চারুবৃত্ত পর্ব ১৬
জুলি জোনাকি
তখন বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামার আগে বৃত্ত আয়েশ করে চা খাচ্ছিল , চোখ আটকালো চারুর দিকে ,হেসে হেসে কথা বলছে একটা ছেলের সাথে । কপালে বিকট বিরক্তির রেখা টেনে ডাকলো চারুকে ,
“চারু শুনো !”
চারু কথা শেষ করে এলো , অতশত না ভেবে বলল,
” হ্যাঁ , কিছু লাগবে ?”
বৃত্ত নিজের পাশে চেয়ারে হাত রেখে বলল,
“এখানে একটু বসো ।”
চারু একবার তাকাল সেই ছেলের দিক তারপর বৃত্তকে উদ্দেশ্য করে বলল,
“একটু পড়ে বসি , ওনার আরো অর্ডার আছে , দিয়ে তারপর দেখছি । আপনার কিছু লাগলে বলুন ?”
বৃত্ত মুখ ঘোড়ালো, চারু তা দেখে বলল,
“কি বিপদ , এমন করছেন কেন ?”
অভিমানি সুরে বৃত্ত শুধালো,
“কিছু না যাও ।”
বৃত্ত চায়ের কাপে চুমুক দিল । চারু কেমন হাসলো । তারপর বলল,
” আমি ওনার অর্ডারের খাবারটা রান্না করে আসছি । আপনি বসুন ।”
বৃত্ত একবার আড় চোখে তাকাল, ফের চোখ সরিয়ে উওর দিল,
“ঠিক আছে ।”
চারু হাসতে হাসতে চলে গেল ।
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
“ম্যাম বিল কতো হলো ?”
“সাতশো আশি ।”
ছেলেটা টাকা দিয়ে ফের প্রশ্ন করলো,
“আচ্ছা আপনাদের নাম কি ?”
লতা এগিয়ে এসে উওর দিল,
“ওর নাম চারু আমার নাম লতা , চারুলতা সুন্দর নাহ ?”
“হুমম খুব সুন্দর । আমার নাম আদিল । ”
“আচ্ছা ।”
“ঠিক আছে তাহলে আজ আসছি , কাল সময় করে খেতে আসবো । ”
“ঠিক আছে আবার আসবেন ।”
চারু কাজ করছিল , চারুকে ডেকে বলল,
“মিস চারু , কাল দেখা হবে আজ আসি ।”
“ঠিক আছে, আবার আসবেন ।”
“হুমমমম ।”
আদিল চারুর দিক তাকিয়ে হেসে চলে গেল । ওদিকে বৃত্ত টেবিলে মাথা ঠেকিয়ে বসে আছে । চারু এবার ফ্রি হয়ে বৃত্তের কাছে গেল । বৃত্তের মাথাটা তুলে কপালে ফের হাত রাখলো । বৃত্ত তাকালো , কেমন ঘুমঘুম কণ্ঠে আওরাল,
“এখন বুঝি কাজ শেষ হলো ?”
চারু বৃত্তের পাশে চেয়ার টেনে বসলো , অসুবিধা নিয়েও পাশে বসে বলল,
” সরি , দেখলেন তো কতো মানুষ আসছিল ।”
“হুমম ঠিক আছে । ”
“আপনার জ্বরটা কমেনি তো ,বেশ বেড়েছে , এখন বাড়ি যান ।”
বৃত্ত ফের টেবিলে মাথা রেখে বলল,
“উমমম , একটু পড়ে ,এই তো এলে , একটু থাকি ।”
চারু কিছু বললো না । বৃত্ত মাথা তুলে তাকালো , চারু কোমল চোখে তাকিয়ে ছিল , বৃত্ত তাকাতেই চোখ সরিয়ে নিল । বৃত্ত হেসে বলল,
“আমায় দেখছিলে ?”
“কই ন না তো ।”
“হুমম আমায় কেন দেখবে , অন্য কাউকে দেখো গিয়ে ।”
চারু চোখ ছোট ছোট করে তাকাল, বৃত্ত ও তাকিয়ে ছিল । চারু নাক ফুলিয়ে প্রশ্ন ছুড়লো,
” কাকে দেখবো ?”
” আমি কি জানি তুমিই ভালো জানো ।”
“রাত হয়েছে বাড়ি যান ।”
“থাকতে চাইলে কি থাকতে দিবে , যে এমন করে তারিয়ে দিচ্ছো ।সময় হলে যাব ।”
“সেই সময়টা কখন হবে ? ”
“মনে হচ্ছে আমি এখান থেকে গেলেই বেঁচে যাও । ”
“এমন কখন বললাম ?আপনি তো অসুস্থ তাই বাড়ি যেতে বলছিলাম । ”
“ঠিক আছে আজ গেলাম কাল আবার আসবো । ”
বলে চারুর চুলে হাত দিয়ে এলোমেলো করে উঠে চলে গেল । চারু কপাল কুঁচকে তাকিয়ে যাওয়া দেখলো ।
রাতে বৃত্তের গা কাঁপিয়ে জ্বর এলেও সকালে সে একদম সুস্থ । কলেজ থেকে ফোন এসেছিল কয়েকদিন খুব কাজের চাপ । সকালে গেলে অনেক রাত করে বাড়ি ফেরা হয় তাই চারুর সাথে দেখা করার সময় হয়ে উঠছে না ।
ওদিকে বিকাল গড়িয়ে রাত শেষ হওয়া ওবধি পথ চেয়ে তাকিয়ে থাকে এই বুঝি বৃত্ত এসে ডাকবে ,
“চারু শুনছো? ”
এমন ভবনার মাঝে কেউ এমন করে ডাকলো ,
“চারু শুনছো? ”
চারু তরিঘরি করে তাকালো , বৃত্ত এসেছে ভেবে এগিয়ে গেল । সামনে থাকা মানুষটাকে দেখে আচমকা মন ভারি হয়ে গেল । আদিল এসেছে , চারুকে ডাকতেই লতা এগিয়ে গেল ।
“কি নিবেন ভাইয়া বলুন ?”
