জাহানারা পর্ব ৪২
জান্নাত মুন
ইফানের বাক্যটা আামর কানে আসতেই আমি যেন আকাশ থেকে পড়লাম।কেমন যেন মাথাটা ঘুরিয়ে উঠলো।আমি হেলে পড়তে নিলেই ইফান আরও শক্ত করে ধরলো।আমি অসহায় চোখে ইফানের দিকে তাকিয়ে। ইফান আমার এমন চাউনি দেখে খুব কষ্ট করে শুকনো ঢুক গিলতে লাগলো।অতঃপর ভাবতে লাগলো কিছুক্ষণ আগের কথা____
ওয়াশরুম থেকে শাওয়ারের শব্দ শুনে সেদিকে বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলো ইফান।তারপর শরীর টানা দিতে দিতে বিছানা থেকে নামলো।সে কিছুক্ষণ আগে আমাকে আর নোহাকে বাড়ির পিছন দিয়ে আসতে দেখেছে।এমনকি ক্ষেতে কি কি হয়েছে তার সব খবর ইফানের কানে আগেই চলে এসেছে।আমি বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যেতেই ইফান ওর বডি গার্ডদের বলে দেয় লুকিয়ে আমার পিছু নিতে।গার্ডরা তাই করেছে।
ইফান লুঙ্গির উপর, গায়ে একটা সেন্ডো গেঞ্জি পড়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো।উদ্দেশ্য তার নোহাকে দেখতে যাওয়া।কিন্তু সিঁড়ির কাছে আসতেই দখলো আব্বুকে।আব্বু স্কুল ছুটির পর বাসায় না এসে কোম্পানিতে চলে গিয়েছিলো।তাই আজ বাসায় আসতে লেইট হয়েছে।আব্বু সিঁড়ির দিকে তাকাতেই দেখলো ইফান দাঁড়িয়ে। ইফান আব্বুকে দেখে ঠোঁট বাকিয়ে হাসলো।তারপর কপালে হাত ঠেকিয়ে সালাম দিলো,
❝স্লাম আলাইকুম শ্বশুর আব্বা।❞
ইফানের সালাম দেওয়ার ধরণ দেখে আব্বু চোখ ছোট করে ফেললো।তিনি ইফানের দিকে তাকিয়ে চোয়াল শক্ত করে বিরবির করলো,
–অসভ্য ছেলে।
গুরুজনের সাথে কিভাবে কথা বলতে হয় তার কোনো আদবকায়দা ছেলেটার মধ্যে নেই। বেয়াদব ছেলে একটা।আমার ছাত্র হলে মেরে পিটের ছাল তুলে দিতাম।
আব্বু আর দাঁড়ালো না।তিনি বিরবির করে নিজের রুমে চলে যেতে লাগলো।এদিকে বিষয়টা ইফানের মোটেও ভালো লাগেনি।তাই সেও বিরবির করে গালি দিলো,
–শা*লা বুইড়া,,,
,
বিরবির করতে করতে ইফানের নজর পড়লো আব্বুর হাতের শপিং ব্যাগটায়।হঠাৎই কিছু একটা ভেবে ঠোঁট কামড়ে হাসলো।তারপর লুঙ্গির এক কোণা ধরে বড় বড় পা ফেলে আব্বুর রুমের উদ্দেশ্য যাওয়া ধরলো।
