এমপি রুশভিয়ান মির্জা পর্ব ২৬
ফাতেমা তুজ জোহরা
অনুর বাড়ির সকালটা সেদিন অন্যরকম ভাবে শুরু হয়েছিলো,সকালে সূর্যের আলো ভেদ করে ঘরের মেঝেতে এসে পড়েছে। রান্নাঘর থেকে ভেসে আসছে সকালের খাবারের গন্ধ । তখনই ইনানের ঘর থেকে বের হয়ে এলো বমি করার শব্দ । ইনান শক্ত করে বেসিন টাকে আকড়ে ধরলো । শরীর কাঁপছে, চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে, সাথে গলাটায় তীব্র জ্ব*লে যাচ্ছে । মনে হচ্ছে কেউ মরিচ দিয়ে রেখেছে তার গলায়। ইনান বেসিন থেকে ধীরে ধীরে সরে এসে গলা থেকে ওড়নাটা আলাদা করলো, প্রচন্ড গরম লাগছে তার। সে অ*বহে*লায় ওড়নাটা নিচে ফেলে কিছুক্ষণ একভাবে দাঁড়িয়ে থেকে ওয়াশরুম থেকে বের হতে নিলেই আবারও গা গুলিয়ে বমি চলে এলো, ইনান মুখে হাত দিয়ে বেসিনে হরহর করে বমি করতে লাগলো। সে কিছুই বুঝতে পারছে না, কেন এত বমি পাচ্ছে তার। কালকে রাতে খাওয়ার পর ও বমি করেছে আবার আজকে ও।
কিয়তক্ষন কেটে যাবার পর ইনান বাথরুমের দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে বসে পড়লো সে, কপাল ঘামে ভিজে গিয়েছে। ভেজা ছোট ছোট চুল গুলো কপালের সাথে লেপ্টে লেগে আছে তার। ইনান চোখ বন্ধ করলো কয়েকবার গভীর শ্বাস টেনে নেওয়ার চেষ্টা করলো সে। ইনান বুকের ভেতরের অস্বস্তি টা একটু কমে এলো যেন। ঠিক তখনই অনু দরজা ধাক্কা দিয়ে বলল,” ইনান!
ইনান কোন জবাব দিলো না বললে ভুল , সে জবাব দেওয়ার মতো অবস্থাতে ছিলো না। অনু আবার বলল,” ইনান দরজা খোলো? ইনান নিজেকে ধাতস্থ করে মেঝে ধরে আস্তে আস্তে উঠে দাঁড়িয়ে এগিয়ে গেল দরজার দিকে। দূর্বলহাতে দরজাটা খুলে দিল,অনু ঘরে প্রবেশ করেই উদ্বীগ্ন হয়ে বলল,” তুমি ঠিক আছো ইনান?
ইনান কিছু বলতে নিলেই আবারো তার মাথা চক্কর দিয়ে উঠলো অনু এগিয়ে গিয়ে ইনান কে শক্ত করে আকড়ে ধরলো । ইনান পুরো শরীর এলিয়ে দিলো অনুর উপরে, অনু সযত্নে আগলে ধরে তাকে বিছানায় শুয়ে দিলো।
অনু একটা শুকনো তোয়ালো এনে ইনানের মুখটা মুছিয়ে দিতে লাগলো।এরইমধ্যে ইনান জিজ্ঞেস করলো,” আপু আমার কেন এত বমি পাচ্ছে? অনুর হাত এক লহমায় থমকে গেল। চোখের সামনে ভেসে উঠলো রিপোর্ট, তার সাথে দুটো ভ্রু*ন আর দুটো অনাগত প্রান। যার সম্বন্ধে ইনান নিজেও জানে না। অনু নিজের মুখটা স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করে বলল,” তোমার শরীর এখনো সুস্থ হয়নি। আর অনেকগুলো ওষুধ খাচ্ছো তার প্রভাব হবে ইনান”। ইনান নিজের মনে বিরবির করে বলল,” ওষুধের জন্য। অনু মুখ মুছতে মুছতে পুনরায় বলল,” কিছু ওষুধ খেলে বমি বমি ভাব হয়, তুমি চিন্তা করো না ” বলেই তোয়ালেটা পাশে রেখে আবারও বলল,” আমি খাওয়ার নিয়ে আসছি, আর তুমি বিছানা থেকে নামবে না। ইনান মাথা নাড়িয়ে চোখ দুটো বন্ধ করলো, খুব ক্লান্ত লাগছে তার। এমনকি সারা রাতটুকু ঘুম আসছে না, মনের মধ্যে এক তী*ব্র দ*হ*নের সৃষ্টি হচ্ছে চোখ বন্ধ করলেই।
