Home চেকমেট ২ চেকমেট ২ পর্ব ৩৭

চেকমেট ২ পর্ব ৩৭

চেকমেট ২ পর্ব ৩৭
সারিকা হোসাইন

শাহরানের কাণ্ডে তাজ্জব হয়ে অভিরুপ কুনুই দিয়ে ছোট করে সারফরাজের বাহুতে গুতো দিয়ে বলে উঠলো —
“মাথায় আঘাত পেয়ে ছেলে কি পাগল ছাগল হয়ে গেলো নাকি?এমন অদ্ভুত আচরণ করছে কেনো?এক পাশের মগজ উল্টে কি আরেক পাশে চলে এসেছ তোর ছেলের?সামান্য পায়েশ নিয়ে এ কী বিতিকিচ্ছিরি?”
সারফরাজ বহু কষ্টে হাসি চাপিয়ে বলে উঠলো —
“দাড়া রুদ্রকে কল করে আসতে বলছি।রুদ্র এলেই জানতে পারবি কেনো আমার ছেলে জীবন দিয়ে পায়েশ খেতে চাইছে।
অভিরুপের মনে হলো সকাল সকাল সে পাগলা গারদে চলে এসেছে।আর সেখানে শাহরানের সাথে সাথে বাড়ির সবাই পাগল হয়ে গেছে।
সারফরাজ নিজের ফোন থেকে রুদ্রকে জরুরি টেক্সট পাঠালো—

“আমার ছেলের মাথা খারাপ হয়ে গেছে।চিকিৎসা প্রয়োজন।একবার এসে চেকআপ করে যাও তো।কেমন যেনো অদ্ভুত আচরণ করছে সকাল থেকে।”
টেক্সট পাঠিয়ে মিটি মিটি হেসে ছেলের পানে তাকিয়ে সারফরাজ বলে উঠলো —
“এতো মজার পায়েশ এক চামচ মুখে দিয়ে এমন মূর্তির মতো বসে আছো কেনো?তোমার বয়সে তোমার মায়ের হাতের বানানো পায়েশ এমন দুই বাটি খেয়ে ফেলতাম আমি।আগেই বলে ছিলাম পাপার সাথে টক্কর দিতে এসো না।”
সারফরাজের এহেন কথায় রোদ মুখ ছোট করে জিজ্ঞেস করলো —

“খেতে ভালো লাগছে না শাহ?আচ্ছা রেখে দাও।ভালো না লাগলে খেতে হবে না।
শাহরান নাক ফুলিয়ে তার বাবার পানে তাকিয়ে রাগী গলায় বলে উঠলো —
“আলবাত পৃথিবীর সবচেয়ে সুস্বাদু এই পায়েশ।নেহাত একটু আগেই পেট ভরে নাশতা খেলাম তাই খেতে কষ্ট হচ্ছে।নইলে দুই বাটি কেনো?এরকম হাজার বাটি খেয়ে ফেলতাম এক চুমুকে।”
প্রেমিক পুরুষের কথায় লজ্জায় লাজুক লতার ন্যায় ঢলে পড়ার উপক্রম হলো রোদের।কানের পিঠে বেরিয়ে আসা চুল গুলো গুঁজে ঠোঁট কামড়ে লাজুক হেসে বলে উঠলো —
“পরে খেও।নয়তো বদ হজম হয়ে যাবে।
পাশ থেকে সুফিয়ান চৌধুরী টিপ্পনী কেটে বলে উঠলো —
“এক মাসেও এই বদ হজম সারবে না।
বলেই হো হো করে হেসে পুনরায় বলে উঠলো ,—
“কেমন পেটুক প্রেমিক হয়েছিস,আমাদের না দিস নিজের ভালোবাসার মানুষকে তো এক চামচ দিবি।আগুনের কাছে দাঁড়িয়ে সোনার অঙ্গ ঝলসিয়ে এতো কষ্ট করে তোর জন্য ভালোবেসে রাধলো।তাকে পর্যন্ত খেতে ভাগ দিচ্ছিস না? দে ওকে এক বাটি দে।এক্ষুনি দিবি।
এমন সময় ব্যস্ত ভঙ্গিতে সারফরাজের ডাইনিং হলে ঢুকলো রুদ্র।ঢুকেই চারপাশের পরিবেশ পরখ করলো।দুটো পায়েসের বাটি নিজের বাহু বন্ধন করে বসে আছে শাহরান।কপালে চোটের দাগ স্পস্ট।সাদা ব্যান্ডেজের উপর দিয়ে লাল রঞ্জনের আধিপত্য।

