জাহানারা পর্ব ৬৭
জান্নাত মুন
লিফট ১১২ তম ফ্লোরে এসে থামল। লিফটের দরজা খুলতেই ইফান আমাকে কোলে নিয়েই বড় বড় পা ফেলে বেড়িয়ে গেল। আমি ওর গলা জড়িয়ে ধরে এখনো তার দিকে তাকিয়ে আছি উত্তরের আশায়। লিফটে থাকাকালীন সময়েও তার দিকে একইভাবে তাকিয়ে থাকায় আমার ঠোঁটে টুপ করে কয়েকবার চুমুও খেয়েছে।
–“বুলবুলি, ডোন্ট স্টেয়ার অ্যাট মি লাইক দ্যাট। আমি সিডিউস হচ্ছি।”
ইফানের হিসহিসিয়ে বলা হাস্কি স্বর কানে আসতেই সংবিতে ফিরলাম। আমি আশেপাশে দৃষ্টি ঘুরিয়ে ঠোঁট বাকিয়ে বললাম,
–“আমি কিন্তু এখনো আমার প্রশ্নের উত্তর পাই নি।”
আমার বলা শেষ হতে না হতেই চোখ আটকায় চারদিকের সাজানো গোছানো দেখে। এটা মূলত বুর্জ খলিফার এক্সক্লুসিভ ইভেন্ট ভেন্যু। বুর্জ খলিফার এই ফ্লোরটা ভিআইপিদের জন্য। বর্তমানে ইফান বিশাল এই ইভেন্ট স্পেস বুক করে বিশাল এক জাঁকজমক পার্টি অ্যারেঞ্জ করেছে। অনেক গেস্ট উপস্থিত রয়েছে। ও আমাকে দিয়ে ভেতরে আসতেই উপস্থিত সকলে হাততালি দিয়ে আমাদের বিবাহ বার্ষিকী উইশ করল।
উপস্থিত সকলেই বিভিন্ন দেশ-বিদেশের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা, যা তাদের বেশভূষা দেখে ভালোই বুঝা যাচ্ছে। আমি চোখ কুঞ্চিত করে ইফানের দিকে তাকাতেই সে আমাকে নামিয়ে দিল। হাতের ইশারায় আরেকদিকে দেখিয়ে বলল,
–“লুক হি ইজ মাই ফাদার পলক কাইসার।”
“পলক কাইসার”, মনে মনে আওড়িয়ে সেদিকে তাকাতেই দেখলাম একজন মধ্যে বয়সী লোক পায়ের উপর পা তুলে রাজকীয় ভঙ্গিমায় হাতে ওয়াইনের গ্লাস নিয়ে চেয়ারে বসে আছে। পড়নে সাদা লুঙ্গি আর সাদা শার্ট।গলায় এবং হাতে গোল্ডন চেইন আর ব্রেসলেট। চোখে কালো সানগ্লাস। মুখ ভর্তি দাঁড়ি। লোকটার দুপাশে সশস্ত্র হাতে দুজন কালো পোশাকধারী গার্ড দাঁড়িয়ে। আমি লোকটার দিকে তাকাতেই ইফান ঠোঁট প্রসারিত করল। ইফান আমার বাহু ধরে লোকটার দিকে এগিয়ে গেল। অতঃপর লোকটাকে বলল,
–“মাই ওয়াইফ জাহানারা শেখ।”
লোকটা প্রথমে গম্ভীর চেহারায় আমার দিকে তাকিয়ে থাকলেও এবার ঠোঁট প্রসারিত করল। পাশের চেয়ার দেখিয়ে বলল,
–“লড়কি ইধর বৈঠো।”
ইফান হেসে আমাকে বসিয়ে দিল। পলক কাইসার আমার দিকে পূর্ণ দৃষ্টি দিয়ে হেসে আবার বলল,
–“তেরি তাবিয়ত কাইসি হ্যায়?”
–“জি ভালো।”
উত্তর করেই ইফানের দিকে সুক্ষ্ম নজরে তাকালাম। ইফান হেসে দিল। অতঃপর বলল,”অ্যাকচুয়ালি হি ইজ ইন্ডিয়ান। বাট লন্ডনেই তার সব, ইউ নো দ্যাট। সো বাংলা খুব কম বলে।”
–“তুম দিখনে মে বহুত আচ্ছে হো। ইসি লিয়ে শায়দ মেরে বেটা তুমহে পছন্দ করতা হ্যায়। তো তুম মেরে বেটে কো কিয়োঁ পছন্দ কর রহি হো? তুমহে নহি পাতা মেরে বেটা আছ্ছা আদমি নহি হ্যায়।”
পলক কাইসারের হঠাৎ এমন কথায় ইফানের দিকে তাকালাম। ইফান চেয়ারে মাথা হেলিয়ে ঠোঁট কামড়ে নিঃশব্দে হাসছে। পলক কাইসার আবার বলতে লাগল,
–“য়ে জো তুম সবকো দেখ রহি হো না, ইয়েহ লোগ কোই ভি আচ্ছে আদমি নহি হ্যায়। ইয়েহ সব বড়ে‑বড়ে মাস্তান হ্যায়, ক্রিমিনাল হ্যায়। ঔর তুমহারা পতি ইন সবকে উপর হ্যায়। বিলকুল ভি আচ্ছা নহি হ্যায়। মেঁনে হি উসে আচ্ছা ইনসান নহি বানায়া।হা হা হা।”
লোকটা হঠাৎ এসব কথা আমায় কেন বলছে বুঝতে পারছি না। আমি শুধু চুপ করে লোকটার কথা শুনতে লাগলাম। লোকটা ওয়াইনের গ্লাসে একটা চুমুক দিয়ে আবার বলতে লাগল,
–“হামারি মাফিয়া জিন্দাগি মে প্যার বা মহব্বত সহি নহি হ্যায়।”
–“একদমই উচিত না।”
বলেই ইফান হো হো করে হেসে দিল। কথার মধ্যে বিগ্ন ঘটায় কিছুটা বিরক্ত হলো পলক কাইসার। তিনি ধমকের স্বরে ইফানকে বলল,
–“তু অভি তক ইয়াহাঁ ক্যা কর রহা হ্যায়? ভাগ ইয়াহাঁ সে। তেরি বিবি সে মুঝে বাত করনি হ্যায়। জা, ভাগ।”
–“ওকে ওকে তোমরা কথা বল আমি আসছি।”
ইফান উঠে গেস্টদের কাছে চলে গেল। পলক কাইসার ইফানের ভাবলেশহীন যাওয়ার পানে চেয়ে হেসে বলে উঠলো,
–“বহুত বজ্জাত মেরা বেটা হ্যায়। শুনো লড়কি, তোমহারি বাতেন মেরি প্রিন্সেস নে বহুত কহি হ্যায়। উসে তুম বহুত পছন্দ হো।”
–“নোহার কথা বলছেন?”