সকাল থেকেই রুশভিয়ানের অবস্থা খুব একটা ভালো না, প্রথমে তার শ্বাস প্রশ্বাস অস্বাভাবিক ভাবে ভারী হয়ে যাচ্ছে। বুকটার উঠানামা কখনো ধীরে হচ্ছিল, আবার কখনো আস্তে হচ্ছিল । শরীরের তাপমাত্রা হু হু করে একাবার বেড়ে যাচ্ছে তো পরক্ষণেই ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে । আর এখনো কানের পাশ দিয়ে ফোঁটা ফোঁটা রক্ত গড়িয়ে পড়ছে নিচে। সকাল থেকে সায়েরা আর আমির এদিক ওদিক ছুটে বেড়াচ্ছে। তারমধ্য রুশভিয়ানের পাদুটো ফুলে গিয়েছে। রুশভিয়ানে চোখ বন্ধ, কোন সাড়া নেই, এরইমধ্যে কেবিনে প্রবেশ করলো সায়েরা বেগম, প্রবেশ করতেই রুশভিয়ানের দিকে তাকাতেই তার বুকটা হু হু করে উঠলো, সে এগিয়ে গিয়ে শক্ত করে রুশভিয়ানের হাতটাকে আকড়ে ধরলো। তক্ষুনি কেবিনে প্রবেশ করলো ডাক্তার সে রুশভিয়ানে সবকিছু চেক করে সায়েরা বেগমের দিকে তাকিয়ে বলল,” ওনার অ*ব*স্থা ভালো না। জ্ঞান ফেরার পর ও নিজের শরীরে অনেক চাপ দিয়েছে । ক্যানুলা খুলে ফেলেছিলো, একা দাঁড়ানোর চেষ্টা। পড়ে গিয়ে মাথাতে আ*ঘা*ত পাওয়া। এর জন্য ওর শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাচ্ছে । আর নিউ*রোল*জিকাল অবনতি হচ্ছে । এখানে আমরা যতটুকু চিকিৎসা দেওয়ার দিয়েছি কিন্তু ওনাকে উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার জন্য ঢাকায় নিয়ে যেতে হবে। ঢাকা জেনারেল হাসপাতালে নিউ*রোসা*র্জারি ও ক্রি*টি*ক্যা*ল কেয়ারে সুবিধা আছে। সেখানে আমি সব ব্যবস্থা করে রেখেছি আপনারা বেরিয়ে পড়ুন, ওখানে আমার জুনিয়র ডাক্তার অনু আছে ও সব সামলে নিবে!সায়েরা বেগম চোখের কোনে পানি জমলো, সে হাতের উল্টো পিঠে পানি টুকু মুছে বলল,” ঠিক আছে “ডাক্তার বেরিয়ে গেলেন, প্রবেশ করলো নার্স তারা রুশভিয়ান কে তৈরি করতে লাগলো বাইরে নিয়ে যাওয়ার জন্য।আর হাসপাতালের কতৃপক্ষ দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করতে লাগলো।রুশভিয়ানের রি*পোর্ট, আগের চিকিৎসার কাগজ গুলো রেডি করতে লাগলো। আর সায়েরা আমির কে ফোন করে গাড়ি বের করতে বলল, এক্ষুনি ঢাকায় রওনা দিবে রুশভিয়ান কে নিয়ে।
দুপুর তিনটা,,অনু মনের অনিচ্ছায় সত্বেও ইনান কে নিয়ে এসেছে গাইনোকলজি ডাক্তার নায়েরা কবিরের কাছে। নায়েরা ইনানের ফর্সা মুখটা আগের থেকে কালো হয়ে গিয়েছে একদিনের ব্যবধানে। অনু ইনান কে নিয়ে নামতেই সেখানে হাঁপাতে হাঁপাতে হাজির হলো ইউসুফ। পুরো শরীর থরথর করে কাঁপছে তার। এগিয়ে এসে ইনানের হাতটা শক্ত করে আকড়ে ধরলো হকচকিয়ে গেল ইনান চকিত মুখ তুলে দেখলো তার মামা ইউসুফ। যার পুরো মুখে ভ*য়া*র্ত তৈরি হয়ে আছে। অনু তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে ইউসুফের দিকে তাকিয়ে বলল,” কি হয়েছে, আপনি এত হাঁপাচ্ছেন কেন?
