Home এমপি তামিম সরকার এমপি তামিম সরকার পর্ব ৯৮

এমপি তামিম সরকার পর্ব ৯৮

এমপি তামিম সরকার পর্ব ৯৮
কায়নাত খান কবিতা

” হয় পড়বি, না হয় হাল চাষ করবি! চয়েস তোগো!”
সরকার বাড়ির হল রুমে দাড়িয়ে ছয় শয়তানকে উদ্দেশ্য করে কথাটি বলে তামিম! সেদিন তাদের এতো ভালো রেজাল্টের পর তামিমের ব্যবহার খুব কঠিন হয়ে পড়ে! ছয় শয়তানের একজন ও এ+ আনতে পারলো না! এ+ না হয় হলো না, মিনিমাম ফোর পয়েন্ট তো আনতো! তার সম্মান একদম শেষ! সেটা তা ও তামিম মেনে নিয়ে ছিলো! কিন্তু আজকে তাদের এই কঠিন আবদার আর মানতে পারেনি!
ভর্তি কোচিং করবে না তারা। কারণ একটাই যতটুকু শিক্ষার প্রয়োজন, ততটুকু তারা নিয়েছে! এরপর সব বাড়তি পড়াশোনা। এগুলো তাদের লাগবে না! তখনই হলো তামিমের আসল রূপের বহিঃপ্রকাশ। কথা একটাই, হয় পড়, না হয় হাল চাষ করো! ব্যাস সকলের মুখে তালা পরে গেলো!

” হাল চাষ করার থাইক্কা, ফেল করা অনেক ভালো! ”
” ঠিক!”
” ঠিক!”
” সহমত সাকিব!”
” আমি ও এক মত!”
পঞ্চ পান্ডব তামিমের থ্রেট শুনে এক পায়ে রাজি হয়ে যায় ভর্তি কোচিং করার জন্য। কিন্তু বেঁকে বসে সুবহা! কারণ একটাই, সে ঘুরতে যাবে, আগে ঘুরিয়ে আনবে তারপর পড়াশোনা! কিন্তু তামিম তো তামিমই। কোনো ঘোরাঘুরি নয়। যেই রেজাল্টের সিরি! এই রেজাল্ট নিয়ে তারা মুখ দেখায় কীভাবে তামিম বুঝতে পারে না।
” তো, নেত্রী, আপনি রাজি? না-কি হাল চাষ করতে পাঠাবো?”
সুবহা কিছু না বলে মুখ বাকিয়ে উপরে চলে যায়। রাজি না হয়ে উপায় আছে। এমন শয়তান স্বামী যার কপালে রয়েছে, তার পড়াশোনা করতেই হবে।
” নেত্রী পালাইছে, তোরা ও পালা!”
তামিম নিজের চশমা চোখে পরে নিয়ে আবার ও বেরিয়ে পরে। সাথে পঞ্চ পান্ডব ও বেরিয়ে পরে! কারণ আজকে তাদের বিশাল সভা হওয়ার কথা। তাই সকলে মিলে বেড়িয়ে পরে জনসভায়।

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

আরশিনগরের সব থেকে বড় ময়দানটি হলো আরশি উদ্দান। হাজারের বেশি মানুষ এই এক ময়দানেই দাড়াতে পারতে। বিশাল মাঠের চারপাশে রয়েছে বড় বড় গাছ। সেখানে ও বসার ব্যবস্থা করা আছে। কিন্তু সমস্যা হলো এই ময়দানে সহজে কাউকে ঢুকতে দেওয়া হয় না। নেতাদের কাজে শুধু ব্যবহার করা হয় এই ময়দান। যেহেতু তানভীর সরকার এই নিয়ে তিনবার প্রধানমন্ত্রী হলেন, তাই তার দলের নেতা-কর্মিরা ছাড়া আর কেউ এই ময়দান ব্যবহার করতে পারে না।

দেখতে দেখতে জনসভা মানুষে মানুষে ভরে যায়। পা রাখার মতো ও জায়গা বের করা মুশকিল। তার উপরে বলা হয়েছে শুধু মাত্র যারা নেতার সাথে এইচএসসি ও পাশ করেনি। সেসব কর্মীদের আসতে হবে। আর সরকারের ছেলের এক নির্দেশনায় পুরো দেশের, নেতার পিছনে ঘোরা কম বয়সি সকলে এসে উপস্থিত হয়।
খোলা জীপে আরশি নগরের যুবরাজ ময়দানে এসে হাজির হয়। সাথে তার পুলিশ, সিকিউরিটি একদম কড়া নিরাপত্তা। তামিম আসার সাথে সাথে সকলে শিষ, হাত তালি এবং কেউ কেউ হাত তুলে স্লোগান ও দিতে থাকে।
তামিম এবং তার পঞ্চ পান্ডব এসে সোজা মঞ্চে উঠে যায়। তামিম এসে মাইকের সামনে দাড়ায়, তার পাশে পঞ্চ পান্ডব।

