Home এমপির অবাধ্য বউ এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ১০

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ১০

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ১০
সুহাসিনী

রাহি ওয়াশরুমের দরজা বাইরে থেকে লাগিয়ে দিলো। একটা বড়ো সাইজের অন্তর্বাস (ইনার)বের করলো রাহি। দেখেই কেমন তার নাক মুখ কুচকে গেলো।এটা বিয়েতে তার বেস্ট ফ্রেন্ড নিপা তাকে উপহার হিসেবে দিয়েছে। প্রথমে না নিতে চাইলেও বান্ধবীর জোরাজোরিতে নিতে বাধ্য হয়েছে।
সে ড্রেস চেঞ্জ করার জন্য একটা সুন্দর গাউন বের করলো। তারপর সেগুলো পরে একটু সাজতে বসলো।তার আগেই ওয়াশরুমের দরজায় প্রেম ধাক্কাতে লাগলো।রাহি কোনমতে কাজ শেষ করে দরজা খুলে দিলো।
রাহিকে বেশ সুন্দর লাগছে। ফোম ইনার পড়ার কারণে কেমন যেনো সবকিছু বড় বড় লাগছে।প্রেম রাহির দিকে ভ্রু কুচকে তাকিয়ে রইলো।গম্ভীর গলায় বলল,

“মাথায় কি সমস্যা আছে?”
রাহি বোকার মতো বললো,
“আমি আবার কি করলাম?”
“দরজা আটকে ছিলে কেনো? আর এরকম সং সেজেছো কেনো?”
রাহি মুখ ফুলিয়ে বললো,
“আমাকে এতো সুন্দর সাজ আপনার পছন্দ হলো না?”
“নাহ্ হলো না। বাই দ্যা ওয়ে তোমাকে এমন অন্যরকম লাগছে কেনো?কি করেছো শরীরে?”
রাহি লজ্জার ভাব করে বললো,
“আপনার জন্য একটা স্পেশাল সারপ্রাইজ আছে। আগে খেয়ে নিন।আসুন।”
প্রেম আর কথা বাড়ালো না। চুপচাপ খেয়ে নিলো।
খাওয়া শেষ করে একটা কল এটেন্ড করতে বারান্দায় চলে গেলো প্রেম। রাহি সবকিছু গুছিয়ে রাখলো।কিছুক্ষণ পর এসে খাবারের ট্রে নিয়ে গেলো কাজের লোক।
প্রেম প্রায় পনেরো মিনিট সময় ধরে কথা শেষ করে কল কেটে রুমে এসে দেখলো রাহি পুরো রুম অন্ধকার করে রেখেছে। ডিম লাইটও অফ।প্রেম গিয়ে রুমের ডিম লাইট অন করলো।রাহিকে রুমে দেখতে না পেয়ে ভ্রু কুঁচকে গেল তার।বেশিক্ষণ না ভেবে প্রেম গিয়ে শুয়ে পড়লো।সে ভাবলো রাহি হয়তো আজকেও আয়েশার সাথে ঘুমাবে। তাই বেশি ভাবলো নাহ্।

আয়েশার ফোন বাজছে। কিছুক্ষন আগেই শান্তকে অনেক কটু কথা শুনিয়েছে সে বার বার কল করার কারণে।এখন নিজেই কষ্ট পাচ্ছে।
রাহি আয়েশার রুমে ঢুকে তাকে মন খারাপ করে থাকতে দেখে বলল,
“কি গো আপু,তোমাকে কিন্তু আমার মন খারাপ করে থাকতে দেখতে একটুও ভালো লাগে না।কি হয়েছে? শান্ত ভাইয়া কিছু বলেছে তোমাকে?”
“নাহ্ রাহি। আমার মন খারাপ এর কারণ তো আমি নিজেই।”
“কি হয়েছে বলবে প্লীজ।শুধু একবার বলো কি হয়েছে দেখবে আমি এক তুরি মেরে তোমার মন খারাপ ভালো করে দিবো।”
আয়েশা সব বললো রাহিকে।রাহি সব শুনে বললো,

“আরে এটা তো কোনো বিষয়ই না। শান্ত ভাইয়া তোমাকে চিনে।উনি তোমার কথায় একটুও রাগ করেনি।তবুও যদি তোমার খারাপ লাগে তাহলে তুমি ফোন করে একবার সরি বলে দাও। দেখবে শান্ত ভাইয়া খুবই খুশি হবে।”
“সরি বললে ওর রাগ কমবে তো রাহি।”
“কমবে কমবে।না কমে যাবে কোথায়।”
“আচ্ছা ”
“তোমার কাছে একটা পরামর্শ নিতে আসছিলাম আপু।”
“কিসের পরামর্শ রাহি?”
“কি করে বলবো বুঝতে পারছি না।খুবই লজ্জা করছে আমার ।”
“ওমা আমার রাহিও দেখি লজ্জা পাই।”
রাহি মুখ ফুলিয়ে বললো,
“এটা কি বললে আপু,আমার কি লজ্জা নেই?”
“আছে তো। ওটাই তো দেখতে পাচ্ছি।”
“আসলে আজকে তোমার ভাইয়ার কাছে একটা আবদার করতে চাচ্ছি।”
“কি আবদার করবে তুমি?”
কানে কানে আয়েশাকে তার প্ল্যান জানায় সে। আয়েশা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে,
“আজকে এটা চাইবে কেনো তুমি?তোমাদের মধ্যে এখনও কিছুই হয়নি?”