“স্পেশাল কি আছে ?”
“মাংস কষা , আর লুচি ।”
“ঠিক আছে ওটাই দিন । ”
“অপেক্ষা করুন । ”
লতা গিয়ে চারুকে অর্ডার বলো । কিন্তু চারুর মন তো এখানে নেই , তাই কিছু শুনলো না । লতা কাজে হাত দিল । চারু মনে মনে ভাবলো ,
“ওনার কি অসুক বেড়েছে ? তা না হলে এলেন না কেন ? কাল তো বলেই গেল যে আসবে ,তবে এলো না যে ?”
লতা চারুর দিকে তাকিয়ে কপাল কুঁচকে ডাকলো ,
” চারু ।”
চারু চমকে উঠে বলল,
“হ্যা, কে এসেছে কই ?”
লতা কপাল কুঁচকে এগিয়ে এসে চারুর কপালে হাত দিয়ে বলল,
“তুমি কি অসুস্থ ? এমন দেখাচ্ছে কেন ? ”
“না তো, আমি তো ঠিকি আছি । অর্ডার আসে নি ।”
লতা হা করে চোখ বড় করে তাকাল, তারপর চারুর গালে হাত রেখে বলল,
“আমি না তোমায় সেই কখন বলেছি অর্ডার এসেছে , শুনতে পাওনি? ”
“হুমম, খেয়াল করিনি ।”
“হুমম , তোমার ভাব ভালো না , কাউকে মিস করছো ?”
চারু ভরকে গিয়ে থতমত খেয়ে বলল,
” আ আমি ক কেন ওনাকে মিস করতে যাব ?”
লতা কোমরে দু হাত রেখে বলল,
“এই ওনি টা কে ?”
এই যা , চারু এবার কি বলবে ? ঠোঁট কামরে হেসে জবাব দিলো,
“আ আ আরে কাস্টমারের কথা বলছি ।চলো রান্না শুরু করা যাক । ”
লতা বুঝলো , চারু কাছে গিয়ে বলল,
“এতোই যখন ভাবছো , ফোন দিয়ে একটু কথা বলে দেখো , ঠিক আছে কি না ।”
চারু লতাকে ঠেলে দূরে সরিয়ে বলল,
“এমন কিছু না যাও কাজ করো ।”
” নিজের মনের সাথে এতো মারামারি করো না , আমার কথা শুনো ।”
“লতা , মার খাবে? ”
“না বাবা , মার খেতে চাইনা , তোমাদের বিয়েটা সুস্থ ভাবে খেতে চাই ।”
“এবার কিন্তু ……”
“খাবার হতে কতো সময় লাগবে ?”
চারু লতার মাঝে আদিল হাক ছেড়ে প্রশ্ন করলো । চারু বলল,
“ওই তো আর একটু অপেক্ষা করুন ।”
“ঠিক আছে, মিস চারু ।”
রান্না শেষ করে চারু খাবার নিয়ে গেল । আদিল তাকাল , চারু চলে আসতে যাবে তখন ডাকলো ,
“চারু শুনছো ।”
চারু পা বাড়িয়ে থেমে গেল । চোখ বন্ধ করে ভারি নিশ্বাস নিয়ে তাকালো , এগিয়ে গিয়ে বলল,
” প্লিজ ডোন্ট মাইন্ড, চারু শুনছো এমন ভাবে ডাকবেন না । ”
“কেন কোন সমস্যা? ”
“না তেমন না , তবে এই ডাকটা সবার জন্য না , কেবল একজনের জন্য ।”
“কে ?”
“কেউ না । ডাকবেন না হয়ে গেল ।”
“ঠিক আছে । ”
চারু সেখান থেকে চলে এলো, লতা বলল,
“এই একজন টা কে গো ?”
চারু ফের আড় চোখে তাকাল । বলল,
“কিছু না ।”
“কিছু তো বটেই ”
“কিছু না বললাম তো ।
চারুবৃত্ত পর্ব ১৫
টানা তিন দিন বৃত্ত সকাল বিকাল রাত পরীক্ষার খাতা দেখেছে , আজ ফ্রি হলো । তখন রাত , ক্লান্তে ভরা দেহটা নিয়ে বেড় হলো ।
রাত তখন দশটা , চারু ময়লার ব্যাগ হাতে নিয়ে একটু দূরে ফেলে আসছিল ,এমন সময় বেশ দূরে কেউ দাড়ালো । চারু তাকালো , বোঝাই যাচ্ছিল, বেশ ক্লান্ত । ক্লান্ত দেহটা নিয়ে দু হাত প্যান্টের পকেটে ঢুকিয়ে চারুর দিক এগিয়ে গিয়ে আচমকা চারুর কাধে কপাল ঠেকিয়ে দাড়ালো , চারু আটকালো না , অনেকখন দুজন চুপ থাকলো । এবার নিরবতা কাটিয়ে চারু মৃদু স্বরে আওরাল ………..
