ছায়াস্পর্শ পর্ব ৩৯ (২)
জান্নাত চৌধুরী
-”আজ রাত টা বড্ড অদ্ভুত ইরা”
ইফরাহ দ্রুত হাত সরিয়ে নিলো আরাধ্যের কন্ঠনালি থেকে। ঘোর কাটতেই নিজেকে ছাড়াতে মোচরামোচরি করলো সে। আরাধ্য আরো শক্ত বাঁধনে চেপে ধরলো ইফরাহর কোমর। নখ ডাবলো ; এবার বোধহয় একটু দমলো মেয়েটা। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে শাড়ির ফাঁকের উন্মুক্ত পেটে খামচে ধরলো আরাধ্য।
ঝটকা টানে ইফরাকে বুকে এনে ফেলে। ইফরাহ নড়তে চায়, তবে সেই সুযোগ না দিয়েই আরাধ্য দখলে নেয় তার ওষ্ঠ।
আরো দুর্বল হলো ইফরাহ। তার হাত এক পর্যায়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আরাধ্যের দেহ।
আরাধ্য তখনো ওষ্ঠের স্বাদ নিতে ব্যস্ত। মিনিট দুই হবে হয়তো জোড় জবরদস্তি খাটিয়ে ইফরাহ কে ছেড়ে নিঃশ্বাস টানলো।এরপর চুমুটা খেলো কন্ঠনালিতে , কয়েক মিনিট মুখ ডুবিয়ে দাঁতে কামড়ের ক্ষত সুষ্টি করলো ইফরাহর গলায়। প্রথমে ছোঁয়া অনুভূতির হলেও পরবর্তীতে ক্ষত করেছে। জ্বলন ধরিয়ে ছেড়েছে ,
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
আরাধ্য সরে দাড়ালো।পাশ কাটিয়ে যাবার আগেই হাত টেনে নিজের কাছে আনলো ইফরাহ। আরাধ্য থমকালো , পূর্ণ দৃষ্টিতে চেয়ে থাকলো শুধু। ইফরাহ এগিয়ে এগিয়ে এলো , আরাধ্যের পায়ের উপর পা রেখে খানিক উঁচু হলো। আরাধ্য নির্বাক পর্যবেক্ষণ করছে সব , কয়েক সেকেন্ড যেতেই অনুভব করলো তার ঠোঁট অন্যের দখলে।
মস্তিষ্কে হ্যাং ধরলেও কয়েক সেকেন্ডে নিজেও ইফরাহর সাথে তাল মেলালো। আবেশের গভীরে ভাসতে শুরু করেছে দুজন। ইফরাহ ছিটকে সরে গেলো , আরাধ্য মুসকি হেঁসে আঙ্গুলে ঠোঁট মুছে নিলো। আরাধ্যের ঠোঁটে কোণে রক্ত তরল। সে তরলটুকু কেমন করে জানি আঙ্গুলে মুছলো।
দৃষ্টি সরালো , কোনো প্রকার অনুমতি ছাড়াই ইফরাহর হাত ধরে উল্টো ঘুরালো। এলোমেলো চুল গুলো সরিয়ে একের পর এক চুমু খেলো ইফরাহ ঘাড়ে , গলায় , আর পিঠের উন্মুক্ত কিছু অংশে।
ভয়ংকর অনুভূতি , ইফরাহ দমে যাওয়ার উপক্রম। আত্মসমর্পণ করতে চাইছে তার মন। এর মাঝেই আরো এক ভয়ংকর কাজ করে ফেললো আরাধ্য ইফরাহর ব্লাউজের ফিতা খুলে আরো কিছুটা উন্মুক্ত করলো পিঠটা। হাতের শীতল স্পর্শ দিতে থাকলো অনিবরত। শরীরের প্রতিটি অলস লোমকূপ কী ভাবেই যেন মূহুর্তে তরতাজা হয়ে গেলো।
ইফরাহ শরীর অবশ হয়ে আসছে। চোখ দুটো বন্ধ রেখে অনুভব করছে আরাধ্যের উন্মাদনা। শাড়ির আঁচল বুক হতে খুলে পড়েছে অনেকক্ষণ, খেয়াল নেই কারো। আরাধ্য বেশ গাঢ় এক চুমু খেলো ইফরাহর পিঠে। তারপর ধীরে ধীরে নিচে নামলো। হাঁটু ভাজ করে বসে , কামড় বাসলো ইফরাহ পেটে কাছে। হালকা কিছু টা দাগ হতেই , আরাধ্য যুদ্ধ জয়ের মতো হাসলো। তারপর আবারো আলতো করে চুমু খেলো। উঠে দাড়ালো , ইফরাহর শরীর তখনো কাঁপছে। আরাধ্য কানের কাছে মুখ নিয়ে ডাকলো ;
-“ইরা”!