“নাহ্,তোমার ভাই তো আস্ত একটা আনরোমান্টিক বেটা।চুমুর বদলে আমাকে কামড় দিয়েছে, খবিশ লোক একটা।তার কাছাকাছি গেলে এমন ভাবে দূরে সরে যায় মনে হয় মেয়েদের কাছাকাছি গেলে এলার্জি হবে।”
“ভাইয়া আগে থেকেই এমন।কিন্তু সে যে বউ এর সাথেও এমন করবে ভাবতে পারিনি।”
“হুম,আচ্ছা দেখো তো আমাকে এখন বড় বড় লাগছে না?”
“হুম।আমার না তোমাকে দেখে খুব লজ্জা লাগছে।যায় বলো তোমাকে কিন্তু সুন্দর লাগছে। ভাইয়াকে সিডিউজ করার জন্য পারফেক্ট।”
“কিযে বলো না তুমি।আচ্ছা এখন আমি যায়।তোমার খবিশ ভাই আবার ঘুমিয়ে পড়বে।”
“আচ্ছা যাও।আমিও ওকে সরি বলি।”
“আচ্ছা।”

প্রেমের চোখ লেগে এসেছে।অন্ধকার রুমে কে যেন ঢুকলো।প্রেম চোখের উপর হাত দিয়ে ঘুমাচ্ছে।করো ঠাণ্ডা হাতের স্পর্শে প্রেমের হালকা ঘুম ছুটে গেলো।কিন্তু নড়াচড়া করলো না।সে ভাবলো হয়তো রাহি এমন করছে।মেয়েটার মাথায় কখন কি ঘোরে বুঝা দায়।
কিন্তু রাহির বদলে প্রেমের পাশে বসে আছে আশা।সে রাহিকে আয়েশার রুমে যেতে দেখেই এখানে এসেছে।সেও ভেবেছে রাহি আজকে আয়েশার রুমে থাকবে।
আশা প্রেমের গালে হাত রেখে ফিসফিস করে বলল,
“লাভ ইউ প্রেম।কেনো তুমি আমার হলে না?ওই শয়তান বিচ্ছু মেয়েটা কি করে তোমার বউ হলো জান?আমি ওকে ছাড়বো না।তোমাকে আমি আমার করেই ছাড়বো।”
প্রেম এবার আর চুপ থাকলো না।এক্ষুনি আশা প্রেমকে চুমু খেতে যাচ্ছিলো।কিন্তু প্রেম কপাল থেকে হাত সরিয়ে আশাকে ধাক্কা দেওয়ার আগেই আশার চিৎকার কানে এলো তার।প্রেম শুয়া থেকে উঠে রুমের লাইট অন করলো আগে।দেখলো রাহি আশার চুলের মুঠি ধরে রাগে গজগজ করছে।আশা অনবরত চিৎকার করছে ছেড়ে দেওয়ার জন্য।রাহি রাগে রিরি করতে করতে বললো,

“তোর সাহস দেখে আমি অবাক হচ্ছি। আমার জামাই এর দিকে নজর দিয়ে খুব বড় ভুল করলি কাল নাগিনী।আজকে তোকে আমি মেরেই ফেলবো।এই রাহি সব মেনে নিবে কিন্তু তার এমপি সাহেব এর বিষয়ে কারো সাথে কম্প্রোমাইজ করবে না।আমাকে ছোট ভেবে ভুল করেছিস।আজকে তোর বিষ দাঁত ভাঙবো আমি কালনাগিনী।”

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৯

রাহির এই রূপ দেখে প্রেমে চোখ কঠোর থেকে বেরিয়ে আসার উপক্রম।এই মেয়েকে কি ভেবেছিল সে আর এই মেয়ে তো আস্ত একটা জল্লাদ। তার এতো সুন্দর বউ এর মাঝে যে এমন জল্লাদ একটা চরিত্র আছে এটা ভেবেই তার ঘাম ছুটে যাচ্ছে। এই মেয়ে বয়সের তুলনায় একটু বেশিই পেকে গেছে।আবার মনে হচ্ছে শক্তিটাও একটু বেশি।নয়তো আশার মতো একটা এতো বড় মেয়েও তার কাছে নেতিয়ে গিয়েছে।

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ১১

1 COMMENT

Comments are closed.