেনো? আবার কোন ধান্দা জেগে উঠেছে!
প্রিয়াশ ঠোঁট কামড়ে হাসলো, কারন প্রিয়াশ সবসময় আদিল কে তুই বলেই ডাকে হঠাৎ ভাই ডাকার কারন তো অবশ্যই আছে, প্রিয়াশ ঠোঁট কামড়ে হেসে বললো!!
“এর জন্যই তোরে এত ভালো লাগে মনের কথা বুঝে যাস যে শীঘ্রই!
‘বল কি বলবি??
আমাদের সাথে খেয়ে যা, আর নতুন আরেক টা ডিল আছে, এর থেকে ও বেশি টাকা দিবে! তুই হ্যা বললেই আমি হ্যা বলে দিবো
আদিল বিরক্তিতে কপাল কুঁচকে ফেললো, দাঁতে দাঁত পিসে বললো!!

এক রহস্যময় ভালোবাসা পর্ব ৬১

___মাথা ঠিক আছে নাকি গেছে??
প্রিয়াশ আর কথা বাড়ালো না,বরং বুঝতে পারলো আদিল এর রাগ হচ্ছে, তাই ভাবলো খাওয়া শেষ করে লাল পানি সেবন করতে করতে না হয় বলবে তখন মুড ভালো থাকবে! তাই প্রিয়াশ দ্রুত খাবার সামনে নিয়ে আসলো, তারপর সবাই এক সাথে নিজে দের মতোন খাওয়া শুরু করলো! খাওয়া শেষ করার পাঁচ মিনিট এর মাথায় এক সাথে বসা স্থানে সুয়ে গুমিয়ে পরলো!!
প্রায় ঘন্টা খানেক পর, বৃষ্টি সবাই কে সুন্দর মতোন বেঁধে রেখেছে, চেয়ারে সাথে শক্ত করে! হাত পা মুখ সব গুলাই বন্ধ বরং তারা এখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন!

এক রহস্যময় ভালোবাসা পর্ব ৬৩