ইউসুফ কপালের ঘাম গুলো রুমাল দিয়ে মুছে বলল,” ওদিকে যাবেন না? ওখানে অনেক পুলিশ আছে? আর আপনিতো জানেন বাকি টুকু?
অনু বুঝতে পারলো ইউসুফের ভ*য়*টা, পুলিশ আছে মানেই তাদের কাছে ইনানের ছবি আছে, আর তারা ইনান কে ধরে নিয়ে যেতে পারে । কিন্তু ইনান কিছু বুঝতে পারলো না, সে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো তার মামার মুখের দিকে। এরইমধ্যে সেখানে উপস্থিত হলো মাহবুব মুখে চিন্তার ছাপ তার। সে অনুর দিকে তাকিয়ে বলল,” সিলেটের এম এ জি হাসপাতাল থেকে একজন রোগী আসছে, অবস্থা খুব একটা ভা*লো না,তুই তাড়াতাড়ি আয় ” বলেই ঝড়ের বেগে চলে গেল মাহবুব। অনু পড়লো দ্বিগুন জ্বা*লা*য়, এখন ইনান কে নিয়ে নায়েরা কবিরের কাছে যাবে, না ওইদিকে যাবে। অনু একটা কার্ড বের করে এগিয়ে দিয়ে বলল,” আপনারা পিছনের গেটে গিয়ে এই কার্ডটা দেখাবেন, তারপর আমার জন্য আমার কেবিনে অপেক্ষা করবেন ” অনু কথাটা বলে সামনে এগিয়ে গেল, আর ইউসুফ ইনান কে নিয়ে এগিয়ে গেল পিছনের গেট দিয়ে।
হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগের সামনে তখন মুহূর্তের পরিস্থিতি বদলে গেছে। দূর থেকে অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন শব্দ ক্রমশ তীব্র হচ্ছে । হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিলো। কয়েকজন পুলিশ সদস্য ইতোমধ্যে হাসপাতালের ভেতরের প্রবেশ পথ পরিষ্কার
করে রেখেছে। কারন যে রোগীকে এখন হাসপাতালে আনা হয়েছে তিনি সাধারন কোন রোগী নন। তিনি দেশের একজন সংসদ সদস্য এমপি রুশভিয়ান মির্জা। তার উপর হা*ম*লা*র খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই প্রশাসনের মধ্যে তৎপরতা শুরু হয়েছে। রুশভিয়ানের ব্যাক্তিগত নিরাপত্তা রক্ষীরা ও আগ থেকেই হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করছে।
হাসপাতালের প্রধান ফটকের বাইরে তখন একের পর এক সাংবাদিকদের গাড়ি এসে থামছে। ক্যামেরা, মাইক্রোফোন, হাতে সাংবাদিকরা ব্যারিকেডের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। কেউ লাইভে যাচ্ছে, কেউ ফোনে সাংবাদ কক্ষে আপডেট দিচ্ছে, কেউ আবার ক্যামেরাম্যানকে নির্দেশ দিয়ে বলছে, ” গেটের দিকে ক্যামেরা রাখো, অ্যাম্বুলেন্স ঢোকার সাথে সাথে শট নিবে। এরইমধ্যে হাসপাতালে প্রবেশ করলো রুশভিয়ানদের অ্যাম্বুলেন্স।পুলিশ গুলো সবাইকে সরাতে উদ্যত হলো, সাংবাদিকরা ক্যামেরা হাতে অ্যাম্বুলেন্সের দিকে ফোকাস করলো। কয়েকজন ওয়ার্ড বয় ছুটে এলেন । খুলে দেওয়া হলো অ্যম্বুলেন্সের দরজাটা বের করে আনলো রুশভিয়ানকে ওয়ার্ড বয় গুলো। আমির আর সায়েরা ছুটে এসে রুশভিয়ানের ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে পড়লো। রুশভিয়ানের মুখটা অস্বাভাবিক ফ্যাকাশে হয়ে আছে, কপালের একপাশে মোটা ব্যান্ডেজ, কানের পাশ দিয়ে শুকিয়ে যাওয়া র*ক্তে*র দাগ এখনো স্পষ্ট, হাতে ক্যানুলা লাগানো, অক্সিজেন সার্পোট দেওয়া আছে, বুকের সঙ্গে মনিটরিং তার লাগানো ।তাকে দ্রুত নিয়ে যাওয়া হলো আইসিইউ দিকে।
ঠিক তখনই হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের দরজা দিয়ে দ্রুত প্রবেশ করে এলো অনু। সে সঙ্গে সঙ্গে স্ট্রেচারে পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে বলল,” রোগীর বর্তমান ভায়টালস বলুন।
একজন নার্স পাশ থেকে বলল,” ব্লা*ড প্রেসার কম,শ্বাস প্রশ্বাস অনিয়মিত, অক্সিজেন সার্পোট চলছে, কিন্তু জ্ঞান নেই। অনু রুশভিয়ানের চোখের মনি পরীক্ষা করলেন। তারপর কপালের ব্যান্ডেজের দিকে তাকিয়ে বলল,” মাথার আ*ঘা*তে*র জায়গাটা আবার পরীক্ষা করতে হবে। আর রিপোর্ট গুলো আছে?একজন নার্স বলল,” হ্যাঁ আছে?