আব্বু রুমে ঢুকে হাতের শপিং ব্যাগটা বিছানায় রেখে, হাতের ঘড়িটা খুলে টেবিলে রাখলো।অতঃপর প্যান্টের পকেট থেকে মোবাইল আর স্কুলের অফিস রুমের চাবির গোছাটা বের করতে নিলেই ইয়ের দুটো পেকেট ফ্লোরে পড়ে যায়।আব্বু সেটা তুলতে নিলেই পেছন থেকে কেউ শীশ বাজায়।মূহুর্তেই আব্বুর হাত থেমে গেলো।তিনি আস্তে আস্তে সেদিকে তাকাতেই চোখে পড়লো ইফান কে।যে কিনা দরজায় হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে, মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে আব্বুকে দেখে দাঁত কেলিয়ে হাসছে।ইফানকে এখানে দেখে আব্বুর চোখ কপালে।তিনি বোকার মতো ইফানের দিকে চেয়ে রইলেন।মনে মনে লজ্জায় উনার মাথা কাটা যাচ্ছে। আসলে তো ইফান যা ভাবছে তা সত্যি না। কারণ আজ উনার পুরাতন এক ছাত্রের সাথে দেখা।সেই ছাত্র ছিলো অনেক দুষ্ট আর পড়া চোর।আব্বু কে স্যর নয় বন্ধু ভাবতো বেশি।আজ আব্বুর সাথে অনেকক্ষণ কথা হয়। আর যখন বিদায় নিয়ে চলে যাবে তখন আব্বুকে জড়িয়ে ধরে।সেই সময়ই ফাইজলামি করে আব্বুর পকেটে এই পেকেটগুলো রেখে দেয়।আব্বু তখন বুঝতে পারে নি।এখন এই কথা তো আর ইফান জানে না।আব্বু লজ্জায় হাঁপসাপ করতে লাগলো।পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে উনি শুকনো কাশলেন,
–এহেম এহেম,,,,,,,
আব্বু কিছু বলতে যেতো তার আগেই ইফান ইয়ের পেকেট গুলো তুলে আব্বুর পিট চাপরে বললো,
–এই নাহলে আমার শ্বশুর!!সাব্বাশ বেটা সাব্বাশ।
–দেখ তুমি যা ভাবছ,,,,,,,,,
আব্বুর মুখের কথা কেড়ে নিলো ইফান,
–কোনো ব্যাপার না,বুইড়া হইছেন তো কি হইছে?বউ সামনে থাকলে মরা সাপও জ্যান্ত হয়ে যায়।
ইফানের অসভ্যতামি দেখে আব্বু আর কোনো কথা বলতে পারছে না।ইফান বাঁকা হাসলো।অতঃপর নিজের লুঙ্গিতে একটা আর আব্বুর শার্টের পকেটে একটা পেকেট গুঁজে দিয়ে বললো,
–একটা দিয়ে আপনি আপনার মাল সামলান আর একটা দিয়ে আমি আমারটা সামলাবো।এবার আসি শ্বশুর আব্বা।
ইফান যাওয়ার আগে আব্বুকে চোখ মারলো।অতঃপর কপালে হাত রেখে লম্বা সালাম দিলো,
— আসসালাআআআমু আলাইকুম।
ইফান আর কিছু না বলে ঠোঁট কামড়ে হাসতে হাসতে রুম থেকে বেড়িয়ে গেল।এদিকে আব্বু অসভ্য লোকটার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইলো।ইফান চোখের আড়াল হতেই আব্বু দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে অস্পষ্ট স্বরে বললো,
–এত বাজে একটা ছেলের সাথে আমার মেয়েটা কিভাবে ঘর করছে?আমার মেয়েটা ভালো আছে তো?
–লজ্জা করলো না নিজের বাপের বয়সী শ্বশুরের সাথে এত বড় অসভ্যতামি করতে?
আমার গলা শুনে ভাবনা থেকে বেড়িয়ে আসলো ইফান।আমি কটমট করে ওর দিকে তাকিয়ে। ইফান আমার ঠোঁটের কোণে এক আঙ্গুল দিয়ে স্লাইড করতে করতে উত্তর দিলো,
–আমি আমার বাপের সাথে সভ্যতামি করি এটাই বা তোমায় কে বললো?