–“হ্যাঁ, মেরি এক হি প্যারি লড়কি হ্যায়, মেরি প্রিন্সেস। উসকে লিয়ে হি মেই অভি ভি ফিট হুঁ।”
–“নোহার কাছে আপনার সম্পর্কে শুনেছি। নোহা আপনাকে অনেক ভালোবাসে।”
আমার কথা শুনে লোকটা স্মিথ হাসল। অতঃপর বলল,”তো কি চাও তুমি?”
এতক্ষণ হিন্দিতে কথা বলার পর হঠাৎ বাংলায় বলায় আমি একটু অবাক হলাম। যা প্রকাশ পেল না। বরং স্বাভাবিক ভাবে উত্তর করলাম,
–“আমি আবার কি চাইব ?”
–“যদি কিছু নাই চাও তাহলে একজন সিআইডি অফিসার হয়ে কেন ওর মতো ক্রিমিনালের সাথে আছ?”
এবার একটু হকচকিয়ে উঠলাম লোকটার কথায়। আমাকে চমকাতে দেখে লোকটা ঠোঁট বাকিয়ে হাসল। অতপর অতি শীতল কন্ঠে বলল,
–“নিজেকে অতি চালাক ভেবো না। তোমার সম্পর্কে শুধু আমিই না আমার বেটাও খুব ভালো করে জানে।”
–“জানি।”
এবার আমার কথায় পলক কাইসার চমকে উঠল। আমি বাঁকা হাসলাম। লোকটা পরক্ষণেই স্বাভাবিক হয়ে বলল,
–“নোহা আর ভি আমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ । ওদের কিছু হলে আমি বাঁচব না। আর আমি বেঁচে থাকতে ওদের কিছু হতেও দিব না।”
–“ভালো।”
আমার ঠান্ডা কথায় লোকটার ভ্রু কুঞ্চিত হল। তিনি সুক্ষ্ম নজরে আমাকে পড়ুক করে শুধাল,”কি গেইম খেলছ তুমি ভির সাথে?”
–“কিছুই না।”
–“তাহলে কেন আজও ওর সাথে আছ? তুমি কি জান না মাফিয়াদের সুস্থ সংসার হয় না?”
–“জানি।”
–“তাহলে ?”
আমি কোনো উত্তর করলাম না। ইতোমধ্যে আমি অন্যমনুষ্ক হয়ে গেছি। লোকটা আমার উদাস চেহারা লক্ষ করে বলল,
–“জোর করে যে সংসার হয় না তা আমি খুব ভালো করে জানি। এখন কথা হচ্ছে তোমাকে নিয়ে। তোমায় নিয়ে ভির কোনো মাথা ব্যথা নেই। কিন্তু তুমি আমার আতংক।”
আচমকা পলক কাইসারের দিকে দৃষ্টি ঘুরালাম। তিনি বাঁকা হেসে বলে উঠলো,”ঘর শত্রু বিভীষণ হয়ও না মেয়ে। যা করেছ এতটুকুতেই থেমে যাও।”
–“আচ্ছা।”
লোকটার কথার পিছে তৎক্ষনাৎ প্রতিত্তোর করলাম। লোকটা বেশ অবাক হলো আমাকে এত শান্ত দেখে। তারপর হেসে বলল,”ভি তুমহে বহুত পছন্দ করতা হ্যায়, পতা হ্যায়?”
–“না।”
–“ক্যোঁ কভি নহি বাতায়া?”