কিছু দম নিয়ে আরাধ্য বলল , ”বড্ড পিপাসা পেয়েছে। একটু সুধা পানের সুযোগ চাইছি;
ইফরাহ দ্রুত মুখ লুকায় আরাধ্যের বুকে। আরাধ্য মুসকি হাসে, বউয়ের সায় পেয়ে দ্রুত কোলে তুলে তাকে।
পাঁজকোলা করে মুখ ডুবায় ইফরাহর বুকে , একটু একটু করে এগিয়ে যায় চিলেকোঠার ঘরের দিকে।
ঘরে কাছে আসেতেই এক লাথিতে খুলে দেয় ঘরে দরজা। ইফরাহ চমকে গিয়ে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আরাধ্যের গলা। আরাধ্য মুখ তুলল, কিছু সময় নিশ্চুপে তাকিয়ে থেকে বলল;
-“নালিশের পাতার শেষ নালিশ টা যোগ করার মক্ষম সময় এসেছে রক্তকমলিনী। তোমার স্বামী আজ তোমায় জেনে বুঝে ক্ষতবিক্ষত করবে। যার প্রতিটি আঘাতে তুমি ব্যথাময় সুখ অনুভব করবে।”
ইফরাহ পিট পিট করে তাকিয়ে দেখে আরাধ্যের মুখে। আরাধ্য , চিলেকোঠার খাটের উপর শুইয়ে দেয় ইফরাহকে;
ধীরে ধীরে খুলে ফেলে নিজের গায়ের পাঞ্জাবি। তার পর ঝুকে গেলো। আবারো প্রথম চুমুটা খেলো , ইফরাহ কন্ঠনালিতে। দ্বিতীয় চুমু খেলো ইফরাহর কানের লতিতে।
ইফরাহ কুঁকড়ে যায় ,খাঁচমে ধরে আরাধ্যের পিঠের মাংস। আরাধ্য সরে এলো। ব্লাউজের গলায় টান দিতেই এক এক করে প্রায় সব কয়টা বোতাম ছিঁড়েতেই উন্মুক্ত হলো শরীর। আরাধ্য নেশাক্ত চোখে তাকিয়ে থাকলো। হঠাৎ করেই উন্মুক্ত বক্ষে নিচের আধিপত্য বিস্তার করতে ব্যস্ত হলো। ব্যথাতুর কিছু স্পর্শে ইফরাহ চোখ হতে পানি পড়ছে।
আরাধ্য নিচে নামলো , নরম পেটে এলোমেলো ছোঁয়ায় কাতর করতে চাইলো বউকে। হলো তাই , ইফরাহর শরীর বারংবার ধুনুকের ন্যায় বেঁকে যাচ্ছে। আরাধ্য দুহাতে শক্ত করে চেপে ধরলো। মাথাটা একটু উঁচু করে ইফরাহ কে একবার দেখে জিহ্বা দিয়ে খেলতে শুরু করলো উন্মুক্ত পেটে নাভির আশেপাশে। ইফরাহ জান যাই যাই , আরাধ্যের পাগলামি বাড়লো। খুলে ফেললো , ইফরাহ গায়ের শাড়ির। নিভিয়ে দিলো চিলেকোঠার লাইট , আপতত ঘরে মৃদু চাঁদে আলো প্রবেশ করছে দরজার ফাঁকফোকর গলিয়ে।
আরাধ্য আরো নিচে নামলো , উত্তাল সমুদ্রের ডুবন্ত সাতাঁরী হবার প্রতিটি চেষ্টা একে একে পূরণের লক্ষ্যে সে। ইফরাহর নিঃশ্বাস ঘন পড়ছে। বদ্ধ ঘরে দুজনের নিঃশ্বাস ব্যতিত আর কিছুর শব্দ নেই। কিছুটা থেমে আরাধ্য বলল-
-“যৌবনের স্পর্শকৃত প্রথম নারী , তুমি। তোমার তলপেটে প্রবেশকৃত আমার প্রতিটি বীর্য কণা তাহার সাক্ষী হবে মেয়ে। আজ আমার পুরুষত্ব তোমাকে উৎসর্গ করলাম রক্তকমলিনী।”
ইফরাহর নখ আঁচড় কাঁটছে বিছনার চাদর। আরাধ্যের উন্মাদনা বৃদ্ধি পাচ্ছে শরীর ঘেমে উঠছে , ইফরাহ চমকে ওঠে। শরীর ঝাড়া দিয়ে ওঠে তার। আরাধ্য মত্ত হয়েছে নিজের খায়েস মেটাতে। ইফরাহ কেঁপে উঠছে , তীব্র ব্যথায় বারবার কুঁকড়ে যাচ্ছে। অতিক্রম হয় সময় , যৌনতায় মিলিত হয় দুই নর -নারী।
ছায়াস্পর্শ পর্ব ৩৯
মাঝ রাত ক্লান্ত শরীরে ঘুমোচ্ছে ইফরাহ। আরাধ্য উঠে দাড়ালো, ঘরের মাঝে কয়েকবার পাইচারি করে আবারো বিছানার কাছে এলো। ঘুমন্ত ইফরাহ মাথার কাছে হাঁটু ভাঁজ করে মুখে দিকে তাকিয়ে থাকলো। চোখের কোণে পানি শুকিয়ে আছে , এলোমেলো চুলগুলো মাটি ছুঁয়ে পড়ে আছে। বাচ্চা কয়েকটা চুল ও মেয়েটার মুখে পড়ে আছে –
আরাধ্য আরো ঝুঁকে গেলো , ছোট করে চুমু খেলো ইফরাহর ললাটে। তারপর এসে আবারো দাড়ালো ছাদের কিনায়।
সিগারেট জ্বালিয়ে ঠোঁটে কোণে রাখলো , লম্বা কয়েকটা টান দিয়ে ধোঁয়া গিলে চাঁদে দিকে তাকিয়ে তাচ্ছিল্য হাসলো।
রাত ফুরিয়ে এসেছে। কাল তাকে রাজধানী যেতেই হবে।