–তুই খুবই জঘন্য মানুষ।
–হুম জানি,,
ইফানের গা ছাড়া উত্তর।তার গভীর দৃষ্টি আমার গোলাপি ওষ্ঠে।আমি ঝারা মেরে ওর হাতটা আমার থেকে সরিয়ে নিলাম।তারপর ওর চোখের সাথে দৃষ্টি রেখে বললাম,
–আমার ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছ তুমি।এখনো সময় আছে নিজেকে বদলাও__নয়তো আমার থেকে অনেক দূরে চলে যাও।আর না তো তোমার জন্য খুব খারাপ কিছু অপেক্ষা করছে।
ইফান আমার প্রতিটি কথা মনযোগ দিয়ে শুনলো।সে আমার ক্রুদ্ধ চোখের অতলে চেয়ে থেকেই প্রতিত্তোর করলো,
–তোমার থেকে দূরে থাকার প্রশ্নই আসছে না।আর না তো আমি বদলাবো।আর বাকিটা তোমার হাতে।
ইফান নিজের কথা শেষ করে আমার ঠোঁটে শব্দ করে একটা চুমু এঁকে দিলো।তারপর আমার ভেজা চুলগুলোকে কানে গুঁজে দিলো।ইফান নিজের ঠোঁট আমার কানের কাছে এনে হিসহিসিয়ে বললো,
–আমার সবটা জুড়ে তোমার বিচরণ।এ জীবনে তোমাকে ভুলা কিংবা তোমার থেকে দূরে থাকা অসম্ভব।মৃত্যু ছাড়া তোমাকে আমার থেকে কেউ আলাদা করতে পারবে না।আর,,,
–আর কি?
ইফানের মুখের কথা কেড়ে পাল্টা প্রশ্ন করলাম।ইফান হেসে আমাকে নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো।তারপর আমার ঘারে মুখ ডুবিয়ে জোরে শ্বাস টেনে বললো,
–আর আমি যতদিন বেঁচে আছি ততদিন তোমাকে এভাবেই পুড়তে হবে।আমার থেকে এই জীবন কেন, পর জীবনেও মুক্তি নেই।আমি তোমাকে কখনোই ছাড়বো না।
–জোর করে কিছু আটকে রাখা যায় না।আর আমাকে তো পারবেই না।এমন না হোক, আমাকে পুড়াতে গিয়ে তুমিটাই ধ্বংস হয়ে না যায়।
–ধ্বংসের কারণটা যদি তুমি হও তাহলে না হয় হলাম।আমি বিলীন হলে তুমি কি খুশি হবে?
–আমি আপনার প্রতি সর্বদাই অনুভূতিহীন।
ইফান আমার দিকে পলকহীন তাকিয়ে। আমি ওর থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নিয়েছি।ইফান আমার থুতনি ধরে ওর দিকে ফিরালো।অতঃপর তাচ্ছিল্য করে হেসে, হাস্কি স্বরে বললো,
–আমার প্রতি তোমার ফিলিংস থাকতে হবে না।সেটা আমি নিজেই তৈরি করে নিব।বাট,,,,,
আমি ইফানের চোখে চোখ রাখলাম।ইফানের ধূসর চোখ জোরা লাল বর্ণ ধারন করেছে।সমান তালে চোয়ালও শক্ত হয়ে এসেছে।ইফান আচমকা আমার দুগাল চেপে ধরলো।অতঃপর দাঁতে দাঁত পিষে হিসহিসিয়ে বললো,
–তোর মধ্যে যদি আমার জন্য ফিলিংস না থাকে,তাহলে অন্য কারও জন্য রাখার স্পর্ধাও দেখাবি না।তাহলে কিন্তু,,,,,
–মেরে ফেলবে?