–“উহু।”
ছোট্ট করে উত্তর করে ইফানের দিকে তাকালাম। ও কয়েকজন লোকের সাথে কথা বলছে। চেহারায় বেশ গম্ভীর্য ধরে রাখা। দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে চোখ সরিয়ে নিতে গিয়ে আচমকা নজরে পড়ল একটা মেয়ের দিকে। ভুল না হলে এখানকার মেয়েই হবে। পোশাকের অবস্থা বেহাল। সবচেয়ে বড় কথা বেহায়ার মতো ইফানের দিকে তাকিয়ে আছে। মেয়েটার এক্সপ্রেশনটা আমার একদমই সুবিধার লাগছে না।
বিশাল বড় কেকটা আমি আর ইফান একসাথে কাটলাম। ইফান সবার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে আমার আঙুলে ডায়মন্ডের রিং পরিয়ে দিয়েছে। অতঃপর আমি আগের জায়গায় এসে বসে পড়লাম। দেহে প্রচুর ক্লান্তি। একটু ঘুমালে ভালো হতো। আমি ইফানের দিকে তাকালাম, সে এখনো গেস্টদের সাথে কথা বলতে ব্যস্ত। লোকটা যে কদিন ধরে অঘুমে তার কোনো হুঁশ নেই। বরং নিজেকে সবার সামনে নর্মাল দেখাতে চাইছে। কিন্তু আমি স্পষ্ট বুঝতে পারছি ও ক্লান্ত।
আচমকা ইফান আমার দিকে তাকিয়ে পড়ল। তৎক্ষনাৎ আমি হকচকিয়ে উঠলাম চোর ধরা পড়ার মতো। আমি দৃষ্টি সরিয়ে নিলাম। কয়েক মূহুর্ত পর আবার আড় চোখে ইফানের দিকে তাকাতেই ইফান চোখ মারল। ছিঃ কি অস্বস্তিকর বিষয়। আমি বিরবির করলাম অসভ্য। ইফান আমার বিরক্তি ভাব চেহারা দেখে ঠোঁট কামড়ে হেসে চোখ সরিয়ে নিল।
লাউডলি গান বাজছে। আসেপাশে বিদেশি গেস্টরা একে অপরের সাথে ঘেষে শরীর দুলাচ্ছে। সবার হাতে ওয়াইনের গ্লাস। এরা সবাই মাফিয়া আর তার পরিবার। আজকের পার্টিতে ইফানের বিশ্বস্ত ও কাছের কিছু মানুষ ইনভাইটেশন পেয়েছে। সেই সব গেস্টরা তাদের পরিবার নিয়ে এসেছে।
–“হাই বেইবি, হোয়াটস আপ?”
পিছন থেকে মেয়েলি কন্ঠ স্বর ভেসে আসতেই ইফানের কপাল কুঞ্চিত হলো। ফলস্বরূপ কপালে কয়েকটি সুক্ষ্ম ভাজের সৃষ্টি হয়েছে। তৎক্ষনাৎ তার কাঁধে কেউ হাত রাখতেই চোয়াল শক্ত করে দাঁতে দাঁত চেপে আড় চোখে নিজের কাঁধের দিকে দৃষ্টি রাখতেই লক্ষ করল মেয়ের হাত। হাতের নখরগুলো বেশ বড় বড়। ইফান চোখ উপরে তুলে তাকাতেই মেয়েটা হেসে উঠল।
–“হেই তুমি রে”গে যাচ্ছ?”
ইফান মেয়েটাকে দেখে কোনো প্রকার রিয়াকশন দিল না। বরং আবার অন্যদিকে ঘুরে দাঁড়াল। মেয়েটা স্পষ্ট বুঝল তাকে এভয়েড করছে। কিন্তু সে নাছোড়বান্দার মতো ইফানের সামনে গিয়ে দাঁড়াল। অতঃপর হেসে বলল,
–“বেইবি হেলেনাকে ভুলে গেলে?”
–“মনেই কবে রেখেছিলাম যে ভুলে যাব?’
ইফানের তৎক্ষনাৎ বিদ্রুপ প্রতিত্তোরে মেয়েটার মুখটা চুপসে গেল। পরক্ষণে আবার ঠোঁটে মিথ্যা হাসি ঝুলিয়ে বলল,
–“বাট আমি যে তোমাকে ভুলতে পারি নি এখনো। আমার তো সবসময় মনে পড়ে ঐ পার্টি নাইটের কথা।”
–“সো হোয়াট?”
ইফান চরম বিরক্তি নিয়ে উত্তর করল। এবার মেয়েটা একটু জেদি গলায় বলে উঠলো, “তুমি আমার সাথে চিট করেছে। তুমি বলেছিলে কখনো কাউকে লাভ করবে না। বিয়ে করা তো দূরের বিষয়। বাট এখন কি করেছ?”
ইফান উত্তর করল না বরং হাত চোখের সামনে ধরে ঘড়িতে টাইম দেখল। হেলেনা বেশ অপমানবোধ করল। সে তেজি গলায় আবার বলতে লাগল,
–“তোমার সব খবরই আমি পেয়েছি। ঐ থার্ড ক্লাস মেয়েটাকে নিয়ে তুমি যা বারাবাড়ি করছ দ্যাটস নট ফেয়ার ডার্লিং। আমি দুবাই ডনের মেয়ে। টাকার পাহাড়ে বড় হয়েছি। আমার মধ্যে কম কি আছে?
হেলেনা এবার দাঁতে দাঁত পিষে বলে উঠলো, তুমি আমাকে ইউজ করে ফেলেদিয়েছ। অথচ দেখ আমি এখনো চুপ করে আছি। বিকজ আই লাইক য়্যু। কিন্তু আমার ড্যাড….”