অনু হাত বাড়িয়ে রিপোর্ট গুলো, স্কানের কাগজ গুলো,ওষুধের তালিকা সবকিছু চোখ বুলিয়ে বলল,”ওনার কি একবার ও জ্ঞান ফিরেছিলো” একজন বলল, ” জি!
অনু বলল,” ঠিক আছে, সবকিছু প্রস্তুত করুন? আমি নিউ*রোসা*র্জারি টিমের সাথে কথা বলে আসছি আর ক্রি*টি*ক্যা*ল কেয়ার ইউনিট প্রস্তুত করুন ” বলেই বাইরে চলে গেল।
ইনান বসে থাকতে থাকতে বিরক্ত হয়ে উঠলো। সে ঘুরিয়ে দোতলা থেকে গেটের দিকে তাকিয়ে আছে , আর এদিকে ইউসুফ বারবার কাউকে ফোন করছে আবার কেটে দিচ্ছে এভাবে কিয়তক্ষন কেটে যাবার পর ইউসুফ ইনানের দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে বলল,” আম্মু আমি একটু আসছি, তুমি এইখানে বসে থাকো কোথাও যাবে না। ইনান মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বোঝালো। ইউসুফ তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে গেল কেবিন থেকে আর ইনান কেবিনের জানলা দিয়ে ব্যাস্ত গেটের দিকে তাকিয়ে রইলো।
ইউসুফ তাড়াহুড়ো করে এগিয়ে গেল গেটের দিকে , এমন সময় তার ঘাড়ে কেউ হাত দিয়ে বলল,” ইউসুফ?
ইউসুফ পিছনে ফিরে দেখলো একজন বয়স্ক লোক, লাঠিতে ভর করে দাঁড়িয়ে আছে, তার পাশে একজন লোক দাঁড়িয়ে আছে। পরনে পাঞ্জাবি আর পাজামা । ইউসুফ চিন্তে পারলো না, কে লোকটা। লোকটা হেঁসে বলল,” আমি আইয়ুব মির্জা আপনে কল কইরা ছিলেন? ইউসুফ মুখে স্বস্তির ছাপ স্পষ্ট ভাবে ফুটে উঠলো, সে হাতবাড়িয়ে আইয়ুব মির্জাকে সালাম দিয়ে বলল,” আমি ইউসুফ, আসলে আপনাকে চিন্তে পারেনি তাই জন্য সরি ” আইয়ুব মির্জা হালকা হেঁসে বলল,” হইছে আপনারে আর কিছু বলা লাগবো না। আর আামাদের কি আগে দেখা হইছে, হইনি তো, তা হইলে এত কথা কইতে হবে।
ইউসুফ মাথা চুলকে বলল,” ঠিক আছে?
আইয়ুব মির্জা বললেন, ” তা ইশিতা কই, ওরে তো কোথাও দেখতাছি না?
ইউসুফের মুখের হাসিটা দপ করে নিভিয়ে গেল, সে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইলো, সে সহসা বলতে পারলো না আপনাদের মেয়ে সতেরো বছর আগে মা**রা গিয়েছে?
আইয়ুব কপাল কুচকে বলল,” কি হইলো?