আমার কথা শুনে মাথা দুপাশে নাড়িয়ে হাসলো ইফান।তারপর আমার কপালে শব্দ করে চুমু খেয়ে ওয়াল হ্যাঙ্গার থেকে টাওয়ালটা নিয়ে আমার শরীরে পেচিয়ে দিতে দিতে বললো,
–মারার প্রসঙ্গ আসছে কোথা থেকে?আমি তো তোমাকে আরও বেশি যন্ত্রণা দিব। যাতে তোমার ভিতরটা পুড়ে ছারখার হয়ে যায়।তারপর সেখানের সব আবর্জনা সরিয়ে আমি আমার জায়গা ঠিকই করে নিবো।তোমাকে কিছু করতে হবে না বেইব।
–পারবে না তুমি। আমার মনে কখনোই জায়গা করে নিতে পারবে না।
ইফান ঠোঁট বাকিয়ে হাসলো।দু’জনেই নিঃশব্দে একে অপরের দিকে তাকিয়ে রইলাম।কিছুক্ষণের মধ্যেই জিয়াদের ডাক কানে আসে।আমি ইফানকে ঠেলে ওয়াশরুম থেকে বেড়িয়ে আসলাম। ইফান পিছনে তাকিয়ে থেকে আমার প্রস্থান দেখলো।
আমি রেডি হয়ে জিয়াদের ঘরে গিয়ে দেখি ছেলেটা ক্লান্ত হয়ে বিছানায় উপুড় হয়ে পড়ে আছে।আমি ওর পাশে বিছানায় গিয়ে বসলাম।আল্ত করে জিয়াদের পিটে হাত রাখতেই আমার দিকে তাকালো।
–ওহ্ তুমি। একটু আগে তোমাকে ডেকে এসেছিলাম।
–হ্যা,ঐ জন্যই দেখা করতে এলাম।
–তোমার কথা মতো সব চিহ্ন মুছে দিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু ঐখানে লা*শ সহ সবকিছুই উধাও। আমরা তন্নতন্ন করে খুঁজেছি।কিন্তু কোনো কিছুই পাইনি।
–কিহ্!!
জিয়াদের কথায় অবাক হলাম।জিয়াদ মাথা নাড়িয়ে হ্যা বললো।আমি মনে মনে কিছু একটা ভাবলাম। অতঃপর জিয়াদকে বললাম,
–ইফান,,,,,
–বাদ দাও এই টপিক। আমি ক্লান্ত এখন একটু রেস্ট নেওয়া প্রয়োজন।
জিয়াদের কথায় দীর্ঘ শ্বাস ছাড়লাম।ছেলেটা আবার চোখ বন্ধ করে শুয়ে পড়ছে। আমি ওর মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বুললাম,
–ভাই তোর কি হয়েছে?কোনো সমস্যা থাকলে আমাকে বল।আমি,,,,
আমাকে বাক্য সম্পূর্ণ করতে না দিয়ে জিয়াদ মৃদু স্বরে বললো,
–আমার কিছু হয় নি।আমি ঠিক আছি।এখন একটু ঘুমাতে দাও।
এই কথার পিছে আর কিছু বলতে পারলাম না।আবারও হতাশ হয়ে ওর রুম থেকে বেড়িয়ে আসলাম।ছেলেটার হঠাৎ এত পরিবর্তন দিনদিন আমাকে ভাবিয়ে যাচ্ছে।আমার বিয়ের আগেও কতবার ওর সাথে কথা বলতে চেয়েছি।কিন্তু ছেলেটা কিছু বলে না।অথচ সবসময় মন মরা হয়ে থাকে।আর অল্পতেই মাথা গরম করে সবার উপর রাগ দেখিয়ে চিৎকার চেচামেচি করে।
আমি জিয়াদের সাথে কথা বলতে রুম থেকে বেরোতেই, ইফানও বেড়িয়ে যায়।তখন বাড়িতে ইনানরাও চলে এসেছে।ইফান ওদের নিয়ে আবার বেড়িয়ে যায়।নদীর ধারে যে কারখানাটা কয়েক বছর আগে তৈরি হয়েছে ইফান সেখানেই বসে আছে।তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে ইনান আর আলাল,দুলাল। আর সামনে শুধু জাঙ্গিয়া পড়া অবস্থায় কানে হাত ধরে দাঁড়িয়ে আছে সাদ্দাম সহ নোহাকে ধরে নিয়ে যাওয়া বাকি দুটো ছেলে।ওদের শরীরের অবস্থা অসূচনীয়। ওদের কে এমন ভাবে পেটানো হয়েছে যে শরীর থেকে র*ক্ত ঝরেছ। সাদ্দাম ছেলেটা কাঁদতে কাঁদতে ইফানকে বলতে লাগলো,
–স্যার সত্যি আমি কিছু করি নাই। আমি তো খালি পাহারা দিতাছিলাম।যা করবার এরা করসে।
সাদ্দাম পাশের ছেলের দুটোকে দেখালো।ইফান হাতের লোড করা রিভ*লভারটা দিয়ে নিজের কপাল চুলকাতে লাগলো।এদের কথা শুনে বেশ বিরক্ত ইফান।সে ইনানকে বললো,
–কিরে ইন্দুর বাস্টা*র্ড গুলো এখনো কথা বলার অবস্থাতে কিভাবে আছে?