–“টাইম ইজ ওভার।”
হেলেনাকে থামিয়ে গমগমে গলায় বলে উঠলো ইফান। আর এক মূহুর্ত সময় ব্যয় না করে চলে যেতে লাগল। এটা দেখে হেলেনা ফুঁসে উঠল। দু হাত মুষ্টিবদ্ধ করে তেজি কণ্ঠে বলল,
–“আমি কিন্তু তোমার ওয়াইফকে সব বলে দিব, যে তোমার আমার মধ্যে ইগজ্যাক্টলি কি রিলেশন ছিল।”
ইফানের পা থামল। সে পিছন ফিরে ঘুরে দাঁড়াল। অতঃপর প্যান্টের পকেটে দুহাত গুঁজতে গুঁজতে হেলেনাকে নিচ থেকে উপর পর্যন্ত পড়ুক করে শীতল কন্ঠে বললো,
–“হিয়ার ইজ মাই ওয়াইফ।”
ইফান ধীরে ধীরে আমার দিকে চোখ ঘুরাল। আমি নিষ্প্রভ দৃষ্টিতে ইফানের দিকেই তাকিয়ে ছিলাম। সে আমার দিকে তাকাতেই ধীরে ধীরে দৃষ্টি সরিয়ে নিলাম। হেলেনা ইফানকে অনুসরণ করে তাকাতেই আশ্চর্য হলো। ইফান এভাবে বলবে সে কখনো কল্পনাও করে নি। আমি দৃষ্টি সরিয়ে নিতেই ইফান বাঁকা হাসল। অতঃপর হেলেনার দিকে তাকিয়ে বলল,
–“যাও গিয়ে ওকে বলে দাও। আমি কিছু মাইন্ড করব না।”
–“আমাকে নর্মালি নিও না। আমি কিন্তু সত্যিই বলে দিব।”
ইফান জিহ্বার ডগা দিয়ে গাল ঠেলে বাঁকা হাসল। এতে হেলেনার রাগ আরও বাড়ল। সে সত্যিই আমার দিকে আসতে নিলে পিছন থেকে ইফান ঠান্ডা গলায় হাস্কি স্বরে বলে উঠলো,
–“ইফ শি ক্রাইজ টুডে, আই সোয়ার আইল কিল ইউ।”
ইফানের হুমকি মূলক বাক্যে থমকে গেল হেলেনার পা। ভয়ে একটা ঢোক গিলে পিছনে ফিরতেই দেখল ইফান বাঁকা হাসছে। দুবাই কন্যার চুপসে যাওয়া চেহারা দেখে ইফান বেশ মজা পেল। অতঃপর সে ধীর পায়ে হেলেনার নিকট এগিয়ে আসে। চোয়াল শক্ত করে হিসহিসিয়ে বলে,
–“ইউ আর আ লাকি গার্ল। বিকজ ইউ’আর স্টিল এলাইভ। তুই-ই একমাত্র বি’চ যে আমার বেড থেকে জীবিত নামতে পেরেছে। আর দ্বিতীয় বার আমার সামনে দাঁড়ানোর সাহস দেখিয়েছে। কি যেন বলছিলি তোর মধ্যে কি কম আছে?
ইউ ফা”কিং গাইজ আর লাইক ডিসপোজেবল টিস্যুজ; ইউজড ওয়ান্স অ্যান্ড দেন থ্রোন অ্যাওয়ে।”
ইফানের অপমানজনক কথাবার্তায় রা’গে মেয়েটার চোখমুখ লাল বর্ণ ধারন করেছে। কিছু বলার মতো শক্তি বা সাহস হয়ে উঠছে না। ইফান হেলেনার অপমানে লাল হয়ে উঠা চেহারা দেখে বাঁকা হেসে ফের বলতে আরম্ভ করল,
–“ডু ইউ থিংক আই’ম আ গুড পারসন? নোপ, আ’ম আ ফা”কিং বেড গাই। আর এটা আমার ওয়াইফ নোজ ইভেন বেটার দ্যান মি।
আমার সম্পর্কে ওকে কিছু বলে তুই কি কাঁদাবি ওকে? আমিই তো ওকে প্রতি মূহুর্তে কাঁদাই।
আ’ম দ্য ডার্কনেস দ্যাট টার্নস দেইর ড্রিমস ইন্টু নাইটম্যারস। আমি যদি ওকে হাসাতেই চাইতাম তাহলে আমি ইফান চৌধুরী ওর জীবনে দেবদূত হয়ে আসতাম। বাট আই ডিডন’ট ওয়ান্ট দিস। আমি যেমন তেমন রূপেই ওর জীবনে এসেছি।
লিসেন বিচ, আই’ম নট আ ফা”কিং হিরো অর এন্টি-হিরো। আই’ম আ ভিলেন। আমি বিধ্বংসী। যার সবটায় পাপে ঘেরাও করা। আমার থেকে ভালো কিছু আশা করা জাস্ট আ অ্যাসহোল থিংকস।”
–“এই বুইড়া হা’লার পুত, আমার সুগার ডেডি জামাইটা কোথায় রে ?”