” নেতার পোলা বিদেশ যায়, আর তোরা সহমত ভাই,, পাশে আছি ভাই, আমার প্রিয় অভিভাবক বলে দিন কাটাছ! তোগো কী ঘরে বাপ-মা নাইরে? আমি তো অভিভাবক বলতে আমার আব্বাজানরে চিনি। তোরা আবার নেতারে কেমন আব্বা বানাস? মা বিয়া দিছিলি না-কি? ”
তামিমের কড়া কড়া ভাষণে একদম মর্গের মতো ঠান্ডা হয়ে যায় পুরো উদ্দান। লজ্জায় কারো মুখ দিয়ে একটা কথা ও বের হয় না।

” ফেসবুকে পোস্ট মারাস সহ যোদ্ধা, কই গেছিলি যুদ্ধ করতে? নাইজেরিয়া? পড়াশোনা কখনো করস তাইলে? রাতের বেলা হারিকেন জালাইয়া?
আজকের পর থেকে ইন্টার পাশের আগে কোনো পোলাপান যদি দেখছি রাজনীতিতে পা দিছোস, বিসমিল্লাহ বলে জেলে ভরা হবে। আগে শিক্ষিত হ, তারপর নেতা হওয়ার স্বপ্ন দেখ। তোরা রাস্তায় পায়ের নিচে মর’স, আর নেতার পোলা বিদেশে নাইট ক্লাবে ফু’র্তি করে। তারপর কী হয়? তোগো পরিবাররে কোটি কোটি টাকা দেওয়া হয়? খোঁজ ও নেওয়া হয় না! স্বার্থ শেষ খোদা হাফেজ। তাই ১৮ এর নিচে আর ইন্টার পাশের আগে যে রাজনীতিতে যোগ দিতে তাকে এবং তার পিয় অভিভাবককে পু’কি দিয়ে বাঁশ ভরা হবে। ”
নিজের চশমা খুলে আবার ও ফু দিয়ে পরে ফেলে তামিম।
” অকালে পাকিলে বা*ল, কাঁদতে হবে চিরকাল। ”
কথাটি বলেই নিজের ভাষণ শেষ করে বেরিয়ে পরে তামিম। সকলে তখন ও চুপ। কেউ ভাবতেই পারেনি। দিন দিন তামিম এমন স্বৈরাচা’রিতে পরিনত হবে। অবশ্য সে তো আর কোনো সাধারণ মানুষের ছেলে নয়, সয়ং প্রধানমন্ত্রীর ছেলে। যেখানে বাবার থেকে ছেলের পাওয়ার বেশি, সেখানে তার কথা অমান্য করার সাহস কারো নেই। তাই চুপচাপ থাকে সকলে।

সময় তখন রাত ৮: ৩০ মিনিট। তামিম এবং পঞ্চ পান্ডব বাড়ি এসেছে প্রায় ঘন্টা খানেক হতে চললো। সুবহাকে ভোলাতে তামিমের দুই মিনিট ও সময় লাগেনি। সুবহার রাগ গলে পানি হয়ে যায়। তাই তামিম এবং পঞ্চ পান্ডব মনের সুখে সরকার বাড়ির গার্ডেনের একপাশে বসে বি’ড়ি খাওয়ার পরিকল্পনা করে।
” একটা বি’ড়ি ধরারে। বউয়ের অত্যাচারে শান্তিতে বিঁ’ড়ি ও খাইতে পারি না। ”
তামিম নিজের সিগার ধরিয়ে টানতে থাকে। এবং পঞ্চ পান্ডব সিগা’রেট।
” আহ! কতদিন পর শান্তিতে টান দিতাছি।”
” কিন্তু ভাই বাড়িতে খান না ক্যালা?”
”’ তোগো ভাবি কসম কাটাইছে, যদি ধুম,পান করি আমার পিছনে আগুন জ্বালাইয়া দেশের বাইরে পাঠাইবো। ১৯/২০ ও করতে দিবো না শয়তান ছেমড়ি।”
তামিমের দুঃখ শুনে পঞ্চ পান্ডবের শুধু হাসিই আসে। কিন্তু হাসলে খবর আছে তাই চুপচাপ থাকে সকলে।কিন্তু সাকিব হাজার চেষ্টা করে ও নিজের মুখ সামলে রাখতে পারে না৷