ইউসুফ আমতা আমতা করে বললো,” ইশিতা আজ থেকে সতেরো আগেই মা**রা গিয়েছে তার মেয়ে ইনান কে জন্ম দিতে গিয়ে? ইউসুফ একে একে সবকিছু বুঝিয়ে বলতে শুরু করলো আইয়ুব মির্জাকে কিন্তু চেপে গেল ইনানের গর্ভবতী হওয়ার বিষয়টা। তার স্ত্রী যে ইনানের নামে মামলা করেছে এটাও বাদ দেয়নি।
আইয়ুবের চোখের কোনে হালকা হালকা পানি জমতে শুরু করলো,ইশিতা কত আদর সোহাগ দিয়ে বড় করেছিলো, যা চাইতো তা এনে দিতো কিন্তু মেয়েটা ভালোবাসার মানুষের হাত ধরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেল। পুরো রুপনগর তন্নতন্ন করে খুঁজেছে কিন্তু কোথাও পায়নি। পরে ভেবেছিলো হয়তো একদিন ঠিক ফিরে আসবে কিন্তু বিশ বছর পেরিয়ে যাবার পর ও যখন ফিরে আসেনি তখন ভেবেছিলো হয়তো তাদের ভুলে গেছে। কিন্তু কালকে ইশিতার খবর শুনে সে খুশিতে কান্না করে দিয়েছিলো। কিন্তু আজকে শুনতে পেল মেয়েটা নাকি সতেরো বছর আগে নাকি মা*রা গিয়েছে। আইয়ুব মির্জার পুরো শরীর কেঁপে উঠলো, তাকে পিছন থেকে লোকটা আকড়ে ধরলো। আইয়ুব মির্জার চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়লো, সে কাঁপা কাঁপা হাতে মুছে সামনে তাকিয়ে আশ্চর্য হলো। সামনে আমির বসে আছে স্টিলের বেঞ্চে তার পাশে বসে আছে সায়েরা। হ্যাঁ আইয়ুব মির্জার চিন্তে এতটুকু ভুল হয়নি। মুহুর্তের মধ্যে ইশিতার কথা ভুলে তার মস্তিষ্ক হানা দিলো তারার কথা। যে আজকে সকালে বলেছে রুশভিয়ান নাকি হাসপাতালে মৃ*ত্যু*র সাথে ল*ড়া*ই করছে বাঁচবে কি না তা সন্দেহ। আইয়ুব তারার কথা পাত্তা দেয়নি কারন তারা সবসময় এমন উদ্ভট কথা বলেই থাকে, পরে দেখা যায় রুশভিয়ান ঠিক ফিরে আসে।
কিন্তু সায়েরা আর আমির কে বি*ধ্ব*স্ত অবস্থায় বসে থাকতে দেখে তার মনে অজানা ভ*য় গেড়ে বসলো তাহলে কি সত্যিই রুশভিয়ানের কিছু একটা হয়েছে। আইয়ুব মির্জার চোখের দৃষ্টি অনুসরন করে ইউসুফ সামনে তাকালো কিন্তু কিছুই বুঝতে পারলো না, ওখানে একজন যুবক,আর মধ্যবয়স্ক মেয়ে বসে আছে সেদিকে কেন তাকিয়ে আছে বুঝতে পারলো না।
আইয়ুব মির্জা তার পাশের লোকটার উদ্দেশ্য বলল,” ওটা আমির, আর সায়েরা না? লোকটা চোখ ছোট ছোট করে ভালো করে তাদের পর্যবেক্ষন করে বলল,” হ্যাঁ গো দাদা ওটা তো ছোট সাহেব, আর ডাক্তার আপা? কিন্তু হেরা এইহানে কি করতাছে?