পুরো পার্টিকে থমকে দিতে আমার একটা বাক্যই যথেষ্ট ছিল। মূহুর্তেই সকলের দৃষ্টির কেন্দ্রবিন্দু হলাম আমি।আমার কন্ঠ কানে যেতেই ইফান চটজলদি এদিকে তাকাল। আমার সামনে দাঁড়িয়ে রাগে ফুঁসছে গড ফাদার পলক কাইসার। ইফানের সাথে মেয়েটাকে এভাবে কথা বলতে দেখে রাগে আমি অতিরিক্ত ড্রিংক করে ফলেছি। তাই এখন সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছি না। আমার হাতে একটা ম’দের বোতল। আর সেটা ফাদারের দিকে তাক করে সেই কখন থেকে জিজ্ঞেস করছি ইফানের কথা। অবচেতন অবস্থায় বাবার বয়সী লোকটাকে গা’লিগালাজও করেছি। আমার এই অবস্থা দেখে সেই থেকে লোকটা হতবিহ্বল হয়ে দাঁড়িয়ে। অবশেষে রা’গে চিৎকার করে বলে উঠেছি। এখন ফাদারের চেহারার রং বদলে লাল হয়ে গেছে।
আমি ফাদার কে পাত্তা দিলাম না। মদের বোতলটা বগলের নিচে চেপে রেখে এক হাত কপালে আড়াআড়ি ভাবে ধরে ইফানকে খুঁজতে খুঁজতে পুনরায় চেচিয়ে উঠলাম,
–“সুগার ডেডি ইফান, ও সুগার ডেডি ইফান। গো’লামের পুত তুই কোন সা”উয়ার চিপায় লুকিয়ে আছিস।”
চোখের সামনে সব কিছু ঝাপসা দেখা যাচ্ছে। হঠাৎই ইফানকে নজরে পড়ল। আরে এ তো একটা ইফান না। চার চারটা ইফান। আমি এক ধ্যানে সেদিকে তাকিয়ে হাতের আঙুল তাক করে গোনতে লাগলাম।
এখানে হাতেগোনা কজন ছাড়া কেউই বাংলা জানে না।তাই গেস্টরা উৎসুক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে। ইতোমধ্যে লাউলি মিউজিক বাজানো বন্ধ হয়ে গেছে। আমার এমন মাতলামো দেখে ইফানের চোয়াল শক্ত হয়ে আসল। দু’হাত মুষ্টিবদ্ধ করে ক্রুদ্ধ নয়নে আমার দিকে তাকিয়ে। হেলেনা আমার এমন অবস্থা দেখে উচ্চ স্বরে হেসে দিল। এ যেন তার কাছে মেঘ না চাইতেই জলের সন্ধান পাওয়া। হেলেনা ইফানকে টিটকারি দিয়ে বলল,
–“ও মাই গশ। লুক ইফান চৌধুরী, ইউর ওয়াইফ। হাহাহা।”
ইফান হেলেনার দিকে তাকালো না। বরং আরও কঠোর দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে রইল। আমি চোখ পিটপিট করে দেখলাম মেয়েটা আমার স্বামীর সাথে হেসে কথা বলছে। আমার সহ্য হলো না। আমি মদের বোতলটা উপরে তুলে মেয়েটার দিকে ছুটে আসতে লাগলাম। হেলেনা আতংকিত হয়ে পড়ল আমার এহেন কাজে। আমি দৌড়ে ওর কাছে আসতে গিয়ে পড়ে যেতে নিলে ইফান আমার বাহু ধরে নিল। আমি ইফানের বাহুতে আটকা থেকে মদের বোতলটা হেলেনার দিকে ধরে অশ্রাব্য ভাষায় চেচিয়ে উঠলাম,
–“ন”ডির সেরি থাপড়ে তোর সা”উয়া ফাটিয়ে দিব। আমার জামাইয়ের দিকে নজর দেওয়া বের করছি খাড়া তুই… ”
বলতে বলতে ম’দের বোতলটা হেলেনার দিকে ছুড়ে দিলাম। তবে বেশি দূর যায়নি। ওর পায়ের কাছে ঠাস করে ভেঙে কাচের টুকরো চারপাশে ছিটকে পড়ল। হেলেনার বাবা মেয়েকে ধরে সাইডে নিয়ে গিয়ে ইফানের উপর চেচিয়ে উঠলো,
–“হোয়াট দ্য হেল ইজ গোইং অন হিয়ার, মিস্টার ভেনম?”
তড়িৎ বেগে ইফান লোকটার দিকে ক্রোধিত নয়নে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত পিষে আওড়ালো,
–“গলা নামিয়ে।”
মূহুর্তেই দুবাই ডনের চেহারা চুপসে গেল। ইফান এবার আমার দিকে কড়া চোখে তাকালো। আমি ওর হাতের বাঁধন থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য মোচড়ামুচড়ি করছি। ইফান আমার বাহু ধরে টান মেরে সোজা দাঁড় করিয়ে চোয়াল শক্ত করে শুধালো,
–“হোয়াট দ্য হেল!”
আমি নিভু নিভু চোখে ইফানের দিকে তাকিয়ে ওর গালে আলতো হাত ছুঁইয়ে হিসহিসিয়ে আওড়ালাম,”সুগার ডেডি..”