–জি ভাই, আমাদের গার্ডরা আচ্ছা করে পিটিয়েছে।তবুও,,,,,
–হিশশশশ, Don’t give me fu*cking excuses.
ইফান নিজের কথা বলেই সাদ্দামের দিকে রিভলবার তাক করলো।এদিকে ভয়ের চোটে সাদ্দামের হাঁটু কাপছে।এমনিতেই মার খেয়ে শরীর আধমরা হয়ে আছে।আর গান দেখে ওর কলিজা লাফিয়ে উঠেছে। বাকি ছেলে দু’টোর অবস্থা আরও করুন।ওরা গার্ডদের হাতে মার খেয়ে দম যায় যায় অবস্থা। খুব কষ্টে দাঁড়িয়ে আছে।বসলেই পিছন থেকে গরম লোহার ছ্যাকা দেওয়া হচ্ছে। ইফান প্রথমে সাদ্দামকে শুট করতে ট্রিগার চাপতে যাবে__তখনই নাকে আসলো একটা তীব্র দূর্গন্ধ। ইফান ঝটপট রি*ভলবার দিয়ে নাকের কাছে বাতাস করলো।সে নাাক ছিটকে আলাল দুলালের দিকে তাকিয়ে বললো,
–কিরে আলু, কিসের জানি গন্ধ লাগতাছে?
ইফানের কথা শুনে ইনান সহ আলাল দুলালও নাকে ধরলো।ওদের কাছেও আগেই গন্ধ লাগছিল।দুলালের তো বমি আসবে আসবে অবস্থা হয়েছিলো।কিন্তু সামনে বস বসে থাকায় নাকেও ধরতে পারে নি।আলাল গন্ধ শুকতে শুকতে সাদ্দামের পিছনে গেলো।অতঃপর সাদ্দামের পশ্চাৎএ শুকতেই বমি করে দেওয়ার পালা হলো।সে অন্যদিকে দৌড়ে গিয়ে “ইয়াক ইয়াক” করতে করতে বললো,
–ভাইইই, হাইগ্গা দিছে।
আলালের কথা শুনে ইফানের ছিটকানো নাক আরও ছিটকালো।ইনান ঝটপট ইফানকে মাস্ক দিলো।ইফান সেটা পড়ে স্থান ত্যাগ করতে করতে গার্ডদের ইশারা করলো এদের ব্যবস্থা করতে।
রাত একটা বাজলো বলে।নতুন জামাইয়ের জন্য আম্মু’রা কত কি রান্না করলো।অথচ ইফানের হদিস নাই। আমি সবাই কে নিজেদের রুমে পাঠিয়ে দিয়ে এখন ড্রয়িং রুমে বসে শয়*তানটার জন্য অপেক্ষা করছি।ভাবতে ভাবতেই কলিং বেল বেজে উঠলো।আমি সদর দরজা খুলতেই ইফানকে দেখতে পেলাম।তার পিছনে বাকি তিনজন চামচাও দাড়িয়ে। আমাকে দেখেই দাঁত বের করে হেসে দিয়ে এক সাথে সালাম দিলো,
— আসসালামু আলাইকুম ভাবি।
আমি ওদের থেকে দৃষ্টি সরিয়ে ইফানের দিকে তাকালাম। ইফান ঠোঁট বাকিয়ে হেসে দু’হাত সামনে বাড়িয়ে বললো,
–মাই ডিয়ার ফা*কিং বুলবুলি,আমার জন্য ওয়েট করছিলে?