শাহরানের পাশে সেনাপতির মতো দাঁড়িয়ে আছে রোদ।
মুখোমুখি চেয়ারে অভিরূপ আর সারফরাজ বসে।রূপকথাকে কোথাও দেখা যাচ্ছে না।অদূরে খাবার পরিবেশন কারী মেইড স্কারলেট অবনত মস্তিষ্কে দাঁড়িয়ে।
রুদ্র দ্রুত হেঁটে এসে সারফরাজ কে অধীর গলায় জিজ্ঞেস করলো —
“কিসের ভালো বাসা বাসীর আলাপ চলছে?কে কাকে ভালোবেসে কি রান্না করলো?
সারফরাজ ঠোঁটের কোণে হাসি লেপ্টে বলে উঠলো —
“তোমার মেয়ে আমাদের সবার জন্য পায়েশ রান্না করেছে।কিন্তু আমার স্বার্থপর ছেলে সেই পায়েশ কাওকে খেতে দিচ্ছে না।ইভেন যে রান্না করেছে তাকেও না। একাই নাকি খাবে সে।
মেয়ে পায়েশ রান্না করেছে শুনেই আঁতকে উঠল রুদ্র।যেই মেয়ে লবন চিনির পার্থক্য বুঝে না, চুলা কি করে জ্বালাতে হয় জানেনা,কিসের সাথে কি মিশিয়ে রান্না করতে হয় বুঝে না সে কি করে পায়েশ রান্না করে?ও পায়েশ কি আদৌ মুখে তোলার যোগ্য?

রুদ্র সন্দিহান চোখে শাহরানের পানে তাকালো একবার।তার মেয়ের সাত খুন মাফ এই ছেলের কাছে।ভালোবাসায় এক প্রকার অন্ধ।মেয়ে বিষ তুলে দিলেও হাসি মুখে গিলে নেবে সে।কিন্তু এই পায়েশ খেতে যখন গড়িমসি করছে তবে আলবাত এটা বিষের চাইতেও ভয়ানক।
পায়েসের স্বাদ কেমন হয়েছে ভেবেই শিউরে উঠলো রুদ্র।রুদ্রের ভাবনার মাঝেই বিচলিত হয়ে অভী বলে উঠলো —
“হঠাৎই অদ্ভুত আচরণ করছে।গত রাতে মাথায় আঘাত পেয়েছে।আমার মনে হচ্ছে এটা তার ইফেক্ট।তার এই ত্রিশ বছরের জীবনে আমি তাকে কখনোই এমন অদ্ভুত আচরণ করতে দেখিনি।
অভির কথায় রুদ্রের কপালে সূক্ষ্ম ভাঁজ পড়লো।তাকে দেখে মোটেও পাগল ছাগল মনে হচ্ছে না।ইভেন মস্তিষ্ক ভারসাম্য হারিয়েছে সেটাও চোখে লাগছে না।তবে কি এমন কাণ্ডে অভিরুপ এমন মন্তব্য করছে?
রুদ্রকে একটা চেয়ার ইশারা করে বসার অনুরোধ করে সারফরাজ জিজ্ঞেস করলো —