–“স্টপ ইউর ফা’কিং মাউথ।”
বলেই ইফান দাঁতে দাঁত পিষল। আমি ওর রাগকে তোয়াক্কা না করে ওর পায়ের উপর দাঁড়িয়ে দু’হাতে গলা জড়িয়ে ধরে হিসহিসিয়ে বললাম,”ফা”ক য়্যু।”
ইফান সরু চোখে আমাকে পড়ুক করে বাঁকা হেসে বলল,”ইয়াহ্ ফা”ক য়্যু টু। লেট’স গো টু দ্য রুম।”
ইফান বলেই আমার হাত টেনে যাওয়া ধরতেই চিৎকার করে গেয়ে উঠলাম,
❝Yeh mera dil pyar ka deewana.❞
মূহুর্তেই ইফান থমকালে। ওর হাত ঢিলে হতেই আমি হাত ছাড়িয়ে নিলাম। ইফান পিছনে ফিরে তাকাতেই দেখল আমি গান গেয়ে শরীর দুলিয়ে নাচতে আরম্ভ করেছি,
❝Yeh mera dil pyar ka deewana
Deewana, deewana pyar ka parwana
Aata hai mujhko pyar mein jal jaana
Mushqil hai pyare tera bachke jaana
Yeh mera dil yaar ka deewana
Yeh mera dil pyar ka deewana….❞
আমি গাইতে গাইতে ইফানকে জড়িয়ে নাচতে আরম্ভ করলাম। আমার এমন উশৃংখল আচরণে ফাদার চোয়াল শক্ত করে ইফানকে বলল,”নিয়ে যাও ওকে।”
ইফান আমাকে ঝাপটে ধরে দাঁত কটমট করে বলল,”অনেক হয়েছে চল এবার।”
ইফান আমাকে কিছুতেই থামাতে পারছে না। আমি হাত পা ছুড়তে আরম্ভ করেছি। অবশেষে ইফান আমাকে এমন ভাবে ধরল যে নাড়াচাড়া করতে পারছি না। তাই গাল ফুলিয়ে মৃদু স্বরে বললাম,
–“উমম সুগার ডে…”
–“আরেকবার উচ্চারণ করলে থাপরে তোর সব দাঁত ফেলে দিব বেয়াদ্দব।”
ইফানের এক ধমকে স্তব্ধ হয়ে গেল পুরো পার্টি এরিয়া। আমি কিছুক্ষণ শান্ত দৃষ্টিতে ইফানের দিকে তাকিয়ে থেকে আচমকা ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কেঁদে দিলাম। ইফান হকচকিয়ে উঠল। উপস্থিত অনেকে উচ্চ স্বরে হেসে দিতেই ইফান কড়া চোখে তাকল। মূহুর্তেই সকলে মাথা নুইয়ে নিল। এরই মধ্যে আমি এক ভয়ানক কাজ করে বসলাম। সকলের সামনে টুপ করে ইফানের থুতনিতে শব্দ করে চুমু খেয়ে বসলাম। এক মূহুর্তে ইফান পাথরের মূর্তির মতো জমে গেল। এই প্রথম আমি তাকে চুমু খেয়েছি। ইফান অবিশ্বাস্য চোখে যখন আমার দিকে তাকিয়ে তখন আরেক কাজ করে বসলাম। সকালের সামনে ওর গলা জড়িয়ে ধরে হাগ করে ওর কানে হিসহিসিয়ে বলে উঠলাম,
–“আই লাভ য়্যু।”
এবার ইফানের হৃদস্পন্দনও থমকে গেল। চোখ দুটো অবিশ্বাস্যের ন্যয় প্রসারিত হল। যখন ও আমার পিঠে হাত রাখবে তখনই আবার আমার কন্ঠ তার কানে ঝংকার তুলল।
–“জায়ান ভাই, আই লাভ ইয়্যু ভেরি মাচ।”
খনিকের তৈরি হওয়া প্রণয়নের জলোচ্ছ্বাস মূহুর্তেই অগ্নিগিরিতে রুপ নিল। কেউ কিছু বুঝার আগেই পুরো হল জুড়ে কম্পিত হল চপেটাঘাতের আওয়াজ। উপস্থিত সকলে ভয়ে এক পা করে পিছিয়ে পড়ল। ফাদার চোখ বন্ধ করে তপ্ত শ্বাস ছেড়ে স্থান ত্যাগ করল। ফ্লোরে লুটিয়ে পড়া আমি আঘাত প্রাপ্ত গালে হাত রেখে আস্তে আস্তে সামনে চোখ রাখতেই দেখলাম হেলেনা ঠোঁট টিপে হাসছে। আমি ঘাড় বাকিয়ে চোখ তুলে ইফানের দিকে ব্যথাতুর টলমল করা নয়নে তাকালাম। ইফানের থাপ্পড়টা এতটা জোড়ালো ছিল যে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে ঠোঁট কেটে র’ক্ত বের হচ্ছে। আমার এমন বিধস্ত চেহারা দেখে দৃষ্টি সরিয়ে খুব কষ্টে ঢোক গিলল। ফলে পুরুষালি অ্যাডামস এপল তরঙ্গায়িত হল। ইফান জিহ্বা দিয়ে নিজের সিগারেটে পোড়া ব্রাউন ঠোঁটগুলে ভিজিয়ে ঝটপট আমার দিকে এগিয়ে এসে হাঁটু গেড়ে বসল। আমার জলে থৈথৈ করা নয়ন পানে ইফান তাকাতেই আমি ঘৃণায় তার থেকে চোখ সরিয়ে নিলাম।