আইয়ুব আর দাঁড়ালো না,সে লাঠিতে ভর করে এগিয়ে গেল। পিছন পিছন ইউসুফ আর ওই লোকটা।
আজকে ভোরে যখন শুনেছিলো ভাই আগের থেকে সুস্থ হয়ে গিয়েছে,তার জ্ঞান ফিরে এসেছে তখন পুরো হাসপাতালে সে মিষ্টি বিতরন করতে ভুলেনি। কিন্তু পরক্ষণেই ভাইয়ের শরীরের এমন অবনতি শুনে তার পুরো পৃথিবীটা নাড়িয়ে দিয়েছিলো। সে মৃগী রোগীর মতো পুরো হাসপাতালে ছুটে বেড়াচ্ছিল। আমির তখন গভীর চিন্তায় , মাথা নিচু করে বসে ছিলো তখন কাঁধে কারো স্পর্শ পেয়ে সে তার পুরো শরীর কেঁপে উঠলো। হকচকিয়ে মাথা উঁচিয়ে দেখতে সে যেন নিজের চোখ কে বিশ্বাস করতে পারলো না। এখানে তার দাদু আসলো কিভাবে এই কথাটা তার মস্তিষ্কে গিয়ে তীব্রতর ভাবে আ*ঘা*ত করলো। আমির আর সায়েরা ইচ্ছে করেই তার দাদুকে তার ভাইয়ের কথাটা বলেনি। রুশভিয়ান কে তার দাদু অনেক ভালোবাসে সে যদি জানতে পারে তাহলে মনে অনেক বড় আ*ঘা*ত পাবে। এমনিতেই আরিয়ানের শরীরের অবস্থা দিনের দিনের খারাপের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এখন আবার রুশভিয়ানের এ*ক্সি*ডে*ন্টে*র কথা শুনলে নিশ্চিত কিছু একটা হয়ে যাবে।
আইয়ুব শান্ত গলায় বলল,” এইহানে ক্যান তুই, আর রুশভিয়ান কই আছে?
আইয়ুবের প্রশ্নটা আমিরের অন্তর আত্মায় গিয়ে আ*ঘা*ত হা*ন*লো। সে নিজেকে সামলে কিছু বলার আগেই পাশ থেকে সায়েরা বলল,” আমি আমির নিয়ে কিছু ওষুধ আনতে এসেছি চাচা?
আইয়ুব মির্জা ভ্রু কুচকে তাকালো সায়েরার দিকে তার যেন কথাটা বিশ্বাস হলো না কথাটা। সে জানে সায়েরার সাথে রুশভিয়ানের সম্পর্কে কখনো ভালো না, তার দুজন
সায়েরা আইয়ুবের চোখের চাহনী বুঝতে পারলো, তার কথাটা বিশ্বাস করেনি। তাই সায়েরা একটু এগিয়ে এসে ঠোঁটে জোরপূর্বক হাসি টেনে বলল,” কি বলেন তো চাচা, সিহাব হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে গেল, তখন কি করবো বুঝতে না পেরে রাস্তায় আমির কে পেয়ে তাকে নিয়ে এসেছি। আর আপনি তো জানেন আমিরের মনটা কতবড় হাজার শ*ত্রু*তা থাকলে ও সে সবার কথা শুনে এবাং সবার বি*প*দে আগে এগিয়ে আসে তাই ওকে নিয়ে এসেছি কিন্তু রাস্তায় আরিয়ানের মতো একজন অসুস্থ ছেলেকে দেখে ছেলেটা কি যে কান্না কাটি শুরু করলো, আপনি দেখুন ওর মুখ চোখের অবস্থা। আর আমার থেকে আপনি ভালো জানেন চাচা ওর সমন্ধে ” বলেই শুকনো হাসলো সায়েরা, কিন্তু তার কপাল দিয়ে দরদর করে ঘাম বের হচ্ছে । এরপর কি হবে তার ভয়ে।
সায়েরার কথাগুলো কেন জানি আইয়ুবের কাছে একচুল ও মিথ্যা লাগলো না। সায়েরা যেগুলো বলেছে সেগুলো সব সত্য কথা। আইয়ুব মনে মনে আল্লাহ ডাকলো তার সন্দেহ ভুল হওয়ার জন্য। তারপর অস্ফুটে স্বরে বলল,” ওহ্.
আইয়ুবের দুই অক্ষরের শব্দটা শুনে সায়েরা আর আমিরের বুক থেকে যেন বিশাল বড় পা*থ*র নেমে গেল। যাক তাহলে কথাটা বিশ্বাস করলো।
এমপি রুশভিয়ান মির্জা পর্ব ২৫
আমির এগিয়ে গিয়ে বলল,” কই যাবা দাদু?
আমিরের কথাটা শুনে মনে পড়লো ইশিতার কথা, পরক্ষণেই মনে পড়লো ইশিতার নাকি একটা মেয়ে আছে, এই ভাবনাটাতে তার মুখে এক চিলতে হাসি ফুটিয়ে বলল,” আমাদের রুশার বড় মাইয়া ইশিতার খোঁজ পাওন গেছে আর হের নাকি একটা মাইয়া ও আছে? …..
কেউ আ*জেবা*জে ক*মেন্ট করবেন না, হয়তো প্রথমে কনফিউশান হবেন, বাট পরে সব ক্লিয়ার হবে