“এতো দ্রুত কি করে এলে?আমি তো ভেবেছিলাম তুমি আসতে আসতে পায়েশ শেষ হয়ে যাবে।
রুদ্র চেয়ার টেনে বসতে বসতে বলে উঠলো —
“হসপিটাল থেকে ফিরছিলাম।আজ নাইট শিফট ছিলো। ক্রিটিক্যাল একটা সার্জারি ছিলো।মাথা পুরা ধরে আছে।বাসায় গিয়ে ঘুমুতে হবে।
বলেই মেয়ের পানে তাকিয়ে বিরক্তি নিয়ে বলে উঠলো —
“এতো সকালে এখানে এসেছো কেনো?বিকেলে আসা যেতো না?কিসের পায়েশ রেধেছো তুমি?নিশ্চিত কোনো কাণ্ড করেছো তাই না?
সারফরাজ হাত তুলে বলে উঠলো —
“আহ থামো তো।এসেছে তো কি হয়েছে?যখন তখন এখানে আসার রাইটস আছে ওর।আমি দিয়েছি সেই অধিকার ওকে।তোমার ইচ্ছে হলে তুমিও এসো ।কে মানা করেছে?তোমার মনে তো হিংসে দিয়ে ভরা।আল্লাহ বাঁচিয়েছে মেয়ে তোমার মতো হয়নি।
বলেই সার্ভেন্ট স্কারলেট কে হুকুম দিলো —

“আমার ভাইয়ের জন্য খাবার রেডি করো।আর তোমার ম্যাডাম কোথায় হারালো তাকে খুঁজে নিয়ে এসো।
মেইড নির্দেশ পাওয়া মাত্র রুদ্রের জন্য খাবার গুছাতে ব্যস্ত হলো। রুদ্র গলায় ন্যাপকিন সেট করে অভির উদ্দেশ্যে বলে উঠলো —
“তা তোমার ছেলের বিয়ে কবে?আদৌ তোমার ছেলের বিয়ে খেয়ে মরতে পারবো তো?
অভিরূপ হা হা করে হেসে বলে উঠলো —
“মেয়েটা নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে ডেসপারেট।আমার ছেলেও অধৈর্য হয়ে উঠেছে।ভাবছি আগামী মাসে বিয়েটা সেরেই ফেলবো।বহুদিন ধরে ঝুলে আছে।
মেইড রুদ্রের খাবার সার্ভ করে দূরে সরে দাঁড়ালো পূর্বের মতো।রুদ্র দেরি না করে খাবার মুখে তুলতেই সারফরাজ বলে উঠলো —
“তোমার সংগে আমার জরুরি আলাপ আছে।
জরুরি আলাপের কথা শুনে রুদ্রের হাত থামলো।মুখের খাবার চিবুতে চিবুতে বললো —

“কোন বিষয়ে?
সারফরাজ তপ্ত শ্বাস ফেলে বলল —
“এখন না।পড়ে বলছি।
রুদ্র ঠোঁট উল্টে খেতে আরম্ভ করলো।রুদ্রের খাওয়া যখন প্রায় শেষ তখন সারফরাজ বলে উঠলো—
“রুদ্রকে এক বাটি পায়েস দাও শাহ।মেয়ের হাতের রান্নার স্বাদ চেখে দেখার হক আছে তার।
রুদ্র এহেন ভয়ানক কথায় চমকে উঠলো। তড়িঘড়ি করে মাথা নাড়িয়ে বলে উঠলো —
“না না আমার সুগার আছে।আমার মিষ্টি খাওয়া একদম মানা। ওসব ছেড়েছি বহু আগে।ডক্টর বলেছে চিনি খেলেই আমি মরে যাব।
“এই সুগারে তুমি মরবে না।উল্টো শরীরের সমস্ত চিনি বেরিয়ে যাবে।
রুদ্র চোখ উল্টিয়ে দাঁত পিষে ফিসফিস করে বলে উঠলো —
“ইচ্ছে করে শায়েস্তা করতে আমাকে জরুরি তলবে সকাল সকাল ধরে এনেছিস তাই না?
“খাবার খেতে বলাতে শায়েস্তা হয়ে গেলো?
বিষ্ময়ে জিজ্ঞেস করলো সারফরাজ।
রুদ্র চট করে সারফরাজের হাত চেপে ধরে বলে উঠলো —