আসেপাশে কানাঘুঁষা শুনা যাচ্ছে। আমি চোখ খিচকে বন্ধ করে নিলাম। তমধ্যেই আমার গাল বেয়ে তপ্ত জল গড়িয়ে পড়ল।ইফান এক আঙুল দিয়ে আমার ঠোঁটের কোণের র’ক্ত মুছতে হাত বাড়ালেই মুখ সরিয়ে হিসহিসিয়ে বলে উঠলাম,
–“আই হেইট য়্যু।”
–“আচ্ছা।”
হাস্কি স্বরে হিসহিসিয়ে বলে জোর করেই আমার ঠোঁট মুছতে লাগল। আমি ফুপিয়ে উঠলাম। ভেতরে আটকে রাখা কান্নার তোরে সারা দেহ কম্পিত হচ্ছে। ইফান তপ্ত শ্বাস ছেড়ে বলল,”উঠো।”
–“আই হেইট য়্যু।”
ইফান আর বাক্য বিনিময় করলো না। সে এক টান মেরে আমাকে তার কাঁধে তুলে বড় বড় পা ফেলে ইভেন্ট ভেন্যু থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। আমি নিজের সর্বস্ব শক্তি দিয়ে ওর পিঠে কিল থাপ্পড় দিচ্ছি। এতে দানবের মতো লোকটাকে একটু দমাতে পাড়লাম। অতঃপর চিৎকার করে অশ্রাব্য ভাষায় বকাঝকা করতে লাগলাম।
“কু”ত্তার বাচ্চা তুই আমাকে মারছস, আমি তোর নামে জায়ান ভাইয়ের কাছে বিচার দিব দেখিস ।”
–“ওকে ।”
–“বা’লের বেডা তোরে আজ আমি মে’রেই ফেলব।”
ঠাস ঠুস করে ইফানের পিঠে একের পর এক কিল ঘুষি বসিয়ে দিচ্ছি। ইফান ইতোমধ্যে আমাকে কাঁধে করে নিয়েই আমাদের অ্যাপার্টমেন্টের সামনে চলে এসেছে। আমি এখনো চিল্লাপাল্লা করেই যাচ্ছি। ইফান ভেতরে এসে আমাকে বেডে শুইয়ে দিয়ে দাঁতে দাঁত পিষে আওড়ালো,
–“এখন চেঁচা। যত মন চায় চেঁচা। শা’লি আজ আমার ইজ্জত তুই রাখলি না। চুপ করে এখানে শুয়ে থাক। আমি আসছি।”
ইফান কিচেনের দিকে রওনা হলো। আমি বাচ্চাদের মতো গাল ফুলিয়ে ঠোঁট উল্টালাম। অতঃপর বেড থেকে নেমে দুলতে দুলতে ইনডোর সুইমিং পুলটার কাছে চলে গেলাম।
ইফান কিচেন থেকে লেবুর শরবত বানিয়ে নিয়ে এসে দেখে আমি নেই। নির্ঘুম লোকটার মস্তিষ্ক চিরবিলে উঠল। চোয়াল শক্ত করে সারা রুমে চোখ ঘুরাল। কোথাও নেই আমি। ইফান হাতের উল্টো পিঠ নাকে ঘষে নিল। অতঃপর আমাকে খুঁজতে খুঁজতে দোতলায় মিনি সুইমিং পুলটার কাছে আসতেই শুনতে পেল আমার কন্ঠ।
–“হুররে আমি আকাশে উড়ছি। ভুম ভুম ভুম।”
ইফানের দাঁত কটমট করলো আমার মাতলামি দেখে। আমি ডানা ঝাপটে আকাশে উড়ার জন্য লাফাচ্ছি। লাফাতে লাফাতে সুইমিং পুলে পা বাড়াতে নিলেই পিছন থেকে ইফান ঝড়ের বেগে এসে আমার হাত ধরে ফেলল। আমি এখন সুইমিং পুলের উপর ঝুলে আছি। ইফান হাত ছাড়লেই ঠাস করে পুলে পড়ব। আমি চোখ পিটপিট করে ইফানের দিকে কয়েক মূহুর্ত তাকিয়ে থেকে চেচিয়ে উঠলাম,
–“বা’লের বেডা তুই আমার হাত ছাড়। তুই আমারে মা’রছস।”
এক হাত দিয়ে ইফানের হাতে খামচে দিতে লাগলাম।নখের আঁচড়ে বেশ কয়েক জায়গায় র’ক্ত বের হয়ে গেছে। ইফান দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করে নিল। যখন আমি বেশি বাড়াবাড়ি শুরু করে দিলাম তখন হঠাৎ করেই আমার হাত ছেড়ে দিল। আমি পড়ে যেতে নিলে চিৎকার করে উঠতেই ইফান পুনরায় আমার হাত ধরে ফেলে। আমি পিটপিট করে ওর দিকে তাকাতেই টান মেরে আমাকে ওর বুকে এনে ফেলে।তারপর জোর করে লেবুর শরবত খাওয়াতে গেলে গ্লাসের সব শরবত পড়ে যায়। ইফান এবার রাগ সামলাতে না পেরে ধমকে উঠে,
–“জাহান এবার কিন্তু আমার হাতে মা’র খাবি।”
আমি ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে আচমকা কেঁদে উঠলাম। ইফান হকচকিয়ে উঠল। আমাকে নিজের বাহুডোরে আগলে কোমল কণ্ঠে বলে উঠলো,
–“ডোন্ট ক্রাই। আর বকব না।”
–“তুমি আমাকে এখানে মা’রছ।”
আমি হেঁচকি তুলে কাঁদতে কাঁদতে বাক্যটা বলে গালটা ইফানকে দেখালাম। আমার গালে হাতের পাঁচটি আঙুলের দাগ পড়ে লাল হয়ে আছে। ইফান তখন রাগের বশে থাপ্পড় মে’রে এখন ভীষণ অনুতপ্ত। ইফান দৃষ্টি সরিয়ে দীর্ঘ শ্বাস ছাড়ল।অতঃপর আমার কপালে কপাল ঠেকিয়ে হিসহিসিয়ে বলল,