আমি ইফানকে একবার দেখে পিছনের বাকি তিনটার দিকে তাকালাম। ইফান আমার দৃষ্টি অনুযায়ী সেদিকে তাকিয়ে ওদের ইশারা করলো ভেতরে চলে যেতে।ওরা তিন জন আমার দিকে তাকিয়ে দাঁত বের করে হাসতে হাসতে নিজেদের রুমে চলে গেছে।
–এটা তোমার বাড়ি না।তাই যখন তখন এই বাড়িতে আসা যাওয়া করা যাবে না।
আমি আর কিছু না বলেই নিজের রুমে চলে আসলাম।আমার পিছনে ইফানও রুমে আসলো।আমি চুলের খোপা খুলে শুয়ে পড়লাম।ইফান রুমে দরজা লাগিয়ে এক এক করে ব্লেজার, হাত ঘড়ি খুলতে লাগলো।আমি চোখ বন্ধ করে থেকেই বললাম,
–আম্মু বড় আম্মু অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেছে।আপনার দেখা না পেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে।আমি এখন খাবার বেরে দিতে পারবো না।
–প্রয়োজন নেই, তোমাকে খেলেই পেট ভরে যাবে।
ইফানের কথা কানে আসতেই আমি চোখ মেলে ওর দিকে তাকালাম। ইফান আমার দিকে তাকিয়ে ঠোঁট টিপে হাসতে হাসতে শার্টের বোতামে হাত চালাচ্ছে।আমি দাঁত কিরমির করে বিরবির করলাম,
–অ*সভ্য।
আমি ইফানের থেকে মুখ ফিরিয়ে আবার চোখ বন্ধ করে শুয়ে পড়লাম। ইফান আবার লুঙ্গি পড়ে নিলো।অতঃপর রুমের লাইট অফ করে আমার পাশে এসে শুয়ে পড়লো।ইফান আমাকে জড়িয়ে ধরতেই আমি আরেকটু দূরে সরে গেলাম।ইফান আবার আমার কাছে এসে জড়িয়ে ধরে পিটের চুল সরিয়ে__সেখানে চুমু খেতে লাগলো।আমি ইফানকে নিজের থেকে ছাড়িয়ে উঠে বসলাম।তারপর রাগে গজগজ করতে করতে বললাম,
–আজ যদি আমার সাথে জো*রজবরদস্তি করেছ, তাহলে ভালো হবে না।
ইফানও উঠে বসলো।আমার কথায় বিরক্তি নিয়ে বললো,
–তো বিয়ে করেছি কিসের জন্য।
–ফাইজলামি করবে না একদম। আমার অনেক ঘুম পেয়েছে। আমি আজ কিছুতেই সজাগ থাকবো না।
–তোমাকে সজাগ থাকতে হবে না বউ।আমিই,,,,,
আমি ইফানের মুখে আমার শাড়ির আঁচল গুজে দিয়ে বললাম,
–চুপ, একদম চুপ।আরেকটা কথা বললে খবর আছে।
ইফান আমার কথা শুনলো কি না কি জানি।সে আমার বুকের দিকে তাকিয়ে থেকে পরপর ঢুক গিললো।আমি নিজের দিকে তাকিয়ে শাড়ির আচল দিয়ে ভালোভাবে ঢেকে নিলাম।ইফান মুখ থেকে কাপড়টা সরিয়ে বললো,
জাহানারা পর্ব ৪১
–আজ একটু সেটিসফাইড করে নাও বউ।বেশিক্ষণ জ্বালাবো না।
আমি আবার শুতে শুতে বললাম,
–আমি আজ কিছুতেই করবো না।আর আমার উপরে গিয়ে কিছু করলে, ভালো হবে না বিষয়টা।
ইফান অনেকক্ষণ এটা সেটা বললো।কিন্তু আমাকে রাজি করাতে পরলো না।অবশেষে ইফান বেশ কিছুক্ষণ ভেবে বললো,
–চল একটা গেইম খেলি,,,