“দরকার পড়লে তুই আবার আমাকে পাতাল ঘরে বেঁধে রাখ।আমি তবুও রাজি।কিন্তু ভাই তোর পায়ে ধরি তুই এই পায়েশ আমাকে খেতে বলিস না।তোর ছেলের চেহারা দেখেই আমি সব আন্দাজ করে ফেলেছি।এই বুড়ো বয়সে আমাকে আর নাজেহাল করিস না।
যেই পায়েস তোর ছেলের গলা দিয়ে নামছে না সেই পায়েস আমাকে কেনো সাধছিস?”
বলেই মেয়েকে ধমকে বলে উঠলো —
“কাল থেকে তিন বেলা রান্না ঘরে গিয়ে মায়ের কাছে ট্রেনিং নিবে কীভাবে রান্না করতে হয়।দুদিন পর পরের ঘরে যাবে।রান্না ছাড়া মেয়ে মানুষের দাম নেই।তোমার রুপকথা আণ্টি এতো বড় হার্ট স্পেশালিস্ট হয়েও তিন বেলা দিব্যি রান্না করছে।তোমার মা ও করছে।এতো বড় হয়েছো এখনো একটা ডিম ভাজি করতে জানো না।”
এমন সময় রুপকথা নিচে নেমে এলো। হসপিটালে একজন হার্টের পেশেন্ট এসেছে গুরুতর অবস্থায়।হার্ট অ্যাটাক করে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিল।ডিউটি ডক্টর আর নার্স কোনো ভাবেই জ্ঞান ফেরাতে পারছিলো না।ভিডিও কলে থেকে রুপকথা তাদের সব শিখিয়ে দিতেই দেরি হয়ে গেলো।
রুপকথা ডাইনিং রুমে এসেই রুদ্রের উদ্দেশ্যে বলে উঠলো —

“ওকে কখনোই বকা দিবেন না ভাইয়া।আমি যতদিন বেঁচে আছি আমি রান্না করে খাইয়ে দেবো ওকে।আমার ছেলের বউয়ের রান্না করেই খেতে হবে এমন দিন এখনো আসেনি আমাদের।আমার ছেলেও টুকটাক রান্না জানে।যুগ পাল্টেছে।এখনকার মেয়েরা রান্না শিখে শ্বশুরবাড়ি যাবে কোন দুঃখে?
বলেই অদ্ভুত নজরে ছেলের পানে তাকিয়ে বলে উঠলো —
“কি হলো এভাবে সব পায়েশ ধরে বসে আছো কেনো?রোদের বাবার পায়েস খুব পছন্দ।বাটি আমার কাছে দাও।
বলেই এক প্রকার জোর করে পায়েসের বাটি ছিনিয়ে নিয়ে এক বাটি পায়েস রুদ্রের দিকে এগিয়ে বলে উঠলো —
“আমি শিখিয়ে দিয়েছি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে ।নিন খান।
রুদ্রের হাত কাপলো।এক চামচ পায়েস মুখে তুলতে শক্ত পোক্ত হৃদয়ের অধিকারী রুদ্র রাজ চৌধুরীর বুক কাপলো ।বাবার এহেন অবস্থা দেখে রোদ মন ভার করলো।এই দৃশ্যে চূড়ান্ত ক্রোধিত হয়ে শাহরান রুদ্রের সামনের বাটি কেড়ে নিয়ে গপাগপ পুরো পায়েস শেষ করে নিজের বাটির গুলোও শেষ করে তাৎক্ষনিক উঠে দাঁড়িয়ে বলে উঠলো —