–“সরি জান। আ’ম সরি, আর কখনো এমনটা হবে না।”
আশকারা পেয়ে আমি আরও হেঁচকি তুলতে তুলতে ছোট বাচ্চাদের মতো অভিযোগ করে বললাম,
–“এখানেও লেগেছে।”
ইফান আমার ইশারা অনুযায়ী ঠোঁটের দিকে তাকাল। ঠোঁটের কোণে র’ক্ত লেগে আছে। কিছুটা ফুলেও গেছে। ইফান আমার আহত ঠোঁটে ঠোঁট ছুঁইয়ে শব্দ করে চুমু খেল। আমি বাচ্চাদের মতো গাল ফুলিয়ে টলমলে চোখে অভিমানী স্বরে বললাম,
–“এখানেও আদর করে দাও।”
থাপ্পড় পড়া গাল থেকে আমার হাত সরিয়ে সেখানে অসংখ্য ছোট ছোট চুমু এঁকে দিতে লাগল। আমি ইফানের বুকে মাথা ঠেকিয়ে বললাম,
–“তুমি খুব পচা লোক। আমায় খালি মা’র। জায়ান ভাই তো আমাকে কখনো মা’রে নি।”
–“কারণ ও ভালো মানুষ। আমি ভালো মানুষ না তাই।”
ইফান শীতল কণ্ঠে বলল। তারপর শান্ত চোখে আমার দিকে তাকাল। আমার মাথায় আলতো হাত বুলিয়ে দিতেই আমি আবার তার উপর সব অভিযোগ ঢেলে দিতে লাগলাম,
–“তুমি কেন আমার জীবনে আসলে? তুমি না আসলে আমার জায়ান ভাই আমার কাছেই থাকতো। এভাবেই আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিত।তুমি জান আমি তাকে কত ভালোবাসি?”
আমি ইফানের চোখের দিকে তাকিয়ে হু হু করে কেঁদে দিলাম। ইফান এখনো শান্ত। হঠাৎ কিছু একটা মনে আসতেই ইফানের থেকে ছিটকে দূরে সরে গেলাম। তার দিকে আঙুল তুলে বললাম,
–“তুমি একদমই আমার কাছে আসবে না।”
–“হুয়াই?”
ইফান এক পা এগিয়ে আসতেই আমি আরেকটু দূরে সরে গিয়ে নাক টেনে বললাম,”তুমি অন্য কারো।”
–“কে বলল?”
আমি চিৎকার করে উঠলাম,”আমি জানি তুমি অন্য কারো। তোমার জীবনে আমার আগেও বহু নারী এসেছে। আমি তোমাকে সেই জন্য ঘৃণা করি। আর তাই তোমাকে কোনোদিন ক্ষমা করব না। তুমি ন’ষ্ট পুরুষ, একটা চরিত্রহীন।”
–“আর যদি বলি আমায় নষ্ট করার কারিগরটা তুমি, বিশ্বাস করবে?”
ইফানের একটা বাক্যে আমি থমকালাম। ইফান এক পা করে আমার কাছে এগিয়ে আসছে।সে আমার এমন চাহনি দেখে তাচ্ছিল্য করে হাসল। অতঃপর আমার সন্নিকটে এসে দেয়ালে এক হাত ঠেকিয়ে আমার উপর ঝুঁকে বিদ্রুপ কণ্ঠে বলল,
–“তুই আর তর ম’রা প্রেমিক দু’জনেই বেইমান।”
–“একদম জায়ান ভাইকে মিথ্যা অপবাদ দিবে না। নিজের পাপ ঢাকতে চাইছ?”
আমি তেজি গলায় বলে উঠলাম। ইফান বিদ্রুপ হেসে আমার থেকে সরে দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়াল। অতঃপর উপরের দিকে তাকিয়ে উদাস ভঙ্গিমায় বলে উঠলো,
–“যার জন্ম থেকে শুরু করে সব পাপে ঘেরা সে আবার কি পাপ ঢাকতে চাইবে!”
–“মানে?”
ইফান কোনো উত্তর করল না। বিনা বাক্যে আগের ন্যয় দাঁড়িয়ে রইল। আমি বুজে আসা নয়নে ইফানের দিকে তাকিয়ে উত্তরের আশায়। সে কোনো বাক্য বিনিময় না করে চলে যেতে লাগল। আমার বমি চলে আসছে। নিজেকে কোনো মতে সামলে পিছন থেকে ইফানকে ডেকে উঠলাম,
জাহানারা পর্ব ৬৬
–“ককোথায় যাচ্ছ তুমি ? আজ তোমাকে সব কিছু বলতে হবে। কেন তুমি আমার সাথে এমন করলে? কেন আমার আর জায়ান ভাইয়ের মাঝে আসলে? কেন আমাকে দুনিয়ার সামনে ধ’র্ষি’তা বানালে ? এটা যে একটা নারীর জন্য অপমানজনক, চরম লজ্জা। কেন করলে এমন?”
আমার শেষ বাক্যগুলো ইফানের বুকে তীরের ফলার মতো গিয়ে বিঁধল। সে থমকে গিয়ে হালকা ঘাড় কাঁধ করে আমার দিকে তাকালো। আমি ব্যথাতুর নয়নে তার দিকে তাকিয়ে। ইফান হাতের উল্টো পিঠ নাকে ঘষে আবার এগিয়ে যেতে যেতে আওড়ালো,
–“আসছি…”
