Home কি করিলে বলো পাইবো তোমারে কি করিলে বলো পাইবো তোমারে পর্ব ২

কি করিলে বলো পাইবো তোমারে পর্ব ২

কি করিলে বলো পাইবো তোমারে পর্ব ২
মুনমুন বুড়ি

বিষণ্ন মনে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ায় মিহি। সময়টা শরৎকাল। দূরের শিউলি ফুলগাছগুলো ভীষণ সুন্দর লাগছে। বাতাসে ভেসে আসছে শিউলি ফুলের সুবাস।
— মনি, আমি কি আসব?
পুরুষালী কণ্ঠটা কানে আসতেই পেছনে ঘুরে তাকায় মিহি। দরজার কাছে দাঁড়িয়ে আছে তার মনের মানুষ। অথচ আজ তাকে দেখে গলা দিয়ে কোনো কথা বের হচ্ছে না। সবকিছু জানার পরও কি এই মানুষটা মিহিকে মেনে নেবে? এই ভাবনাই মিহির মাথায় ঘুরছিল।
মিহির ভাবনা ছেদ করে আবার কৌশিক বলে ওঠে

— কী হলো মনি, আজকে আসতে বলবে না? আচ্ছা তুমি কি কোনো কারণে আমার ওপর রাগ করেছ?
কথা বলতে বলতেই এগিয়ে আসে কৌশিক। মিহির একদম কাছে এসে চোখে চোখ রাখে। কিন্তু আজ মেয়েটা কৌশিকের দিকে ঠিকভাবে তাকাচ্ছেই না।
— কী হলো মনি, কথা বলো আমার সাথে। প্লিজ চুপ করে থেকো না। এতদিন পর তোমার সাথে দেখা হয়েছে, আর তুমি কথা বলবে না?
কৌশিকের এত আবেগপূর্ণ কথার মাঝেও মিহি আজ নির্বিকার। শেষমেশ দীর্ঘশ্বাস ফেলে কৌশিক। অসহায় কণ্ঠে মিহিকে বলে

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

— ঠিক আছে, তুমি যখন কথা বলতে চাও না, আমি চলে যাচ্ছি।
কৌশিক সামনে দিকে এক পা বাড়াতেই তার শার্টে টান পড়ে। তৎক্ষণাৎ থেমে যায় সে। প্রেয়সীর দিকে ফিরে তাকিয়ে দেখে, মিহি তাকিয়ে আছে আকুতিভরা চোখে। কৌশিক মিহির গাল ধরতে যেতেই পেছন থেকে শোনা যায়—
— কৌশিক ব্রো, কী করছ তুমি?
কৌশিক আর মিহি একসাথে দরজার দিকে তাকিয়ে দেখে, অভ্র দরজার সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, মুখে কুটিল হাসি।

— কন্ট্রোল ব্রো, কন্ট্রোল। তুমি তো দেখি সুযোগ পেলেই আমার সো করব শালির কাছে চলে আসো। জানো তো, শালী আধি ঘরওয়ালী। তো আমাকে দিবে নাকি অর্ধেক ভাগ? অবশ্য আমাকে দেওয়ার দরকার নেই, আমি নিজেরটা নিজেই নিয়ে নিই। কী মিহি?
অভ্র মিহির দিকে তাকিয়ে এক চোখ মেরে কথাটা বলে। মিহির শরীর ঘিনঘিন করে ওঠে।
— অভ্র ভাইয়া, আপনি ভুল ভাবছেন। আমি তো শুধু মিহির সাথে কথা বলছিলাম।
— সেটা তো আমি দেখতেই পাচ্ছি। যাই হোক, তোমাকে মা ডাকছে। একটু গিয়ে দেখো তো কৌশিক কোনো দরকার আছে কি না।

— ঠিক আছে ভাইয়া।
কৌশিক একবার মিহির দিকে তাকিয়ে দ্রুত সেখান থেকে চলে যায়। কৌশিক যাওয়ার সাথে সাথেই অভ্র মিহির হাত চেপে ধরে, দাঁতে দাঁত চেপে বলে—
— তোমার জানেমানকে কী বলছিলে সোনা? সেদিন রাতের ট্রাজেডিগুলো? কিভাবে আমি তো…
আর বলতে পারে না মিহি। দুই হাতে কান চেপে ধরে জোরে জোরে কাঁদতে শুরু করে সে। মিহির কান্না দেখে অভ্র বিরক্ত হয়ে যায়।
বিরক্তিকর কণ্ঠে বলে—