“This was the most delicious rice pudding I’ve ever had.Whoever mentions this topic for the second time, I’ll take it as their personal death wish.”
বলেই রুদ্রের দিকে ঝুঁকে ফিসফিস করে দাঁত চেপে শহরান বলে উঠলো —
“আবারও প্রমাণ করে দিলাম আপনার মেয়েকে আমি আপনার চাইতেও বেশি ভালোবাসি।মেয়ের হাতের সামান্য রান্না গিলতে আপনার কত ভয়।অথচ আমি নির্দ্বিধায় গিলে নিলাম।কারণ সে ভালোবেসে রান্না করেছে।এই ভালোবাসা মাখা রান্নার কাছে ওয়ার্ল্ডের সেরা শেফ ও হার মানবে ।
বলেই হনহন করে সিঁড়ি ধরে নিজের ঘরে গিয়ে দড়াম করে দরজা লাগিয়ে দিলো শাহরান । রোদ ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে পায়েসের দিকে হাত বাড়ালো।বাটিতে অবশিষ্ট একটা চালের দানা পড়ে আছে।আঙুলে তুলে সেটা ঠোঁটে ছোঁয়াতেই রোদের চোখ টলমল করে উঠলো।
এরপর দৌড়ে এগিয়ে গেলো শাহরানের কামরায়।
রোদ যখন শাহরানের কক্ষে এলো দেখতে পেলো নিনাদ কে ইচ্ছে মতো ঝাড়ছে শাহরান —
“তোকে পইপই করে বলে ছিলাম কেউ যাতে বিষয়টা না জানে।আর তুই কি করলি?পুরো গলায় টিনের বাক্স বেঁধে ঢোলে বাড়ি দিলি। তোকে সামনে পাই আগে।রাস্তায় যদি তোকে জাঙ্গিয়া খুলে না দৌড় করিয়েছে তবে আমার নাম শাহরান নয়।

বলেই ফোন কেটে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো শাহ।রুদ্রকে কেনো সারফরাজ ডেকে এনেছে তা স্পষ্ট জানে শাহরান।এখন এই বিষয়কে কেন্দ্র করে বড় বড় মাফিয়া সম্রাট কে নাড়া দিবে সারফরাজ।পূর্বে যেও শাহ্ কে না চিনতো ক্ষতি করার জন্য সেও এখন চিনে যাবে ।সামনে আরও বড় বিপদ ওঁত পেতে আছে।
শত্রুরা সব সময় দুর্বলতা খুঁজে বেড়ায়। সারফরাজ এর দুর্বলতা খুঁজতে খুঁজতে এক সময় তারা শাহরানের দুর্বলতা খুঁজে বের করবে।আর সবচেয়ে ভয়ানক ঘটনা তখনই ঘটবে।রোদের কিছু হলে শাহরান কীভাবে বাঁচবে?আগত ভয়ানক টাইফুন এর ধাক্কা থেকে রোদ কে সামলে রাখতে পারবে সে?
শাহরানের ভাবনার মাঝেই পেছন থেকে শাহরান কে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে শাহরানের প্রশস্ত পিঠে মুখ লুকিয়ে ফুপিয়ে কেঁদে উঠলো রোদ।অপরাধী গলায় বললো —

“সরি।
রোদের হাতের কব্জি আলতো করে ধরে রোদকে নিজের দিকে মুখ করে ঘোরালো শাহরান।ফর্সা গাল গড়িয়ে নিংড়ে পড়া নোনতা জলের ধারা বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে মুছিয়ে বলে উঠলো —
“কি হলো হঠাৎ?নিজেই মিষ্টি খাওয়াতে চেয়ে নিজেই কাদছো। কাদলে মানবো কেনো?আমার তো মিষ্টি চাই ই চাই।
রোদ নাক টেনে বলে উঠলো —
“পায়েসে মুখ জ্বালিয়ে দেয়ার মতো লবণ ছিলো।বিশ্বাস করো তোমাকে আমি ইচ্ছে করে কষ্ট দিতে চাইনি। আম সরি।প্লীজ আমাকে ভুল বুঝবে না।
শাহরান রোদের নাকে নাক ছুঁইয়ে বলে উঠলো —
“তোমার কাছে লবন লাগলো বুঝি?আমার কাছে তো অনেক মিষ্টি লেগেছে।তোমার মুখের টেস্ট বাড বোধ হয় নষ্ট হয়ে গেছে।চলো এক্ষুনি ডক্টর এর কাছে।
বলেই চোখ মুখের ভঙ্গি সিরিয়াস করলো।শাহরানের মুখ ভঙ্গি দেখে শাহরানের বুকে ছোট ছোট কিল বসালো রোদ।এরপর কান্না থামিয়ে বলে উঠলো —