” ভাই আমি ব্যবসা করুম।”
” কী ব্যবসা করবি তুই?”
” সিঁড়ির নিচে বিড়ির দোকান। ”
তামিম সহ বাকি চার জন খুব জোড়ে জোড়ে হেসে উঠে।
” বিঁ/ড়ি নিজে খাবি, না-কি বেচবি?”
” হাফ নিজে খামু, হাফ বিক্রি করমু!”
তামিম সাকিবের মাথায় চাটি মে’রে আবারো সিগা’র টানতে ব্যস্ত হয়ে পরে। ঠিক তখনই পরিচিত কন্ঠস্বর ভেসে আসে।

” তামিমমমমমম! আপনি কোথায়। ”
খুব আহ্লাদী সুরে সুবহা তামিমকে ডাকতে ডাকতে আসতে থাকে।
” কাম সারছে, এই জলদি বি/ড়ি লুকা। আমার বউ দেখলে খবর আছে। ”
তামিম সহ পঞ্চ পান্ডব তাড়াতাড়ি করে সব কিছু ঝোপে ফেলে দেয়।
” আমার মুখ দিয়ে গন্ধ বের হয়?”
” হো ভাই, বের হয়।”
তামিম তাড়াতাড়ি করে গাছ থেকে পেয়ারা পাতা নিয়ে চাবানো শুরু করে। সুবহা ও হেলে দুলে তামিমের কাছে আসতে থাকে। সুবহা কাছে আসতেই তামিম মুখ থেকে পেয়ারা পাতা ফেলে দেয়! ইতিহাসে মনে হয় এটাই প্রথম বার, এমপি তামিম সরকার বউয়ের ভয়ে সিগারেট ফেলে দিয়ে পেয়ারা পাতা চাবানো শুরু করে, যেনো মুখ থেকে বাজে ঘ্রাণ না আসে।
হাত বাড়িয়ে সুবহাকে ডাকে তামিম।

” আরে রাত পরী। আসো বুকে আসো।”
লজ্জায় লাল হয়ে যায় সুবহা। সবার সামনে তামিম তাকে বুকে আসার কথা বলায়, ভিষণ রকমের লজ্জায় পরে যায় সুবহা। কিন্তু তার খটকা ও লাগে।
” মুখ থেকে কি ফেললেন তামিম?”
মুখ ফসকে সাকিব বলে ফেলে, ‘পেয়ারা পাতা’
সুবহা অগ্নি দৃষ্টিতে তাকায় তামিমের দিকে। তারপর একদম কাছে এসে দাড়ায় তামিমের। তামিমের মুখ নিজের মুখের কাছে নিয়ে আসে সুবহা।
” এখনই ১৯/২০ করবা, রুমে গেলে হয় না?”
সুবহা তামিমের থেকে দূরে দাড়িয়ে পরে।
” আপনি আবার ও সিগা:রেট খেয়েছেন?”
” না বউ!”
” মিথ্যা একদম বলবেন না, এই যে বাজে স্মেল আসছে। মানে আমার কথার কোনো দাম নেই তামিম? প্রমিস করার পর ও বিঁ/ড়ি খাওয়া ছাড়লেন না?”
চোখে পানি চলে আসে সুবহার। কারণ সুবহা তামিমকে দিয়ে কসম কাটিয়ে ছিলো। কিন্তু তামিম তা রাখেনি।

এমপি তামিম সরকার পর্ব ৯৭

” তুমি শুধু আমার বিঁড়ি খাওয়ায় দেখলা সকাল? ভালোবাসাটা দেখলা না?”
” বি:ড়ি খাওয়ার সাথে ভালোবাসার কী সম্পর্ক তামিম?”
” যেখানে আমি বিঁ:ড়ি ছাড়তে পারি নাই, সেখানে আমি তোমাকে কীভাবে ছেড়ে দিবো বলো?”
তামিমের বি:ড়িময় লজিকের কাছে সুবহা আবার ও বোকা বনে যায়! আসলেই তো। এতো বলার পর ও যেখানে তামিম বিঁ:ড়ি ছাড়তে পারেনি৷ সেখানে তাকে ও তো কোনোদিন ও ছাড়তে পারবে না।

এমপি তামিম সরকার পর্ব ৯৯