— কী হয়েছে? আবার নাটক শুরু করলি কেন?
আহত কণ্ঠে মিহি বলে—
— নাটক! কোনটা নাটক লাগছে আপনার কাছে? আমার জীবনটা শেষ করে দিয়েছেন, এটা নাটক লাগছে?
— এত রিঅ্যাক্ট করার কী আছে? এগুলো এখন নরমাল। সবাইই করে।
অভ্রর কথায় হতভম্ব হয়ে যায় মিহি।
— আপনি কি মানুষ? একবারও খারাপ লাগছে না এসব বলতে?
— না, লাগছে না। আর তোর নাটক বন্ধ কর। অসহ্য লাগছে আমার। করেছি তো কী হয়েছে, মন চাইলে আবার করব।
ঠাস!
এক জোরালো থাপ্পড় পড়ে অভ্রর গালে। মুহূর্তেই তার মাথায় রক্ত উঠে যায়। তেড়ে এসে শক্ত হাতে মিহির চোয়াল চেপে ধরে। যন্ত্রণায় ছটফট করে উঠে মিহি

— বেশি তেজ বেড়ে গেছে না তোর? তোর তেজ আমিই কমাবো। তুই চিনিস না আমাকে। তোর এমন অবস্থা করব যে তোর পরিবার আর আ*হত্যা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।
কথাগুলো বলেই একপ্রকার মিহিকে ছুঁড়ে ফেলে ঘর থেকে বেরিয়ে যায় অভ্র। নিজের জীবনের প্রতি মিহির একেবারে অনীহা চলে আসে। আল্লাহ তাকে তুলে নিচ্ছেন না কেন—এই প্রশ্নই মাথায় ঘুরতে থাকে।

সময়টা তখন রাত। আজ তিহির এনগেজমেন্ট ছিল। কিন্তু অভ্রর পরিবারের কারও নাকি এক্সিডেন্ট হয়েছে, তাই এনগেজমেন্টটা বাতিল হয়ে গেছে। মিহির মনে হয়, এর পেছনেও কোথাও অভ্রর হাত আছে। তবুও সে খুশি অন্তত ওই নিকৃষ্ট মানুষটার সাথে তার আপুর এনগেজমেন্টটা হলো না।
বারান্দা পেরিয়ে নিচে নামার সময় হঠাৎ পাশের ঘরের দিকে চোখ যায় মিহির। কী মনে করে দরজার সামনে গিয়ে হালকা ধাক্কা দিতেই যা দেখে, তাতে তার দুনিয়া ঘুরে যায়।
মিহির প্রিয় মানুষ কৌশিক—তার বুকে একটি মেয়ে মাথা রেখে দাঁড়িয়ে আছে, আর কৌশিক তাকে জড়িয়ে ধরে আছে। হঠাৎ কৌশিকের চোখ পড়ে মিহির ওপর। তার মুখ দিয়ে হঠাৎ একটি শব্দ বেরিয়ে আসে

কি করিলে বলো পাইবো তোমারে পর্ব ১

— মনি…
এক মুহূর্তও দাঁড়াতে পারে না মিহি। দৌড়ে নিজের ঘরে ঢুকে দরজা ঠাস করে বন্ধ করে দেয়। কেন বারবার তার সাথে এমন হয়? শেষ পর্যন্ত নিজের সবচেয়ে কাছের মানুষটাও তাকে ধোঁকা দিল—কেন, কেন, কেন?
দরজার ওপার থেকে কৌশিক বারবার দরজা ধাক্কাচ্ছে—
— মনি, প্লিজ দরজাটা খুলো। তুমি ভুল বুঝছ।
ঠিক তখনই কেউ একজন পকেটে হাত দিয়ে কুটিল হাসি হাসতে হাসতে বিড়বিড় করে বলে—
— Game Begun।

কি করিলে বলো পাইবো তোমারে পর্ব ৩