“সব সময় দুষ্টুমি না করলেই নয়? এতো ভালো কেনো তুমি,?এভাবে সবটা দিয়ে কেউ ভালোবাসে,?
শাহরান নেশা ধরা গলায় বললো —
“এবার আমার মিষ্টি টা?
রোদ হাতের করপুটে চোখ মুখ মুছে ঠোঁট কামড়ে দাঁড়িয়ে রইলো।তখন তো অধিক উচ্ছ্বাসে বলে ফেলেছে এই কথা।এখন তো লজ্জায় মরণ হচ্ছে।কিন্তু বেচারা ভদ্রলোক কে দেখো!কেমন অধীর হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। যেনো তার পাওনা মিটিয়ে তবেই পথ ছাড়বে সে।
রোদ ভয়ে হাত মুঠি করে দুই কদম পেছনে সরলো।সংগে পা মেলালো শাহরান।সেও এগুলো। পিছাতে পিছাতে দেয়ালে বাধা পড়লো রোদের পিঠ।সে চমকিত শিউরে উঠলো।
বাকা হেসে শাহরান রোদের দিকে হাত বাড়ালো।লজ্জা আর ভয়ে রোদের গাল,নাকের ডগা গোলাপি আভায় ছেয়ে গেলো।
আলতো করে নিজের উষ্ণ হাত খানা রোদের গালে রেখে রোদের দিকে ঝুঁকে এলো শাহরান।রোদের ছোট নাক টায় গাঢ় একটা চুমু বসালো।এরপর ফিসফিস করে বলে উঠলো —

“এতো ভয় পেতে হবে না।আমি কখনোই তোমাকে জোর করবো না।সব মিষ্টি তুলে রাখো।একেবারে সুদে আসলে লুফে নেবো বিয়ের পর।
বলেই শাহরান সরে দাঁড়ালো।নিজেকে ধাতস্থ করে শাহরানের হাত চেপে ধরলো রোদ।এরপর এক ঝটকায় শাহরানকে কাছে এনে পা উঁচু করে শাহরানের ঠোঁটের উপরের ছোট তিল টায় নেসালো চুমু আকলো রোদ।চুমু শেষ করে ফিসফিস করে বলল —
“ঋণী থাকতে পছন্দ নয় আমার।যা দেবে তার দ্বিগুণ ফিরিয়ে দেবো সব সময়।

চেকমেট ২ পর্ব ৩৬

রোদের চুমুতে কেমন তাল হারালো শাহ।সে মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে রইলো।তার কান দ্বয় টকটকে লাল হয়ে তপ্ত ভাপ ছড়াচ্ছে।শরীর জুড়ে আচমকা অদ্ভুত সুনামি বইছে।নিষিদ্ধ বাসনা তরতর করে পুরো শরীরকে কব্জা করছে।বড় বড় অন্যায় গুলো করার জন্য মস্তিষ্ক উন্মাদ হয়ে ফুঁসে উঠছে।অথচ পাপ বোধ তীব্র হুংকার ছাড়ছে।
শাহরানের বেগতিক অবস্থায় রোদ ঠোঁট টিপে হেসে শাহরানের মাথার পেছনের চুল গুলো খামচে ধরে ঘোর লাগা গলায় বলে উঠলো —
“আংকেল কে বলো আমাদের বাসায় প্রস্তাব পাঠাতে।পাপা এবার আর তোমায় ফেরাবে না।আমি অপেক্ষা করবো তোমার জন্য।

চেকমেট ২ পর্ব ৩৮

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here